টিউশন সেন্টারের নতুন পথ

ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় দুপুরের রোদ কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল। অর্পিতা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শাড়ির কোঁচ ঠিক করছিল। আজ তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। পরিবারের চাপে সে রাজি হয়েছে এই বিয়েতে। নীলয়ের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়েছিল তিন মাস আগে। সেদিন নীলয় স্পষ্ট বলেছিল, “আমি বিয়ে করতে চাই না। আমার জীবনে এখনো অনেক কাজ বাকি।” অথচ আজ সেই নীলয়ই তার স্বামী হতে চলেছে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

বিয়ের রাতে নীলয় শুধু বলেছিল, “এটা আমার দায়িত্ব। তুমি আমার স্ত্রী। আমি তোমার প্রতি কোনো অন্যায় করব না। কিন্তু ভালোবাসা… সেটা আমি দিতে পারব না।” অর্পিতা চুপচাপ শুনেছিল। তার চোখে কোনো অভিযোগ ছিল না। সে শুধু মাথা নেড়েছিল।

পরের দিন থেকেই নতুন জীবন শুরু হলো। মিরপুরের ফ্ল্যাটে দুজন মানুষ পাশাপাশি থাকতে লাগল। সকালে নীলয় অফিসে চলে যেত। অর্পিতা ঘরের কাজ সারত। রাতে নীলয় ফিরে এলে খাবার টেবিলে বসত। কথা হতো কম। নীলয়ের চোখে সবসময় একটা দূরত্ব থাকত। অর্পিতা কখনো জোর করে কাছে যেত না। সে নিজের মতো করে দিন কাটাত।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

এক সপ্তাহ পর অর্পিতা একটা ছোট কাজ শুরু করল। পাড়ার বাচ্চাদের ইংরেজি পড়ানো। নীলয় জানত। সে কোনো আপত্তি করেনি। শুধু বলেছিল, “যেমন খুশি করো।” অর্পিতা হাসল। সেই হাসি নীলয়ের মনে দাগ কেটে গেল।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় নীলয় দেখত অর্পিতা বই পড়ছে। কখনো কখনো সে নিজেই কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করত, “কী পড়ছ?” অর্পিতা উত্তর দিত নরম গলায়। নীলয়ের হাত কখনো কখনো তার কাঁধে পড়ত। অর্পিতা সরে যেত না। কিন্তু নীলয়ও আর এগোত না। দূরত্ব রয়েই যেত।

একদিন রাতে নীলয় হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখল অর্পিতা বারান্দায় দাঁড়িয়ে। চাঁদের আলোয় তার মুখ কেমন যেন অন্য রকম লাগছিল। নীলয় কাছে গিয়ে দাঁড়াল। অর্পিতা পেছন ফিরে তাকাল। দুজনের চোখাচোখি হলো। নীলয়ের হাত উঠে এল তার গালে। অর্পিতা চোখ বন্ধ করল। নীলয়ের ঠোঁট তার কপালে ছুঁয়ে গেল। তারপর আর কিছু হলো না। নীলয় সরে গেল। অর্পিতা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

পরের দিন থেকে নীলয়ের মনে একটা অস্থিরতা জন্ম নিল। সে লক্ষ্য করতে লাগল অর্পিতার ছোট ছোট অভ্যাস। সকালে চা বানানোর সময় সে কেমন করে চিনি মেশায়, কেমন করে হাসতে হাসতে বাচ্চাদের পড়ায়। রাতে খাবার টেবিলে অর্পিতার হাত যখন তার হাতের কাছে আসে, নীলয়ের শরীরে একটা কাঁপুনি খেলে যায়।

