গম্ভীর চোখের আগুন

লাবণ্য আর আরশানের বিয়ে হয়েছিল পরিবারের চাপে। দুজনের মধ্যে আগে কোনো পরিচয় ছিল না। শুধু একবার দেখা হয়েছিল আত্মীয়ের বাড়িতে। সেদিনও কথা হয়নি বেশি। লাবণ্য দেখেছিল আরশান চুপচাপ বসে আছে, মুখে কোনো হাসি নেই। আরশানও লাবণ্যকে একবার তাকিয়ে দেখেছিল শুধু।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

বিয়ের পর তারা ঢাকার এক ফ্ল্যাটে উঠল। আরশান ব্যাংকে কাজ করত। সকালে বেরিয়ে যেত, রাতে ফিরত। কথা খুব কম বলত। লাবণ্য রান্না করত, ঘর গুছাত, অপেক্ষা করত। আরশান এলে খাবার দিত। সে ধন্যবাদও বলত না, শুধু খাওয়া শেষ করে উঠে যেত।

লাবণ্য প্রথমে ভাবত, সে হয়তো তাকে পছন্দ করে না। কিন্তু একদিন সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। জ্বর এল, শরীর কাঁপতে লাগল। সকালে আরশান অফিস যাওয়ার সময় দেখল লাবণ্য বিছানায় শুয়ে আছে। সে কিছু না বলে ডাক্তার ডেকে আনল। ওষুধ কিনে আনল। সারাদিন অফিস থেকে ফোন করে জানতে চাইল কেমন আছে। রাতে এসে নিজে হাতে খাবার খাওয়াল। লাবণ্যের কপালে হাত রাখল। তার হাতটা ঠান্ডা ছিল। লাবণ্য চোখ বন্ধ করে সেই স্পর্শ অনুভব করল।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

পরের দিনও সে অফিস বাদ দিয়ে বাড়িতে থাকল। লাবণ্যকে ওষুধ খাওয়াল, পানি খাওয়াল। লাবণ্য দুর্বল গলায় বলল, “তুমি অফিস যাও। আমি ঠিক আছি।”

আরশান শুধু বলল, “না।”

সেই এক কথা। কিন্তু লাবণ্যের বুকে কিছু একটা নড়ে উঠল। সে দেখল, এই গম্ভীর মানুষটা তার অসুখে অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে পাশে দাঁড়ায়।

সুস্থ হওয়ার পর লাবণ্য আরশানের দিকে বেশি নজর দিতে শুরু করল। সে দেখল, আরশান রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সব জানালা বন্ধ করে দেয়। লাবণ্য যদি রান্নাঘরে দেরি করে, সে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। কথা বলে না, শুধু দাঁড়ায়। লাবণ্য যখন হাসে, আরশান মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু তার চোখে কিছু একটা থাকে।

এক সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেল। ঘর অন্ধকার হয়ে গেল। লাবণ্য মোমবাতি জ্বালাল। আরশান বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। লাবণ্য তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। শহরের আলো দূরে জ্বলছিল। বাতাস নরম ছিল।

লাবণ্য বলল, “তুমি সবসময় এত চুপচাপ কেন?”

আরশান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “অভ্যাস।”

লাবণ্য হাসল। “আমার সাথে একটু কথা বলো না।”

আরশান তার দিকে তাকাল। চোখে চোখ পড়ল। লাবণ্যের বুক দুরুদুরু করল। আরশান হাত বাড়িয়ে লাবণ্যের কপালের চুল সরিয়ে দিল। তার আঙুল লাবণ্যের গালে ছুঁয়ে গেল। লাবণ্য নিশ্বাস নিতে ভুলে গেল।

