সময়টা ২০১৯ সাল, অক্টোবর মাসের ২১ তারিখ! লন্ডনে তখন মোটামুটি বৃষ্টিময় পরিবেশ! সাধারণত অক্টোবর_জানুয়ারি এই কয়মাস লন্ডনে মোটামুটি বৃষ্টি হয়! কখনো হালকা, তো কখনো ভারী বর্ষণ!
আজ ও তার ব্যতীক্রম নয়! মোটামুটি বৃষ্টি হচ্ছে সেই সকাল থেকে
লন্ডনের বেলগ্রাভিয়ার একটি বিশাল বড় মেনশন হচ্ছে ''King's-Mansion''!
দেড় কিলোমিটার জুড়ে পুরো এলাকায় মাত্র একটাই বাড়ি! বিশাল আধুনিক প্রাসাদের থেকে কম নয়! দূর থেকে তাকালেও বোঝা যায়, সেটা কোনো সাধারণ মানুষের বাস নয়, বরং যেন কোনো গোপন সম্রাটের রাজপ্রাসাদ। হবে নাই বা কেন! বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের বাস নিবাস এটি! First king এবং তার একমাত্র নাতী 3rd king এর বসবাস এখানে!
চারপাশে ঘিরে আছে ঘন বন। বাড়ির চারদিক দিয়ে বিশাল উঁচু দেয়াল, দেয়ালের শেষে একটা আয়রন গেট, সেখানে পৌঁছাতে হলে প্রায় দেড় কিলোমিটার জঙ্গল পেরোতে হয়। অবশ্য জঙ্গল বললে ভুল হবে! পুরোটাই আধুনিক থিমে করা, যেখানে প্রাকৃতি এবং আধুনিকতার ধোঁয়া ভরপুর!
গেটের ওপারে শুরু হয় হাইওয়ে! বাড়ির পেছনের অংশটা নেমে গেছে একেবারে সমুদ্রে!বাড়ির ভিতরে সব কিছু আধুনিক,গ্লাসের দেয়াল, সেন্সর লাইট, লিফট, রুফটপে হেলিপ্যাড, আর বিশাল সুইমিং পুল থেকে দেখা যায় একদিকে বন, অন্যদিকে নীল সমুদ্র। পুরোটাই ফাস্ট কিংস এক.কে এর পছন্দে করা! তাদের বাস ভবনটি পুরোটাই হলিউড ডিজাইনার লুকা মডরিচ ডিজাইন করেন!
--সকাল তখন ১১:৩৭ মিনিট! কিংস মেনশনের সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসছে একটি যুবক! বয়স মাত্র তেইশ, গাঢ় কালো শার্টের ওপর তুষার সাদা স্যুট! কলারটা সামান্য খোলা, বুকের ভেতর থেকে চিকচিক করছে সূক্ষ্ম এক চেইন,
চোখে কালো অ্যাভিয়েটর সানগ্লাস, মুখে হালকা দাড়ি, ঠোঁটে অচেনা এক গম্ভীরতা!
হাতে মোটা ঘড়ি, আঙুলে সোনালী আভায় মোড়া রিং
গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা, আলো পড়লে ত্বকের ওপর ঝলসে ওঠে সোনালি উজ্জ্বলতা।
চিবুকের ঠিক নিচে, ছোট্ট এক বাদামি তিল আছে যেটা তার পুরো মুখে এক অনন্য আকর্ষণ যোগ করেছে।
সে সামনে আসতেই দু-জন লোক গাড়ির এপাশ ওপাশ করে দাড়ায়! একজন দরজা খুলে দিয়ে দাড়িয়ে পড়ে! গাড়িতে উঠে বসে সে! আজকে তার উদ্দেশ্য কোলাহল থেকে দূরে হ্যাম্পস্টেড হিথে যাওয়া! যেখানে তার ফুপি এবং বোন এসেছে!
বাবার সাথে অভিমানের কারণে তার ফুপি তাদের বাড়িতে যায়নি, সেজন্য কিংশুককে কাগজ পত্র সহ সেখানেই যেতে হচ্ছে! ফুপি এবং বোনের সাথে দেখা ও হয়ে যাবে এই ফাঁকে!
--প্রায় ৫৬ মিনিট সময় লাগে হ্যাম্পস্টেড হিথে পৌঁছাতে! এখন ও ভিলা কিছুটা দূরে! সবুজে ঘেরা চারপাশ! রাস্তার দুপাশে ছোটো ছোটো গার্ডেনের মতো এবং আঁকাবাকা ছোটো ছোটো পাহার! সব মিলিয়ে খুবই মনোহর দৃশ্য! তার উপরে হালকা বৃষ্টি! এ যেনো অপরূপ এক সৌন্দর্য দেখাচ্ছে প্রকৃতি!
আপন গতিতে চলতে থাকা গাড়িটি হঠাৎ জোড়ে ব্রেক কোষে! ল্যাপটপ থেকে মনো বিঘ্ন ঘটে কিংশুকের! সাথে তার গার্ডদের গাড়িগুলো ও থেমে যায়! একটার সাথে আরেকটা ধাক্কা লাগতে লাগতে লাগেনি!
কিংশুকের দু'জন বিশ্বস্ত গার্ড ওমার( আমিরাতের সদস্য) এবং টাইগার ( সিঙ্গাপুরের বডিবিল্ডার) তাড়াতাড়ি করে নেমে কিংশুকের উইন্ডোর সামনে দাড়ায়! আর বাকিরা চেক করতে যায় সামনে! হঠাৎ সামনের গার্ডের গাড়ি থামানোর কারণটা কি সেটা দেখার জন্য!
প্রচন্ড মেজাজ গরম হতে থাকে কিংশুকের! যেদিন থেকে তার গ্রান্ডপা বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবে পরিনত হয়েছে সেদিন থেকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাকে!
'' ওয়াট হ্যাপেন্ড ওমার?''
'' স্যার, ফিউ বক্স স্টান্ডিং ওভার দেয়ার! আই থিংক ইউ সুড চেক ইট আউট!''
'' হারি আপ!''
খোলা রাস্তার হঠাৎ অনেক গুলো বড় বড় বাক্স পড়ে থাকতে দেখে কিংশুকের গার্ডদের সন্দেহ হয়! এটা তো বো'ম ও থাকতে পারে! তারা সেদিকে যায় চেক করতে! কিংশুক গাড়িতে বসে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে থাকে!
ঘাড় ঘোড়াতেই উইন্ডো দিয়ে তাকাতেই চোখ আটকে যায় কিংশুকের! চোখের সান গ্লাসটি খুলে উইন্ডো অপেন করে! চোখের পাপড়ি ও যেনো নড়ছে না তার!
১৫-১৬ বছরের এক কিশোরী সাদা ওফ সোল্ডার হাটু অব্দি সিম্পল ড্রেস পড়ে গাছ থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে কিছু একটা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে! মেয়েটার চুল হালকা কোঁকড়ানো এবং স্ট্রেইট করার মতো কম্বিনেশন! বৃষ্টিতে হালকা ভিজে গেছে! মুখ শ্রী কিছুটা চায়নিজ দের মতো! তবে নাকটা ছোটো চিকন! পুরোপুরি চায়নিজ বলা ও যায় না! দেহের গঠন বলে দিচ্ছে তার বয়স ১৫-১৬ হবে! বা তার এক দেড় বছর বেশি, তবে এর অধিক নয়!
কিংশুকের পুরুষালি অ্যাডামস অ্যাপেল টা উঠানামা করে! যেখানে নিজের মায়ের পরকী'য়ার জন্য বাবাকে হারিয়ে নারী জাতির উপর এক চরম ঘৃণা সৃষ্টি হয় কিংশুকের সেখানে একটা অপরিচিত মেয়েকে দেখে তার হার্টবিট অস্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকে! খুব বেশি দূরত্ব না হওয়ায় মেয়েটার মুখ থেকে শুরু করে প্রতিটি দেহের ভাজ খুব সুক্ষ্ম ভাবে পরথ করতে থাকে কিংশুক!
বাম পাশের উইন্ডো থেকে আওয়াজ আসতেই ধ্যান অন্য দিকে নেয় কিংশুক! তাকে জানানো হয় বক্সগুলোর ভিতরে বো'ম রাখা ছিলো! সেটা রেইস কিউ করা হয়েছে! পুলিশে ও খবর দেওয়া হয়েছে! কিংশুকের ধ্যান আপাতত সে দিকে নেই! তার ধ্যান তো ডান পাশে থাকা সেই রমনীর দিকে!
কিংশুক নিজের ফোন বের করে ক্যামেরা অন করে ডান পাশে তাকায়! মেয়েটির ছবি তোলার জন্য! কিন্তু ভাগ্যের তাচ্ছিল্যের কারণে হঠাৎ গায়েব হয়ে যায় মেয়েটাটি!
কিংশুক তড়িঘড়ি করে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে! তারপর সাথে সাথে গার্ডেনের ভিতরে চলে যায়! সাথে তার লোক গুলো ও চলে যায়! কিন্তু সেখানে কোনো নারী তো দূরে থাক কারো চুলের ও দেখা পায় না কিংশুক!
'' ড্যাম ইট!''
প্রচন্ড রেগে যায় কিংশুক! জীবনের প্রথম কোনো মেয়েকে দেখে তার এতো ভালো লাগলো! কিন্তু সে মেয়েকে খুজেই পেলো না!
রাগ নিয়ন্ত্রণে এনে আবার ও গাড়িতে উঠে বসে কিংশুক! বোন আর ফুপির সাথে দেখা করে সোজা অফিসে যাবে সে! সেখানে দাদার সাথে কাজ আছে তার!
তাই সময় না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি ভিলার উদ্দেশ্য রওনা হয় কিংশুক!
---রাত তখন ১০:৫৬ মিনিট! অফিসের কাজ শেষ করে গ্রান্ডপার সাথে বাড়ি ফিরে আসে কিংশুক! আজ তাদের নতুন দুটো বিল্ডিং উদ্ভোদন হয়েছে! মোটামুটি একটু চাপেই ছিলো তারা! বাড়ি এসে যে যার রুমের উদ্দেশ্যে যেতে থাকে!
'' কিং?''
'' ইয়েস গ্রেন্ড পা?''
" তোর মনি কী আসবে?''
কিংশুক তার গ্রান্ড পার কাছে চলে যায়!
'' নো গ্রান্ডপা! মনি আসবে না!''
একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নিজের রুমের দিকে যেতে থাকে ফাস্ট কিংস! তার এই সারাজীবনের একটাই আফসোস, মেয়ের অভিমান না ভাঙ্গতে পারা! শত চেষ্টার পর ও তাকে এখানে না আনতে পারা!
--রুমে এসে কিংশুক ফ্রেস হয়ে বেসিং এর সামনে দাড়ায়! মুখে পানির ঝাপটা দেয়! পানির ঝাপটা দিয়ে মিররে তাকায় তার চোখের সামনে ভেসে উঠে সকালের সেই নাম না জানা সেই মেয়েটির মুখশ্রী! তার দিকে তাকিয়ে একগাল হাসি দিয়ে একটা ফ্লাইং কি'স দেয় তাকে! কিংশুক সাথে সাথে পিছনে ফিরে তাকায়! না সেই রহস্য ময়ী নারী কোথাও নেই! চোখ বন্ধ করে ফেলে! কিন্তু তাতে রেহাই নেয়! সেই রহস্য ময়ী নারীর মুখ বার বার ভেসে উঠছে!
কিংশুক রুমে এসে ল্যাপটপ নিয়ে আবার ও কাজে বসে পড়ে! তার ধ্যান এখন অন্য দিকে নিতে হবে! কিন্তু বার বার সে কাঙ্ক্ষিত নারীর কথায় তার মনে পড়তে থাকে! ল্যাপটপ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে কিংশুক! আজকে আর কাজ হবে না তার দ্বারা! প্রথম দেখায় একটি মেয়ে কীভাবে তার ঘুম কেড়ে নিলো?
রাত তখন ২: ১৭ মিনিট!
কিংশুকের কপাল কুঁচকে আসে ঘুমের মধ্যে! ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে সে! তারপর নিজের গালে হাত রাখে! চোখ বুলিয়ে চারপাশটা দেখে, না সে নিজের কক্ষেই আছে! তাহলে এতোক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলো সে? সেই অপরিচিত মেয়েটি স্বপ্নের মাঝে এসে তার গালে আদুরে পরশ ছুঁইয়ে গেলো?
