বৃষ্টির শব্দে ভিজে যাচ্ছিল কলকাতার রাস্তা। সন্ধ্যার আলো ম্লান হয়ে আসছিল। আকাশ তার অফিস থেকে বেরিয়ে অটোরিকশায় উঠল। মাথায় ভারী ক্লান্তি। গত কয়েক মাস ধরে কাজের চাপ, সম্পর্কের শূন্যতা—সব মিলিয়ে সে নিজেকে হারিয়ে ফেলছিল।
অটো চলতে চলতে হঠাৎ করেই একটা জায়গায় থেমে গেল। সামনে একটা ছোট্ট ক্যাফে। জানালার কাঁচে লেখা—“রিয়ার কিচেন”। ভেতর থেকে হালকা হলুদ আলো বেরিয়ে আসছে। আকাশ অজান্তেই নেমে পড়ল।
ক্যাফের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতেই একটা গন্ধ এল—তাজা কফি আর ভ্যানিলার মিশ্রণ। কাউন্টারের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল একটা মেয়ে। কালো চুল কাঁধ অবধি, ফ্যাকাশে হলুদ কুর্তা, চোখে একটা নিঃশব্দ ক্লান্তি আর সৌন্দর্য।
রিয়া।
আকাশ তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। রিয়াও তাকাল। চোখাচোখি হওয়ামাত্র দুজনেরই বুকের ভিতর কিছু একটা কেঁপে উঠল।
“কফি লাগবে?” রিয়া জিজ্ঞেস করল নরম গলায়।
“এক কাপ ব্ল্যাক। কোনো চিনি নয়।”
রিয়া হাসল একটু। “কেউ চিনি ছাড়া কফি খায় এখনো?”
“আমি খাই।”
কফি এল। আকাশ জানালার পাশের টেবিলে বসল। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। ভিতরে নীরবতা। রিয়া মাঝে মাঝে চোখ তুলে তাকায়। আকাশও। কথার দরকার নেই। শুধু তাকানোই যথেষ্ট।
পরের দিন আকাশ আবার এল। তারপর আবার। তিন দিন পর রিয়া নিজে থেকে বলল, “তুমি প্রতিদিন আসছ কেন?”
আকাশ সোজা তাকিয়ে বলল, “তোমাকে দেখতে।”
রিয়ার গাল লাল হয়ে গেল। সে মুখ ফিরিয়ে নিল, কিন্তু হাসি চেপে রাখতে পারল না।
সেদিন রাতে আকাশ বাড়ি ফিরেও রিয়াকে ভুলতে পারল না। তার চোখ, তার কণ্ঠস্বর, তার হাতের আঙুল যখন কাপে কফি ঢালছিল—সব কিছু যেন শরীরে লেগে আছে।
এক সপ্তাহ পর বৃষ্টি আরও ভারী হল। আকাশ ক্যাফেতে ঢুকে দেখল রিয়া একা। অন্য কোনো কাস্টমার নেই।
“বন্ধ করছ?” আকাশ জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ। বৃষ্টির জন্য কেউ আসছে না।”
আকাশ হাত বাড়াল। “চলো। আমি পৌঁছে দিই।”
রিয়া একটু দ্বিধা করল, তারপর মাথা নেড়ে রাজি হল।
ট্যাক্সিতে পাশাপাশি বসা। জানালা দিয়ে বৃষ্টির শব্দ। রিয়ার কাঁধ আকাশের বাহুতে লেগে আছে। কেউ কিছু বলছে না। শুধু নীরবতা আর শরীরের উষ্ণতা।
রিয়ার বাড়ির সামনে নামার সময় আকাশ হঠাৎ বলল, “আজ রাতে... আমার বাড়িতে আসবে?”
