কাশফির সাথে প্রেমের গল্প

ঢাকার গরম বাতাসে ভেসে আসা বৃষ্টির গন্ধটা যেন সবকিছু বদলে দিতে চাইছিল। রাহাত তার অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছিল। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। চোখে সবসময় একটা ক্লান্তি, কিন্তু আজ বিকেলে তার চোখে অন্যরকম আলো। কারণ আজ তার কোম্পানির নতুন জয়েন করা মেয়েটার সাথে তার প্রথম দেখা হয়েছে। নাম কাশফি।

kxz

কাশফি। নামটা শুনেই কেমন যেন মিষ্টি লেগেছিল। সে একটা সাদা সালোয়ার কামিজ পরে এসেছিল, চুল খোলা, চোখে হালকা কাজল। হাসলে গালে দুটো টোল পড়ে। রাহাত প্রথম দর্শনেই বুঝতে পেরেছিল, এই মেয়েটা তার জীবন বদলে দিতে পারে।সন্ধ্যা নামার পর রাহাত বাসায় ফিরছিল। মিরপুরের তার ছোট ফ্ল্যাটে ঢুকতেই মোবাইলে একটা নোটিফিকেশন। কোম্পানির গ্রুপে কাশফি যোগ দিয়েছে। সে হেসে একটা মেসেজ করল, “Welcome to the team, Kashfi! ?”

উত্তর এলো প্রায় সাথে সাথে: “Thank you, Rahat bhaiya. আজ প্রথম দিন, সবকিছু নতুন লাগছে।”

kx/춺'

সেই থেকে শুরু। প্রথমে অফিসের কথা, তারপর ব্যক্তিগত কথা। কাশফি চট্টগ্রামের মেয়ে, ঢাকায় পড়াশোনা করে চাকরি করছে। বয়স চব্বিশ। বাবা-মা চট্টগ্রামে, সে একা থাকে মহাখালীর একটা মেয়েদের মেসে। রাহাত তাকে প্রায়ই বাসায় ড্রপ করে দিত। রাতের ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চালাতে চালাতে তাদের কথা চলতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

একদিন বৃষ্টি নামল প্রচণ্ড। অফিস থেকে বেরিয়ে তারা দুজনই ভিজে গেল। রাহাত তার জ্যাকেটটা কাশফির মাথায় দিয়ে দিল। “ঠান্ডা লাগবে না তো?” কাশফি জিজ্ঞেস করল লজ্জায়।

“তোমার ঠান্ডা লাগলে আমার বেশি লাগবে,” রাহাত হেসে বলল।সেই রাতে কাশফি প্রথমবার তার ফ্ল্যাটে এলো। চা বানাতে বানাতে রাহাত বলল, “তুমি খুব সুন্দর, কাশফি।”কাশফির গাল লাল হয়ে গেল। “রাহাত ভাইয়া, এমন বলবেন না। আমি তো সাধারণ মেয়ে।”“সাধারণ মেয়েরা এতটা আলো ছড়ায় না,” রাহাত তার চোখে চোখ রেখে বলল।

সেই রাত থেকে তাদের সম্পর্ক বদলাতে শুরু করল। প্রতিদিন অফিসের পর তারা একসাথে সময় কাটাত। কখনো লেকের ধারে হাঁটত, কখনো কফি শপে বসে গল্প করত। কাশফি তার শৈশবের গল্প বলত, চট্টগ্রামের সমুদ্রের কথা, তার ছোটবেলার স্বপ্নের কথা। রাহাত বলত তার একাকিত্বের কথা, কীভাবে সে ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবনের আনন্দ হারিয়ে ফেলেছে।

এক সন্ধ্যায় তারা ধানমন্ডি লেকের পাশে বসেছিল। আকাশে চাঁদ উঠেছে। কাশফি হঠাৎ রাহাতের হাত ধরল। “আমি তোমাকে ভালোবাসি, রাহাত।”

রাহাতের বুকটা ধক করে উঠল। সে কাশফিকে জড়িয়ে ধরল। “আমিও তোমাকে ভালোবাসি, কাশফি। অনেক অনেক।”

তাদের প্রথম চুমু সেখানেই। নরম, ভালোবাসায় ভরা। কাশফির ঠোঁট ছিল মধুর মতো মিষ্টি। রাহাত তার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে অনুভব করছিল, এই মেয়েটাই তার জীবনের হারানো অংশ।

দিনগুলো যত যাচ্ছিল, তাদের ভালোবাসা গভীর হচ্ছিল। কাশফি রাহাতের ফ্ল্যাটে প্রায়ই আসত। তারা একসাথে রান্না করত, সিনেমা দেখত, গান শুনত। এক রাতে বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেল। ঘর অন্ধকার। কাশফি রাহাতের বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল।

