রাতের ভালোবাসার ছোঁয়া

রাতটা ছিল গভীর, নরম। ঢাকার একটা ছোট অ্যাপার্টমেন্টের জানালা দিয়ে হালকা বৃষ্টির ছোঁয়া এসে পড়ছিল বিছানায়। আয়েশা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তার পরনে হালকা সিল্কের নাইটি, যেটা তার শরীরের প্রতিটা বাঁক অনুসরণ করছিল। বাইরে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছিল পাতায়, আর ভিতরে তার হৃদয়ে একটা নরম ঢেউ উঠছিল।

kxz

রাহাত ঘরে ঢুকল। তার শার্টের উপর কয়েকটা বৃষ্টির ফোঁটা লেগে আছে। অফিস থেকে ফিরতে দেরি হয়েছে। “আয়েশা, এখনো জেগে আছো?” তার গলায় ক্লান্তি মেশানো ভালোবাসা।

আয়েশা ঘুরে তাকাল। তার চোখে সেই চিরকালের নরম দৃষ্টি। “তোমার জন্য জেগে আছি। রাতটা আজ অন্যরকম লাগছে।” সে এগিয়ে এসে রাহাতের ভেজা শার্টে হাত রাখল। তার আঙুলগুলো নরম, উষ্ণ। রাহাতের বুকের উপর দিয়ে একটা হালকা ছোঁয়া বয়ে গেল।

kx/춺'

রাহাত তার কোমর জড়িয়ে ধরল। “তুমি না থাকলে এই রাতগুলো এত সুন্দর হতো না।” তার ঠোঁট আয়েশার কপালে ছুঁয়ে গেল। নরম, আলতো। যেন রাতের বৃষ্টি নিজেই তাদের ছুঁয়ে দিচ্ছে।

দুজনে বিছানায় বসল। আয়েশা তার হাতটা রাহাতের হাতে রাখল। “মনে আছে, আমাদের প্রথম রাতের কথা? সেই গ্রামের বাড়িতে, যেখানে বিদ্যুৎ ছিল না। শুধু লণ্ঠনের আলো আর তোমার নরম ছোঁয়া।”

রাহাত হাসল। “কীভাবে ভুলব? তুমি লজ্জায় মুখ লুকিয়েছিলে। আর আমি তোমার হাত ধরে বলেছিলাম—ভয় নেই, আমি তো আছি।” তার আঙুল আয়েশার আঙুলের ফাঁকে ঢুকে গেল। ধীরে ধীরে তার কব্জি, হাতের উপর দিয়ে উঠতে লাগল। প্রতিটা ছোঁয়ায় একটা নতুন অনুভূতি জাগছিল।

আয়েশা চোখ বন্ধ করল। “আজও সেই অনুভূতি। নরম রাতের ছোঁয়া।”

রাহাত তাকে কাছে টেনে নিল। তার ঠোঁট আয়েশার ঠোঁটে মিলল। চুমু শুরু হলো আলতো করে, যেন বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা। তারপর গভীর হয়ে উঠল। আয়েশার হাত রাহাতের পিঠে চলে গেল। তার নখগুলো হালকা চাপ দিল। রাহাতের শার্ট খুলে ফেলল সে। তার বুকের উপর হাত বুলিয়ে দিল। উষ্ণ ত্বক, শক্ত পেশি—সবকিছু তার ছোঁয়ায় সাড়া দিচ্ছিল।

“আয়েশা...” রাহাত ফিসফিস করে বলল। তার হাত আয়েশার নাইটির স্ট্র্যাপে গেল। ধীরে ধীরে নামিয়ে দিল। তার কাঁধ উন্মুক্ত হয়ে গেল। রাহাত সেখানে চুমু খেল। নরম, ভেজা চুমু। আয়েশার শরীর কেঁপে উঠল। তার হাত রাহাতের চুলে ঢুকে গেল, টেনে ধরল।

বিছানায় শুয়ে পড়ল তারা। রাহাত তার উপর উঠে এল। তার চোখে আয়েশার চোখ। “তুমি আমার সব।” তার হাত আয়েশার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি অন্বেষণ করতে লাগল। নরম স্তন, কোমরের বাঁক, উরুর নরমতা—সবকিছু তার ছোঁয়ায় ফুলে উঠছিল। আয়েশা তার নাম ধরে ডাকল। “রাহাত... আরও কাছে এসো।”

তাদের শরীর এক হয়ে গেল। ধীর গতিতে, নরম ছন্দে। রাতের বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে। প্রতিটা নড়াচড়ায় ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা আর নরমতা মিশে যাচ্ছিল। আয়েশার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল। তার নখ রাহাতের পিঠে দাগ কেটে দিল। রাহাত তার কানের কাছে ফিসফিস করল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। চিরকাল।”

উত্তেজনা চরমে উঠল। দুজন একসাথে শিখরে পৌঁছাল। শরীর কাঁপতে লাগল। তারপর শান্তি। নরম রাতের ছোঁয়ায় জড়াজড়ি করে শুয়ে রইল তারা।

কিন্তু এটা শুধু শুরু।

পরের দিন সকালে আয়েশা রান্নাঘরে ছিল। রাহাত পিছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল। “গুড মর্নিং, আমার রানী।” তার ঠোঁট আয়েশার ঘাড়ে ছুঁয়ে গেল। আয়েশা হাসল। “আজ অফিস যাবে না?”

