জানালার ধারে প্রেম

রাত তখন গভীর। ঢাকার বাইরে একটা ছোট্ট গ্রামের বাড়িতে, জানালা দিয়ে হাওয়া আসছিল ফুলের গন্ধ মাখা। আমি (রাফান) আর তুমি (আয়েশা), বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে আছি। তোমার মাথা আমার বুকে, চুলগুলো ছড়িয়ে আছে আমার হাতে। তোমার নিঃশ্বাসের সাথে আমার হৃদয়ের তাল মিলছে। এই মুহূর্তটা যেন চিরকালের জন্য থেমে গেছে।

kxz

আমাদের প্রেমের শুরু ছিল অনেক আগে। তখন তুমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্রী। আমি একটা ছোট সফটওয়্যার কোম্পানিতে জুনিয়র ডেভেলপার। গাজীপুরের সেই বাস স্ট্যান্ডে প্রথম দেখা। বৃষ্টিতে ভিজে তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে, হাতে একটা লাল ছাতা যেটা হাওয়ায় উলটে যাচ্ছিল। আমি ছুটে গিয়ে তোমাকে ছাতার নিচে টেনে নিয়েছিলাম। সেই মুহূর্তে তোমার চোখে যে হাসি ফুটে উঠেছিল, সেটা আজও আমার মনে আঁকা আছে।

“আপনি কে?” তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে লজ্জায়। “যে তোমার ছাতাটা বাঁচাতে চায়,” আমি হেসে বলেছিলাম।

kx/춺'

সেই থেকে আমাদের কথা শুরু। প্রথমে মেসেজ, তারপর কল, তারপর গাজীপুরের পার্কে দেখা। তুমি তোমার স্বপ্নের কথা বলতে — শিক্ষক হতে চাও, গ্রামের মেয়েদের পড়াতে চাও। আমি বলতাম আমার স্বপ্নের কথা — একটা নিজস্ব কোম্পানি করব, যেখানে তুমি আমার পাশে থাকবে।

একদিন বৃষ্টির দিনে আমরা রিকশায় করে ঘুরছিলাম। তোমার ভিজে যাওয়া শাড়ির আঁচল আমার কাঁধে পড়েছিল। আমি তোমার হাত ধরে বললাম, “আয়েশা, আমি তোমাকে ভালোবাসি। চিরকাল তোমার সাথে থাকতে চাই।” তুমি লজ্জায় মুখ লুকিয়েছিলে আমার বুকে, কিন্তু তোমার হাতের চাপ বলে দিয়েছিল তোমার উত্তর।

বিয়ে হয়েছিল সেই বছরই। সাদামাটা অনুষ্ঠান, কিন্তু তোমার মুখে যে আলো ছিল, সেটা সবচেয়ে দামি। বিয়ের পর আমরা গাজীপুরের ছোট্ট ফ্ল্যাটে উঠলাম। সকালে তুমি চা বানিয়ে দিতে, আমি তোমার কপালে চুমু খেয়ে অফিস যেতাম। রাতে ফিরে তোমাকে জড়িয়ে ধরে বলতাম, “আজকের সব ক্লান্তি তোমার কাছে এসে মিলিয়ে যায়।”

কিন্তু প্রেম তো শুধু মধুর নয়। একবার আমার চাকরি চলে গিয়েছিল। কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেল। টাকার টানাটানি। তুমি তখন প্রাইভেট টিউশনি শুরু করলে। রাত জেগে আমাকে বলতে, “চিন্তা করো না রাফান। আমরা একসাথে আছি, এটাই যথেষ্ট।” সেই রাতে তোমাকে জড়িয়ে আমি কেঁদেছিলাম। তোমার বুকে মুখ গুঁজে বলেছিলাম, “তুমি না থাকলে আমি কিছুই না।”

সেই কষ্টের দিনগুলোতে আমাদের প্রেম আরও গভীর হয়েছিল। আমরা একসাথে রান্না করতাম। তুমি আমাকে হাসাতে হাসাতে বলতে, “তোমার হাতের মাছের ঝোলটা তো আমার চেয়ে ভালো হয়!” আমি তোমার কোমর জড়িয়ে পেছন থেকে চুমু খেতাম। রান্নাঘরে সেই ছোট্ট জায়গাটায় আমাদের হাসি আর চুমুর শব্দ মিশে যেত।

