চা বাগানের প্রেম

ঢাকার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া একটা সাধারণ জীবন ছিল আরিফের। বয়স ২৮। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। অফিস, বাসা, কফি আর ল্যাপটপ—এই ছিল তার রুটিন। কিন্তু তার মনের ভিতরে একটা অদম্য ইচ্ছে ছিল—কোথাও চলে যাওয়ার, কারো সাথে হারিয়ে যাওয়ার।

kxz

নাফিসা ছিল তার কলেজের বন্ধু। বয়স ২৬। সে একটা এনজিওতে কাজ করত। সুন্দর, হাসিখুশি, কিন্তু তার চোখে একটা লুকানো দুঃখ ছিল। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল অনেক দিনের। কখনো কখনো রাতে ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলত। আরিফ কখনো স্বীকার করেনি, কিন্তু নাফিসার হাসিতে তার বুকটা ধক করে উঠত।

একদিন অফিসের ছুটিতে আরিফ বলল, “নাফিসা, চল না কোথাও ঘুরে আসি। শুধু আমরা দুজন।”

kx/춺'

নাফিসা প্রথমে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। “পাগল নাকি? লোকে কী বলবে?”

কিন্তু আরিফের জেদ আর তার নিজের মনের ভিতরের ইচ্ছেটা তাকে রাজি করাল। তারা ঠিক করল সিলেটের পাহাড়ে যাবে। তিন দিনের ট্রিপ।

সকালবেলা ঢাকা থেকে বাসে উঠল দুজনে। নাফিসা সাদা সালোয়ার কামিজ পরে এসেছে। চুল খোলা, চোখে সামান্য কাজল। আরিফ জিন্স-টি শার্ট। বাসের জানালার পাশে বসে তারা কথা বলছিল। বাইরে সবুজ ধানখেত, নদী, গ্রাম।

“তোমার সাথে এভাবে ঘুরতে যাচ্ছি, এটা আমার জীবনের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার,” নাফিসা হেসে বলল।

আরিফ তার হাতটা আলতো করে ধরল। “আমারও।”

সিলেট পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। তারা একটা ছোট রিসোর্টে উঠল। পাহাড়ের কোলে, চারপাশে চা বাগান। রুম দুটো আলাদা নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বারান্দা এক। রাতে বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে তারা আকাশের তারা দেখছিল।

“আরিফ, তুমি কখনো প্রেমে পড়েছ?” নাফিসা হঠাৎ জিজ্ঞাসা করল।

আরিফ চুপ করে তার দিকে তাকাল। “পড়েছি। কিন্তু বলতে পারিনি।”

নাফিসার গাল লাল হয়ে গেল। সে মুখ নিচু করে হাসল।

পরের দিন সকালে তারা ট্রেকিংয়ে বের হল। লাউয়াছড়া জঙ্গলের দিকে। পথে বৃষ্টি শুরু হল। দুজনে একটা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নিল। বৃষ্টির ফোঁটা পাতায় টুপটাপ শব্দ করছে। নাফিসা কাঁপছিল। আরিফ তার কাঁধে হাত দিয়ে কাছে টেনে নিল।

“ঠান্ডা লাগছে?”

নাফিসা মাথা নেড়ে তার বুকে মাথা রাখল। সেই মুহূর্তে সময় থেমে গিয়েছিল। আরিফ তার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। বৃষ্টি থামার পর তারা আবার হাঁটতে শুরু করল। হাতে হাত ধরে।

দুপুরে একটা ছোট ঝর্ণার কাছে পৌঁছাল। পানি ঝরঝর করে পড়ছে। চারপাশে সবুজ। নাফিসা জুতো খুলে পানিতে পা দিল। আরিফও। দুজনে হাসতে হাসতে পানি ছিটিয়ে খেলা করছিল। নাফিসার সালোয়ার ভিজে গেছে, চুলে পানির ফোঁটা। আরিফের চোখ আটকে গেল তার মুখে।

“নাফিসা… তুমি খুব সুন্দর।”

নাফিসা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিল। কিন্তু তার হাতটা আরিফের হাতে চলে এল। তারা ঝর্ণার পাশে বসল। আরিফ তার কপালে আলতো করে চুমু দিল। নাফিসা চোখ বন্ধ করে তার বুকে ঝুঁকে পড়ল।