কিছু ক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে কিংশুক! তারপর ফোন নিয়ে ওমারকে কল করে!
'' আই নিড এ বেস্ট ট্যাটু স্পেশালিষ্ট এন্ড বেস্ট প্যেনটার রাইট নাও!''
বলেই ফোন কেটে দেয় কিংশুক! তারপর বেলকনিতে চলে যায়! একটু মুক্ত বাতাস দরকার তার! কিন্তু চোখে এখনো ঘোর লেগে আছে!
--প্রায় ৩৭ মিনিট পর ওমার একটা বিখ্যাত ট্যাটু স্পেশালিষ্ট এবং একজন বিখ্যাত প্যেনটারকে নিয়ে কিংস মেনশন হাজির হয়! কিংশুক তাদের ভিতরে আসতে হবে!
খুব ভয়ে ভয়ে তারা ভিতরে আসে! বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের নাতি তাদের ডেকেছে! অবশ্যই কাজটি ছোটো নয়!
কিংশুক ইশারা করে তাদের বসতে বলে!
'' ডু ওয়াট আই সে!''
প্যেনটারকে ইশারা করে কথাটি বলে কিংশুক! কিংশুকের কথামতো রং তুলি নিয়ে বসে পরে সে! খুব সুক্ষ্ম ভাবে একজন নারীর মুখের বর্ননা দিতে থাকে কিংশুক! সুক্ষ থেকে সুক্ষ্ম ভাবে প্রতিটি ডিটেইলস দেয় তাকে! এভাবে প্রায় ১৮ মিনিট পর পুরো ক্যানসাভ টি রেডি হয়! কিংশুক খুব মনোযোগ সহকারে দেখে ক্যানভাসটি! একদম সেই মেয়ে!
তারপর ট্যাটু স্পেশালিষ্টকে নিজের বাহু দেখিয়ে বলে সেখানে এই মেয়েটার ছবি আঁকতে হবে! একদম সুক্ষ্ম ভাবে! কিংশুকের কথা মতো কাজ শুরু করে ট্যাটু স্পেশালিষ্ট! এভাবে প্রায় ১ ঘন্টা ২১ মিনিট সময় লাগে পুরো ট্যাটুটি কমপ্লিট হতে!
কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর কিংশুক নিজের বাহুতে দেখে! একদম পারফেট! তারপর হাতে ব্রাশ তুলে নেয় এবং সেটা চোখে ঢুকি'য়ে দেয় প্যেনটারের! তারপর ট্যাটু স্পেশালিষ্ঠের ও! তাদের এই পরিনতির একটাই কারণ ছিলো, কিংশুকের পছন্দের করা মেয়েটিকে তারা সুক্ষভাবে অনুভব করেছে! তারপর তার লোকদের ইশারা করে জায়গা পরিষ্কার আর টাকা দিয়ে পুরো বিষয়টি মিটমাট করতে বলে!
মিররে সামনে দাড়িয়ে নিজের বাহুতে তাকিয়ে দেখে কিংশুক!
'' মেয়ে যদি সিঙ্গেল থাকো, বাঁচবে! না-হলে পার্টনার সহ মাটি চা'পা দিবো! সময় চলতে থাকে সময়ের গতিতে! সেই রহস্যময়ী রমনীকে দেখার পর পুরো লন্ডনে খোঁজ লাগায় কিংশুক! তার গার্ডদের কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলে
'' See her as a sister! Otherwise I'll ki:ll all of you! '''
ব্যাস, কিংশুকের এই একটা থ্রেটেই সকলে সেই রহস্যময়ী রমনীকে নিজেদের বোন বা মায়ের চোখে দেখতে দ লাগলো! আর্ট স্পেশালিষ্ট এর তৈরি তৈল চিত্রের ছবি নিয়ে লাখ খানেক ফটোকপি করে পুরো শহরে খুঁজতে শুরু করলো! কিন্তু ফলাফল শূন্য!
কিংশুক ঠিক করে চায়নাতে নিজেদের অফিসে কিছু দিন বসবে! তার উদ্দেশ্য ছিলো সেই নারীকে খোঁজা! যেহেতু সে দেখতে কিছুটা চায়নিজ মেয়েদের মতো, হতে ও তো পারে সে আসলেই চায়নিজ!
২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি অব্দি কিংশুক চায়নাতেই থাকে! এতো বড় সিটিতে তার সমস্ত পাওয়ার কাজে লাগিয়ে দেয়, মেয়েটাকে খুঁজতে! কিন্তু সেখানে ও ফলাফল শূন্য! দিন যত যেতে থাকে কিংশুকের জেদ, সেই রমনীকে কাছে পাওয়ার তীব্র বাসনা একটু একটু করে মনে জেগে বসতে থাকে! কিংশুক সেই রমনীর জন্য এতোটাই ডেস্পারেট হয়ে যায় যে, তার জন্য একটি রুম তৈরি করে, নাম দেয় ' লাভ ' রুম! যেখানে সেই মেয়েটার ৫০০ এর অধিক ছবি আর্ট করে সাজিয়ে রাখে!
'' পাতাল থেকে হলে ও তোমাকে খুঁজে বের করবো মেয়ে!''
দিন যত যায় কিংশুকের পাগলামো ততোটায় বাড়তে থাকে! খানিকটা সাই'কো দের মতো! না-হলে প্রথম দেখায় হাতে ট্যাটু কে করে? তাও পারমানেন্ট! আবার সেই মেয়ের ছবি একে তাকে পুরো বিশ্বে কে খুঁজে? আসলে একজন সাই'কো লাভারের দ্বারা সবই সম্ভব!
--বিশ্ব যখন করো'নার মহামারিতে আক্রান্ত! তখন কিংশুক লন্ডনে তার গ্রেন্ডপার কাছে চলে আসে! পুরো পৃথিবী তখন একটি আত'ঙ্কের মাঝে! প্রতিনিয়ত মৃত্যুর খবর! দশ নয়, বিশ নয়, হাজার নয়, লাখ লাখ মানুষ মর'ছে প্রতি নিয়ত! স্বজন হারা হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ!!
করো'না যখন পুরোপুরি মহামারির আকার ধারণা করে তখন পৃথিবীর এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাতায়াত নিষিদ্ধ! বিশ্বের সব থেকে ধনী লোক টা ও গৃহ বন্দি তখন!
ঠিক সে সময়েই পুরো বিশ্বে একটি মর্মান্তিক খবর ছড়িয়ে পড়ে! বিশ্বের তৃতীয় ধনকুব ফাস্ট কিংস বাধ্যক্তজনিত কারণ এবং করো'নাতে আক্রান্ত হয়ে ইন্তে'কাল করেন! নিউজটা তখন বিলবোর্ডের টপ নিউজ!
একা হয়ে যায় কিংশুক! তার একমাত্র সঙ্গী ছিলো তার গ্রান্ড পা! কিন্তু তিনি ও তাকে ছেড়ে চলে যায়! করো'নার মহামারীর কারণে দেশ থেকে তার ফুপি এবং বোন কোনো আত্মীয় স্বজনরা আসতে পারেনি তার এই সব থেকে কষ্টের দিনে!
সময় চলতে থাকে! একা কিংশুক হতে থাকে বেপরোয়া! তাকে থামানোর মতো কেউ নেই! মানুষ মা-রা যেনো তার নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাঁড়ায়! কিন্তু কথায় আছে টাকা সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা বলাতে পারে! তাই সে ও নিজের ক্ষমতা আর টাকার জোরে বার বার বেঁচে যায়! কিংশুক এতোটাই হিংস্র হয়ে উঠে যে তার সামনে এখন কেউ ভয়ে কথাই বলতে পারে না! এভাবেই দিন যেতে থাকে!
পুরো পৃথিবী যখন করো'না নামক অভিশাপ থেকে মোটামুটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে ঠিক তখনই ২০২২ সালে কিংশুক ঠিক করে দেশে যাবে!
কারণটি ছিলো তার ফুপি! ২০১৯-২০২২ ভিডিও কল ছাড়া ফুপির সাথে দেখা হয়নি কিংশুকের! মাঝে মাঝে বোন কথা বলতো! কিন্তু তাদের দেশের খান বাড়িতে ফুপির পালিত মেয়ের অত্যা'চারে ঠিক মতো কিংশুকের সাথে কথা বলতে পারতো না! তার উপরে লন্ডন আর বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধানের কারণে খুব একটা কথা হতোই না! ফুপি বার বার বলার পর ও যখন কিংশুক আসলো না, ঠিক তখনই তিনি কিংশুককে নিজের মা'রার কথা বলে ইমোশনাল করে দেশে নিয়ে আসেন!
২০২২ সালের ৩রা নভেম্বর!!
নিজের প্রাইভেট জেট দিয়ে প্রায় ৯ ঘন্টা ৩০ মিনিটের জার্নি শেষ করে বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে পৌঁছায় কিংশুক! সাথে তার বিশস্ত বডিগার্ড ওমার এবং টাইগার থাকে! মোট দুটো জেট আসে লন্ডন থেকে কিংশুকের! একটাই সে নিজে, আরেকটায় তার বডিগার্ডরা! দেশে পুলিশরা ও তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সুব্যবস্থা নেয়!
দেশে আসতেই নিজেদের পারসোনাল গাড়ি দিয়ে খান বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় কিংশুক! প্রথমে ভেবেছিলো হেলিকপ্টার দিয়েই সে যাবে! কিন্তু তার দুজন গার্ড কিছু সন্দেহ করায় শেষ অব্দি গাড়ি নিয়ে আসতে হয় তাকে! ধরতে গেলে প্রায় ৭ টি গাড়ি এয়ারপোর্ট থেকে আসে খান বাড়ির উদ্দেশ্যে!
'' খান-বাড়ি ''
লন্ডনের মতো খান বাড়ি ও সেম ডিজাইনে করা! কিন্তু তফাৎ হচ্ছে এখানে সমুদ্র নেই! আর একসাথে কয়েকটা বাড়ি আছে! সব গুলোই দেশের মোটামুটি ধনী ব্যক্তিদের বাড়ি! তার মধ্যে সব থেকে বড় ম্যানশন হলো খান ম্যানশন!
খান বাড়ির মুল দরজায় যাওয়ার আগে মোটামুটি ৭-৮ মিনিটের মতো নীরব রাস্তা আছে! যেটা বাউন্ডারি দিয়ে ঘেরা! তারপর খান বাড়ির মুল দরজা!
কিংশুকের গাড়ি গুলো এক এক করে খান বাড়ির মুল ফটকে ঢুকতে থাকে! কিংশুক তার গাড়িতে থাকা নিজের রকির দিকে তাকায়! সে বেচারা আজ সারাদিন অনেক জার্নি করেছে! কিন্তু তাকে দেখলে মনে হবে এখনই ঝাপি'য়ে পড়ে পুরো একটা মানুষকে কাত করে দিতে পারে! রকি হলো কিংশুকের নিঃস্ব জীবনের একমাত্র সঙ্গী! পিট পুল জাতের কু'কুর! যেটা সব থেকে বেশি হিংস্র এবং মারাত্ম'ক! কিংশুক তাকেই নিজের সঙ্গী বানাই!
'' ওয়াটস আপ ব্যাডি?''
রকি মাথা নেড়ে বোঝায় সে ঠিক আছে! কিংশুক নিজের সানগ্লাস ঠিক করে পড়ে! মাস্কটি ও সুন্দর মতো পড়ে ফেলে! করো'নার জন্য মোটামুটি সেল্ফ ডিস্টেন্স ম্যেইনটেন করে কিংশুক! এখনো পুরোপুরি করো:না যায়নি! তাই সতর্ক থাকা ভালো!
খান বাড়ির বিশাল বড় গেট দিয়ে এক এক করে কিংশুকের গাড়িগুলো প্রবেশ করতে থাকে! ইউন্ডো অপেন করে কিংশুক খান বাড়ির ভিতরটা দেখতে থাকে! এখনই সব আগের মতোই আছে! শুধু আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে আছে কিছুটা! আভিজাত্য ঠিক একই রকম! হঠাৎ করে কিছু একটা দেখে কিংশুকের চোখ আঁটকে যায়!