একদিন তুমি বললে, “আমরা একটা বাচ্চা নিই।” তোমার চোখে সেই স্বপ্ন দেখে আমার বুক ভরে গিয়েছিল। নয় মাস ধরে তোমার যত্ন করেছি। রাতে ঘুম না হলে তোমার পা টিপে দিতাম। তুমি আমার হাত ধরে বলতে, “তুমি আছো বলে সব সহ্য করা যায়।”

আমাদের ছোট্ট মেয়ে এলো যখন, তার নাম রাখলাম “নূর”। তোমার চোখের মতোই সুন্দর। রাতে নূর কাঁদলে আমরা দুজনে জেগে থাকতাম। তুমি নূরকে বুকে নিয়ে গান গাইতে, আমি তোমাদের দুজনকে জড়িয়ে ধরে থাকতাম। সেই মুহূর্তগুলোতে মনে হতো — এটাই স্বর্গ।

এখন আমরা গাজীপুরের একটা ছোট বাড়িতে থাকি। সামনে ছোট্ট বাগান। সন্ধ্যায় আমরা দুজনে বসে চা খাই। তুমি তোমার মাথা আমার কাঁধে রেখে বলো, “রাফান, আমাদের প্রেমটা কখনো পুরনো হবে না, তাই না?” আমি তোমার চুলে আঙুল চালিয়ে বলি, “কখনো না। তুমি আমার প্রথম, শেষ আর চিরকালের ভালোবাসা।”

আমাদের প্রেমের মধ্যে অনেক ছোট ছোট মুহূর্ত আছে। যেমন সেই দিনটা, যখন আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনে গিয়েছিলাম। ট্রেনের জানালায় মাথা রেখে তুমি ঘুমিয়ে পড়েছিলে। আমি তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছিলাম। সমুদ্রের ধারে হাঁটতে হাঁটতে তোমার হাত ধরে বলেছিলাম, “এই পৃথিবীতে তোমার সাথে হাঁটতে পারলে সব পথ সুন্দর।”

রাতে হোটেলের ঘরে, জানালা দিয়ে সমুদ্রের শব্দ আসছিল। তুমি আমার বুকে শুয়ে ফিসফিস করে বলেছিলে, “আমাকে আরও কাছে টেনে নাও।” আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলাম। তোমার ঠোঁটের স্বাদ, তোমার শরীরের উষ্ণতা — সবকিছু যেন আমাকে বলছিল, এই নারীটাই আমার জীবন। আমাদের শরীর এক হয়ে গিয়েছিল সেই রাতে, প্রেমের গভীরতায়। তোমার নিঃশ্বাস আমার নাম ধরে ডাকছিল, আর আমি তোমার নাম নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছিলাম।

পরদিন সকালে সূর্য ওঠার আগেই আমরা সমুদ্রের ধারে গিয়েছিলাম। তুমি খালি পায়ে বালিতে হাঁটছিলে, শাড়ির আঁচল উড়ছিল। আমি পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম, “তুমি আমার সব।”

আমাদের প্রেমে ঝগড়াও হয়েছে। তুমি রাগ করে মুখ ফিরিয়ে থাকো, আমি তোমার পেছনে ঘুরে ঘুরে ক্ষমা চাই। একবার তুমি খুব রেগে গিয়ে বলেছিলে, “তুমি আমাকে সময় দাও না!” আমি সারা রাত জেগে তোমার জন্য চিঠি লিখেছিলাম। সকালে তোমার হাতে দিয়ে বলেছিলাম, “প্রতিটা মুহূর্ত তোমার জন্য।” তুমি কেঁদে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলে। সেই রাতে আমাদের মিলন হয়েছিল আরও গভীরভাবে। তোমার শরীর আমার শরীরের সাথে মিশে গিয়েছিল, যেন আমরা একই আত্মা।

নূর যখন বড় হচ্ছে, আমরা তাকে আমাদের প্রেমের গল্প শোনাই। সে হেসে বলে, “আব্বু আম্মু তোমরা খুব ভালোবাসো!” আমরা হেসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিই।

 

....
👁 300