চিরকালের জন্য তোমারই

সমুদ্রের ঢেউগুলো যেন কোনো অদৃশ্য সুরে গান গাইছিল। কক্সবাজারের বিশাল বালুচরে সূর্যাস্তের লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময়টা ছিল বর্ষার শেষ, যখন আকাশ আর সমুদ্র এক হয়ে যায়। রাহাত দাঁড়িয়ে ছিল সমুদ্রের কিনারায়, তার পায়ের নিচে ঢেউ এসে ভেঙে পড়ছিল, প্যান্টের নিচের অংশ ভিজে যাচ্ছিল। তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা। ত্রিশ বছর বয়স, ঢাকার একটা আইটি কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ছুটিতে এসেছে একা। কিন্তু তার হৃদয়ে এখনো বাস করে সেই একটি মুখ, যাকে সে কখনো ভুলতে পারেনি।

kxz

রাহাতের জীবনটা ছিল সাধারণ। ঢাকায় বড় হয়েছে, পড়াশোনা করেছে, চাকরি করছে। কিন্তু আট বছর আগে, এই একই সমুদ্রতীরে তার জীবন বদলে গিয়েছিল। সেই সময় সে ছিল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছিল। আর সেখানেই প্রথম দেখা হয়েছিল আয়েশার সাথে।

আয়েশা। নামটা উচ্চারণ করলেই রাহাতের বুকের ভিতরটা কেঁপে ওঠে। সে ছিল চট্টগ্রামের একটা কলেজের মেয়ে। লম্বা চুল, গভীর কালো চোখ, আর হাসিতে যেন সমুদ্রের ঢেউ ভেঙে পড়ত। সেই দিনটা ছিল বিকেল। আয়েশা তার বান্ধবীদের সাথে সমুদ্রে নেমেছিল। ঢেউয়ের ধাক্কায় সে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল, আর রাহাত তাকে ধরে ফেলেছিল। সেই স্পর্শটাই যেন বিদ্যুৎ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল দুজনের শরীরে।

kx/춺'

“থ্যাঙ্ক ইউ,” আয়েশা লজ্জায় লাল হয়ে বলেছিল। তার ভেজা শাড়ির আঁচল লুটোচ্ছিল বালিতে। রাহাতের হাত থেকে সে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়েছিল, কিন্তু চোখ দুটো আটকে গিয়েছিল তার চোখে।

সেই থেকে শুরু। প্রতিদিন সকালে সমুদ্রতীরে দেখা হতো। কথা বলতে বলতে দিন কেটে যেত। আয়েশা বলতো তার স্বপ্নের কথা—সে ডাক্তার হতে চায়, গ্রামের মানুষের সেবা করতে চায়। রাহাত বলতো তার কোডিংয়ের জগতের গল্প। দুজনের মধ্যে যেন একটা অদৃশ্য সুতো বেঁধে গিয়েছিল।

একদিন রাতে, যখন চাঁদ উঠেছিল সমুদ্রের উপর, তারা দুজনে একা হেঁটেছিল বালুচরে। ঢেউয়ের শব্দ ছাড়া আর কিছু ছিল না। রাহাত তার হাতটা ধরেছিল। আয়েশা প্রথমে সরিয়ে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু তারপর থেমে গিয়েছিল।

“রাহাত, এটা কি ঠিক?” তার গলা কাঁপছিল।

“ভালোবাসা কখনো ঠিক-বেঠিক হয় না, আয়েশা।” রাহাত তার চোখে তাকিয়ে বলেছিল।

সেই রাতে প্রথম চুমু। সমুদ্রের ঢেউ যেন তাদের আশীর্বাদ করছিল। আয়েশার ঠোঁট ছিল নোনতা সমুদ্রের স্বাদে মেশানো। তার শরীর কাঁপছিল রাহাতের বুকে। তারা বসে পড়েছিল বালিতে। রাহাত তার ভেজা চুলে হাত বুলিয়েছিল। আয়েশা তার গলা জড়িয়ে ধরেছিল। সেই রাতে তাদের শরীর এক হয়ে গিয়েছিল প্রথমবার। ঢেউয়ের শব্দে ঢাকা পড়েছিল তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ। আয়েশার নরম শরীর রাহাতের শক্ত বুকে মিশে গিয়েছিল। তার স্তনের উষ্ণতা, কোমরের বাঁক, আর ঊরুর মসৃণতা—সবকিছু যেন চিরকালের জন্য রাহাতের স্মৃতিতে খোদাই হয়ে গিয়েছিল।