সে রাতে তারা কাছাকাছি শুয়েছিল। আরশান লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরেছিল। তার বুকের স্পন্দন লাবণ্য অনুভব করছিল। আরশানের হাত লাবণ্যের কোমরে ছিল। লাবণ্য তার ঘাড়ে মুখ রেখেছিল। আরশান ধীরে ধীরে লাবণ্যের চুলে হাত বুলিয়েছিল। কোনো কথা হয়নি। শুধু স্পর্শ। গরম স্পর্শ। লাবণ্যের শরীর কেঁপে উঠেছিল। আরশান তাকে আরও কাছে টেনে নিয়েছিল। তাদের শ্বাস মিশে গিয়েছিল। আরশানের ঠোঁট লাবণ্যের কপালে লেগেছিল। তারপর গালে। লাবণ্য চোখ বন্ধ করেছিল। আরশানের হাত তার পিঠে ঘুরছিল। ধীরে ধীরে নিচের দিকে। লাবণ্য তার কাঁধে মুখ গুঁজেছিল। আরশান তার কান ঘেঁষে ফিসফিস করে বলেছিল, “ঘুমাও।”

কিন্তু লাবণ্য ঘুমায়নি। সে আরশানের বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়েছিল। তার হৃদয় দুর্বল হয়ে পড়ছিল এই মানুষটার জন্য। যে কথা বলে না, কিন্তু স্পর্শে সব বলে দেয়।

দিন যত গড়াত, লাবণ্য তত কাছে চলে যাচ্ছিল। আরশান যখন বাড়ি ফিরত, লাবণ্য দরজায় অপেক্ষা করত। আরশান এলে তার হাত ধরত। আরশান প্রথমে হাত সরিয়ে নিত। পরে আর সরাত না। একদিন লাবণ্য তার গলায় হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেছিল। আরশান শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরেছিল। তার হাত লাবণ্যের কোমরে চেপে ধরেছিল। লাবণ্য তার গলায় চুমু খেয়েছিল। আরশান মাথা তুলে লাবণ্যের ঠোঁটের দিকে তাকিয়েছিল। তার চোখে আগুন জ্বলছিল। সে লাবণ্যকে চুমু খেয়েছিল। গভীরভাবে। লম্বা করে। লাবণ্যের ঠোঁট কেঁপে উঠেছিল। আরশানের জিভ তার ঠোঁটের ফাঁকে ঢুকে গিয়েছিল। লাবণ্য আরশানের চুলে হাত দিয়েছিল। আরশান তাকে দেয়ালের সাথে ঠেলে দিয়েছিল। তাদের শরীর জড়িয়ে গিয়েছিল। আরশানের হাত লাবণ্যের কোমর থেকে উপরে উঠেছিল। লাবণ্যের শ্বাস দ্রুত হয়ে গিয়েছিল। আরশান তার গলায় চুমু খেয়েছিল। কানের নিচে। কাঁধে। লাবণ্য আরশানের নাম ধরে ডেকেছিল। আরশান থেমে গিয়েছিল। তার চোখে কিছু একটা ছিল। যেন সে নিজেকে আটকে রাখছে।

লাবণ্য বুঝতে পারছিল, আরশান তাকে চায়। কিন্তু সে নিজেকে দূরে রাখে। কেন, সে জানত না।

একদিন লাবণ্য আরশানের শার্টের পকেটে একটা চিরকুট পেল। তাতে একটা নম্বর লেখা। লাবণ্য কিছু বলল না। কিন্তু তার মনে প্রশ্ন জাগল।

আরশান রাতে এসে লাবণ্যকে দেখল চুপচাপ বসে আছে। সে কাছে গিয়ে বসল। লাবণ্যের হাত ধরল। লাবণ্য হাত সরিয়ে নিল না। আরশান তার আঙুলে আঙুল ঘষল। লাবণ্য তার দিকে তাকাল। আরশানের চোখে গভীরতা ছিল। সে লাবণ্যকে কাছে টেনে নিল। তাদের চুমু আবার হল। এবার আরও গরম। আরশান লাবণ্যকে কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল। লাবণ্যের জামা খুলল। তার হাত লাবণ্যের ত্বকে বুলিয়ে গেল। লাবণ্য কেঁপে উঠল। আরশান তার বুকে চুমু খেল। পেটে। নাভির কাছে। লাবণ্য আরশানের চুল মুঠো করে ধরল। আরশান উঠে এসে লাবণ্যের ঠোঁটে চুমু খেল। তাদের শরীর এক হয়ে গেল। আরশান ধীরে ধীরে প্রবেশ করল। লাবণ্য ব্যথায় চোখ বন্ধ করল। আরশান থেমে গেল। লাবণ্যের কপালে চুমু খেয়ে বলল, “বলো যদি না চাও।”

