আরিশার অ্যাপার্টমেন্টের দরজার ঠিক সামনে প্রতিদিন সকালে একটা নীল খাম পড়ে থাকত। খামটা এতটাই পরিষ্কার আর সুন্দরভাবে রাখা থাকত যে মনে হত কেউ খুব যত্ন করে রেখে গেছে। ভেতরে ছোট ছোট চিঠি। হাতের লেখা পরিষ্কার, কালি গাঢ় নীল। প্রথম চিঠিতে লেখা ছিল তার প্রিয় ফুলের কথা—সাদা গোলাপ। আরিশা কখনো কাউকে বলেনি সে সাদা গোলাপ পছন্দ করে। অথচ চিঠিতে লেখা, “তোমার বারান্দায় যে ছোট গাছটা আছে, সেখানে যদি একটা সাদা গোলাপের কুঁড়ি দেখতে পাও, জেনো কেউ তোমার মনের কথা শুনেছে।”
আরিশা চমকে উঠেছিল। সে চিঠিটা বালিশের নিচে রেখেছিল। পরের দিন আরেকটা খাম। এবার লেখা, “গতকাল রাতে তুমি জানালার ধারে বসে কাঁদছিলে। চোখের জল মুছোনি। কেউ যদি তোমার কাঁধে হাত রাখত, হয়তো একটু হালকা লাগত।” আরিশা সেই রাতের কথা মনে করে শিউরে উঠেছিল। কেউ তাকে দেখেছে। কেউ তার একাকীত্ব বুঝেছে।
সেই সময়ই নতুন প্রতিবেশী এসেছিল। তৃতীয় তলার পাশের ফ্ল্যাটে তাহমিদ। লম্বা, কাঁধ চওড়া, চোখ দুটো একটু গভীর। প্রথম দিনই লিফটে দেখা। আরিশা ব্যাগ নিয়ে নামছিল, তাহমিদ হঠাৎ করে দরজায় হাত দিয়ে আটকে দিয়েছিল। “আস্তে, আপনার ব্যাগের চেইন খোলা,” বলেছিল হাসিমুখে। আরিশা বিরক্ত হয়ে চেইনটা টেনে বন্ধ করেছিল। “ধন্যবাদ,” বলে সরে গিয়েছিল।
তাহমিদ সবসময় বিরক্ত করত। সকালবেলা জোরে গান বাজাত, রাতে দরজায় ঠকঠক করে জিজ্ঞেস করত চিনি আছে কিনা। একদিন আরিশার গ্যাস চুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে নিজে মেরামত করতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে ফেলেছিল। তাহমিদ দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল। “শুনলাম চুলোর সমস্যা? দেখি?” আরিশা না করতে চেয়েছিল, কিন্তু ব্যথায় রাজি হয়ে গিয়েছিল। তাহমিদ দক্ষ হাতে ঠিক করে দিয়েছিল। তার হাত আরিশার হাতের কাছে এসে লেগেছিল। গরম ছোঁয়া। আরিশা চোখ তুলে তাকিয়েছিল। তাহমিদের চোখে একটা গভীর কিছু ছিল। সে চোখ সরিয়ে নিয়েছিল।
চিঠিগুলো এসেই চলছিল। একদিন লেখা হল, “তোমার আম্মাকে মিস করো। ফোনে কথা বলার পর তুমি জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকো অনেকক্ষণ।” আরিশা কেঁপে উঠেছিল। সে সত্যিই আম্মার কথা মনে করে একা হয়ে যেত। কে জানে এসব?
সন্দেহ গিয়ে পড়েছিল তাহমিদের ওপর। সেই প্রতিবেশী যে সবসময় তার কাছে ঘোরাফেরা করে। একদিন সন্ধ্যায় আরিশা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চিঠি পড়ছিল। তাহমিদ সিঁড়ি দিয়ে উঠে এসে হঠাৎ থেমে গিয়েছিল। “কী পড়ছ?” জিজ্ঞেস করেছিল। আরিশা চিঠিটা লুকিয়ে ফেলেছিল। “কিছু না।” তাহমিদ একটু এগিয়ে এসেছিল। “তোমার চোখ লাল। কাঁদছ?” আরিশা মাথা নেড়েছিল। তাহমিদ আর কিছু বলেনি। শুধু দাঁড়িয়েছিল কাছে। তার শরীরের গরম অনুভব করা যাচ্ছিল। আরিশার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা কম্পন শুরু হয়েছিল।
রাতের বেলা আরিশা বিছানায় শুয়ে তাহমিদের কথা ভাবত। তার হাসির কথা, তার হাতের ছোঁয়ার কথা। চিঠিগুলোও মনে পড়ত। কেউ তাকে এভাবে দেখে, বোঝে—এটা ভয়ংকর আর মিষ্টি দুটোই। পরের সকালে আরেকটা নীল খাম। “তুমি গতকাল রাতে তার কথা ভেবেছ। আমি জানি। তোমার হৃদয়ের শব্দ শোনা যায়।” আরিশা চিঠিটা পড়ে বুকের ওপর চেপে ধরেছিল। কে এই লেখক? আর কেন তাহমিদ এত কাছে আসে?
