তৃষার জীবনটা ছিল একঘেয়ে। ঢাকার একটা পুরনো পাড়ায় ছোট্ট ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থাকে সে। বাবা নেই অনেকদিন। প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে চা বানায়, জানালার পাশে বসে থাকে। পাশের বাড়িটা দেখা যায় স্পষ্ট। সেখানে থাকে নীল। তার বয়স তৃষারই মতো, পঁচিশ-ছয়। লম্বা, গাঢ় চোখ, সবসময় একটু বাঁকা হাসি।
একদিন সকালে দরজার নিচে একটা ছোট সাদা খাম পড়ে থাকতে দেখে তৃষা। নাম নেই। ভেতরে একটা চিঠি। হাতের লেখা পরিষ্কার, একটু হেলানো।
“মনে আছে সেই দিনটার কথা? যখন তুমি ছাদে গিয়ে লুকিয়ে কেঁদেছিলে, কারণ কেউ তোমার জন্মদিন মনে রাখেনি। তুমি বলেছিলে, ‘আমি কারো কাছে গুরুত্বপূর্ণ নই।’ কিন্তু তুমি ছিলে। এখনো আছো।”
তৃষার হাত কাঁপতে থাকে। সেই দিনের কথা কেউ জানে না। মা ব্যস্ত ছিলেন, বাবা তখনো বেঁচে ছিলেন কিন্তু দূরে। কে জানল?
পরের দিন আরেকটা। আবার দরজার নিচে।
“স্কুলের পেছনের মাঠে তুমি একা বসে থাকতে। নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে। কেউ জানত না তোমার ভেতরে কত কথা জমে আছে। আমি জানি।”
তৃষা পাশের বাড়ির দিকে তাকায়। নীল বারান্দায় দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছে। চোখ পড়ে। নীল হাসির সঙ্গে হাত নাড়ে। তৃষা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
সেদিন সন্ধ্যায় সিঁড়িতে দেখা হয়। নীল নিচে নামছে।
“কী হয়েছে তৃষা? এত গম্ভীর মুখ?”
তৃষা সোজা তাকায়। “তুমি লিখছো?”
নীল ভুরু তোলে। “কী লিখছি?”
“চিঠি। আমার ছোটবেলার কথা।”
নীল হেসে ওঠে। জোরে। “আমি? তোমার ছোটবেলা নিয়ে চিঠি? ওহ তৃষা, তুমি একদম পাগল হয়ে গেছো। আমি তো জানিই না তোমার ছোটবেলায় কী হয়েছিল।”
তৃষা রাগে ফুলে ওঠে। “তুমি মিথ্যে বলছো।”
নীল কাছে এসে এক পা থেমে যায়। তার গলা নামিয়ে বলে, “যদি লিখতাম, তাহলে আরো গরম কিছু লিখতাম। শুধু ছোটবেলার কান্না নয়।”
তৃষার গাল গরম হয়ে যায়। নীলের চোখে একটা আগুন জ্বলে। সে হাসতে হাসতে চলে যায়। তৃষা সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকে অনেকক্ষণ।
চিঠি আসতে থাকে। প্রতিদিন। কখনো সকালে, কখনো রাতে। একদিন লেখা ছিল—
“মনে আছে সেই গরমের দুপুরে তুমি ছাদে শুয়ে আকাশ দেখছিলে? তোমার চুল ছড়িয়ে ছিল। কেউ দেখেনি। কিন্তু কেউ দেখেছিল। তোমার শরীরের প্রতিটা রেখা মনে আছে।”
