বিশ্বাসঘাতকতার পুরনো ছায়া

অদ্রিতা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছে তার বাবার সবচেয়ে বড় শত্রু ছিল রাহাতের পরিবার। বাবার মুখে বারবার শোনা কথাগুলো তার মনে গভীর ক্ষোভের বীজ বুনে দিয়েছিল। রাহাত নামটা শুনলেই তার শরীরে একটা অদ্ভুত টান অনুভব হতো, যেন কোনো পুরনো ক্ষত জেগে ওঠে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস এমনই যে চাকরির প্রয়োজনে তাকে রাহাতের সঙ্গে একই অফিসে কাজ করতে হয়।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

ঢাকার একটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অদ্রিতা মার্কেটিং বিভাগে যোগ দিয়েছে মাত্র তিন মাস হয়েছে। প্রথম দিনই সে দেখেছিল রাহাতকে। লম্বা, শান্ত চোখের মানুষটা। তার কণ্ঠস্বর গম্ভীর কিন্তু নরম। অদ্রিতার মনে হয়েছিল, এই মানুষটার পরিবারই তার বাবার জীবন নষ্ট করেছে। তাই সে প্রথমেই দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু কাজের চাপ এমন যে দুজনকে একসঙ্গে প্রজেক্টে থাকতে হয়। একদিন সন্ধ্যায় অফিসে সবাই চলে গেলেও অদ্রিতা একা বসে রিপোর্ট শেষ করছিল। কম্পিউটার হঠাৎ হ্যাং হয়ে গেল। সে বিরক্ত হয়ে চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল। তখনই রাহাত এসে দাঁড়াল তার পাশে।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

“কী হয়েছে?” রাহাত জিজ্ঞেস করল।

অদ্রিতা মুখ ফিরিয়ে নিল। “কিছু না।”

রাহাত তবুও এগিয়ে এল। তার হাত দিয়ে কিবোর্ডে কয়েকটা কমান্ড দিয়েই ফাইলটা উদ্ধার করে দিল। “এখন সেভ করে নাও। আগামীকাল প্রেজেন্টেশন আছে।”

অদ্রিতা তার দিকে তাকাল। রাহাতের চোখে কোনো বিদ্বেষ নেই। শুধু একটা শান্ত সাহায্যের ইচ্ছা। সে মনে মনে ভাবল, এই মানুষটা কি সত্যিই শত্রু পরিবারের সন্তান? বাবা তো বলেছিলেন তারা ধূর্ত, লোভী। কিন্তু রাহাতের আচরণে সেসবের ছাপ নেই।

পরের কয়েকদিনে রাহাত বারবার তাকে সাহায্য করেছে। একবার অদ্রিতার প্রজেক্ট ফাইল হারিয়ে গেলে সে নিজের সময় দিয়ে নতুন করে তৈরি করে দিয়েছিল। আরেকবার ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে অদ্রিতা আটকে গেলে রাহাত নীরবে পাশে দাঁড়িয়ে সাপোর্ট করেছিল। প্রতিবারই অদ্রিতার সন্দেহ বাড়ত। কেন এত সাহায্য? কোনো উদ্দেশ্য আছে কি?

এক সন্ধ্যায় অফিসের ছাদে দুজনে একা। আকাশ পরিষ্কার, শহরের আলো জ্বলজ্বল করছে। অদ্রিতা সিগারেট ধরাতে গিয়ে দেখল ম্যাচ নেই। রাহাত নিজের লাইটার এগিয়ে দিল। তাদের আঙুল ছুঁয়ে গেল। সেই স্পর্শে অদ্রিতার শরীরে একটা তীব্র কম্পন দৌড়ে গেল। সে চমকে হাত সরিয়ে নিল।

রাহাত শান্ত গলায় বলল, “তুমি আমাকে এড়িয়ে চলছ কেন?”

