রুশদ হাসানের অফিসের বাতাসটাই আলাদা। ঢাকার গুলশানের একটা বহুতল ভবনের পুরো একাদশ তলা তার কোম্পানির অধীনে। যখন তিনি মিটিং রুমে ঢোকেন, সবাই চুপ হয়ে যায়। কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারে না। তার কণ্ঠস্বর শান্ত, কিন্তু সেই শান্তির ভেতরে এমন একটা ধার থাকে যে সবাই বুঝে নেয়—ভুল হলে ক্ষমা নেই। ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি সফল। আমদানি-রপ্তানি, রিয়েল এস্টেট, আর দুটো ফ্যাক্টরি। বয়স মাত্র ছত্রিশ, কিন্তু চোখে-মুখে যেন পঞ্চাশের গম্ভীরতা।
বিয়ের আগে কেউ ভাবতে পারেনি যে এই মানুষটার ঘরে কেউ ঢুকবে। বিয়েটাও হয়েছিল পরিবারের চাপে। জারিফা আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করা, চোখে দুষ্টুমি, মুখে হাসি। রুশদ যখন প্রথম দেখেছিল, ভেবেছিল এই মেয়েটা হয়তো ভয় পাবে। কিন্তু বিয়ের রাতেই সে বুঝেছিল ভুল।
জারিফা তার পাশে শুয়ে বলল, “আপনি কি সবসময় এত গম্ভীর থাকেন? নাকি শুধু বাইরে?”
রুশদ তাকাল। “অভ্যাস।”
“অভ্যাস ভাঙতে হয়।” জারিফা তার হাত ধরে টানল। “আজ থেকে এই বাড়িতে আপনি শুধু রুশদ। অফিসের বস নন।”
সেই রাত থেকে শুরু। জারিফা তার খাবার চুরি করে খায়। রুশদ যখন দুপুরে অফিস থেকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে, “আমার লাঞ্চ বক্সে কী ছিল?” জারিফা হাসে, “মাংসটা খুব সুস্বাদু ছিল। আমি খেয়ে ফেলেছি। আপনার জন্য ডিম ভাজি রেখেছি।”
রুশদ রাগ করে। কিন্তু রাগটা টেকে না। কারণ জারিফা ফোনের ওপাশ থেকে বলে, “রাগ করবেন না। আমি আপনার জন্য সন্ধ্যায় বিশেষ কিছু রান্না করব। আর… আজ রাতে আপনাকে চুমু খাব অনেক।”
মিটিংয়ের আগে তার টেবিলে নোট পায়। ছোট্ট কাগজে লেখা থাকে—“আজকের মিটিংয়ে হাসি মুখে কথা বলবেন। নইলে রাতে আমি আপনার বালিশে লুকিয়ে রাখা চকলেটগুলো খেয়ে ফেলব।” রুশদ সেই নোট পড়ে মুচকি হাসে। কেউ দেখে না।
রাত দশটার পর বাড়ি ফিরলে জারিফা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। “কোথায় ছিলেন?”
