স্বামীর মনে লুকানো ঝড়

নাওমি আর সামিরের বিয়ে হয়েছিল পরিবারের পছন্দে। ঢাকার এক শান্ত আবাসিক এলাকায় তাদের ফ্ল্যাট। বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস কেটে গিয়েছিল নীরবতায়। সামির অফিস থেকে ফিরে এসে খাবার টেবিলে বসত, নাওমি তার প্লেটে ভাত-তরকারি সাজিয়ে দিত। কথা হতো কম। সামির হাসত, মাথা নেড়ে জানাত যে খাবার ভালো লেগেছে, তারপর টিভির সামনে বসে খবর দেখত। নাওমি রান্নাঘর থেকে তাকিয়ে থাকত তার দিকে। তার চোখে কোনো অভিযোগ ছিল না, শুধু একটা নীরব প্রশ্ন—এই মানুষটা কি আমাকে চেনে?

¦Ëk¢xz˲Úèžé

সামির শান্ত ছিল। দায়িত্বশীল। স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল। নাওমির জ্বর হলে রাত জেগে পাখা নাড়ত, ওষুধ খাওয়াত। বাজার থেকে তার পছন্দের আম কিনে আনত। অথচ নিজের মনের কথা কখনো বলত না। নাওমি একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, “তুমি আমাকে কেমন লাগে?” সামির হেসে বলেছিল, “ভালো।” আর কিছু না।

রাতগুলোতে তারা একই বিছানায় শুয়ে থাকত। সামিরের হাত নাওমির কোমরে থাকত, কিন্তু তার শ্বাস গভীর হয়ে যেত ঘুমের ভেতর। নাওমি জেগে থাকত। তার শরীর চাইত আরও কিছু। সামিরের স্পর্শের উষ্ণতা, তার ঠোঁটের চাপ, তার শরীরের ওজন। কিন্তু সামির কখনো সেই সীমানা পেরোত না নিজে থেকে। নাওমি যখন তার দিকে ঘুরে শুয়ে সামিরের বুকের ওপর হাত রাখত, সামির চোখ খুলে তাকাত, তারপর ধীরে ধীরে তাকে চুমু দিত। চুমুগুলো গভীর হতো, লম্বা হতো। নাওমির শরীর কেঁপে উঠত। সামিরের হাত তার পিঠে নেমে আসত, কাপড়ের নিচে ঢুকে যেত। ত্বকের উষ্ণতা মিশে যেত। নাওমি তার নাম ধরে ডাকত, সামিরের কানে ফিসফিস করে বলত, “আরও কাছে এসো।” সামির তখন তাকে জড়িয়ে ধরত পুরোপুরি। তাদের শরীর এক হয়ে যেত। নাওমির নখ সামিরের পিঠে দাগ কেটে দিত। সামিরের শ্বাস তার গলায় গরম হয়ে উঠত। তারা একে অপরকে চেনে নিত শরীরের ভাষায়, কিন্তু কথায় নয়।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

সকালে উঠে সামির অফিসে চলে যেত। নাওমি একা থাকত ফ্ল্যাটে। সে রান্না করত, কাপড় ভাজত, জানালার পাশে বসে বাইরের রাস্তা দেখত। মাঝে মাঝে তার মনে হতো, এই সংসারটা কি সত্যিই তার? সামির ভালোবাসে তাকে, সেটা সে জানত। কিন্তু সেই ভালোবাসা যেন একটা দেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে ছিল। নাওমি চাইত সেই দেয়াল ভাঙতে।

এক সকালে সামির অফিসে যাওয়ার পর নাওমি তার আলমারি পরিষ্কার করতে গেল। পুরনো জামাকাপড় সরাতে সরাতে হঠাৎ একটা কালো চামড়ার ডায়েরি পড়ল হাতে। সামিরের নাম লেখা ছিল উপরের পৃষ্ঠায়। নাওমির হাত কেঁপে উঠল। সে জানত, সামির ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে কারো হাত দিতে চায় না। কিন্তু ডায়েরিটা যেন তাকে ডাকছিল।

সে বসল মেঝেতে। প্রথম পাতা খুলল। সামিরের হাতের লেখা। তারিখ ছিল তাদের বিয়ের আগের রাত।

“আজ রাতে আমি তাকে প্রথম দেখলাম কাছ থেকে। নাওমি। তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হয়েছিল, এই মেয়েটা হয়তো একদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। অথচ আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। কারণ তার হাসি আমার ভেতরের শূন্য জায়গাটা ভরে দেয়।”

