মায়া কখনো ভাবেনি যে বিয়ে মানে এমন কিছু হতে পারে। পরিবারের চাপে হওয়া বিয়ে। বাবার ব্যবসায় লোকসান, মায়ের অস্থিরতা, আর আত্মীয়দের কথায় শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছিল। রুদ্রকে দেখেছিল একবারই। লম্বা, চুপচাপ, চোখে একটা অদ্ভুত গাম্ভীর্য। বিয়ের দিনও সে খুব কম কথা বলেছিল। মায়া ভেবেছিল, এটা শুধু দায়িত্বের সম্পর্ক হবে। দুজন মানুষ একসাথে থাকবে, খাবে, ঘুমাবে, আর সময় কাটাবে। ভালোবাসা? সেটা হয়তো কখনো আসবে না।
বিয়ের পর প্রথম সপ্তাহটা কেটে গেল নীরবে। রুদ্র সকালে উঠে অফিসে চলে যেত। সন্ধ্যায় ফিরে আসত। খাবার টেবিলে বসত, খেত, তারপর নিজের ঘরে চলে যেত। মায়া তার ঘরেই থাকত। একটা বড় বাড়ি। ঢাকার উত্তরায়। তিন তলা। নিচের তলায় রুদ্রের অফিস। মাঝের তলায় তাদের শোবার ঘর আর বসার ঘর। উপরের তলায় অতিথিদের জন্য। বাড়িতে আর কেউ নেই। শুধু দুজন। আর একজন বাবুর্চি, যে সকালে আসে, দুপুরে যায়।
একদিন সন্ধ্যায় মায়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। আকাশটা পরিষ্কার। বাতাস একটু ঠান্ডা। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ এসে তার কাঁধে হাত রাখল। মায়া চমকে উঠল। রুদ্র।
“কী দেখছ?” তার গলাটা গম্ভীর।
“আকাশ,” মায়া বলল।
রুদ্র হাসল। সেই প্রথম হাসি। চোখের কোণে একটু ভাঁজ পড়ল। “আকাশ দেখে কী হয়?”
মায়া কিছু বলল না। রুদ্র তার হাতটা সরিয়ে নিল। কিন্তু আঙুলগুলো মায়ার কাঁধের ওপর দিয়ে আস্তে আস্তে নেমে গেল। পিঠের ওপর দিয়ে। তারপর হঠাৎ সরে গেল।
সেদিন রাতে রুদ্র তার ঘরে এল না। মায়া জানালার পাশে বসে থাকল। মনে মনে ভাবল, এই মানুষটা আসলে কী চায়?
পরের দিন সকালে মায়া রান্নাঘরে গেল। বাবুর্চি আসেনি। রুদ্র নিজে চা বানাচ্ছিল। মায়া দেখল, টেবিলে তার প্রিয় বিস্কুট রাখা। যেটা সে বিয়ের আগে বাড়িতে খেত। কেউ জানে না সেটা তার প্রিয়।
“এটা কোথায় পেলে?” মায়া জিজ্ঞেস করল।
রুদ্র পেছন ফিরে তাকাল। “বাজারে পেয়েছি।”
মায়া কিছু বলল না। চা খেল। রুদ্র তার পাশে বসল। হাঁটু দুটো প্রায় ছুঁয়ে গেল। মায়া সরে বসল। রুদ্র হাসল।
“কেন সরে যাচ্ছ?”
“জায়গা নেই।”
“জায়গা আছে।” রুদ্র তার চেয়ারটা একটু এগিয়ে দিল। এবার হাঁটু স্পর্শ করল। মায়ার শরীরে একটা কাঁপুনি খেলল। রুদ্র সেটা লক্ষ করল। চোখে একটা গভীর আগুন জ্বলল।
সেদিন থেকে শুরু হলো। রুদ্র সারাক্ষণ তাকে জ্বালাতন করতে লাগল। কখনো তার চুলের গোছা ধরে আস্তে আস্তে টানত। কখনো তার কানের পাশে এসে ফিসফিস করে কিছু বলত, যেটা শুনলে মায়ার গাল লাল হয়ে যেত। কিন্তু সবার সামনে—যদি কেউ ফোন করত বা বাবুর্চি থাকত—রুদ্র এমন ভাব করত যেন মায়াকে একদম সহ্যই করতে পারে না। কথা কম বলত। চোখ সরিয়ে নিত।
একদিন রাতে মায়া ঘুমাতে যাচ্ছিল। রুদ্র হঠাৎ তার ঘরে এল। দরজায় দাঁড়িয়ে।
“ঘুমাচ্ছ?”