“অফিস।”
“অফিসে কি কেউ আছে যে আপনাকে আটকে রাখে?” জারিফা তার টাই খুলে নেয়। “এসে বসুন। আমি চা বানাচ্ছি। আর কথা বলবেন। সব কথা।”
রুশদ বসে। জারিফা তার কোলে বসে পড়ে। “আপনি বাইরে যতই কঠিন থাকুন, এখানে আপনি আমার। আমি ভয় পাই না।”
সেই ভয়হীনতাই রুশদকে বদলাতে শুরু করে। একদিন অফিসে তিনি একজন কর্মচারীর ভুল ধরলেন। সবাই ভয়ে অপেক্ষা করছিল চিৎকারের জন্য। কিন্তু রুশদ শুধু বললেন, “ঠিক করে নিও। আগামীকাল দেখাব।” কর্মচারীরা অবাক। কেউ জানে না যে সকালে জারিফা তার পকেটে একটা ছোট চকলেট রেখে দিয়েছিল আর লিখেছিল—“আজ কেউ ভুল করলেও রাগ কমিয়ে কথা বলবেন। আমি রাতে পুরস্কার দেব।”
রাতে সেই পুরস্কার পেয়েছিল। জারিফা তাকে বিছানায় টেনে নিয়ে যায়। আলো নিভিয়ে দেয়। তার আঙুল রুশদের বুকের ওপর দিয়ে ঘোরে। “আপনি কতটা শক্ত। কিন্তু ভেতরে নরম।” রুশদ তাকে চুমু খায়। গভীর, ক্ষুধার্ত। জারিফার শরীর তার নিচে কাঁপে। তারা একে অপরকে ছুঁয়ে যায়, চুমু খায়, নিঃশ্বাস মেশায়। জারিফা তার কানে ফিসফিস করে, “আরও কাছে আসুন। আমি আপনাকে চাই।” রুশদ তার কোমর চেপে ধরে। তাদের শরীর এক হয়ে যায়। ঘাম, নিঃশ্বাস, আর গভীর আর্তনাদ। সেই রাতে রুশদ প্রথমবার মনে করেছিল—এই মেয়েটা হয়তো তাকে বাঁচাতে পারে।
দিন যত যায়, জারিফার দুষ্টুমি বাড়তে থাকে। রুশদ যখন গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্টের সাথে মিটিংয়ে থাকে, জারিফা মেসেজ পাঠায়—“আজ রাতে আমি নতুন জামা পরব। আপনি তাড়াতাড়ি আসবেন।” রুশদ মিটিং শেষ করে বাড়ি ছুটে যায়। জারিফা দরজা খুলে দাঁড়ায়। কালো জামা, চুলে তেল, গলায় হালকা সুগন্ধি। রুশদ তাকে তুলে বিছানায় নিয়ে যায়। তাদের চুমু গভীর হয়। জারিফা তার শার্ট খুলে ফেলে। রুশদের হাত তার পিঠে ঘোরে। তারা একে অপরকে চুমু খায়, ছুঁয়ে যায়, আর শরীরের প্রতিটা অংশ আবিষ্কার করে। জারিফা তার উপরে উঠে বসে। চোখে চোখ রেখে বলে, “আপনি আমার। শুধু আমার।” রুশদ তার কোমর ধরে টানে। তাদের মিলন গভীর, গরম, আর দীর্ঘ। শেষে তারা একে অপরের বুকে শুয়ে থাকে। জারিফা তার বুকে মাথা রাখে। “আপনি বদলাচ্ছেন। আমি দেখতে পাচ্ছি।”
রুশদ চুপচাপ তার চুলে হাত বোলায়। সে জানে জারিফা ঠিকই বলেছে। বাইরে সে এখনও কঠিন। কিন্তু ঘরে ফিরলে তার কাঁধের বোঝা কিছুটা হালকা হয়। জারিফা তার খাবার চুরি করে, নোট লেখে, দেরি করলে জেরা করে। আর রাতে তাকে এমনভাবে ভালোবাসে যে রুশদ ভুলে যায় সে কতটা একা ছিল।
এক সন্ধ্যায় জারিফা তার কোলে বসে বলল, “আপনার জীবনে কি কেউ ছিল? যে আপনাকে খুব কাছের মনে হত?”
রুশদের শরীর শক্ত হয়ে যায়। “কেন জিজ্ঞেস করছ?”