একদিন বাজারে গিয়ে আরিশা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। মাথা ঘুরছিল। তাহমিদ সেখানেই ছিল। সে আরিশাকে ধরে রেখেছিল। “শ্বাস নাও। আমি আছি।” তার বুকের ওপর আরিশার মাথা ঠেকেছিল। তাহমিদের হৃদস্পন্দন শোনা গিয়েছিল। আরিশা চোখ বন্ধ করে সেই ছন্দে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিল। বাসায় ফিরে তাহমিদ চা বানিয়ে দিয়েছিল। দুজনে বারান্দায় বসেছিল। কথা কম, নীরবতা বেশি। তাহমিদ হঠাৎ আরিশার হাত ধরেছিল। “তুমি একা থাকো কেন?” আরিশা উত্তর দেয়নি। শুধু তার আঙুলের উষ্ণতা অনুভব করেছিল। সেই রাতে চিঠি এসেছিল, “সে তোমাকে ধরে রেখেছিল। তুমি ভয় পাওনি। ভালো লেগেছে।”
আরিশা বুঝতে পারছিল কিছু একটা ঘটছে। তার মন তাহমিদের দিকে টানছে। আর চিঠিগুলো যেন সেই টানকে আরও গভীর করছে। সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল খুঁজবে। কে লেখে এই চিঠিগুলো। আর কেন তার জীবনের এত গভীর কথা জানে।
আরিশা এবার সতর্ক হয়ে গিয়েছিল। সকালে উঠেই দরজার সামনে তাকাত। কখনো কখনো রাত জেগে বসে থাকত, যদি কেউ এসে খাম রাখে। কিন্তু কেউ আসত না। শুধু সকাল হলেই নীল খাম পড়ে থাকত। চিঠিগুলো এখন আরও গভীর হয়ে উঠেছিল। “তোমার শরীরের গন্ধ আমি চিনি। সাবানের মতো নয়, তোমার নিজের। তুমি যখন কাছে আসো, বাতাস বদলে যায়।” আরিশা পড়ে লজ্জিত হয়ে গিয়েছিল। কেউ তার এত কাছে এসেছে?
তাহমিদের সঙ্গে দেখা হত প্রায় প্রতিদিন। লিফটে, সিঁড়িতে, ছাদে কাপড় শুকাতে গেলে। তাহমিদ ইচ্ছে করেই তার কাছে আসত। একদিন ছাদে দুজনে একা। বাতাস একটু গরম। আরিশার চুল উড়ছিল। তাহমিদ এগিয়ে এসে চুলের একটা কাছি সরিয়ে দিয়েছিল। আঙুল তার গালে লেগেছিল। “সুন্দর লাগছে,” বলেছিল ধীরে। আরিশা পিছিয়ে যায়নি। তার চোখ তাহমিদের চোখে লেগেছিল। মুহূর্তটা লম্বা হয়ে গিয়েছিল। তাহমিদ আরেকটু কাছে এসেছিল। আরিশার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। ঠিক তখন নিচের ফ্ল্যাট থেকে কেউ ডাক দিয়েছিল। মুহূর্তটা ভেঙে গিয়েছিল।
সেই রাতে চিঠি, “তুমি তাকে চুমু খেতে চেয়েছ। আমি জানি। তোমার ঠোঁট কেঁপেছিল।” আরিশা চিঠিটা পড়ে অস্থির হয়ে উঠেছিল। কে এই লোক? সে কি তাহমিদই? পরের দিন সে সরাসরি জিজ্ঞেস করার সিদ্ধান্ত নিল।
সন্ধ্যায় তাহমিদের দরজায় কড়া নাড়ল। তাহমিদ দরজা খুলে অবাক হয়ে তাকাল। “আসো।” আরিশা ভেতরে ঢুকল। ঘরটা সাদামাটা, কিন্তু পরিষ্কার। তাহমিদ চা আনল। আরিশা চুপচাপ বসল। তারপর হঠাৎ বলে উঠল, “তুমি কি চিঠিগুলো লেখো?”