তৃষা রাতে জানালার কাছে দাঁড়ায়। নীলের ঘরের আলো জ্বলছে। সে কি দেখছে? তৃষার শরীর কাঁপে। সে নিজেও বুঝতে পারে না কেন। রাগ আর একটা অদ্ভুত টান একসঙ্গে কাজ করছে।
পরের দিন অফিস থেকে ফিরে নীলের সঙ্গে মুখোমুখি হয়। নীল গাড়ি থেকে নামছে।
তৃষা সোজা গিয়ে দাঁড়ায়। “এবার স্বীকার করো।”
নীল হেলমেট খুলে ধীরে ধীরে তাকায়। “কী স্বীকার করবো? যে তোমাকে দেখতে ভালো লাগে? সেটা তো সবাই জানে।”
তৃষার কণ্ঠস্বর কাঁপে। “চিঠি।”
নীল এক পা এগিয়ে আসে। খুব কাছে। তার শ্বাস তৃষার গালে লাগে। “তৃষা, যদি আমি চিঠি লিখতাম, তাহলে তোমাকে রাতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না। আমি সোজা তোমার দরজায় কড়া নাড়তাম। আর ভেতরে ঢুকে—”
সে থেমে যায়। চোখে হাসি, কিন্তু গলায় গরম।
তৃষা পিছিয়ে যায়। হৃদয় দুরুদুরু করছে। নীল হাসতে হাসতে বাড়ির দিকে যায়।
রাতে আরেকটা চিঠি।
“তুমি যখন রাগ করো, তোমার ঠোঁট শক্ত হয়। আমি সেই ঠোঁট স্পর্শ করতে চাই। কিন্তু এখনো সময় হয়নি।”
তৃষা চিঠিটা বুকের কাছে চেপে ধরে। নীলের কথা মনে পড়ে। তার শরীর গরম হয়ে ওঠে। সে জানালায় যায়। নীলের ঘর অন্ধকার। কিন্তু তৃষা জানে, কেউ তাকে দেখছে।
দুজনের মধ্যে কথা কম, কিন্তু চোখে চোখ পড়লে একটা বিদ্যুৎ খেলে যায়। নীল তাকে নিয়ে মজা করে। “তৃষা, তোমার চিঠির প্রেমিক কি এখনো লুকিয়ে আছে? নাকি আমাকে সন্দেহ করছো শুধু আমার সুন্দর মুখের জন্য?”
তৃষা রাগ করে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু রাতে চিঠি পড়ার সময় নীলের গলা মনে পড়ে। তার হাত, তার হাসি, তার কাছে আসার সেই মুহূর্ত।
একদিন বৃষ্টি ছাড়াই গরমের সন্ধ্যায় দুজনে ছাদে উঠে যায় আলাদা আলাদাভাবে। তৃষা দেখে নীল অন্য দিকে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ নীল ঘুরে তাকায়। দূর থেকে চোখ মিলিয়ে রাখে। কোনো কথা নেই। শুধু তাকিয়ে থাকা। তৃষার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। নীলের চোখে যে আগুন, তাতে তার শরীর গলে যায়।
সে রাতে চিঠিতে লেখা—
“তোমার শরীরের গরম আমি দূর থেকেও অনুভব করতে পারি। একদিন কাছে এসে সবকিছু নেবো।”
তৃষা ঘুমাতে পারে না। নীলের মুখ, নীলের কথা, নীলের সেই বাঁকা হাসি—সব মিশে যায়। সে জানে নীল মিথ্যে বলছে। কিন্তু কেন? আর কেন তার শরীর নীলের কথায় এভাবে সাড়া দেয়?
পরের দিন সকালে সিঁড়িতে আবার দেখা। নীল কাছে এসে ফিসফিস করে বলে, “রাতের চিঠি পড়েছো তৃষা? কেমন লাগছে?”