নাওমির চোখ ভিজে গেল। সে পাতা উল্টাতে লাগল। প্রতিটি পাতায় তার নাম। কোথাও লেখা, “আজ সে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে গান গাইছিল। আমি দরজার আড়াল থেকে শুনছিলাম। তার গলার স্বর শুনে আমার মনে হয়েছিল, আমি যদি তার কাছে গিয়ে বলি যে আমি তাকে ভালোবাসি, তাহলে হয়তো সে হাসবে। কিন্তু আমি বলতে পারিনি।”

আরেক পাতায়, “নাওমি রাগ করেছে আজ। আমি তার পছন্দের জামা কিনতে ভুলে গিয়েছিলাম। সে কথা বলেনি, শুধু চুপ করে থেকেছে। আমি জানি, সে চায় আমি তার মনের কথা বুঝি। কিন্তু আমি ভয় পাই। যদি বলি, আর সে যদি বলে যে সে আমার মতো শান্ত মানুষের সাথে সুখী নয়?”

নাওমি পাতা উল্টাতেই থাকল। সামির লিখেছে তার হাসির বর্ণনা, তার রাগের কথা, তার ঘুমন্ত মুখের কথা। এক জায়গায় লেখা, “রাতের বেলা যখন সে আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমায়, আমি তার চুল সরিয়ে চুমু দিই কপালে। সে জানে না। আমি চাই সে জানুক, কিন্তু বলতে পারি না।”

নাওমির বুক ভারী হয়ে উঠল। যে মানুষটা সামনে দাঁড়িয়ে কখনো মনের কথা বলে না, সে আড়ালে এত গভীর অনুভূতি লুকিয়ে রেখেছে। সে ডায়েরিটা বুকে চেপে ধরল। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে মনে মনে বলল, “সামির, তুমি কেন আমাকে বলোনি?”

সেদিন বিকেলে সামির অফিস থেকে ফিরে এল। নাওমি দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল। সামির তার দিকে তাকিয়ে হাসল, “কী হয়েছে?” নাওমি কিছু বলল না। সে এগিয়ে গিয়ে সামিরকে জড়িয়ে ধরল। সামির অবাক হয়ে তার পিঠে হাত রাখল। নাওমি তার গলায় মুখ লুকিয়ে বলল, “আমি তোমাকে চাই। পুরোপুরি।”

সামিরের শরীর শক্ত হয়ে গেল এক মুহূর্তের জন্য। তারপর সে নাওমিকে তুলে নিয়ে বিছানায় নিয়ে গেল। তাদের জামাকাপড় খুলে গেল তাড়াহুড়ো করে। সামিরের ঠোঁট নাওমির গলায়, বুকে, পেটে নেমে গেল। নাওমি তার চুল আঁকড়ে ধরল। সামিরের হাত তার উরুতে উঠে গেল, আঙুলগুলো ভেতরে ঢুকে গেল। নাওমি আর্তনাদ করল। সামির তার কানে ফিসফিস করে বলল, “বলো কী চাও।” নাওমি বলল, “তোমাকে। এখনই।”

সামির তার শরীরে ঢুকে গেল ধীরে ধীরে। নাওমির নখ তার পিঠে ফুটে গেল। তারা একে অপরকে চেপে ধরল যতটা সম্ভব কাছে। সামিরের শ্বাস গরম হয়ে উঠল নাওমির গলায়। নাওমি তার নাম ডাকতে লাগল আবার আবার। তাদের শরীরের ছন্দ মিলে গেল। বিছানার চাদর কুঁচকে গেল। নাওমির পা সামিরের কোমরে জড়িয়ে গেল। তারা একসাথে শেষ করল, শরীর কেঁপে কেঁপে।

পরে তারা পাশাপাশি শুয়ে রইল। নাওমি সামিরের বুকে হাত রেখে বলল, “তুমি আমাকে ভালোবাসো, তাই না?” সামির চুপ করে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “হ্যাঁ।” নাওমি তার দিকে তাকাল। সামিরের চোখে কিছু একটা ছিল, যা সে আগে কখনো দেখেনি। ভয়। নাওমি কিছু জিজ্ঞেস করল না। সে শুধু সামিরের হাত ধরে রাখল।

