রিদয়ের ভালোবাসার ছোঁয়া

বৃষ্টির দিন। আকাশ কালো করে মেঘ জমে ছিল। আমি জানালার পাশে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম। চুল ভিজে গিয়েছিল একটু, কারণ অফিস থেকে বেরিয়ে ছাতা খুঁজে পাইনি।

kxz

রিদয় এসে ঠিক আমার পাশের টেবিলে বসল। লম্বা, ফর্সা, চোখ দুটো যেন কোনো গভীর সমুদ্র। পরনে সাদা শার্ট, হাতায় কনুই পর্যন্ত গুটানো। সে কফি অর্ডার করতে গিয়ে আমার দিকে একবার তাকাল। সেই তাকানোয় কোনো লোভ ছিল না, শুধু একটা নরম কৌতূহল।

“ভিজে গেছেন তো? ন্যাপকিন লাগবে?” তার গলায় হালকা হাসি।

kx/춺'

আমি মাথা নেড়ে না বললাম। কিন্তু সে তবু একটা ন্যাপকিন এগিয়ে দিল। আমার আঙুল তার আঙুলে হালকা ছুঁয়ে গেল। সেই প্রথম ছোঁয়া। যেন বিদ্যুৎ চলে গেল শরীরে। আমি চোখ নামিয়ে নিলাম।

নাম রিদয় আহমেদ। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। চট্টগ্রামের ছেলে, ঢাকায় চাকরি করতে এসেছে দু’বছর হলো। আমি সুমি। একটা ছোট এজেন্সিতে কনটেন্ট লিখি।

দ্বিতীয়বার দেখা হলো সেই একই কফি শপে, এক সপ্তাহ পর। এবার সে নিজে থেকে এসে জিজ্ঞেস করল, “একা বসে আছেন? যদি কোনো সমস্যা না হয়, একটু গল্প করি?”

আমরা গল্প করলাম। ঘণ্টা দুয়েক। বৃষ্টি থামেনি। সে বলল তার ছোটবেলার কথা, চট্টগ্রামের পাহাড়ি রাস্তায় সাইকেল চালানোর কথা। আমি বললাম আমার ঢাকার ছাদে বৃষ্টিতে ভেজার গল্প। তার হাসিতে একটা নিরাপদ আশ্রয়ের অনুভূতি ছিল।

সেই দিন বিদায় নেওয়ার সময় সে আমার হাতটা হালকা করে ধরল। “আবার দেখা হবে তো?”

আমি শুধু হাসলাম। কিন্তু হৃদয়টা বলছিল—হ্যাঁ।

তারপর থেকে আমাদের দেখা হতে শুরু করল নিয়মিত। কখনো কফি শপে, কখনো ধানমন্ডি লেকের পাড়ে হাঁটতে হাঁটতে। রিদয়ের ছোঁয়া ছিল খুব নরম, খুব সাবধানী। সে কখনো জোর করে কিছু করত না। শুধু হাত ধরে হাঁটত, কখনো আমার কাঁধে হাত রাখত যখন রাস্তা পার হতাম।

একদিন সন্ধ্যায় আমরা লেকের একটা নির্জন বেঞ্চে বসেছিলাম। বাতাসে শীতল ভাব। আমি একটু কাঁপছিলাম। রিদয় তার জ্যাকেটটা খুলে আমার গায়ে দিল। তারপর তার হাতটা আমার হাতের উপর রাখল। আঙুলগুলো ধীরে ধীরে আমার আঙুলের ফাঁকে ঢুকে গেল।

“ঠান্ডা লাগছে?” তার গলা ফিসফিস।

আমি মাথা নেড়ে না বললাম। আসলে ঠান্ডা লাগছিল না। তার ছোঁয়ায় শরীরটা গরম হয়ে উঠছিল। তার আঙুল আমার তালুতে হালকা ঘষছিল। ছোট ছোট বৃত্ত আঁকছিল। সেই ছোঁয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না। শুধু একটা গভীর আবেগ। আমার হৃদয় দ্রুত চলছিল।