তাহমিদের হাত একটু কেঁপে গেল। সে চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে বলল, “কী চিঠি?” আরিশা নীল খামগুলো বের করে দেখাল। “এগুলো। প্রতিদিন আমার দরজায়। তুমি জানো আমার সব কথা। সাদা গোলাপ, আম্মার কথা, আমার কাঁদা, এমনকি... আমার শরীরের কথাও।” তাহমিদ চুপ করে রইল। তার চোখে একটা অদ্ভুত ছায়া নেমে এল। “আমি লিখি না,” বলল শেষে। “কেউ অন্য কেউ হয়তো।” আরিশা বিশ্বাস করতে পারছিল না। “তুমি মিথ্যে বলছ।” তাহমিদ উঠে দাঁড়াল। “আমি মিথ্যে বলি না। তুমি যদি চাও, আমি তোমার পাশে থাকব। কিন্তু চিঠি আমি লিখি না।”
আরিশা রাগে কেঁপে উঠল। সে বেরিয়ে আসতে গেল। তাহমিদ হাত ধরে টানল। “থামো।” আরিশা ঘুরে দাঁড়াল। দুজনের শরীর প্রায় লেগে গেল। তাহমিদের হাত তার কোমরে। গরম। শ্বাস মিশে যাচ্ছিল। “তুমি জানো না কতটা কঠিন,” তাহমিদ ফিসফিস করে বলল। “তোমাকে দেখে, তোমার কাছে থেকে... নিজেকে সামলানো।” আরিশা তার ঠোঁটের দিকে তাকাল। তাহমিদ আর দেরি করল না। তার ঠোঁট আরিশার ঠোঁটে এসে পড়ল। গভীর, গরম, ক্ষুধার্ত। আরিশা সাড়া দিল। হাত গিয়ে পড়ল তাহমিদের ঘাড়ে। চুমুটা লম্বা হল। জিভ মিশে গেল। তাহমিদের হাত তার পিঠ বেয়ে নামল, কোমর চেপে ধরল। আরিশার শরীর গলে যাচ্ছিল।
হঠাৎ তাহমিদ সরে গেল। “না... এভাবে নয়,” বলল শ্বাস ফেলতে ফেলতে। “তুমি চিঠির কথা ভাবছ। আমি চাই না তুমি সন্দেহ নিয়ে আমাকে ছুঁয়ো।” আরিশা দাঁড়িয়ে রইল। বুক দুলছে। ঠোঁট ফোলা। সে কিছু না বলে বেরিয়ে এল।
সেই রাতে চিঠি এল না। পরের সকালেও না। আরিশা অস্থির হয়ে উঠল। তাহমিদকে দেখলে সে চোখ সরিয়ে নিত। কিন্তু রাতে ঘুম আসত না। তাহমিদের চুমুর স্বাদ মনে পড়ত। তার হাতের চাপ, তার শরীরের গরম। চিঠি না এলেও মন ভরে থাকত তাহমিদে।
একদিন আরিশার অফিসে বড় সমস্যা হল। প্রজেক্ট ফেল হতে বসল। সে বাসায় ফিরে কেঁদে ফেলল। তাহমিদ দরজায় এসে দাঁড়াল। “শুনলাম। কী হয়েছে?” আরিশা দরজা খুলে দিল। তাহমিদ ভেতরে ঢুকে তাকে জড়িয়ে ধরল। কোনো কথা না বলে। আরিশা তার বুকে মুখ গুঁজে কাঁদল। তাহমিদ চুল ছুঁয়ে দিচ্ছিল। “আমি আছি,” বলছিল বারবার। রাত গভীর হল। দুজনে সোফায় বসে রইল। তাহমিদের হাত আরিশার পিঠে। ধীরে ধীরে হাত নিচে নামল। আরিশা বাধা দিল না। তাহমিদ তার গলায় চুমু দিল। গরম শ্বাস। আরিশা মাথা তুলে তার ঠোঁট খুঁজে নিল। চুমুটা এবার আরও গভীর। তাহমিদের হাত তার ব্লাউজের নিচে ঢুকল। আরিশার শরীর কেঁপে উঠল। দুজনে একে অপরকে চেপে ধরল। কাপড় আলগা হয়ে আসছিল। ঠিক তখন তাহমিদ থেমে গেল। “আজ না,” বলল কষ্ট করে। “তুমি এখন দুর্বল। আমি চাই না এভাবে।” আরিশা হতাশ হয়ে তাকাল। তাহমিদ তার কপালে চুমু দিয়ে উঠে গেল।
পরের সকালে নীল খাম এল। “সে তোমাকে ছুঁয়েছে। তুমি গলে গেছ। আমি জানি। কিন্তু আমি আর বেশিদিন থাকতে পারব না।” আরিশা চিঠিটা পড়ে শিউরে উঠল। লেখক চলে যাচ্ছে?