“না।”
রুদ্র ভেতরে ঢুকল। দরজা বন্ধ করল। মায়া বিছানায় বসে উঠল। রুদ্র তার কাছে এসে বসল। হাত বাড়িয়ে মায়ার চুলের একটা আলগা চুল সরিয়ে দিল। আঙুলটা কানের লতিতে লাগল। মায়ার শ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।
“তুমি কেন এত চুপচাপ থাকো?” রুদ্র জিজ্ঞেস করল।
“কী বলব?”
“আমাকে কিছু বলো।”
মায়া তার দিকে তাকাল। রুদ্রের চোখ গভীর। কালো। যেন কিছু লুকিয়ে আছে। রুদ্র হঠাৎ তার ঠোঁটের কাছে এসে গেল। নিঃশ্বাস গরম। মায়া পিছিয়ে গেল। রুদ্র হাসল।
“ভয় পাচ্ছ?”
“না।”
“তাহলে কেন সরে যাচ্ছ?”
মায়া কিছু বলল না। রুদ্র তার হাত ধরল। আঙুলগুলো জড়িয়ে ধরল। তারপর আস্তে আস্তে তার কব্জিতে চুমু খেল। মায়ার শরীর কেঁপে উঠল। রুদ্র তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ উঠে দাঁড়াল।
“ঘুমাও।”
সে চলে গেল। মায়া বিছানায় শুয়ে রইল। হৃদয়টা দ্রুত ধরছিল। শরীর গরম। মনে হচ্ছিল, রুদ্র তার শরীরের প্রতিটা অংশ জানে। কিন্তু কীভাবে?
পরের কয়েকদিন ধরে এমনই চলল। রুদ্র লুকিয়ে তার প্রিয় খাবার এনে দিত। কখনো মিষ্টি, কখনো ফল। কিন্তু সামনে এলে ঠান্ডা। একদিন মায়া তার ঘরে ঢুকে দেখল, রুদ্রের টেবিলে একটা ছবি। পুরোনো। একটা মেয়ের ছবি। মেয়েটার মুখটা অস্পষ্ট। কিন্তু চুলের স্টাইল, গলার দিকটা—মায়ার মতো।
মায়া ছবিটা হাতে নিল। রুদ্র পেছন থেকে এসে হাত বাড়িয়ে ছবিটা কেড়ে নিল।
“এটা কী?”
“পুরোনো জিনিস।”
“আমার মতো লাগছে।”
রুদ্র চুপ করে রইল। তারপর বলল, “হয়তো।”
সেদিন রাতে রুদ্র আর আসেনি। মায়া ঘুমাতে পারেনি। মনে মনে ভাবছিল, এই মানুষটা আসলে কে? কেন সে এত অদ্ভুত আচরণ করে?
এক সপ্তাহ পর মায়া সিদ্ধান্ত নিল। সে রুদ্রকে সরাসরি জিজ্ঞেস করবে। সন্ধ্যায় রুদ্র বাড়ি ফিরল। মায়া বসার ঘরে অপেক্ষা করছিল।
“আমার সাথে কথা বলো,” মায়া বলল।
রুদ্র থমকে দাঁড়াল। “কী?”
“তুমি কেন এমন করো? সামনে একরকম, পেছনে আরেক রকম।”
রুদ্র তার দিকে তাকাল। চোখে একটা অদ্ভুত আলো। “তুমি কি জানতে চাও?”
“হ্যাঁ।”
রুদ্র কাছে এল। মায়ার দুই হাত ধরল। তাকে টেনে কাছে নিল। শরীর শরীরে লেগে গেল। রুদ্রের গরম নিঃশ্বাস মায়ার গালে লাগল।
“বিয়ের আগেই আমি তোমাকে চিনতাম,” রুদ্র ফিসফিস করে বলল। “তোমার জন্যই বিয়েটা মেনে নিয়েছিলাম।”
মায়ার চোখ বড় হয়ে গেল। “কীভাবে?”
রুদ্র তার কানের কাছে এসে বলল, “সেটা পরে বলব। আজ শুধু এটুকু জানো—আমি তোমাকে চাই। খুব চাই।”
তার ঠোঁট মায়ার গলায় লাগল। আস্তে আস্তে চুমু খেল। মায়ার হাঁটু দুর্বল হয়ে গেল। রুদ্র তাকে ধরে রাখল। হাতটা তার কোমরে গিয়ে লাগল। কাপড়ের ওপর দিয়ে চাপ দিল। মায়া একটা শব্দ করল। রুদ্র থামল। চোখে চোখ রাখল।
“এখনো ভয় পাচ্ছ?”