“সুমি, তোমার সাথে থাকলে সময় থেমে যায়,” সে বলল।

আমি তার চোখের দিকে তাকালাম। চাঁদের আলোয় তার মুখটা আরও সুন্দর লাগছিল। আমি নিজের হাতটা উল্টে তার হাত ধরলাম। এবার আমি তার তালুতে আঙুল বুলিয়ে দিলাম। তার শ্বাস একটু ভারী হয়ে গেল।

সেই রাতে প্রথমবার সে আমাকে জড়িয়ে ধরল। খুব আলতো করে। তার বুকে মাথা রেখে আমি তার হৃদস্পন্দন শুনলাম। তার হাত আমার পিঠে ঘুরছিল। আঙুলগুলো আমার চুলের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছিল, আলতো করে চুলে বিলি কাটছিল। প্রতিটা ছোঁয়ায় যেন ভালোবাসার একটা নতুন ভাষা শিখছিলাম।

দিনগুলো কাটতে লাগল। আমাদের সম্পর্ক গভীর হচ্ছিল। একদিন সে আমাকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে গেল। ছোট্ট, সুন্দর সাজানো ফ্ল্যাট। বারান্দায় গাছ লাগানো। সে রান্না করল—চট্টগ্রামের স্টাইলে মাছের কালিয়া। আমরা খেতে খেতে হাসলাম, গল্প করলাম।

খাওয়ার পর সে আমাকে সোফায় টেনে নিল। “একটু কাছে আয়,” বলে আমার কপালে চুমু খেল। তার ঠোঁট ছিল উষ্ণ। তারপর তার হাত আমার গালে। আঙুল দিয়ে গালের লাইন অনুসরণ করছিল। চোখ বন্ধ করে আমি সেই ছোঁয়া উপভোগ করছিলাম।

তার হাত নেমে এল আমার ঘাড়ে। হালকা ম্যাসাজ করতে করতে সে আমার চুল সরিয়ে গলায় চুমু দিল। আমার শরীর কেঁপে উঠল। “রিদয়…” আমি ফিসফিস করে ডাকলাম।

“আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না,” সে বলল। “শুধু তোমাকে অনুভব করতে চাই।”

তার হাত আমার কাঁধ থেকে নেমে হাত বেয়ে নামল। আঙুলগুলো আমার আঙুলের সাথে জড়িয়ে গেল। তারপর সে আমাকে কোলে তুলে নিল। খুব সাবধানে, যেন আমি কাচের তৈরি। বেডরুমে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিল।

আলোটা ডিম লাইট। সে আমার পাশে শুয়ে আমার চোখে চোখ রাখল। তার হাত আমার কপাল থেকে গাল, গাল থেকে ঠোঁট, ঠোঁট থেকে গলা—ধীরে ধীরে নামছিল। প্রতিটা ছোঁয়ায় আমার শরীর জেগে উঠছিল। আমি তার শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে তার বুকে হাত রাখলাম। তার হৃদয় দ্রুত চলছিল।

“তোমার ছোঁয়া আমাকে পাগল করে দেয়,” আমি বললাম।

সে হাসল। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমাদের শরীর এক হয়ে গেল। তার হাত আমার পিঠে, কোমরে, উরুতে ঘুরছিল। কখনো আলতো, কখনো একটু চাপ দিয়ে। যেন সে আমার প্রতিটা ইঞ্চি মুখস্থ করতে চাইছে। আমি তার ঘাড়ে মুখ গুঁজে তার গন্ধ নিলাম। তার ছোঁয়ায় আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলাম।

সেই রাতে আমরা অনেকক্ষণ জড়াজড়ি করে শুয়ে রইলাম। কথা বলছিলাম না। শুধু ছোঁয়া। তার আঙুল আমার পেটে বৃত্ত আঁকছিল, আমার হাত তার চুলে। সময় যেন থেমে গিয়েছিল।

