প্রথম দেখায় প্রেম

ঢাকার ভিড়ে ভরা গুলশানের একটা ছোট কফি শপে বসে ছিল কারিশমা। বয়স চব্বিশ। লম্বা চুল কাঁধের উপর ছড়িয়ে, চোখ দুটোতে একটা স্বপ্নিল আলো। সে একটা প্রাইভেট ফার্মে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ। দিনের পর দিন অফিস, মিটিং, ডেডলাইন। কিন্তু তার মনের ভিতরে একটা খালি জায়গা ছিল, যেখানে কোনো রং লাগেনি। তার বাবা-মা চট্টগ্রামে থাকেন। সে একা ঢাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া করে আছে। রাতে জানালা দিয়ে আকাশ দেখে ভাবে, “কবে কেউ আসবে যে আমার এই একাকিত্বকে ভরিয়ে দেবে?”

kxz

সেদিন বৃষ্টি পড়ছিল। কারিশমা তার ল্যাপটপে কাজ করছিল। হঠাৎ একটা ছেলে ভিজে কাপড়ে দোকানে ঢুকল। তার নাম আরিফ। বয়স ছাব্বিশ। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। চশমা পরা, হাসিটা খুব সহজ। ছাতা ভুলে গিয়েছিল বলে ভিজে গেছে। সে কফি অর্ডার করতে গিয়ে কারিশমার টেবিলের পাশে দাঁড়াল।

“এক্সকিউজ মি, এখানে বসা যাবে? সব টেবিল ফুল।”

kx/춺'

কারিশমা মুখ তুলে তাকাল। ছেলেটার চোখে একটা উষ্ণতা ছিল। সে হেসে বলল, “হ্যাঁ, বসুন।”

এভাবেই শুরু। প্রথমে আবহাওয়া নিয়ে কথা, তারপর কাজের কথা। আরিফ বলল সে একটা স্টার্টআপে কাজ করে। কারিশমা তার মার্কেটিং প্রজেক্টের গল্প শোনাল। বৃষ্টি থামার পরও তারা কথা বলতে বলতে বেরোল। আরিফ তাকে তার অফিস পর্যন্ত লিফট দিল।

পরের দিন থেকে মেসেজ শুরু হল। “আজকের কফি কেমন লাগল?” আরিফ লিখল। কারিশমা হেসে রিপ্লাই দিল, “ভালোই। তবে বৃষ্টির সাথে আরও ভালো লেগেছে।”

দিন যায়। তারা প্রায়ই দেখা করে। কখনো লেকশোরে হাঁটে, কখনো বইমেলায় ঘুরে। কারিশমা দেখল আরিফ খুব মনোযোগী। তার ছোট ছোট পছন্দ মনে রাখে। একদিন কারিশমা বলল তার প্রিয় ফুল গোলাপ। পরের দিন আরিফ একটা ছোট্ট গোলাপের তোড়া নিয়ে এল।

কারিশমার হৃদয় ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছিল। সে আগে কয়েকটা রিলেশনশিপে হার্ট হয়েছে। কিন্তু আরিফের সাথে সবকিছু আলাদা লাগে। তার হাসিতে শান্তি, তার কথায় বিশ্বাস।

এক সন্ধ্যায় তারা সাভারের একটা রিসোর্টে গেল উইকেন্ডে। গাড়িতে যেতে যেতে আরিফ গান চালাল। কারিশমা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ আরিফ তার হাতটা ধরল।

“কারিশমা, তোমার সাথে এই কয়েকটা সপ্তাহ আমার জীবন বদলে গেছে। তুমি না থাকলে আমি বুঝতাম না কতটা একা ছিলাম।”

কারিশমার চোখে জল চলে এল। সে আরিফের কাঁধে মাথা রেখে বলল, “আমিও। তুমি আমাকে আবার স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছ।”

রিসোর্টে পৌঁছে তারা লেকের পাশে বসল। চাঁদের আলোয় পানি চকচক করছে। আরিফ কারিশমাকে জড়িয়ে ধরল। তাদের প্রথম চুমু। নরম, গভীর, ভালোবাসায় ভরা। কারিশমা অনুভব করল তার শরীরে একটা শিহরণ। আরিফের হাত তার পিঠে বুলিয়ে দিচ্ছে। তারা অনেকক্ষণ চুমু খেল, তারপর কটেজে ফিরল।

