রাহাত তার অফিস থেকে বেরিয়ে এসে গাড়িতে উঠল। তার মাথায় শুধু একটা চিন্তা—আয়েশা। বিয়ের পর তিন বছর কেটে গেছে, কিন্তু প্রতিদিন বাড়ি ফিরতে তার বুকটা ধকধক করে। আয়েশা তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।
রাহাত যখন বাসায় ঢুকল, তখন আয়েশা রান্নাঘরে। তার পরনে হালকা নীল শাড়ি, চুল খোলা, কপালে ঘামের ফোঁটা। রাহাত পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। “কী রে, আজকে এত দেরি?” আয়েশা হেসে বলল, কিন্তু তার গলায় সেই আদুরে রাগ।
“ট্রাফিক ছিল। কিন্তু তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।” রাহাত তার পকেট থেকে দুটো টিকিট বের করল। “আগামীকাল আমরা চট্টগ্রাম যাচ্ছি। শুধু তুমি আর আমি। সমুদ্রের ধারে তিন দিন।”
আয়েশার চোখ দুটো জ্বলে উঠল। “সত্যি? কিন্তু তোমার অফিস?” “ছুটি নিয়ে নিয়েছি। তোমার জন্য সব করতে পারি।”
সেই রাতে তারা দুজনে খাওয়াদাওয়া করে বিছানায় শুয়ে পড়ল। আয়েশা রাহাতের বুকে মাথা রেখে বলল, “তুমি জানো, বিয়ের আগে আমি ভাবতাম ভালোবাসা শুধু সিনেমার মতো। কিন্তু তোমার সাথে প্রতিদিন নতুন করে বুঝি, এটা আসল।”
রাহাত তার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, “আর আমি ভাবতাম, জীবনে শুধু কাজ আর টাকা। তুমি এসে সব বদলে দিয়েছ। তুমি আমার শান্তি, আমার আনন্দ।”
তাদের চুমুতে রাত গভীর হল। আয়েশার শরীর রাহাতের স্পর্শে কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়ে উঠল। শাড়ির আঁচল সরে গেল, রাহাতের হাত তার কোমরে, তারপর উপরে। আয়েশা ফিসফিস করে বলল, “আমাকে আরও কাছে নাও...”
সেই রাতে তারা একে অপরকে নতুন করে আবিষ্কার করল। রাহাতের ঠোঁট আয়েশার ঘাড়ে, বুকে, পেটে নেমে এল। আয়েশা তার নখ দিয়ে রাহাতের পিঠ আঁচড়াতে লাগল। তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস মিশে একাকার হয়ে গেল। অনেকক্ষণ পর তারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল, পরস্পরকে জড়িয়ে।
পরদিন সকালে তারা ট্রেনে উঠল। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের ট্রেন। কামরায় জানালার পাশে বসে আয়েশা রাহাতের কাঁধে মাথা রেখেছে। বাইরে সবুজ মাঠ, নদী, গ্রাম চলে যাচ্ছে। “মনে আছে, প্রথম দেখায় তুমি কেমন লজ্জা পেয়েছিলে?” রাহাত হেসে বলল।
আয়েশা লজ্জায় মুখ লুকাল। “তুমি তো খালি তাকিয়ে ছিলে। আমার বাবা বলেছিল, ‘রাহাত ভালো ছেলে’। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম, এত সুন্দর ছেলে আমাকে পছন্দ করবে কেন?”
“কারণ তুমি সবচেয়ে সুন্দর। তোমার চোখে যে আলো, সেটা আমাকে টেনেছিল।”
ট্রেনের যাত্রায় তারা অনেক গল্প করল। আয়েশা তার ছোটবেলার কথা বলল—চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকতে বাবার সাথে যাওয়ার স্মৃতি। রাহাত বলল তার প্রথম চাকরির কথা, কীভাবে সে রাত জেগে পড়াশোনা করত। দুপুরের খাবারে তারা একসাথে খেল। আয়েশা রাহাতের মুখে খাবার তুলে দিল, রাহাত আয়েশার ঠোঁট মুছে দিল।
চট্টগ্রাম স্টেশনে নেমে তারা হোটেলে চলে গেল। সমুদ্রের খুব কাছে একটা রিসোর্ট। ঘরের বারান্দা থেকে সমুদ্র দেখা যায়। সন্ধ্যায় তারা সমুদ্রের ধারে হাঁটতে গেল। চাঁদ উঠেছে। ঢেউয়ের শব্দ, হাওয়া, আর তাদের হাত ধরে হাঁটা।
“আমি চাই না এই মুহূর্তটা কখনো শেষ হোক,” আয়েশা বলল। রাহাত তাকে কাছে টেনে নিল। “এই মুহূর্তগুলো আমরা প্রতিদিন তৈরি করব।”
