তোমার বুকে হারিয়ে যাওয়া

ঢাকার ভিড়ের মধ্যেও একটা ছোট ফ্ল্যাটে থাকতো রাহাত আর আয়েশা। রাহাত ছিল একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার। বয়স ৩২। লম্বা, সুঠাম শরীর, চোখে সবসময় একটা নরম দৃষ্টি। আর আয়েশা, ২৮ বছরের, একটা প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষিকা। তার চোখ দুটো ছিল যেন দুটো তারা, হাসলে গালে টোল পড়তো। তাদের বিয়ে হয়েছিল তিন বছর আগে। কিন্তু এখনও প্রতিটা দিন তাদের কাছে নতুন করে প্রেমের শুরু মনে হতো।

kxz

সকালবেলা। রাহাতের ঘুম ভাঙল আয়েশার নরম হাতের ছোঁয়ায়। সে চুলগুলো সরিয়ে রাহাতের কপালে চুমু খেল। “উঠো জান, অফিসের সময় হয়ে গেছে।” রাহাত চোখ বন্ধ করে আয়েশাকে জড়িয়ে ধরল। “আরেকটু শুয়ে থাকি না। আজ ছুটি নিয়ে নেই।” আয়েশা হেসে উঠল, “তোমার বস শুনলে কী বলবে?” রাহাত তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, “বলবে, তোমার বউয়ের কাছে থাকো। সে তোমার সবচেয়ে বড় বস।”

আয়েশা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। তাদের এই ছোট ছোট রোমান্টিক কথাগুলোই তাদের দিন শুরু করতো। রাহাত উঠে বাথরুমে গেল। আয়েশা রান্নাঘরে গিয়ে চা বানাল। সকালের নাশতায় পারোটা, ডিম আর রাহাতের প্রিয় আচার। টেবিলে বসে তারা দুজন একসাথে খেত। রাহাত আয়েশার হাত ধরে বলতো, “তুমি না থাকলে এই জীবনটা কত ফাঁকা হয়ে যেত।”

kx/춺'

অফিস থেকে ফিরে রাহাত প্রায়ই ফুল নিয়ে আসতো। আজও এসেছে একটা সুন্দর গোলাপের তোড়া। আয়েশা দরজা খুলে দেখে চোখ চকচক করে উঠল। “আবার ফুল? কতদিন ধরে এভাবে করছো?” রাহাত হেসে বলল, “প্রতিদিন তোমাকে নতুন করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।” সে আয়েশাকে কাছে টেনে নিয়ে চুমু খেল। চুমুটা প্রথমে নরম, তারপর গভীর। আয়েশার শরীরটা রাহাতের বুকে মিশে গেল।

রাত হয়ে গেল। তারা দুজন বারান্দায় বসে চাঁদ দেখছিল। ঢাকার আকাশে চাঁদ উঠেছে। আয়েশা রাহাতের কাঁধে মাথা রেখে বলল, “মনে আছে আমাদের প্রথম দেখা?” রাহাত হাসল, “কীভাবে ভুলব? তোমার চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে। তুমি লাল শাড়ি পরে এসেছিলে। আমি তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভুলে গিয়েছিলাম কথা বলতে।”

আয়েশা লজ্জায় মুখ লুকাল। “তুমি তো সেদিন আমাকে প্রপোজই করে ফেলেছিলে প্রায়।” রাহাত তার চুলে হাত বুলিয়ে বলল, “হ্যাঁ। কারণ আমি বুঝে গিয়েছিলাম, তুমি ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ।”

তারা দুজন ভেতরে চলে এল। রাহাত আয়েশাকে বিছানায় নিয়ে গেল। আলো নিভিয়ে দিয়ে শুধু ছোট একটা নাইট ল্যাম্প জ্বালাল। আয়েশার শরীরটা চাঁদের আলোয় যেন আরও সুন্দর লাগছিল। রাহাত তার কপালে, চোখে, ঠোঁটে চুমু দিতে দিতে বলল, “তুমি আমার সব।” আয়েশা তার গলা জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল, “তুমিও আমার সব।”

তাদের শরীর এক হয়ে গেল। রাহাত আয়েশার প্রতিটা ইঞ্চি ছুঁয়ে দিচ্ছিল নরম হাতে। আয়েশার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল। সে রাহাতের পিঠে নখ বসিয়ে দিল আনন্দের ঝাঁকুনিতে। রাত গভীর হলো। তারা একে অপরের মধ্যে হারিয়ে গেল। প্রেমের স্রোতে ভাসতে ভাসতে দুজন একসাথে চূড়ায় পৌঁছাল। তারপর ক্লান্ত কিন্তু সুখী হয়ে জড়াজড়ি করে শুয়ে রইল।

পরের দিন ছিল শুক্রবার। ছুটির দিন। রাহাত আয়েশাকে নিয়ে প্ল্যান করল, “চলো আজ কোথাও বের হই।” আয়েশা খুশিতে লাফিয়ে উঠল, “কোথায়?” “সাজেক।” আয়েশা অবাক, “এত তাড়াতাড়ি?” রাহাত হেসে বলল, “সারপ্রাইজ। আমি সব বুক করে ফেলেছি।”