এক রাতে নীলয় ফিরে এল দেরিতে। অর্পিতা ঘুমিয়ে পড়েছিল সোফায়। নীলয় কাছে গিয়ে বসল। অর্পিতার চুল তার মুখের ওপর এসে পড়েছিল। নীলয় আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিল। অর্পিতা চোখ খুলল। দুজনের চোখ জুড়ে গেল। নীলয় আর সামলাতে পারল না। সে অর্পিতাকে টেনে নিল কাছে। ঠোঁট ঠোঁটে ছুঁয়ে গেল। অর্পিতার শরীর কাঁপল। নীলয়ের হাত তার কোমর ঘিরে ধরল। চুম্বন গভীর হতে লাগল। অর্পিতার আঙুল নীলয়ের চুলের ভেতর ঢুকে গেল। নীলয়ের শ্বাস গরম হয়ে উঠল। সে অর্পিতাকে শোয়াল সোফায়। শাড়ির আঁচল সরে গেল। নীলয়ের ঠোঁট তার গলায়, কাঁধে ঘুরতে লাগল। অর্পিতা আস্তে আস্তে কাঁপতে লাগল। নীলয়ের হাত তার শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে গেল। দুজনের শ্বাস মিশে গেল। রাত গভীর হলো। নীলয় অর্পিতার শরীরকে চিনতে লাগল। অর্পিতা কোনো বাধা দিল না। সে শুধু নীলয়কে ধরে রাখল।

সকালে নীলয় উঠে দেখল অর্পিতা ইতিমধ্যে রান্নাঘরে। সে চা বানাচ্ছে। নীলয় কাছে গিয়ে দাঁড়াল। অর্পিতা তাকাল। নীলয়ের চোখে একটা নরম ভাব ছিল। অর্পিতা হাসল। নীলয় তার হাত ধরল। কিন্তু কথা বলল না। অর্পিতাও কিছু বলল না। দূরত্ব কমেছিল, কিন্তু ভালোবাসার কথা কেউ বলেনি।

দিন যেতে লাগল। নীলয় অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরতে লাগল। অর্পিতার সঙ্গে সময় কাটাতে লাগল। রাতে তারা কাছাকাছি থাকত। কখনো কখনো নীলয় অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরত। চুম্বন হতো। শরীর মিশত। কিন্তু নীলয় কখনো বলত না, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।” অর্পিতাও চাইত না। সে জানত, জোর করে পাওয়া ভালোবাসা স্থায়ী হয় না।

একদিন অর্পিতা একটা বড় সিদ্ধান্ত নিল। সে নিজের নামে একটা ছোট টিউশন সেন্টার খুলবে। নীলয়কে জানাল। নীলয় শুধু মাথা নেড়েছিল। অর্পিতা বুঝতে পেরেছিল, নীলয়ের মনে এখনো সেই দায়িত্ববোধ কাজ করছে। ভালোবাসা নয়।

তবুও রাতের অন্ধকারে যখন নীলয় তাকে ছুঁত, অর্পিতার শরীর জ্বলে উঠত। নীলয়ের চুম্বন তার ত্বকে আগুন জ্বালাত। অর্পিতা নিজেকে সমর্পণ করত। নীলয়ের হাত তার বুকের ওপর দিয়ে বয়ে যেত। দুজনের শ্বাস এক হয়ে যেত। অর্পিতা জানত, এটা শুধু শরীরের টান। মনের টান এখনো আসেনি।

নীলয়ও বুঝতে পারছিল, অর্পিতা তার জীবনে কতটা জায়গা নিয়ে নিয়েছে। সকালে তার হাসি ছাড়া দিন শুরু হয় না। রাতে তার গন্ধ ছাড়া ঘুম আসে না। অথচ সে এখনো বলতে পারছিল না সত্যি কথা।

এক রাতে নীলয় অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “তুমি আমার দায়িত্ব। আমি তোমাকে কখনো ছেড়ে যাব না।” অর্পিতা চুপচাপ শুনল। তার চোখে জল এসে গেল। সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। নীলয় আর কিছু বলল না। শুধু তাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

অর্পিতা সেই রাত থেকেই সিদ্ধান্ত নিল। সে আর অপেক্ষা করবে না। সে নিজের জীবন নিজে গড়বে। নীলয়ের দায়িত্বের ওপর নির্ভর করে নয়।

