সন্ধ্যা নামছিল আস্তে আস্তে। ঢাকার গুলশানের ফ্ল্যাটের বারান্দায় বসে রিয়া তার কফির কাপ হাতে নিয়ে বাইরের রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিল। গাড়ির হর্ন, রিকশার ঘন্টি, দূরে কোথাও কোনো বাচ্চার হাসি—সব শব্দ তার কানে পৌঁছাচ্ছিল, কিন্তু মন ছিল অন্য কোথাও। বিয়ের দুই বছর পেরিয়ে গেছে। আর এই দুই বছরে কতবার যে তারা একে অপরকে কাছে টেনেছে, কতবার দূরে সরিয়ে দিয়েছে—তার হিসেব নেই।
রিয়ার বয়স এখন ২৮। লম্বা চুল, গাঢ় চোখ, আর একটা হাসি যেটা একসময় আদিত্যকে পাগল করে দিত। এখন সেই হাসি আর সহজে দেখা যায় না। আদিত্য—তার স্বামী। ৩২ বছর বয়সী, সফটওয়্যার কোম্পানির সিনিয়র ডেভেলপার। কাজের চাপ, মিটিং, ডেডলাইন—সব মিলিয়ে সে ঘরে এলেও মন থাকে অফিসে। আর রিয়া? সে একটা ডিজাইন ফার্মে কাজ করে। নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চায়। কিন্তু আদিত্যের কাছে মনে হয় রিয়া সবসময় ব্যস্ত, সবসময় দূরে।
গতদিন ধরে তাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত নীরবতা চলছিল। কথা হয়, কিন্তু কথাগুলো শুধু দৈনন্দিন কাজের। “খাবার রেডি?”, “বিজলির বিল দিয়েছ?”, “আজ অফিস থেকে দেরি হবে।” এর বেশি কিছু না। রাতে বিছানায় পাশাপাশি শুয়েও মনে হয় দুজন দুই আলাদা দ্বীপে।
গতদিন আগে একটা ঝগড়া হয়েছিল। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে। রিয়া অফিস থেকে একটু দেরি করে এসেছিল। আদিত্য তখনই বাসায় পৌঁছে গিয়েছিল। টেবিলে খাবার নেই, রিয়া ফোনে কথা বলছে। আদিত্যের মুখ গম্ভীর হয়ে গিয়েছিল।
“তুমি কি সবসময় এমনই থাকবে?” আদিত্য বলেছিল। “বাসায় এসে দেখি তুমি নেই, খাবার নেই, কিছু নেই।”
রিয়া ফোন রেখে তাকিয়েছিল। “আমারও অফিস আছে, আদিত্য। তোমার মতো আমিও কাজ করি। প্রতিদিন তোমাকে সেবা করতে হবে এমন কোনো চুক্তি আমরা করিনি।”
“সেবা?” আদিত্য হেসে উঠেছিল, কিন্তু সে হাসিতে কোনো উষ্ণতা ছিল না। “আমি সেবা চাইনি। শুধু একটু সময় চেয়েছিলাম। তুমি আর আমি। কিন্তু তোমার কাছে সবসময় কাজ আগে।”
রিয়ার চোখে রাগ জ্বলে উঠেছিল। “আর তোমার কাছে? তুমি রাত দুটো পর্যন্ত ল্যাপটপ খুলে বসে থাকো। আমি কতবার বলেছি শুয়ে পড়ো। তুমি শোনোনি। এখন আমাকে দোষ দিচ্ছ?”
