বৃষ্টি বাতাসে জড়ানো হৃদয়

আরিফ প্রতিদিনের মতো তার মোটরবাইক নিয়ে অফিসে যাচ্ছিল। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। একটা আইটি কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করে। চোখে চশমা, চুল উসকোখুসকো, কিন্তু হাসিটা সবসময় মিষ্টি। তার জীবনটা ছিল নিয়মিত—অফিস, বাসা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা। প্রেম? সেটা তার কাছে ছিল দূরের স্বপ্ন।

kxz

সেদিন বিকেলে অফিস থেকে বেরিয়ে সে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে গেল। সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ তার মনকে শান্ত করে। সেখানে বসে সে ল্যাপটপ খুলে কিছু কোডিং করছিল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল একটা মেয়ের দিকে। মেয়েটা সাদা সালোয়ার কামিজ পরে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার লম্বা চুল বাতাসে উড়ছিল। চোখ দুটো যেন সমুদ্রের গভীরতা ধারণ করেছে। নাম তার নিশাত। বয়স চব্বিশ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করছে। সে তার বান্ধবীদের সাথে এসেছিল, কিন্তু একা একা সমুদ্র দেখতে ভালোবাসে।

আরিফের চোখ আটকে গেল। সে কখনো এমন সুন্দরী দেখেনি। নিশাতও একঝলক তাকাল, হাসল একটু। কিন্তু কথা বলল না। সেদিন শুধু চোখাচোখি হয়েছিল।

kx/춺'

পরের সপ্তাহে আবার পতেঙ্গায় দেখা। এবার আরিফ সাহস করে কাছে গেল। “আপনি প্রায়ই এখানে আসেন?” আরিফ জিজ্ঞাসা করল।

নিশাত মুখ ঘুরিয়ে তাকাল। তার গালে হালকা লালচে ভাব। “হ্যাঁ, সমুদ্র আমাকে শান্তি দেয়। আপনি?”

“আমিও। কোডিংয়ের স্ট্রেস কমাতে।”

দুজনের মধ্যে কথা শুরু হল। নিশাত বলল তার স্বপ্নের কথা—একদিন একটা বই লিখবে প্রেম নিয়ে। আরিফ বলল তার ছোটবেলার গল্প, কীভাবে চট্টগ্রামের পাহাড়ে ঘুরে বেড়াত। সেদিন সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে দুজনের মধ্যে একটা সংযোগ তৈরি হল।

দিন যায়। তারা প্রায়ই পতেঙ্গায় দেখা করত। কখনো কফি খেতে যেত বন্দরের কাছে। নিশাতের হাসি আরিফের বুক কাঁপিয়ে দিত। তার কথা শুনতে শুনতে আরিফ ভাবত, এই মেয়েটাই হয়তো তার জীবনের সঙ্গী। নিশাতও আরিফের স্থিরতা, তার মৃদু স্বভাবে মুগ্ধ হয়ে যেত। আরিফ কখনো জোর করে কিছু বলত না, সবসময় তার মতামত শুনত।

একদিন বৃষ্টির দিনে তারা একটা ছোট ক্যাফেতে আশ্রয় নিল। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, ভিতরে শুধু তাদের কথা। নিশাত বলল, “আরিফ ভাইয়া, আপনার সাথে কথা বললে মনে হয় সব ঠিক হয়ে যাবে।”

আরিফ তার হাতটা আলতো করে ধরল। “নিশাত, আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি।”

নিশাত চোখ নামিয়ে ফেলল, কিন্তু হাত সরিয়ে নিল না। সেই প্রথম স্পর্শ। তাদের হৃদয়ের দরজা খুলে গেল।

তারপর থেকে তাদের প্রেম গভীর হতে লাগল। তারা ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলত। নিশাত আরিফকে তার কবিতা শোনাত। আরিফ তাকে নিয়ে সমুদ্রের ধারে হাঁটত। একদিন তারা কক্সবাজারে গেল উইকেন্ডে। সমুদ্রের ঢেউয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আরিফ নিশাতকে জড়িয়ে ধরল। বাতাসে তাদের চুল উড়ছিল। নিশাতের ঠোঁটে হালকা হাসি। আরিফ তার কপালে চুমু খেল। “তুমি আমার সবকিছু,” ফিসফিস করে বলল সে।

নিশাতের চোখ ভিজে উঠল। “আমিও তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না।”

সেই রাতে হোটেলের বারান্দায় তারা অনেকক্ষণ বসে ছিল। আরিফ নিশাতের কোলে মাথা রেখে শুয়েছিল। নিশাত তার চুলে আঙুল চালাচ্ছিল। তাদের শরীরের উষ্ণতা মিশে যাচ্ছিল। আরিফ নিশাতের গলায় চুমু দিল, তারপর ঠোঁটে। সেই চুমুটা ছিল নরম, আবেগপূর্ণ। নিশাতের শরীর কেঁপে উঠল। তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ চুমু খেল। সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ তাদের প্রেমের সাক্ষী হয়ে রইল।