পরের সপ্তাহে অর্পিতা টিউশন সেন্টারের জন্য জায়গা ভাড়া নিল। নীলয় জানত। সে কোনো বাধা দিল না। শুধু একদিন রাতে বলল, “তুমি কি আমাকে ছেড়ে যেতে চাও?” অর্পিতা তাকাল। তার চোখে কোনো উত্তর ছিল না। নীলয়ের মনে একটা অজানা ভয় জন্ম নিল।

রাত গভীর হলো। নীলয় অর্পিতাকে টেনে নিল কাছে। চুম্বন হলো গভীর। শরীর মিশল। অর্পিতার আঙুল নীলয়ের পিঠে আঁচড় কাটল। নীলয়ের শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। দুজনের মধ্যে আগুন জ্বলল। কিন্তু মনের দূরত্ব রয়ে গেল।

সকালে অর্পিতা উঠে চা বানাল। নীলয় তাকে দেখল। তার মনে হলো, অর্পিতা কেমন যেন দূরে সরে যাচ্ছে। সে চাইল কাছে টানতে। কিন্তু মুখ খুলতে পারল না।

অর্পিতা সেদিন থেকেই নিজের মতো করে জীবন শুরু করল। সকালে সেন্টারে যেত। সন্ধ্যায় ফিরে এসে ঘরের কাজ সারত। নীলয়ের সঙ্গে কথা কম হতো। রাতে শুধু শরীরের স্পর্শ থাকত। মনের স্পর্শ আর হতো না।

নীলয় বুঝতে পারছিল, কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ সে কী হারাচ্ছে, তা বলতে পারছিল না।

একদিন রাতে নীলয় অর্পিতাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি সুখী?” অর্পিতা হাসল। “আমি চেষ্টা করছি।” নীলয়ের বুকটা চেপে গেল। সে অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরল। চুম্বন হলো। কিন্তু এবার অর্পিতার চুম্বনে কোনো উত্তাপ ছিল না। শুধু নরম স্পর্শ।

নীলয় বুঝল, অর্পিতা তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছে। আর সে কিছুই করতে পারছে না।

অর্পিতার টিউশন সেন্টার ধীরে ধীরে ভরে উঠল। বাচ্চারা তাকে ভালোবাসত। অর্পিতাও তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসত। নীলয় অফিস থেকে ফিরে এসে দেখত অর্পিতা খাতায় নম্বর দিচ্ছে। তার মুখে একটা শান্ত হাসি। নীলয়ের মনে হতো, এই হাসি তার জন্য নয়।

রাতের খাবার টেবিলে নীলয় কথা বলার চেষ্টা করত। অর্পিতা উত্তর দিত ছোট করে। নীলয়ের হাত যখন তার হাতের কাছে আসত, অর্পিতা সরিয়ে নিত না। কিন্তু সে আর নিজে থেকে কাছে আসত না।

এক রাতে নীলয় সহ্য করতে পারল না। সে অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরল। চুম্বন করল গভীর করে। অর্পিতার শরীর প্রথমে শক্ত হয়ে গেল। তারপর ধীরে ধীরে নরম হলো। নীলয়ের হাত তার কোমর ঘিরে ধরল। অর্পিতার শ্বাস গরম হয়ে উঠল। নীলয় তাকে শোয়াল বিছানায়। শাড়ি সরিয়ে দিল। অর্পিতার ত্বক চাঁদের আলোয় চকচক করছিল। নীলয়ের ঠোঁট তার বুকের ওপর দিয়ে বয়ে গেল। অর্পিতা আস্তে আস্তে কাঁপতে লাগল। তার আঙুল নীলয়ের চুল আঁকড়ে ধরল। নীলয়ের শরীর তার শরীরের ওপর চেপে বসল। দুজনের শ্বাস এক হয়ে গেল। রাত ভরে তারা একে অপরকে চেনে নিল আবার। অর্পিতার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল। নীলয় সেই জল মুছে দিল। কিন্তু কথা বলল না।

সকালে অর্পিতা উঠে গেল। নীলয় দেখল, তার চোখে আর সেই নরম ভাব নেই। শুধু একটা দূরত্ব।