সেই দিন বিকেলে তারা চা বাগানে হাঁটল। সূর্য ডুবছিল। লাল আকাশ। আরিফ নাফিসাকে জড়িয়ে ধরল। “আমি তোমাকে ভালোবাসি, নাফিসা। অনেক দিন ধরে।”

নাফিসার চোখে জল চলে এল। “আমিও… কিন্তু ভয় লাগে।”

“কোনো ভয় নেই। আমি আছি।”

রাতে রিসোর্টে ফিরে তারা ডিনার করল। মোমবাতি জ্বালিয়ে। কথা বলতে বলতে সময় কেটে যাচ্ছিল। নাফিসা বলল, “আজকের রাতটা আমার রুমে এসো। গল্প করব।”

আরিফ যেতে চায়নি প্রথমে। কিন্তু নাফিসার চোখের আবেদন তাকে টেনে নিল।

রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করল। নাফিসা তার কাছে এগিয়ে এল। আরিফ তাকে জড়িয়ে ধরল। তাদের ঠোঁট মিলিত হল প্রথমবার। নরম, আবেগপূর্ণ চুমু। নাফিসার শরীর কাঁপছিল। আরিফ তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। ধীরে ধীরে তারা বিছানায় বসল।

নাফিসা আরিফের টি শার্ট খুলে দিল। তার বুকে হাত রাখল। “তোমার হার্টবিট খুব জোরে বাজছে।”

আরিফ হেসে তার সালোয়ারের দোপাট্টা সরিয়ে দিল। তার ঘাড়ে, কানে চুমু দিতে লাগল। নাফিসা আলতো করে কেঁপে উঠল। তাদের শরীর একে অপরের কাছে সাঁধতে লাগল। কাপড় খসে পড়ছিল ধীরে ধীরে। চাঁদের আলোয় তাদের শরীর জ্বলছিল।

আরিফ নাফিসার স্তনে আলতো করে চুমু দিল। নাফিসা তার চুলে হাত চেপে ধরল। “আরিফ… আমাকে তোমার করে নাও।”

তারা এক হয়ে গেল। ধীরে, আবেগে, ভালোবাসায়। ঘরে শুধু তাদের নিঃশ্বাস আর ফিসফিসানি। বাইরে পাহাড়ের হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল। সেই রাতে তারা অনেকবার একে অপরকে আবিষ্কার করল। কখনো নরম চুমুতে, কখনো তীব্র আলিঙ্গনে।

ভোর হওয়ার আগে তারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। নাফিসা আরিফের বুকে মাথা রেখে।

পরের দিন তারা জাফলং গেল। নদী, পাথর, পাহাড়। হাত ধরে হাঁটছিল। নাফিসা বলল, “গত রাতের পর আমার আর কোনো লজ্জা নেই। তুমি আমার।”

আরিফ তার কপালে চুমু দিল। “আর তুমি আমার।”

তারা নদীর পাড়ে বসে অনেকক্ষণ কথা বলল। ভবিষ্যতের কথা। বিয়ে, সংসার, ছোট ছোট স্বপ্ন। বিকেলে আবার রিসোর্টে ফিরল। সেদিন রাতেও তাদের শরীর একে অপরের সাথে মিশে গেল। এবার আরও গভীরভাবে, আরও চেনা হয়ে।

তৃতীয় দিন ট্রিপ শেষ হওয়ার আগে তারা একটা ছোট পাহাড়ে উঠল। সেখান থেকে সিলেট শহর দেখা যাচ্ছিল। সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আরিফ নাফিসার হাতে একটা ছোট রিং পরিয়ে দিল।

“এটা প্রমিস রিং। আমি তোমাকে বিয়ে করব।”

নাফিসার চোখে জল। সে আরিফকে জড়িয়ে ধরল। “আমিও চাই।”

ঢাকায় ফিরে আসার পরও তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হল। প্রতি উইকেন্ডে তারা কোথাও না কোথাও ঘুরতে যেত। কখনো কক্সবাজার, কখনো রাঙামাটি। প্রতিবারই তাদের ভালোবাসা নতুন করে জন্ম নিত।

কয়েক মাস পর তারা বিয়ে করল। ছোট অনুষ্ঠান। পরিবারের সবাই খুশি। আরিফ আর নাফিসা এখনো প্রতি বছর একবার করে পাহাড়ে ঘুরতে যায়। সেই প্রথম ট্রিপের স্মৃতি নিয়ে।

পাহাড় তাদের ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে রইল।

....
👁 646