কিন্তু প্রেমের পথ কখনো সহজ হয় না। নিশাতের পরিবার খুব রক্ষণশীল। তার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তিনি চান নিশাতের বিয়ে হোক তার পছন্দের ছেলের সাথে। আরিফের পরিবারও মধ্যবিত্ত, তারা চান ছেলে ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করুক। যখন আরিফ বাসায় বলল নিশাতের কথা, তার মা বললেন, “দেখে শুনে নাও। মেয়েটা কেমন?”

নিশাতের বাসায় কথা উঠতেই সমস্যা শুরু। তার চাচা বললেন, “আরিফের চাকরি ঠিক আছে, কিন্তু আমরা ঢাকার ছেলে দেখছি।” নিশাত কাঁদল অনেক। সে আরিফকে ফোন করে বলল, “আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।”

আরিফ বলল, “আমি লড়ব। তোমার জন্য সব করব।”

তারা গোপনে দেখা করতে লাগল। একদিন রাতে পাহাড়ের উপরে একটা নির্জন জায়গায় তারা মিলিত হল। চারদিকে অন্ধকার, শুধু তারাদের আলো। আরিফ নিশাতকে জড়িয়ে ধরে বলল, “তুমি আমার জীবন।” নিশাত তার বুকে মাথা রেখে কাঁদল। তাদের শরীর এক হয়ে গেল সেই রাতে। নরম আলোয় তাদের প্রেমের শারীরিক প্রকাশ হল। আরিফ নিশাতের প্রতিটা অংশে চুমু দিল, তার শরীরকে ভালোবাসল। নিশাতও আরিফকে পুরোপুরি গ্রহণ করল। সেই মুহূর্তে তারা দুজন এক হয়ে গেল। ঘামে ভেজা শরীর, দ্রুত শ্বাস, আর প্রেমের ফিসফিসানি। “আমি তোমার,” নিশাত বলল।

কিন্তু পরিবারের চাপ বাড়তে লাগল। নিশাতকে জোর করে একটা ছেলের সাথে দেখা করানো হল। নিশাত অস্বীকার করল। সে বাসা থেকে বেরিয়ে আরিফের কাছে চলে এল। আরিফ তাকে নিয়ে একটা ছোট অ্যাপার্টমেন্টে রাখল। তারা দুজনে মিলে লড়াই করল। আরিফ তার বাবা-মাকে বুঝাল। অনেক কথা, অনেক আলোচনার পর দুই পরিবার রাজি হল।

বিয়ে হল চট্টগ্রামের একটা সুন্দর হলে। নিশাত লাল বেনারসি পরে অপূর্ব লাগছিল। আরিফ তার হাত ধরে বলল, “আজ থেকে তুমি আমার।”

বিয়ের পর তাদের জীবন নতুন করে শুরু হল। তারা চট্টগ্রামের একটা ছোট বাসায় থাকত। সকালে আরিফ অফিসে যাওয়ার আগে নিশাতকে চুমু দিয়ে যেত। রাতে তারা একসাথে রান্না করত, গল্প করত। নিশাত তার বই লিখতে শুরু করল, আরিফ তাকে সাহায্য করত।

তাদের প্রেম আরও গভীর হল। একদিন রাতে বৃষ্টির মধ্যে তারা আবার সমুদ্রের ধারে গেল। ভেজা বালিতে দাঁড়িয়ে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। আরিফ নিশাতের ভেজা ঠোঁটে চুমু খেল। তাদের শরীর বৃষ্টিতে ভিজে এক হয়ে গেল। বাসায় ফিরে তারা সারা রাত ভালোবাসায় মগ্ন রইল। নিশাত আরিফের বুকে শুয়ে বলল, “তুমি আমার সমুদ্র, আমার পাহাড়, আমার সবকিছু।”

বছর খানেক পর নিশাতের কোলে এল একটা ফুটফুটে বাচ্চা। ছেলে। তারা নাম রাখল “আয়ান”। আয়ানকে নিয়ে তাদের জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠল। আরিফ প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে ছেলেকে কোলে নিয়ে নিশাতকে জড়িয়ে ধরত।

সময় যায়। তাদের প্রেম কখনো কমেনি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের ভালোবাসা আরও পাকা হয়েছে। পতেঙ্গার সমুদ্রতীরে এখনো তারা হাত ধরে হাঁটে। বুড়ো বয়সেও তারা একে অপরের চোখে সেই প্রথম দেখার ঝলক খুঁজে পায়।

 

....
👁 36