হৃদয়ের গোপন রোমান্স রাত

ঢাকা শহরের ভিড়ে, যেখানে প্রতিদিন লাখো মানুষ ছুটে বেড়ায়, সেখানে একটা ছোট্ট বারান্দায় বসে আয়েশা চাঁদ দেখছিল। রাত তখন এগারোটা। গরম হাওয়া তার লম্বা চুল উড়িয়ে দিচ্ছিল। সে একটা সাদা সালোয়ার কামিজ পরে ছিল, যার কিনারে হালকা নীল ফুলের কাজ করা। তার চোখ দুটো ছিল গভীর কালো, যেন রাতের আকাশের তারা লুকিয়ে আছে সেখানে।

kxz

আয়েশা ২৪ বছরের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করছে। তার বাবা-মা চট্টগ্রামে থাকেন। সে একা একটা ছোট ফ্ল্যাটে থাকে মিরপুরে। জীবন তার কাছে ছিল বইয়ের পাতা আর স্বপ্নের মিশেল। কিন্তু স্বপ্নের মধ্যে একটা মুখ বারবার আসতো – একটা লম্বা, শান্ত চেহারার ছেলে, যার হাসিতে যেন পুরো পৃথিবী আলো হয়ে যায়।

সেই ছেলেটির নাম রাহাত।

kx/춺'

রাহাত ২৭ বছরের। সে একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে সিনিয়র ডেভেলপার। মিরপুরেরই আরেকটা অ্যাপার্টমেন্টে থাকে। প্রতিদিন সকালে জগিং করতে বের হয়, আর ফেরার পথে আয়েশার বারান্দার নিচ দিয়ে হেঁটে যায়। দুজনের চোখ প্রথম দেখা হয়েছিল বৃষ্টির এক সন্ধ্যায়। আয়েশা ছাতা ভুলে বেরিয়েছিল, রাহাত তার ছাতাটা এগিয়ে দিয়েছিল।

“ভিজে যাবেন না, নিন।” – রাহাতের গলা ছিল নরম, গভীর।

সেই থেকে দুজনের মধ্যে একটা অদৃশ্য সুতো বাঁধা পড়ে গিয়েছিল।

দিন যায়। আয়েশা প্রায়ই বারান্দায় বসে বই পড়তো। রাহাত ফিরতি পথে মাঝে মাঝে তাকাতো। একদিন সাহস করে উপরে উঠে এলো।

“আসসালামু আলাইকুম। আমি রাহাত। নিচের ব্লকের ফ্ল্যাটে থাকি।”

আয়েশা লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছিল। “ওয়ালাইকুম আসসালাম। আয়েশা।”

সেই দিন থেকে তারা কথা বলা শুরু করল। প্রথমে শুধু হাই-হ্যালো, তারপর আবহাওয়া, তারপর বই, সিনেমা, গান। রাহাত জানতো আয়েশা রবীন্দ্রনাথের ভক্ত। সে একদিন তার জন্য ‘গীতাঞ্জলি’র একটা পুরনো সংস্করণ নিয়ে এলো।

“আপনার জন্য।”

আয়েশার চোখে জল চলে এসেছিল।

দুই মাস পর।

একটা শুক্রবার। রাহাত ফোন করল, “আয়েশা, আজ সন্ধ্যায় লেকের ধারে যাবেন? অনেকদিন ধরে বলছিলাম।”

আয়েশা রাজি হয়ে গেল।

সন্ধ্যা সাতটায় তারা মিরপুর লেকের পাশে দেখা করল। আকাশে লাল-কমলা রং ছড়িয়ে পড়েছে। রাহাত একটা সাদা শার্ট আর জিন্স পরে এসেছে। আয়েশা পরেছে হালকা গোলাপি সালোয়ার।

তারা হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছিল। রাহাত বলল, “আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার মা বলতো – যে মেয়েটা তোমার চোখে সবচেয়ে সুন্দর লাগবে, সে-ই তোমার জীবনের আলো।”

আয়েশা মুখ নিচু করে হাসল, “আর আমি ভাবতাম, প্রেম মানে শুধু বইয়ের পাতায় থাকে।”

রাহাত তার হাতটা ধরল। প্রথমবার। আয়েশার শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেল।

“আমি তোমাকে ভালোবাসি, আয়েশা।”

সেই রাতে চাঁদের আলোয় তারা প্রথম চুমু খেল। লেকের পাড়ে, একটা নির্জন জায়গায়। রাহাতের ঠোঁট ছিল নরম, উষ্ণ। আয়েশা তার বুকে মাথা রেখে কাঁপছিল।

পরের কয়েক সপ্তাহ তারা একে অপরের কাছে আরও কাছে চলে এলো। রাহাতের ফ্ল্যাটে আয়েশা যেত। তারা একসাথে রান্না করতো, গান শুনতো, বই পড়তো।

এক রাতে বৃষ্টি পড়ছিল খুব। বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। দুজনে একটা মোমবাতির আলোয় বসে ছিল। আয়েশা শীতে কাঁপছিল। রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরল।

“ঠান্ডা লাগছে?”

