রাতের আকাশে চাঁদের মৃদু আলোয় তোমার চোখ দুটো যেন আমার সারা জীবনের স্বপ্ন হয়ে উঠেছিল, প্রিয়তমা।ঢাকার একটা ছোট অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আয়েশা তার স্বামী রাহাতের কাঁধে মাথা রেখে বলল, “আজকের এই রাতটা যেন কখনো শেষ না হয়।” রাহাত তার কোমর জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো কপালে। তাদের বিয়ে হয়েছে মাত্র ছয় মাস। রাহাত একটা আইটি কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, আয়েশা ইউনিভার্সিটির শেষ বর্ষের ছাত্রী। দুজনের মধ্যে প্রেমটা শুরু হয়েছিল কলেজের একটা সেমিনারে।
সেই প্রথম দিনের কথা মনে পড়লে আজও রাহাতের বুকটা ধক করে ওঠে। আয়েশা সাদা শাড়িতে এসেছিল, চুল খোলা, চোখে একটা মায়াবী হাসি। রাহাত তাকে প্রথম দেখেই বুঝেছিল, এই মেয়েটাই তার জীবনের সব। তারপর থেকে প্রতিদিন ফোন, মেসেজ, কফি শপে দেখা। একদিন বৃষ্টিতে ভিজে রাহাত আয়েশাকে ছাতা দিয়ে বাসায় পৌঁছে দিয়েছিল। সেই রাতেই আয়েশা মেসেজ করেছিল, “তুমি না থাকলে আমার জীবনটা অন্ধকার হয়ে যেত।”
বিয়ের পর তাদের জীবনটা যেন স্বপ্নের মতো। সকালে রাহাত অফিস যাওয়ার আগে আয়েশাকে চুমু খেয়ে বলত, “তোমার হাসিটা সারাদিন আমার সাথে থাকবে।” আয়েশা রান্না করে, পড়াশোনা করে, আর অপেক্ষা করে রাহাতের জন্য। কিন্তু আজ রাতে কিছু একটা আলাদা।
রাহাত আয়েশার চুলে হাত বুলিয়ে বলল, “আজ তোমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব।” আয়েশা অবাক হয়ে তাকাল। “কোথায়?” রাহাত হেসে বলল, “সারপ্রাইজ।”
তারা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। ঢাকার ট্রাফিক পেরিয়ে তারা চলে গেল সাভারের দিকে। রাস্তায় রাহাত আয়েশার হাত ধরে রেখেছিল। গান বাজছিল — “তুমি যে আমার...” আয়েশা মাথা রেখেছিল রাহাতের কাঁধে।
প্রিয়তম, তোমার হাতের উষ্ণতায় আমার সব ভয় দূর হয়ে যায়, যেন তুমিই আমার চিরকালের আশ্রয়।
একটা নির্জন জায়গায় গাড়ি থামাল রাহাত। চারদিকে ধানের খেত, দূরে নদী। চাঁদের আলোয় সবকিছু রূপকথার মতো লাগছিল। রাহাত একটা পিকনিক ম্যাট বিছিয়ে বসল। আয়েশা অবাক। “এত রাতে এখানে?” রাহাত হেসে বলল, “তোমার সাথে একা একা সময় কাটাতে চাই।”
তারা বসে গল্প করতে লাগল। রাহাত আয়েশার হাতে একটা ছোট বাক্স দিল। খুলে দেখল ভিতরে একটা নেকলেস — ছোট্ট একটা হার্ট শেপের লকেট, ভিতরে তাদের দুজনের ছবি। আয়েশার চোখে জল চলে এল। “এটা কবে কিনলে?” রাহাত বলল, “যেদিন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম, সেদিন থেকেই তোমাকে এই হার্টটা দিতে চেয়েছি।”
তারা কাছাকাছি হয়ে বসল। রাহাত আয়েশাকে জড়িয়ে ধরল। চুমু খেলো ঠোঁটে। আয়েশা লজ্জায় মুখ লুকাল তার বুকে। কিন্তু রাহাত তার চিবুক তুলে বলল, “লজ্জা পেও না। তুমি আমার।”
তোমার ঠোঁটের স্পর্শে আমার হৃদয় যেন নতুন করে জেগে ওঠে, প্রিয়া, যেন এই মুহূর্তটাই চিরকালের।