দিন যেতে লাগল। অর্পিতা আরও ব্যস্ত হয়ে উঠল। সেন্টারের কাজ বাড়ল। নীলয় দেখত, অর্পিতা রাতে দেরিতে ঘুমায়। সকালে তাড়াতাড়ি উঠে যায়। তাদের মধ্যে কথা কম হয়ে গেল। শুধু রাতের অন্ধকারে শরীরের স্পর্শ থাকত।

নীলয় একদিন অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরল। অর্পিতাকে দেখল সেন্টারে। বাচ্চাদের সঙ্গে হাসতে হাসতে কথা বলছে। নীলয়ের মনে হলো, এই অর্পিতাকে সে চেনে না। এই অর্পিতা তার দায়িত্বের অর্পিতা নয়। এই অর্পিতা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।

সেই রাতে নীলয় অর্পিতাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?” অর্পিতা তাকাল। তার চোখে কোনো উত্তর ছিল না। সে শুধু বলল, “আমি তোমার স্ত্রী। আমি আমার দায়িত্ব পালন করি।” নীলয়ের বুকটা ভেঙে গেল। সে অর্পিতাকে টেনে নিল কাছে। চুম্বন করল ক্ষুধার্তের মতো। অর্পিতা সাড়া দিল। তার শরীর নীলয়ের শরীরের সঙ্গে মিশে গেল। নীলয়ের হাত তার পিঠে আঁচড় কাটল। অর্পিতার শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। দুজনের মধ্যে আগুন জ্বলল। কিন্তু মনের আগুন আর জ্বলল না।

পরের দিন অর্পিতা একটা সিদ্ধান্ত নিল। সে নীলয়কে বলবে সত্যি কথা। কিন্তু সেই কথা বলার সাহস তার হচ্ছিল না।

নীলয়ও বুঝতে পারছিল, অর্পিতা তার জীবনের কতটা জায়গা জুড়ে ফেলেছে। সকালে তার চা ছাড়া দিন শুরু হয় না। রাতে তার গন্ধ ছাড়া ঘুম আসে না। অফিসে বসে সে অর্পিতার কথা ভাবে। ফিরে এসে তার হাসি খোঁজে। অথচ অর্পিতা এখন অন্য জায়গায় ব্যস্ত।

একদিন নীলয় অর্পিতাকে নিয়ে বেড়াতে গেল। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে দুজন হাঁটছিল। নীলয় অর্পিতার হাত ধরেছিল। অর্পিতা সরিয়ে নেয়নি। সন্ধ্যায় তারা হোটেলে ফিরল। নীলয় অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরল। চুম্বন হলো। অর্পিতার শরীর কাঁপল। নীলয় তাকে বিছানায় শোয়াল। ধীরে ধীরে শাড়ি সরিয়ে দিল। অর্পিতার ত্বক তার ঠোঁটের নিচে কাঁপছিল। নীলয়ের হাত তার কোমর ঘিরে ধরল। দুজনের শ্বাস মিশে গেল। রাত ভরে তারা একে অপরকে ভালোবাসল শরীর দিয়ে। অর্পিতার চোখ বন্ধ ছিল। নীলয়ের চোখে জল এসে গেল। সে বুঝতে পারছিল, এটা শুধু শরীরের ভালোবাসা। মনের ভালোবাসা এখনো নেই।

ফিরে এসে অর্পিতা আরও ব্যস্ত হয়ে গেল। নীলয় দেখত, অর্পিতা রাতে ফোন করছে। কখনো কখনো হাসছে। নীলয়ের মনে জ্বালা ধরত। সে জানত, অর্পিতা কারো সঙ্গে কথা বলছে না। শুধু কাজের কথা। তবুও তার মনে অস্থিরতা।

এক রাতে নীলয় সহ্য করতে পারল না। সে অর্পিতার ফোন নিয়ে দেখল। কিছুই ছিল না। অর্পিতা তাকিয়ে রইল। নীলয় লজ্জিত হয়ে ফোন রাখল। অর্পিতা কিছু বলল না। শুধু ঘুমিয়ে পড়ল।