লাবণ্য মাথা নাড়ল। “চাই।”

আরশান আবার নড়ল। ধীরে। গভীরভাবে। লাবণ্য তার পিঠে নখ ফেলে দিল। আরশানের শ্বাস গরম হয়ে উঠল। তারা একসাথে কাঁপল। একসাথে শেষ হল। পরে আরশান লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। লাবণ্য তার বুকে কান রেখে শুনল তার হৃদয়ের শব্দ।

সেই রাত থেকে লাবণ্য জানল, সে আরশানকে ভালোবাসে। গভীরভাবে। কিন্তু আরশানের চোখে এখনও সেই দূরত্ব ছিল। যেন সে কিছু লুকিয়ে রাখছে।

লাবণ্য ভাবল, সময় দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। সে জানত না, সামনে কী অপেক্ষা করছে।

লাবণ্য আর আরশানের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছিল। দিনের বেলায় আরশান গম্ভীর থাকত। কিন্তু রাতে সে বদলে যেত। লাবণ্য যখন তার কাছে আসত, আরশান তাকে টেনে নিত। তাদের শরীর মিশে যেত। আরশান লাবণ্যের প্রতিটি অংশ স্পর্শ করত। লাবণ্যের গলায়, কাঁধে, বুকে চুমু খেত। লাবণ্য আরশানের নাম ডাকত। আরশান তার কানে ফিসফিস করত। কখনো কথা, কখনো শুধু শ্বাস।

এক রাতে তারা ছাদে উঠেছিল। শহরের আলো জ্বলছিল। বাতাস নরম। লাবণ্য আরশানের বুকে মাথা রেখেছিল। আরশান তার চুলে হাত বুলিয়েছিল। লাবণ্য বলল, “তুমি আমাকে কখনো বলোনি যে তুমি আমাকে চাও।”

আরশান চুপ থাকল। তার হাত লাবণ্যের কোমরে শক্ত হয়ে গেল। লাবণ্য মাথা তুলে তাকাল। আরশানের চোখে অন্ধকার।

লাবণ্য বলল, “বলো।”

আরশান ধীরে বলল, “আমি তোমাকে কখনো নিজের স্ত্রী হিসেবে চাইনি।”

লাবণ্য যেন পাথর হয়ে গেল। তার কান বিশ্বাস করতে চাইল না। আরশান আবার বলল, “বিয়ে হয়েছে পরিবারের চাপে। আমি কখনো চাইনি।”

লাবণ্য তার হাত সরিয়ে নিল। উঠে দাঁড়াল। তার চোখ জ্বলে উঠল। “তাহলে এতদিন কী করছিলে? আমার সাথে শুয়ে? আমার শরীর স্পর্শ করে?”

আরশান মাথা নিচু করল। “ভুল হয়েছে।”

লাবণ্য আর সহ্য করতে পারল না। সে ছাদ থেকে নেমে গেল। ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে কাঁদল। তার বুক ফেটে যাচ্ছিল। যে মানুষটার জন্য সে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, সেই মানুষটা বলছে সে তাকে চায়নি।

পরের দিন আরশান অফিস গেল। লাবণ্য ঘরে একা কাটাল। রান্না করল না। কিছু খেল না। সন্ধ্যায় আরশান ফিরল। লাবণ্য তাকে দেখেও কথা বলল না। আরশান কাছে এসে বসল। লাবণ্য উঠে অন্য ঘরে চলে গেল।

রাত গভীর হল। লাবণ্য বিছানায় শুয়ে কাঁদছিল। আরশান দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। “লাবণ্য।”

লাবণ্য সাড়া দিল না। আরশান ভেতরে এসে বিছানায় বসল। লাবণ্যের হাত ধরতে চাইল। লাবণ্য হাত সরিয়ে নিল।