মায়া মাথা নাড়ল। “না।”
রুদ্র তার ঠোঁটে চুমু খেল। গভীর। গরম। জিভ দিয়ে তার ঠোঁট স্পর্শ করল। মায়া তার শরীরটা চেপে ধরল। রুদ্রের হাত তার পিঠে উঠল। চুলের গোড়ায় আঙুল চালিয়ে দিল। মায়ার শরীর কাঁপছিল। রুদ্র তাকে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল। শুইয়ে দিল। নিজেও শুয়ে পড়ল। শরীর শরীরে।
সে রাতটা লম্বা ছিল। রুদ্র তার প্রতিটা অংশ আবিষ্কার করল। আঙুল দিয়ে, ঠোঁট দিয়ে, জিভ দিয়ে। মায়া কখনো এমন অনুভব করেনি। এত গভীর, এত গরম, এত কাছাকাছি। রুদ্র তার কানে কানে বলছিল, “তুমি আমার। শুধু আমার।”
সকালে মায়া জেগে দেখল, রুদ্র পাশে নেই। টেবিলে একটা চিরকুট। “অফিসে গেছি। ফিরে এসে সব বলব।”
মায়া চিরকুটটা হাতে নিয়ে বসল। মনে মনে ভাবল, আসল পরিচয় কী? রুদ্র যে পরিচয়ে এসেছিল, সেটাই কি সত্যি?
সেদিন সন্ধ্যায় রুদ্র ফিরল। মুখে একটা গম্ভীর ভাব। মায়া তার দিকে তাকাল। রুদ্র কাছে এসে বসল। হাত ধরল।
“আমার আসল নাম রুদ্র নয়,” সে বলল। “আর যে পরিচয়ে আমি তোমার সামনে এসেছিলাম, সেটাও আমার আসল পরিচয় নয়।”
মায়ার হৃদয় থমকে গেল।
মায়া রুদ্রের কথা শুনে চুপ করে বসে রইল। ঘরটা নীরব। বাইরে গাড়ির শব্দ। ভেতরে শুধু দুজনের শ্বাস।
“তাহলে তুমি কে?” মায়া জিজ্ঞেস করল। গলাটা কাঁপছিল।
রুদ্র তার হাতটা শক্ত করে ধরল। “আমার আসল নাম আরিফ। আর আমি যে কাজ করি, সেটাও সাধারণ ব্যবসা নয়।”
মায়া তার দিকে তাকাল। “কী কাজ?”
আরিফ চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “আমি একটা বড় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিভাগে কাজ করি। কিন্তু তার চেয়েও বেশি কিছু। আমি তোমাকে বিয়ের আগে থেকেই দেখতাম। তোমার কলেজের কাছে। তোমার বাবার অফিসের সামনে। তুমি জানো না, কিন্তু আমি তোমার পেছনে ছিলাম।”
মায়ার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। “তুমি আমাকে অনুসরণ করতে?”
“হ্যাঁ। কিন্তু খারাপ উদ্দেশ্যে নয়। তোমার বাবার ব্যবসায় কিছু সমস্যা ছিল। কিছু লোক তাকে চাপ দিচ্ছিল। আমি সেই লোকদের থামাতে কাজ করছিলাম। আর তোমাকে দেখে... আমি আর থামতে পারিনি।”
মায়া উঠে দাঁড়াল। ঘরের মধ্যে হাঁটতে লাগল। “তুমি আমাকে ব্যবহার করেছ?”
আরিফও উঠল। তার পেছনে পেছনে গেল। “না। কখনো না। আমি তোমাকে চেয়েছি। তোমার হাসি, তোমার চুপচাপ থাকা, তোমার চোখ—সব। বিয়ের প্রস্তাব এলে আমি রাজি হয়েছি শুধু তোমার জন্য।”
মায়া ঘুরে দাঁড়াল। “তাহলে সামনে এমন ভাব কেন করো যেন আমাকে সহ্য করতে পারো না?”