কথাগুলো তখন আরও তিক্ত হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত রিয়া বেডরুমে চলে গিয়েছিল, দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। আদিত্য সেই রাতটা সোফায় কাটিয়েছিল। পরের দিন সকালেও কথা হয়নি। শুধু নীরবতা। আর সেই নীরবতা এখনও চলছে।
আজ সন্ধ্যায় রিয়া বারান্দায় বসে ভাবছিল। মনে পড়ছিল বিয়ের আগের দিনগুলোর কথা। কলেজের শেষ বছর। আদিত্য তখন জুনিয়র। একটা কলেজ ফেস্টে দেখা। তারপর কফি, সিনেমা, রাতের আড্ডা। আদিত্যের চোখে সেই তাকানো—যেন পুরো পৃথিবী শুধু রিয়া। প্রথম চুমুটা হয়েছিল বৃষ্টির মধ্যে, একটা পুরনো বাসের ছাউনির নিচে। রিয়ার হাত কেঁপে উঠেছিল, আদিত্যের হাত তার কোমরে শক্ত করে ধরেছিল।
বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস ছিল অন্যরকম। প্রতিদিন নতুন করে একে অপরকে আবিষ্কার করার মতো। রাতে আদিত্য তার গলায় চুমু দিত, কানে কানে বলত, “তুমি আমার।” রিয়া তার বুকের ওপর মাথা রেখে শুনত তার হৃদস্পন্দন। শরীরের প্রতিটা স্পর্শ ছিল আগুনের মতো।
এখন সেই আগুন নিভে গেছে বলে মনে হয়। শুধু ছাই পড়ে আছে।
রিয়া কফির শেষ চুমুকটা নিল। ভেতরে থেকে দরজার শব্দ শোনা গেল। আদিত্য এসেছে। চাবি ঘোরানোর শব্দ, জুতো খোলার শব্দ, তারপর লাইট জ্বালানোর শব্দ। রিয়া উঠে গেল না। বারান্দায়ই বসে রইল।
আদিত্য ভেতরে ঢুকে দেখল বারান্দার দরজা খোলা। রিয়া সেখানে। সে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
“আজ দেরি হয়ে গেল,” আদিত্য বলল। কণ্ঠস্বরটা একটু ক্লান্ত।
রিয়া ঘাড় নাড়ল। কিছু বলল না।
আদিত্য তার পাশে এসে দাঁড়াল। হাত রেলিংয়ে রাখল। “খাবার?”
“রেফ্রিজারেটরে আছে। গরম করে নিও।”
আদিত্য চুপ করে রইল। তারপর বলল, “তুমি খাওনি?”
“খেয়েছি।”
আবার নীরবতা। বাইরে একটা মোটরসাইকেল চলে গেল। দূরে কোনো মসজিদের আজানের আওয়াজ ভেসে এল।
আদিত্য হঠাৎ বলল, “রিয়া…”
রিয়া তাকাল। আদিত্যের চোখে একটা অদ্ভুত ভাব। রাগ না, অভিমান না—কিছু একটা মিশ্রিত।
“গতদিন ধরে আমরা কথা বলছি না,” আদিত্য বলল। “ঠিকমতো।”
রিয়া হাসল, কিন্তু সে হাসি তিক্ত। “কথা বলার মতো কিছু আছে বলে মনে হয় না।”
“আছে।” আদিত্য তার দিকে ঘুরে দাঁড়াল। “আমি জানি আমি ভুল করেছি। সেদিনের কথা। আমি… আমি চাপের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু তোমাকে দোষ দেওয়ার কোনো অধিকার আমার ছিল না।”
রিয়ার চোখে একটু নরম ভাব এল, কিন্তু সে সরিয়ে দিল। “শুধু সেদিন না, আদিত্য। অনেকদিন ধরে। তুমি সবসময় ব্যস্ত। আমি যখন কথা বলতে চাই, তখন তোমার ল্যাপটপ খোলা থাকে। যখন আমি কাছে যেতে চাই, তখন তোমার ফোন বাজে।”
আদিত্য মাথা নিচু করল। “আমি জানি। কাজের চাপ… কিন্তু সেটা কোনো অজুহাত না।”
রিয়া উঠে দাঁড়াল। “অজুহাত না। বাস্তব। আর আমিও দোষী। আমিও নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমরা দুজনেই… একে অপরকে হারিয়ে ফেলেছি।”