রাত গভীর হয়ে এল। নাওমি ঘুমিয়ে পড়ল সামিরের বুকে। সামির জেগে রইল। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল ডায়েরির শেষ পাতার কথা। সে জানত, নাওমি একদিন তাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইবে। বিয়ের আগে থেকেই সে জানত। আর আজ সেই ভয় আরও গভীর হয়েছে। কারণ নাওমি এখন তার মনের কাছাকাছি চলে এসেছে। আর কাছাকাছি আসা মানে হারানোর ভয় আরও তীব্র হওয়া।

সামির নাওমির চুল সরিয়ে কপালে চুমু দিল। ফিসফিস করে বলল, “আমাকে ছেড়ে যেও না।” নাওমি ঘুমের ভেতর তার হাত চেপে ধরল। সামির চোখ বন্ধ করল। বাইরে রাতের শহর জেগে ছিল। ফ্ল্যাটের ভেতর দুজন মানুষ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে ছিল, একজন জানে অন্যজনের মনের কথা, অন্যজন জানে না যে তার স্বামী ইতিমধ্যেই তাকে হারানোর জন্য প্রস্তুত।

পরের দিন সকালে নাওমি ডায়েরিটা আবার খুলল। সামির অফিসে চলে গেছে। সে বসল জানালার পাশে। পাতাগুলো উল্টাতে লাগল ধীরে ধীরে। সামিরের লেখায় তার নিজের জীবন ফিরে এল। এক পাতায় লেখা, “আজ নাওমি আমার জন্য বিরিয়ানি রেঁধেছে। সে জানে আমি ভালোবাসি। আমি খেয়েছি, প্রশংসা করেছি, কিন্তু বলিনি যে তার হাতের স্বাদ আমার মনে গেঁথে যায়।” আরেক পাতায়, “রাতের বেলা সে আমার দিকে ফিরে শোয়। তার বুক আমার হাতের নিচে ওঠানামা করে। আমি চাই তাকে বলি যে আমি তার শরীরের প্রতিটি অংশ চিনি, ভালোবাসি। কিন্তু শব্দগুলো আটকে যায় গলায়।”

নাওমির শরীর গরম হয়ে উঠল। সে মনে মনে দেখতে পেল সেই রাতগুলো। সামিরের হাত তার কোমরে, তার ঠোঁট তার গলায়। তাদের শরীরের মিলন। সেই মুহূর্তগুলোতে সামির কথা বলত না, শুধু করত। আর এখন সে জানতে পারছে, সেই নীরবতার ভেতর কতটা কথা লুকিয়ে ছিল।

দুপুরে নাওমি রান্না করল। সামিরের পছন্দের মাছভাজা আর ভাত। সে টেবিল সাজাল। সামির ফিরে এলে তারা একসাথে খেল। নাওমি তার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি কখনো আমাকে নিয়ে লেখো?” সামিরের হাত থেমে গেল। সে মাথা তুলে তাকাল। নাওমির চোখে একটা নরম হাসি। সামির বলল, “লেখি।” নাওমি আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। সে শুধু হাসল।

রাত হলে তারা আবার কাছাকাছি এল। এবার নাওমি সামনে থেকে। সে সামিরকে বিছানায় ঠেলে বসাল, তার কোলের ওপর বসল। সামিরের হাত তার কোমরে উঠে গেল। নাওমি তার ঠোঁটে চুমু দিল গভীর করে। সামিরের জিভ তার মুখে ঢুকে গেল। নাওমি তার শার্ট খুলে ফেলল, বুকে হাত বুলিয়ে দিল। সামিরের শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। নাওমি তার কানে বলল, “আজ তুমি শুধু অনুভব করবে। কথা বলার দরকার নেই।”

সামির তাকে উল্টে শুইয়ে দিল। তার ঠোঁট নাওমির বুকে নেমে গেল, স্তন চুষতে লাগল। নাওমি কামড়ে ধরল নিজের ঠোঁট। সামিরের হাত তার প্যান্টির ভেতর ঢুকে গেল, আঙুল ঘষতে লাগল। নাওমির কোমর উঠে এল। সে আর্তনাদ করল। সামির তার উরু আলাদা করে তার ভেতরে মুখ লাগিয়ে দিল। জিভের ছোঁয়ায় নাওমির শরীর কেঁপে উঠল। সে সামিরের চুল আঁকড়ে ধরল, তার নাম ডাকতে লাগল। সামির থামল না। নাওমি শেষ হয়ে গেল তার মুখে, শরীর কেঁপে কেঁপে।

