ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেনের সেই জানালার পাশের সিটে বসে রাহাত প্রথমবার দেখেছিল সুমিকে। না, সুমি তার বড় ভাইয়ের বউ — বউদি। কিন্তু সেই যাত্রায় কী এক অদ্ভুত টান অনুভব করেছিল সে। সুমির চোখ দুটো যেন নদীর জলের মতো গভীর, আর হাসিটা যেন বসন্তের প্রথম ফুল। রাহাত তখন কলেজের ফাইনাল ইয়ার। বাড়িতে ফিরছিল গ্রীষ্মের ছুটিতে।
গ্রামের নাম ছিল কলমী। নদী পদ্মার শাখা বয়ে গেছে গ্রামের পাশ দিয়ে। রাহাতদের বাড়ি নদীর খুব কাছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। বড় ভাই রিয়াজ চাকরি করে চট্টগ্রামে। মাঝে মাঝে স্ত্রী সুমিকে নিয়ে গ্রামে আসে। সুমির বয়স ২৪, রাহাতের চেয়ে মাত্র তিন বছরের বড়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে সে যেন পুরোপুরি বউদি হয়ে গিয়েছিল।
রাহাত বাড়ি ফিরতেই মা বলল, “রাহাত, তোর বউদি এসেছে। রিয়াজ ভাইয়ের সাথে। কয়েকদিন থাকবে।”
সুমি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে হাসল, “কেমন আছো রাহাত? অনেকদিন পর দেখা।” তার পরনে ছিল হালকা নীল শাড়ি, চুল খোলা। রাহাতের বুকটা কেঁপে উঠল। সে শুধু বলল, “ভালো আছি বউদি।”
সেদিন রাতে খাওয়ার টেবিলে সুমি তার প্লেটে ভাত তুলে দিতে গিয়ে হাতে হাত লেগে গেল। দুজনেই চমকে উঠল। সুমির চোখে এক ঝলক কী যেন দেখল রাহাত — লজ্জা, না আকর্ষণ?
পরদিন সকালে রাহাত নদীর পাড়ে বেড়াতে গেল। সেখানে সুমি একা দাঁড়িয়ে ছিল। “বউদি, তুমি এখানে?”
“হ্যাঁ, শহরের পর এই নদীর হাওয়া খুব ভালো লাগে।” সুমি হাসল। তারপর দুজনে অনেকক্ষণ গল্প করল। রাহাত বলল তার কলেজের কথা, স্বপ্নের কথা। সুমি শুনছিল মন দিয়ে। তার চোখে যেন একটা অপূর্ণতা। রিয়াজ ভাই সবসময় ব্যস্ত, কম সময় দেয়।
দিন যায়। রাহাত আর সুমির মধ্যে একটা অদৃশ্য সুতো বাঁধা পড়তে থাকে। সুমি রাহাতের জন্য বিশেষ রান্না করে, রাহাত সুমির জন্য বই এনে দেয়। একদিন বিকেলে বৃষ্টি নামল। দুজনে নদীর পাড়ের একটা পুরনো ঘরে আশ্রয় নিল। বৃষ্টির শব্দের মাঝে সুমি বলল, “রাহাত, তুমি খুব ভালো ছেলে। কোনো মেয়ে তোমাকে পেলে খুব সুখী হবে।”
রাহাত আর সহ্য করতে পারল না। “বউদি... আমি যাকে চাই, সে তো অন্যের।” তার চোখে জল চলে এল। সুমি চুপ করে তার হাত ধরল। “আমি জানি রাহাত। কিন্তু এটা ভুল।”
কিন্তু ভুল যে কতটা মধুর হতে পারে, তা দুজনেই বুঝতে পারছিল। সেই বৃষ্টির দিন থেকে তাদের সম্পর্ক পাল্টে গেল। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা, হাতে হাত ছোঁয়া, চোখে চোখ রাখা। রাহাত সুমিকে বলল, “তুমি আমার সবকিছু। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।”
সুমি কাঁদল। “রিয়াজ তোমার দাদা। এটা পাপ। কিন্তু... আমিও তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি রাহাত। তোমার চোখে যে ভালোবাসা দেখি, রিয়াজের চোখে তা কখনো দেখিনি।”
