ট্রেনের রোমান্টিক যাত্রা

রাত নয়টা। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন গমগম করছে। আসন্ন ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি ফিরছে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে সুবর্ণ এক্সপ্রেস। আরিফ হাতে টিকিট নিয়ে কোচ এস-৭ এ উঠল। সিট নাম্বার ৩২, লোয়ার বার্থ। ব্যাগটা রেখে জানালার পাশে বসল সে। বয়স ২৮। ঢাকার একটা আইটি কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। চট্টগ্রামে মায়ের কাছে যাচ্ছে কয়েকদিনের ছুটিতে।

kxz

ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর একটা মেয়ে এসে তার সামনের সিটে বসল। সিট নাম্বার ৩১, আপার বার্থ। মেয়েটার নাম পরে জানা যাবে—নামিয়া। বয়স ২৪। চট্টগ্রামের একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ করছে। লম্বা চুল, ফর্সা গায়ের রং, চোখে সামান্য কাজল, পরনে সাদা সালোয়ার কামিজ। তার হাসিতে যেন পুরো কোচ আলোকিত হয়ে উঠল।

“ভাইয়া, আপনি কি এই সিটে?” নামিয়া জিজ্ঞাসা করল নরম গলায়।

kx/춺'

আরিফ মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ। আপনি আরাম করে বসুন।”

ট্রেন চলতে শুরু করল। রাতের অন্ধকারে বাইরের দৃশ্য ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। আরিফ বই পড়ছিল, কিন্তু মাঝে মাঝে চোখ চলে যাচ্ছিল নামিয়ার দিকে। মেয়েটা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে, তার চুল উড়ছে হাওয়ায়।

রাত সাড়ে দশটার দিকে খাবারের ট্রলি এল। আরিফ দুটো খাবার নিল। একটা নামিয়াকে দিয়ে বলল, “খেয়ে নিন। ট্রেন জার্নিতে খিদে পায়।”

নামিয়া লজ্জা পেয়ে হাসল। “থ্যাংক ইউ ভাইয়া।”

খাওয়ার পর তারা কথা বলতে শুরু করল। আরিফ বলল তার চাকরির কথা, ঢাকার ব্যস্ত জীবনের কথা। নামিয়া বলল তার পড়াশোনা, চট্টগ্রামের সমুদ্র, পাহাড়ের গল্প। কথায় কথায় রাত দুটো বেজে গেল। কোচের বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে পড়েছে।

নামিয়া আপার বার্থে উঠতে গিয়ে পা পিছলে গেল। আরিফ তাড়াতাড়ি ধরে ফেলল তার কোমর। সেই মুহূর্তে দুজনের চোখাচোখি হলো। নামিয়ার গাল লাল হয়ে গেল। আরিফের হৃদয়টা ধক করে উঠল।

“সরি...” নামিয়া ফিসফিস করে বলল।

“কোনো সমস্যা নেই। সাবধানে উঠুন।” আরিফের হাত এখনো তার কোমরে। নরম, উষ্ণ শরীর। কয়েক সেকেন্ড পর হাত সরিয়ে নিল সে।

রাত গভীর হলো। আরিফ নিচে শুয়ে আছে, নামিয়া উপরে। কিন্তু ঘুম আসছে না কারোরই। নামিয়া নিচে ঝুঁকে বলল, “ভাইয়া, আপনার নাম কি?”

“আরিফ। আর তোমার?”

“নামিয়া।”

এরপর থেকে তারা ‘তুমি’তে নেমে গেল। কথা বলতে বলতে ভোর হয়ে গেল। ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাল সকাল সাড়ে ছয়টায়।

স্টেশনে নামার সময় নামিয়া বলল, “আরিফ ভাইয়া, তোমার নাম্বারটা দাও। চট্টগ্রামে থাকলে একদিন দেখা করব।”

আরিফ নাম্বার দিল। হার্টটা অদ্ভুতভাবে দ্রুত বাড়ছে।

চট্টগ্রামে পৌঁছে আরিফ তার মায়ের বাসায় উঠল। কিন্তু মনটা পড়ে আছে নামিয়ার কথায়। দুদিন পর তার ফোন এল।

“আরিফ, আজ সমুদ্রে যাবে? আমি পতেঙ্গায় আছি।”

আরিফ চলে গেল। সেখানে নামিয়া সাদা ড্রেস পরে দাঁড়িয়ে। সমুদ্রের ঢেউ, হাওয়া, আর তাদের হাসি। সারাদিন তারা হাঁটল, আইসক্রিম খেল, ছবি তুলল। সূর্য ডোবার সময় নামিয়া আরিফের কাঁধে মাথা রাখল।