তারপর সামির তার ওপর উঠে এল। নাওমি তার পিঠে হাত রাখল। সামির ঢুকে গেল এক ঠেলায়। নাওমির চোখ বন্ধ হয়ে গেল। তারা একে অপরকে চেপে ধরল। সামিরের কোমর দ্রুত নড়তে লাগল। নাওমির পা তার পিঠে জড়িয়ে গেল। বিছানা কেঁপে উঠল। সামিরের ঘাম নাওমির বুকে পড়ল। তারা একসাথে চিৎকার করল শেষে। শরীর একে অপরের ওপর ভর দিয়ে পড়ে রইল।

পরে নাওমি সামিরের বুকে মাথা রেখে বলল, “তুমি আমাকে হারানোর ভয় পাও?” সামিরের হাত তার চুলে থেমে গেল। সে চুপ করে থাকল। নাওমি তার দিকে তাকাল। সামিরের চোখে সেই ভয়টা আবার দেখা গেল। নাওমি বলল, “আমি কোথাও যাচ্ছি না।” সামির তাকে জড়িয়ে ধরল আরও শক্ত করে। তার গলায় গরম শ্বাস পড়ল। সে কিছু বলল না। শুধু ধরে রাখল।

পরের কয়েকদিন নাওমি ডায়েরি পড়তে থাকল। প্রতিটি পাতায় সামিরের ভালোবাসা। কোথাও লেখা, “নাওমি হাসে যখন আমি তার গালে চুমু দিই। সেই হাসি আমার সবচেয়ে প্রিয় শব্দ।” কোথাও, “আমি চাই তাকে নিয়ে বেড়াতে যাই। কিন্তু যদি সে বলে যে সে আমার সাথে সুখী নয়?” নাওমির মন ভরে উঠল। সে বুঝতে পারল, সামিরের নীরবতা ভয় থেকে এসেছে। হারানোর ভয়।

এক সন্ধ্যায় তারা ছাদে গেল। ঢাকার আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে সামির নাওমির হাত ধরল। নাওমি তার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি আমাকে সব বলো। যা মনে আসে।” সামির দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বলল, “আমি ভয় পাই। তুমি একদিন চলে যাবে।” নাওমি তার মুখ দুই হাতে ধরল। বলল, “আমি যাব না। তুমি আমাকে বিশ্বাস করো।” সামির তাকে চুমু দিল। চুমুটা লম্বা হলো, গভীর হলো। তাদের শরীর আবার কাছাকাছি এল। ছাদের অন্ধকারে সামির নাওমির জামা তুলে তার বুকে হাত রাখল। নাওমি তার প্যান্টের বোতাম খুলে দিল। তারা দাঁড়িয়েই একে অপরকে নিল। সামির নাওমিকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরল, তার উরু তুলে ধরল। নাওমির আর্তনাদ রাতে মিশে গেল। সামিরের শরীরের ধাক্কায় নাওমির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেল। তারা শেষ করল একসাথে, শ্বাস ফেলতে ফেলতে।

নাওমি সামিরের বুকে মাথা রেখে বলল, “এবার আর কোনো দূরত্ব নেই।” সামির তার চুলে চুমু দিল। কিন্তু তার চোখে এখনও সেই ভয়টা ছিল। কারণ ডায়েরির শেষ পাতা সে এখনও পড়েনি। আর সেই পাতায় লেখা কথাটা সামিরের মনে গেঁথে আছে। বিয়ের আগে থেকেই সে জানত, নাওমি একদিন তাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইবে।

নাওমি ডায়েরির শেষ পাতায় পৌঁছাল এক সকালে। সামির অফিসে। সে পাতা খুলল। সামিরের হাতের লেখা।

“বিয়ের আগে থেকেই আমি জানি, নাওমি একদিন আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাইবে। তার চোখে সেই আলো আছে যা আমাকে আকর্ষণ করে, আর সেই আলোই একদিন তাকে দূরে নিয়ে যাবে। আমি তাকে আটকে রাখতে পারব না। শুধু ভালোবাসতে পারব যতদিন সে আছে।”

নাওমির হাত কেঁপে উঠল। ডায়েরিটা মেঝেয় পড়ে গেল। তার সব আনন্দ কেড়ে নিল সেই একটা বাক্য। যে মানুষটা তাকে এত গভীরভাবে ভালোবাসে, সে বিশ্বাস করে যে সে চলে যাবে। নাওমির চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে মেঝেতে বসে রইল অনেকক্ষণ।