“কারণ আপনি কখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না। আমাকেও না। যদিও আপনি আমাকে ভালোবাসেন।”
রুশদ কিছু বলল না। জারিফা তার গালে চুমু খেল। “একদিন বলবেন। আমি অপেক্ষা করব। আর ততদিন আমি আপনাকে ভালোবাসতে থাকব। আপনার রাগ, আপনার নীরবতা, সবকিছু নিয়ে।”
সেই রাতে তারা আবার কাছাকাছি এল। জারিফা রুশদের বুকে শুয়ে তার হৃদস্পন্দন শুনল। রুশদ তার পিঠে হাত বোলাল। বাইরের গম্ভীর মানুষটা ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ জানত না যে অতীতের ছায়া এখনও তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। আর সেই ছায়া একদিন ফিরে আসবে।
জারিফা জানতে পারল একটা পুরোনো চিঠি থেকে। রুশদের অফিসের পুরোনো ফাইলগুলো গুছোতে গিয়ে একটা ছোট লকার পেল। চাবিটা তার পকেটেই ছিল। ভেতরে কয়েকটা কাগজ আর একটা ছবি। ছবিতে রুশদ আর একজন যুবক। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। দুজনের মুখে হাসি। ছবির পেছনে লেখা—“আমরা ভাইয়ের মতো। সবসময়।”
চিঠিটা পড়ে জারিফার বুক কেঁপে উঠল। সেই মানুষটার নাম আরিফ। রুশদের চাচাতো ভাই। একসঙ্গে বড় হয়েছে। ব্যবসা শুরু করেছে একসঙ্গে। রুশদ তাকে সব দিয়েছিল—বিশ্বাস, টাকা, দায়িত্ব। আর আরিফ সেই বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছিল। কোম্পানির টাকা সরিয়ে নিয়েছিল। কাগজপত্র জালিয়াতি করেছিল। আর শেষে রুশদকে ফাঁসিয়ে দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। রুশদ আদালতে লড়েছিল, নাম সামলেছিল, কিন্তু ভেতরের ক্ষত সারেনি। সেইদিন থেকে সে কাউকে আর পুরোপুরি বিশ্বাস করেনি।
জারিফা সেই রাতে রুশদের অপেক্ষায় বসে রইল। রুশদ এসে দেখল তার চোখ ভেজা। “কী হয়েছে?”
জারিফা চিঠিটা তার হাতে দিল। “আমি পড়েছি। বলো। সব বলো।”
রুশদ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বসল। কণ্ঠস্বর শান্ত, কিন্তু ভেতরে ঝড়। “আরিফ আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিল। আমরা একসঙ্গে স্বপ্ন দেখতাম। আমি তাকে ভাইয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসতাম। সে আমার বিশ্বাস নিয়ে খেলল। টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল। আমি তার জন্য লজ্জায় মাথা নিচু করে হেঁটেছি। সেদিন থেকে আমি শিখেছি—কাউকে বিশ্বাস করা মানে নিজেকে দুর্বল করা।”
জারিফা তার পাশে বসল। তার হাত দুটো রুশদের হাতে রাখল। “আমি তোমাকে ঠকাব না। কখনো না। আমি তোমার ক্ষত সারাব। যদি তুমি আমাকে সুযোগ দাও।”
রুশদ তার দিকে তাকাল। চোখে অবিশ্বাসের ছায়া। “তুমি জানো না আমি কতটা ভাঙা।”
“জানি। আর ঠিক সেইজন্যই আমি এখানে।” জারিফা তার গালে হাত রাখল। “আজ রাতে আমাকে বিশ্বাস করো। শুধু আজ রাতের জন্য।”
রুশদ তাকে চুমু খেল। প্রথমে সাবধানে। তারপর ক্ষুধার্ত হয়ে। জারিফা তার শার্ট খুলে ফেলল। রুশদের বুকের ওপর হাত বোলাল। “এখানেই তোমার ব্যথা। আমি ছুঁয়ে দিচ্ছি।” তারা বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। জারিফা রুশদের উপরে উঠে বসল। চোখে চোখ রেখে তার শরীর নামিয়ে দিল। রুশদের হাত তার কোমরে। তারা ধীরে ধীরে এক হয়ে গেল। জারিফা তার কানে ফিসফিস করল, “আমি তোমার। তুমি আমাকে ভয় পেয়ো না।” রুশদ তার পিঠ চেপে ধরল। তাদের মিলন গভীর হল। ঘামে ভেজা শরীর, নিঃশ্বাসের শব্দ, আর গভীর চুমু। জারিফা তার নাম ডাকল। রুশদ তার ঠোঁটে ঠোঁট রাখল। সেই রাতে তারা অনেকক্ষণ কাছাকাছি থাকল। শেষে জারিফা তার বুকে মাথা রাখল। “আমি তোমার ক্ষত সারাব। প্রতিদিন একটু একটু করে।”
