এক বিয়ে হাজারো রহস্য

ইনায়ার বিয়ে হয়েছিল আরহামের সঙ্গে। ঢাকার এক অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠান, কিন্তু দুজনেই জানত এটা শুধু নামের বিয়ে। আরহাম ধনী ব্যবসায়ী, বয়স ত্রিশের কাছাকাছি, গম্ভীর মুখ, তীক্ষ্ণ চোখ। ইনায়া বাইশ, নরম কণ্ঠ, লজ্জাশীল চোখ। পরিবারের চাপেই এই বিয়ে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

বিয়ের রাতে শোবার ঘরে আরহাম দরজা বন্ধ করে বলল, “এই বিয়ে আমার ইচ্ছায় হয়নি। তোমার কাছ থেকে আমি কিছুই আশা করি না। তুমি নিজের মতো থাকো। আমিও নিজের মতো।”

ইনায়ার গলা শুকিয়ে গেল। সে মাথা নিচু করে শুধু “হ্যাঁ” বলল। আরহাম অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পড়ল। রাতভর ইনায়া জেগে রইল। পাশের মানুষটা এত কাছে অথচ এত দূরে।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

সকালে টেবিলে ইনায়ার প্রিয় খিচুড়ি আর ডিম ভাজা সাজানো। আরহাম অফিসে চলে গিয়েছিল। বাড়িতে কাজের লোকরা বলে, “স্যার বলে গেছেন আপনার পছন্দ অনুসারেই সাজাতে।” ইনায়া অবাক। যে মানুষটা রাতে এত ঠান্ডা, সকালে তার পছন্দের খাবার কেন?

দিনগুলো এভাবেই চলতে লাগল। আরহাম বাড়িতে এলে কম কথা বলে। রাতে আলাদা বিছানায় শোয়। কিন্তু ইনায়া জ্বরে পড়লে সে পাশের চেয়ারে বসে থাকে সারা রাত। হাত দিয়ে কপাল ছুঁয়ে জ্বর মাপে, ঠান্ডা কাপড় বদলায়। ইনায়া ঘুমন্ত অবস্থায় তার গরম হাতের স্পর্শ অনুভব করে। চোখ খুললে আরহাম উঠে যায়, মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই।

এক সন্ধ্যায় আরহাম বাড়ি ফিরল দেরিতে। ইনায়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। আরহাম এগিয়ে এসে বলল, “ভিতরে যাও। ঠান্ডা লাগবে।” তার কণ্ঠ গম্ভীর, কিন্তু চোখে একটু নরম ভাব। ইনায়া ঘুরে দাঁড়াল। তাদের শরীর খুব কাছে। আরহামের সুবাস, তার লম্বা শরীরের উত্তাপ ইনায়ার বুকের ভিতর কম্পন তুলল। আরহাম এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকল তার ঠোঁটে, তারপর সরে গেল।

রাতের পর রাত ইনায়া ভাবত। এই মানুষটা তাকে সহ্য করতে পারে না বলে মুখে বলে, অথচ আড়ালে এত যত্ন করে কেন? তার শরীরের প্রতি আরহামের নজর সে টের পায়। কখনো কখনো আরহাম তাকে দেখে থেমে যায়। ইনায়ার গলায় পড়া চুল, তার পাতলা নাইটিতে লুকানো বক্রতা—সবকিছুই যেন তার চোখে পড়ে।

এক রাতে ইনায়া ঘুম থেকে উঠে পানি খেতে গেল। আরহাম বারান্দায় সিগারেট ধরিয়ে দাঁড়িয়ে। চাঁদের আলোয় তার শরীরের রেখা স্পষ্ট। ইনায়া কাছে গেল। আরহাম ঘুরে তাকাল। চোখে চোখ পড়ল। কোনো কথা হল না। আরহাম সিগারেট ফেলে দিয়ে এগিয়ে এল। তার হাত ইনায়ার কোমরে রাখল। গরম স্পর্শ। ইনায়ার শ্বাস দ্রুত হয়ে গেল। আরহাম মাথা নামিয়ে তার গলায় নাক ঘষল। “তোমাকে স্পর্শ করতে ইচ্ছা করে,” সে ফিসফিস করে বলল, “কিন্তু আমি চাই না তুমি ভুল বোঝো।”

ইনায়া তার বুকের ওপর হাত রাখল। হৃদয়ের ধুকধুক অনুভব করল। আরহাম তার ঠোঁটের কাছে এল, কিন্তু চুমু দিল না। শুধু গরম শ্বাস ফেলল। তারপর সরে গেল। “শোও গিয়ে।”