'' স্টপ দ্যা কার!''
হঠাৎ কিংশুকের ঝাঁঝালো আওয়াজ ভেসে আসতেই সব গুলো গাড়ি থেমে যায়! পুরো উইন্ডো অপেন করে দেয় কিংশুক!
ঠিক তিন বছর আগের মতো আজ ও সেই রহস্যময়ী মেয়েটি কিংশুকের চোখে পড়লো!
এমনিতে কিংশুক বাংলায় খুব কম কথা বলে, কিন্তু তার অজান্তেই ঠোঁটের আগালে চলে,
'' এ জীবনে যারে চেয়েছি, আজ আমি তারে পেয়েছি! ''
খান বাড়ির বিশাল গার্ডেনে প্রাণ পণে দৌড়ে বেড়াচ্ছে! যেনো কেউ ধাওয়া করেছে! পড়নে আবার ও সেই সাদা ড্রেস পড়া! পার্থক্য শুধু ডিজাইনে! সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে কোথাও লুকানোর কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না! ঠিক তখনই চোখে পিছনে তার ফুপি একটি চ্যালা কাঠ নিয়ে তার পিছু পিছু দৌড় দিচ্ছে!
'' বদ'জ্জাত মেয়ে, দ্বারা তুই আজকে!''
'' এবারের মতো মাফ করে দাও মনি!''
'' তোকে হাতের কাছে পায় শুধু আজকে! হেরে বদ'জ্জাত মেয়ে একটা! অরিন দ্বারা বলছি!''
অরিন!! নামটা বেশ কয়েকবার মুখে মুখে বলতে থাকে কিংশুক! তারপর গাড়ি থেকে নেমে শার্টের হাতা উপরে উঠাতে উঠাতে অরিন এবং আতিয়া বেগমের কাছে যেতে থাকে!
'' বাদ"র মেয়ে একটা শেষমেষ আমার বিয়ে ঠিক করে এলি!''
'' বিয়ে করা ফরজ মনি!''
'' তোকে কাছের কাছে পায় আগে! ফরজ, নফল সব বুঝাবো! ''
অরিন স্টাচুর আশেপাশে এদিক থেকে ওদিক যেতেই থাকে! আর আতিয়া বেগম ও তাকে ধরতে থাকে! কিন্তু পারে না! বার বার ছুটে যায়! অন্য দিকে কিংশুক ও আসতে থাকে!
কিংশুক নিজের শার্টের হাতা উপরে তুলতে তুলতে চোয়াল শক্ত করে এসে অরিনের হাত ধরে খুব জোড়ে টান দেয়! কোনো রকম তাল সামলে অরিন যেই না মুখ তুলে তাকায় অমনি তার গাল বরাবর খুব জোড়ে চ'ড় পড়ে!
গাল ধরে দাড়িয়ে যায় অরিন! নড়াচড়া একদম বন্ধ! কী থেকে কী হয়ে গেলো? গাল ধরেই সামনের দিকে তাকায় অরিন! তার থেকে বেশ লম্বা একজন ব্যক্তি মাস্ক, এবং সানগ্লাস পড়ে দাড়িয়ে আছে! ঠিক ডাকাতের মতো! চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে অরিনের! এই প্রথমবার সে চ'ড় খেলো তাও এতো জোড়ে!
'' এতোদিন সময় লাগলো সামনে আসতে? ''
কিংশুক খুব জোড়ে ধমকিয়ে উঠে অরিনকে! কিংশুকের ধমক শুনে চমকে উঠে অরিন! পরক্ষণেই মুখ শক্ত করে দু-কদম পিছিয়ে যায়! এবং স্টাচুর সাথে থাকা ছোটো চেয়ার এনে কিংশুকের সামনে রাখে! এবং তাতে উঠে দাড়ায়! কিংশুক কপাল কুঁচকে অরিন কী করতে আজগুবি কাজ করছে সেটা দেখতে থাকে!
চেয়ারে উঠে অরিন কিংশুকের গাল বরাবর খুব জোড়ে থাপ্প'ড় বসিয়ে দেয়!
হঠাৎ এতো জোড়ে থাপ্প'ড় খেয়ে ও, কিংশুকের বিন্দু মাত্র রাগ হয় না! কিন্তু তার রকি ঘেউ ঘেউ করে উঠে, সাথে গার্ডরা ও বন্দু'ক তা'ক করে সামনে আসতেই! ভয়ে গলা শুকিয়ে যায় অরিনের! কিংশুক হাতের ইশারা দিয়ে সবাইকে দূরে যেতে বলে! আর অরিনের দিকে তাকায়!
গার্ডরা দূরে যেতেই অরিন আবার ও পার পেয়ে যায়! সে কোমরে হাত দিয়ে, দাঁতে দাঁত পিষতে পিষতে বলে!
'' হাত কে'টে অন্য হাতে ধরিয়ে দিবো! জানো আমি কে?''
কিংশুক মাস্ক সরিয়ে, অরিনের মুখ বরাবর তাকিয়ে হালকা বাঁকা হাসি দিয়ে বলে উঠে!
'' আমার বউ!''
ভ্যাবা-চেকা খেয়ে যায় অরিন! কিংশুক মাস্ক খুলতেই সে চিনে ফেলে! এটা তো কিংশুক আবির খান! তার মনির ভাইয়ের বড় ছেলে! বাইকারের বড় ভাই! অরিন ফেসবুক, ইন্সটা সব জায়গায় কিংশুককে ফলো দিয়ে রেখেছে! কিন্তু কিংশুকের সেটা অজানা! আজকে কিংশুককে সরাসরি দেখে তার আত্মা বের হয়ে যায়! মনি বলেছিলো বটে কিংশুক খুবই রাগি এবং গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ! কিন্তু মাস্ক পড়ার জন্য তাকে সে চিনতে পারেনি!
আবার হঠাৎ করে বলে উঠেছে আমার বউ! একই সময়ে ডাবল ঝটকা! শুকনো ঢোক গিলে অরিন! পিছন থেকে পুরো বিষয়টি বেশ ভালোমতোই দেখতে থাকে আতিয়া বেগম!
'' কিং? ''
ফুপির ডাক কানে ভেসে আসতেই, কিংশুক পিছনে ফিরে তাকায়! তারপর হাত বাড়িয়ে ফুপির কাছে চলে যায়! জড়িয়ে ধরে ফুপিকে! এ সুযোগে অরিন খুব জোড়ে দৌড় দিয়ে পালায়!
কিংশুক তার ফুপিকে ছেড়ে পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখে অরিন নেই! মনে ভয় বাসা বাধে কিংশুকের! আবার ও হারিয়ে ফেলার ভয়!
'' কী দেখছিস কিং? ''
'' হু ইজ সি?''
'' মাই ডটার!''
কপাল কুঁচকে তাকায় কিংশুক তার ফুপির দিকে! কারণ তার জানা মতে তার ফুপি তো বিয়েই করেনি! তাহলে মেয়ে কোথায় থেকে এলো!
'' তোমার মেয়ে?''
'' হুম! তোর বোন!''
'' আমার বোন হিসেবে একটু বেশিই ছোটো না?''
'' হুম! তোর থেকে ৮ বছরের ছোটো! মনে নেই বলেছিলাম যে ওর কথা?''
হঠাৎ করে কিংশুকের স্মৃতি চারণ হয়! কিংশুকের মনে পড়ে তার ফুপি তো একটি মেয়েকে পালে! শুনেছিলো মেয়েটির মা তাকে এখানে রেখে আর আসেনি! আর বাবা ও খোঁজ নেয় নি! ইন্ডিয়ার টপ ডায়মন্ড ব্যবসায়ির মেয়ে রোজ আগার ওয়াল! কিন্তু সে এখানে এসে অরিন হয়ে যায়! নিজের ধর্ম ও পরিবর্তন করে!
কিংশুক বেশ কয়েকবার রোজের নাম শুনেছিলো! কিন্তু এই মেয়ে যে সেই মেয়ে সেটা সে জানতো না!
আতিয়া বেগম তুড়ি মেরে কিংশুকের ধ্যান ভাঙ্গায়!
'' ওয়াট হ্যাপেন্ড কিং?''
'' তোমার মেয়ের বয়স কতো ফুপি?''
'' ১৮! কেন?''
'' পারফেক্ট! ''
পার্টঃ ৩
রাত তখন ১১ টা ২৩ মিনিট!
খান ম্যানশনে কিংশুক এসেছে সেই সকাল বেলা! আসার পর থেকে তার ব্যাকুল চোখ জোড়া খুঁজে চলেছে শুধু অরিনকে! কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে সন্ধা, সন্ধা গড়িয়ে রাত! অরিনের আর দেখা নেই!
যার দহনে গত তিনটি বছর ধরে নিজেকে জ্বা'লিয়ে_পু'ড়িয়ে শেষ করে দিয়েছে, তাকে পেয়ে ও যে আর পাওয়া হলো না তার! মন ভরে দেখতে পেলো না তাকে!
কিংশুক বারান্দায় চলে যায়! আর বার বার অরিনের বারান্দার দিকে তাকায়! বাতাসে যেন অরিনের ঘ্রাণ নাকে ভেসে আসছে কিংশুকের!
কিংশুক চোখ বন্ধ করে ফেলে!
'' তোর দহনে পুড়ছি আমি, আমার দহনে তুই,
হাত বাড়িয়ে না পারলে ও, মন বাড়িয়ে ছুঁই! ''
কিংশুকের ভিতরটা মরুভূমির মতো খা খা করে উঠে! সারাদিনে অরিনের সব ইনফরমেশন কালেট করা শেষ তার! এ বছর এইচএসসি দিয়েছে সে! এখন রেজাল্টের অপেক্ষায় আছে! বয়স ও ১৮ বছর ৪ মাস! একদম বিয়ের উপযুক্ত!!
কিংশুক ঠিক করে প্রেম নয়! পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হবে! নিজের ঘরের বউ করে নিয়ে যাবে অরিনকে! কিন্তু অরিন যদি না মানে??
ঘাড়টা হালকা বাকিয়ে আবার ও অরিনের বারান্দার দিকে তাকায় কিংশুক!!
'' আই হোপ ইউ ওয়েল একসেপ্ট মি! আদার ওয়াসস, ইউ হ্যাভ টু ডায় বেবি গার্ল!''
কিংশুকের ভাবনার অবসন ঘটিয়ে খান ম্যানসনের প্রধান ফটক দিয়ে একটি বাইক আসতে থাকে! খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেদিকে কিংশুক! কারণ বাইকে তার প্রাণ প্রিয় প্রেয়সী বসা! কিন্তু সাথে এটা কে? কার কোমড় জড়িয়ে ধরেছে অরিন! ললাটে চিন্তার ভাজ পড়ে কিংশুকের! তিন বছর পর এতো কাছে পেয়ে ও কী সে হারাবে অরিনকে?
চোয়াল শক্ত করে হন্তদন্ত হয়ে হল রুমের দিকে যেতে থাকে কিংশুক! সাথে তার লাই'সেন্স ধারি রিভল'বারটি নিয়ে নেয়!
নিচে নামতেই এক অজানা শান্তি কাজ করে কিংশুকের মাঝে! মনে জলন্ত আগু'ন অচিরেই তলিয়ে যায়! এক ঠান্ডা শীতল হাওয়া বয়ে চলে কিংশুকের হৃদয় জুড়ে!
'' ব্রোওওওওও!'''
হাত বাড়িয়ে কিংশুকের দিকে ছুটে আসতে থাকে ক্যাট! কিংশুক ও নিজের হাত বাড়িয়ে দেয়! খুব শক্ত করে ধরে ক্যাট কিংশুককে! প্রায় তিনবছর পর সামনাসামনি দেখলো তার ভাইকে! ক্যাট অনেক কিছু বলতে থাকে কিংশুককে! কিন্তু তার ধ্যান ছিলো অরিনের দিকে! ভয়ে উল্টো দিক হয়ে দাড়িয়ে আছে অরিন! ড্রেসের দু'পাশে আকড়ে ধরা শক্ত হাত দুটো দেখলেই যে কেউ বলে দিবে অরিন ভয়ে আছে! তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিংশুক অরিনের দিকে! তার সুক্ষ নজর দেখলে যে কেউ বলে দিবে তার মনে কী চলছে! অরিনের শরীরে প্রতিটি ভাজ যেনো সে পরখ করছে! কিছু ক্ষণ পর হয়তো তার মাথায় কয়টা চুল আছে সেটা ও বলে দিতে পারবে!
