প্রেমের চিরকালীন বাঁধন

রাতের আকাশে তারার মেলা বসেছে। ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা থেকে দূরে, গুলশানের একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আয়েশা চুপচাপ তাকিয়ে ছিল। তার পরনে হালকা সিল্কের নাইটি, চুল খোলা, হাওয়ায় উড়ছে। পাশে রাহাত এসে দাঁড়াল। তার হাতটা আয়েশার কোমরে জড়িয়ে ধরল নিঃশব্দে।

kxz

“আজও কি সেই স্বপ্নটা দেখলি?” রাহাতের গলা নরম, গভীর।

আয়েশা মাথা নেড়ে সায় দিল। “হ্যাঁ। সেই একই স্বপ্ন। আমরা দুজন, কোনো একটা পুরনো বাড়ির বাগানে। তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে আছো। আর বলছো, ‘এই আলিঙ্গন চিরকালের।’”

kx/춺'

রাহাত হাসল। তার ঠোঁট আয়েশার কপালে ছুঁয়ে গেল। “তাহলে আজ রাতে সেই আলিঙ্গনটাই বাস্তবে করে দেই?”

তাদের গল্পটা শুরু হয়েছিল অনেক আগে।

রাহাত আর আয়েশা। দুজনের পরিচয় একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে। আয়েশার বড় বোনের বিয়েতে রাহাত ছিল বরের বন্ধু। সেই প্রথম দেখা। আয়েশা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী। রাহাত একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ। চোখাচোখি হতেই দুজনের মনে একটা অদ্ভুত টান। কথা বলতে বলতে রাত কেটে গিয়েছিল। তারপর ফোন, মেসেজ, কফি ডেট। এক বছরের মধ্যেই বিয়ে।

বিয়ের পর প্রথম কয়েকটা বছর ছিল স্বপ্নের মতো। রাহাতের চাকরির কারণে তারা প্রায়ই ঘুরে বেড়াতো—কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম। প্রতিটা ট্রিপে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হতো। কিন্তু জীবন সবসময় মসৃণ থাকে না। রাহাতের চাকরির চাপ বাড়তে থাকল। আয়েশা চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে থাকতে শুরু করল। ছোট্ট একটা মেয়ে হলো—নাম রাখলেন ‘নূর’।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দূরত্ব বাড়তে লাগল। রাহাত রাত করে বাড়ি ফিরত, আয়েশা একা একা বসে থাকত। ঝগড়া হতো। কখনো কখনো রাহাত বলত, “তুই বুঝিস না আমার চাপটা।” আয়েশা চুপ করে কাঁদত।

একদিন সবকিছু ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল। রাহাতের অফিসের একটা প্রজেক্টের জন্য তাকে তিন মাসের জন্য সিঙ্গাপুর যেতে হবে। বিদায়ের দিন আয়েশা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরে কানে কানে বলেছিল, “আমি ফিরে আসব। আর এই আলিঙ্গনটা কখনো ছাড়ব না। চিরকালের।”

সেই আলিঙ্গনের স্মৃতি নিয়েই আয়েশা অপেক্ষা করেছিল।

তিন মাস পর রাহাত ফিরল। কিন্তু সে আর আগের মতো ছিল না। চোখে ক্লান্তি, মুখে চাপ। আয়েশা বুঝতে পারছিল, কিছু একটা ভুল হয়ে গেছে। রাতে শোবার ঘরে আলো নিভিয়ে দুজনে পাশাপাশি শুয়ে ছিল। কোনো কথা নেই। আয়েশা হাত বাড়িয়ে রাহাতের বুকে রাখল।

“কী হয়েছে তোমার?”