তৃষা তার চোখের দিকে তাকায়। “তুমিই লিখছো।”
নীল হাসে। “হয়তো। হয়তো না। কিন্তু যদি লিখি, তাহলে পরের চিঠিতে লিখবো তোমার গায়ের গন্ধের কথা। তোমার ঘামের স্বাদের কথা। তোমার—”
তৃষা হাত তুলে তার মুখ চেপে ধরে। নীলের চোখ গরম হয়ে ওঠে। সে তৃষার হাত ধরে নামিয়ে আনে। আঙুল দিয়ে তৃষার কব্জি স্পর্শ করে। এক মুহূর্ত। তারপর ছেড়ে দেয়।
“সাবধানে থেকো তৃষা। কেউ হয়তো তোমার সবকিছু জানে।”
তৃষা দাঁড়িয়ে থাকে। হৃদয় ভেঙে পড়ার মতো ধড়ফড় করছে। নীল চলে যায়। কিন্তু তার স্পর্শের উষ্ণতা তৃষার চামড়ায় থেকে যায়।
চিঠি আসতে থাকে। আর দুজনের মধ্যে সেই অদ্ভুত টান বাড়তে থাকে। তৃষা জানে, নীল জড়িত। কিন্তু নীল প্রতিবার অস্বীকার করে, আর উল্টো তাকে আরো গভীরে টেনে নেয়।
চিঠিগুলো আরো গভীর হতে থাকে। একদিন লেখা—
“তোমার ঘুমের মধ্যে তুমি কথা বলো। আমি শুনেছি। তুমি বলেছো কারো নাম। সেই নামটা আমার নয়। কিন্তু আমি চাই আমার নামই হোক।”
তৃষা রাতে জেগে থাকে। নীলের বাড়ির দিকে তাকায়। আলো জ্বলছে। সে কি জেগে আছে? তৃষা নিজেও বুঝতে পারে না কেন তার শরীর এত অস্থির। নীলের কথা মনে পড়লে পেটের ভেতরটা গরম হয়ে ওঠে।
এক সন্ধ্যায় পাড়ার ছোট্ট চায়ের দোকানে দেখা হয়। নীল একা বসে। তৃষা যাচ্ছিল অন্যদিকে, কিন্তু নীল ডাকে।
“এসো। বসো।”
তৃষা দাঁড়িয়ে থাকে। নীল উঠে এসে তার হাত ধরে। শক্ত করে নয়, কিন্তু ছেড়ে দেয় না। “একটু বসো। কথা বলি।”
তৃষা বসে। নীল তার কাছে এসে বসে। হাঁটু ছুঁয়ে যায়।
“তুমি এখনো সন্দেহ করছো আমাকে?”
তৃষা তাকায়। “তুমি মিথ্যে বলো।”
নীল হাসির সঙ্গে মাথা নাড়ে। “হয়তো। কিন্তু তুমিও মিথ্যে বলো। তুমি বলো তুমি রাগ করো। কিন্তু তোমার চোখে অন্য কিছু আছে।”
তৃষার গলা শুকিয়ে যায়। নীল তার হাতের পিঠে আঙুল বোলায়। ধীরে। “তৃষা, তোমার চামড়া এত নরম কেন?”
তৃষা হাত সরিয়ে নেয়। “থামো।”
নীল হেসে বলে, “থামবো না। কারণ তুমি চাও না আমি থামি।”
সে রাতে চিঠি আসে আরো সাহসী।
“আজ তোমার হাত স্পর্শ করেছি। কাল তোমার গলা স্পর্শ করবো। তারপর তোমার ঠোঁট। তুমি দূরে সরে যাবে না। কারণ তোমার শরীরও আমাকে চায়।”
তৃষা চিঠি পড়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। শরীর জ্বলে। নীলের হাতের স্পর্শ মনে পড়ে। তার গলার সেই গরম কথা। সে নিজের হাত দিয়ে নিজের গলা স্পর্শ করে। কল্পনা করে নীলের হাত।
পরের দিন নীল তাকে খুঁজে পায় ছাদে। সন্ধ্যা। আকাশ লাল।
“এখানে একা?” নীল কাছে আসে।
তৃষা পিছন ফিরে দাঁড়ায়। “যাও।”
নীল তার পেছনে এসে দাঁড়ায়। শরীর ছুঁয়ে যায় না, কিন্তু খুব কাছে। “যাবো না। তুমি আমাকে ডেকেছো।”
তৃষা ঘুরে দাঁড়ায়। “আমি ডাকিনি।”
নীল তার চিবুক ধরে উপরের দিকে তোলে। “তোমার চোখ ডেকেছে। তোমার শরীর ডেকেছে।”
তৃষার শ্বাস দ্রুত হয়। নীলের মুখ কাছে আসে। খুব কাছে। ঠোঁট প্রায় ছুঁয়ে যায়। কিন্তু নীল থেমে যায়। “এখনো সময় হয়নি।”