তারা গাড়ি নিয়ে রওনা দিল। পথে গান বাজছিল। আয়েশা রাহাতের হাত ধরে গান গাইছিল। “তুমি আমার প্রিয়তমা...” রাহাতও গলা মেলাল। পথের ধারে চা বাগান, পাহাড়, সবুজ। সাজেকে পৌঁছে তারা রিসোর্টে চেক ইন করল। ঘরটা ছিল পাহাড়ের উপর। জানালা দিয়ে সূর্যাস্ত দেখা যাচ্ছিল।

সন্ধ্যায় তারা হাত ধরে হাঁটছিল। ঠান্ডা বাতাস আয়েশার চুল উড়িয়ে দিচ্ছিল। রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরল। “এই মুহূর্তগুলোই জীবনের সেরা।” আয়েশা তার বুকে মুখ গুঁজে বলল, “তোমার সাথে থাকলে সব জায়গাই স্বর্গ।”

রাতে তারা আবার এক হয়ে গেল। এবার আরও ধীরে, আরও গভীরভাবে। পাহাড়ের নীরবতার মধ্যে শুধু তাদের নিঃশ্বাস আর ভালোবাসার শব্দ। আয়েশা রাহাতের কানে কানে বলল, “আমি তোমাকে আরও বেশি ভালোবাসি প্রতিদিন।” রাহাত তার চোখে চোখ রেখে বলল, “আর আমি তোমাকে চিরকাল।”

ফিরে এসে তাদের রুটিন চলতে লাগল। কিন্তু একদিন আয়েশা অসুস্থ হয়ে পড়ল। রাহাত অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় চলে এল। ডাক্তার দেখিয়ে জানা গেল আয়েশা প্রেগন্যান্ট। রাহাত আনন্দে আয়েশাকে জড়িয়ে ধরল। “আমাদের ছোট্ট একটা বেবি আসছে!” আয়েশার চোখে জল। “তুমি বাবা হবে।”

রাহাত আয়েশার যত্ন নিতে লাগল খুব। সকালে তার জন্য ফ্রেশ জুস বানাতো, রাতে পায়ে তেল মাখিয়ে দিতো। আয়েশা বলতো, “তুমি এত ভালোবাসো কেন?” রাহাত উত্তর দিতো, “কারণ তুমি আমার জীবনের আলো।”

গর্ভের নয় মাস কেটে গেল। হাসপাতালে আয়েশার প্রসব ব্যথা উঠল। রাহাত তার হাত ধরে ছিল। “ভয় পেও না জান, আমি আছি।” কয়েক ঘণ্টা পর একটা সুন্দর মেয়ে জন্ম নিল। রাহাত আয়েশার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “থ্যাঙ্ক ইউ ফর এভরিথিং।”

মেয়ের নাম রাখল তারা “আরিশা”। ছোট আরিশাকে কোলে নিয়ে তারা দুজন আরও কাছাকাছি হয়ে গেল। রাতে আরিশা ঘুমালে তারা দুজন বারান্দায় বসে চাঁদ দেখতো। আয়েশা বলতো, “আমাদের গল্পটা কখনো শেষ হবে না।” রাহাত বলতো, “হ্যাঁ, এটা চিরকাল চলবে।”

বছর কয়েক পর। আরিশা বড় হয়েছে। তারা তিনজন মিলে ছুটিতে সমুদ্রে গেল কক্সবাজারে। সমুদ্রের ঢেউয়ের সামনে দাঁড়িয়ে রাহাত আয়েশার কোমর জড়িয়ে ধরল। আরিশা দৌড়ে এসে দুজনকে জড়িয়ে ধরল। “আম্মু আব্বু, তোমরা সবচেয়ে ভালো।”

রাহাত আয়েশার চোখে তাকিয়ে হাসল। সেই প্রথম দেখার দিন থেকে আজ পর্যন্ত, তাদের ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে। ঝগড়া হয়েছে, মান অভিমান হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা একে অপরের কাছে ফিরে এসেছে। কারণ ভালোবাসা মানে শুধু আনন্দ নয়, একসাথে সবকিছু ভাগ করে নেওয়া।

রাতে হোটেলের ঘরে আরিশা ঘুমিয়ে পড়লে রাহাত আয়েশাকে কাছে টেনে নিল। “আজও তুমি আমার কাছে সেই প্রথম দিনের মতোই সুন্দর।” আয়েশা তার ঠোঁটে চুমু দিয়ে বলল, “আর তুমি আমার চিরকালের রাজপুত্র।”

তাদের শরীর আবার মিলিত হলো। এবার আরও পরিপূর্ণ, আরও পরিণত ভালোবাসায়। ঢেউয়ের শব্দের সাথে তাদের নিঃশ্বাস মিলে গেল। চাঁদনী রাতের মতোই তাদের জীবনটা আলোয় ভরে উঠল।

....
👁 190