নীলয় সেই রাত থেকেই বুঝতে পারল, অর্পিতা তার জীবন থেকে সরে যাচ্ছে। আর সে কিছুই করতে পারছে না। কারণ সে কখনো বলেনি, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

অর্পিতাও বুঝতে পারছিল। নীলয়ের চোখে এখন অন্য রকম একটা ভাব। সে কাছে আসতে চায়। কিন্তু অর্পিতা আর অপেক্ষা করতে চাইছিল না। সে জানত, দায়িত্বের ওপর ভালোবাসা গড়ে ওঠে না।

একদিন সন্ধ্যায় অর্পিতা নীলয়কে বলল, “আমাদের কথা বলতে হবে।” নীলয়ের মুখ শুকিয়ে গেল। সে জানত, কী আসছে।

অর্পিতা শান্ত গলায় বলল, “আমি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যেতে চাই। তুমি আমাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখো। আমি আর সেই দায়িত্ব হতে চাই না।”

নীলয়ের পৃথিবী থমকে গেল। সে অর্পিতার হাত ধরল। “তুমি কী বলছ?” অর্পিতা চোখ তুলে তাকাল। “আমি সত্যি বলছি। আমি নিজের জীবন বাঁচাতে চাই।”

নীলয় আর কিছু বলতে পারল না। তার চোখে জল এসে গেল। সে অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরতে চাইল। অর্পিতা সরে গেল।

সেই রাতে নীলয় ঘুমাতে পারল না। অর্পিতা অন্য ঘরে শুয়ে রইল। নীলয়ের মনে শুধু একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—সে কি অর্পিতাকে সত্যিই হারাতে পারবে?

সকালে নীলয় উঠে দেখল অর্পিতা চা বানাচ্ছে। আগের মতোই। কিন্তু আজ তার চোখে কোনো হাসি নেই। নীলয় কাছে গিয়ে দাঁড়াল। “তুমি কি সত্যিই চলে যেতে চাও?” অর্পিতা তাকাল। “হ্যাঁ।” নীলয়ের গলা কেঁপে উঠল। “আমি তোমাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখি না আর। আমি…” অর্পিতা হাত তুলে থামিয়ে দিল। “বোলো না। এখন আর দরকার নেই।”

নীলয় বুঝল, সময় চলে গেছে। সে অর্পিতার হাত ধরল। “আমাকে একটা সুযোগ দাও।” অর্পিতা মাথা নাড়ল। “সুযোগ শেষ। আমি নিজের মতো করে বাঁচতে চাই।”

সেই দিন থেকে অর্পিতা আলাদা ঘরে ঘুমাতে লাগল। নীলয় রাতে তার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকত। কিন্তু ঢুকত না। অর্পিতাও আর কাছে আসত না।

এক সপ্তাহ পর অর্পিতা জানাল, সে অন্য একটা ফ্ল্যাট দেখছে। নীলয়ের বুকটা ভেঙে গেল। সে অর্পিতাকে অফিসে ডেকে নিল। “তুমি কি আমাকে এতটাই ঘৃণা করো?” অর্পিতা হাসল। “ঘৃণা নয়। শুধু আর ভালোবাসা চাই না।” নীলয়ের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে অর্পিতার হাত ধরল। “আমি তোমাকে ভালোবাসি। সত্যি করে বলছি।” অর্পিতা চোখ বন্ধ করল। “এখন আর বিশ্বাস হয় না।”