'' লা ইলা হা ইল্লা আনতা সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনাজ যলিমিন! আল্লাহ মাবুদ এবারের মতো এই রাক্ষসের হাত থেকে বাচিয়ে নেন! কাল থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো! আল্লাহ প্লিজ সেভ মি!''
মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকতে অরিন! এখন একমাত্র আল্লাহই পারবে তাকে এই বদজাত রাক্ষসের থেকে বাঁচাতে! সকালে অরিন কিংশুককে এতো জোরে কষিয়ে চ'ড় মারলো অরিন, এটার বদলা কী কিংশুক নিবে না? এতো সহজে ছেড়ে দিবে তাকে? খুব ভয়ে থাকে অরিন! শরীরে অস্বাভাবিক কম্পন শুরু হয়!
'' অরিন?''
বাইকারের ডাকে শুঁকনো ঢোক গিলে অরিন! না পাড়তে ও পিছনে ফিরতে হয় তাকে! পিছনে ফিরতেই তার ভয় বেড়ে যায়! কিংশুক হাত ভাজ করে সটাম হয়ে দাড়িয়ে আছে! মনে হচ্ছে কাছে গেলেই অরিনের গাল লাল করে দিবে!
'' কাম! ''
ক্যাট ইশারা করে অরিনকে তাদের কাছে যাওয়ার জন্য! অরিন ভয়ে ভয়ে যেতে থাকে! নিজের হাত প্রস্তুত রাখে! কিংশুক মা'রতে আসলেই গা'লে হাত দিয়ে ফেলবে! তাহলে আর ব্যাথা পাবে না!
কাছে যেতেই ক্যাটরিনা অরিনের বাহু ধরে কিংশুকের সামনে দাড় করায়!
'' ব্রো.. মিট মাই লাভ! মাই গার্ল! মাই বেবি! ''
কিংশুক ভ্রু কুঁচকে তাকায় অরিনের দিকে! অরিন মাথা নিচু করে রাখে! আর মনে মনে দোয়া পড়তে থাকে!
'' অরিনন!''
ক্যাটরিনা চোখ দিয়ে ইশারা করে অরিনকে কিংশুককে সালাম দেওয়ার জন্য! কিন্তু অরিনের মনে চলছে অন্য কিছু! তাও ভয়ে ভয়ে সালাম দিয়েই ফেলে!
'' আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল!''
'' ওহহ! ইম্পর্ট্যান্ট কল!''
অরিন সালাম দিতে দেরি, ক্যাটরিনার ফোন আসতে দেরি নয়! তাড়াতাড়ি করে দূরে চলে যায়! ক্যাটরিনা যেতেই কিংশুক নিজের টিশার্টের হাতা উপরে উঠাতে থাকে! ভয়ে শেষ হয়ে যায় অরিন!
'' বাইকাররর!''
কিংশুককের হাতা উপরে উঠাতে দেখে দৌড়ে পালিয়ে যায় অরিন ক্যাটের কাছে! কিংশুকের মুখে কিঞ্চিৎ হাসি ফুটে উঠে! মেয়েটা আসলেই একটা বাদর!
'' ওয়াট হ্যাপেন্ড? ''
'' আঙ্কেল মারবে!''
অরিনের মুখে হঠাৎ মা'র খাওয়ার কথা শুনে চোখ কপালে উঠে ক্যাটের! কারণ কিংশুক যাকে মারবে সে দুনিয়াতে থাকবে না এটা ১০০% সিউর! কিন্তু অরিনকে কেন মারবে?? কপাল কুঁচকে তাকায় কিংশুকের দিকে!!
'' ব্রোওওও!! আর ইউ গোয়িং টু হিট মাই গার্ল?''
'' প্রশ্নই আসে না!''
কিংশুক ভাবহীন ভাবে দাড়িয়ে থাকে! যেনো এই বিষয়ে সে কিছুই জানে না!!
ক্যাটরিনা নিজের পিছনে লুকায়িত অরিনের দিকে তাকায়! সে তাকে জাপ্টে ধরে আছে!!
'' তাহলে ও বললো কেন তুমি মা'রবে?''
'' আই ডোন্ট নো! আক্স হার!''
ক্যাটরিনা অরিনের বাহু ধরে সামনে নিয়ে আসে!
"" র্নিভয়ে বলো কী হয়েছে! ''
অরিন আড় চোখে কিংশুকের দিকে তাকায়! অরিন তাকানোর সাথে সাথে কিংশুক চোখ শক্ত করে ফেলে!আমতা আমতা করে অরিন জানায়!
'' সকালে তোমার ভাইকে কষিয়ে একটা চ'ড় মেরে"ছিলাম! উনি ওটার বদলা নেওয়ার জন্য টিশার্টের হাতা উপরে তুলেছিলো!''
ক্যাটরিনা অবাক হয়ে তাকায় কিংশুকের দিকে! অরিন তাকে চ'ড় মার'লো আর কিংশুক কিছু বললো না! এটা তো অবিশ্বাস্য! অরিনের হাত যে এখনো আস্ত আছে এটাই তার সোভাগ্য!
'' কেন মেরেছিল''
'' উনি মেরে'ছিলো আগে!''
ক্যাটরিনা কিছু বুঝতে পারে না! আজকেই তো তাদের দেখা হলো! আবার আজকেই চ'ড় থাপ্প'ড়!!
ক্যাট কি বলবে কিছু বুঝতে পারে না! কার পক্ষ নিবো! কাকে ডিফেন্ড করবে কিছুই তার মাথায় আসে না! সব কেমন গন্ডগোল লাগে তার!
ক্যাটরিনা কিছু বলতে বলতে যাবে, তার আগেই কিংশুক উপরে চলে যেতে থাকে!
কিংশুক চলে যাওয়াতে বড় বাঁচা বেঁচে যায় অরিন! সে ও বাইকার যে যার রুমে চলে যায়! অরিন রুমে যাওয়ার পর নিজের ব্যলকনির দরজা ভালো ভাবে লাগিয়ে দেয়! কারণ পাশের মাস্টার বেড রুম কিংশুকের! বারান্দা দিয়ে তো আসা যাওয়া করা যায়! অরিন কতো গেছে কিংশুকের বারান্দায় নিজের বারান্দা দিয়ে! তার বেলকনির ভিউ অনেক সুন্দর! অরিন যখনই ছবি তুলতো, কিংশুকের বেলকনিতে যেতো!
কিন্তু এখন থেকে আর যাওয়া যাবে না! রাক্ষস আছে যে!
---রাত তখন ২:৪৭ মিনিট!
নেটফ্লিক্স দেখতে দেখতে প্রচন্ড খিদে পায় অরিনের! ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে গভীর রাত! এতো রাতে তো মনিকে ডাকা যাবে না! এমনিতে ও আজকে যেই তাড়ানি দিয়েছিলো! সামনে পড়লে চ্যালাকাঠ তার পিঠেই ভাঙ্গবে!
চুপচাপ নিজে নেমে কিচেনে চলে যায় অরিন! চিপস, কোক, চকলেট, কুকিচ নিতে! আপাতত এসব দিয়েই তার খিদে মিটবে! পিৎজা ওর্ডার দিলে খিদে বেড়ে দ্বিগুন! তাই সাইড ডিসই ঠিক আছে!!
কিচেনে এসে খাবার খুঁজতে থাকে অরিন! কোথাও না পেয়ে বুঝে যায় মনি এবার ও সব সেল্ফে রেখেছে! কারণ রাতে এসব খাওয়ার জন্য তার পেটে প্রচন্ড সমস্যা হয়!
সেল্ফের সামনে দাড়িয়ে বেশ অনেকবার নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায় অরিন! কিন্তু ফলাফল শূন্য! তার থেকে সেল্ফ অধিক উপরে হওয়ায় সে বার বার অসফল হয় চিপস, চকলেট নিতে!
এভাবে কিছু ক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পর তার পিছন হতে আরেকটি হাত এসে চিপস চকলেট কুকিচ নামিয়ে দিতে থাকে! প্রচন্ড খুশি হয়ে যায় অরিন! এতো রাতে তার বাইকার ছাড়া আর কে আসবে?
চিপস, চকলেট হাতে পেতেই খুশিতে আত্মাহারা হয়ে পিছনে ঘুরতেই ভয়ে সব কিছু ফ্লোরে পড়ে যায় তার!
কিংশুক অরিনের খুব কাছে দাড়িয়ে! সে চাইলে ও পালাতে পারবে না! প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায় অরিন! কিংশুক ও কিছু বলে না অরিনকে! চুপচাপ তার সামনে দাড়িয়ে থাকে! অরিন ও কিংশুকের সামনে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে! এভাবে প্রায় বেশ কিছু ক্ষণ অতিবাহিত হয়!!
'' মেরেছি তোমাকে?''
হুট করে কিংশুকের মুখে এমন কথা শুনে একটু চমকে উঠে অরিন! আস্তে আস্তে বলে!
'' নাহ!''
'' তাহলে ভয় পাচ্ছো কেন? ''
অরিন নিজের হাত মুচরা মুচরি করতে করতে বলে!
'' সকালে আপনাকে চ'ড় মেরেছিলাম যে তাই!''
কিংশুক মাথা নিচু করে নিজের মুখ অরিনের মুখ বরাবর নিয়ে যায়! হঠাৎ করে কিংশুক এতোটা কাছে আসায় বুক কেঁপে উঠে অরিনের!
'' তুমি চাইলে আমাকে খু'ন ও করতে পারো! I Won't mind!''
চোখ বড় বড় করে তাকায় অরিন কিংশুকের দিকে! সে তাকে খুন করলে ও কিংশুক কিছু বলবে না?
অরিনের গালে টোকা দিয়ে সব চিপস চকলেট ফ্লোর থেকে তুলে অরিনের হাতে দিয়ে দেয়! তারপর সামনের দিকে যেতে থাকে! হয়তো সে ও কিচেনে কিছু একটা নিতে এসেছিলো! এখন সেটায় নিবে হয়তো!
'' টিকিট কাটা হয়ে গেছে? ''
অরিনের হঠাৎ টিকিট কাটার কথা শুনে পিছনে ফিরে তাকায় কিংশুক!
'' কীসের টিকিট?''
'' কেন পাবনার! ''
'' ওয়াট?''
'' আপনার তো পাবনায় থাকার কথা! লন্ডনে এতোদিন কি করছিলেন?''
অরিনের এম বোকা বোকা কথা শুনে কিঞ্চিৎ হাসি ফুটে উঠে কিংশুকের মুখে!
'' দুটো টিকিট কাটি?''
'' দুটো কেন?''
'' আমি গিয়ে কী করবো! তুমি ও সাথে চলো! কাম্পানি দিবে আমাকে!''
'' আমি কী পাগল না-কি! আপনি পাগল আপনি যায়!''
কথাটি বলেই অরিন কিচেন ত্যাগ করে! কিংশুক তাকে বললো সে কিংশুককে খু'ন করলে ও কিছু বলবে না! এটা তো পাগলের লক্ষ্য! অরিন কিংশুককে পাগল বলে হনহনিয়ে নিজের রুমে চলে আসে! কারণ নিচে থাকলেই বিপদ!
কিংশুক তখন ও কিচেনেই থাকে! এক দৃষ্টিতে অরিনের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে!
'' তোমার উচিত হয়নি আমার চোখে পড়া মেয়ে! '' অরিন আমার বউ না হলে, ওকে ম'রতে হবে! ''
'' কিংশুকককক!''
হাতে থাকা রিমোট কন্ট্রোলটি টি-টেবিলে রেখে, কিংশুক আতিয়া বেগমের মুখোমুখি দাড়ায়! তার মুখে নেই কোনো চিন্তার ছাপ! আচ্ছা একটা মানুষ ঠিক কোন পর্যায়ে গেলে তার মুখ দেখলে কোনো এক্সপ্রেশন আন্দাজ করা যায় না??