পরের দিনগুলোতে জারিফা আরও কাছাকাছি এল। রুশদ যখন অফিস থেকে ক্লান্ত ফিরত, জারিফা তার পায়ে তেল দিত। তার কাঁধে হাত বোলাত। রাতে তাকে গল্প শোনাত। আর যখন রুশদ নীরব হয়ে যেত, জারিফা তাকে চুমু খেয়ে বলত, “কথা বলো। আমি শুনব।”
একদিন রুশদ তাকে অফিসে নিয়ে গেল। সবাই অবাক। জারিফা তার পাশে বসে মিটিং দেখল। মিটিং শেষে রুশদ তাকে তার কেবিনে নিয়ে গেল। দরজা বন্ধ করে তাকে দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে চুমু খেল। “তুমি এখানে এসেছ বলে আমি শান্ত।” জারিফা তার টাই ধরে টানল। “তাহলে আমাকে আরও শান্ত করো।” তারা কেবিনের সোফায় গড়িয়ে পড়ল। জারিফা তার প্যান্টের বোতাম খুলল। রুশদের হাত তার জামার ভেতরে। তারা দ্রুত, গরম, আর ক্ষুধার্ত হয়ে মিলিত হল। জারিফা তার কানে দাঁত দিয়ে কামড়াল। রুশদ তার কোমর চেপে ধরে আরও গভীরে ঢুকল। তাদের নিঃশ্বাস মিশে গেল। শেষে তারা একে অপরের বুকে শুয়ে হাঁপাচ্ছে। জারিফা হাসল। “অফিসেও তোমার স্ত্রী তোমাকে ভয় পায় না।”
রুশদ তার চুলে হাত বোলাল। “তুমি আমাকে বদলে দিচ্ছ।”
জারিফা তার বুকে চুমু খেল। “আরও বদলাব। যতদিন না তুমি পুরোপুরি আমার হয়ে যাও।”
সেই সময়টা ছিল তাদের জন্য মিষ্টি। রুশদ ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছিল। জারিফাকে তার পুরোনো স্বপ্নের কথা বলত। ব্যবসা শুরুর কথা। আরিফের সাথে কাটানো দিনগুলোর কথা। আর জারিফা প্রতিবার তাকে জড়িয়ে ধরে বলত, “এখন আমি আছি। তুমি আর একা নও।”
কিন্তু অতীত কখনো পুরোপুরি মরে না। এক সন্ধ্যায় রুশদের ফোন বাজল। অচেনা নম্বর। তিনি রিসিভ করলেন। ওপাশ থেকে একটা কণ্ঠস্বর এল—পরিচিত, অথচ অনেকদিনের পুরোনো।
“রুশদ ভাই… আমি আরিফ।”
রুশদের হাত কেঁপে উঠল। জারিফা পাশে বসে দেখছিল। রুশদের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
আরিফ ফিরে এসেছে। ঢাকায়। আর সে রুশদের সাথে দেখা করতে চায়। রুশদ প্রথমে রাজি হয়নি। কিন্তু আরিফ বলেছে, “আমি শুধু ক্ষমা চাইতে এসেছি। আর কিছু নয়।” জারিফা শুনল সব। সে রুশদের হাত ধরে বলল, “দেখা করো। আমি পাশে থাকব। তুমি আর একা নও।”
দেখা হল একটা কফি শপে। আরিফ পাতলা হয়ে গেছে। চোখে ক্লান্তি। সে রুশদের দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করল। “আমি ভুল করেছিলাম। টাকা ফেরত দিতে পারব না সব। কিন্তু আমি দুঃখিত। সত্যিই।”
রুশদ চুপচাপ শুনল। জারিফা তার পাশে বসে তার হাত চেপে ধরল। রুশদ শেষে বলল, “তুমি আমার বিশ্বাস ভেঙেছ। সেটা আর জোড়া লাগে না। যাও। আর ফিরো না।”
আরিফ চলে গেল। কিন্তু সেই রাতে রুশদের ঘুম ভাঙল। তিনি উঠে বসলেন। জারিফা তার পাশে শুয়ে ছিল। রুশদ তাকে জাগিয়ে বলল, “আমি ভয় পাচ্ছি। যদি আবার কেউ… যদি তুমিও…”