ইনায়ার শরীরে আগুন জ্বলছিল। সে বিছানায় শুয়ে আরহামের সেই স্পর্শ মনে করছিল। তার হাতের উত্তাপ, তার কণ্ঠের গভীরতা। ইচ্ছা করছিল আরহাম ফিরে আসুক, তাকে জড়িয়ে ধরুক, তার শরীরের প্রতিটি অংশ ছুঁয়ে দেখুক।

পরের দিন সকালে টেবিলে আবার তার প্রিয় খাবার। আরহাম অফিসে। ইনায়া বাড়ির লাইব্রেরিতে ঢুকল। তাকের ওপর পুরোনো ডায়েরি পড়েছিল। একটা খুলে দেখল। আরহামের হাতের লেখা। তার নাম। বহু বছর আগের তারিখ। ইনায়া হতবাক হয়ে পাতা উল্টাতে লাগল। আরহাম তাকে চেনে অনেক আগে থেকে। কিন্তু কীভাবে?

ডায়েরির এক পাতায় লেখা: “আজ তাকে দেখেছি। সে জানে না আমি কে। সেই রাতের কথা সে ভুলে গেছে হয়তো। কিন্তু আমি ভুলিনি।”

ইনায়ার হাত কাঁপতে লাগল। কোন রাত? কোন ঘটনা? সে নিজেও ভুলে গেছে এমন কিছু আরহাম জানে।

সন্ধ্যায় আরহাম ফিরল। ইনায়া ডায়েরি নিয়ে তার সামনে দাঁড়াল। “এটা তোমার?”

আরহামের মুখ শক্ত হয়ে গেল। সে ডায়েরি নিয়ে নিল। “পড়েছ?”

“কিছু অংশ। তুমি আমাকে আগে থেকে চিনতে। কোন রাতের কথা লিখেছ?”

আরহাম কাছে এল। তার শরীরের উত্তাপ আবার ইনায়াকে ঘিরে ধরল। “একদিন বলব। আজ নয়।” তার হাত ইনায়ার চিবুক তুলে ধরল। চোখে চোখ। “তুমি জানতে চাও কেন আমি তোমাকে বিয়ে করেছি, যদিও চাইনি?”

ইনায়া মাথা নাড়ল। আরহাম তার ঠোঁটের ওপর আঙুল রাখল। “কারণ তোমাকে কাছে রাখতে চেয়েছি। কিন্তু কাছে এলেই আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।” তার আঙুল ইনায়ার ঠোঁট স্পর্শ করে নামল গলায়, তারপর কলারের ভিতর। ইনায়ার শ্বাস আটকে গেল। আরহাম তার কানের কাছে ফিসফিস করল, “তোমার শরীর আমাকে পাগল করে। রাতে যখন তুমি ঘুমাও, আমি তোমার পাশে বসে তোমার শ্বাস শুনি। তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছা করে প্রতিটি অংশ।”

ইনায়ার শরীর কাঁপছিল। আরহাম তার কোমর চেপে ধরল, শরীর ঠেস দিল। ইনায়া তার গলায় মুখ রাখল। আরহামের হাত তার পিঠে নামল, নাইটির নিচে ঢুকল। গরম হাতের স্পর্শ ইনায়ার চামড়ায় আগুন ধরিয়ে দিল। আরহাম তার ঘাড়ে চুমু খেল—গভীর, ভিজা, ক্ষুধার্ত। ইনায়া আরহামের চুল আঁকড়ে ধরল। তাদের শরীর জড়িয়ে গেল। আরহামের শক্ত শরীর ইনায়ার নরম শরীরের বিপরীতে চাপ দিচ্ছিল।

হঠাৎ আরহাম সরে গেল। শ্বাস হাঁপাচ্ছিল। “না। আজ নয়। তুমি এখনো জানো না সব।” সে ঘর ছেড়ে চলে গেল।

ইনায়া দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার শরীর এখনো কাঁপছে। আরহামের চুমুর অনুভূতি গলায় জ্বলছে। সে জানত, এই মানুষটার ভিতর গভীর কিছু লুকিয়ে আছে। আর সেটা জানার জন্য তার ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।