রাত গভীর হল। তারা দুজনে মিলে তারা গুনল। আয়েশা বলল, “আমাদের ভবিষ্যৎটা কেমন হবে?” রাহাত বলল, “তোমার সাথে যেমন সুন্দর, তেমনই। একটা ছোট বাড়ি, দুটো বাচ্চা, আর প্রতিদিন তোমাকে এভাবে ভালোবাসা।” আয়েশা হাসল। তারপর তারা কাছাকাছি হয়ে গেল আরও। রাহাত আয়েশার শাড়ির আঁচল সরিয়ে তার কাঁধে চুমু খেল। আয়েশার শরীর কেঁপে উঠল।
তোমার শরীরের উষ্ণতায় আমি যেন হারিয়ে যেতে চাই চিরকালের জন্য, আমার জীবনসঙ্গিনী।
তারা একে অপরকে আবিষ্কার করতে লাগল। রাহাত আয়েশার প্রতিটা অংশে চুমু দিয়ে বলছিল কত ভালোবাসে। আয়েশা তার গলা জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল, “আমিও তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।” তাদের শরীর মিলে গেল চাঁদের আলোয়। ধানের খেতের মৃদু বাতাস তাদের গান গাইছিল। এই মুহূর্তটা যেন তাদের প্রেমের নতুন অধ্যায়।
পরদিন সকালে তারা ফিরে এল ঢাকায়। আয়েশা রান্না করছিল, রাহাত পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। “তুমি না থাকলে এই বাড়িটা শুধু চার দেয়াল।” আয়েশা হাসল, “তুমি আমার সব।”
কিন্তু জীবন সবসময় সোজা পথে চলে না। রাহাতের অফিসে একটা বড় প্রজেক্ট এল। সে রাত করে বাসায় ফিরতে লাগল। আয়েশা একা একা অপেক্ষা করত। একদিন সে কাঁদতে কাঁদতে ফোন করল, “তুমি কি আমাকে ভুলে যাচ্ছ?” রাহাত তাড়াতাড়ি বাসায় এসে আয়েশাকে জড়িয়ে ধরল। “কখনো না। তুমি আমার প্রাণ।”
তোমার চোখের জলে আমার সারা পৃথিবী ভেসে যায়, প্রিয়তমা, আর আমি তোমাকে আরও বেশি করে ভালোবাসতে চাই।
রাহাত প্রজেক্টটা শেষ করে আয়েশাকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে গেল। সমুদ্রের ধারে বসে তারা হাত ধরে হাঁটল। সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে রাহাত আয়েশার কানে ফিসফিস করল, “তুমি আমার সূর্য, আমার চাঁদ, আমার সব।” আয়েশা তার বুকে মাথা রেখে বলল, “আর তুমি আমার আকাশ।”
সেখানে তাদের আরেকটি রোমান্টিক রাত কাটল। হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সমুদ্র দেখতে দেখতে তারা আবার একে অপরের কাছে হারিয়ে গেল। রাহাত আয়েশাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় নিয়ে গেল।
তোমার শরীরের প্রতিটি বাঁকে আমি নতুন করে প্রেম খুঁজে পাই, আমার রানী।
দিনগুলো কাটতে লাগল। আয়েশা গ্র্যাজুয়েশন শেষ করল। রাহাত তাকে সারপ্রাইজ দিয়ে একটা ছোট পার্টি আয়োজন করল। সব বন্ধুরা এল। আয়েশা খুশিতে আত্মহারা। রাতে তারা দুজনে একা হয়ে আবার সেই পুরনো রোমান্সে ফিরে গেল।
কিন্তু একদিন হঠাৎ রাহাতের মা-বাবা এসে হাজির। তারা গ্রাম থেকে এসেছে। আয়েশা একটু ঘাবড়ে গেল। কিন্তু রাহাত বলল, “চিন্তা করো না। তুমি আমার স্ত্রী, সবাই তোমাকে ভালোবাসবে।” সত্যিই তাই হল। রাহাতের মা আয়েশাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “তুমি আমার মেয়ের মতো।”
তোমার পরিবারের আলিঙ্গনে আমি যেন নতুন করে বাড়ি ফিরে পাই, প্রিয়।