আরিফ কাছে এল। তার হাত মায়ার কোমরে রাখল। “কারণ আমাকে লুকিয়ে থাকতে হয়। আমার কাজ বিপজ্জনক। কেউ যদি জানে যে আমি তোমাকে এত ভালোবাসি, তাহলে তুমি বিপদে পড়বে।”
মায়া তার চোখের দিকে তাকাল। আরিফের চোখে সত্যি আছে। গভীর, গরম সত্যি।
সে রাতে তারা কথা বলল অনেকক্ষণ। আরিফ সব খুলে বলল। কীভাবে সে মায়াকে প্রথম দেখেছিল। একটা ক্যাফেতে। মায়া বই পড়ছিল। আরিফ দূর থেকে তাকিয়েছিল। তারপর প্রতিদিন। কখনো কথা বলেনি। শুধু দেখেছে। তার প্রিয় খাবার জেনেছে। তার পছন্দের রং জেনেছে।
মায়া শুনতে শুনতে কাঁদল। আরিফ তার চোখের জল মুছে দিল। তারপর তাকে জড়িয়ে ধরল। শক্ত করে। মায়ার শরীর তার বুকের সাথে লেগে গেল। আরিফের হাত তার পিঠে ঘুরতে লাগল। নিচের দিকে। কোমরের নিচে। মায়া শিউরে উঠল।
“আমি তোমাকে হারাতে চাই না,” আরিফ ফিসফিস করল। “কখনো না।”
সে রাতটা আরও গভীর হলো। আরিফ মায়াকে বিছানায় শুইয়ে দিল। কাপড় খুলল আস্তে আস্তে। প্রতিটা বোতাম খোলার সময় চুমু খেল। মায়ার গলায়, বুকে, পেটে। মায়া তার চুল ধরে টানল। আরিফ তার উরুতে চুমু খেল। জিভ দিয়ে স্পর্শ করল। মায়া চোখ বন্ধ করে আর্তনাদ করল। আরিফ উঠে এসে তার ঠোঁটে চুমু খেল। গভীর। তারপর শরীর ঢুকিয়ে দিল। ধীরে ধীরে। মায়ার নখ তার পিঠে ফুটে গেল। আরিফ তার কানে কানে বলল, “আরও জোরে ধরো।”
তারা সারারাত জেগে রইল। কখনো থামল না। আরিফ মায়ার প্রতিটা ইচ্ছা পূরণ করল। মায়াও তার। শরীর ঘামে ভিজে গেল। বিছানার চাদর এলোমেলো। সকালে যখন আলো এল, মায়া আরিফের বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। আরিফ তার চুল আঁচড়াচ্ছিল।
“এখন কি সব সত্যি?” মায়া জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ। আর কোনো মিথ্যা নেই।”
কিন্তু মায়া জানত না, আরও কিছু আছে।
পরের দিন আরিফ অফিসে গেল। মায়া বাড়িতে একা। হঠাৎ ফোন বাজল। অচেনা নম্বর। মায়া ধরল।
“মায়া?” একটা পুরুষের গলা।
“কে?”
“আরিফের বন্ধু। সে বিপদে আছে। তোমাকে এখনই আসতে হবে।”
মায়ার হৃদয় দ্রুত ধরতে লাগল। “কোথায়?”
ঠিকানা দিল লোকটা। উত্তরার একটা পুরোনো গুদাম। মায়া গাড়ি নিয়ে বেরোল। পৌঁছে দেখল, আরিফ নেই। বরং তিনজন লোক দাঁড়িয়ে। একজন এগিয়ে এল।
“তুমি আরিফের স্ত্রী?”
মায়া পিছিয়ে গেল। “কে তোমরা?”
“আরিফ আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। এখন তোমাকে দিয়ে তার কাছ থেকে কিছু জিনিস নেব।”
মায়া দৌড়াতে চাইল। কিন্তু লোকগুলো তাকে ধরে ফেলল। গাড়িতে তুলে নিল। চোখ বেঁধে দিল। মায়া চিৎকার করল। কেউ শুনল না।
কয়েক ঘণ্টা পর সে জেগে উঠল। একটা অন্ধকার ঘরে। হাত-পা বাঁধা। দরজা খুলল। আরিফ ঢুকল। মুখে ক্ষত। জামা ছিঁড়া।
“মায়া!” সে দৌড়ে এল। বাঁধন খুলল। মায়াকে জড়িয়ে ধরল। “তুমি আহত?”