পরের কয়েকদিন আরহাম আরও গম্ভীর হয়ে গেল। কিন্তু যত্ন কমল না। ইনায়া অসুস্থ হলে সে পাশে থাকে। সকালের খাবার ঠিকমতো আসে। একদিন ইনায়া বাথরুমে স্লিপ করে পড়ে গেল। আরহাম দৌড়ে এসে তাকে তুলে নিয়ে বিছানায় শোয়াল। তার হাত ইনায়ার পায়ে রেখে ব্যথা মাখছিল। ইনায়ার শরীর আরহামের স্পর্শে কেঁপে উঠছিল। আরহাম মাথা তুলে তাকাল। তাদের চোখ মিলল। কোনো কথা হল না। আরহাম এগিয়ে এসে তার ঠোঁটে চুমু দিল—আস্তে, তারপর গভীর করে। ইনায়ার মুখ খুলে গেল। তাদের জিহ্বা মিলল। আরহামের হাত ইনায়ার কোমর থেকে উপরে উঠল, বুকের ওপর চাপ দিল। ইনায়া আরহামের পিঠে নখ ফোটাল।

আরহাম বিছানায় উঠে এসে ইনায়ার ওপর ঝুঁকল। তার শরীরের ওজন ইনায়াকে চেপে ধরল। ইনায়া তার জিন্সের বোতাম খুলতে গেল। আরহাম থামিয়ে দিল। “আগে সত্যিটা জান।”

সে বিছানা থেকে উঠে ডায়েরি এনে খুলে ধরল। “সাত বছর আগে। তুমি কলেজে পড়তে। এক রাতে তোমার বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে গিয়েছিলে। প্রচুর পান করেছিলে। রাস্তায় একা হয়ে গিয়েছিলে। কয়েকজন লোক তোমাকে ঘিরে ধরেছিল।”

ইনায়ার চোখ বড় হয়ে গেল। সে কিছু মনে করতে পারছিল না।

আরহাম চালিয়ে গেল, “আমি সেখানে ছিলাম। ব্যবসার কাজে। তোমাকে দেখে চিনতে পেরেছিলাম না প্রথমে। কিন্তু যখন তারা তোমার দিকে হাত বাড়াল, আমি থামতে পারিনি। তাদের সরিয়ে দিয়েছিলাম। তোমাকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিলাম। তুমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে। পরের দিন তুমি কিছু মনে করতে পারোনি। আমিও কিছু বলিনি।”

ইনায়া কেঁপে উঠল। “তুমি... তুমি সেই মানুষ?”

আরহাম মাথা নাড়ল। “সেই রাত থেকে আমি তোমাকে দেখতাম। দূর থেকে। তোমার হাসির ছবি মনে রাখতাম। তোমার পছন্দের জিনিস জানতাম। যখন তোমার পরিবার বিয়ের প্রস্তাব দিল, আমি রাজি হয়েছিলাম। কারণ তোমাকে কাছে রাখতে চেয়েছি। কিন্তু আমি জানতাম তুমি আমাকে ভালোবাসো না। তাই বলেছিলাম কিছু আশা করি না।”

ইনায়ার চোখে জল এল। সে আরহামের হাত ধরল। “তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছিলে। আর আমি ভুলে গিয়েছিলাম।”

আরহাম তার গালে হাত রাখল। “এখন জানো। তাই আমি আর নিজেকে আটকে রাখতে চাই না।”

সে ইনায়াকে টেনে নিয়ে চুমু দিল। এবার কোনো বাধা নেই। তাদের শরীর জড়িয়ে গেল। আরহাম ইনায়ার নাইটি খুলে ফেলল। তার হাত ইনায়ার নগ্ন শরীরে ঘুরল—বুক, কোমর, উরু। ইনায়া আরহামের শার্ট খুলে তার বুকের ওপর চুমু খেল। আরহামের শ্বাস ভারী হয়ে গেল। সে ইনায়াকে বিছানায় শুইয়ে তার শরীরের প্রতিটি অংশে চুমু দিতে লাগল। ইনায়ার গোপন জায়গায় তার জিহ্বা পৌঁছাল। ইনায়া চিৎকার চেপে ধরল, আঙুল আরহামের চুলে বিঁধিয়ে দিল।

আরহাম উঠে এসে নিজেকে প্রবেশ করাল। ধীরে, গভীর করে। ইনায়ার শরীর তার শরীরকে গ্রহণ করল। তারা একসঙ্গে নড়তে লাগল। আরহামের চোখ ইনায়ার চোখে। “তুমি আমার,” সে ফিসফিস করল। ইনায়া তার পিঠ আঁকড়ে ধরে উত্তর দিল নিজের শরীর দিয়ে। রাতভর তারা একে অপরকে চেনে নিল—স্পর্শ, চুমু, গভীর মিলন। ঘামে ভেজা শরীর, হাঁপানো শ্বাস, অন্তহীন ক্ষুধা।