আতিয়া বেগম কী বলবে কিছু ভেবে পায় না! না সে কিংশুককে থামাতে পারবে! আর না অরিনকে তার হাতে তুলে দিতে পারবে!
যেখানে ভালোবাসা কম ক্ষোভ জমা হয়ে থাকে বেশি, সেখানে কী আদোও সুখে থাকা সম্ভব?
'' অরিন তোকে ভয় পায়! পাগলামি বন্ধ কর!''
'' পাগলামি তো করিনি মনি! বিয়ে করবো বলেছি! বাই হোক অর বাই কোক! '
'' টাকা দিয়ে কী সব পাওয়া যায় কিংশুক? ''
আতিয়া বেগমের কথা শুনে উচ্চশব্দে হেসে উঠে কিংশুক! ললাটে চিন্তার ভাজ পড়ে আতিয়া বেগমের!
'' আমি বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের নাতি! চাইলে রাতকে দিন আর দিনকে রাত বলাতে পারি! আমি খু'ন করলে ও সেটা এক্সসিডেন্ট হিসেবে গন্য হবে! তার সামনে তোমার এই এক রত্নি মেয়েকে দুনিয়া থেকে গায়েব করা কোনো ব্যাপারই নয় মনি!''
টাকা! তাই তো! টাকাই তো সব! যেখানে টাকা দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, একটি পরিকল্পিত দূরঘটনাকে নিহাত ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া যাচ্ছে, সেখানে একটি মেয়েকে গায়েব করা আর কী এমন আহামরি কাজ??
কোনো শব্দ ছাড়াই কিংশুকের কেবিন থেকে বেরিয়ে আসে আতিয়া বেগম! এখন তাকে শক্ত হতে হবে! মেয়েকে বোঝাতে হবে! জীবনে বাঁচাটা জরুরি! কীভাবে আছি সেটা নয়! প্রাণ একবার গেলে আর ফেরত আসবে না! কিন্তু বেঁচে থাকলে অনেক কিছু করা যাবে! এখন আবেগ নয়! বরং বিবেগ দিয়ে ভাবতে হবে!!
আতিয়া বেগম চলে যাওয়ার পরপরই কিংশুক আবার ও স্ক্রিন অন করে! যেখানে সে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অরিনকে দেখছে!
একটা মানুষের স্বাধীনতা বলতে কিছু জিনিস থাকে! যা একান্তই তার! কিন্তু অরিনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার 'স' ও দেওয়া হয়নি!
'' খান_বাড়ি''
খান বাড়িতে এসে আতিয়া বেগম সোজা অরিনের রুমে চলে যায়! এখন তাকে বোঝাতে হবে! নিজের করা ভুলের মাসুল তাকেই দিতে হবে!
ক্যাটরিনার কোলে মাথা দিয়ে অনবরত কেঁদেই চলেছে অরিন! থামা-থামির কোনো নাম গন্ধ নেই! আজকে যে তার কৃতকর্মের ফল সে হারে হারে পাচ্ছে!!
'' রাজি হয়ে যা অরিন!''
আতিয়া বেগমের ঠান্ডা, কিন্তু আদেশময় বাক্য কানে আসতেই উপরে চোখ মেলে তাকায় অরিন! তার এই চার লাইনের বাক্যে ছিলো কঠিন আদেশ! যেন অরিনকে রাজি হতেই হবে!
'' ম..মনি..?!!
'' আর কোনো কথা নয়! এই ফ্রাইডেতে রিং স্যেরিমনি! ''
আতিয়া বেগম চলে যায় কক্ষ থেকে! অরিন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে! তার শেষ আশা-ভরসা টুকু ও আজ শেষ হয়ে গেলো!
নিজের বোকামির ফল যে অরিন এভাবে পাবে সেটা কল্পনা ও করতে পারেনি সে!
অরিনের এই দূর ভোগ শুরু হয় আজ থেকে ৩৭ দিন আগে!
অর্থাৎ জানুয়ারি ২০, ২০২২ হতে!
এক মাস সাত দিন আগে...!
'' তোমার উচিত হয়নি আমার চোখে পড়া মেয়ে!''
অরিনকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলে কিংশুক! কিন্তু অরিন শুনতে পায়নি! কারণ একটু আগে সে কিংশুককে পাগল বলে সম্মন্ধণ করেছে! তাই তড়িঘড়ি করে কিচেন থেকে চলে গেছে সে! আর কিংশুক তখন ও কিচেনেই রয়ে গেছিলো!
''পরের দিন সকাল বেলা''
সকাল সকাল প্রচন্ড চিৎকার আর অধিক চেচামেচিতে বিরক্ত বোধ করে কিংশুক! ছোটোবেলা থেকে একা থেকে থেকে সাউন্ডলেস দুনিয়াতে নিজেকে সাজিয়ে রেখেছে সে! হঠাৎ এতো চিৎকার শুনে জগিং করা বাদ দিয়ে সোজা খান ম্যানসনের ভিতরে আসতে থাকে সে!
সাথে তার দু-জন গার্ড ও!
সকালে এতো চিৎকার শুনে কিংশুকের মেজাজ অত্যাধিক গরম হয়ে যায়! যে চিৎকার করছে আজকে তার কপালে দুঃখ্য ছাড়া আর কিছুই নেই!!
খান ম্যানসনের ভিতরে হল রুমে ঢুকতেই কিংশুকের রাগ ঠান্ডা হয়ে যায়! কারণ তার সামনে মাথা নিচু করে অরিন দ্বারানো! তার পাশে কিংশুকের বোন ক্যাটরিনা ও রয়েছে!
কিন্তু কিংশুকের মন বেশিক্ষণ ঠান্ডা থাকে না! সামনে দ্বারানো আফতাব হোসেনের কথা শুনে! সে একের পর এক, কথা বলেই যাচ্ছে আতিয়া বেগমকে, অরিনকে উদ্দেশ্য করে!
আফতাব হোসেন ও বাংলাদেশের একজন নাম করা বিজনেস ম্যান! কিংশুকদের থেকে পরপর তিন নাম্বার ভিলাটি তাদের!
কিন্তু কিংশুকের মনে প্রশ্ন জাগে কেন অরিনকে বকা হচ্ছে! তাও তার সামনে!
আতিয়া বেগম বসা থেকে উঠে অরিনের সামনে দাড়ায়!
'' কী করেছো তুমি! ''
অরিন মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে বলে,
'' ঠ্যাং ভেঙে দিয়েছি মনি!''
অরিনের মুখে হঠাৎ এহেন কথা শুনায় কিঞ্চিৎ হাসি ফুটে উঠে কিংশুকের মুখে!!
'' সাব্বাস!''
কিংশুকের মুখ দিয়ে অস্পষ্ট শব্দটি বেরিয়ে যায়! কারণ অরিন মার খেয়ে নয় বরং দিয়ে এসেছে!
'' কেন ভে'গেছো?''
'' তুমিই তো বলেছিলে, বড় হও, ইন্ডিপেন্ডেন হও, নিজের হয়ে লড়ো! so i did it! ''
'' আমি কী তোমাকে ঠ্যাং ভাঙ্গতে বলেছিলাম? ''
'' নাহ!''
'' তাহলে ভাঙ্গলে কেন?''
'' ওই ডাইনি বুড়ি আমাকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়েছিলো মনি! আমার হাত ও কেটে গেছে! ''
অরিন নিজের হাত বের করে দেখায়! কজ্বির উপরে মাঝারি সাইজের কাটা চিহ্ন! রক্ত জমাট বাঁধা!
আতিয়া বেগমের চোখ কপালে উঠে যায়! সে তড়িঘড়ি করে যখনই অরিনের হাত দেখতে যাবে ঠিক তখনই কিংশুক পিছন থেকে এসে অরিনকে কোলে তুলে নেয়! আর খুব জোড়ে দৌড়াতে থাকে তাকে নিয়ে!
'' টাইগারররর! স্টার্ট দ্যা কাররর!! সি ইজ বিল্ডিং! ''
'' আঙ্কেল আস্তে! পড়ে যাবো আমিমমমম!''
'' কিং দাড়া বাবা!''
আতিয়া বেগম পিছু পিছু ছুটতে থাকে! কিন্তু কিংশুকের কানে যেনো কোনো কথা যায় না! সে নিজের মতো করে অরিনকে নিয়ে যেতে ব্যস্ত!!
সকলের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে! এভাবে কিংশুক কোনো কথা নেই বার্তা নেই! অরিনকে কেন কোলে তুলে নিয়ে এতো জোড়ে দৌড় দিচ্ছে!
গার্ডরা আগে থেকেই গাড়ির ডোর খুলে রাখে! কিংশুক তাড়াতাড়ি করে অরিনকে কোলে নিয়েই বসে পড়ে!
'' হ্যারি আপ ড্যাময়েট!''
খুব জোড়ে শক্ত করে ধরে অরিনের হাত! খুব জোড়ে গাড়ি চলতে থাকে! অরিন প্রচন্ড চিৎকার করতে থাকে! কিন্তু কিংশুকের কান অব্দি কিছু যায় না!
'' তোমার কিছু হবে না রোজ! আমি আছি তো! খুব লেগেছে না তোমার? তুমি প্লিজ কষ্ট পেয়ো, আমি আছি!''
অরিন রাগে এক ঝাটকা মে'রে কিংশুকের হাত নিজের হাত থেকে সরিয়ে দেয়! আর তাড়াতাড়ি করে পাশের সিটে বসে পড়ে কিংশুকের কোল থেকে উঠে!
'' কি হয়েছে? খুব বেশি লেগেছে? ''
অরিন নিজের হাত সামনে ধরে স্টিকারটি তুলে ফেলে! আর সাথে কিংশুক গাড়ি দাড় করায়!
'' কিছু হয়নি আমার আঙ্কেল!''
কিংশুক চোয়াল শক্ত করে তাকায় অরিনের দিকে! তারপর নিজের টি-শার্টের হাতা উপরে উঠাতে থাকে! কিংশুকের রাগিভাব দেখে, অরিন সাথে সাথে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ানো শুরু করে! আর কিংশুক ও তার পিছু নেয়! খান বাড়ির সুবিশাল রাস্তার মাঝে অরিন দৌড়াতে থাকে! আর তার পিছনে কিংশুক!
'' অরিন দাড়া বলছি!''
'' ও আঙ্কেলললল! মাফ করে দেন!''
দৌড়াতে দৌড়াতে এক পর্যায়ে অরিন খান বাড়ির ভিতরে গার্ডেনে চলে যায়! পিছু পিছু কিংশুক ও যায়! এ পর্যায়ে ধরে ফেলে অরিনকে কিংশুক! খুব শক্ত করে ধরে অরিনের হাত!!
----- ৫ মিনিট পর!!
'' ৬...৭....৮.....৯....
ভাইজান আপা মনি থাইমা গেছে গা!''
খুব কড়া চোখে কিংশুক তাকায় অরিনের দিকে! কিংশুক তাকানোর সাথে সাথে অরিন আবার ও কান ধরে উঠবস শুরু করে!
'' কিংশুক কু'ত্তা দেখে নিবো তোকে!''
'' কি বললি?''
'' কিছু নাহহ! দোয়া পড়ছিলাম! ''
" উঠবস কর!''
কিংশুকের ঝাড়ি শুনে অরিন উঠবস করতে থাকে! পাশে আতিয়া বেগম এবং ক্যাট ও বসা! তারা চুপচাপ বসে বসে অরিনের কানে ধরে উঠবস করা দেখে! সকলেই মিটমিট করে হাসছে! কিন্তু কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না!
অরিন প্রায় কাঁদো কাঁদো ভাব হয়ে যায়! শেষমেষ তাকে কান ধরে উঠবস করালো! মনে মনে ঠিক করেছে এর প্রতিশোধ সে নিবেই!
এভাবে কান ধরে ১৫ বার উঠবস করানোর পর কিংশুক অরিনকে থামতে বলে! কিন্তু হাঁটার মতো শক্তি পাচ্ছিল না সে! মাটিতেই বসে পড়ে!
অরিন মাটিতে বসতেই ক্যাটরিনা এসে তাকে কোলে তুলে নেয়! আর ভিতরে নিয়ে যেতে থাকে!
'' তোমার ভাই একটা রাক্ষস! ''
'' ব্রো শুনলে আবার ও কান ধরে উঠবস করাবে!