সেই রাতে নীলয় ঘরে ফিরে দেখল অর্পিতা ব্যাগ গুছাচ্ছে। সে আর সামলাতে পারল না। অর্পিতার কাছে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল। “যাস না। আমাকে ছেড়ে যেয়ো না।” অর্পিতা তাকাল। তার চোখেও জল। “তুমি যদি প্রথমেই বলতে… এখন আর হয় না।” নীলয় উঠে দাঁড়াল। অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরল। চুম্বন করল ক্ষুধার্তের মতো। অর্পিতা প্রথমে বাধা দিল। তারপর ধীরে ধীরে সাড়া দিল। নীলয়ের হাত তার কোমর ঘিরে ধরল। অর্পিতার শরীর কাঁপল। নীলয় তাকে বিছানায় শোয়াল। ধীরে ধীরে কাপড় সরিয়ে দিল। অর্পিতার ত্বক তার ঠোঁটের নিচে জ্বলে উঠল। নীলয়ের শ্বাস গরম হয়ে গেল। দুজনের শরীর মিশে গেল। অর্পিতার আঙুল নীলয়ের পিঠে আঁচড় কাটল। নীলয়ের চুম্বন তার গলায়, বুকে, কোমরে ঘুরতে লাগল। রাত ভরে তারা একে অপরকে ভালোবাসল। অর্পিতার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল। নীলয় সেই জল চুম্বন করে মুছে দিল। “আমি তোমাকে হারাতে পারব না,” নীলয় ফিসফিস করে বলল। অর্পিতা চুপচাপ শুনল।

সকালে অর্পিতা উঠে গেল। নীলয় দেখল, ব্যাগ এখনো গুছানো। অর্পিতা চা বানাল। নীলয় কাছে গিয়ে দাঁড়াল। “তুমি কি এখনো যাবে?” অর্পিতা তাকাল। “আমি জানি না।” নীলয় তার হাত ধরল। “আমাকে বিশ্বাস করো। আমি তোমাকে ভালোবাসি। দায়িত্ব নয়। সত্যি ভালোবাসা।” অর্পিতার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে নীলয়ের বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলল। নীলয় তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

সেই দিন থেকে নীলয় আর অর্পিতাকে একা ছাড়ল না। সকালে সে চা বানাত। সন্ধ্যায় সেন্টার থেকে নিয়ে আসত। রাতে তারা একসঙ্গে থাকত। নীলয় প্রতিদিন বলত, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।” অর্পিতা প্রথমে বিশ্বাস করত না। তারপর ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে লাগল।

এক রাতে নীলয় অর্পিতাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “তুমি আমার জীবন। আমি তোমাকে হারাতে পারব না।” অর্পিতা হাসল। তার চোখে আবার সেই নরম ভাব ফিরে এল। নীলয় তাকে চুম্বন করল। ধীরে ধীরে গভীর হলো। অর্পিতার শরীর কাঁপল। নীলয়ের হাত তার শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে গেল। দুজনের শ্বাস এক হয়ে গেল। রাত ভরে তারা একে অপরকে চেনে নিল আবার। এবার শুধু শরীর নয়। মনও।

পরের দিন অর্পিতা ব্যাগ সরিয়ে রাখল। নীলয় দেখে হাসল। অর্পিতাও হাসল। দুজনের মধ্যে দূরত্ব আর রইল না।

নীলয় বুঝতে পেরেছিল, অর্পিতা তার জীবনের কতটা জায়গা জুড়ে ফেলেছে। আর অর্পিতাও বুঝেছিল, নীলয়ের ভালোবাসা এখন সত্যি। দায়িত্ব নয়।

রাতের অন্ধকারে যখন নীলয় তাকে জড়িয়ে ধরত, অর্পিতার শরীর জ্বলে উঠত। নীলয়ের চুম্বন তার ত্বকে আগুন জ্বালাত। অর্পিতা নিজেকে সমর্পণ করত সম্পূর্ণভাবে। নীলয়ের হাত তার বুকের ওপর দিয়ে বয়ে যেত। দুজনের শ্বাস মিশে যেত। এবার মনের টানও ছিল। শরীরের টানের সঙ্গে।

অর্পিতা আর নীলয় পাশাপাশি বসে চা খেত। কথা বলত। হাসত। রাতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাত। নীলয় প্রতিদিন বলত, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।” অর্পিতাও এখন বলত, “আমিও।”

জীবন আবার নতুন করে শুরু হলো। দায়িত্বের জায়গায় এল ভালোবাসা। দূরত্বের জায়গায় এল কাছাকাছি থাকা। আর প্রশ্নের জবাব মিলে গেল—নীলয় অর্পিতাকে হারাতে পারবে না। কখনোই না।

....
👁 14