সকালে ইনায়া আরহামের বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। আরহাম তার চুলে হাত বোলাচ্ছিল। “এখন আর কোনো দূরত্ব নেই,” সে বলল।

কিন্তু ইনায়ার মনে একটা প্রশ্ন থেকে গেল। ডায়েরিতে আরও কিছু লেখা ছিল যেটা সে পুরোপুরি পড়েনি। আরহাম কি আরও কিছু লুকিয়ে রেখেছে?

কয়েকদিন পর ইনায়া আবার ডায়েরি খুঁজে পেল। আরহাম অফিসে। শেষ পাতায় লেখা: “সে যদি জানত সেই রাতে আমি শুধু তাকে বাঁচাইনি। আমি তার বদলে নিজেকেও বদলে দিয়েছিলাম। সেই লোকগুলোর একজন আমার ব্যবসার শত্রু ছিল। আমি তাকে শেষ করেছিলাম। ইনায়া যদি জানত আমি কতটা অন্ধকার, সে হয়তো ভয় পেত।”

ইনায়ার হাত কাঁপল। আরহাম ফিরে এল সন্ধ্যায়। ইনায়া ডায়েরি হাতে দাঁড়িয়ে। “তুমি মেরেছিলে?”

আরহামের মুখ শক্ত। “হ্যাঁ। তারা তোমাকে নিয়ে যেত। আমি থামতে পারিনি। আমি খুনি। এখনো কি তুমি আমার কাছে থাকবে?”

ইনায়া এগিয়ে গেল। তার হাত আরহামের বুকে রাখল। “তুমি আমাকে বাঁচিয়েছ। আমি ভয় পাই না। আমি তোমাকে চাই।”

আরহাম তাকে জড়িয়ে ধরল। তাদের চুমু আবার আগুন জ্বালাল। এবার আরও গভীর, আরও ক্ষুধার্ত। আরহাম ইনায়াকে দেয়ালে ঠেস দিয়ে তুলে ধরল। তার পা আরহামের কোমরে জড়িয়ে গেল। জামাকাপড় খুলে গেল দ্রুত। আরহাম ইনায়ার ভিতর প্রবেশ করল দাঁড়িয়ে। প্রচণ্ড গতিতে। ইনায়ার নখ তার পিঠে আঁচড় কাটল। তাদের হাঁপানো শব্দ ঘরে ভরে গেল। আরহাম ইনায়ার গলায় কামড় দিল, বুকে চুমু খেল, তারপর আবার গভীর মিলন। ইনায়া চিৎকার করে তার নাম ডাকল। তারা একসঙ্গে শেষ সীমায় পৌঁছাল।

রাতভর তারা থামল না। বিছানায়, মেঝেতে, বারান্দার অন্ধকারে। আরহাম ইনায়ার শরীরের প্রতিটি কোণ আবিষ্কার করল। ইনায়া আরহামের শক্ত শরীরকে গ্রহণ করল বারবার। তাদের ভালোবাসা এখন আর লুকোনো নয়—এটা আগুন, এটা ক্ষুধা, এটা গভীর মিলন।

সকালে আরহাম ইনায়ার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “এবার তুমি আমার স্ত্রী সত্যি সত্যি। আর আমি তোমার স্বামী। কোনো দূরত্ব নেই।”

ইনায়া তার বুকে মুখ রেখে হাঁসল। বাংলাদেশের এই শহরে, এই বাড়িতে, তাদের গল্প এভাবেই পূর্ণ হল—রহস্য খুলে গেল, আর ভালোবাসা জ্বলে উঠল অন্তহীন আগুনে।

প্রতিটি সকালে এখন আরহাম নিজেই ইনায়ার প্রিয় খাবার সাজায়। রাতে তারা একে অপরের শরীরে হারিয়ে যায়। আরহামের গম্ভীর মুখ এখন শুধু ইনায়ার জন্য নরম। আর ইনায়া জানে, এই মানুষটা তাকে বাঁচিয়েছে একবার, আর এখন প্রতিদিন তাকে ভালোবাসে গভীরভাবে, ক্ষুধার্তভাবে, সম্পূর্ণভাবে।

....
👁 11