আদিত্য তার হাত ধরল। রিয়া সরিয়ে নিল না। আদিত্যের আঙুল তার আঙুলের ফাঁকে ঢুকে গেল। উষ্ণ। পরিচিত।
“হারিয়ে ফেলিনি,” আদিত্য বলল। কণ্ঠস্বরটা একটু ভাঙা। “আমি চাই না হারাই। রিয়া, আমি… আমি তোমাকে মিস করি। তোমার হাসি, তোমার রাগ, তোমার… সবকিছু।”
রিয়ার চোখে জল এসে গেল। সে দ্রুত মুছে ফেলল। “আমিও। কিন্তু শুধু কথায় হবে না, আদিত্য। আমাদের কিছু পরিবর্তন করতে হবে।”
আদিত্য মাথা নাড়ল। “করব। আজ থেকে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”
রিয়া তার দিকে তাকাল। আদিত্যের চোখে সত্যিই একটা আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছিল। সে ধীরে ধীরে কাছে গেল। আদিত্যের বুকে মাথা রাখল। আদিত্য তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিল। ধীরে ধীরে। যেন ভয় পাচ্ছে, যদি রিয়া সরে যায়।
রিয়া সরে গেল না। বরং আরও কাছে ঠেস দিল। আদিত্যের শার্টের বোতামের ফাঁক দিয়ে তার ত্বকের উষ্ণতা অনুভব করল। বুকের ভেতর হৃদস্পন্দনটা একটু দ্রুত হয়ে উঠল।
আদিত্য তার চুলের মধ্যে নাক ডুবিয়ে শুঁকল। “তোমার চুলের গন্ধ… এখনও একই।”
রিয়া হাসল। এবারের হাসি একটু নরম। “আর তোমার… তোমার গায়ের গন্ধ এখনও আমাকে পাগল করে।”
আদিত্য তার থুতনিতে আঙুল দিয়ে মুখ তুলে ধরল। চোখে চোখ রাখল। তারপর ধীরে ধীরে ঠোঁট নামিয়ে এল। প্রথম চুমুটা ছিল নরম, প্রায় ভীতু। যেন পরীক্ষা করছে। রিয়া চোখ বন্ধ করল। আদিত্যের ঠোঁট তার ঠোঁটে চাপ দিল। একটু জোরালো। রিয়ার হাত আদিত্যের ঘাড়ে উঠে গেল। আঙুল তার চুলে ঢুকে গেল।
চুমুটা গভীর হতে লাগল। আদিত্যের জিভ রিয়ার ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে ঢুকে গেল। রিয়া সাড়া দিল। তাদের শ্বাস গরম হয়ে উঠল। আদিত্যের হাত রিয়ার কোমর ঘিরে ধরল, শক্ত করে। রিয়ার শরীর তার শরীরের সাথে লেগে গেল।
কিছুক্ষণ পর আদিত্য ঠোঁট সরিয়ে নিল। কিন্তু দূরে যায়নি। কপালে কপাল ঠেকিয়ে শ্বাস নিচ্ছিল। “রিয়া… আমি চাই তোমাকে। আজ রাতে। শুধু তোমাকে।”
রিয়ার গালে লালচে ভাব এসে গেল। কিন্তু সে পিছু হটল না। “আমিও চাই। কিন্তু… আগে একটু কথা বলি। আমাদের রাগ-অভিমানগুলো এখনও আছে।”
আদিত্য মাথা নাড়ল। “বলো।”
রিয়া তার হাত ধরে ভেতরে নিয়ে গেল। সোফায় বসল। আদিত্য তার পাশে। রিয়া একটু চুপ করে থেকে বলল, “আমি রাগ করেছিলাম কারণ মনে হয়েছিল তুমি আমাকে গুরুত্ব দিচ্ছ না। আমার কাজ, আমার সময়—সব তোমার কাছে ছোট মনে হয়। আর তুমি যখন ব্যস্ত থাকো, আমি একা হয়ে যাই। বিয়ের পরও একা।”
আদিত্য তার হাত চেপে ধরল। “আমি বুঝি। আমিও একই অনুভব করি কখনো কখনো। তুমি যখন কাজ নিয়ে ব্যস্ত, আমি ভাবতাম হয়তো আমি আর তোমার কাছে আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ নই। আর সেদিন… আমি ভুল করেছিলাম। ক্ষমা চাই।”
রিয়া তার চোখের দিকে তাকাল। “আমিও ক্ষমা চাই। আমিও কঠিন কথা বলেছিলাম।”
আদিত্য হাসল। একটু স্বস্তির হাসি। “তাহলে… এখন কি আমরা শান্তি করতে পারি?”