“আমি তোমাকে চিরকাল ভালোবাসবো,” আয়েশা ফিসফিস করে বলেছিল, তার চোখে চাঁদের আলো।

কিন্তু ভাগ্য কখনো সহজ হয় না। ছুটি শেষ হলে আয়েশা চলে গিয়েছিল চট্টগ্রামে। রাহাত ফিরে গিয়েছিল ঢাকায়। কিন্তু প্রতিদিন ফোনে কথা হতো। ভিডিও কলে দেখা হতো। তাদের ভালোবাসা আরো গভীর হয়েছিল। রাহাত প্রমিস করেছিল, সে চাকরি পেলেই বিয়ে করবে।

তারপর এলো সেই ভয়ংকর দিন। আয়েশা তার পরিবারের সাথে নৌকায় করে একটা দ্বীপে ঘুরতে গিয়েছিল। সমুদ্রে হঠাৎ ঝড় উঠেছিল। নৌকা উল্টে গিয়েছিল। আয়েশা আর তার পরিবারের কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, কিন্তু আয়েশা... সমুদ্র তাকে গ্রাস করে নিয়েছিল।

রাহাত যখন খবর পেয়েছিল, সে পাগলের মতো ছুটে গিয়েছিল কক্সবাজার। দিনের পর দিন সমুদ্রতীরে বসে কাঁদতো। “আয়েশা! ফিরে আয়!” তার চিৎকার ঢেউয়ের শব্দে মিলিয়ে যেত। কিন্তু সমুদ্র নিরুত্তর।

আট বছর কেটে গেছে। রাহাত এখনো আসে এখানে প্রতি বছর। তার হাতে একটা ছোট্ট লকেট, যাতে আয়েশার একটা ছবি আছে। সে এখনো বিবাহিত হয়নি। অনেক প্রপোজাল এসেছে, কিন্তু সে বলে, “আমার হৃদয়টা তো সমুদ্রে হারিয়ে গেছে।”

এইবারও সে এসেছে। সূর্য ডুবে যাচ্ছে। হঠাৎ তার চোখে পড়লো একটা মেয়েকে। দূর থেকে দেখে মনে হলো আয়েশা। একই লম্বা চুল, একই হাঁটা। রাহাতের হৃদয় ধড়াস করে উঠলো। সে দৌড়ে গেল।

মেয়েটি ঘুরে দাঁড়ালো। “আপনি?”

রাহাত থমকে গেল। এ তো আয়েশা নয়। কিন্তু চোখ দুটো... একদম এক।

“আমি... সরি। আপনাকে কারো সাথে ভুল করেছি।” রাহাত বললো।

মেয়েটি হাসলো। “আমার নাম আফিয়া। আপনি?”

তারা কথা বলতে শুরু করলো। আফিয়া চট্টগ্রামেরই মেয়ে। ডাক্তারি পড়ছে। রাহাতের মনে হলো, ভাগ্য যেন আবার খেলছে। আফিয়া বললো তার মা’র নামও আয়েশা ছিল। কিন্তু সে ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছে।

রাহাতের শরীর কেঁপে উঠলো। “আপনার মায়ের নাম আয়েশা?”

“হ্যাঁ। সমুদ্রে দুর্ঘটনায়...” আফিয়া চোখ নামিয়ে বললো।

রাহাতের চোখে জল এসে গেল। সে আফিয়ার হাত ধরলো। “আমি... আমি তোমার মাকে চিনতাম।”

আফিয়া অবাক হয়ে তাকালো। তারপর তারা বসলো বালিতে। রাহাত সব বললো। আয়েশার সাথে তার ভালোবাসার গল্প। আফিয়া কাঁদতে কাঁদতে শুনলো। সে জানতো না তার মায়ের এমন একটা গল্প আছে।