আয়েশা মাথা নেড়ে তার বুকে মুখ লুকাল। রাহাত তার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। ধীরে ধীরে তার হাত নেমে এলো আয়েশার পিঠে। সালোয়ারের উপর দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। আয়েশার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।

“রাহাত…”

“আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। যদি না চাও, থামিয়ে দাও।”

আয়েশা উত্তর না দিয়ে তার ঠোঁটে চুমু দিল। সেই চুমু ধীরে ধীরে গভীর হলো। রাহাত তাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় নিয়ে গেল। মোমবাতির আলোয় তাদের দুটো শরীর এক হয়ে গেল।

রাহাতের হাত আয়েশার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি অন্বেষণ করছিল। তার ঠোঁট আয়েশার গলা, কাঁধ, বুকের উপর ঘুরে বেড়াচ্ছিল। আয়েশা আনন্দে কেঁপে উঠছিল। যখন রাহাত তার ভিতরে প্রবেশ করল, আয়েশা তার নাম ধরে চিৎকার করে উঠল। বৃষ্টির শব্দের সাথে তাদের নিঃশ্বাস আর আনন্দের শব্দ মিশে একাকার হয়ে গেল।

সেই রাতে তারা অনেকবার ভালোবাসল। কখনো ধীরে, কখনো উন্মাদের মতো। চাঁদের আলো জানালা দিয়ে এসে তাদের শরীরে পড়ছিল।

কিন্তু সুখ চিরকাল থাকে না। আয়েশার বাবা জানতে পারলেন। তিনি খুব রক্ষণশীল। বললেন, “রাহাতের পরিবারের সাথে কথা বলব না। তুমি বিয়ে করবে আমাদের পছন্দের ছেলেকে।”

আয়েশা কেঁদে ফেলল। রাহাতকে ফোন করে সব বলল।

রাহাত শান্ত গলায় বলল, “আমি তোমাকে ছাড়ব না। চলো আমরা একসাথে লড়াই করি।”

তারা পরিকল্পনা করল। রাহাত তার পরিবারের সাথে কথা বলবে, আয়েশা তার বাবা-মাকে বোঝাবে। কিন্তু বাবা রেগে গিয়ে আয়েশাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

আয়েশা চট্টগ্রামে চলে গেল। দুজনের মধ্যে ফোনেই কথা হতো। রাতে রাহাত বলতো, “তোমার গন্ধ এখনো আমার বালিশে লেগে আছে। তোমার স্পর্শ এখনো আমার শরীরে।”

আয়েশা কাঁদতে কাঁদতে বলতো, “আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।”

একদিন আয়েশা বলল, “আমি পালিয়ে যাব।”

রাহাত বলল, “না। আমি তোমার বাবার সাথে কথা বলব।”

রাহাত চট্টগ্রামে গেল। আয়েশার বাবার সাথে অনেকক্ষণ কথা বলল। সে তার চাকরি, পরিবার, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সব খুলে বলল। আয়েশার মা মেয়ের চোখের জল দেখে বাবাকে রাজি করালেন।

শেষ পর্যন্ত বাবা রাজি হলেন।

বিয়ে হয়ে গেল ছয় মাস পর। ঢাকায় একটা সুন্দর অনুষ্ঠান।

বিয়ের পর তারা একসাথে থাকতে শুরু করল। রাহাতের ফ্ল্যাটটা এখন তাদের নীড়। প্রতি রাতে তারা একে অপরকে আবিষ্কার করতো।

এক রাতে আয়েশা বলল, “আজ আমি তোমাকে পুরোপুরি চাই।”

রাহাত তাকে তুলে নিয়ে শোয়াল। আয়েশার শরীর এখন তার খুব চেনা। সে ধীরে ধীরে তার প্রতিটা জায়গায় চুমু খেল – কপাল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত। আয়েশা তার চুল ধরে টেনে নিজের দিকে নিয়ে এলো।

তাদের মিলন এখন আরও গভীর, আরও আবেগপূর্ণ। রাহাত আয়েশার ভিতরে ঢুকে ধীরে ধীরে নড়াচড়া করছিল। আয়েশা তার কানে কানে ফিসফিস করে বলছিল, “আরও জোরে… আমি তোমার। পুরোপুরি তোমার।”

তারা একসাথে চূড়ায় পৌঁছাল। শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছিল। চাঁদের আলো আবার জানালা দিয়ে এসে পড়ল তাদের উপর।

....
👁 32