রাহাত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম আয়েশা। ভেবেছিলাম তুমি হয়তো আমাকে আর চাও না। এতদিন একা থেকে…”

আয়েশা উঠে বসল। তার চোখে জল। “তুমি কী বলছো? আমি তো তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। প্রতি রাতে সেই স্বপ্ন দেখি—তোমার আলিঙ্গন।”

রাহাতও উঠে বসল। তার হাত আয়েশার গালে। আস্তে আস্তে ঠোঁটের কাছে নামল। চুমু। প্রথমে নরম, তারপর গভীর। আয়েশার শরীর কেঁপে উঠল। অনেকদিন পর দুজনের শরীর এক হয়ে গেল। রাহাতের হাত আয়েশার নাইটির ভিতরে ঢুকে গেল। তার নরম স্তন দুটো আলতো করে চেপে ধরল। আয়েশা ফিসফিস করে বলল, “আরও জোরে… আমাকে পুরোপুরি নাও।”

রাহাত আয়েশাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। তার ঠোঁট আয়েশার গলা, কাঁধ, বুকের উপর ঘুরে বেড়াতে লাগল। আয়েশার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল। সে রাহাতের প্যান্টের বোতাম খুলে ফেলল। তার শক্ত লিঙ্গটা হাতে নিয়ে আলতো করে ঘষতে লাগল। রাহাত গোঙিয়ে উঠল। “আয়েশা… তুমি আমার সব।”

দুজনের শরীর এক হয়ে গেল। রাহাত আয়েশার ভিতরে ঢুকে গেল ধীরে ধীরে। আয়েশা তার পা দুটো রাহাতের কোমরে জড়িয়ে ধরল। তাদের গতি বাড়তে লাগল। ঘামে ভিজে যাচ্ছিল দুজনের শরীর। আয়েশা চিৎকার করে উঠল, “আরও গভীরে… চিরকালের মতো আমাকে ভরে দাও।”

অর্গাজমের পর দুজনে জড়াজড়ি করে শুয়ে রইল। রাহাত আয়েশার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। “এই আলিঙ্গনটা সত্যিই চিরকালের। আর কখনো ছাড়ব না।”

কিন্তু জীবন আরও পরীক্ষা নেবে।

পরের বছর রাহাতের কোম্পানি রিস্ট্রাকচারিং করল। রাহাতের চাকরি চলে গেল। বাড়িতে অর্থকষ্ট শুরু হলো। আয়েশা আবার চাকরিতে যোগ দিল। নূরকে স্কুলে দিয়ে দুজনে সংসার চালাতে লাগল। ঝগড়া আবার বাড়ল। একদিন রাহাত রাগ করে বলে ফেলল, “তুমি শুধু টাকার কথা ভাবো। ভালোবাসা কোথায় গেল?”

আয়েশা কেঁদে ফেলল। “তুমিই তো আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে মনে মনে।”

সেই রাতে দুজনে আলাদা শুয়েছিল। কিন্তু মাঝরাতে আয়েশা উঠে রাহাতের কাছে চলে গেল। তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমাকে ছেড়ো না। আমরা একসাথে সব পারব।”

রাহাত তাকে কাছে টেনে নিল। সেই রাতে আবার তাদের শরীর মিলিত হলো। কিন্তু এবার শুধু শারীরিক নয়, আত্মার মিলন। রাহাত আয়েশার কানে কানে বলছিল, “তুমি আমার চিরকালের আলিঙ্গন।”

পরের কয়েক মাস ছিল কঠিন। রাহাত নতুন ব্যবসা শুরু করল—একটা ছোট অনলাইন মার্কেটিং এজেন্সি। আয়েশা তার চাকরির পাশাপাশি তাকে সাহায্য করতে লাগল। রাত জেগে কাজ করত দুজনে। কখনো কখনো কাজের ফাঁকে চুমু খেত, জড়িয়ে ধরত। নূর ঘুমিয়ে পড়লে দুজনে বারান্দায় বসে চা খেত আর পুরনো দিনের কথা বলত।