আরশান বলল, “আমাকে শোনো।”

লাবণ্য মুখ ফিরিয়ে নিল। “যা বলার বলেছ। আর কিছু শুনতে চাই না।”

আরশান চুপ করে বসে রইল। তার শ্বাস ভারী। লাবণ্য দেখল, আরশানের চোখে জল। সে কখনো আরশানকে এমন দেখেনি।

লাবণ্য বলল, “কেঁদো না। তুমি তো চাওনি।”

আরশান মাথা নাড়ল। “চাইনি বলার মানে এই নয় যে আমি তোমাকে ভালোবাসি না।”

লাবণ্য উঠে বসল। “তাহলে কেন বললে?”

আরশান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “কারণ তোমাকে দূরে রাখতে হবে। আমার জীবনে একটা বিপদ আছে। সেই বিপদের ছায়া তোমার ওপর পড়তে পারে। আমি চাই না তুমি বিপদে পড়ো।”

লাবণ্য তার দিকে তাকাল। “কী বিপদ?”

আরশান চুপ থাকল। লাবণ্য জেদ করে বলল, “বলো।”

আরশান ধীরে বলল, “আমার অতীত। একটা ঘটনা। যেটা এখনও শেষ হয়নি। কিছু মানুষ আমাকে খুঁজছে। যদি তারা জানে তুমি আমার স্ত্রী, তারা তোমাকেও টার্গেট করবে। আমি তোমাকে বাঁচাতে চাই। তাই দূরে রাখতে চেয়েছিলাম।”

লাবণ্যের চোখ বড় হয়ে গেল। “তাহলে তুমি মিথ্যে বলেছ?”

আরশান মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ। তোমাকে আঘাত দেওয়ার জন্য। যাতে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাও। নিরাপদে থাকো।”

লাবণ্য আরশানের হাত ধরল। “আমি যাব না। তুমি যদি বিপদে থাকো, আমিও থাকব।”

আরশান লাবণ্যের হাত শক্ত করে ধরল। “না। তুমি বুঝো না।”

লাবণ্য কাছে সরে গেল। “আমি বুঝি। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি আমাকে দূরে রাখতে পারবে না।”

আরশান লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরল। তার বুক কেঁপে উঠল। লাবণ্য তার গলায় চুমু খেল। আরশান লাবণ্যের ঠোঁটে চুমু খেল। এবার আর কোনো দূরত্ব ছিল না। তাদের চুমু গভীর হল। আরশান লাবণ্যকে শুইয়ে দিল। তার জামা খুলল। লাবণ্য আরশানের শার্ট খুলল। তাদের ত্বক মিশে গেল। আরশান লাবণ্যের প্রতিটি ইঞ্চি চুমু খেল। লাবণ্য আরশানের পিঠে হাত বুলাল। আরশান লাবণ্যের মধ্যে প্রবেশ করল। এবার কোনো দ্বিধা নেই। শুধু আগুন। তারা একসাথে নড়ল। লাবণ্য আরশানের নাম ডাকল। আরশান লাবণ্যের কানে বলল, “আমি তোমাকে চাই। সবসময় চেয়েছি।”

তারা শেষ হল একসাথে। পরে জড়িয়ে শুয়ে রইল। লাবণ্য আরশানের বুকে মাথা রেখে বলল, “এখন বলো, কী বিপদ।”

আরশান চুপ থেকে বলল, “কাল বলব। আজ শুধু তোমাকে ধরে থাকি।”

লাবণ্য চোখ বন্ধ করল। তার ভয় ছিল। কিন্তু আরশানের বুকে সে নিরাপদ অনুভব করছিল।

সকালে আরশান লাবণ্যকে সব খুলে বলল। কয়েক বছর আগে তার এক বন্ধুর সাথে ব্যবসায় জড়িত ছিল। সেই ব্যবসায় কিছু লোক প্রতারিত হয়েছিল। আরশান জানত না। কিন্তু তার নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন সেই লোকেরা আরশানকে খুঁজছে। তারা হুমকি দিয়েছে। আরশান পুলিশে দিয়েছে। কিন্তু বিপদ এখনও শেষ হয়নি।

লাবণ্য শুনে চুপ করে রইল। তারপর বলল, “আমরা একসাথে মোকাবিলা করব।”

আরশান লাবণ্যের হাত ধরল। “তুমি ভয় পাচ্ছ না?”