পরিবারের সাথে সময় কাটাতে কাটাতে তাদের প্রেম আরও গভীর হল। রাতে রাহাত আয়েশাকে বলল, “আমাদের একটা ছোট্ট পরিবার হোক।” আয়েশা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। “যখন তুমি চাও।”
মাস কয়েক পর আয়েশা প্রেগন্যান্ট হল। রাহাত আনন্দে পাগল। সে আয়েশার পেটে হাত রেখে বলল, “আমাদের ভালোবাসার ফল।” আয়েশা তার চুলে হাত বুলিয়ে বলল, “তুমি সবসময় আমার পাশে থেকো।”
তোমার স্পর্শে আমাদের ভবিষ্যৎ যেন আরও সুন্দর হয়ে ওঠে, আমার জীবন।
গর্ভাবস্থায় রাহাত আয়েশার খুব যত্ন নিত। প্রতিদিন সকালে ফল কেটে দিত, রাতে ম্যাসাজ করত। আয়েশা বলত, “তুমি না থাকলে আমি কী করতাম?” রাহাত হেসে বলত, “আমি সবসময় থাকব।”
একদিন হাসপাতালে যাওয়ার পথে আয়েশার প্রসব ব্যথা উঠল। রাহাত পাগলের মতো ড্রাইভ করল। হাসপাতালে পৌঁছে সে আয়েশার হাত ধরে বলল, “ভয় পেও না। আমি আছি।” কয়েক ঘণ্টা পর তাদের একটা সুন্দর মেয়ে জন্ম নিল। রাহাত আয়েশার কপালে চুমু খেয়ে বলল, “তুমি আমার হিরোইন।”
তোমার কষ্টের প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে আরও শক্তিশালী করে, আমার ভালোবাসা।
মেয়ের নাম রাখলেন “আরিশা”। তাদের জীবনটা এখন আরও পূর্ণ। রাহাত অফিস থেকে ফিরে প্রথমে মেয়েকে কোলে নিত, তারপর আয়েশাকে জড়িয়ে ধরত। “তোমরা দুজনেই আমার পৃথিবী।”
রাতে যখন আরিশা ঘুমাত, তারা দুজনে বারান্দায় বসে পুরনো দিনের কথা বলত। রাহাত বলত, “সেই প্রথম দিনের চাঁদের রাতটা মনে আছে?” আয়েশা হেসে বলত, “কীভাবে ভুলব?”
তোমার সাথে প্রতিটি রাত নতুন করে প্রেমের গান গায়, প্রিয়তম।
বছর কয়েক কেটে গেল। আরিশা বড় হল। তারা তিনজনে মিলে অনেক জায়গায় ঘুরল। চট্টগ্রাম, সিলেট, কুয়াকাটা। প্রতিটা জায়গায় তাদের প্রেম নতুন করে ফুটে উঠত।
একদিন রাহাত আয়েশাকে বলল, “আমরা আরেকটা বাচ্চা নেব?” আয়েশা হাসল, “তুমি চাইলে।” আবার সেই রোমান্স।
তোমার চোখের গভীরতায় আমি চিরকাল ডুবে থাকতে চাই, আমার স্বামী।
তাদের জীবনটা এভাবেই চলতে লাগল — ভালোবাসা, যত্ন, ছোট ছোট ঝগড়া আর মেকআপ। কখনো রাহাত রাগ করে, আয়েশা তার কাছে এসে বলত, “রাগ করো না। তুমি ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।” রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরত।
প্রতিটি ঝগড়ার পর তোমার ক্ষমা আমাকে নতুন করে বাঁচায়, প্রিয়া।
একদিন রাহাত আয়েশাকে নিয়ে তাদের প্রথম দেখা জায়গায় গেল। সেই সেমিনার হল। এখন সেখানে একটা ক্যাফে। তারা বসে কফি খেল। রাহাত বলল, “এখান থেকেই আমাদের গল্প শুরু।” আয়েশা তার হাত ধরে বলল, “আর এখানেই চিরকাল চলবে।”
তোমার সাথে প্রতিটি ফিরে দেখা মুহূর্ত নতুন প্রেম জাগায়।
তাদের প্রেম এভাবেই চলতে থাকল বছরের পর বছর। বুড়ো বয়সেও তারা হাত ধরে হাঁটত। আরিশা বড় হয়ে বিয়ে করল। তারা দুজনে আবার একা হয়ে গেল, কিন্তু প্রেমটা একই রকম।
রাহাত একদিন আয়েশাকে বলল, “জীবনটা তোমার সাথে কাটানোর জন্যই আমি এসেছিলাম।” আয়েশা তার বুকে মাথা রেখে বলল, “আর আমি তোমার জন্য।”
চাঁদের আলোয় যেভাবে শুরু হয়েছিল, সেভাবেই তাদের গল্প চিরকাল চলবে।
....