জারিফা উঠে বসল। তার দুই হাত রুশদের মুখের দুপাশে রাখল। “শোনো। আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না। কখনো না। আমি তোমার ক্ষত সারাতে এসেছি। আর আমি সারাব।” সে তাকে চুমু খেল। গভীর করে। “আজ রাতে আমাকে প্রমাণ করতে দাও যে তুমি আমাকে বিশ্বাস করো।”
রুশদ তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। তার জামা খুলে ফেলল। জারিফার শরীর তার নিচে। রুশদ তার গলায় চুমু খেল। বুকে। পেটে। আর নিচে নামল। জারিফা তার চুল ধরে টানল। আর্তনাদ করল। রুশদ তার স্বাদ নিল। তারপর উপরে উঠে এসে তার ভেতরে ঢুকে গেল। একটানে। জারিফা তার পিঠে নখ বসাল। তারা দ্রুত মিলিত হল। ঘামে ভেজা শরীর। নিঃশ্বাসের শব্দ। জারিফা তার কানে বলল, “আরও জোরে। আমি তোমার।” রুশদ তার পা দুটো কাঁধে তুলে ধরল। আরও গভীরে গেল। তাদের মিলন দীর্ঘ হল। শেষে তারা একসঙ্গে কেঁপে উঠল। জারিফা তার বুকে শুয়ে কাঁদল। “আমি তোমাকে ভালোবাসি। বিশ্বাস করো।”
পরের কয়েকদিন আরিফ আবার যোগাযোগ করল। এবার সে টাকা চাইল। পুরোনো হিসাব মেটাতে। রুশদ রাজি হল না। আরিফ রেগে গেল। হুমকি দিল। রুশদের ব্যবসায় ক্ষতি করার কথা বলল। জারিফা সব শুনল। সে রুশদকে বলল, “তুমি একা লড়বে না। আমি আছি।”
একদিন আরিফ তাদের বাড়িতে এসে হাজির হল। রুশদ বাইরে ছিল। জারিফা দরজা খুলল। আরিফ ভেতরে ঢুকতে চাইল। জারিফা বাধা দিল। “যাও। এখানে তোমার জায়গা নেই।”
আরিফ হাসল। “তুমি জানো না রুশদ কতটা ভাঙা। আমি তাকে চিনি।”
জারিফা তার দিকে তাকাল। চোখে আগুন। “তুমি তাকে চেনো না। আমি চিনি। আর আমি তাকে সারিয়ে তুলছি। তুমি আর পারবে না তাকে ভাঙতে।”
ঠিক তখন রুশদ ফিরে এল। আরিফকে দেখে তার মুখ শক্ত হয়ে গেল। “বেরিয়ে যাও।”
আরিফ চলে গেল। কিন্তু সেই রাতে রুশদ জারিফাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “তুমি আমার জন্য লড়লে।”
জারিফা তার বুকে মাথা রাখল। “কারণ তুমি আমার। আর আমি তোমার ক্ষত সারাতে চাই।”
তারা সেই রাতে আবার কাছাকাছি এল। এবার আরও গভীর। রুশদ জারিফাকে ধীরে ধীরে ছুঁল। প্রতিটা অংশ। জারিফা তার হাত ধরে নিজের শরীরে রাখল। “এখানে। আরও নিচে।” রুশদ তার কথা মতো করল। জারিফা কেঁপে উঠল। তারপর রুশদ তার ভেতরে ঢুকল। ধীরে। গভীরে। তারা চোখে চোখ রেখে মিলিত হল। জারিফা তার নাম ডাকল। রুশদ তার ঠোঁটে ঠোঁট রাখল। তাদের শরীর এক ছন্দে নড়ল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। শেষে তারা একে অপরের বাহুতে শুয়ে রইল।
আরিফ আর ফিরে আসেনি। রুশদ তার ব্যবসা সামলে নিল। আর জারিফা প্রতিদিন তার পাশে থাকল। খাবার চুরি করে খেল। নোট লিখল। দেরি করলে জেরা করল। আর রাতে তাকে এমনভাবে ভালোবাসল যে রুশদ একদিন বলল, “আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। পুরোপুরি।”
জারিফা হাগল। “তাহলে প্রমাণ করো।”
রুশদ তাকে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল। সেই রাতে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হল। আর রুশদ জানল—অতীতের ক্ষত সারে যখন পাশে থাকে এমন একজন, যে ভয় পায় না। যে চুরি করে খায়। যে নোট লেখে। আর যে রাতে তাকে জেরা করেও ভালোবাসে।
তাদের সংসারে আর ছায়া রইল না। শুধু দুজন মানুষ। একজন গম্ভীর। আরেকজন দুষ্টু। আর তাদের ভালোবাসা গভীর, গরম, আর অনন্ত।
....