একদিন বৃষ্টির রাতে বিদ্যুৎ চলে গেল। ঘর অন্ধকার। নূর ঘুমিয়ে আছে। রাহাত মোমবাতি জ্বালাল। আয়েশাকে কাছে টেনে নিল। “আজকে তোমাকে আবার নতুন করে চিনতে চাই।”

আয়েশা হাসল। তার নাইটি খুলে ফেলল নিজেই। তার নগ্ন শরীর মোমবাতির আলোয় চকচক করছিল। রাহাত তার স্তন চুষতে লাগল। আয়েশা তার মাথা চেপে ধরল। তারপর নিচে নেমে রাহাতের লিঙ্গ মুখে নিল। ধীরে ধীরে চুষতে লাগল। রাহাতের গোঙানি বাড়তে লাগল।

“আয়েশা… আমি আর পারছি না।”

রাহাত তাকে উপরে তুলে নিল। আয়েশা তার উপর চড়ে বসল। তার ভিতরে রাহাতের শক্ত লিঙ্গ ঢুকে গেল। আয়েশা উপর-নিচ করতে লাগল। তার স্তন দুলছিল। রাহাত দুই হাতে সেই স্তন চেপে ধরে চুমু খাচ্ছিল। দুজনের শরীর একসাথে কেঁপে উঠল অর্গাজমে।

বৃষ্টির শব্দের সাথে তাদের নিঃশ্বাস মিশে গেল।

ব্যবসা ধীরে ধীরে ভালো হতে লাগল। তারা নতুন ফ্ল্যাট কিনল। নূর বড় হচ্ছিল। কিন্তু তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছিল। প্রতি বছর তাদের অ্যানিভার্সারিতে তারা কোথাও ঘুরতে যেত। একবার সিলেটের চা বাগানে গিয়েছিল। সেখানে একটা ছোট কটেজে রাত কাটিয়েছিল। পুরো রাত জুড়ে শুধু ভালোবাসা আর শরীরের মিলন।

রাহাত আয়েশাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “দেখো, এই আলিঙ্গন চিরকালের। কোনো দূরত্ব, কোনো সমস্যা এটাকে ভাঙতে পারবে না।”

বছর গড়িয়ে গেল। নূর যখন ক্লাস টেনে পড়ছে, তখন রাহাতের হার্ট অ্যাটাক হলো। হাসপাতালে আয়েশা দিনরাত তার পাশে বসে ছিল। ডাক্তার বলল, “অনেক স্ট্রেস নিয়েছেন।”

আয়েশা কাঁদতে কাঁদতে রাহাতের হাত ধরে বলল, “তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না। আমরা এখনও অনেক কিছু করব।”

রাহাত চোখ খুলে হাসল। “আমি যাব না। তোমার আলিঙ্গন ছেড়ে কোথায় যাব?”

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠল রাহাত। তারপর থেকে তারা আরও সাবধানে জীবন কাটাতে লাগল। রাহাত ব্যবসা কমিয়ে দিল। আয়েশা পার্ট টাইম চাকরি করত। সন্ধ্যায় দুজনে হাঁটতে বের হতো। হাত ধরে হাঁটত। বাড়ি ফিরে নূরের সাথে খেলত। রাতে জড়াজড়ি করে শুত।

একদিন আয়েশা বলল, “আমাদের গল্পটা লিখে রাখি। নাম দেই ‘চিরকালের আলিঙ্গন’।”

রাহাত হাসল। “হ্যাঁ। কারণ এই আলিঙ্গন সত্যিই চিরকালের।”

তাদের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই আলিঙ্গন অটুট ছিল। বৃদ্ধ বয়সে যখন দুজনে পাশাপাশি বসে সূর্যাস্ত দেখত, তখনও হাতে হাত রেখে থাকত। নূর তাদের দেখে শিখত ভালোবাসা কী।

চিরকালের আলিঙ্গন শুধু শরীরের নয়, আত্মারও। যে আলিঙ্গন কোনো মৃত্যু, কোনো দূরত্ব ভাঙতে পারে না।

 

....
👁 73