শেষ নীল খামটা এল এক সকালে। আরিশা দরজা খুলে দেখল। ভেতরে চিঠি। “পরদিন থেকে আর কোনো চিঠি আসবে না। কারণ লেখক তোমার জীবন থেকে চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছে। তোমাকে ভালোবেসেছি। তোমার প্রতিটা হাসি, প্রতিটা অশ্রু, প্রতিটা নিঃশ্বাস জানি। কিন্তু এখন যেতে হবে। তুমি সুখী হও।” আরিশার হাত কাঁপছিল। চিঠিটা পড়ে সে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে পড়ল। কেউ চলে যাচ্ছে। যে তাকে এত গভীরভাবে চিনত।
সে তাহমিদের দরজায় ছুটে গেল। দরজা খোলা। ভেতরে তাহমিদ ব্যাগ গোছাচ্ছিল। আরিশা থমকে দাঁড়াল। “তুমি... যাচ্ছ?” তাহমিদ ঘুরে তাকাল। তার চোখ ভারী। “হ্যাঁ। অন্য শহরে চাকরি। আজই রওনা।” আরিশা এগিয়ে গেল। “চিঠিগুলো তুমি লিখেছ, তাই না?” তাহমিদ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ।”
আরিশার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। “কেন অস্বীকার করলে?” তাহমিদ কাছে এসে তার মুখ দুটো হাতে ধরল। “কারণ আমি চাইনি তুমি শুধু চিঠির জন্য আমাকে ভালোবাসো। আমি চেয়েছি তুমি আমাকে দেখে, ছুঁয়ে, চিনে ভালোবাসো। চিঠি ছিল আমার সাহস। তোমার কাছে আসার একটা পথ।” আরিশা তার হাত চেপে ধরল। “তুমি যেতে পারবে না।” তাহমিদ কপালে কপাল ঠেকাল। “চাকরির জন্য যেতেই হবে। কিন্তু...” আরিশা তার ঠোঁট চেপে ধরল। চুমুটা এবার আলাদা। ক্ষুধা আর ভালোবাসা মিশে। তাহমিদ তাকে জড়িয়ে ধরে ঘরের ভেতর টেনে নিল। দরজা বন্ধ হল।
দুজনে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল। কাপড় খুলতে খুলতে চুমু চলতে থাকল। তাহমিদের হাত আরিশার শরীর ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বুক, কোমর, উরু। আরিশা তার পিঠে নখ বসাচ্ছিল। তাহমিদ তার গলায়, বুকে চুমু দিচ্ছিল। গরম জিভ। আরিশা কেঁপে উঠছিল। তাহমিদ উপরে উঠে তার চোখে চোখ রেখে বলল, “আমি তোমাকে চাই। পুরোপুরি।” আরিশা মাথা নাড়ল। দুজনে এক হয়ে গেল। ধীর, গভীর, গরম। আরিশার নখ তাহমিদের পিঠে রেখা কেটে দিচ্ছিল। তাহমিদ তার কানে ফিসফিস করছিল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। চিঠিতে লিখেছিলাম, এখন বলছি।” আরিশা তার ঘাড়ে মুখ গুঁজে উত্তর দিচ্ছিল শরীর দিয়ে।
পরে দুজনে পাশাপাশি শুয়ে রইল। তাহমিদ আরিশার চুল আঙুল দিয়ে খেলছিল। “আমি ফিরে আসব,” বলল। “অথবা তুমি আমার সঙ্গে চলো।” আরিশা তার বুকে হাত রেখে বলল, “আমি যাব। তোমার সঙ্গে। চিঠি আর লাগবে না। তুমিই আছ।” তাহমিদ তাকে আরেকবার চুমু দিল। গভীর, আস্তে। বাইরে রোদ উঠছিল। কোনো মেঘ ছিল না। শুধু দুজনের শ্বাস আর হৃদস্পন্দন।
আরিশা জানত, নীল খাম আর আসবে না। কিন্তু তাহমিদ থাকবে। তার হাত, তার চুমু, তার ভালোবাসা। যে ভালোবাসা চিঠিতে শুরু হয়ে শরীরে শেষ হয়েছিল। দুজনে উঠে ব্যাগ গোছাল। একসঙ্গে। নতুন শহর, নতুন সকাল। আর কোনো গোপন চিঠি নয়। শুধু দুজনের গল্প।
....