ঢাকার ভিড়ে ভরা মিরপুরের একটা ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকত রাহাত আর আয়েশা। রাহাত ছিল একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ। সকাল সাতটায় বেরিয়ে রাত দশটা-এগারোটায় ফিরত। আয়েশা ছিল হোমমেকার। বিয়ে হয়েছিল তিন বছর আগে। প্রথম দিকে সবকিছু ছিল স্বপ্নের মতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রুটিন জীবন তাদের প্রেমের রং ফিকে করে দিচ্ছিল।
আয়েশা প্রায়ই বলত, “রাহাত, তুমি তো শুধু ঘুমাতে আসো। আমাকে দেখো তো একটু?” রাহাত হাসত, “বাবু, চাকরিটা তো তোমার জন্যই। একটু ধৈর্য ধরো।”
একদিন সন্ধ্যায় আয়েশা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে চা বানাচ্ছিল। তার পরনে ছিল একটা হালকা সালোয়ার কামিজ। চুলটা খোলা, কপালে ঘামের ফোঁটা। রাহাত সেদিন একটু তাড়াতাড়ি ফিরেছিল। দরজা খুলে আয়েশাকে দেখে তার বুকটা ধক করে উঠল। তিন বছর পরও আয়েশার শরীরটা যেন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। নরম কোমর, ভরাট বুক, আর সেই চোখ দুটো যাতে এখনও প্রেমের আগুন জ্বলে।
“কী রে, অমন করে দেখছিস কেন?” আয়েশা লজ্জায় হেসে বলল।
রাহাত পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। তার ঠোঁট আয়েশার ঘাড়ে ছুঁয়ে গেল। “তোমাকে ছাড়া আর কিছু ভালো লাগে না আজকাল।”
সেদিন রাতে তারা অনেকক্ষণ কথা বলল। আয়েশা বলল, “চলো না কোথাও ঘুরে আসি। শুধু আমরা দুজন।”
রাহাত রাজি হয়ে গেল। পরের উইকেন্ডে তারা চলে গেল কক্সবাজার। সমুদ্রের ধারে একটা রিসোর্ট বুক করা হয়েছিল।
গাড়িতে যেতে যেতে আয়েশা রাহাতের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল। রাহাত তার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভাবছিল, কতদিন এমন করে সময় কাটায়নি।
কক্সবাজার পৌঁছে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ, নোনা হাওয়া, আর চাঁদের আলো—সব মিলিয়ে পরিবেশটা যেন রোমান্টিকতায় ভরে গিয়েছিল। রিসোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আয়েশা বলল, “রাহাত, এখানে তোমার সাথে থাকতে থাকতে মনে হচ্ছে আমরা আবার নতুন করে বিয়ে করলাম।”
রাহাত তার কোমর জড়িয়ে কাছে টেনে নিল। “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দরী।”
তারা দুজন সমুদ্রের ধারে হাঁটতে গেল। পা ভিজিয়ে, হাত ধরে। আয়েশা হঠাৎ দৌড়ে গিয়ে ঢেউয়ের সাথে খেলা করছিল। তার সালোয়ারটা ভিজে গিয়ে শরীরের আকৃতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। রাহাতের চোখ আটকে গেল। সে পেছন থেকে আয়েশাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেল তার ঠোঁটে। লম্বা, গভীর চুমু। সমুদ্রের ঢেউ যেন তাদের প্রেমের তালে তাল মিলাচ্ছিল।
রাতে রুমে ফিরে তারা শাওয়ার নিল একসাথে। গরম পানির নিচে দাঁড়িয়ে রাহাত আয়েশার শরীরে সাবান লাগাতে লাগাতে বলল, “তোমার এই শরীরটা আমার জন্যই তৈরি হয়েছে।” আয়েশা লজ্জায় মুখ লুকাল তার বুকে।