এক রাতে রিয়াজ চট্টগ্রাম ফিরে গেল জরুরি কাজে। বাড়িতে শুধু রাহাত, সুমি আর মা। মা ঘুমিয়ে পড়লে দুজনে ছাদে উঠল। চাঁদের আলোয় সুমি অসাধারণ লাগছিল। রাহাত তাকে জড়িয়ে ধরল। “আজ আমি তোমাকে পুরোপুরি চাই বউদি।”
সুমি লজ্জায় মুখ লুকাল তার বুকে। “আমিও চাই রাহাত। কিন্তু সাবধানে।”
তাদের প্রথম মিলন হলো ছাদের এক কোণে, চাঁদের নীচে। রাহাত সুমির শাড়ির আঁচল সরাল। তার নরম বুক, কোমর, পুরো শরীর যেন ফুলের মতো। সুমি কাঁপছিল। রাহাত তার ঠোঁটে চুমু খেল। ধীরে ধীরে তাদের শরীর এক হয়ে গেল। সুমির মুখ থেকে মৃদু আওয়াজ বেরোচ্ছিল, “আহ রাহাত... আরো জোরে... তুমি আমার।”
সেই রাতে তারা অনেকবার ভালোবাসল। নদীর হাওয়া তাদের ঘাম মুছে দিচ্ছিল। সুমি রাহাতের কানে ফিসফিস করে বলল, “আমি তোমার জন্য সব ছেড়ে দিতে পারি।”
কিন্তু সুখ সবসময় স্থায়ী হয় না। কয়েকদিন পর রিয়াজ ফিরে এল। সে কিছু সন্দেহ করতে শুরু করল। রাহাত আর সুমির মধ্যে চোখাচোখি দেখে তার মনে খটকা লাগল। একদিন সে সুমিকে জিজ্ঞাসা করল, “তোমার আর রাহাতের মধ্যে কী হয়েছে?”
সুমি অস্বীকার করল। কিন্তু রাতে রাহাতকে বলল, “আমাদের সাবধান হতে হবে।”
তারপরেও তারা থামল না। নদীর পাড়ের সেই পুরনো ঘরে, বাগানের পেছনে, রাতের অন্ধকারে — যেখানে সুযোগ পেত সেখানেই মিলিত হতো। রাহাত সুমির শরীরের প্রতিটা অংশ চিনে ফেলেছিল। সুমির স্তন, তার নাভি, তার উরু — সবকিছু রাহাতের আদরে ফুলে উঠত। সুমি বলত, “তোমার আদরে আমি পাগল হয়ে যাই রাহাত। রিয়াজ কখনো এমন করে নি।”
একদিন ভয়ংকর ঘটনা ঘটল। রিয়াজ অফিস থেকে আগে ফিরে এসে তাদের দেখে ফেলল নদীর পাড়ে জড়াজড়ি করে। সে চিৎকার করে উঠল। “এ কী করছিস রাহাত? সে তো তোর বউদি!”
রাহাত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। সুমি কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি রিয়াজ। তুমি আমাকে সময় দাওনি।”
বাড়িতে ঝড় বয়ে গেল। মা কাঁদল, রিয়াজ রাগে পাগল হয়ে গেল। সে সুমিকে তালাক দিতে চাইল। কিন্তু সুমি বলল, “আমি রাহাতের সাথে থাকব।”
শেষমেশ রিয়াজ মেনে নিল। সে বলল, “তোরা যা চাস কর। কিন্তু গ্রামে থাকিস না।”
রাহাত আর সুমি ঢাকায় চলে গেল। রাহাত চাকরি খুঁজল, সুমি একটা স্কুলে চাকরি নিল। তাদের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট। সেখানে প্রতি রাতে তারা ভালোবাসত। সুমি এখন আর বউদি নয়, রাহাতের স্ত্রী। তারা বিয়ে করল।
এক বছর পর তাদের একটা ছেলে হলো। নদীর পাড়ের সেই স্মৃতি নিয়ে তারা সুখে ঘর করতে লাগল। রাহাত সুমিকে প্রতিদিন বলত, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ভুল।”
সুমি হেসে বলত, “আর তুমি আমার নদী। তোমার স্রোতে আমি ভেসে চলেছি চিরকাল।”
....