'' এই না! না! মন থেকে বলিনি!''
ক্যাটরিনা অরিনকে তার রুমে দিয়ে আসে! আর পায়ে বাম ও লাগিয়ে দেয়! যেনো ব্যাথা না হয় খুব বেশি!
কিন্তু অরিন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে সে এর শোধ তুলেই ছাড়বে! কিংশুক যেভাবে তাকে কান ধরে উঠবস করিয়েছে সবার সামনে, সে ও কিংশুককে কান ধরে উঠবস করাবে সবার সামনে! তাও নিজের জন্য!
প্রচন্ড জীদ চেপে বসে অরিনের মনে! ফোন বের করে সিনথিয়া, মনিয়া এবং পুষ্পকে গ্রুপ কল দেয়! কিছু তো একটা করতেই হবে!
সেদিন দূপুর বেলা..!
'' আজকেই সব সব ড্রাইভাদের মরতে হলো মনি?''
'' কিং নির্দেশ দিয়েছে মা জননি! তাদের প্রশিক্ষণে তো যেতে হবেই! ''
'' এই ভরদুপুর বেলা কী হেঁটে হেঁটে যাবো আমি??''
অরিন এবং আতিয়া বেগমের কথোপকথনের মাঝেই সিড়ি বেয়ে কিংশুক নিচে নামতে থাকে! অর্ধেক সিড়িতে নামতেই কিংশুকের পা দুটো থমকে যায়! শাড়ি পড়া অবস্থায় অরিনকে দেখে নিজের বুকে হাত দিয়ে ফেলে কিংশুক!
''' কন্ট্রোল কিং, কন্ট্রোল! সি ইজ জাস্ট এইটটিন!''
অরিনের পড়নে কালো সিল্কের শাড়িটা যেনো তাকে অপ্সরার থেকে কম বানাইনি! পুরো এলাকায় যদি সুন্দরীদের লিস্ট করা হয়, অরিন থাকবে তার মধ্যে শীর্ষে! একদম নিখুঁত সুন্দরী যাকে বলে! তার উপরে কালো শাড়ি, অপ্সরার থেকে কম লাগছিলো না অরিনকে!
কিংশুক চুপচাপ সাইট কাটিয়ে চলে যেতে থাকে! ঠিক তখনই তার নামের ডাক পড়ে!
'' কিংশুক!"
আতিয়া বেগমের ডাকে ঘুড়ে দাড়ায় কিংশুক!
" বাবা, একটু অরিনকে দিয়ে আসবি, কনভেনশন হলে!"
আতিয়া বেগম জানতো কিংশুকের উত্তর কী হবে! কারণ সে নিজের গাড়িতে কখনো কোনো মেয়ে মানুষ উঠায় না! আতিয়া বেগম ও বোধ হয় হাতে গনা দু-এক বার উঠে ছিলো!
'' হ্যারিআপ!''
কিংশুক অরিনকে জলদি আসতে বলে তার সাথে, আর নিজে সামনে যেতে থাকে! তার মুখে এক কৃত্রিম হাসি! যেটা সে ছাড়া আর কেউ দেখিনি! কারণ এসব ছিলো কিংশুকের প্ল্যানের একটি অংশ মাত্র! অরিনের সাথে তার তেমন কোনো কথা বলার সুযোগ হচ্ছিল না, যার মাধ্যমে অরিন তাকে জানতে পারবে!তাই ইচ্ছে করে কিংশুক সব ড্রাইভারদের প্রি-ট্রেলিং এ পাঠায়! কারণ কিংশুক আগে থেকেই জানতো আজকে দূপুরে অরিনের ফ্রেন্ডস দের সাথে গেটটুগেদারের প্রোগ্রাম রয়েছে! এইচএসসির পর সবাই মিলে আড্ডা দিবে আজকে! তাই পূর্বপরিকল্পা সহিত প্ল্যান করে ড্রাইভাদের ট্রেনিং এ পাঠায় কিংশুক!
কিংশুক বাইরে যেতে থাকে, আর অরিন ও চুপচাপ তার পিছু পিছু হাঁটতে থাকে! কিংশুক বাইরে আসা মাত্র বডিগার্ডরা লম্বা হয়ে দাড়ায়, আর কিংশুককে গাড়ি অব্দী জায়গা করে দেয় যাওয়ার জন্য! অরিন ও কিংশুকের পিছু পিছু যেতে থাকে!
কিংশুক গাড়ির সামনে আসতেই দরজা খোলে দেয় তার লোকেরা! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কিংশুক সেখানে না বসে অপর পাশের ডোর খুলে বসে, আর এপাশের টা খোলাই রাখে!
অরিনকে একজন গার্ড সামনে বসার জন্য বলে! অরিন চুপচাপ কথা না বাড়িয়ে কিংশুকের পাশের সিটে বসে পরে! আজকে কিংশুক আর অরিন একদম ম্যাচিং ম্যাচিং! দু-জনেই কালো রং এর ড্রেস পড়েছে!
সারা রাস্তা অরিন এবং কিংশুক চুপচাপ বসে থাকে। কিংশুক তো কোনো কথা বলেই না, আর অরিন সে তো ভয়েই কিছু বলে না!
কনভেনশন হলের সামনে যেয়ে গাড়ি থামে। অরিন ডোর খুলে চুপচাপ নামতে যাবে তার আগে কিংশুক তার হাত ধরে টান দিয়ে আবার সিটে বসায়!
'' Don't try to burn me orin! "
অরিন কিংশুকের কথার আগামাথা ও বুঝে না! সে কীভাবে কিংশুককে জ্বালাচ্ছে? তাই কোনো উত্তর না দিয়েই চুপচাপ গাড়ি থেকে নেমে পড়ে! এ রাক্ষসের সাথে কথা বলে লাভ নেই! কখন কী বলে একমাত্র সেই ভালো জানে!
'' কী-রে অরিন, তোর বয়ফ্রেন্ড দিয়ে গেলো না-কি? ''
অরিনের ফ্রেন্ডরা খুব জোড়েই কথাটি বলে বসে!
'' চুপ কর বলদ! কিংশুক আঙ্কেল ওটা!"
'' কিংশুক খান তাও তোকে দিয়ে গেলো! কোনো মিডিয়া বা প্রোটেকশন ছাড়া! কই দেখি তো!"
অরিনের ফ্রেন্ডরা গাড়ির কাছে আসতেই কিংশুক কাচ নামিয়ে তাদের দিকে তাকায়! কিংশুককে দেখা মাত্র সবাই রিতিমতো ঝাটকা খায়! বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের নাতী এভাবে রাস্তায়!
'' সরি! সরি! আঙ্কেল ওরা বুঝতে পারে নি! আপনাকে আমার বয়ফ্রেন্ড ভেবেছে!"
বাকিরা ও সরি বলে চুপচাপ তাড়াতাড়ি করে অরিনের হাত ধরে ভেতরে চলে যায়!
'' আর একটু হলে তোদের জন্য প্রচুর বকা খেতাম!"
" আরে আমরা কীভাবে জানবো ওটা আসলেই কিংশুক আবির খান!"
অরিন আর ফ্রেন্ড রা বাকি ফ্রেন্ডদের কাছে চলে যায়! আজকে তাদের ব্যাচের পূর্নমিলন! অনেক দিন কেউ কারো সাথে দেখা করে না বলে আজকে সকলে গেটটুগেদার করে! প্রায় সারা দূপুরই তারা সেখানে খুব আনন্দ করে!
বিকেল প্রায় ৫:৫৬ মিনিট! এক এক করে সকলে চলে যায়! অরিন ও তার ফ্রেন্ডের সাথে বাইরে আসে! এসে দেখতে পায়, সকালে কিংশুকের গাড়ি যেখানে ছিলো এখন ও ঠিক সেখানেই আছে!
অরিন সাতপাঁচ না ভেবেই গাড়ির কাছে চলে যায়! গাড়ির কাছে যেতেই ডোর অটোমেটিক খুলে যায়!
অরিন একটু কাছে যেতেই খুব জোরে টান পড়ে তার হাতে!
খুব শক্ত করে হাতে টান পড়ে অরিনের! তাল সামলাতে না পেরে গাড়ির ভেতরে হুমড়ি খেয়ে পরে যেতে যেতে বেঁচে যায় অরিন! কেউ একজন খুব শক্ত করে তাকে ধরে ফেলে! ভয়ে ভয়ে চোখ খুলে আবার ও চোখ বন্ধ করে ফেলে অরিন! না এটা হতেই পারে না! সে কিংশুকের কোলে! এ নিয়ে দু-বার!
'' আমার নাম?''
কিংশুকের কন্ঠ কানে ভাসে আসতেই বড় বড় করে চোখ তুলে তাকায় অরিন!
'' কিংশুক!"
'' শুনতে পায়নি আবার বল!"
'' কিং... কিংশুক!"
'' বলতে থাক!"
'' হ্যাঁ?''
কিংশুক খুব রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকায় অরিনের দিকে। অরিন ও ভয় পেয়ে সারারাস্তা কিংশুক কিংশুক করতে থাকে! কিংশুক অরিনকে ছাড়ে না আবার তার থেকে দৃষ্টি ও সরায় না! এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অরিনের দিকে! অরিন ও কিংশুকের দিকে তাকিয়ে সারারাস্তা কিংশুকের নাম বলতে থাকে!
আঙ্কেল ডাকার কারণে প্রায় ২৩৭ বার নিজের নাম বলাতে থাকে কিংশুক অরিনকে! অরিনের চোখ দিয়ে প্রায় পানি আসবে আসবে ভাব! কিন্তু খুব কষ্ট করে আঁটকে রাখে সে!
গাড়ি এসে সোজা খান বাড়ির সদর দরজায় থামে! গাড়ি থামার সাথে সাথে অরিন ও নড়েচড়ে উঠে নামার জন্য! কিন্তু কিংশুক তাকে আরো শক্ত করে ধরে ফেলে!
'' পরের বার থেকে আঙ্কেল ডাকার আগে ১০০ বার ভাববি!"
তারপর ছেড়ে দেয় অরিনকে! অরিন ও সুন্দর মতো আস্তে ধীরে গাড়ি থেকে নামে! গাড়ি থেকে নেমেই অরিন পিছনে না তাকিয়ে ভেতরে চলে যায়!
'' কী-রে এতো দেরি হলো তোর?''
'' কিংশুক!"
'' কীহ?''
'' কিংশুক!"
" হ্যা?''
অরিনের মুখ থেকে কিংশুকের নাম বের হতেই থাকে! এতো বার কারো নাম ধরে ডাকলে, সেটা যে তোতা পাখির মতো বলি হয়ে যায় সেটা অরিন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে!
'' কী হয়েছে কিংশুকের? ওর নাম এতো কেন নিচ্ছিস?''
অরিন কিছু না বলে নিজের মুখে হাত দিয়ে থাকে! এতোক্ষণ কিংশুকের নাম ধরে ডাকার ফলে তার গাল প্রচন্ড ব্যথা শুরু করে!
আতিয়া বেগম এবং অরিনের কথার মাঝেই কিংশুক ভেতরে প্রবেশ করে! সাথে তার বডিগার্ডরা ও!
'' কী-রে বাবা, এতো তাড়াতাড়ি এলি?''
'' জরুরি জিনিস বাসায় আছে! ''
কিংশুক সাইট কাটিয়ে উপড়ে উঠতে থাকে! অরিন রাগে তার দিকে তাকায় ও না!
কিংশুক যাওয়ার সাথে সাথে অরিন ও নিজের রুমে চলে যায়! অরিন যেতেই দেখে তার বেডে একটা গোলাপ রাখা! অরিন গোলাপ টা নিয়ে সাইটে রেখে দেই!
সারাদিনের ক্লান্তি শেষ করার জন্য একটু ফ্রেশ হওয়া দরকার! অরিন তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে, বারান্দায় চলে যায়, কফি নিয়ে! কিংশুকের বারান্দা তখন ও খালি! হয়তো সে ঘুমাচ্ছে বা কাজে ব্যস্ত! অরিন কফি নিয়ে ভেজা চুলে বারান্দায় পায়ের উপরে পা তুলে ফোন টিপতে থাকে! চুলের পানিতে অরিনের টিশার্ট হালকা ভিজে যায়! অরিন বরাবরই মর্ডান ড্রেস পরে! খুব কম সময় গেছে যখন সে ট্রেডিশনাল আউট ফিট ক্যারি করে!
