স্বামীর মনে কার ছায়া

আরিবা আর নাশিতের বিয়ের পর দুই মাস কেটে গেছে। ঢাকার উত্তরায় তাদের ছোট্ট ফ্ল্যাট। সকালে জানালার পাশে বসে আরিবা চায়ের কাপ হাতে নাশিতকে দেখে। নাশিত শার্টের বোতাম লাগাচ্ছে, চুপচাপ। তার চোখে একটা দূরের ছায়া থাকে মাঝে মাঝে। আরিবা জানে সেই ছায়া কার জন্য।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

একদিন নাশিতের পুরোনো ল্যাপটপে ছবি দেখতে গিয়ে আরিবা থমকে যায়। একটা ছবিতে নাশিত হাসছে, পাশে একজন মেয়ে। মেয়েটির চোখ গভীর, চুল কাঁধ পর্যন্ত। ছবির নিচে কোনো নাম নেই। কিন্তু নাশিত যখনই সেই মেয়ের কথা শোনে, চুপ হয়ে যায়। আরিবা জিজ্ঞেস করেছে কয়েকবার। নাশিত বলেছে, “পুরোনো কথা। ভুলে যাও।”

আরিবা বাইরে হাসে। রান্না করে, টেবিল সাজায়, নাশিতের জন্য গরম রুটি বানায়। কিন্তু ভেতরে প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। নাশিত কি এখনো তাকে ভালোবাসে? সেই মেয়েটা কে?

¦Ëk¢x/춺'ƒú

রাতের বেলা বিছানায় শুয়ে নাশিত আরিবার কোমর জড়িয়ে ধরে। তার হাত গরম। আরিবার গায়ে কাঁপুনি খেলে। নাশিতের ঠোঁট তার ঘাড়ে লাগে। আরিবা চোখ বন্ধ করে। নাশিতের শ্বাস গরম, তার শরীরের গন্ধ চেনা। আরিবা তার বুকে মুখ রাখে। নাশিতের হাত তার পিঠে ঘোরে, আস্তে আস্তে নিচের দিকে যায়। আরিবার শ্বাস দ্রুত হয়। নাশিত তাকে চুমু খায় গভীরভাবে। তাদের শরীর এক হয়ে যায়। আরিবা নাশিতের নাম ফিসফিস করে। নাশিত তার কানে বলে, “তুমি আমার।” কিন্তু আরিবার মনে সেই ছবি ঘুরতে থাকে।

সকালে নাশিত অফিসে যায়। আরিবা একা বসে থাকে। সে ঠিক করে, সে জানবে। নাশিতের ফোনের পুরোনো মেসেজ খুঁজে দেখে। একটা নাম পায়—রায়সা। ঠিকানা চাট্টগ্রামের একটা এলাকা।

আরিবা সিদ্ধান্ত নেয়। সে নিজে যাবে। নাশিতকে না বলে।

আরিবা চাট্টগ্রাম যায় ট্রেনে। স্টেশনে নেমে রিকশা নেয়। রায়সার বাড়ি খুঁজে পায় একটা গলি দিয়ে। দরজায় কড়া নাড়ে। দরজা খোলে একজন মেয়ে। ছবির মেয়েই। কিন্তু এখন তার মুখে শান্তি। হাতে চুড়ি, কপালে সিঁদুর নেই—কিন্তু আঙ্গুলের আংটি বলে দিচ্ছে সে বিবাহিত।

রায়সা অবাক হয়। “তুমি?”

আরিবা নিজেকে পরিচয় দেয়। “নাশিতের স্ত্রী।”

রায়সা চুপ করে। ভেতরে নিয়ে যায়। চা বানায়। দুজনে বসে। আরিবা সোজা বলে, “নাশিত তোমার কথা শুনলে চুপ হয়ে যায়। আমি জানতে চাই।”

রায়সা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। “আমরা ছোটবেলার বন্ধু। কলেজে একসঙ্গে পড়তাম। তখন একটু ভালো লাগতো। কিন্তু কিছু হয়নি। আমি বিয়ে করেছি তিন বছর আগে। আমার স্বামী ভালো মানুষ। নাশিতের সঙ্গে এখন শুধু পুরোনো বন্ধুত্ব। সে কখনো ফোন করে না, আমিও করি না। ছবিটা পুরোনো। সে সময়ের।”

আরিবা শোনে। তার সব ধারণা ভেঙে যায়। রায়সা আরও বলে, “নাশিত তোমাকে ভালোবাসে। সে বলেছিল বিয়ের আগে, সে তার অতীত ভুলতে চায়। তুমি ওকে সুখী রেখো।”

