প্রেমের প্রথম স্পর্শ

আমাদের প্রথম কথা হয়েছিল কফি মেশিনের সামনে। “রাহাত, তুমি কি সবসময় এত চুপচাপ থাকো?” সে হেসে জিজ্ঞাসা করেছিল। আমি লজ্জায় লাল হয়ে বলেছিলাম, “না মানে... কাজের চাপে।” সে হেসে বলেছিল, “চাপ কমাতে একদিন কফি খেতে যাবে?”

kxz

সেই থেকে শুরু। ছোট ছোট কথা, মেসেজ, অফিসের লাঞ্চ টেবিলে পাশাপাশি বসা। রিয়া ঢাকায় থাকতো তার মামার বাসায়। তার বাড়ি চট্টগ্রামের একটা ছোট গ্রামে। আমার বাড়িও গ্রামের দিকে—ময়মনসিংহের কাছে। দুজনেরই শহরে একা লাগতো।

দিন যত যায়, আমাদের কথা বাড়তে থাকে। রাতে ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা। সে বলতো তার স্বপ্নের কথা—একটা ছোট বাড়ি, বাগান, আর কয়েকটা বইয়ের তাক। আমি বলতাম আমার স্বপ্নের কথা—একটা নিজস্ব অ্যাপ বানানো, যেটা গ্রামের মানুষের জীবন সহজ করে দেবে। আমরা দুজনেই জানতাম, কিছু একটা হচ্ছে। কিন্তু কেউ কিছু বলছিলাম না।

kx/춺'

একদিন অফিসের টিম আউটিংয়ে আমরা সবাই কক্সবাজার গেলাম। সমুদ্রের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখছিলাম। হঠাৎ ঠান্ডা হাওয়ায় রিয়া কেঁপে উঠল। আমি আমার জ্যাকেটটা খুলে তার কাঁধে দিলাম। তার হাতটা আমার হাতে লাগলো মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য। সেই প্রথম স্পর্শ। হালকা, কিন্তু বিদ্যুৎয়ের মতো। তার চোখে চোখ পড়তেই সে চোখ নামিয়ে নিল। আমার বুকের ভিতরটা ধক করে উঠল।

“থ্যাঙ্ক ইউ, রাহাত,” ফিসফিস করে বলল সে। “কোনো সমস্যা নেই,” আমি বললাম। কিন্তু ভিতরে ভিতরে সবকিছু বদলে গিয়েছিল।

কক্সবাজার থেকে ফেরার পর আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। আমরা প্রায়ই ধানমন্ডি লেকের পাশে হাঁটতে যেতাম। এক সন্ধ্যায় বৃষ্টি নামল। আমরা একটা ছোট ক্যাফেতে আশ্রয় নিলাম। ভিতরে খুব কম আলো। দুজনে একটা টেবিলে বসে গরম চা খাচ্ছি। তার আঙুলগুলো টেবিলের উপর। আমি সাহস করে তার হাতের উপর হাত রাখলাম। এবার আর হালকা নয়। পুরো হাত। তার আঙুলগুলো আমার আঙুলের সাথে জড়িয়ে গেল।

সেই ছিল আমাদের প্রথম ইচ্ছাকৃত স্পর্শ।

তার হাত গরম, নরম। আমি অনুভব করছিলাম তার নাড়ির স্পন্দন। সে চোখ বন্ধ করে ফেলল। “রাহাত... এটা ঠিক আছে তো?” “আমার কাছে এর চেয়ে সুন্দর কিছু হয়নি কখনো,” আমি বললাম।

সেই রাতে বাসায় ফিরে আমি ঘুমাতে পারিনি। শুধু তার হাতের অনুভূতি মনে পড়ছিল। কেমন যেন একটা মিষ্টি শিহরণ। পরের কয়েকদিন আমরা আরও কাছাকাছি হলাম। অফিসে কেউ কিছু বুঝত না। কিন্তু আমাদের চোখের ভাষা বদলে গিয়েছিল।