রিয়া মাথা নাড়ল। “পারি। কিন্তু শুধু কথায় না।”
আদিত্য তার দিকে ঝুঁকল। আবার চুমু দিল। এবার আর নরম নয়। ক্ষুধার্ত। রিয়া সাড়া দিল একই তীব্রতায়। আদিত্যের হাত তার কোমর থেকে উপরে উঠে গেল। ব্লাউজের নিচে ঢুকে গেল। ত্বকের উষ্ণতা অনুভব করে আদিত্যের শ্বাস ভারী হয়ে উঠল।
রিয়া তার শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করল। একটা… দুটো… তিনটে। আদিত্যের বুক খুলে গেল। রিয়া হাত বুলিয়ে দিল তার বুকের ওপর। আদিত্যের পেশি শক্ত হয়ে উঠল স্পর্শে।
“বেডরুমে চলো,” আদিত্য ফিসফিস করে বলল।
রিয়া উঠে দাঁড়াল। আদিত্য তার হাত ধরে টানল। করিডোর দিয়ে বেডরুমের দিকে। দরজা বন্ধ করে দিয়ে আদিত্য রিয়াকে দেয়ালের সাথে হালকা করে ঠেস দিল। আবার চুমু। এবার আরও গভীর। তার হাত রিয়ার স্কার্টের নিচে ঢুকে গেল। উরুতে হাত বুলিয়ে দিল। রিয়ার শরীর কেঁপে উঠল।
রিয়া আদিত্যের বেল্ট খুলে ফেলল। জিন্সের বোতাম। আদিত্য তার ব্লাউজ উপরে তুলে দিল। ব্রা দেখে এক মুহূর্ত থেমে গেল। তারপর হাত পিছনে নিয়ে হুক খুলে দিল। রিয়ার স্তন মুক্ত হয়ে গেল। আদিত্য মাথা নিচু করে একটা স্তনে মুখ রাখল। জিভ দিয়ে চেটে দিল। রিয়ার মাথা পেছনে হেলান দিল। একটা মৃদু আর্তনাদ বেরিয়ে এল তার মুখ থেকে।
“আদিত্য…” তার কণ্ঠস্বর কাঁপছিল।
আদিত্য অন্য স্তনে মুখ দিল। দাঁত দিয়ে হালকা কামড় দিল। রিয়ার হাত তার চুলে শক্ত করে ধরে রাখল। আদিত্য হাঁটু গেড়ে বসল। রিয়ার স্কার্ট নিচে নামিয়ে দিল। প্যান্টির ওপর দিয়ে হাত বুলিয়ে দিল। ভিজে। আদিত্য তাকিয়ে দেখল রিয়ার চোখ। তারপর প্যান্টি সরিয়ে জিভ দিয়ে স্পর্শ করল।
রিয়ার পা কেঁপে উঠল। আদিত্য তার উরুতে হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে রাখল। জিভ দিয়ে আস্তে আস্তে চাটতে লাগল। রিয়ার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। একটা হাত দেয়ালে ঠেস দিয়ে রাখল, অন্য হাত আদিত্যের মাথায়।
“আরও… একটু আরও,” রিয়া ফিসফিস করল।
আদিত্য তার কথা শুনল। জিভের চাপ বাড়িয়ে দিল। একটা আঙুল ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। রিয়ার শরীর আরও টানটান হয়ে উঠল। আদিত্য আরও একটা আঙুল ঢোকাল। ভেতরে গভীর করে নড়াতে লাগল। জিভ দিয়ে ক্লাইটরিসে চাপ দিতে লাগল।
রিয়ার আর্তনাদ বাড়তে লাগল। “আদিত্য… আমি… আমি আর পারছি না…”
আদিত্য থামল না। তার আঙুল আর জিভের ছন্দ বাড়িয়ে দিল। রিয়ার শরীর কেঁপে উঠল। একটা তীব্র কম্পন ছড়িয়ে গেল তার সারা শরীরে। সে চোখ বন্ধ করে আদিত্যের নাম ডাকল। আদিত্য তাকে ধরে রাখল যতক্ষণ না কম্পন থেমে গেল।
