রাত গভীর হয়ে আসছে। ঢাকার বাইরে, নারায়ণগঞ্জের কাছে একটা ছোট গ্রামে, রাহাতের ঘরের জানালায় দাঁড়িয়ে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আজ পূর্ণিমা। চাঁদ উঠবে, আর সেই চাঁদনি রাতে সে অপেক্ষা করছে তার জন্য। তার নাম রিয়া। রাহাতের বড় ভাইয়ের স্ত্রী—বউদি। কিন্তু এই সম্পর্কের সীমানা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।
রাহাত বয়সে ২৮। চাকরি করে ঢাকায়, কিন্তু প্রতি শুক্রবার গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। আর রিয়া, ২৬ বছরের সুন্দরী, তার ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয়েছে চার বছর আগে। কিন্তু ভাইটা ব্যবসার কাজে প্রায়ই বাইরে থাকে। রাহাত আর রিয়ার মধ্যে যে আকর্ষণ, সেটা শুরু হয়েছিল একটা বৃষ্টির রাতে, যখন বিদ্যুৎ চলে গিয়ে ঘর অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে তারা অপেক্ষা করে চাঁদনি রাতের জন্য। কারণ চাঁদের আলোয় সবকিছু যেন আরও রোমান্টিক, আরও নিষিদ্ধ হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যা সাতটা। রাহাত বারান্দায় বসে চা খাচ্ছে। তার মা আর বাবা ঘুমিয়ে পড়েছে। ভাই আজও চট্টগ্রামে। রিয়া রান্নাঘরে কাজ করছে। তার শাড়ির আঁচলটা একটু সরে গেছে, ঘামে ভেজা গলায় চাঁদের আলো পড়লে কেমন লাগবে সেটা ভাবতেই রাহাতের বুক দুরুদুরু করে উঠল।
“বউদি, চা খাবে?” রাহাত জিজ্ঞেস করল নরম গলায়।
রিয়া হেসে মাথা নাড়ল। “তুমি খাও। আমি পরে। আজ চাঁদ উঠবে, দেখতে যাবে নাকি নদীর ধারে?”
রাহাতের চোখে চকচক করে উঠল। “যাব। কিন্তু সাবধানে। কেউ যেন না দেখে।”
রিয়া লজ্জায় মাথা নিচু করল। তার গাল লাল হয়ে গেল। চার বছরের বিয়েতে সে কখনো এতটা রোমান্টিক অনুভব করেনি। তার স্বামী ভালো মানুষ, কিন্তু রাহাতের সাথে যে টান, সেটা অন্যরকম। যেন নিষিদ্ধ ফলের মিষ্টি।
রাত নয়টা বাজল। চাঁদ উঠতে শুরু করেছে। আকাশে হালকা মেঘ, কিন্তু চাঁদের আলো ফুটে উঠছে ধীরে ধীরে। রাহাত তার ঘরে বসে অপেক্ষা করছে। হাতে মোবাইল, কিন্তু চোখ জানালায়। রিয়া তার ঘর থেকে বেরিয়ে এলো একটা সাদা শাড়ি পরে। চুল খোলা, কপালে সিঁদুর, গলায় হালকা সুগন্ধি।
“চলো,” ফিসফিস করে বলল সে।
তারা পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গ্রামের পথ ধরে হাঁটতে লাগল। নদীর দিকে। রাস্তায় কেউ নেই। শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর দূরের কুকুরের ডাক। চাঁদ এখন মাঝ আকাশে। তার আলোয় রিয়ার মুখটা যেন রূপালি হয়ে উঠেছে। রাহাত তার হাতটা ধরল। নরম, গরম।
“আজকের রাতটা আমাদের,” বলল রাহাত।