“যাব। কিন্তু তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে আরেকটু নরম ছোঁয়া চাই।” রাহাত তাকে ঘুরিয়ে নিল। চুমু খেল। রান্নাঘরের টেবিলে তাদের ছোট একটা মুহূর্ত কাটল। হালকা, খেলাধুলোর মতো। আয়েশার হাত তার টাই ধরে টানল। “সন্ধ্যায় তাড়াতাড়ি ফিরো।”

রাহাত চলে গেল। আয়েশা জানালায় দাঁড়িয়ে ভাবল। তাদের বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর। কিন্তু প্রতিদিনই নতুন মনে হয়। রাহাতের ছোঁয়া এখনো তাকে কাঁপিয়ে দেয়।

দুপুরে আয়েশা তার বান্ধবীদের সাথে ফোনে কথা বলছিল। “জানিস, রাহাত এখনো আমাকে প্রথম দিনের মতো ভালোবাসে।” বান্ধবীরা হাসল। “তোরা তো রোমান্টিক সিনেমার নায়ক-নায়িকা।”

সন্ধ্যায় রাহাত ফিরল। হাতে ফুল। লাল গোলাপ। “তোমার জন্য।” আয়েশা ফুল নিয়ে তার গালে চুমু খেল। “চলো, আজ বাইরে খাই।”

তারা একটা ছোট রেস্টুরেন্টে গেল। ঢাকার রাস্তায় হালকা ট্রাফিক। রাহাত তার হাত ধরে রাখল সারাক্ষণ। খাবারের পর তারা হাঁটতে লাগল। নদীর ধারে। বাতাস নরম। রাহাত আয়েশাকে কাছে টেনে নিল। “তোমার সাথে এই রাতগুলো আমার জীবনের সেরা।”

বাড়ি ফিরে তারা আবার বিছানায়। এবার আরও ধীরে, আরও গভীরে। রাহাত আয়েশার শরীরে তেল মালিশ করল। তার হাতের ছোঁয়ায় আয়েশা গলে গেল। “আহ... রাহাত...” তার আঙুলগুলো আয়েশার পিঠ, কোমর, উরু—সব জায়গায় ঘুরে বেড়াল। প্রতিটা স্পর্শে আগুন জ্বলে উঠছিল।

আয়েশা উল্টে রাহাতের উপর চড়ে বসল। তার চুল খুলে পড়ল রাহাতের মুখে। সে তার বুকে চুমু খেল, কামড়াল হালকা। রাহাতের হাত তার কোমর চেপে ধরল। তাদের শরীর আবার মিলিত হলো। এবার তীব্র, কিন্তু নরমতা হারায়নি। রাত গভীর হতে হতে তাদের নিঃশ্বাস এক হয়ে গেল।

পরদিন ছুটির দিন। তারা বাড়িতে রইল। সারাদিন ছোট ছোট ছোঁয়ায় ভরা। সকালে চা বানাতে গিয়ে রাহাত আয়েশাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার ঘাড়ে চুমু খেল। দুপুরে সিনেমা দেখতে দেখতে হাতে হাত রেখে বসে রইল। বিকেলে বারান্দায় চেয়ারে পাশাপাশি। রাহাত তার কোলে মাথা রাখল। আয়েশা তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল।

“আমাদের জীবনটা কত সুন্দর, তাই না?” আয়েশা বলল।

“হ্যাঁ। কারণ তুমি আছো।” রাহাত তার হাতে চুমু খেল।

সন্ধ্যায় তারা একসাথে রান্না করল। হাসি, খুনসুটি, হালকা ছোঁয়া। রাতে আবার সেই নরম রাত। এবার তারা গল্প করতে করতে শুরু করল। আয়েশা তার ছোটবেলার কথা বলল। রাহাত তার প্রথম দেখার দিনের কথা। তারপর ধীরে ধীরে কথা থেমে গেল। শুধু ছোঁয়া রইল।

রাহাত আয়েশাকে তুলে নিয়ে বিছানায় নিয়ে গেল। তার শাড়ি খুলতে খুলতে প্রতিটা কাপড়ের সাথে চুমু খেল। আয়েশার শরীর উন্মুক্ত হয়ে গেল। রাহাত তার পা থেকে শুরু করে উপরে উঠতে লাগল। তার জিভ, ঠোঁট, হাত—সব নরম ছোঁয়ায় ভরা। আয়েশা আর সহ্য করতে পারছিল না। “এসো... এখন...”

