রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তা পার হয়ে যখন রাহাত বাসায় ঢুকল, তখন ঘড়িতে রাত নটা বেজে গেছে। অফিসের ক্লান্তি তার কাঁধে ভারী হয়ে চেপে বসেছে। কিন্তু দরজা খুলতেই নাকে ভেসে এল পরিচিত গন্ধ – আয়েশার হাতের রান্নার সুবাস।
“আজকে আবার দেরি করলে?” আয়েশা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল। তার পরনে হালকা সবুজ শাড়ি, চুল খোলা, কপালে ঘামের ফোঁটা। রাহাতের বুকটা এক মুহূর্তে হালকা হয়ে গেল।
“সরি জান। মিটিংটা শেষ হতে চাইছিল না।” রাহাত তার কাছে এগিয়ে গিয়ে কপালে চুমু খেল। আয়েশা একটু মুখ গোঁজ করে সরে গেল, কিন্তু তার চোখে হাসি লুকানো ছিল।
“রোজই এক কথা। খাবে না নাকি?”
রাহাত হেসে তাকে জড়িয়ে ধরল। “খাব। কিন্তু আগে তোমাকে একটু দেখি।”
তারা দুজনেই তিন বছরের বিবাহিত। আয়েশা রাহাতের চেয়ে ছয় বছরের ছোট। বিয়ে হয়েছিল পরিবারের পছন্দে, কিন্তু প্রথম দিন থেকেই দুজনের মধ্যে একটা অদ্ভুত টান তৈরি হয়েছিল। আয়েশা লাজুক, কিন্তু একবার খুলে গেলে ঝড়ের মতো। রাহাত শান্ত, কিন্তু তার ভালোবাসা গভীর সমুদ্রের মতো।
রাতের খাবারের পর তারা বারান্দায় বসল। ঢাকার আকাশে চাঁদ উঠেছে। আয়েশা রাহাতের কাঁধে মাথা রেখে বলল, “জান, আজকে অফিসে একটা মেয়ে তোমার কথা জিজ্ঞাসা করছিল। বলল, ‘তোমার হাজবেন্ড নাকি খুব হ্যান্ডসাম?’”
রাহাত হেসে উঠল। “তুমি কী বললে?”
“বললাম, হ্যাঁ, কিন্তু আমার।” আয়েশা তার বুকে আলতো করে চড় মারল।
সেই রাতে তারা অনেকক্ষণ কথা বলল। রাহাত বলল তার ছোটবেলার গল্প, আয়েশা বলল তার কলেজ লাইফের। ধীরে ধীরে কথা কমে এল। রাহাত আয়েশার চুলে আঙুল চালাতে চালাতে তার ঠোঁটে চুমু খেল। আয়েশা চোখ বন্ধ করে সাড়া দিল। তাদের শরীর একে অপরের কাছে আরও কাছে সরে এল।
রাহাত আয়েশার শাড়ির আঁচল সরিয়ে তার কাঁধে চুমু দিল। আয়েশার শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। “জান… আজকে আমি তোমাকে অনেক আদর করব।”
“করো…” আয়েশা ফিসফিস করে বলল।
তারা শোবার ঘরে চলে গেল। রাহাত ধীরে ধীরে আয়েশার শাড়ি খুলে দিল। তার নরম, ফর্সা শরীর চাঁদের আলোয় চকচক করছিল। রাহাত তার গলায়, কানে, বুকে চুমুর পর চুমু দিতে লাগল। আয়েশা তার পিঠে নখ বসিয়ে কাঁপছিল।
“আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না,” রাহাত বলল।
“আমিও না…” আয়েশা তার ঠোঁট কামড়ে ধরল।
সেই রাতে তাদের মিলন ছিল ধীর, গভীর আর ভালোবাসায় ভরা। রাহাত প্রতিটা স্পর্শে আয়েশাকে বলছিল সে কতটা সুন্দর, কতটা দরকারি। আয়েশা তার কানে কানে বলছিল কতটা ভালোবাসে। যখন তারা একসাথে চূড়ায় পৌঁছাল, তখন দুজনের চোখেই জল চলে এসেছিল।
পরদিন সকালে আয়েশা রাহাতকে চা বানিয়ে দিল। রাহাত অফিস যাওয়ার আগে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আজকে তাড়াতাড়ি ফিরব। তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে।”
আয়েশা লজ্জায় মুখ লুকাল।
কিন্তু সেদিন অফিসে রাহাতের একটা বড় প্রজেক্টের ডেডলাইন পড়ে গেল। সে ফোন করে বলল, “জান, আজকে একটু লেট হবে। কিন্তু সারপ্রাইজটা নিয়ে আসব।”
আয়েশা একটু মন খারাপ করল। সে রান্না করে, ঘর গুছিয়ে বসে রইল। রাত এগারোটার সময় রাহাত ফিরল। হাতে একটা ছোট টিফিন বক্স আর একটা লাল গোলাপ।
“কী এটা?” আয়েশা জিজ্ঞাসা করল।
“খোলো।”
ভেতরে ছিল আয়েশার পছন্দের চকলেট আর একটা ছোট চিঠি। চিঠিতে লেখা:
“তোমার চোখে আমি চাঁদ দেখি। প্রতিদিন তোমাকে আরও বেশি করে ভালোবাসি। তোমার রাহাত।”
আয়েশার চোখে জল চলে এল। সে রাহাতকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “তুমি এমন করো কেন? আমি তো রাগ করতেও পারি না।”
রাহাত হেসে তাকে কোলে তুলে নিল। “কারণ তুমি আমার সব।”
সেই রাতেও তাদের মিলন হল। কিন্তু এবারটা ছিল আরও নিবিড়। রাহাত আয়েশার প্রতিটা অংশ চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিল। আয়েশা তার স্বামীর বুকে মাথা রেখে বলল, “জান, আমি মা হতে চাই। তোমার সন্তানের।”
রাহাত আনন্দে তাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরল। “তাহলে চলো, আজ থেকেই চেষ্টা শুরু করি।”
দিনগুলো কাটতে লাগল। একদিন আয়েশা অফিস থেকে ফিরে দেখল রাহাত রান্না করছে। সে অবাক হয়ে বলল, “এ কী! তুমি রান্না?”
