বৃষ্টিতে তোমার ছোঁয়া

সন্ধ্যার আলোয় রাস্তার দুপাশে দোকানের নিয়ন সাইন জ্বলছে। হঠাৎ একটা বাস থেকে নামতে গিয়ে একটা মেয়ে পা পিছলে পড়ে যাচ্ছিল। রাহাত তাড়াতাড়ি ব্রেক কষে তাকে ধরে ফেলল।“সরি, আপনি ঠিক আছেন তো?” রাহাত জিজ্ঞাসা করল।মেয়েটি মাথা তুলে তাকাল। তার চোখ দুটো ছিল গভীর কালো, যেন রাতের আকাশে তারা। “হ্যাঁ, ধন্যবাদ। আমি ওয়েশি।” তার গলায় একটা মিষ্টি সুর ছিল, যা রাহাতের বুকে সরাসরি আঘাত করল।

kxz

ওয়েশি, ২৪ বছরের একটা সাধারণ মেয়ে। গুলশানের একটা ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকে। সে একটা অনলাইন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, প্রধানত বইয়ের রিভিউ আর কবিতা লিখে। তার চুল কাঁধ পর্যন্ত, হালকা বাদামি রঙের, আর তার হাসিতে একটা লজ্জা মেশানো আনন্দ। রাহাত তাকে দেখে প্রথমবারের মতো অনুভব করল, জীবনটা হয়তো এতদিন শুধু দৌড়াদৌড়ি ছিল না।

তারা দুজন সেই রাস্তায় কয়েক মিনিট কথা বলল। ওয়েশি বলল সে বইয়ের দোকান থেকে ফিরছিল। রাহাত তাকে বাসায় পৌঁছে দিতে চাইল। ওয়েশি প্রথমে না করলেও, বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রাজি হয়ে গেল। মোটরসাইকেলে বসে তার হাত রাহাতের কোমরে জড়িয়ে ধরা—সেই স্পর্শটা রাহাতের মনে গেঁথে গেল।

kx/춺'

বাসায় পৌঁছে ওয়েশি বলল, “কালকে কফি খাবেন? আমার অফিসের কাছে একটা ছোট ক্যাফে আছে।” রাহাত হাসল, “অবশ্যই।”

পরের দিন তারা দেখা করল। ক্যাফেতে বসে ওয়েশি তার জীবনের গল্প বলল। সে চট্টগ্রামের মেয়ে, ঢাকায় পড়তে এসেছে, এখন ফ্রিল্যান্স করে। তার বাবা-মা গ্রামে। রাহাত বলল সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল লেখক হওয়া। ওয়েশি হেসে বলল, “তাহলে আমরা একসাথে একটা গল্প লিখব।”

তাদের দেখা-সাক্ষাৎ বাড়তে লাগল। প্রতি সপ্তাহে একবার করে। কখনো পার্কে, কখনো বুক স্টোরে, কখনো রাতের ঢাকার ছাদে। ওয়েশি রাহাতকে তার লেখা কবিতা শোনাত। একটা কবিতায় সে লিখেছিল:

“চোখের আড়ালে একটা আলো জ্বলে, তোমার নামে আমার হৃদয় দোলে।”

রাহাতের বুক কাঁপত। সে ওয়েশির চুলে হাত বুলিয়ে দিত, তার কপালে চুমু খেত। কিন্তু তারা এখনো শুধু বন্ধুত্বের সীমায় ছিল।

একদিন বৃষ্টির দিনে তারা ওয়েশির অ্যাপার্টমেন্টে আটকে গেল। বিদ্যুৎ চলে গেছে। মোমবাতির আলোয় বসে তারা গল্প করছিল। ওয়েশি হঠাৎ বলল, “রাহাত, আমি তোমাকে ভালোবাসি। অনেকদিন ধরে।” রাহাত তার হাত ধরে বলল, “আমিও। প্রথম দিন থেকেই।”

তারা কাছে এল। রাহাত ওয়েশির ঠোঁটে চুমু খেল। নরম, মিষ্টি। ওয়েশির শরীর কাঁপছিল। তারা জড়িয়ে ধরল একে অপরকে। সেই রাতে তারা প্রথমবার শারীরিকভাবে কাছাকাছি হল। ওয়েশির শরীরটা ছিল নরম, উষ্ণ। রাহাত তার প্রতিটা ইঞ্চি ছুঁয়ে দেখল, চুমু খেল। ওয়েশি তার কানে ফিসফিস করে বলল, “আমাকে তোমার করে নাও।” তাদের ভালোবাসা সেই রাতে পূর্ণতা পেল। ঘামে ভেজা শরীর, দ্রুত শ্বাস, আর পরম আনন্দে তারা এক হয়ে গেল।