একটা ছুটির দিনে রিয়া বলল, “চলো আমার গ্রামে যাই। মামা-মামি যাবে না, বাসা খালি।” আমি রাজি হয়ে গেলাম। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে বাসে চড়লাম। পুরো পথ তার মাথা আমার কাঁধে। তার চুলের গন্ধে আমি মাতাল হয়ে যাচ্ছিলাম।

গ্রামে পৌঁছে আমরা তার বাড়িতে ঢুকলাম। ছোট্ট একতলা বাড়ি, চারপাশে আম-জাম-কাঁঠালের বাগান। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। রিয়া রান্না করল—ভাত, ইলিশ মাছের ঝোল, আর আলু ভাজি। আমরা দুজনে খেতে বসলাম। খাওয়ার পর ছাদে গিয়ে বসলাম। আকাশে তারা ফুটেছে।

“রাহাত, তুমি কখনো কাউকে এভাবে ভালোবেসেছ?” সে জিজ্ঞাসা করল। “না। তুমি প্রথম,” আমি সত্যি বললাম।

সে আমার দিকে ঘুরে বসল। তার চোখে চাঁদের আলো পড়েছে। আমি তার গালে হাত দিলাম। নরম, গরম। সে চোখ বন্ধ করল। আমার অন্য হাতটা তার কোমরে গিয়ে পড়ল। ধীরে ধীরে আমি তাকে কাছে টেনে নিলাম। আমাদের প্রথম আলিঙ্গন। তার শরীর আমার শরীরের সাথে লেগে গেল। তার বুকের স্পন্দন আমি অনুভব করছিলাম। তার ঠোঁট আমার ঠোঁটের খুব কাছে। কিন্তু আমি চুমু খেলাম না। শুধু কপালে একটা চুমু দিলাম।

“এই প্রথম স্পর্শ... আমি চাই এটা স্মরণীয় হয়,” আমি ফিসফিস করে বললাম।

সে আমার বুকে মুখ লুকাল। তার হাত আমার পিঠে। আমরা অনেকক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে রইলাম। রাতের হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল। তারপর আমরা ছাদ থেকে নেমে ঘরে ঢুকলাম। রিয়া তার রুমে একটা মোমবাতি জ্বালাল। হালকা আলোয় তার মুখটা আরও সুন্দর লাগছিল।

আমরা বিছানায় বসলাম। সে আমার হাত ধরে তার গালে নিয়ে গেল। আমি তার চুলে হাত বুলিয়ে দিলাম। ধীরে ধীরে তার কাঁধে হাত রাখলাম। তার শাড়ির আঁচলটা সরে গিয়েছিল। আমি তার কাঁধের নরম ত্বকে হাত বুলালাম। সে কেঁপে উঠল।

“রাহাত... আমার ভয় করছে,” সে বলল। “আমারও। কিন্তু এই ভয়টা ভালো লাগছে,” আমি বললাম।

আমি তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলাম। তার ঠোঁটে ঠোঁট রাখলাম। প্রথম চুমু। খুব ধীরে, খুব নরম। তার ঠোঁট মিষ্টি। আমাদের শ্বাস এক হয়ে গেল। চুমু গভীর হলো। তার হাত আমার চুলে। আমার হাত তার পিঠে। আমরা শুয়ে পড়লাম। তার শরীরের উপর আমার শরীর। কিন্তু আমরা তাড়াহুড়ো করলাম না।

আমি তার কানে কানে বললাম, “আজ শুধু স্পর্শ। প্রথম স্পর্শের পুরো অনুভূতি নিতে চাই।”

সে হাসল। তারপর আমার জামার বোতাম খুলতে শুরু করল। একটা একটা করে। তার আঙুল আমার বুকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। প্রত্যেকটা স্পর্শে আমি শিহরিত হচ্ছিলাম। আমিও তার ব্লাউজের হুক খুললাম। তার সাদা ব্রায়ের উপর হাত রাখলাম। তার বুক উঠানামা করছে। আমি তার ঘাড়ে চুমু খেলাম, তারপর কলারবোন। ধীরে ধীরে নিচে নামলাম।

তার শরীর গরম হয়ে উঠছিল। সে আমার নাম ধরে ডাকছিল। “রাহাত... আরও কাছে...”