“হ্যাঁ। আজকে তোমার ছুটি। তুমি শুধু বসে খাবে।”
রাহাতের হাতের রান্না খেতে খেতে আয়েশা হাসছিল। খাওয়ার পর তারা সোফায় বসে সিনেমা দেখছিল। রাহাত আয়েশার পা নিজের কোলে তুলে ম্যাসাজ করছিল। আয়েশা আরামে চোখ বন্ধ করল।
হঠাৎ আয়েশা বলল, “জান, মনে আছে আমাদের প্রথম রাতের কথা? তুমি এত লাজুক ছিলে যে আমাকেই তোমাকে আদর করতে হয়েছিল।”
রাহাত লজ্জায় হাসল। “আর এখন তো তুমিই লজ্জা পাও সবচেয়ে বেশি।”
তারা দুজনে হেসে উঠল। তারপর আবার একে অপরের দিকে ঝুঁকে পড়ল। সেই রাতে তাদের শরীর আর মন দুটোই এক হয়ে গেল।
কয়েক মাস পরের কথা।
আয়েশা টেস্ট করিয়ে জানতে পারল সে প্রেগন্যান্ট। সে খবরটা রাহাতকে দিতে গিয়ে কাঁপছিল। রাহাত যখন শুনল, সে আয়েশাকে কোলে তুলে ঘুরতে লাগল। “আমি বাবা হচ্ছি! আয়েশা, তুমি আমাকে সবচেয়ে সুন্দর উপহার দিলে।”
সেই রাতে তারা খুব আস্তে আস্তে মিলিত হল। রাহাত আয়েশার পেটে হাত রেখে বলল, “আমাদের ছোট্ট বেবি, তোমার মা খুব সুন্দর। তুমিও হবে।”
আয়েশার চোখ দিয়ে আনন্দের জল পড়ছিল।
সময় এগোতে লাগল। আয়েশার পেট বড় হচ্ছে। রাহাত প্রতিদিন তার পা টিপে দেয়, খাবার বানিয়ে দেয়, রাতে তার পাশে শুয়ে গল্প বলে। কখনো কখনো আয়েশা রাগ করে, “তুমি এখন আর আমাকে আদর করো না!” রাহাত হেসে বলে, “করব না? দেখো আজ রাতে।”
একদিন রাতে আয়েশা খুব আদুরে হয়ে বলল, “জান, আজকে আমাকে খুব জোরে আদর করো। আমি তোমাকে অনুভব করতে চাই।”
রাহাত সাবধানে কিন্তু গভীরভাবে তাকে ভালোবাসল। আয়েশা তার নাম ধরে কাঁপতে কাঁপতে বলছিল, “আমি তোমার… শুধু তোমার…”
নয় মাস পর আয়েশা একটা সুন্দর মেয়ের জন্ম দিল। নাম রাখলেন আনিকা।
রাহাত হাসপাতালে আয়েশার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “তুমি আমার নায়িকা। আমার জীবনের চাঁদ।”
আয়েশা দুর্বল গলায় বলল, “আর তুমি আমার আকাশ।”
বছর কয়েক কেটে গেল। আনিকা এখন তিন বছরের। সন্ধ্যাবেলা তিনজনে ছাদে বসে চাঁদ দেখে। আয়েশা রাহাতের কাঁধে মাথা রেখে বলে, “জান, জীবনটা কী সুন্দর হয়ে গেছে।”
রাহাত আয়েশার হাত ধরে বলে, “তুমি যেখানে আছ, সেখানেই স্বর্গ।”
তারপরও প্রতি রাতে তাদের ভালোবাসা নতুন করে জন্মায়। কখনো ঝগড়া হয়, কখনো হাসি, কখনো আদরের ঝড়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা একে অপরের কাছে ফিরে আসে।
কারণ প্রেম মানে শুধু শরীর নয়, মনেরও মিলন। আর আয়েশার চোখে যে চাঁদের আলো, সেটা রাহাতের জীবনকে আলোকিত করে রেখেছে চিরকাল।
....