রিয়া তাকাল। চোখে ভয় আর ইচ্ছা একসঙ্গে। তারপর সে শুধু মাথা নাড়ল।
আকাশের ফ্ল্যাট ছোট কিন্তু পরিষ্কার। জানালা দিয়ে শহরের আলো দেখা যায়। রিয়া জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল। আকাশ পিছন থেকে এসে তার কোমরে হাত রাখল।
রিয়া কেঁপে উঠল।
“ভয় পাচ্ছ?” আকাশ ফিসফিস করে বলল।
“না... শুধু... অনেকদিন কেউ এভাবে স্পর্শ করেনি।”
আকাশ তাকে ঘুরিয়ে নিল। চোখে চোখ। তারপর চুমু। প্রথমে হালকা, তারপর গভীর। রিয়ার ঠোঁট নরম, স্বাদ মিষ্টি। আকাশের জিভ তার মুখে ঢুকে গেল। রিয়া হাহাকার করে উঠল।
কাপড় খুলতে খুলতে তারা বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। আকাশের হাত রিয়ার স্তনে উঠল। নরম, ভারী। আঙুল দিয়ে স্তনবৃন্ত চেপে ধরতেই রিয়া কামড়ে ধরল তার কাঁধ।
“আস্তে...” রিয়া কেঁদে উঠল।
আকাশ থামল না। সে রিয়ার গলায় চুমু খেল, তারপর স্তনে। জিভ দিয়ে চাটতে লাগল। রিয়ার শরীর কেঁপে উঠছে। নিচে তার হাত নেমে গেল। প্যান্টির ভিতর আঙুল ঢুকিয়ে দিল। ভিজে, গরম।
“এত ভিজে গেছ...” আকাশ ফিসফিস করল।
রিয়া লজ্জায় মুখ ঢাকতে চাইল, কিন্তু আকাশ তার হাত সরিয়ে দিল। “দেখতে দাও আমাকে।”
আকাশ হাঁটু গেড়ে বসল। রিয়ার পা দুটো ছড়িয়ে দিল। তারপর মুখ নামিয়ে দিল। জিভের প্রথম স্পর্শেই রিয়া চিৎকার করে উঠল। আকাশ ধীরে ধীরে চাটতে লাগল। কখনো জিভ ঢুকিয়ে, কখনো চোষা। রিয়ার হাত আকাশের চুলে জড়িয়ে ধরল। কোমর উঠছে নিচে নামছে।
“আকাশ... আমি... আমি আর পারছি না...”
আকাশ থামল না। আরও জোরে। রিয়ার শরীর শক্ত হয়ে গেল। তারপর একটা দীর্ঘ হাহাকার। তার ভিতর থেকে তরল বেরিয়ে এল আকাশের মুখে।
আকাশ উঠে এসে রিয়ার উপরে উঠল। নিজের প্যান্ট খুলে ফেলল। রিয়া চোখ বড় করে তাকাল। আকাশের লিঙ্গ শক্ত, লম্বা, শিরা ফুলে আছে।
“ভয় পাচ্ছ?”
রিয়া মাথা নাড়ল। “না... চাই।”
আকাশ ধীরে ধীরে ঢুকিয়ে দিল। রিয়ার ভিতর টানটান। সে ব্যথায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। আকাশ থেমে গেল।
“ব্যথা করছে?”
“একটু... কিন্তু থামো না।”
আকাশ আস্তে আস্তে নড়তে শুরু করল। ধীরে। তারপর একটু জোরে। রিয়ার ব্যথা আনন্দে মিশে গেল। সে পা জড়িয়ে ধরল আকাশের কোমরে। নখ দিয়ে পিঠে আঁচড় কাটল।
ঘর ভরে গেল শব্দে—শরীরের ধাক্কা, হাঁপানি, আর রিয়ার অস্ফুট গোঙানি। আকাশ রিয়ার স্তন কামড়ে ধরল। রিয়া চিৎকার করে উঠল।
“আরও জোরে...” রিয়া বলল।
আকাশ তার কথামতো করল। বিছানা কাঁপছে। রিয়ার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে—আনন্দে। আকাশ তার গলায় চুমু খেয়ে ফিসফিস করল, “তুমি আমার...”
রিয়া উত্তর দিল না। শুধু আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
শেষ পর্যন্ত দুজনে একসঙ্গে এল। আকাশের শরীর কেঁপে উঠল। সে রিয়ার ভিতরেই গড়িয়ে পড়ল। দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাস মিশে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর রিয়া আকাশের বুকে মাথা রেখে বলল, “আমি ভয় পাই... এভাবে কাউকে ভালোবাসতে।”
আকাশ তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল। “কেন?”