লাবণ্য মাথা নাড়ল। “তুমি পাশে থাকলে ভয় নেই।”

সেদিন থেকে তারা আরও কাছাকাছি হয়ে গেল। আরশান লাবণ্যকে কোথাও একা ছাড়ত না। লাবণ্যও আরশানের প্রতিটি পদক্ষেপ দেখত। রাতে তারা জড়িয়ে ঘুমাত। আরশান লাবণ্যকে চুমু খেত ঘুমন্ত অবস্থায়ও। লাবণ্য জেগে উঠে আরশানকে জড়িয়ে ধরত। তাদের শরীর আবার মিশে যেত। আরশান লাবণ্যকে উপরে তুলে নিত। লাবণ্য তার ওপর বসত। তারা ধীরে ধীরে নড়ত। লাবণ্যের চুল আরশানের মুখে পড়ত। আরশান লাবণ্যের বুকে চুমু খেত। লাবণ্য আরশানের হাত ধরে রাখত। তারা একসাথে শেষ হত। তারপর হাসিমুখে একে অপরকে দেখত।

একদিন আরশানের ফোন এল। হুমকি। আরশান লাবণ্যকে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় গেল। কয়েকদিন পর পুলিশ সেই লোকদের ধরল। বিপদ কেটে গেল।

বাড়ি ফিরে আরশান লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরল। “এখন আর কোনো ভয় নেই।”

লাবণ্য হাসল। “এখন তুমি আমাকে স্ত্রী হিসেবে চাও?”

আরশান লাবণ্যের ঠোঁটে চুমু খেয়ে বলল, “সবসময় চেয়েছি। শুধু তোমাকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম।”

সে রাতে তারা আবার এক হল। আরশান লাবণ্যকে ধীরে ধীরে খুলল। তার প্রতিটি অংশ স্পর্শ করল। লাবণ্য আরশানের শরীর চুমু খেল। তারা দীর্ঘক্ষণ জড়িয়ে থাকল। আরশান লাবণ্যের ভেতরে গভীরভাবে প্রবেশ করল। লাবণ্য তার নাম ডাকল। আরশান লাবণ্যকে আরও কাছে টেনে নিল। তাদের শ্বাস এক হয়ে গেল। শরীর কেঁপে উঠল। তারা একসাথে শেষ হল। পরে আরশান লাবণ্যের কপালে চুমু খেয়ে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

লাবণ্য তার বুকে মাথা রেখে বলল, “আমিও।”

সকালে সূর্য উঠল। ঘরে আলো এল। লাবণ্য আরশানের হাত ধরে শুয়ে রইল। আর কোনো দূরত্ব নেই। শুধু দুজন মানুষ। যারা পরিবারের চাপে মিলেছিল। কিন্তু ভালোবাসায় বেঁধে গিয়েছিল। আরশান এখন আর গম্ভীর নয়। সে লাবণ্যকে হাসিমুখে দেখে। লাবণ্য অসুস্থ হলে সে আগের মতোই পাশে থাকে। কিন্তু এখন কথাও বলে। ভালোবাসাও বলে।

লাবণ্য জানে, তাদের গল্প সহজ ছিল না। কিন্তু শেষে তারা একে অপরকে পেয়েছে। পুরোপুরি। শরীরে, মনে, হৃদয়ে।

আরশান লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলে, “তুমি আমার স্ত্রী। সবসময় থাকবে।”

লাবণ্য চোখ বন্ধ করে সেই কথা শোনে। তার বুক ভরে ওঠে। গল্প এখানেই শেষ নয়। তাদের জীবন শুরু হয়েছে নতুন করে। একসাথে। কোনো ছায়া ছাড়া। শুধু আলো আর ভালোবাসা।

....
👁 15