তারপর উঠে দাঁড়াল। রিয়ার ঠোঁটে চুমু দিল। রিয়া তার স্বাদ পেল নিজের শরীরের। আদিত্য তাকে বিছানার দিকে নিয়ে গেল। শুইয়ে দিল। নিজের জিন্স আর অন্তর্বাস খুলে ফেলল। তার পুরুষাঙ্গ শক্ত হয়ে উঠেছিল। রিয়া তাকিয়ে দেখল। হাত বাড়িয়ে ধরল। আদিত্যের শ্বাস ভারী হয়ে উঠল স্পর্শে।
রিয়া তাকে টেনে নিল নিজের ওপর। আদিত্য তার দুই পা আলাদা করে দিল। ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল। রিয়ার চোখ বড় হয়ে গেল। এতদিন পর এই অনুভূতি—ভরাট, উষ্ণ, সম্পূর্ণ। আদিত্য পুরোপুরি ঢুকে গিয়ে থেমে গেল এক মুহূর্ত। তাদের শ্বাস মিলেমিশে এক হয়ে গেল।
তারপর আদিত্য নড়তে শুরু করল। ধীরে ধীরে। প্রতিটা ধাক্কায় রিয়ার শরীর কেঁপে উঠছিল। রিয়া তার পিঠে নখ বসিয়ে দিল। আদিত্যের গতি বাড়ল। বিছানাটা শব্দ করতে লাগল। রিয়ার আর্তনাদ আর আদিত্যের ভারী শ্বাস মিলে একটা সুর তৈরি করল।
“আরও জোরে,” রিয়া বলল। তার কণ্ঠস্বর ভাঙা।
আদিত্য তার কথা শুনল। গতি বাড়িয়ে দিল। এক হাত দিয়ে রিয়ার একটা স্তন চেপে ধরল, অন্য হাত তার কোমরে। রিয়া পা জড়িয়ে ধরল তার কোমরে। আরও গভীরে নিয়ে যেতে চাইল।
আদিত্য হঠাৎ থেমে গেল। রিয়াকে উল্টে দিল। উপুড় করে শুইয়ে দিল। পেছন থেকে আবার ঢুকল। এবার আরও গভীর। রিয়া বালিশে মুখ গুঁজে আর্তনাদ করল। আদিত্য তার কোমর ধরে জোরে জোরে ধাক্কা দিতে লাগল। প্রতিটা ধাক্কায় রিয়ার শরীর সামনে এগোচ্ছিল।
“তুমি আমার,” আদিত্য গর্জন করে বলল। “শুধু আমার।”
রিয়া মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। “আর তুমি… তুমি আমার।”
আদিত্য আরও জোরে ধাক্কা দিল। রিয়ার দ্বিতীয় অর্গাজম এসে গেল হঠাৎ করে। তার শরীর কেঁপে উঠল আদিত্যের নিচে। আদিত্যও আর ধরে রাখতে পারল না। কয়েকটা শেষ তীব্র ধাক্কার পর সেও নিজেকে ছেড়ে দিল। রিয়ার ভেতরে। উষ্ণ তরল ছড়িয়ে গেল।
তারা দুজনেই বিছানায় পড়ে রইল। শ্বাস নিতে নিতে। আদিত্য রিয়ার পাশে শুয়ে তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিল। রিয়া ঘুরে তার বুকে মাথা রাখল।
কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর রিয়া বলল, “এটা… এটা দরকার ছিল।”
আদিত্য হাসল। “হ্যাঁ। অনেক দরকার ছিল।”
রিয়া তার বুকে আঙুল দিয়ে আঁকিবুকি আঁকল। “কিন্তু শুধু এটা দিয়ে হবে না। আমাদের কথা বলতে হবে। প্রতিদিন। একটু সময় বের করতে হবে একে অপরের জন্য।”
আদিত্য তার মাথায় চুমু দিল। “দিব। আজ থেকে প্রতি রাতে কমপক্ষে এক ঘণ্টা শুধু আমাদের। কোনো ফোন, কোনো ল্যাপটপ না।”
রিয়া মাথা তুলে তাকাল। “প্রতিশ্রুতি?”