“মা আমাকে ছোটবেলায় বলতো, ‘আমার একটা চিরকালীন ভালোবাসা আছে সমুদ্রে। একদিন সে ফিরবে।’” আফিয়া বললো।

রাহাতের বুক ভেঙে যাচ্ছিল। আয়েশা তাকে কখনো ভোলেনি। আর আফিয়া... সে যেন আয়েশারই প্রতিচ্ছবি।

সেই রাতে তারা অনেকক্ষণ কথা বললো। আফিয়া বললো সে ঢাকায় পড়তে আসবে। রাহাত বললো সে সাহায্য করবে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে একটা নতুন অনুভূতি জাগলো। এটা ভালোবাসা নয়, কিন্তু আয়েশার স্মৃতির মাধ্যমে একটা সংযোগ।

পরের কয়েকদিন তারা একসাথে ঘুরলো। সমুদ্রতীরে হাঁটলো। আফিয়া রাহাতের হাত ধরলো। “আপনি আমার মায়ের ভালোবাসা। আমি যেন তাকে ফিরে পেলাম আপনার মাধ্যমে।”

এক রাতে ঝড় উঠলো। তারা হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। ঢেউগুলো উন্মত্ত হয়ে উঠছিল। আফিয়া রাহাতের বুকে মাথা রাখলো। রাহাত তার চুলে হাত বুলালো। সেই স্পর্শটা যেন আয়েশারই।

“আমি তোমাকে ভালোবাসতে চাই, আফিয়া। কিন্তু এটা যেন তোমার মায়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা না হয়।” রাহাত বললো।

আফিয়া তার ঠোঁটে আঙুল ছুঁয়ে বললো, “মা চাইতো আপনি সুখী হোন। আমিও চাই।”

তাদের চুমু হলো। ঝড়ের মাঝে, ঢেউয়ের গর্জনে। আফিয়ার শরীর রাহাতের শরীরে মিশে গেল। তার স্তন রাহাতের বুকে চেপে ধরলো। তারা বিছানায় গেল। রাহাত আফিয়ার শাড়ি খুললো ধীরে ধীরে। তার নগ্ন শরীর দেখে রাহাতের চোখে আয়েশার ছবি ভেসে উঠলো। আফিয়া তার প্যান্ট খুলে দিল। তাদের শরীর জড়িয়ে গেল। রাহাত তার ভিতরে প্রবেশ করলো ধীরে, গভীরে। আফিয়া নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে বললো, “আমাকে ভালোবাসুন... চিরকাল।”

তাদের মিলন ছিল তীব্র, আবেগপূর্ণ। ঢেউয়ের মতো উঠছিল, ভাঙছিল। রাহাত আফিয়ার কোমর চেপে ধরে জোরে জোরে ঠাপ দিচ্ছিল। আফিয়ার নখ তার পিঠে বসে যাচ্ছিল। “আহ... রাহাত... আরো...”

অর্গাজমের পর তারা জড়িয়ে শুয়ে রইলো। বাইরে ঢেউ শান্ত হয়ে গিয়েছিল।

সকালে রাহাত আফিয়াকে বললো, “আমরা বিয়ে করবো। তোমার মায়ের স্মৃতিকে সাথে নিয়ে।”

আফিয়া কাঁদতে কাঁদতে রাজি হলো।

কয়েক মাস পর ঢাকায় তাদের বিয়ে হলো। রাহাতের হৃদয়ে এখনো আয়েশা আছে, কিন্তু আফিয়া তাকে নতুন জীবন দিয়েছে। সমুদ্রের ঢেউ যেন বলছে, ভালোবাসা কখনো হারায় না। সে শুধু রূপ বদলায়।

তারা প্রতি বছর কক্সবাজার আসে। সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে আয়েশার উদ্দেশ্যে ফুল ভাসায়। আফিয়া তার পেটে হাত রেখে বলে, “আমাদের সন্তান আসছে। সে জানবে তার দুই মায়ের গল্প।”

রাহাত আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, “আয়েশা, তোমার ভালোবাসা চিরকালীন। ঢেউয়ে হারায়নি, শুধু আমাদের মধ্যে বেঁচে আছে।”

 

....
👁 100