“রাহাত, আমি তোমার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ দিতে চাই,” কাশফি ফিসফিস করে বলল।

রাহাত তার কপালে চুমু খেল। “শুধু যদি তুমি প্রস্তুত থাকো। আমি তোমাকে জোর করব না কখনো।”

কাশফি তার চোখে চোখ রেখে মাথা নাড়ল। সেই রাতে তাদের শরীর প্রথমবার মিলিত হল। রাহাত কাশফির শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি আদর করে চুমু খেল। কাশফির নরম স্তন, তার কোমরের বাঁক, তার উরুর উষ্ণতা — সবকিছু রাহাতের জন্য নতুন আবিষ্কার। কাশফি আর্তনাদ করে উঠছিল আনন্দে। “রাহাত… আরও… আমাকে তোমার করে নাও…”

তাদের মিলন ছিল ধীর, গভীর, ভালোবাসায় ভরা। বৃষ্টির শব্দের সাথে তাদের নিঃশ্বাসের তাল মিলছিল। কাশফির শরীর কাঁপছিল রাহাতের ছোঁয়ায়। তারা একে অপরকে আঁকড়ে ধরে চূড়ান্ত আনন্দে পৌঁছাল। সেই রাতের পর থেকে তারা আরও কাছাকাছি হয়ে গেল।

কিন্তু জীবন সবসময় সহজ নয়। কাশফির বাবা-মা তার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিলেন চট্টগ্রামে। একটা ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সাথে। খবরটা শুনে কাশফি কেঁদে ফেলল রাহাতের কোলে। “আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না, রাহাত।”

রাহাত তার চুলে হাত বুলিয়ে বলল, “আমি তোমার বাবা-মার সাথে কথা বলব। তোমাকে আমি ছাড়ব না।”

পরের সপ্তাহে রাহাত চট্টগ্রাম গেল কাশফির সাথে। কাশফির বাবা প্রথমে রাগ করলেন, কিন্তু রাহাতের সততা আর ভালোবাসা দেখে শেষমেশ রাজি হয়ে গেলেন। “তোমরা যদি সত্যিই একে অপরকে ভালোবাসো, তাহলে আমার আপত্তি নেই।”

বিয়ের তারিখ ঠিক হলো। ঢাকায় একটা সুন্দর অনুষ্ঠান। কাশফি লাল বেনারসি পরে এসেছিল। তার চোখে আনন্দের অশ্রু। রাহাত তাকে দেখে মুগ্ধ। “তুমি আমার রানি, কাশফি।”

বিয়ের পর তারা নতুন ফ্ল্যাটে শুরু করল তাদের জীবন। প্রতিদিন সকালে কাশফি রাহাতের জন্য নাশতা বানাত। রাতে তারা একে অপরের শরীরে হারিয়ে যেত। কখনো বাথরুমে, কখনো বারান্দায়, কখনো বিছানায়। কাশফির শরীর রাহাতের ছোঁয়ায় ফুলের মতো ফুটে উঠত। তারা একে অপরকে আদর করে, চুমু খেয়ে, ভালোবেসে সময় কাটাত।

একদিন কাশফি রাহাতকে বলল, “আমি মা হতে চাই। তোমার সন্তানের।”

রাহাত তার পেটে হাত রেখে বলল, “তাহলে চলো, আজ থেকেই চেষ্টা শুরু করি।”

তাদের রাতগুলো আরও উন্মাদ হয়ে উঠল। কাশফি রাহাতের উপর উঠে বসত, তার স্তন দুলিয়ে, কোমর নাচিয়ে। রাহাত তার নিচ থেকে উঠে উঠে তার গভীরে প্রবেশ করত। “কাশফি… তুমি আমার সব… আহহ…” তাদের আর্তনাদে ঘর ভরে যেত।

মাস কয়েক পর কাশফি প্রেগন্যান্ট হলো। রাহাত তার পেটে কান লাগিয়ে শুনত বাচ্চার হার্টবিট। কাশফি হাসত, “এখন আমরা তিনজন।”

তাদের জীবন পূর্ণতা পেল। রাহাত আর কাশফি প্রতিদিন একে অপরকে ভালোবাসত, আদর করত, স্বপ্ন দেখত। ঢাকার ব্যস্ততার মাঝেও তাদের ছোট্ট জগতে শুধু ভালোবাসা আর আনন্দ।

কাশফি একদিন রাহাতের কানে ফিসফিস করে বলল, “তোমার সাথে এই জীবনটা আমার সবচেয়ে সুন্দর রোমান্টিক গল্প।”রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আর এই গল্পটা কখনো শেষ হবে না, আমার কাশফি।”

 

....
👁 563