অদেখা বন্ধনের হঠাৎ প্রকাশ

সায়রা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এসেছিল নতুন চাকরি নিয়ে। বন্দর শহরের ব্যস্ততা, সমুদ্রের গন্ধ আর ঘন সবুজ পাহাড় তাকে একটু একটু করে গ্রহণ করছিল। অফিসের কাছে একটা ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল। প্রথম সপ্তাহটা কেটেছিল নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

একদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরতে গিয়ে রাস্তায় হঠাৎ বৃষ্টি ছাড়াই ভিজে যাওয়া মনে হলো—আসলে সেটা ছিল ইহানের দৃষ্টি। সে রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে বসে ছিল। সায়রার হাত থেকে ফাইল পড়ে গেল। ইহান উঠে এসে তুলে দিল।

“ধন্যবাদ,” সায়রা বলল।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

“কোনো সমস্যা নেই। আপনি কি নতুন এখানে?” ইহানের গলায় একটা শান্ত আত্মবিশ্বাস ছিল।

সায়রা মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ। চাকরি নিয়ে এসেছি।”

ইহান হাসল। “আমিও এখানেই থাকি। চা খান?”

সেদিন চা হয়ে গেল দুই কাপ। তারপর আরেকদিন। তারপর অফিসের কাছের পার্কে হাঁটা। ইহান জানত সায়রা কোন এলাকায় থাকত ঢাকায়, কোন স্কুলে পড়েছে, এমনকি তার মায়ের পছন্দের রান্না পর্যন্ত। সায়রা অবাক হতো, কিন্তু ইহান সবসময় বলত, “আপনার কথা শুনে শুনে মনে হয় চেনা চেনা।”

দুজনের মধ্যে আলাপ গভীর হতে লাগল। সায়রা ইহানের চোখে একটা অদ্ভুত পরিচিতি খুঁজে পেত। ইহান তাকে কখনো চাপ দিত না। শুধু কাছে থাকত। এক সন্ধ্যায় সমুদ্রের ধারে বসে সায়রা বলল, “আপনি আমার অতীত নিয়ে অনেক কিছু জানেন। কেমন করে?”

ইহান একটু চুপ করে থেকে বলল, “কখনো কখনো মানুষের জীবন এমনভাবে জড়িয়ে যায় যে ব্যাখ্যা করা যায় না।”

সেই রাতে সায়রার ফ্ল্যাটে ইহান এসেছিল চা নিয়ে। দরজা বন্ধ হওয়ার পর দুজনের দৃষ্টি মিলল। ইহান এগিয়ে এসে সায়রার চুল সরিয়ে দিল। “আমি আপনাকে চিনি। অনেক আগে থেকে।”

সায়রা প্রতিবাদ করতে গেল, কিন্তু ইহানের ঠোঁট তার ঠোঁটে এসে পড়ল। চুমুটা ছিল ধীর, গভীর। সায়রার শরীর কেঁপে উঠল। ইহানের হাত তার কোমরে গিয়ে থামল। সায়রা তার শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করল। ইহানের বুকের গরম ত্বক স্পর্শ পেয়ে সায়রার নিঃশ্বাস দ্রুত হয়ে গেল।

তারা বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। ইহান সায়রার গলার নিচে চুমু খেল, তারপর আরও নিচে। সায়রার আঙুল ইহানের চুলে জড়িয়ে গেল। ইহান তার শরীরের প্রতিটি অংশকে চিনত যেন অনেকবার স্পর্শ করেছে। সায়রা আরও কাছে টানল। দুজনের শরীর এক হয়ে গেল। ইহানের গভীর ঢোকান আর সায়রার চাপা আর্তনাদ ঘর ভরে তুলল। সেই রাতটা শুধু শরীরের মিলন ছিল না—একটা অদেখা বন্ধনও।

সকালে সায়রা জেগে উঠে দেখল ইহান তার পাশে নেই। টেবিলে একটা নোট— “আমি ফিরব। তোমার অতীত আমাকে ডাকছে।”

