ঢাকার একটি ছোট ফ্ল্যাটে বাস করে আয়েশা ও রাহাত। রাহাত একটা বেসরকারি কোম্পানিতে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ। প্রতিদিন সকাল সাতটায় বেরিয়ে যায়, ফিরতে রাত নটা-দশটা। আয়েশা গৃহিণী। বাইরে থেকে দেখলে তাদের জীবন সাধারণ। কিন্তু আয়েশার ভেতরে একটা লুকানো ঝড় বয়ে চলেছে।
সেদিন রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি। আয়েশা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো দেখছিল। তার পরনে হালকা নীল শাড়ি, চুল খোলা। রাহাত ফিরল ভিজে। “আয়েশা, তোয়ালে দাও তো।” আয়েশা দৌড়ে গিয়ে তোয়ালে এনে দিল। রাহাতের চোখে ক্লান্তি, কিন্তু আয়েশা দেখল সেই চোখে একটা আলাদা আলো।
“কী হয়েছে? ক্লান্ত লাগছে?” আয়েশা জিজ্ঞেস করল নরম গলায়। রাহাত হাসল। “হ্যাঁ, আজ অনেক মিটিং ছিল। কিন্তু তোমার কাছে ফিরলে সব ভুলে যাই।”
আয়েশা মনে মনে ভাবল, “তুমি জানো না, আমি তোমাকে কত লুকিয়ে ভালোবাসি। প্রতিদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করি, তোমার ছোঁয়া পেলে শরীর কাঁপে। কিন্তু বলতে পারি না। লজ্জা লাগে।”
রাতের খাবার খেতে খেতে তারা কথা বলছিল। আয়েশা রাহাতের প্লেটে বেশি করে মাছ দিল। রাহাত হাত বাড়িয়ে আয়েশার হাত ধরল। “তুমি না থাকলে আমি কী করতাম বলো তো?”
আয়েশার গাল লাল হয়ে গেল। সে চুপ করে রইল। খাওয়ার পর তারা সোফায় বসল। টিভিতে একটা রোমান্টিক সিনেমা চলছিল। রাহাত আয়েশাকে কাছে টেনে নিল। আয়েশার হৃদয় দ্রুত চলতে শুরু করল। তার লুকানো ভালোবাসা যেন বেরিয়ে আসতে চাইছিল।
রাহাত আয়েশার কপালে চুমু খেল। “আজ রাতটা অন্যরকম করি?” আয়েশা শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। তার শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল।
পরদিন সকালে আয়েশা উঠে রাহাতের জন্য নাশতা বানাল। কিন্তু তার মনে পুরনো স্মৃতি ভিড় করছিল। বিয়ের আগে আয়েশা রাহাতকে দেখে প্রথম থেকেই আকৃষ্ট হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের ভয়ে কখনো বলতে পারেনি। বিয়ের পরও সে তার ভালোবাসাকে লুকিয়ে রেখেছিল, ভেবেছিল হয়তো রাহাত তাকে শুধু দায়িত্ব হিসেবে দেখে।
একদিন রাহাত অফিস থেকে ফোন করল। “আয়েশা, আজ একটু দেরি হবে। তুমি খেয়ে নিও।” আয়েশা মন খারাপ করে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে রইল। সে ডায়েরিতে লিখল:
“রাহাত, তুমি জানো না, প্রতি রাতে তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে চাই। তোমার ছোঁয়ায় আমার শরীর জেগে ওঠে। এই লুকানো ভালোবাসা আমাকে পাগল করে দেয়।”
বিকেলে রাহাত ফিরল ফুল নিয়ে। “আজ আমাদের বিয়ের দিন মনে পড়ল।” আয়েশা অবাক হয়ে ফুল নিল। রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরল। “তুমি আমার সব।”
সেদিন রাতে তারা অনেকক্ষণ কথা বলল। আয়েশা তার লুকানো অনুভূতি কিছুটা প্রকাশ করল। “আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, রাহাত। কিন্তু কখনো বলতে পারি না।” রাহাত হেসে বলল, “আমিও তোমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি। তোমার হাসি দেখলে আমার দিন ভালো হয়ে যায়।”
তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আরও গভীর হল। আয়েশা তার শরীরের প্রতিটি অনুভূতি রাহাতকে দিয়ে দিল। রোমান্টিক আলিঙ্গন, চুমু, আর মধুর রাতের বর্ণনা এখানে বিস্তারিত।
এক সপ্তাহ পর রাহাতের অফিসে প্রমোশন হল। কিন্তু সাথে বেশি চাপ। রাহাত রাত করে ফিরতে লাগল। আয়েশা একা বসে কাঁদত। তার লুকানো ভালোবাসা যেন অসহ্য হয়ে উঠছিল। সে ভাবত, “যদি রাহাত জানতো আমি কতটা অপেক্ষা করি।”
একদিন ভয়ানক ঝড়। বিদ্যুৎ চলে গেল। আয়েশা মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে ছিল। রাহাত ভিজে ফিরল। “আয়েশা!” সে চিৎকার করে ডাকল। আয়েশা দৌড়ে গিয়ে রাহাতকে জড়িয়ে ধরল। “তোমার জন্য খুব চিন্তা হচ্ছিল।”
সেই অন্ধকারে তাদের ভালোবাসা আরও উন্মুক্ত হয়ে গেল। রাহাত আয়েশাকে কোলে তুলে নিয়ে বেডরুমে নিয়ে গেল। আয়েশা তার সব লুকানো আবেগ ঢেলে দিল। চুমুর পর চুমু, আদরের পর আদর। বৃষ্টি আর বিদ্যুতের আলোয় তাদের শরীর এক হয়ে গেল। আয়েশা ফিসফিস করে বলল, “আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।”
রাহাত বলল, “আমিও তোমার এই লুকানো ভালোবাসার জন্যই বেঁচে আছি।”
রাহাতের মা ঢাকায় এলেন। আয়েশা খুব সাবধানে সবকিছু সামলাতে লাগল। কিন্তু তার লুকানো ভালোবাসা প্রকাশ পেতে চাইছিল। রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ত, আয়েশা রাহাতের কাছে চলে আসত। তারা চুপিচুপি কথা বলত, আদর করত।
একদিন মা বললেন, “তোমরা তো এখনো ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভাবছ না?” আয়েশা লজ্জায় মাথা নিচু করল। রাহাত হেসে বলল, “সময় হলে হবে মা।”
রাতে আয়েশা রাহাতকে বলল, “আমি তোমার সন্তানের মা হতে চাই। কিন্তু তোমার ভালোবাসা ছাড়া কিছু চাই না।” রাহাত আয়েশাকে চুমু খেয়ে আশ্বাস দিল।
তাদের সম্পর্ক আরও মধুর হয়ে উঠল। আয়েশা তার লুকানো ভালোবাসাকে আর লুকিয়ে রাখল না। সে প্রতিদিন রাহাতকে ছোট ছোট চিঠি লিখে দিত। রাহাতও আয়েশাকে সারপ্রাইজ দিতে শুরু করল।
ছয় মাস পর। আয়েশা গর্ভবতী। রাহাত খুশিতে উদ্বেল। তারা দুজনে ছাদে বসে তারা দেখছিল। আয়েশা বলল, “আমার লুকানো ভালোবাসা আজ সবার সামনে এসে গেছে।”
রাহাত আয়েশার পেটে হাত রেখে বলল, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গোপন রহস্য।”
তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে রইল। আয়েশার চোখে আনন্দের অশ্রু। তার লুকানো ভালোবাসা এখন পূর্ণতা পেয়েছে।
....