রিয়া চুপ করে রইল। তার চোখে জল। আকাশ আর জিজ্ঞেস করল না। শুধু জড়িয়ে ধরে রাখল।
পরের কয়েক সপ্তাহ যেন স্বপ্নের মতো কেটে গেল। দিনে আকাশ অফিস, রিয়া ক্যাফে। রাতে তারা একসঙ্গে। কখনো আকাশের ফ্ল্যাটে, কখনো রিয়ার ছোট একরूम অ্যাপার্টমেন্টে। শরীরের ক্ষুধা কখনো মেটে না। তারা একে অপরকে চিনতে শিখছে নতুন করে—প্রতিটি স্পর্শে, প্রতিটি চুমুতে।
একদিন রাতে রিয়া হঠাৎ করে কেঁদে ফেলল। আকাশ জিজ্ঞেস করল কী হয়েছে। রিয়া বলল, “আমার একটা অতীত আছে... যা তোমাকে বলিনি।”
আকাশ চুপ করে শুনল।
রিয়া বলল, “আমার স্বামী ছিল। তিন বছর আগে। সে... সে আমাকে মারত। শারীরিকভাবে। মানসিকভাবে। আমি পালিয়ে এসেছিলাম। ডিভোর্স হয়নি। সে এখনো খোঁজে।”
আকাশের শরীর শক্ত হয়ে গেল। সে রিয়াকে জড়িয়ে ধরল। “তুমি নিরাপদ আমার কাছে।”
রিয়া মাথা নাড়ল। “না। কেউ নিরাপদ নয়।”
কিন্তু আকাশ বিশ্বাস করল না। সে রিয়াকে আরও কাছে টানল। তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হল। শরীরের মিলন এখন শুধু কাম নয়—ভয় ভাঙার চেষ্টা, ভালোবাসার প্রমাণ।
এক মাস পর এক সন্ধ্যেবেলা আকাশ অফিস থেকে ফিরে দেখল রিয়া নেই। ফোন ধরছে না। ক্যাফে বন্ধ। রিয়ার অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে দেখল তালা খোলা। ভিতরে জিনিসপত্র ছড়ানো। রক্তের দাগ মেঝেতে।
আকাশের বুক কেঁপে উঠল। সে পুলিশে খবর দিল। খোঁজাখুঁজি শুরু হল। দুদিন পর খবর এল—রিয়াকে পাওয়া গেছে একটা পরিত্যক্ত গুদামে। জীবিত, কিন্তু আহত।
হাসপাতালে গিয়ে আকাশ দেখল রিয়ার মুখ ফুলে আছে, হাতে ব্যান্ডেজ। রিয়া চোখ খুলে আকাশকে দেখে কেঁদে ফেলল।
“সে এসেছিল... আমার স্বামী। সে বলেছিল তোমাকে মেরে ফেলবে যদি আমি না যাই।”
আকাশ রিয়ার হাত চেপে ধরল। “এখন আমি আছি। কেউ তোমাকে ছুঁতে পারবে না।”
কিন্তু রিয়া মাথা নাড়ল। “তুমি বুঝছ না। সে পাগল। সে থামবে না।”
আকাশ ঠিক করল সে রিয়াকে নিয়ে শহর ছেড়ে যাবে। কিন্তু তার আগেই ঘটল টুইস্ট।
এক রাতে আকাশের ফ্ল্যাটে কেউ কড়া নাড়ল। আকাশ দরজা খুলে দেখল একটা লোক দাঁড়িয়ে—লম্বা, কালো চুল, চোখে পাগলামি। হাতে ছুরি।
“তুমিই আকাশ?” লোকটা হাসল। “রিয়ার নতুন খেলনা।”
আকাশ পিছিয়ে গেল। লোকটা ঢুকে পড়ল। লড়াই শুরু হল। আকাশ ছুরির বাঁক এড়াতে গিয়ে হাত কেটে গেল। রক্ত ঝরছে। লোকটা আরও এগোল।
ঠিক তখন দরজা খুলে রিয়া ঢুকল। হাতে একটা লোহার রড। সে চিৎকার করে লোকটার মাথায় আঘাত করল। লোকটা পড়ে গেল। রিয়া আবার আঘাত করল। আরও একবার।
আকাশ উঠে এসে রিয়াকে ধরল। “থেমে যাও... সে মরে গেছে।”
রিয়া কেঁপে উঠছে। চোখে অশ্রু আর রক্ত। সে আকাশের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
পুলিশ এল। তদন্ত হল। প্রমাণে দেখা গেল লোকটা রিয়ার স্বামীই। সে রিয়াকে খুঁজে পেয়ে প্রথমে অপহরণ করেছিল, তারপর আকাশকে মারতে এসেছিল। আত্মরক্ষার নামে রিয়ার কাজকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হল।
কিন্তু সেই রাতের পর রিয়া আর আগের মতো রইল না। সে চুপচাপ থাকত। আকাশ যখন স্পর্শ করতে চাইত, সে শরীর শক্ত করে ফেলত।
একদিন রাতে আকাশ বলল, “তুমি আমাকে ভয় পাচ্ছ?”