সামির ফিরে এলে নাওমি ডায়েরিটা তার হাতে দিল। সামিরের মুখ সাদা হয়ে গেল। নাওমি বলল, “তুমি কেন লিখেছ এটা?” সামির চুপ করে থাকল। নাওমি তার দিকে এগিয়ে গেল। বলল, “আমি কোথাও যাচ্ছি না। তুমি আমাকে বিশ্বাস করো।” সামির মাথা নাড়ল। বলল, “আমি চেষ্টা করি। কিন্তু ভয়টা যায় না।”

নাওমি তার হাত ধরল। বলল, “তাহলে আমাকে দেখাও। তোমার ভালোবাসা দেখাও। কথায় নয়, শরীরে।” সামির তাকে তুলে নিয়ে বিছানায় ফেলল। এবার কোনো নীরবতা রইল না। সামির তার সবটা দিয়ে নিল নাওমিকে। তার ঠোঁট নাওমির শরীরের প্রতিটি অংশে চুমু দিল। বুকে, পেটে, উরুতে, ভেতরে। নাওমি আর্তনাদ করল তার নাম ধরে। সামির তার হাত দুটো চেপে ধরল মাথার ওপর। ঢুকে গেল গভীর করে। নাওমির পা তার কোমরে জড়িয়ে গেল। তারা একে অপরকে আঘাত করল ভালোবাসায়। সামিরের শরীরের ধাক্কায় নাওমির শরীর কেঁপে উঠল। তারা একসাথে শেষ করল, চিৎকার করে।

পরে নাওমি সামিরের বুকে শুয়ে বলল, “আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না। কখনো না।” সামির তার চোখে চুমু দিল। বলল, “আমি বিশ্বাস করতে চাই।” নাওমি তার হাত ধরে রাখল। বলল, “তাহলে প্রতিদিন আমাকে মনে করাবে। তোমার ভালোবাসা দিয়ে।”

পরের দিনগুলোতে তাদের দূরত্ব মিলিয়ে গেল। সামির এখন কথা বলে। নাওমিকে বলে তার ভয়ের কথা, তার ভালোবাসার কথা। রাতে তারা একে অপরকে নেয় বারবার। সামির নাওমির শরীর চিনে নেয় নতুন করে। নাওমি তার নীরবতার ভেতরের গভীরতা চিনে নেয়। এক রাতে সামির নাওমিকে বলল, “আমি তোমাকে হারাতে চাই না।” নাওমি তার ওপর উঠে বসল। সামিরের শরীরে নেমে এল ধীরে ধীরে। বলল, “তাহলে ধরে রাখো।” তারা আবার মিলিত হল। নাওমির কোমর নড়তে লাগল। সামির তার বুক চেপে ধরল। তাদের শ্বাস এক হয়ে গেল। শেষে তারা একে অপরের বুকে পড়ে রইল।

সামির ডায়েরিটা আর খুলল না। সে এখন নাওমির কাছেই লেখে তার মনের কথা। কথায়, স্পর্শে, চুমুতে। নাওমি জানে, সামিরের ভয় এখনও আছে। কিন্তু সেই ভয় এখন তাদের ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তুলেছে। রাতের অন্ধকারে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকে। সামির নাওমির কানে ফিসফিস করে বলে, “থাকো আমার সাথে।” নাওমি তার বুকে মাথা রেখে বলে, “আমি আছি।” তাদের শরীর আবার কাছাকাছি আসে। সামিরের হাত নাওমির পিঠে নেমে যায়। নাওমি তার ঠোঁটে চুমু দেয়। তারা আবার এক হয়। গভীরভাবে, গরমভাবে, সম্পূর্ণভাবে। কোনো দূরত্ব নেই। শুধু দুজন মানুষ, যারা একে অপরকে হারানোর ভয় নিয়েও একে অপরকে বেছে নেয় প্রতিদিন।

সামির এখন আর ডায়েরিতে লেখে না যে নাওমি চলে যাবে। সে লেখে, “সে আছে। আর আমি তাকে প্রতিদিন ভালোবাসি।” নাওমি সেই কথাগুলো শোনে সামিরের মুখ থেকে। আর রাতে, যখন তাদের শরীর মিশে যায়, তখন সেই ভালোবাসা কথা ছাড়াই বলে দেয় সব।

....
👁 10