কফি খেতে খেতে অরিন লক্ষ করে তার ফোনে বেশ কয়েকটা নোটিফিকেশন এসেছে!
অরিন সেগুলো দেখতেই দেখে ইন্সা, ফেসবুকে রিকুয়েষ্ট কয়েকজন ছেলের! যারা তার ভার্সিটির ফ্রেন্ড! কিন্তু তারা তো আগে থেকে এড ছিলো, তাখন হঠাৎ লিস্ট থেকে আনফ্রেন্ড এবং আনফলো কে করলো! অরিন নিজের আইডিগুলোতে ঢুকে দেখে তার কোনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে নেই! এবং লিস্টে কোনো ছেলে নেই! তারপর ভালোমতো দেখে তার লিস্টে শুধু একটায় ছেলে আছে! সেটা কিংশুক আবির খান! কিন্তু অরিন যতদূর জানে কিংশুকের সোশ্যাল মিডিয়া হেন্ডেল করার লোক আছে! তাহলে এই কাজগুলো করলে কে!
ঠিক তখনই ভারি কন্ঠস্বর কানে ভেসে উঠে অরিনের!
'' অরিনননন!"
সাইটে তাকিয়ে দেখে কিংশুক খুব রাগি চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে! কিন্তু হঠাৎ এমন রাগের কারণ মাথায় আসে না তার!
ভয়ে ভয়ে দাড়িয়ে পড়ে অরিন!
'' ভাইয়া,! "
'' রুমে যা!"
খুব জোড়ে ঝাড়ি দিয়ে উঠে কিংশুক! কিংশুকের ঝাড়ি শুনে অরিন চুপচাপ রুমে চলে যায়! চোখে পানি চলে আসে তার! এভাবে আজ অব্দি কেউ তার সাথে কথা বলেনি!
অরিন চুপচাপ রুমে এসে কান্না করতে থাকে!
'' কী-রে অরিন কাঁদছিস কেন?''
'' কিংশুক কু'ত্তা ঝাড়ি দিয়েছে! "
ক্যাটরিনা প্রচন্ড জোড়ে হাসতে থাকে! কিংশুক আজ সকাল থেকে যে অরিনের পিছনে লেগেছে সেটা সকলেরই অবগত!
রাত ১১টা ১৫ মিনিট!
অরিন তার ফ্রেন্ডের সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে নিচে যেতে থাকে! কিংশুকের পাশের রুমটা ছিলে অরিনের! তাই যেতে আসতে তাদের মোটামুটি দেখা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে! যদি কিংশুক তার রুমের লক খোলা রাখে তবে! কিন্তু কিংশুকের রুমের লক ২৪ ঘন্টায় বন্ধ! বাহির হতে দেখা যায় না ভিতরে কী করে সে সারাদিন!
অরিন নিজের ধ্যানে ফোনে কথা বলতে বলতে যায়। তার পিছনে কে হাঁটছে বা কে তাকে অনুসরণ করছে, সেদিকে কোনো ধ্যানই নেই অরিনের!
No! No! It's, '' Abhi Jah Sanam, Yu Na kar Sitam, Tere Bahomey... Oh i forget the line!"
'' Mar Mitenge Hum!" ''No, no! It's Abhi Jah Sanam, Yuna Kar Sitm, Teri Bahonme, Oh! I forget the line!! "'
'' mar mitenge hum!''
পরিচিত কন্ঠস্বর কানে ভেসে আসতেই থমকে যায় অরিন! তার কদম থমকে যাওয়ার সাথে সাথে পিঠ পিছনে কিছু একটার সাথে কিঞ্চিৎ পরিমাণ ধাক্কা খায়!মাথা পিছনে ঘোরাতেই কিংশুকের বিশাল দেহির দর্শন পায়! একদম কিংশুকের বুক বরাবর তার পিঠ!
কিংশুককে দেখা মাত্র অরিনের মুখের আদল পরিবর্তন হয়ে যায়! কষ্ঠ করে হলে ও খুব মিষ্টি একটা হাসি দেয় সে!
'' আম, সো সরি, আমি দেখতে পায়নি!''
'' চোখ সামনের দিকে থাকলে পিছনে দেখবি কীভাবে! ''
কিংশুকের এমন ব্যাঙ্গাতক বাক্য শুনে নিজের মুখের নকশা কঠিন হওয়াতে আটকে ফেলে অরিন! রাগলে চলবে না! কিংশুকের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে! তাকে পটাতে হবে! না-হলে শর্তে হেরে যাবে সে! আজ দুপুরে কনভেনশন হলে সে তার বান্ধবীদের সাথে ভেট ধরেছে কিংশুককে পটিয়ে কান ধরে উঠবস করানোর প্রতিশোধ নিবে, সেটা রাখতে হবে! হারলে চলবে না!
অরিন এই অব্দি কোনো বাজিতে হারেনি! এখন ও হারবে না!
খুব কষ্ট করে মুখের এক্সপ্রেশন আটকে নাটকীয় হাসি টেনে আসনে মুখে অরিন!
'' পিছনে দেখে হাঁটলে কী আর এতো হ্যান্ডসাম কারো সাথে ধাক্কা খেতাম?''
অরিনের কথায় বোকা বনে যায় কিংশুক! কাল দেখা হলো, আজ সকাল থেকে এতো কান্ড! বিকেলে ঝাড়ি খেলো, তারপর ও এতোটা স্বাভাবিক ভাবে অরিন তার সাথে কথা বলছে? বিন্দু মাত্র রাগ করছে না সে! তাহলে ও সে ও কিংশুককে পছন্দ করে? হতে ও তো পারে! কিংশুক তো এক দেখাতেই অরিনকে পছন্দ তার মুখমন্ডলের ছবি নিজের বাহুতে একেঁ ফেলেছে! তার প্রতি প্রচন্ড অবসেস্ড হয়ে গেছে! পুরো বিশ্বে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে তাকে! তাহলে সে কেন প্রেমে পড়তে পারে না? হয়তো একেই বলে প্রকৃত প্রেম!
অরিন আর কিছু না বলে চুপচাপ সামনে হেঁটে যেতে থাকে! কিংশুক ও তার পিছু নেয়! বিষয়টা অরিন ও লক্ষ্য করে! অরিন চুপচাপ কিচেনে চলে যায়! কফি বানানোর জন্য! কিংশুক ও একদম অরিনের সাথে আঠার মতো লেগে থাকে!
'' সুগার ফ্রী?''
জিজ্ঞেসবোধ দৃষ্টিতে কিংশুকের দিকে তাকায় অরিন! সে কী কফিতে সুগার নেই? অরিন তো কফিতে ও হানি মিক্স করে খায়! কিংশুক ও কী খায়!
কিংশুক মাথা নেড়ে না বোঝায়! অরিন হালকা হেঁসে কফি বানাতে মনোযোগ দেয়! আর কিংশুকের মনোযোগ পুরোপুরি ছিলো অরিনের উপরে! সে কী স্বপ্ন দেখছে?
যেই মেয়েকে পাওয়ার তীব্র নে'শায় সে তিনটি বছর অপেক্ষা করেছে, সেই মেয়ে তাকে এভাবে ভালো লাগার ইঙ্গিত দিচ্ছে?
কফি বানানো শেষে অরিন এক কাপ কিংশুকের দিকে এগিয়ে দেয়! তারপর নিজের কাপটি নিয়ে রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়!
'' রোজ!''
একদম সামনে বাড়াতেই কিংশুক অরিনের নাম ধরে ডাক দেয়! পিছনে ফিরে তাকায় অরিন!
'' লং ড্রাইভে যাবে?''
খুব প্রত্যাশা নিয়ে কিংশুক অরিনকে লং ড্রাইভে যাওয়ার জন্য অফার করে! অরিন কিছু চুপ থেকে কফির মগটি টেবিলে রেখে দেয়!
'' নাইট স্যুট চেঞ্জ করে আসছি!''
উপরে চলে যায় অরিন! আর কিংশুক কিচেনেই দাড়িয়ে থাকে! সে কী স্বপ্ন দেখছে না-কি বাস্তব এখনো একটি ঘোরের মধ্যে রয়েছে সে!
মিনিট দশকের মতো সময় লাগে অরিনের রেডি হতে! কিংশুক তখনও নিচেই দাড়িয়ে বার বার ফোনে সময় দেখছিলো! সময় যেন যাচ্ছেই না! এই দিনটির জন্যই তো সে এতোদিন ধরে অপেক্ষা করেছে! অরিনের সাথে একান্তে সময় কাটাবে বলে! আজ অবশেষে সেই দিন!
পায়ের কদম কানে ভেসে আসতেই পিছনে ফিরে তাকায় কিংশুক! অরিন আসছে! হৃদপিণ্ডটি হুট করে কেমন যেনো জোড় গতিতে চলতে লাগলো!
কালো সিম্পল অফ সোল্ডার ড্রেসে মারাত্মক লাগছিলো অরিনকে! চাইনিজদের মতো সাদা-গোলাপি বর্নের হওয়ায় কালো রংটি যেনো ফুটে উঠেছে তার শরীরে! শুকনো ঢোক গিলে কিংশুক!
'' চলুন!''
কিংশুকের একদম মুখোমুখি দাড়িয়ে পড়ে অরিন! কিংশুক তখন ও ঘোরের মধ্যে ছিলো! আকাশ থেকে নেমে আসা পরী তার সামনে দাড়ানো! ঘোড় কী এতো সহজে কাটবে আর?
অরিন কিংশুকের হাত ধরে হালকা নাড়া দিয়ে উঠে! ঘোড় কে'টে যায় কিংশুকের! সে কি বলবে কিছু বুঝতে পারে না! হালকা হেঁসে উঠে অরিন!
'' চলুনননন!''
'' হুমম!''
অরিন সামনে হাঁটতে থাকে আর কিংশুক তার পিছু পিছু! সদর দরজায় যেতেই অরিন দাড়িয়ে পড়ে! মুখ গোমড়া হয়ে যায় তার!
'' ওয়াট হ্যাপেন্ড রোজ?''
'' এতো লোক কেন?''
'' ফর সিকিউরিটি রিজন রোজ!'"
'' আই ওয়ানা গো ইউথ ইউ! নট ইউথ দ্যাম!''
কিংশুক ইশারা দিয়ে সকলকে চলে যেতে বলে! কিন্তু আকাশের হেলিকপ্টার গুলো ঠিকই উড়তে থাকে! তাদের থেকে অনেক দূরে! যেখানে বিশ্বের পঞ্চম ধনী ব্যক্তি কোথায়ও গেলে শত শত গাড়ি আর হেলিকপ্টার এবং কড়া নিরাপত্তা ছাড়া যায় না, সেখানে সে তো তৃতীয় ধনকুবের নাতি! তার নিরাপত্তা তো না চাইলে ও কড়া হবেই!
কিংশুক ড্রাইভিং সিটে বসে, এবং অরিন তার পাশের সিটে! খুব মনোযোগ সহকারে ড্রাইভিং করতে থাকে কিংশুক!
গার্ডরা সরে গেলে ও! তাদের থেকে কয়েক হাত দূর থেকে তাদের পিছু নেয়! নিরাপত্তা নিয়ে নো কনফ্রোমাইজ!
খান বাড়ি থেকে একটি জনশূন্য জায়গায় গাড়ি থামে কিংশুকের! হঠাৎ ব্রেক পড়ায় কিংশুকের দিকে তাকায় অরিন!
কিংশুক কিছু না বলে ডোর খুলে বের হয়! তারপর অরিনের ড্রোর খুলে হাত বাড়িয়ে দেয়! অরিন কিংশুকের হাত ধরে বাইরে বের হয়!
'' এটা?''
'' ডোন্ট টক!''
কিংশুক অরিনের হাত ধরে জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে যেতে থাকে! শুকনো ঢোক গিলে অরিন! বাজিতে জিততে গিয়ে আবার হিতের বিপরীত না হয়ে যায়! জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে যদি ১৯/২০ কিছু করে ফেলে সে! প্রচন্ড ভয় পায় অরিন! কিন্তু মুখে এক কৃত্রিম হাসি বজায় রাখে!
