ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় বৃষ্টি পড়ছিল। জুন মাসের ভ্যাপসা গরমে হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে সবাই ছুটোছুটি করছিল। রিয়া ছাতা ভুলে গিয়ে শাহবাগের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভিজছিল। তার সাদা সালোয়ার কামিজ ভিজে শরীরের সাথে লেপটে গিয়েছিল। চুল থেকে পানি ঝরছিল।
ঠিক তখনই একটা কালো ছাতা তার মাথার উপর এসে দাঁড়াল।
“ভিজে যাচ্ছেন কেন? নিন, ছাতাটা নিন।” গলাটা গভীর, কিন্তু মিষ্টি।
রিয়া মুখ তুলে তাকাল। ছেলেটার চোখ দুটো বড় বড়, কালো চশমার নিচে। গায়ের রং ময়লা ফর্সা, চুল এলোমেলো। হাসিটা লাজুক।
“থ্যাঙ্ক ইউ... কিন্তু আপনি?”
“আমি ঠিক আছি। আমার অফিস আর দুই মিনিটের রাস্তা। আপনি কোথায় যাবেন?”
“নিউ মার্কেট।”
“চলুন, আমিও ওদিকেই।”
নাম তার আরিফ। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। চট্টগ্রামের ছেলে, ঢাকায় চাকরি করছে। রিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী।
সেই ছাতার নিচে হাঁটতে হাঁটতে দুজনের কথা শুরু হলো। বৃষ্টি, ট্রাফিক, কফি শপ, বইয়ের দোকান—সবকিছু মিলে একটা ছোট্ট জাদু তৈরি হলো
সেই রাতেই ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। আরিফের প্রোফাইল দেখে রিয়া হাসল। প্রোফাইল পিকচারে সে সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে। ক্যাপশন: “চট্টগ্রামের সমুদ্র যেমন ডাকে, তেমনি ঢাকার বৃষ্টিও ডাকতে পারে।”
মেসেজ এলো: “আজকের ছাতাটা ফেরত দিতে হবে না। শুধু এক কাপ কফি খাওয়ালেই চলবে। ☕”
রিয়া জবাব দিল: “কবে?”
“কাল সন্ধ্যায়? শাহবাগের সেই কফি শপে?”
পরের দিন তারা দেখা করল। কথা বলতে বলতে সময় কোথা দিয়ে কেটে গেল। আরিফ বলল তার গ্রামের কথা—চট্টগ্রামের পাহাড়ি রাস্তা, মায়ের হাতের মাছের ঝোল, বাবার চা বাগান। রিয়া বলল তার ছোটবেলার কথা—ঢাকার পুরানো বাড়ি, বাবার বইয়ের লাইব্রেরি, মায়ের গান।
দুজনের চোখে চোখ পড়লেই একটা অদ্ভুত শিহরণ হতো
দিন যায়, মাস যায়। তারা প্রায় প্রতিদিন দেখা করত। কখনো বুক ফেয়ারে, কখনো হাতিরঝিলের ধারে, কখনো রাতের ঢাকায় লং ড্রাইভে।
একদিন বিকেলে হাতিরঝিলে বসে আরিফ হঠাৎ রিয়ার হাত ধরল।
“রিয়া, আমি তোমাকে খুব পছন্দ করি। না... পছন্দের চেয়েও বেশি। তোমার সাথে থাকলে মনে হয় পুরো পৃথিবীটা শান্ত হয়ে যায়।”
রিয়ার গাল লাল হয়ে গেল। চোখ নামিয়ে বলল, “আমিও... তোমাকে ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারি না।”
প্রথম চুমু। হালকা, ভয়ে ভয়ে, কিন্তু পুরো হৃদয় জুড়ে। হাতিরঝিলের পানিতে সূর্যাস্তের আলো পড়ছিল। দুজনের ছায়া এক হয়ে গিয়েছিল।
আরিফের অফিসের প্রজেক্টের জন্য তাকে দুই মাসের জন্য চট্টগ্রামে যেতে হলো। রিয়া ঢাকায় একা। প্রতি রাতে ভিডিও কল।
“তোমাকে খুব মিস করছি,” আরিফ বলত। “আমিও। তোমার গায়ের গন্ধটা এখনো নাকে লেগে আছে,” রিয়া লজ্জায় হাসত।
এক রাতে আরিফ বলল, “রিয়া, আমি তোমাকে ছুঁতে চাই। তোমার ঠোঁট, তোমার চুল, তোমার পুরো শরীর...”