রিয়া লজ্জায় হাসল। “তুমি এত সুন্দর করে কথা বলো কেন? আমার তো ভয় করে।”
“ভয় কীসের? আমরা তো একে অপরকে ভালোবাসি।”
নদীর ধারে পৌঁছে তারা একটা বড় গাছের নিচে বসল। চাঁদের আলো পানিতে পড়ে ঝিলমিল করছে। হাওয়া বইছে হালকা। রিয়া তার মাথাটা রাহাতের কাঁধে রাখল।
“জানো, প্রথম যেদিন তোমাকে দেখলাম, সেদিন থেকেই মনে হয়েছিল তুমি আলাদা,” রিয়া বলল।
রাহাত তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল। “আর আমি তো তোমাকে দেখেই পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। ভাইয়ের বউ, তবু মন সামলাতে পারিনি।”
তারা অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। চাঁদের আলোয় তাদের ছায়া লম্বা হয়ে পড়েছে। রাহাত রিয়ার কপালে চুমু খেল। তারপর গালে। রিয়া চোখ বন্ধ করে উপভোগ করতে লাগল। তার শ্বাস-প্রশ্বাস ভারী হয়ে আসছে।
রাহাতের হাত রিয়ার কোমরে চলে গেল। শাড়ির আঁচল সরিয়ে নরম ত্বকে হাত রাখল। রিয়া কেঁপে উঠল। “এখানে না... কেউ দেখে ফেলবে।”
“কেউ নেই। শুধু চাঁদ আর আমরা।”
তারা আরও কাছে সরে এল। রাহাত রিয়াকে জড়িয়ে ধরল। তাদের ঠোঁট মিলিত হলো। প্রথমে নরম, তারপর গভীর। চুমু যেন শেষ হতে চায় না। রিয়ার হাত রাহাতের বুকে। তার হৃদস্পন্দন অনুভব করছে।
এইভাবে অনেকক্ষণ কাটল। তারা কথা বলল তাদের স্বপ্নের কথা। কীভাবে একদিন সবাইকে বলবে, কীভাবে একসাথে থাকবে। যদিও জানে সেটা অসম্ভব। তবু অপেক্ষা করে
রাত এগারোটা। তারা নদীর পাড় ধরে হাঁটছে। রিয়া রাহাতের হাত শক্ত করে ধরে আছে। হাওয়ায় তার শাড়ি উড়ছে। চাঁদের আলোয় তার শরীরের আকৃতি স্পষ্ট। রাহাতের মনে হচ্ছে সে যেন একটা স্বপ্ন।
“আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না,” হঠাৎ বলে উঠল রিয়া।
রাহাত তাকে থামিয়ে জড়িয়ে ধরল। “আমিও না। এই চাঁদ দেখো, যেন আমাদের আশীর্বাদ করছে।”
তারা একটা নির্জন জায়গায় বসল। ঘাসের ওপর। রাহাত রিয়ার শাড়ির আঁচল পুরোপুরি সরিয়ে দিল। তার ব্লাউজের হুক খুলতে শুরু করল। রিয়া লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল, কিন্তু বাধা দিল না। চাঁদের আলো তার স্তনের ওপর পড়েছে। সাদা, নরম। রাহাত মুখ নামিয়ে চুমু খেল। রিয়া আলতো করে কেঁপে উঠে তার চুলে হাত ঢুকিয়ে দিল।
“আহ... রাহাত...”
তাদের শরীর এক হয়ে গেল। চাঁদ সাক্ষী হয়ে রইল। নদীর ঢেউয়ের শব্দ, হাওয়ার গান, আর তাদের নিঃশ্বাসের সুর মিলে এক অপূর্ব সংগীত তৈরি হলো। রাহাত ধীরে ধীরে রিয়াকে ভালোবাসতে লাগল। প্রতিটা স্পর্শে রোমাঞ্চ। প্রতিটা চুমুতে আবেগের বন্যা।
রিয়া তার নাম ধরে ডাকতে লাগল। “আরও... আরও কাছে এসো...”
