বৃষ্টি শুরু হলো হঠাৎ। প্রচণ্ড বৃষ্টি। রাফান দৌড়ে একটা ছাউনির নিচে আশ্রয় নিল। পাশে দাঁড়িয়ে ছিল একটা মেয়ে। সাদা শাড়ি, ভিজে গেছে কাঁধ পর্যন্ত। তার চুল কালো, লম্বা, চোখ দুটো গভীর। নাম তার আয়েশা। সে একটা বইয়ের দোকান থেকে ফিরছিল। বয়স ২৬। শিক্ষকতা করে একটা কলেজে। তার হাসিতে একটা মিষ্টি লজ্জা।
“ভিজে গেলাম তো পুরো,” আয়েশা হেসে বলল। তার গলায় মিষ্টি ঢাকাই টান।
রাফান তাকাল। প্রথমবার চোখাচোখি হতেই তার হৃদয়টা ধক করে উঠল। “আমিও। ছাতা নেই। অপেক্ষা করি।”
দুজনেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে। বৃষ্টির শব্দের মাঝে কথা শুরু হলো। আয়েশা বলল তার পড়াশোনার কথা, রাফান তার চাকরির গল্প। কথায় কথায় হাসি। সময় যেন থেমে গেল। বৃষ্টি কমলে রাফান বলল, “আমি আপনাকে বাসায় পৌঁছে দিতে পারি? রিকশা ডাকি।”
আয়েশা লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল, “ঠিক আছে। কিন্তু আপনার নামটা?”
“রাফান। আর আপনি?”
“আয়েশা।”
সেই প্রথম মিলনের শুরু। রিকশায় বসে দুজনের হাত একটু স্পর্শ হলো। বিদ্যুতের ঝলক। আয়েশার বাসা মিরপুরে। রাস্তায় জ্যাম, কিন্তু তাদের কাছে সময় কম মনে হচ্ছিল না।
পরের দিন রাফান আয়েশাকে মেসেজ করল। “কালকের বৃষ্টিটা ভালো লেগেছে। আবার দেখা হবে?”
আয়েশা রিপ্লাই দিল: “হ্যাঁ। কফি খাবেন?”
তারপর থেকে শুরু হলো তাদের রোমান্স। প্রতি সপ্তাহে দেখা। ধানমন্ডির লেকের পাশে হাঁটা, গুলশানের রেস্টুরেন্টে খাওয়া, রাতে ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা। রাফান আয়েশাকে তার কবিতা শোনাত, আয়েশা তাকে গান গেয়ে শোনাত। আয়েশার গলা মিষ্টি, রাফানের চোখে স্বপ্ন।
একদিন বিকেলে তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেল। সূর্য ডুবছে। আয়েশা রাফানের হাত ধরল। “তোমার সাথে থাকলে সময়টা কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যায়।”
রাফান তার চোখে তাকিয়ে বলল, “আমিও। তুমি ছাড়া এখন আর কিছু ভালো লাগে না।”
তারা চুমু খেল প্রথমবার। নরম, আবেগপূর্ণ চুমু। আয়েশার ঠোঁটে মিষ্টি স্বাদ। রাফানের হাত তার কোমরে। বৃষ্টি শুরু হলো আবার। তারা ভিজতে ভিজতে হাসল।
রিলেশনশিপটা গভীর হতে লাগল। এক মাস পর রাফান আয়েশাকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে গেল। ছোট্ট একটা অ্যাপার্টমেন্ট মহাখালীতে। ঘরটা সাজানো ফুল দিয়ে। আয়েশা লজ্জায় লাল। “এত সুন্দর করে সাজিয়েছ কেন?”