মায়া কাঁদছিল। “তারা আমাকে নিয়ে এসেছে তোমার জন্য।”
আরিফ তার মুখ দুহাতে ধরল। “আমি এসেছি। আর কিছু হবে না।”
সে মায়াকে তুলে নিয়ে বেরিয়ে এল। বাইরে গাড়ি। আরিফ চালাল। মায়া পাশে বসে কাঁদছিল। আরিফ তার হাত ধরল।
“আমি তোমাকে রক্ষা করব। সবসময়।”
সেদিন রাতে তারা অন্য একটা জায়গায় গেল। নিরাপদ বাড়ি। আরিফ মায়াকে গোসল করাল। নিজে হাতে। পানি গরম। সাবান মেখে দিল। তার শরীর ধুয়ে দিল। মায়া চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল। আরিফের হাত তার ত্বকে লাগছিল। কোমলে। তারপর শক্ত করে। মায়ার বুকে, পেটে, উরুতে। আরিফ হাঁটু গেড়ে বসল। মায়ার সামনে। চুমু খেল তার গোপনাঙ্গে। জিভ দিয়ে। মায়া দেয়াল ধরে দাঁড়িয়ে আর্তনাদ করল। আরিফ থামল না। যতক্ষণ না মায়া কেঁপে কেঁপে ভেঙে পড়ল।
তারপর আরিফ তাকে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল। নিজেও ভিজে। শরীর শরীরে জড়িয়ে ধরল। ঢুকে গেল একসাথে। জোরে। মায়া তার পিঠে নখ ফুটিয়ে দিল। আরিফ তার গলায় দাঁত বসাল। চিবোয় না, শুধু চাপ দেয়। মায়া চিৎকার করল তার নাম। আরিফ।
সকালে আরিফ বলল, “এখন আর লুকানোর দরকার নেই। আমি সব শেষ করে এসেছি। ওরা আর ফিরবে না।”
মায়া তার বুকে মাথা রাখল। “তুমি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো?”
আরিফ তার চিবুক তুলে ধরল। “আমি তোমাকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি চাই।”
তারা আবার একসাথে হলো। এবার আরও ধীরে। আরও গভীরে। আরিফ মায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল পুরো সময়। মায়াও। যখন শেষ হলো, তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল।
কিন্তু মায়ার মনে একটা প্রশ্ন থেকে গেল। আরিফের আসল পরিচয় কি শুধু এটুকুই?
কয়েকদিন পর সব স্বাভাবিক হয়ে এল। আরিফ আর অফিসে যায় না সেই পুরোনো জায়গায়। নতুন কাজ শুরু করেছে। নিরাপদ। মায়াও বাইরে বেরোয়। তারা একসাথে বাজারে যায়। সিনেমা দেখে। রেস্তোরাঁয় খায়। আরিফ আর সামনে ঠান্ডা থাকে না। সবার সামনেই তার হাত ধরে। কোমরে হাত রাখে। কানে কানে কিছু বলে। মায়া লজ্জা পায়, কিন্তু ভালো লাগে।
একদিন সন্ধ্যায় আরিফ মায়াকে নিয়ে গেল একটা পুরোনো বাড়িতে। পুরান ঢাকায়। সরু গলি। আরিফ দরজা খুলল। ভেতরে ঢুকল।
“এটা আমার আসল বাড়ি,” আরিফ বলল। “যেখানে আমি বড় হয়েছি।”
মায়া চারদিকে তাকাল। সাদামাটা। কিন্তু পরিষ্কার। দেয়ালে পুরোনো ছবি। একটা ছবিতে ছোট আরিফ। পাশে একজন মহিলা।
“মা,” আরিফ বলল। “তিনি আর নেই।”
মায়া তার হাত ধরল। আরিফ তাকে নিয়ে উপরের তলায় গেল। একটা ঘর। বিছানা। জানালা দিয়ে বাইরের আলো আসছে। আরিফ দরজা বন্ধ করল। মায়ার দিকে তাকাল।
“এখানেই আমি তোমার কথা ভাবতাম। রাতের পর রাত।”
মায়া কাছে গেল। তার জামা খুলতে লাগল। আরিফও। দুজনে নগ্ন হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। আরিফ মায়াকে উপরে তুলে নিল। মায়া তার ওপর বসল। আরিফের হাত তার বুকে। মায়া নড়তে লাগল। আস্তে আস্তে। তারপর জোরে। আরিফ তার কোমর ধরে টানল। মায়া মাথা পেছনে ফেলে আর্তনাদ করল। আরিফ উঠে বসল। মায়াকে জড়িয়ে ধরল। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে। শরীর একসাথে নড়ছিল। ঘাম ঝরছিল। মায়ার চুল আরিফের মুখে লেগে যাচ্ছিল। আরিফ সেগুলো সরিয়ে তার গলায় চুমু খেল।
তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাল। কখনো থামল, কখনো শুরু করল। আরিফ মায়াকে প্রতিটা ভঙ্গিতে নিল। কখনো পেছন থেকে, কখনো পাশে শুয়ে, কখনো দাঁড়িয়ে দেয়ালে ঠেস দিয়ে। মায়া প্রতিবারই ভেঙে পড়ল। আরিফও। শেষে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। নিঃশ্বাস ফেলছিল।
আরিফ হঠাৎ বলল, “আমার আসল পরিচয় আরও একটা আছে।”
মায়া তার দিকে তাকাল। “কী?”