রিয়া মাথা নাড়ল। “না। আমি নিজেকে ভয় পাই। আমি একজন মানুষকে মেরে ফেলেছি।”
আকাশ তার হাত ধরল। “তুমি আমাকে বাঁচিয়েছ। আর নিজেকেও।”
রিয়া কেঁদে ফেলল। আকাশ তাকে জড়িয়ে ধরল। সেই রাতে তারা শুধু কাছাকাছি শুয়ে রইল। কোনো যৌনতা নেই। শুধু উষ্ণতা।
ধীরে ধীরে ক্ষত সারতে লাগল। এক মাস পর এক রাতে রিয়া নিজে থেকে আকাশের কাছে এল। চুমু দিল। আকাশ থেমে গেল।
“তুমি নিশ্চিত?”
রিয়া মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ। আজ আমি চাই।”
তারা ধীরে ধীরে কাপড় খুলল। আকাশ রিয়ার শরীরে চুমু খেল—প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে, প্রতিটি ভয়ে। রিয়া কেঁদে উঠল, কিন্তু থামল না। আকাশ যখন তার ভিতরে ঢুকল, রিয়া চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করল, “আমাকে ভুলে যেতে দাও...”
আকাশ নড়তে শুরু করল। ধীরে। ভালোবেসে। রিয়ার হাত তার পিঠে জড়িয়ে ধরল। দুজনের শ্বাস মিশে গেল। এইবার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। শুধু অনুভূতি। শুধু দুজন মানুষ একে অপরকে ধরে আছে অন্ধকারের মধ্যে।
শেষে রিয়া আকাশের কানে ফিসফিস করল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।”
আকাশ উত্তর দিল, “আমিও।”
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয় না।
তিন মাস পর আকাশ আর রিয়া একসঙ্গে থাকতে শুরু করল। ক্যাফে বিক্রি করে দিয়ে রিয়া নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করছিল। আকাশও চাকরি ছেড়ে একটা ছোট স্টার্টআপ শুরু করেছিল। সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল বলে মনে হচ্ছিল।
একদিন সকালে আকাশের ফোনে একটা অজানা নম্বর থেকে কল এল। সে ধরল।
অন্য প্রান্ত থেকে একটা মহিলার গলা। “আপনি কি আকাশ? রিয়ার সঙ্গে থাকেন?”
“কে আপনি?”
“আমি রিয়ার বোন। ও আপনাকে সব বলেনি। ওর স্বামী মরেনি সেই রাতে। হাসপাতালে সে বেঁচে গিয়েছিল। আর এখন সে ছাড়া পেয়েছে।”
আকাশের হাত থেকে ফোন পড়ে গেল।
সে ঘুরে তাকাল। রিয়া রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে চা বানাচ্ছে। হাসছে। সকালের আলোয় তার মুখ স্বর্গের মতো লাগছে।
আকাশ ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। রিয়ার কোমরে হাত রাখল।
রিয়া ঘুরে তাকাল। “কী হয়েছে?”
আকাশ চুপ করে রইল। তার চোখে ভয়। আর ভালোবাসা। আর একটা সিদ্ধান্ত।
সে রিয়াকে জড়িয়ে ধরল। শক্ত করে।
“কিছু না,” আকাশ বলল। “শুধু... আজ রাতে কোথাও চলে যাই। দূরে। শুধু তুমি আর আমি।”
রিয়া হাসল। “কোথায়?”
আকাশ তার চোখে চোখ রেখে বলল, “যেখানে কেউ আমাদের খুঁজে পাবে না।”
রিয়া মাথা নাড়ল। কিন্তু তার চোখে একটা ছায়া ফুটে উঠল। সে জানত। সে সব জানত। তার স্বামী বেঁচে আছে। আর সে ফিরে আসবে।
কিন্তু আকাশকে সে বলল না।
কারণ এই মুহূর্তে, এই সকালের আলোয়, এই জড়িয়ে ধরায়—শুধু এইটুকুই তার কাছে সত্যি।
আর গল্প এখানেই থেমে যায়। দুজন মানুষ একে অপরকে ধরে আছে। জানে না আগামীকাল কী আসছে। জানে না ভালোবাসা কি তাদের বাঁচাবে, নাকি শেষ করে দেবে।
শুধু জানে—এই মুহূর্তটা তাদের।
এবং এই মুহূর্তটাই যথেষ্ট।
....