“তোমার জন্য,” রাফান বলল।
সেদিন রাতে তারা প্রথমবার কাছাকাছি হলো পুরোপুরি। আলো নিভিয়ে, শুধু মোমবাতির আলোয়। আয়েশা শাড়ি খুলল ধীরে ধীরে। তার শরীরটা চাঁদের আলোর মতো। রাফান তার গলায় চুমু খেল, কানের লতিতে কামড় দিল। আয়েশা শিউরে উঠল। “রাফান… ধীরে…”
তারা বিছানায় শুয়ে পড়ল। রাফানের হাত আয়েশার স্তনে। নরম, উষ্ণ। সে চুষল, চাটল। আয়েশা আঁকড়ে ধরল তার চুল। “আহহ… ভালো লাগছে।”
রাফান নিচে নামল। তার জিভ আয়েশার গোপন জায়গায়। ভেজা, গরম। আয়েশা কেঁপে উঠল, পা দুটো ছড়িয়ে দিল। “উফফ… রাফান, আর পারছি না।”
তারপর রাফান তার উপর উঠল। ধীরে ধীরে প্রবেশ করল। আয়েশা চিৎকার করে উঠল আনন্দে। “আমার সব তোমার… তোমার সব আমার।”
তারা একসাথে চলতে লাগল। ধীর লয়ে, তারপর দ্রুত। ঘামে ভিজে। চুমু, কামড়, আঁচড়। আয়েশার নখ রাফানের পিঠে বসে গেল। শেষে দুজনেই একসাথে পৌঁছাল চূড়ায়। আয়েশা চিৎকার করে কেঁদে ফেলল আনন্দে। রাফান তাকে জড়িয়ে ধরে রইল।
“আমি তোমাকে ভালোবাসি,” রাফান ফিসফিস করে বলল।
“আমিও… চিরকাল,” আয়েশা বলল।
তারপর থেকে তাদের মিলন আরও গভীর হলো। প্রতি উইকেন্ডে তারা একসাথে সময় কাটাত। কখনো কক্সবাজারে বেড়াতে গেল। সমুদ্রের ঢেউয়ের সামনে দাঁড়িয়ে চুমু খেল। রাতে হোটেলের রুমে আবার সেই আগুন জ্বলল। আয়েশা রাফানের উপর উঠে বসল এবার। তার স্তন দুলছে, কোমর নড়ছে। রাফান তার নিচ থেকে ধাক্কা দিচ্ছে। “আয়েশা… তুমি আমার রানি।”
তারা অনেকবার মিলিত হলো সেই রাতে। বিভিন্ন পজিশনে। কখনো ডগি স্টাইলে, কখনো সাইডে। আয়েশার শরীর রাফানের জন্য পাগল হয়ে গেল।
মাসগুলো কেটে গেল। রাফান আয়েশাকে প্রপোজ করল। একটা ছাদে, ফুল আর মোমবাতি দিয়ে। “বিয়ে করবে আমাকে?”
আয়েশা কেঁদে ফেলল। “হ্যাঁ… হাজারবার।”
বিয়ে হলো সাদামাটা কিন্তু সুন্দর করে। তারপর হানিমুনে সিলেট। চা বাগানের মাঝে ছোট্ট কটেজ। সেখানে তাদের মিলন আরও রোমান্টিক হয়ে উঠল। সকালে উঠে চা খেয়ে, তারপর বিছানায়। দুপুরে বৃষ্টিতে ভিজে, রাতে তারা নগ্ন হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে।
একদিন আয়েশা বলল, “রাফান, আমি তোমার সন্তানের মা হতে চাই।”
রাফান তাকে জড়িয়ে ধরল। “আমরা একসাথে সবকিছু করব।”
তাদের জীবনটা এখন পূর্ণ। ঢাকার বৃষ্টি থেকে শুরু হয়ে, এখন তারা একে অপরের সব। প্রতি রাতে মিলন, প্রতি সকালে ভালোবাসা। রাফানের হাত আয়েশার পেটে, আয়েশার ঠোঁট রাফানের বুকে।
তাদের গল্পটা চলতে থাকবে চিরকাল। কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না।
....