“প্রতিশ্রুতি।” আদিত্য তার ঠোঁটে চুমু দিল। নরম। ভালোবাসার।
রাতটা আরও গভীর হল। তারা আবার একে অপরকে স্পর্শ করল। এবার আরও আস্তে। আরও গভীর করে। আদিত্য রিয়ার প্রতিটা ইঞ্চি চুমু দিয়ে গেল। গলা, কলারবোন, স্তন, পেট, উরু। রিয়াও তার শরীর আবিষ্কার করল নতুন করে। তার বুকের ওপর চুমু, পেটে, আর নিচে। আদিত্য যখন তার মুখে নিজেকে দিল, রিয়া তা গ্রহণ করল আগ্রহের সাথে। আদিত্যের হাত তার চুলে শক্ত করে ধরে রাখল।
পরে আবার তারা এক হল। এবার রিয়া উপরে। আদিত্যের ওপর বসে ধীরে ধীরে নড়ল। আদিত্য তার কোমর ধরে রাখল। চোখে চোখ রেখে। রিয়ার চুল এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। ঘামে ভিজে গিয়েছিল তার শরীর। আদিত্য তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল আবার।
“তুমি সুন্দর,” আদিত্য বলল। “এখনও। সবসময়।”
রিয়া হাসল। নীচে ঝুঁকে তার ঠোঁটে চুমু দিল। গতি বাড়িয়ে দিল। আদিত্য তার সাথে মিলিয়ে নিল। শেষ পর্যন্ত তারা আবার একসাথে পৌঁছাল। একসাথে কেঁপে উঠল। একসাথে শ্বাস ছাড়ল।
রাত গভীর হলে তারা জড়িয়ে শুয়ে রইল। রিয়ার মাথা আদিত্যের বুকে। আদিত্য তার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল।
“আমরা ঠিক হয়ে যাব,” রিয়া ফিসফিস করল।
“হ্যাঁ,” আদিত্য বলল। “আমরা ঠিক হয়ে যাব। কারণ আমরা চাই। আর… আমি তোমাকে ভালোবাসি। এখনও। আগের চেয়ে বেশি।”
রিয়া তার বুকে চুমু দিল। “আমিও তোমাকে ভালোবাসি। রাগ থাকলেও। অভিমান থাকলেও।”
বাইরে বৃষ্টি শুরু হল। ঝিরঝির শব্দ। ঘরের ভেতর দুজন মানুষ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। আগুন নিভে যায়নি। শুধু একটু ছাই পড়েছিল। আজ সেই ছাই সরিয়ে আবার আগুন জ্বলে উঠল। গরম। তীব্র। আর ভালোবাসার।
সকালে যখন আলো এল, তারা এখনও জড়িয়ে ছিল। আদিত্য চোখ খুলল। রিয়াকে দেখল। ঘুমন্ত। শান্ত। সে ধীরে ধীরে তার কপালে চুমু দিল। রিয়া চোখ খুলল। হাসল।
“শুভ সকাল,” আদিত্য বলল।
“শুভ সকাল,” রিয়া উত্তর দিল। তারপর আদিত্যের গলায় হাত দিয়ে টেনে নিল। আবার চুমু। সকালের আলোয় তাদের শরীর আবার জেগে উঠল। এবার আরও আস্তে। আরও ভালোবেসে।
তারা জানত, রাগ আসবে আবার। অভিমানও। কিন্তু এখন তারা জানে কীভাবে সেই আগুনকে ভালোবাসার আগুনে রূপ দিতে হয়। আর সেই জ্ঞানই তাদের বাঁচিয়ে রাখবে। প্রতিদিন। প্রতি রাতে। একে অপরের বাহুতে।
গল্পের শেষ নয়। তাদের গল্প চলতেই থাকবে। রাগ নিয়ে, অভিমান নিয়ে, আর তার পরের গরম, ভিজে, প্রাণবন্ত রোমান্স নিয়ে। বিয়ের পরের জীবন এমনই। পূর্ণ। জটিল। আর অবিশ্বাস্যরকম সুন্দর।
....