“আমার খুব ভালো লাগছে তোমার সাথে,” নামিয়া ফিসফিস করে বলল।

আরিফ তার হাত ধরল। “আমারও।”

সেই রাতে তারা পার্কে বসে অনেকক্ষণ কথা বলল। নামিয়া বলল তার বাবা খুব কড়া, কোনো ছেলের সাথে কথা বলতে দেয় না। আরিফ বলল তারও পরিবার চায় শীঘ্রই বিয়ে করতে। কিন্তু তারা দুজনই বুঝল, এটা সাধারণ আকর্ষণ নয়। এটা প্রেম।

পরের কয়েক সপ্তাহ তারা গোপনে দেখা করতে লাগল। কখনো কর্ণফুলী নদীর পাড়ে, কখনো সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে। একদিন বৃষ্টিতে ভিজে তারা একটা ছোট্ট রেস্টুরেন্টে আশ্রয় নিল। ভিজে কাপড়ে নামিয়ার শরীরের আদল স্পষ্ট। আরিফের চোখ আটকে গেল। নামিয়া লজ্জায় মাথা নিচু করল কিন্তু হাত দিয়ে আরিফের হাত চেপে ধরল।

“আমাকে জড়িয়ে ধরো,” নামিয়া বলল।

আরিফ তাকে জড়িয়ে ধরল। তাদের শরীর এক হয়ে গেল। বৃষ্টির শব্দের সাথে তাদের হৃদয়ের শব্দ মিশে গেল। আরিফ নামিয়ার কপালে চুমু খেল, তারপর ঠোঁট। প্রথম চুমু। নরম, গভীর, আবেগে ভরা। নামিয়ার হাত আরিফের পিঠে চলে গেল। তারা অনেকক্ষণ চুমু খেল।

সেই রাতে প্রথমবার তাদের শরীর একে অপরের কাছে সম্পূর্ণ হয়ে গেল। নামিয়ার ঘর খালি ছিল। তারা আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। আরিফ নামিয়ার সালোয়ারের ফিতা খুলল ধীরে ধীরে। তার নরম ত্বক, উষ্ণ শ্বাস, আর আবেগের ঢেউ। নামিয়া আরিফকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

তাদের মিলন ছিল ধীর, রোমান্টিক, ভালোবাসায় ভরা। প্রতিটা স্পর্শে, প্রতিটা চুমুতে তারা একে অপরকে অনুভব করছিল। ঘামে ভেজা শরীর, জড়াজড়ি, আর অস্ফুট আর্তনাদ। রাত শেষ হয়ে গেল কিন্তু তাদের প্রেম শুরু হলো নতুন করে।

কিন্তু সুখ সবসময় স্থায়ী হয় না। নামিয়ার বাবা জানতে পারলেন। তিনি খুব রাগী মানুষ। আরিফকে ডেকে বললেন, “তুমি আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করবে না।”

নামিয়া কাঁদতে কাঁদতে বলল, “বাবা, আমি আরিফকে ছাড়া বাঁচব না।”

আরিফ তার মা-বাবার কাছে সব খুলে বলল। প্রথমে তারা রাজি হয়নি। কিন্তু আরিফের জেদ দেখে শেষে রাজি হলো।

দুই মাস পর একটা সুন্দর অনুষ্ঠানে তাদের বিয়ে হলো। চট্টগ্রামের সমুদ্রের ধারে। সবাই হাসিমুখে। নামিয়া লাল বেনারসি পরে, আরিফ তার পাশে।

বিয়ের পর তারা ঢাকায় নতুন ফ্ল্যাট নিল। প্রতি সন্ধ্যায় আরিফ অফিস থেকে ফিরলে নামিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে। রাতে তারা একে অপরের শরীরে হারিয়ে যায়। কখনো নরম চুমু, কখনো উন্মাদনা। নামিয়ার শরীর আরিফের কাছে স্বর্গ। আরিফের বুকে মাথা রেখে নামিয়া বলে, “তুমি আমার সব।”

একদিন নামিয়া বলল, “আমি মা হতে চলেছি।”

আরিফ আনন্দে তাকে তুলে ঘুরাল। তাদের প্রেম এখন তিনজনের হয়ে গেল।

বছর গড়াল। তারা এখনো প্রতি মাসে চট্টগ্রাম যায়। সমুদ্রের ধারে বসে হাত ধরে বসে থাকে। সেই ট্রেন জার্নির কথা মনে করে হাসে।

....
👁 153