হৃদয়ের গোপন মিলন

রাতের ঢাকা শহরটা যেন স্বপ্নের মতো জেগে উঠেছিল। আকাশে হালকা বৃষ্টির ছোঁয়া, রাস্তায় নিয়ন আলোর ঝলকানি। সোহান আর আয়েশা দুজনেই অফিস থেকে ফিরছিল। সোহান একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে ডেভেলপার, আয়েশা একই বিল্ডিংয়ের মার্কেটিং টিমে।

kxz

দুজনের প্রথম দেখা হয়েছিল লিফটে। সোহানের হাত থেকে কফির কাপ পড়ে যাচ্ছিল, আয়েশা হাসতে হাসতে ধরে ফেলে বলেছিল, “সাবধান, কফি ছাড়া আপনি বাঁচবেন না তো?” সেই হাসিটা সোহানের বুকে গেঁথে গিয়েছিল।

তারপর থেকে ছোট ছোট কথা। লাঞ্চ টাইমে একসাথে খাওয়া, বৃষ্টিতে ছাতা শেয়ার করা, রাতে মেসেজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা। আয়েশা ছিল স্বপ্নবিলাসী, হাস্যোজ্জ্বল। সোহান ছিল একটু লাজুক, কিন্তু তার চোখে আয়েশার জন্য যে ভালোবাসা জমেছিল, তা আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছিল না।

kx/춺'

একদিন অফিসের ছাদে বৃষ্টির মধ্যে সোহান আর থাকতে পারল না। আয়েশার হাত ধরে বলল, “আয়েশা, আমি তোমাকে অনেকদিন ধরে ভালোবাসি। তোমার হাসি ছাড়া আমার দিন শুরু হয় না।”

আয়েশার চোখে জল চলে এসেছিল। সে সোহানের বুকে মাথা রেখে ফিসফিস করে বলল, “আমিও তো তোমাকে ভালোবাসি, সোহান। অনেকদিন ধরে।”

তারপর শুরু হল তাদের প্রেমের যাত্রা। সপ্তাহান্তে লেকের ধারে হাঁটা, গান শোনা, একে অপরের স্বপ্ন শেয়ার করা। কিন্তু বাধাও ছিল। আয়েশার বাবা-মা ছিলেন খুব রক্ষণশীল। তারা চাইতেন না মেয়ে কোনো “চাকরি করা ছেলে”র সাথে জড়াক। সোহানের পরিবারও ছিল দূরের গ্রামে।

কিন্তু ভালোবাসা যখন সত্যি হয়, তখন পৃথিবীও পথ করে দেয়।

এক বছর পর।

চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকতে সূর্যাস্তের সময়। লাল-কমলা আকাশের নিচে সোহান হাঁটু গেড়ে বসল। তার হাতে একটা ছোট্ট নীল বাক্স।

“আয়েশা, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়। আমার সাথে সারাজীবন চলবে?”

আয়েশার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল পড়ছিল। সে হাসতে হাসতে মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ… হ্যাঁ… হাজার বার হ্যাঁ!”

সেই রাতে তারা সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে একে অপরের কাছে সম্পূর্ণ হয়ে গেল। নরম চুমু, আলিঙ্গন, আর অসীম ভালোবাসায় দুটো শরীর-মন এক হয়ে গেল। আয়েশা সোহানের বুকে মাথা রেখে ফিসফিস করে বলল, “এই মুহূর্তটা আমি চিরকাল মনে রাখব।”

সোহান তার চুলে চুমু খেয়ে বলল, “এটা শুরু মাত্র। আমাদের সারা জীবনটা এরকমই হবে।”

দুজনের প্রেমের মিলন হয়েছিল শুধু শরীরে নয়, দুটো আত্মায়। বাধা পেরিয়ে, সমাজের চাপ সামলে তারা একসাথে নতুন জীবন শুরু করল।

....
👁 414