সায়রা নোটটা হাতে নিয়ে বসে রইল। তার মনে হলো, এই দেখা হওয়া মোটেই কাকতালীয় নয়।

সায়রা ইহানের কথাবার্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করল। সে জানত সায়রার বাবার নাম, তার ছোটবেলার একটা দুর্ঘটনার কথা, এমনকি যে স্কুলে সে পড়ত সেখানকার এক শিক্ষকের নাম পর্যন্ত। একদিন সায়রা সরাসরি জিজ্ঞেস করল, “তুমি আমার পরিবারের কেউ?”

ইহান মাথা নাড়ল। “না। কিন্তু আমাদের পরিবার একসময় খুব কাছাকাছি ছিল।”

সায়রা আরও জানতে চাইল। ইহান বলল, “তোমার বাবা আর আমার বাবা একসময় একই ব্যবসায় ছিলেন। একটা ঘটনা ঘটেছিল। তারপর দুই পরিবার আলাদা হয়ে যায়।”

সায়রা মনে করতে চেষ্টা করল। ছোটবেলায় একবার পরিবারের সবাই মিলে কোথাও গিয়েছিল। একটা দুর্ঘটনা হয়েছিল। সে ভুলে গিয়েছিল। ইহান বলল, “তুমি তখন পাঁচ বছরের। আমি সাত।”

সেই রাতে আবার ইহান এসেছিল। সায়রা তাকে জিজ্ঞেস করতে গেল, কিন্তু ইহান তার কথা কেটে দিয়ে চুমু খেল। এবার চুমুটা ছিল আরও ক্ষুধার্ত। সায়রা ইহানের গলা জড়িয়ে ধরল। ইহান তাকে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিল। সায়রার জামা খুলে ফেলল আস্তে আস্তে। তার ঠোঁট সায়রার স্তনের ওপর ঘুরতে লাগল। সায়রা কামড়ে ধরল নিজের ঠোঁট। ইহানের হাত তার উরুর ভেতর দিয়ে উঠে গেল। সায়রা ইহানের প্যান্ট খুলে দিল। দুজনের শরীর আবার মিলল। এবার আরও গভীর, আরও দীর্ঘ। ইহান সায়রার চোখে তাকিয়ে বলল, “আমি তোমাকে হারাতে চাই না আবার।”

সায়রা জানতে চাইল মানে কী। ইহান চুপ করে গেল। শুধু আরও জোরে জড়িয়ে ধরল।

পরের দিন সায়রা ইহানের পুরনো ছবি খুঁজে বের করল। একটা ছবিতে ছোট একটা ছেলে আর একটা মেয়ে। মেয়েটার মুখ সায়রার মতো। ছেলেটা ইহান। ছবির পেছনে লেখা— “১৯৯৮, চট্টগ্রাম।”

সায়রা ফোন করল ইহানকে। “তুমি আমাকে বাঁচিয়েছিলে?”

ইহান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “হ্যাঁ। তুমি পানিতে পড়ে গিয়েছিলে। আমি টেনে তুলেছিলাম।”

সায়রার চোখ জ্বলে উঠল। সে মনে করতে পারল না। কিন্তু ইহানের কণ্ঠে সত্যি ছিল।

সেই রাতে সায়রা ইহানের বাসায় গেল। দুজন দীর্ঘক্ষণ চুপ করে বসে রইল। তারপর ইহান সায়রাকে জড়িয়ে ধরল। এবার চুমুটা ছিল কোমল, কিন্তু শরীরের আগুন একইরকম। সায়রা ইহানের শার্ট ছিঁড়ে ফেলল। ইহান সায়রাকে দেয়ালে ঠেস দিয়ে চুমু খেল। সায়রার পা ইহানের কোমরে জড়িয়ে গেল। দুজন মেঝেতে নেমে গেল। ইহান সায়রার ভেতরে ঢুকল ধীরে ধীরে। সায়রা তার পিঠে নখ বসাল। ঘর ভরে উঠল দুজনের শ্বাস আর আর্তনাদে। শেষে তারা একে অপরের বুকে মাথা রেখে শুয়ে রইল।

সায়রা ফিসফিস করে বলল, “আমাদের পরিবারের মধ্যে কী হয়েছিল?”