কিছু ক্ষণ পর জঙ্গল ভেদ করে একটি জনশূন্য জায়গায় চলে যায় তারা! একটি পরিত্যক্ত গার্ডেন তার সাথে এট্যাচ করা ছোটো লেকের মতো তার পাশে সিমেন্টের লম্বা বেঞ্চ বানানো! খুবই মনোমুগ্ধকর কর পরিবেশ!
ছোটো থেকে বড় হয়ে ও অরিন এই জায়গার সম্পর্কে কিছুই জানতো না! মনি কেন কেউ কখনো এমন জায়গা যে রয়েছে সেটা বলেই নি তাকে! খুব অবাক চোখে দেখতে থাকে অরিন সব কিছু!
হঠাৎ কিংশুক অরিনের চোখে হাত দেয়!
'' কী করছেন?''
'' কথা বলো না!''
কিংশুক অরিনের চোখে হাত দিয়েই তাকে নিয়ে কিছুটা সামনে চলে যায়! তারপর আলতো করে চোখ থেকে হাত সরায়!
চোখ থেকে হাত সরতেই অরিন খুব অবাক হয়ে যায়! মুখে ফুটে উঠে এক ভূবন ভুলানো হাসি! জোনাকি!! তাও এ সময়! জোনাকি তো বিলুপ্ত প্রায়!
'' কী সুন্দর! ''
' তোমার থেকে কম!''
কিংশুকের কথা কানে আসতেই পিছনে ফিরে তাকায় অরিন! এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে কিংশুকের মাঝে!
'' আপনি তো বাংলাদেশে আসতেন না, তাহলে কীভাবে জানলে এতো সুন্দর জায়গার কথা? ''
অরিনের প্রশ্ন শুনে কিছুটা অন্য মনস্ক হয়ে পড়ে কিংশুক! ছোটোবেলা যতবার দেশে আসতো, ততবার তার বাবা তাকে এখানে নিয়ে আসতো! কিন্তু তার মায়ের পরকী'য়া এবং বাবার সুইসা'ইডের কারণে আর এখানে আসা হয়নি কিংশুকের! এই জায়গাটির কথা, কেবল মাত্র খান বাড়ির সদস্যরা জানে! আর কেউ নয়! আজ অরিন জানলো!
কিংশুককে অন্য মনস্ক হতে দেখে অরিন কিংশুকের হাতে হাত রাখে!
'' কী হয়েছে? ''
নিজ থেকে অরিন কিংশুকের হাত ধরায়, সে খুব খুশি হয়!
'' নাথিং! ''
'' আমার ছবি তুলে দিন!''
অরিন কিংশুকের হাতে তার ফোন ধরিয়ে দিয়ে সুন্দর পোজ দিয়ে দাড়িয়ে পড়ে! কিংশুক অরিনের ফোন পকেটে ঢুকিয়ে, নিজের ফোন বের করে! এবং সেটা দিয়ে অরিনের ছবি তুলতে থাকে! যেখানে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার দিয়ে কিংশুকের ফটো সুট করানো হয় ম্যাগাজিনের জন্য, সেখানে সে নিজে অন্য কারো ছবি তুলছে, বিষয়টি আসলেই অন্য রকম!
অরিন একের পর এক অদ্ভুত রকমের পোজ দিতে থাকে, আর কিংশুক তাকে ক্যাপচার করতেই থাকে! ফোনের ক্যামেরা যতোটুকু না ক্যাপচার করছে তার থেকে বেশি চোখের লেন্স দিয়ে করছে! অরিনকে যেনো বন্দি করছে সে নিজের চোখের কোঠরে!
এভাবে প্রায় ২৭ টি ছবি তুলে দেয় কিংশুক অরিনের! হঠাৎ করে অরিন পোজ দেওয়া বাদ দিয়ে জোনাকি ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে! কিন্তু কিছুতেই ধরতে পারে না! বার বার ব্যর্থ হতে থাকে! এক পর্যায়ে হাল ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে পড়ে অরিন! মুখটা একদম ভার করে রাখে! কিন্তু তখনই অনুভব হয় কেউ তার হাত সামনের দিকে তুলে ধরছে! যেহেতু কিংশুক আর সে ছাড়া এখানে কেউ নেই, তাহলে অবশ্যই কিংশুক তার পিছনে! কিংশুক খুব কাছে দাড়ায় অরিনের! তার হাতটি সামনে মেলে ধরে! কিছু ক্ষণের মধ্যে বেশ কয়েকটি জোনাকি পোকা তার হাতে বসে! প্রচন্ড খুশি হয়ে যায় অরিন! একগাল হাসি দিয়ে কিংশুকের দিকে তাকায় সে! কিংশুক ও খুব খুশি হয়ে যায়!
এভাবেই বেশ অনেক ক্ষণ কে'টে যায়! একসাথে খুব সুন্দর মূহুর্ত কাটিয়ে রাত ১:৩০ টায় বাড়ির পথে রওনা দেয় অরিন কিংশুক!
কিংশুক ড্রাইভ করতে থাকে, আর অরিন চুপচাপ বসে একটার পর একটা গান চেঞ্জ করতে থাকে! অরিনের ছেলেমানুষী গুলো মুগ্ধ করতে থাকে কিংশুককে! সারা রাস্তা অরিন প্রচুর বকবক করতে থাকে, আর কিংশুক মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকে!
ঠিক পনেরো মিনিট পর তারা খান বাড়িতে এসে পৌঁছায়!
অরিন এবং কিংশুক একসাথে ভিতরে চলে যায়, তাদের রুম পাশাপাশি হওয়াতে একসাথে যেতে থাকে তারা!
'' গুড নাইট রোজ!''
'' গুড নাইট কিং ব্রো!''
অরিন নিজের রুমে না ঢুকা অব্দি কিংশুক চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে! অরিন চলে যাওয়ার পর কিংশুক নিজের রুমে চলে যায়! এবং ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে ১২ টা টেক্সট অরিনের!
কিংশুক তড়িঘড়ি করে ফোন চেক করে দেখে ওয়াটস এ্যাপ এ অরিনের টেক্সট! তার ছবি দেওয়ার জন্য বলেছে! সাথে অনেক গুলো এংরি ইমোজি! কিন্তু এক এক করে অরিনের সব পিক সেন্ড করে!
পিক পাওয়া মাত্র অরিন ইন্সটাতে আপলোড করে দেয়! কিংশুককে ক্রেডিট দিয়ে! কিংশুক শুধু অরিনের এসব ছেলেমানুষী দেখে হাসতে থাকে! আর অন্যদিকে অরিন তাদের ফ্রেন্ডস দের দেখিয়ে দেয়, শর্তে হারার মতো মেয়ে সে নয়! কিংশুক ঠিকই তার বসে চলে এসেছে!
এভাবেই বেশ কিছু দিন কেটে যায়!
কিংশুক এবং অরিন বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে! কিংশুক মাঝে মধ্যেই অরিনকে নিয়ে বের হয়! তাকে শপিং করিয়ে দেয়, গার্ডেনে পানি দেওয়া থেকে শুরু করে একসাথে অনেক কিছুই করতে থাকে তারা! বিষয়টা খান বাড়ির সকল সদস্যদের ও চোখে পড়ে! কিন্তু সকলেই খুশি! ঘরের মেয়ে যদি ঘরেই থাকে তাহলে তো কোনো কথায় নেই!
এভাবেই ভালো চলছিলো দিন! কিন্তু বিপত্তি ঘটে কিংশুকের কাজ নিয়ে, ফোবস থার্টিতে প্রথম স্থান দখন করে নেওয়ার জন্য, তাকে প্রেস্টিজেস প্রাইস দেওয়া হয়! যার ফলে তাকে আমেরিকাতে যেতে হয়! কিন্তু কিংশুকের মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে!৷
প্রায় ৭ দিন সেখানে থাকতে হয় তাকে! আর সেখানে থাকা কালিন খুব কম কথা হতো অরিনের সাথে! ধরতে গেলে হতোই না! হয়তো সময়ের ব্যবধানের কারণে! কিন্তু কিংশুক দেখতো অরিন তাকে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে ইগনর করছে! তাই সে ঠিক করে দেশে ফিরে অরিনকে বউ বানিয়ে সাথে নিয়ে যাবে লন্ডন! বাকি পড়াশোনা না-হয় সেখানেই শেষ করবে সে!।।
যা ভাবা তাই কাজ! কিংশুক আমেরিকাতে একটি অকশনে যায়! যেখানে বিশ্বের দামি হিরা নিলামে উঠে! সে সেটি কিনে ফেলে সব থেকে বেশি প্রাইস বলে! কারণ কিংশুক চেয়েছিলো অরিনকে এই হীরার আন্টি দিয়ে বিয়ের জন্য প্রপোজ করবে! অরিন যেহেতু তার জন্য দামি! তাই তাকে তো সিম্পল কিছু দিয়ে প্রপোজ করা যাবে না! কিংশুক হীরাটি নিয়ে কাস্টমস করে রিন বানায়! তারপর সেটা নিয়ে নিজের প্রাইভেট জেট দিয়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়!
প্রায় ৯ ঘন্টার জার্নি শেষে কিংশুক বাংলাদেশে আসে! এসে সোজা অরিনের রুমে চলে যায়! কিন্তু রুম ফাঁকা থাকায় কিছু টা নিরাশ হয় সে! খোঁজ নিয়ে জানতে পারে অরিন তার বান্ধবীদের সাথে হ্যাংআউট করতে বের হয়েছে! কিংশুক ঠিক করে সে ও সেখানে যাবে! আর সবার সামনে অরিনকে প্রপোজ করবে!
রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার ও বেরিয়ে পড়ে কিংশুক! আজকে আর দেরি নয়! অরিনকে তার মনের কথা বলতেই হবে!
' ক্যাফে মোয়া'
'' যায় বল অরিন, কিংশুক স্যার যে তোর ফাঁদে পা দিবে ভাবতেই পারিনি! ''
পুষ্পের কথা শুনে সকলে হো হো করে হেসে উঠে!
'' তুই যে এভাবে বাজিতে জিতে যাবি আমরা ভাবতে ও পারিনি! শেষে কী-না থ্রাড কিং তোর প্রেমে পাগল হয়ে গেলো!''
খুশ গল্পতে মেতে উঠে অরিন এবং তার বন্ধরা! কিন্তু আড়ালে দাড়িয়ে তাদের সমস্ত কথা শুনে আরেক জনের মধ্যে আগ্নি শীখা জ্বলে উঠে! চোয়াল শক্ত হয়ে পড়ে তার!
চুপচাপ বেরিয়ে পরে ক্যাফে থেকে! সারা রাস্তা নিজের মনের সাথে একটি স্নায়ু যুদ্ধ চলতে থাকে কিংশুকের! যেখানে পুরো নারী জাতিকে ঘৃণা করা কিংশুক নিজের থেকে ৮ বছরের ছোটো মেয়ের প্রতি অবসেস্ড হয়ে পড়ে, সেখানে সেই তাকে ধোঁকা দিলো?
খান বাড়িতে এসে নিজের রুমের হিডেন রুমে চলে যায় কিংশুক! অরিনের বিশাল বড় ছবির ফ্রেমের সামনে দাড়ায়,কিংশুক! চুপচাপ দাড়িয়ে অরিনের ছবি দেখতে থাকে কিংশুক! তারপর খুব জোড়ে ফ্রেমটি ধরে ফ্লোরে আঁচড়ে ফেলে দেয় কিংশুক! অরিনের নাম নিয়ে জোড়ে চিৎকার করে উঠে সে!
জীবনের প্রথম একটি মেয়েকে ভালোবাসলো সে! আর সেই তাকে ধোঁকা দিলো! কিংশুক এক এক করে অরিনের ছবি থেকে কাঁচের টুকরো গুলো সরাতে থাকে! আর ধীরে ধীরে বলতে থাকে!!
'' Dard tumhara badan mey mere! Zaher ki tarha uthar rahi hey!''
চোখ বন্ধ করে ফেলে কিংশুক! তারপর আবার ও চোখ মেলে তাকায় অরিনের ছবির দিকে!
'' I'll make your life hell baby girl!''
....