পরের দিনগুলো আরও সুন্দর হতে লাগল। আমরা সপ্তাহান্তে কক্সবাজার গেলাম। সমুদ্রের ধারে হাঁটতে হাঁটতে সে আমার কোমর জড়িয়ে ধরে রাখত। ঢেউ এসে পায়ে লাগলে আমরা হাসতাম। রাতে হোটেলের বারান্দায় বসে সে আমার হাত ধরে আঙুলে চুমু খেত।

একদিন ঝড় উঠল। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। আমরা ভয়ে জড়াজড়ি করে শুয়ে পড়লাম। তার শরীর আমার শরীরকে ঢেকে রেখেছিল। তার হাত আমার মাথায়, পিঠে, সব জায়গায়। “আমি আছি,” বারবার বলছিল। সেই ছোঁয়ায় ভয় চলে গিয়েছিল। শুধু নিরাপত্তা আর ভালোবাসা।

ফিরে আসার পর আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। রিদয় একদিন আমাকে বলল, “সুমি, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তোমার সাথে সারাজীবন এভাবে ছুঁয়ে থাকতে চাই।”

আমার চোখে জল চলে এসেছিল। আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। তার ঠোঁটে ঠোঁট রাখলাম। এবার ছোঁয়া আরও তীব্র হয়ে উঠল। তার হাত আমার শরীরের প্রতিটা কোণ অন্বেষণ করছিল। আমি তার শরীরে নিজেকে মিশিয়ে দিলাম।

আমাদের শরীর এক হয়ে যাচ্ছিল। তার ছোঁয়া এখন আর শুধু আলতো নয়, ভালোবাসায় পূর্ণ, আবেগে ভরা। সে আমার প্রতিটা ইঞ্চি চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিচ্ছিল। আমার হাত তার পিঠে নখ বসিয়ে দিচ্ছিল। আমরা একে অপরকে অনুভব করছিলাম সম্পূর্ণভাবে।

সেই রাতের পর আমরা আরও কাছাকাছি হয়ে গিয়েছিলাম। রিদয় প্রতিদিন ছোট ছোট ছোঁয়ায় আমাকে ভালোবাসা দিত। সকালে ঘুম থেকে উঠে কপালে চুমু, রাতে শোয়ার আগে পিঠে হাত বুলিয়ে দেওয়া।

কয়েক মাস পর আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। সাধারণ অনুষ্ঠান। পরিবারের সবাই খুশি। আমরা নতুন ফ্ল্যাটে চলে এলাম। প্রতি রাতে রিদয় আমাকে তার ছোঁয়ায় মুড়িয়ে দিত। তার হাত আমার শরীরে ঘুরে বেড়াত। কখনো নরম, কখনো আবেগপূর্ণ।

একদিন রাতে আমি তার বুকে মাথা রেখে বললাম, “রিদয়, তোমার ছোঁয়া ছাড়া আমি আর বাঁচতে পারব না।”

সে আমার চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, “আমিও না। তুমি আমার সব।”

আমাদের জীবন এভাবেই চলতে লাগল। বছর গড়িয়ে গেল। আমরা একটা ছোট্ট মেয়ের মা-বাবা হলাম। রিদয় তার মেয়েকেও একই নরম ছোঁয়ায় আদর করত। কিন্তু আমার সাথে তার ছোঁয়া ছিল অন্যরকম। এখনও সেই প্রথম কফি শপের মতোই ম্যাজিকাল।

যখনই আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি, রিদয় এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে। তার হাত আমার কাঁধে, পিঠে। আঙুলগুলো জাদু করে। সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

আজও, বিয়ের পাঁচ বছর পর, যখন রাত হয়, রিদয় আমার কাছে আসে। তার ছোঁয়ায় এখনও সেই প্রথম দিনের উত্তেজনা, সেই নিরাপত্তা, সেই অসীম ভালোবাসা।

....
👁 254