সেই রাতে হোটেলের ঘরে তাদের ভালোবাসা আবার জ্বলে উঠল। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে তাদের শরীরে। রাহাত আয়েশাকে ধীরে ধীরে শাড়ি খুলে দিল। তার স্তন, কোমর, উরু—সবকিছু চুমুতে ভরিয়ে দিল। আয়েশা তার স্বামীর শার্ট খুলে তার বুকে চুমু খেল। তাদের শরীর এক হয়ে গেল। রাহাত ধীরে ধীরে প্রবেশ করল, আয়েশা তার কোমর জড়িয়ে ধরল। তাদের গতি বাড়তে লাগল, শ্বাস দ্রুত হল। “আমি তোমাকে ভালোবাসি...” আয়েশা চিৎকার করে বলল। রাহাতও একই সাথে পৌঁছে গেল। তারা ঘামে ভিজে পরস্পরকে জড়িয়ে শুয়ে রইল।
পরদিন সকালে তারা সমুদ্রে নামল। আয়েশা সাঁতার কাটতে গেল, রাহাত তাকে পেছন থেকে ধরে রাখল। পানিতে তাদের খেলা, হাসি, চুমু। দুপুরে লাঞ্চ করে তারা হিলে উঠল। সেখান থেকে পুরো শহর দেখা যায়। আয়েশা রাহাতের কোলে বসে ছবি তুলল।
সন্ধ্যায় তারা একটা ছোট রেস্টুরেন্টে গেল। ক্যান্ডেল লাইট ডিনার। রাহাত আয়েশার হাত ধরে বলল, “তোমাকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। তুমি আমার সব।” আয়েশার চোখে জল এসে গেল। “তুমিও আমার সব।”
তৃতীয় দিন তারা সমুদ্রের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখল। আয়েশা বলল, “আমাদের একটা ছোট্ট বাচ্চা হলে কেমন হয়?” রাহাত হেসে বলল, “খুব সুন্দর হবে। তোমার মতো চোখ, আমার মতো হাসি।”
ফেরার ট্রেনে তারা আরও কাছাকাছি হল। ট্রেনের কামরায় অন্য যাত্রীদের মাঝে তারা চুপিচুপি হাত ধরে রইল। আয়েশা রাহাতের কানে ফিসফিস করল, “বাসায় গিয়ে আবার সেই রাতটা...”
ঢাকায় ফিরে তাদের জীবন আবার শুরু হল, কিন্তু এই ট্রিপ তাদের ভালোবাসাকে আরও মজবুত করল। প্রতি রাতে তারা একে অপরকে আবিষ্কার করতে লাগল। কখনো রান্নাঘরে, কখনো বারান্দায়, কখনো বিছানায়। আয়েশা যখন রাগ করত, রাহাত তাকে চুমু দিয়ে শান্ত করত। রাহাত যখন ক্লান্ত, আয়েশা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিত।
একদিন অফিস থেকে ফিরে রাহাত দেখল আয়েশা নতুন শাড়ি পরে অপেক্ষা করছে। “আজ আমাদের অ্যানিভার্সারি।” রাহাত ভুলে গিয়েছিল। সে লজ্জা পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল। “সরি। কিন্তু তুমি তো আমার প্রতিদিনের উৎসব।”
সেই রাতে তারা খুব রোমান্টিকভাবে কাটাল। আয়েশা রাহাতকে ম্যাসাজ দিল, রাহাত তার পায়ে তেল মালিশ করল। তারপর ধীরে ধীরে তাদের শরীর মিলিত হল। আয়েশার শরীরের প্রতিটা অংশ রাহাত চুমুতে ভরিয়ে দিল। তারা অনেকক্ষণ ধরে ভালোবাসল, কখনো ধীরে, কখনো তীব্রভাবে। শেষে আয়েশা রাহাতের বুকে শুয়ে বলল, “তুমি ছাড়া আমার জীবন অন্ধকার।”
রাহাত তার চুলে চুমু খেয়ে বলল, “আর আমার জীবন তোমার ছাড়া অসম্পূর্ণ।”
মাস কয়েক পর আয়েশা গর্ভবতী হল। রাহাত খুশিতে উন্মাদ হয়ে গেল। সে আয়েশাকে আরও বেশি যত্ন করতে লাগল। রাতে তার পেটে হাত রেখে গল্প বলত। আয়েশা হেসে বলত, “দেখো, আমাদের ভালোবাসার ফল।”
সন্তান জন্মের পর তাদের জীবন আরও সুন্দর হল। কিন্তু রাতের নির্জনতায় তারা এখনো একে অপরকে সেই প্রথম দিনের মতো ভালোবাসে। চাঁদনী রাতে বারান্দায় বসে তারা হাত ধরে থাকে। রাহাত বলে, “তোমার জন্য আমি সবকিছু করব।” আয়েশা উত্তর দেয়, “আর আমি তোমার সাথে সব পথ হাঁটব।”
এভাবেই তাদের রোমান্টিক জীবন চলতে থাকে। প্রতিটা দিন নতুন ভালোবাসা, প্রতিটা রাত নতুন আবেগ। ঢাকার ব্যস্ততার মাঝেও তাদের হৃদয় একে অপরের জন্য সবসময় অপেক্ষায় থাকে।
....