রিয়ার শরীরে শিহরণ খেলে গেল। সে ফিসফিস করে বলল, “আমিও চাই... খুব করে চাই।”
দূরত্ব তাদের আকাঙ্ক্ষাকে আরও তীব্র করে তুলল।
দুই মাস পর আরিফ ফিরল। রিয়াকে নিয়ে সোজা চট্টগ্রাম চলে গেল। তার গ্রামের বাড়িতে নয়, সমুদ্রের কাছে একটা রিসোর্টে।
সকালে সমুদ্রের ধারে হাঁটতে হাঁটতে আরিফ রিয়াকে জড়িয়ে ধরল। ঢেউয়ের শব্দ, নোনা হাওয়া, দুজনের শরীর একে অপরের সাথে লেপটে।
রাতে রুমে ফিরে আরিফ দরজা বন্ধ করল। আলো নিভিয়ে শুধু টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে রাখল।
“রিয়া... আজ তোমাকে পুরোপুরি চাই।”
রিয়া লজ্জায় মাথা নিচু করল, কিন্তু চোখে সম্মতি।
আরিফ ধীরে ধীরে তার সালোয়ার কামিজ খুলে দিল। তার নরম ত্বক, উষ্ণ শ্বাস, কাঁপা ঠোঁট। চুমু থেকে চুমুতে তারা হারিয়ে গেল। আরিফের ঠোঁট রিয়ার গলা, কাঁধ, বুকের উপর নেমে এল। রিয়া আঁকড়ে ধরল তার পিঠ।
“আরিফ... আমাকে তোমার করে নাও।”
তারা এক হয়ে গেল। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো তাদের শরীর উঠল-নামল। আনন্দের তরঙ্গে দুজনেই ভেসে গেল। ঘাম, নিঃশ্বাস, ফিসফিসানি, আর ভালোবাসার অপূর্ব মিশ্রণ।
সেই রাতে তারা বারবার একে অপরকে আবিষ্কার করল। কখনো আস্তে, কখনো তীব্রভাবে। রিয়া আরিফের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল। আরিফ তার চুলে আঙুল বুলিয়ে দিতে দিতে ফিসফিস করল, “তুমি আমার জীবন।”
ঢাকায় ফিরে সমস্যা শুরু হলো। রিয়ার বাবা চাইতেন না চট্টগ্রামের ছেলের সাথে বিয়ে। “আমাদের মেয়েকে ঢাকায়ই রাখব।”
আরিফের পরিবারও প্রথমে রাজি ছিল না। কিন্তু দুজনের ভালোবাসা এতটাই গভীর যে তারা দুজনেই বাড়ির সাথে লড়াই করল।
রিয়া তার মাকে বলল, “মা, আরিফ ছাড়া আমি বাঁচব না।”
আরিফ তার বাবাকে বলল, “বাবা, রিয়া আমার অর্ধেক আত্মা।”
অবশেষে দুই পরিবার রাজি হলো। ছোট করে একটা আয়োজন। চট্টগ্রামের সমুদ্রের ধারে বিয়ের আসর। রিয়া লাল বেনারসিতে অপূর্ব লাগছিল। আরিফ তার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ ভিজে গেল।
বিয়ের রাতে তারা আবার একা হলো। এবার আর লুকোছাপা নেই। পুরোপুরি স্বামী-স্ত্রী।
আরিফ রিয়াকে কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে গেল। “আজ থেকে তুমি আমার সবকিছু।”
তারা আবার মিলিত হলো। এবার আরও গভীর, আরও আবেগপূর্ণ। রিয়ার নখ আরিফের পিঠে আঁচড় কাটল, আরিফের ঠোঁট রিয়ার সারা শরীরে ঘুরে বেড়াল। আনন্দের চূড়ায় পৌঁছে দুজনেই একসাথে কেঁপে উঠল।
দুই বছর পর।
তারা ঢাকায় একটা ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকে। আরিফের চাকরি ভালো চলছে। রিয়া একটা কলেজে শিক্ষকতা করে।
সন্ধ্যায় আরিফ বাসায় ফিরলে রিয়া দরজা খুলে জড়িয়ে ধরে। “কতক্ষণ পর এলে...”
রাতে খাওয়ার পর তারা বারান্দায় বসে গল্প করে। কখনো পুরনো দিনের কথা, কখনো ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
এক রাতে রিয়া আরিফের কানে ফিসফিস করল, “আমি মা হতে যাচ্ছি...”
আরিফ আনন্দে তাকে জড়িয়ে ধরল। চুমু খেল ঠোঁটে, কপালে, পেটে। “আমাদের ছোট্ট প্রেমের ফল...”
তারা জানত, এই যাত্রা এখানে থেমে থাকবে না। আরও অনেক সুখ, আরও অনেক আবেগ, আরও অনেক রাত অপেক্ষা করছে।
....