ঘণ্টাখানেক কাটল এভাবে। তারা ক্লান্ত হয়ে পাশাপাশি শুয়ে রইল। চাঁদ এখন উজ্জ্বল। তাদের শরীরে চাঁদনি রেখে গেছে রূপালি আভা।
রাহাত বলল, “এই রাতটা আমি কখনো ভুলব না।”
রিয়া তার বুকে মাথা রেখে বলল, “আমিও না। প্রতি পূর্ণিমায় আমরা এখানে আসব। অপেক্ষা করব চাঁদনি রাতের।”
ফিরে আসার পথে তারা হাত ধরে হাঁটল। গ্রামের কাছে পৌঁছে সাবধানে আলাদা হয়ে গেল। রাহাত আগে ঢুকল ঘরে। রিয়া পরে। কেউ জানল না।
পরের দিন সকালে রিয়া চা দিতে এসে রাহাতের চোখে চোখ রাখল। চোখে লুকানো হাসি। রাহাত তার হাতে আলতো করে ছুঁয়ে দিল।
দিন কাটতে লাগল। কিন্তু প্রতি পূর্ণিমার অপেক্ষায় তারা বেঁচে থাকত। একবার বৃষ্টিতে ভিজে, একবার ফুলের বাগানে, কিন্তু চাঁদনি রাত সবচেয়ে প্রিয়।
এক পূর্ণিমায় তারা আরও সাহসী হয়ে উঠল। রাহাত রিয়াকে নিয়ে নৌকায় চড়ল নদীতে। চাঁদের নিচে নৌকা ভাসছে। রিয়া তার কোলে শুয়ে আছে। তারা গান গাইল পুরনো রোমান্টিক গান। তারপর আবার শরীরী মিলন। নদীর মাঝখানে, চাঁদের সাক্ষীতে।
রাহাত ফিসফিস করে বলল, “তুমি আমার সব।”
রিয়া চোখে জল নিয়ে বলল, “তুমিও। এই নিষিদ্ধ ভালোবাসা যেন কখনো শেষ না হয়।”
কিন্তু সব রোমান্সে বাধা আসে। একদিন গ্রামের কেউ সন্দেহ করল। রাহাতের মা জিজ্ঞেস করল, “তোরা দুজনে রাতে বেরোচ্ছিস কেন?”
রাহাত কোনোমতে সামাল দিল। কিন্তু তারপর থেকে তারা আরও সাবধান হলো। তবু অপেক্ষা ছাড়ল না। চাঁদ উঠলেই তাদের মন উদাস হয়ে যেত।
এক রাতে ঝড় আসছিল। কিন্তু চাঁদ উঠেছিল। তারা ঘরের ছাদে উঠল। বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে, চাঁদের আলো মেঘের ফাঁকে। রিয়া ভিজে যাচ্ছে। তার শাড়ি শরীরে লেপটে আছে। রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেল। বৃষ্টি আর চাঁদের মাঝে তাদের ভালোবাসা আরও তীব্র হয়ে উঠল।
তারা একে অপরের শরীর অন্বেষণ করল নতুন করে। প্রতিটা স্পর্শে যেন বিদ্যুৎ খেলছে। রিয়ার আর্তনাদ মিশে গেল বৃষ্টির শব্দে।
“আমি তোমার,” রিয়া বলল।
“চিরকাল,” রাহাত জবাব দিল।
সময় চলে যায়। কয়েক মাস পর রাহাতের ভাই সন্দেহ করতে শুরু করল। কিন্তু তারা লুকিয়ে চলল। প্রতি চাঁদনি রাতে অপেক্ষা করে। কখনো গ্রামের বাইরে, কখনো ঢাকায় হোটেলে।
তাদের ভালোবাসা বেড়ে চলল। রিয়া একদিন বলল, “যদি সবাই জেনে যায়, তবু আমি তোমার সাথে থাকব।”
রাহাত তাকে জড়িয়ে বলল, “আমরা চলে যাব কোথাও। নতুন জীবন শুরু করব।”
কিন্তু আপাতত তারা চাঁদনি রাতের অপেক্ষায় থাকে। সেই রাতগুলো তাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্
....