“আমি শুধু নিরাপত্তার লোক নই। আমি একটা বড় পরিবারের উত্তরাধিকারী। আমার বাবা চেয়েছিলেন আমি ব্যবসায় যাই। আমি রাজি হইনি। তাই নাম বদলেছি। পরিচয় লুকিয়েছি। কিন্তু এখন... এখন আমি সব ফিরে যেতে চাই। তোমার সাথে।”
মায়া চুপ করে রইল। তারপর হাসল। “তাহলে তুমি ধনী?”
আরিফ হাসল। “হ্যাঁ। কিন্তু সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তুমি গুরুত্বপূর্ণ।”
সে মায়াকে আবার চুমু খেল। গভীর। তারপর তাকে শুইয়ে দিল। এবার আরও আস্তে। আরও ভালোবেসে। প্রতিটা স্পর্শ যেন প্রতিশ্রুতি। মায়া তার চোখ বন্ধ করে অনুভব করল। আরিফের হাত, ঠোঁট, শরীর—সব তার।
পরের কয়েক মাস কেটে গেল। আরিফ তার আসল পরিচয় ফিরিয়ে নিল। পরিবারের সাথে মিলল। মায়াকে নিয়ে গেল সেই বড় বাড়িতে। সবাই মায়াকে গ্রহণ করল। আরিফ আর লুকোয় না। সবার সামনেই তাকে চুমু খায়। হাত ধরে রাখে।
একদিন রাতে তারা নিজেদের ঘরে শুয়েছিল। আরিফ মায়ার পেটে হাত রাখল।
“একটা খবর আছে,” মায়া বলল।
আরিফ উঠে বসল। “কী?”
মায়া তার হাতটা ধরল। “আমরা বাবা-মা হতে যাচ্ছি।”
আরিফ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর মায়াকে জড়িয়ে ধরল। শক্ত করে। চোখে জল। “সত্যি?”
“হ্যাঁ।”
আরিফ তার ঠোঁটে চুমু খেল। তারপর পেটে। আস্তে আস্তে। ভক্তিভরে। মায়া তার চুল আঁচড়াল। আরিফ উঠে এসে তার চোখের দিকে তাকাল।
“আমি তোমাকে আরও বেশি ভালোবাসি এখন।”
সে রাতে তারা আবার একসাথে হলো। এবার সাবধানে। আরিফ মায়ার শরীরকে এমনভাবে ছুঁল যেন সে ভেঙে যাবে। মায়াও তাকে আগলে ধরল। শেষে তারা একে অপরের বুকে মাথা রেখে শুয়ে রইল।
বাইরে আকাশ পরিষ্কার। তারায় তারায় ভরা। ঘরের ভেতরে দুজন মানুষ। যারা একসময় অপরিচিত ছিল। এখন এক।
মায়া চোখ বন্ধ করে ভাবল, বিয়েটা দায়িত্বের সম্পর্ক হবে ভেবেছিল। কিন্তু এটা হয়েছে তার জীবনের সবচেয়ে গভীর, সবচেয়ে গরম, সবচেয়ে সত্যি ভালোবাসা।
আরিফ তার কানে কানে বলল, “আমি তোমাকে চিনতাম বিয়ের আগে। এখন চিনব আমৃত্যু।”
মায়া হাসল। তার হাতটা আরিফের হাতের সাথে জড়িয়ে দিল।
গল্পটা এখানেই শেষ নয়। তাদের জীবন চলবে। আরও রাত আসবে। আরও স্পর্শ। আরও চুমু। আরও গভীর রোমান্স। কিন্তু আজকের রাতটা তাদের। শুধু তাদের।
....