ইহান চোখ বন্ধ করে বলল, “কাল বলব। আজ শুধু তোমাকে কাছে রাখতে দাও।”

পরের দিন সকালে ইহান সব খুলে বলল। বহু বছর আগে দুই পরিবার একসঙ্গে ব্যবসা করত। একটা বড় চুক্তি নিয়ে মতভেদ হয়। সায়রার বাবা অভিযুক্ত হয় টাকা আত্মসাতের। ইহানের বাবা প্রমাণ দিতে পারেননি যে সায়রার বাবা নির্দোষ। দুই পরিবার আলাদা হয়ে যায়। সায়রার পরিবার ঢাকা চলে যায়। ইহানের পরিবার চট্টগ্রামেই থাকে।

ইহান বলল, “আমার বাবা মৃত্যুর আগে আমাকে বলেছিলেন সত্যিটা। তোমার বাবা নির্দোষ ছিলেন। আমি তোমাকে খুঁজেছিলাম। কিন্তু তুমি এসে গেলে নিজে থেকে।”

সায়রা কাঁদল। “তুমি আমাকে বাঁচিয়েছিলে ছোটবেলায়। তারপরও চুপ করেছিলে?”

ইহান তার হাত ধরল। “কারণ আমি জানতাম তোমার পরিবার আমাদের দেখতে চায় না। কিন্তু আমি তোমাকে ভুলতে পারিনি।”

সেই রাতে দুজন আবার একসঙ্গে ছিল। এবার আর কোনো গোপন কথা ছিল না। সায়রা ইহানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে রইল। ইহান তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল। তারপর আস্তে আস্তে সায়রার মুখ তুলে চুমু খেল। চুমুটা লম্বা হলো। সায়রা ইহানের গলায় হাত রেখে আরও কাছে এল। ইহান তার জামা খুলে দিল। সায়রার শরীর ইহানের হাতে কাঁপতে লাগল। ইহান তার স্তন চুমু খেল, তারপর পেট, তারপর আরও নিচে। সায়রা ইহানের চুল ধরে টানল। ইহান উঠে এসে সায়রার ওপর এল। দুজনের শরীর আবার মিলল। এবার আরও গভীর, আরও আবেগপূর্ণ। সায়রা ইহানের কানে ফিসফিস করে বলল, “আমি তোমাকে চাই। পুরোপুরি।”

ইহান আরও জোরে ঢোকাল। সায়রার আর্তনাদ ঘর ভরে তুলল। দুজন একসঙ্গে শেষ করল। তারপর জড়িয়ে শুয়ে রইল।

পরের সপ্তাহে সায়রা তার পরিবারকে ফোন করল। বাবা প্রথমে রাগ করলেন, কিন্তু ইহানের বাবার শেষ কথা শুনে চুপ হয়ে গেলেন। দুই পরিবার আবার কথা বলতে শুরু করল।

সায়রা আর ইহান একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিল। চট্টগ্রামের সমুদ্রের ধারে একটা সন্ধ্যায় ইহান সায়রার হাতে একটা আংটি পরাল। “আমি তোমাকে হারাতে চাই না আর কখনো।”

সায়রা হাসল। “তুমি আমাকে বাঁচিয়েছিলে ছোটবেলায়। এবার আমি তোমাকে বাঁচাবো আমার সারাজীবন।”

দুজন আবার চুমু খেল। এবার চুমুটা ছিল প্রতিশ্রুতির। শরীরের আগুন আর হৃদয়ের বন্ধন এক হয়ে গিয়েছিল। তাদের গল্প শুরু হয়েছিল একটা দুর্ঘটনা দিয়ে, শেষ হয়েছিল একটা নতুন শুরু দিয়ে।

....
👁 11