তারপর বিছানায়... রাহাত আয়েশাকে আস্তে আস্তে খুলে দিল সব কাপড়। তার নরম স্তন, কোমরের বাঁক, উরুর মসৃণতা—সবকিছু চাঁদের আলোয় যেন জ্বলছিল। রাহাত তার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিল। আয়েশা আনন্দে কেঁপে উঠছিল। “রাহাত... আরও কাছে এসো...” তার কণ্ঠস্বর যেন মধু ঝরাচ্ছিল।
তারা এক হয়ে গেল। ধীরে ধীরে, গভীরে। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো তাদের শরীর দুলছিল। আয়েশা তার নখ দিয়ে রাহাতের পিঠ আঁচড়াচ্ছিল। রাহাত তার কানে কানে ফিসফিস করে বলছিল, “তুমি আমার সব। চিরকালের।” তাদের মিলনের শেষে দুজন জড়াজড়ি করে ঘুমিয়ে পড়ল।
পরদিন সকালে তারা সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয় দেখল। আয়েশা রাহাতের হাত ধরে বলল, “আমাদের মধ্যে এই দূরত্ব আর রাখব না। প্রতিদিন একটু সময় করে নেব আমাদের জন্য।”
রাহাত চুমু খেল তার কপালে। “প্রমিস।”
তারপরের দিনগুলোতে তারা অনেক কিছু করল। নৌকায় করে সমুদ্রে ঘুরল, সি-ফুড খেল, বাজারে ঘুরে ঘুরে গয়না কিনল আয়েশার জন্য। রাহাত একটা সুন্দর নেকলেস কিনে আয়েশার গলায় পরিয়ে দিল। “এটা তোমার জন্য। যেন প্রতিদিন মনে পড়ে আমি তোমাকে কত ভালোবাসি।”
একদিন বিকেলে বৃষ্টি পড়ছিল। তারা রুমের বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিল। আয়েশা হঠাৎ রাহাতের কোলে উঠে বসল। “আজ আর কোথাও যাব না। শুধু তুমি আর আমি।”
বৃষ্টির শব্দের সাথে তাদের প্রেমের শব্দ মিশে গেল। রাহাত আয়েশাকে তুলে নিয়ে বিছানায় নিয়ে গেল। এবারের মিলন ছিল আরও উন্মাদনায় ভরা। আয়েশা উপরে উঠে রাহাতকে নিয়ন্ত্রণ করছিল। তার ভরাট স্তন দুলছিল, চুল উড়ছিল। রাহাত তার কোমর চেপে ধরে সাহায্য করছিল। “আয়েশা... তুমি আমাকে পাগল করে দাও...”
তারা একসাথে চরমে পৌঁছাল। ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে জড়িয়ে রইল অনেকক্ষণ।
ট্রিপ শেষে ঢাকায় ফিরে এসেও তাদের সম্পর্ক বদলে গিয়েছিল। রাহাত এখন রোজ অফিস থেকে ফিরে আয়েশার সাথে সময় কাটাত। কখনো রান্না করত একসাথে, কখনো সিনেমা দেখত, কখনো শুধু জড়িয়ে শুয়ে গল্প করত।
এক রাতে আয়েশা বলল, “রাহাত, আমি মা হতে চাই। তোমার সন্তানের।”
রাহাতের চোখে পানি চলে এল। সে আয়েশাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আমিও চাই। আমাদের ছোট্ট একটা পরিবার।”
তারপর থেকে তাদের জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠল। প্রতি রাতে চাঁদের আলোয় তাদের প্রেম নতুন করে জন্ম নিত। আয়েশা যখন গর্ভবতী হলো, রাহাত তার পেটে হাত রেখে বলত, “আমাদের ভালোবাসার ফসল।”
বছরখানেক পর তাদের একটা সুন্দর মেয়ে হলো। নাম রাখলেন ‘চাঁদনী’। চাঁদনী যখন হাসত, তাদের দুজনের চোখেই চাঁদের আলো ফুটে উঠত।
রাহাত আর আয়েশার প্রেম ছিল এমনই—ঝড়ের পর শান্ত সমুদ্রের মতো, চাঁদনী রাতের মতো মায়াবী, আর চিরকালের অঙ্গীকারের মতো অটুট।
....