তৃষা রাগে আর আকাঙ্ক্ষায় কেঁপে ওঠে। “তুমি খেলছো আমার সঙ্গে।”
নীল হাসে। “হ্যাঁ। আর তুমিও খেলছো। স্বীকার করো।”
সে চলে যায়। তৃষা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকে। শরীর জ্বলে। নীলের শ্বাস এখনো তার গালে।
চিঠিগুলো এখন শুধু স্মৃতি নয়। শরীরের কথা।
“তোমার বুকের নিঃশ্বাস আমি গুনতে পারি দূর থেকে। একদিন আমার বুকের ওপর রেখে শুনবো।”
তৃষা আর সহ্য করতে পারে না। এক রাতে সে নীলের বাড়ির দরজায় যায়। কড়া নাড়ে। নীল খোলে। শুধু প্যান্ট পরা। বুক উন্মুক্ত।
তৃষা ভেতরে ঢুকে যায়। দরজা বন্ধ করে। “স্বীকার করো।”
নীল তার দিকে তাকায়। চোখে আগুন। “কী স্বীকার করবো? যে আমি তোমাকে চাই? সেটা তো জানো।”
তৃষা এগিয়ে যায়। “চিঠি।”
নীল তার কোমর ধরে টানে। শরীর শরীরে লেগে যায়। “হ্যাঁ। আমি লিখি। প্রতিটা চিঠি।”
তৃষার চোখ বড় হয়ে যায়। নীল তার গলায় মুখ রাখে। গরম শ্বাস। “কিন্তু উদ্দেশ্য অন্য।”
তৃষা পিছিয়ে যেতে চায়। নীল ছেড়ে দেয় না। “থামো না। এখন শোনো।”
কিন্তু তৃষা আর শোনে না। তার শরীর নীলের শরীরের উষ্ণতায় গলে যায়। নীল তার ঠোঁট স্পর্শ করে। প্রথমে হালকা। তারপর গভীর। জিভ ঢুকে যায়। তৃষা সাড়া দেয়। হাত দিয়ে নীলের বুক চেপে ধরে। নীল তার পিঠে হাত বোলায়। নিচে নামিয়ে আনে।
তারা বিছানায় পড়ে। কাপড় খুলে যায়। নীলের হাত তৃষার শরীরের প্রতিটা অংশে ঘোরে। স্তন, পেট, উরু। তৃষা আর্তনাদ করে। নীল তার কানে ফিসফিস করে, “এতদিন অপেক্ষা করেছি।”
তারা একসঙ্গে মিলিত হয়। গভীর। গরম। তৃষার নখ নীলের পিঠে ফুটে যায়। নীল তার গলায় চুমু খায়, কামড় দেয় হালকা। ঘামে ভিজে যায় দুজন। রাতভর থামে না। বারবার। প্রতিবার আরো গভীর। আরো ক্ষুধার্ত।
ভোরে তৃষা জেগে ওঠে। নীল পাশে শুয়ে। তার বুকে হাত রেখে। তৃষা উঠে বসে। “উদ্দেশ্য কী?”
নীল চোখ খোলে। হাসে। “পরে বলবো।”
তৃষা কাপড় পরে চলে আসে। মন অস্থির। শরীর সন্তুষ্ট, কিন্তু মন প্রশ্ন করছে।
পরের দিন চিঠি আসে না। তৃষা অপেক্ষা করে। নীলের সঙ্গে দেখা হয় না।
পরের রাতে আবার চিঠি।
“গতটা রাতের কথা ভুলবো না। তোমার শরীর আমার। কিন্তু চিঠিগুলো অন্য কারো জন্য শুরু হয়েছিল।”
তৃষার হাত কাঁপে। অন্য কারো?
তৃষা নীলের বাড়িতে যায়। দরজা খোলা। নীল বসে আছে। তৃষা সোজা গিয়ে দাঁড়ায়।
“বলো। সব।”
নীল উঠে দাঁড়ায়। কাছে আসে। হাত দিয়ে তৃষার চুল সরিয়ে দেয়। “বসবো?”
তৃষা মাথা নাড়ে। দুজনে বসে। নীল তার হাত ধরে।
“চিঠিগুলো শুরু হয়েছিল অন্য কারো জন্য। আমার এক বন্ধুর বোন। সে অনেকদিন আগে চলে গেছে। আমি তার ছোটবেলার গল্প শুনেছিলাম বন্ধুর কাছ থেকে। সেই গল্পগুলো দিয়ে চিঠি লিখতাম। মজার জন্য। কিন্তু একদিন দেখি চিঠিগুলো তোমার দরজায় চলে যাচ্ছে। কেউ গুলিয়ে ফেলেছে ঠিকানা।”
তৃষা তাকায়। “তারপর?”