সকালে ওয়েশি রাহাতের বুকে মাথা রেখে বলল, “এটা স্বপ্ন নয় তো?” রাহাত হেসে তার চুলে চুমু খেল, “না, এটা আমাদের গল্প।”

কিন্তু ভালোবাসার গল্পে বাধা আসবেই। ওয়েশির পরিবার চাইত সে একটা ডাক্তার ছেলের সাথে বিয়ে করুক। রাহাতের বাবা-মা ঢাকায় থাকতেন, তারা বললেন, “মেয়েটা কী করে? ফ্রিল্যান্স? এটা কোনো পেশা নয়।”

ওয়েশি কাঁদতে কাঁদতে রাহাতকে বলল, “আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।” রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আমরা লড়ব।”

তারা পরিকল্পনা করল। রাহাত তার চাকরি ছেড়ে একটা স্টার্টআপ শুরু করবে, ওয়েশি তার কনটেন্ট আরও বড় করবে। তারা একসাথে অনেক রাত জেগে লিখত। ওয়েশি তার জন্য গল্প লিখত, রাহাত তার জন্য কবিতা।

একদিন তারা চট্টগ্রাম গেল। ওয়েশির গ্রামের কাছে সমুদ্র সৈকতে। সেখানে তারা হাত ধরে হাঁটল। সূর্যাস্তের সময় ওয়েশি রাহাতের কোলে মাথা রেখে বলল, “এই মুহূর্তটা চিরকাল থাকুক।” রাহাত তার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “থাকবে। আমরা একসাথে থাকব।”

সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে তারা আবার কাছে এল। বালির উপর শুয়ে তারা একে অপরকে আদর করল। ওয়েশির শরীরে সমুদ্রের লবণ মিশে গিয়েছিল। রাহাত তার প্রতিটা স্পর্শে ভালোবাসা ঢেলে দিল। সেই রাতটা তাদের জীবনের সবচেয়ে রোমান্টিক রাত ছিল।

ফিরে এসে তারা পরিবারের সাথে কথা বলল। অনেক ঝগড়া, অনেক কান্না। কিন্তু ওয়েশির মা শেষ পর্যন্ত বুঝলেন, মেয়ের চোখে যে আলো জ্বলছে, সেটা রাহাতের জন্য। রাহাতের বাবাও ছেলের স্টার্টআপ দেখে রাজি হয়ে গেলেন।

অবশেষে বিয়ে হল। ছোট একটা অনুষ্ঠান, শুধু কাছের মানুষজন। ওয়েশি লাল বেনারসিতে অপূর্ব লাগছিল। রাহাত তার হাত ধরে বলল, “তুমি আমার সবকিছু।”

বিয়ের পর তারা নতুন অ্যাপার্টমেন্টে চলে গেল। প্রতিদিন সকালে ওয়েশি রাহাতকে কফি বানিয়ে দিত। রাতে তারা জড়িয়ে শুয়ে গল্প করত। তাদের ভালোবাসা দিন দিন আরও গভীর হল।

এক বছর পর ওয়েশি গর্ভবতী হল। রাহাত তার পেটে হাত রেখে কাঁদল। “আমাদের ছোট্ট পরিবার।” ওয়েশি হেসে বলল, “তোমার চোখের আলোয় আমি সবকিছু পেয়েছি।”

তাদের জীবন চলতে লাগল। ঢাকার ব্যস্ততায়ও তারা একে অপরের জন্য সময় বের করত। ওয়েশি তার ব্লগে তাদের গল্প লিখত, নাম দিত “চোখের আলো”। হাজারো মানুষ সেই গল্প পড়ে অনুপ্রাণিত হত।

রাহাত আর ওয়েশির ভালোবাসা ছিল সত্যিকারের। কোনো ঝড় আসুক, তারা একসাথে মোকাবিলা করত। প্রতি বছর তারা সমুদ্রে যেত, সেই প্রথম স্মৃতি ফিরিয়ে আনত।

ওয়েশির চোখের আলো রাহাতের জীবনকে আলোকিত করে রেখেছিল চিরকাল।

 

....
👁 409