আমরা পুরোপুরি নগ্ন হয়ে গেলাম। কিন্তু শুধু জড়িয়ে ধরে রইলাম। চুমু, স্পর্শ, আদর। তার স্তন আমার হাতে। নরম, ভারী। আমি আলতো করে চুমু খেলাম। সে কেঁপে উঠে আমাকে আরও জড়িয়ে ধরল। আমার হাত তার উরুতে, তারপর আরও গোপন জায়গায়। সে শ্বাস নিতে পারছিল না। তার হাতও আমার শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। প্রথমবার কারো শরীর এভাবে অনুভব করা।

আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবে কাটালাম। কোনো তাড়া নেই। শুধু অনুভূতি। তার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি আমি চুমু দিয়ে চিনে নিচ্ছিলাম। সে আমার প্রতিটা পেশি আঙুল দিয়ে অনুভব করছিল। শেষে আমরা একসাথে চরমে পৌঁছালাম। কিন্তু সেটা ছিল শুধু স্পর্শ আর আদরের ফল। আমরা পুরোপুরি মিলিত হলাম না সেই রাতে। কারণ আমরা চেয়েছিলাম প্রথম স্পর্শটা পুরোপুরি উপভোগ করতে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সে আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। তার চুল ছড়িয়ে আছে আমার শরীরে। আমি তার কপালে চুমু দিলাম। সে চোখ খুলে হাসল। “এটা স্বপ্ন না তো?” “না। এটা আমাদের প্রথম স্পর্শের সকাল,” আমি বললাম।

সেই দিন থেকে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। আমরা ঢাকায় ফিরে এলাম। অফিসে এখনও গোপন রাখতাম, কিন্তু প্রতি সপ্তাহে একবার করে কোথাও না কোথাও যেতাম। কখনো লেকে, কখনো পুরান ঢাকায়, কখনো তার মামার বাসায়। প্রতিবারই নতুন নতুন স্পর্শ। কিন্তু সেই প্রথম রাতের স্পর্শ কখনো ভুলতে পারিনি।

মাস কয়েক পর আমরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলাম। পরিবারকে বললাম। প্রথমে একটু অসুবিধা হলেও শেষে সবাই রাজি হয়ে গেল। বিয়ে হলো ঢাকাতেই। সাধারণ, কিন্তু খুব সুন্দর।

বিয়ের পরের প্রথম রাত। আমাদের নতুন ফ্ল্যাট। রিয়া লাল বেনারসি পরে বসে আছে। আমি তার কাছে গেলাম। এবার আর ভয় নেই, শুধু ভালোবাসা। আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর ধীরে ধীরে তার শাড়ি খুললাম। এবার পুরোপুরি। আমাদের শরীর এক হয়ে গেল। সেই রাতে আমরা পুরোপুরি মিলিত হলাম। কিন্তু প্রতিটা মুহূর্তে সেই প্রথম স্পর্শের অনুভূতি ফিরে আসছিল।

বছর খানেক পর আমাদের একটা ছোট্ট মেয়ে হলো। নাম রাখলাম “স্পর্শিতা”। সে যখন হাসে, তখন তার মায়ের সেই প্রথম হাসিটা মনে পড়ে।

আজও, অনেক বছর পর, যখন রিয়া আমার পাশে শুয়ে থাকে, আমি তার হাত ধরি। আর মনে হয় সেই প্রথম স্পর্শ এখনও তাজা। সময় যত যায়, ভালোবাসা তত গভীর হয়। কিন্তু প্রথম স্পর্শের ম্যাজিক কখনো শেষ হয় না।

....
👁 304