আরিবা ফিরে আসে ঢাকায়। মনে শান্তি আর লজ্জা একসঙ্গে। সে নাশিতকে সব বলে। নাশিত তাকে জড়িয়ে ধরে। “তুমি কেন গেলে একা? আমি বলতে পারতাম। রায়সা শুধু বন্ধু ছিল। তুমিই আমার সব।”

রাতের বেলা তাদের রোম্যান্স আরও গভীর হয়। নাশিত আরিবার শরীর আদর করে ধীরে ধীরে। তার হাত আরিবার বুকের ওপর, তারপর নিচে। আরিবা নাশিতের চুল আঁকড়ে ধরে। তাদের চুমু লম্বা, গরম। নাশিত আরিবার শরীরে ঠোঁট বোলায়। আরিবার শরীর কেঁপে ওঠে। তারা একে অপরের কাছে সম্পূর্ণ খুলে যায়। আরিবা নাশিতের বুকে মাথা রেখে বলে, “আমি ভয় পেয়েছিলাম।” নাশিত তার কপালে চুমু খায়। “আর কখনো ভয় পেয়ো না। আমি শুধু তোমার।”

সেই রাতের পর তাদের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। আরিবা আর সন্দেহ করে না। নাশিতও আর চুপ থাকে না। সকালে নাশিত আরিবাকে রান্নাঘরে জড়িয়ে ধরে। তার হাত আরিবার কোমরে। আরিবা হেসে ফোনে চা বানায়। নাশিত তার ঘাড়ে চুমু খায়। “আজ অফিস দেরি করে যাব।”

সপ্তাহান্তে তারা একসঙ্গে সময় কাটায়। নাশিত আরিবার হাত ধরে পার্কে হাঁটে। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে নাশিত আরিবার শাড়ির আঁচল খুলে দেয়। তাদের শরীরের স্পর্শ গরম। নাশিত আরিবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “তুমি আমার সব সন্দেহ দূর করেছ।” আরিবা তার ঠোঁটে আঙুল রাখে। “এখন শুধু ভালোবাসা।”

তাদের রাতগুলো দীর্ঘ হয়। নাশিত আরিবার শরীরকে চেনে নতুন করে। তার হাত আরিবার উরুতে, তার শ্বাস আরিবার কানে। আরিবা নাশিতের নাম ডাকে বারবার। তাদের মিলন গভীর, আবেগপূর্ণ। আরিবা নাশিতের বুকে শুয়ে শোনে তার হৃদস্পন্দন। নাশিত তার চুল আঁচড়ায়। “আমি কখনো কাউকে এভাবে চাইনি।”

একদিন নাশিত আরিবাকে নিয়ে চাট্টগ্রাম যায়। রায়সার বাড়িতে। রায়সা তার স্বামীর সঙ্গে অভ্যর্থনা জানায়। চারজন একসঙ্গে বসে চা খায়। পরিবেশ সহজ। আরিবা বোঝে, অতীত শুধু অতীত। বর্তমানটা তার।

ফিরে আসার পথে নাশিত আরিবার হাত চেপে ধরে। গাড়িতে তারা একে অপরের কাছে ঝুঁকে পড়ে। নাশিত আরিবার ঠোঁটে চুমু খায়। আরিবার হাত নাশিতের বুকে। তাদের শ্বাস মিশে যায়। বাসায় পৌঁছে তারা আর অপেক্ষা করে না। দরজা বন্ধ করেই নাশিত আরিবাকে তুলে নিয়ে যায় বিছানায়। তাদের শরীর এক হয়ে যায় আবার। আরিবা নাশিতের পিঠে নখ বসায়। নাশিত তার কানে বলে, “তুমি আমার স্ত্রী। আমার ভালোবাসা।” আরিবা চোখ বন্ধ করে অনুভব করে সেই গভীরতা। কোনো সন্দেহ নেই। শুধু দুজনের গরম, গভীর ভালোবাসা।

তাদের জীবন এগোয় শান্তিতে। আরিবা জানে, নাশিতের চুপ থাকাটা ভয় ছিল না—শুধু অতীত মুছে ফেলার চেষ্টা। এখন সেই অতীত পেছনে। সামনে শুধু তাদের দুজনের গল্প। রাতে বিছানায় শুয়ে আরিবা নাশিতের হাত ধরে ঘুমায়। নাশিত তার কপালে চুমু খায়। বাংলাদেশের এই শহরে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয় প্রতিদিন।

....
👁 5