তারা মিলিত হলো। দীর্ঘ সময় ধরে। কখনো ধীর, কখনো তীব্র। প্রতিবারই নতুন অনুভূতি। আয়েশার চোখে জল চলে এল আনন্দে। “তুমি আমার সবকিছু।”

রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরে রইল। “আর তুমি আমার নরম রাতের ছোঁয়া।”

দিনগুলো এভাবেই কাটতে লাগল। কিন্তু একদিন একটা ঝড় এল। রাহাতের অফিসে বড় প্রবলেম। সে দেরি করে ফিরল। আয়েশা চিন্তায় ছিল। রাতে যখন সে ফিরল, আয়েশা তাকে জড়িয়ে ধরল। “কী হয়েছে?”

রাহাত ক্লান্ত। “সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তোমার ছোঁয়া ছাড়া পারছি না।”

আয়েশা তাকে সান্ত্বনা দিল। তার হাতে মালিশ করল। তারপর ধীরে ধীরে তাদের শরীর কাছে এল। এবারের ছোঁয়া ছিল সান্ত্বনার। নরম, ভালোবাসায় ভরা। রাহাত আয়েশার বুকে মাথা রেখে শুয়ে রইল। “তুমি না থাকলে আমি হারিয়ে যেতাম।”

আয়েশা তার চুলে হাত বুলিয়ে বলল, “আমরা একসাথে সব পারব।”

সেই রাতে তারা অনেকক্ষণ জেগে রইল। গল্প করল, চুমু খেল, ভালোবাসল। নরম রাত তাদের ঘিরে রইল।

মাস কয়েক পর। আয়েশা একটা সারপ্রাইজ দিল। “আজ আমরা গ্রামে যাব। তোমার সেই প্রথম রাতের বাড়িতে।”

রাহাত অবাক। “সত্যি?”

তারা গেল। গ্রামের সেই পুরোনো বাড়ি। বিদ্যুৎ নেই। লণ্ঠন জ্বলছে। বাইরে বৃষ্টি। তারা বিছানায় শুয়ে আছে। রাহাত আয়েশাকে জড়িয়ে ধরল। “এখানে সবকিছু একই আছে। শুধু আমাদের ভালোবাসা আরও বড় হয়েছে।”

তারা আবার মিলিত হলো। সেই প্রথম রাতের মতো নরম, কিন্তু এবার অভিজ্ঞতায় ভরা। প্রতিটা ছোঁয়া স্মৃতি জাগিয়ে তুলছিল। আয়েশা চিৎকার করে উঠল আনন্দে। রাহাত তাকে আরও কাছে টেনে নিল।

রাত কাটল। সকালে তারা উঠল। হাত ধরে বাড়ির উঠোনে হাঁটল। “এখানেই আমাদের গল্প শুরু হয়েছিল।” আয়েশা বলল।

“আর এখানেই চিরকাল চলবে।” রাহাত উত্তর দিল।

তাদের জীবন এভাবেই চলতে লাগল। ছোট ছোট মুহূর্ত, নরম ছোঁয়া, গভীর ভালোবাসা। কখনো ঝগড়া, কখনো হাসি। কিন্তু প্রতি রাতে তারা এক হয়ে যেত। নরম রাতের ছোঁয়ায়।

একদিন আয়েশা বলল, “আমরা একটা বাচ্চা নেব?”

রাহাত তার পেটে হাত রাখল। “হ্যাঁ। আমাদের ভালোবাসার ফল।”

তারপর থেকে তাদের ছোঁয়া আরও নরম, আরও সতর্ক হয়ে গেল। আয়েশা গর্ভবতী হলো। রাহাত প্রতি রাতে তার পেটে হাত রেখে গল্প বলত। “তোমার মায়ের মতো নরম হবে তুমি।”

রাতগুলো এখন শান্ত। চুমু, আলিঙ্গন, হালকা ছোঁয়া। আয়েশার শরীর বড় হয়ে উঠছে। রাহাত তার যত্ন নিত। তার পা টিপে দিত, পিঠ মালিশ করত। প্রতিটা ছোঁয়ায় ভালোবাসা ঝরে পড়ত।

শেষে, যখন বাচ্চা এল। একটা মেয়ে। তারা নাম রাখল নুর। নরম আলোর মতো।

রাতে, যখন নুর ঘুমায়, রাহাত আয়েশাকে জড়িয়ে ধরে। “ধন্যবাদ তোমাকে। এই নরম রাতের জন্য।”

আয়েশা তার বুকে মাথা রাখে। “আরও অনেক রাত আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।”

তাদের গল্প চলতে থাকে। নরম রাতের ছোঁয়ায় ভরা, ভালোবাসায় ভরা। চিরকাল

 

....
👁 102