নীল হাসে। “তারপর আমি জানলাম তুমি পড়ছো। আর তোমার প্রতিক্রিয়া দেখলাম। তোমার রাগ, তোমার সন্দেহ, তোমার চোখের সেই আগুন। আমি থামতে পারলাম না। চিঠি চালিয়ে গেলাম। কিন্তু এবার তোমার জন্য। তোমার ছোটবেলার কথা আমি আন্দাজ করে লিখেছি। কিছু শুনেছি পাড়ার লোকের কাছ থেকে। কিছু কল্পনা। আর শরীরের কথা—সেগুলো আমার নিজের ইচ্ছা।”
তৃষা চুপ করে থাকে। নীল তার হাত চুমু খায়। “আমি চেয়েছিলাম তোমাকে কাছে টানতে। আর তুমি এসেছো।”
তৃষা রাগ করে উঠে দাঁড়ায়। “তুমি খেলেছো আমার সঙ্গে।”
নীলও উঠে। তার কোমর ধরে। “হ্যাঁ। কিন্তু এখন আর খেলা নয়। এখন আমি তোমাকে চাই। পুরোপুরি।”
তৃষা তার চোখের দিকে তাকায়। নীলের চোখে কোনো মিথ্যে নেই। শুধু আকাঙ্ক্ষা। গভীর।
তারা আবার কাছে আসে। চুমু। এবার আরো ক্ষুধার্ত। নীল তাকে তুলে নিয়ে বিছানায় নিয়ে যায়। কাপড় খুলে ফেলে দুজনের। নীল তার শরীর চুমুতে চুমুতে নামতে থাকে। স্তনের ডগায় জিভ ঘোরায়। তৃষা কেঁপে ওঠে। নীল আরো নিচে যায়। উরুর ভেতর দিয়ে। তারপর কেন্দ্রে। জিভ দিয়ে চাটে। তৃষা চিৎকার করে। হাত দিয়ে নীলের চুল চেপে ধরে। নীল থামে না। তৃষা কেঁপে কেঁপে শেষ হয়।
তারপর নীল উপরে ওঠে। ঢুকে যায়। গভীর। তৃষা তার পিঠে নখ ফোটায়। নীল ধীরে শুরু করে। তারপর দ্রুত। বিছানা কাঁপে। দুজনের ঘাম মিশে যায়। নীল তার কানে বলে, “তুমি আমার। শুধু আমার।”
তৃষা সাড়া দেয়। “হ্যাঁ।”
রাতভর চলে। কখনো ধীরে, কখনো পাগলের মতো। নীল তাকে বিভিন্নভাবে নেয়। পেছন থেকে, উপরে বসিয়ে, পাশে শুয়ে। প্রতিবার তৃষা আরো গভীরে ডুবে যায়।
সকালে তৃষা নীলের বুকে মাথা রেখে শুয়ে থাকে। নীল তার চুলে হাত বোলায়।
“আর চিঠি লাগবে না,” নীল বলে। “এখন সরাসরি সব বলবো। আর দেখাবো।”
তৃষা উঠে তার মুখের দিকে তাকায়। “মিথ্যে বলোনি তো?”
নীল হাসে। “না। শুরুটা অন্যর জন্য ছিল। শেষটা তোমার। আর এখন পুরোটাই তোমার।”
তারা আবার চুমু খায়। গভীর। নীলের হাত তৃষার শরীরে ঘোরে। আবার গরম হয়ে ওঠে। তৃষা জানে, এবার আর কোনো লুকোনো নেই। কোনো চিঠি নেই। শুধু দুজনের শরীর, দুজনের ইচ্ছা।
পাড়ায় সকাল হয়। গরম হাওয়া বয়। তৃষা নীলের বাড়িতেই থেকে যায়। দুজনে একসঙ্গে চা খায়। নীল তার গালে চুমু খায়। তৃষা হাসে।
এভাবেই শুরু হয় নতুন কিছু। চিঠির খেলা শেষ। এখন শুরু হয় সত্যিকারের গভীর টান। রাতের পর রাত। শরীরের পর শরীর। কোনো লুকোনো কথা নেই। শুধু দুজন মানুষ, যারা একে অপরকে পুরোপুরি নিতে চায়।
তৃষা জানে, নীল তাকে নিয়ে মজা করেছিল। কিন্তু এখন আর মজা নয়। এখন প্রেম। গরম। গভীর। আর কোনো অজানা চিঠি নেই। শুধু নীলের হাত, নীলের ঠোঁট, নীলের শরীর—প্রতিদিন, প্রতি রাত।
....