তোমার চোখে পাহাড়ের স্বপ্ন

পাহাড়ের ঢালে সূর্যাস্তের আলো যখন সোনালি রঙে মিশে যাচ্ছিল, তখন আমি প্রথম দেখলাম তাকে। বাতাসে হালকা ঠান্ডা স্পর্শ, আর দূরের নদীর কলতান মিশে এক অপূর্ব সুর তৈরি করেছিল। আমি, রাহাত, চট্টগ্রামের এক সাধারণ ইঞ্জিনিয়ার, কয়েকদিনের ছুটিতে এসেছিলাম খাগড়াছড়ির এই ছোট পাহাড়ি এলাকায়। মনটা একটু একাকী ছিল। শহরের হুড়োহুড়ি থেকে দূরে, প্রকৃতির কাছে একটু শান্তি খুঁজতে এসেছি।

kxz

সে দাঁড়িয়ে ছিল একটা বড় ঝুঁকনো গাছের নিচে। লম্বা চুলগুলো বাতাসে উড়ছিল, পরনে হালকা সাদা সালোয়ার কামিজ। তার চোখ দুটো যেন পাহাড়েরই মতো গভীর, আর হাসিটা যেন সূর্যের শেষ আলোর মতো উষ্ণ। তার নাম ছিল নিশি। পরে জেনেছিলাম সে ঢাকা থেকে এসেছে তার বান্ধবীদের সাথে একটা ছোট ট্রিপে। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমরা দুজনই একা ছিলাম পাহাড়ের বুকে।

আমি কাছে গিয়ে নরম গলায় বললাম, “এখানে সূর্যাস্ত দেখতে সত্যিই অসাধারণ, তাই না?”

kx/춺'

সে ঘুরে তাকাল। তার চোখে একটু অবাক ভাব, তারপর হাসল। “হ্যাঁ। মনে হয় যেন পুরো পৃথিবীটা এখানে থেমে গেছে। আপনিও কি একা এসেছেন?”

“হ্যাঁ। শহরের কোলাহল থেকে পালিয়ে।” আমি পাশে দাঁড়ালাম। বাতাসে তার চুলের হালকা ফুলের গন্ধ ভেসে এল। আমার বুকের ভিতরটা অদ্ভুতভাবে শান্ত হয়ে গেল।

সেই প্রথম সন্ধ্যায় আমরা অনেকক্ষণ কথা বললাম। সে বলল তার পড়াশোনার কথা, তার স্বপ্নের কথা—একদিন একটা ছোট ক্যাফে খুলবে যেখানে বই আর কফির গন্ধ মিশে থাকবে। আমি বললাম আমার কাজের কথা, রাত জেগে প্রজেক্ট শেষ করার কথা, আর কতদিন ধরে প্রকৃতির কাছে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা। কথায় কথায় হাসি উঠল, চোখে চোখ পড়ল, আর একটা অদৃশ্য সুতো যেন বেঁধে গেল দুটো হৃদয়ের মাঝে।

পরের দিন সকালে আবার দেখা হলো। সে আমাকে ডেকে নিয়ে গেল পাহাড়ের আরও উঁচুতে, একটা ছোট ঝর্ণার কাছে। পানির ঝরঝর শব্দে চারপাশ ভরে গিয়েছিল। আমরা পাথরের উপর বসে চা খেলাম যা সে নিজে বানিয়ে এনেছিল। তার হাত থেকে চায়ের কাপ নিতে গিয়ে আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে গেল। সেই ছোঁয়ায় একটা বিদ্যুৎ খেলে গেল শরীরে। সে লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল, কিন্তু তার ঠোঁটে একটা মৃদু হাসি ফুটে উঠল।

“রাহাত, তুমি জানো? এই পাহাড়ে এসে মনে হয় সবকিছু নতুন করে শুরু করা যায়,” সে আস্তে আস্তে বলল।

আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “হয়তো আমাদের গল্পটাও এখান থেকেই শুরু হলো।”

দিনগুলো কাটতে লাগল রোমান্সে ভরে। সকালে একসাথে হাঁটাহাঁটি, দুপুরে পাহাড়ের ছায়ায় বসে বই পড়া, বিকেলে সূর্যাস্ত দেখা। একদিন বৃষ্টি এল। আমরা একটা ছোট গুহার মতো জায়গায় আশ্রয় নিলাম। বৃষ্টির শব্দে চারপাশ ঢাকা। তার কাঁধে আমার হাত রাখলাম। সে কাছে সরে এল। তার শরীরের উষ্ণতা আমাকে ঘিরে ধরল। আমরা চুপ করে বসে রইলাম, কিন্তু হৃদয় দুটো অনেক কথা বলছিল।

সেই রাতে আকাশে তারা ফুটেছিল অসংখ্য। আমরা পাহাড়ের চূড়ায় বসে ছিলাম। “নিশি, তুমি আমার জীবনে এই আলো নিয়ে এসেছ,” আমি তার হাত ধরে বললাম। সে কোনো কথা না বলে আমার বুকে মাথা রাখল। তার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মনে হলো এই মুহূর্তটা চিরকাল থেকে যাক।

আমাদের প্রথম চুমু সেই তারার আলোয় হয়েছিল। খুব আস্তে, খুব নরম। তার ঠোঁট ছিল মধুর মতো মিষ্টি। চুমু খেতে খেতে সময় যেন থেমে গিয়েছিল। পাহাড়ের বাতাস আমাদের চারপাশে নেচে বেড়াচ্ছিল যেন আমাদের আশীর্বাদ করতে।

কিন্তু সব রোমান্সের মতো আমাদের গল্পেও বাধা এল। নিশির বান্ধবীরা ট্রিপ শেষ করে ফিরে যাওয়ার কথা বলল। আমার ছুটিও শেষের দিকে। আমরা দুজনেই জানতাম এই কয়েকটা দিনের পর আবার শহরের জীবন। কিন্তু ভালোবাসা যদি সত্যি হয়, তাহলে দূরত্ব কোনো বাধা নয়।

শেষ দিনে আমরা আবার সেই প্রথম সূর্যাস্তের জায়গায় গেলাম। আমি তার হাত ধরে বললাম, “নিশি, এই পাহাড় আমাদের মিলিয়েছে। এখন থেকে আমরা একসাথে সব পাহাড় জয় করব।”

সে চোখে জল নিয়ে হাসল, “হ্যাঁ, রাহাত। তুমি আমার পাহাড়, আমার আকাশ, আমার সব।”

আমরা জড়িয়ে ধরলাম। তার শরীর আমার শরীরের সাথে মিশে গেল। চুমুতে চুমুতে আমাদের হৃদয় এক হয়ে গেল। সেই রাতে আমরা পাহাড়ের নিচের ছোট কটেজে একসাথে কাটালাম। তার স্পর্শে, তার আদরে, তার ভালোবাসায় আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম। প্রতিটা মুহূর্ত ছিল রোমান্টিক, ছিল আবেগে ভরা। তার নরম ঠোঁট, তার উষ্ণ শ্বাস, তার হাতের ছোঁয়া—সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো।

....
👁 276