রাতটা তাদের। আরিফ কারিশমার ঠোঁটে চুমু দিয়ে বলল, “তুমি খুব সুন্দর।” কারিশমা লজ্জায় মুখ লুকাল। ধীরে ধীরে তাদের কাপড় খসে পড়ল। আরিফের ঠোঁট কারিশমার গলায়, কাঁধে, বুকে নেমে আসছে। কারিশমা আঁকড়ে ধরল আরিফকে। তাদের শরীর এক হয়ে গেল। নরম আলোয়, ধীর লয়ে, ভালোবাসার প্রত্যেকটা স্পর্শে তারা একে অপরকে অনুভব করল। কারিশমা আরিফের নাম নিয়ে কেঁপে উঠল যখন তাদের চূড়ায় পৌঁছাল। সেই রাতে তারা অনেকবার ভালোবাসল। কখনো আস্তে, কখনো উন্মাদের মতো। সকালে জড়াজড়ি করে ঘুমাল।

কিন্তু সুখ কখনো সোজা পথে আসে না। কয়েকদিন পর কারিশমার বাবা ফোন করলেন। “তোমার জন্য একটা ছেলে দেখেছি। ভালো ফ্যামিলি, ইঞ্জিনিয়ার। চট্টগ্রামে আস।”

কারিশমা কেঁদে ফেলল। সে আরিফকে সব বলল। আরিফ চুপ করে শুনল, তারপর বলল, “আমি তোমার বাবার সাথে কথা বলব। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।”

পরের উইকেন্ডে আরিফ চট্টগ্রাম গেল। কারিশমার বাবা প্রথমে রাগ করলেন। “তুমি কে? আমার মেয়েকে চিনো?”

আরিফ শান্তভাবে সব খুলে বলল। তার পরিবার, তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা, আর সবচেয়ে বড় কথা – কারিশমাকে কতটা ভালোবাসে। কারিশমার মা আরিফের কথা শুনে গলে গেলেন। বাবা শেষমেশ রাজি হলেন যখন দেখলেন মেয়ের চোখে কতটা আলো।

বিয়ে হয়ে গেল ছয় মাস পর। সাধারণ কিন্তু সুন্দর অনুষ্ঠান। কারিশমা লাল শাড়িতে যখন আরিফের পাশে দাঁড়াল, তখন তার চোখে শুধু ভালোবাসা।

বিয়ের পর তারা ঢাকায় নতুন ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করল। প্রতিদিন সকালে আরিফ কারিশমাকে চুমু দিয়ে অফিস যায়। রাতে ফিরে একসাথে রান্না করে, গল্প করে। কখনো তারা ছাদে বসে তারা দেখে। কারিশমা আরিফের বুকে মাথা রেখে বলে, “তুমি আমার সব।”

এক বছর পর কারিশমা প্রেগন্যান্ট হল। আরিফ পাগলের মতো খুশি। সে প্রতিদিন কারিশমার পেটে হাত রেখে গান গায়। কারিশমা হাসে। তার জীবন এখন পূর্ণ।

কিন্তু একদিন ঝড় এল। আরিফের কোম্পানি ক্রাইসিসে পড়ল। চাকরি চলে যাওয়ার ভয়। আরিফ রাত জেগে চিন্তা করে। কারিশমা তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আমরা একসাথে আছি। সব ঠিক হয়ে যাবে।”

আরিফ নতুন চাকরি খুঁজল। কষ্ট করে, কিন্তু কারিশমার ভালোবাসা তাকে শক্তি দিল। শেষমেশ সে একটা ভালো অফার পেল।

সন্তান জন্মাল। একটা মেয়ে। নাম রাখলেন ‘আরিশা’। কারিশমা আর আরিফ দুজনেই সন্তানকে আদর করে। রাতে যখন আরিশা ঘুমায়, তারা দুজন বারান্দায় বসে হাত ধরে।

“মনে আছে প্রথম বৃষ্টির দিন?” আরিফ জিজ্ঞাসা করে।

কারিশমা হেসে বলে, “কীভাবে ভুলব? সেদিন থেকেই আমার জীবন রঙিন হয়েছে।”

তাদের ভালোবাসা বছরের পর বছর গভীর হয়। কখনো ঝগড়া হয়, কিন্তু ক্ষমা চেয়ে নেয়। কখনো শারীরিক আকর্ষণ এত প্রবল হয় যে তারা রান্নাঘরে, বাথরুমে, ছাদে ভালোবাসে। কারিশমার শরীর এখনো আরিফের জন্য আকর্ষক। আরিফের স্পর্শে কারিশমা এখনো কেঁপে ওঠে।

একদিন বৃদ্ধ বয়সে তারা একই লেকশোরে বসে। কারিশমার চুলে পাক ধরেছে, কিন্তু চোখে সেই একই আলো। আরিফ তার হাত ধরে বলে, “তুমি আমার কারিশমা। চিরকাল।”

কারিশমা চোখ বন্ধ করে আরিফের কাঁধে মাথা রাখে। “আর তুমি আমার আকাশ।”

 

....
👁 262