অদ্রিতা তাকাল তার চোখে। “তোমার পরিবার আর আমার বাবার পরিবারের মধ্যে যে ইতিহাস, সেটা ভুলে যাওয়া যায় না।”

রাহাতের মুখ শক্ত হয়ে গেল। “আমি জানি। কিন্তু আমি সেই ইতিহাসের অংশ নই। আমি শুধু নিজের কাজ করি।”

সে রাতে অদ্রিতা ঘরে ফিরে বাবাকে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিল, কিন্তু সাহস হয়নি। বাবা অসুস্থ, তার মুখে পুরনো ক্ষত না খোলাই ভালো। কিন্তু মনে মনে রাহাতের কথা ঘুরপাক খাচ্ছিল। তার সাহায্য, তার চোখের দৃষ্টি, তার হাতের উষ্ণতা।

পরের সপ্তাহে একটা বড় প্রজেক্টের জন্য দুজনকে রাত জেগে কাজ করতে হয়। অফিসের ছোট মিটিং রুমে তারা একা। টেবিলে কাগজপত্র ছড়ানো। রাহাত হঠাৎ উঠে এসে অদ্রিতার চেয়ারের পেছনে দাঁড়াল। তার শরীরের গরম অদ্রিতার পিঠে লাগল।

“এই অংশটা আমি করে দিচ্ছি,” রাহাত ফিসফিস করে বলল। তার শ্বাস অদ্রিতার কানে এসে লাগল।

অদ্রিতা ঘুরে তাকাল। তাদের মুখ খুব কাছে। রাহাতের চোখে একটা গভীর আকর্ষণ। অদ্রিতার হৃদয় দুরুদুরু করছিল। সে জানত এটা ভুল। কিন্তু শরীর বলছিল অন্য কথা। রাহাতের হাত ধীরে ধীরে তার কাঁধে রাখা হলো। অদ্রিতা সরে গেল না।

সেই রাতে তারা কাজ শেষ করে বেরিয়ে এল। রাহাত অদ্রিতাকে তার গাড়িতে তুলে দিল। গাড়ির ভেতর অন্ধকার। রাহাত হঠাৎ ব্রেক কষে থামল একটা নির্জন জায়গায়। “অদ্রিতা…” তার গলা ভারী।

অদ্রিতা তার দিকে তাকাল। পরের মুহূর্তে রাহাতের ঠোঁট তার ঠোঁটে এসে লেগে গেল। চুমুটা গভীর, ক্ষুধার্ত। অদ্রিতা প্রতিরোধ করতে পারল না। তার হাত উঠে গেল রাহাতের ঘাড়ে। রাহাতের হাত তার কোমরে শক্ত করে ধরল। গাড়ির ভেতর তাদের শরীর জড়িয়ে গেল। রাহাতের ঠোঁট তার গলায় নেমে এল, কামড় দিল নরম করে। অদ্রিতার শরীর কাঁপতে লাগল। সে নিজেকে হারিয়ে ফেলল সেই তীব্র স্পর্শে।

কিন্তু হঠাৎ অদ্রিতা সরে গেল। “না… এটা ভুল।”

রাহাত শ্বাস ফেলতে ফেলতে বলল, “আমি জানি তোমার মনে কী আছে। কিন্তু আমি তোমাকে চাই। শুধু তোমাকে।”

অদ্রিতা গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। রাতের বাতাসে তার শরীর জ্বলছিল। বাড়ি ফিরে সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখল নিজের লাল ঠোঁট, এলোমেলো চুল। মনে হলো সে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে।

পরের দিন অফিসে রাহাত তাকে এড়িয়ে চলল না। বরং আরও কাছে এল। মিটিংয়ের ফাঁকে তার হাত অদ্রিতার হাতে ছুঁয়ে গেল। লিফটে একা হলে সে অদ্রিতাকে দেয়ালে ঠেলে চুমু খেল। গরম, তীব্র চুমু। অদ্রিতা প্রতিবারই নতি স্বীকার করল। তার শরীর রাহাতের স্পর্শের জন্য আকুল হয়ে উঠছিল।

একদিন দুপুরে অফিসের স্টোররুমে তারা একা পড়ল। রাহাত দরজা বন্ধ করে দিল। অদ্রিতাকে তুলে ধরল টেবিলের ওপর। তার ঠোঁট অদ্রিতার গলায়, বুকে নেমে এল। হাত দিয়ে তার শার্টের বোতাম খুলল। অদ্রিতার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। রাহাতের হাত তার ত্বকে ঘষে যাচ্ছিল, আঙুল দিয়ে স্তনের ডগা চেপে ধরল। অদ্রিতা নিজেকে সংযত রাখতে পারল না। তার হাত রাহাতের চুলে আঁকড়ে ধরল। রাহাত হাঁটু গেড়ে বসল, তার স্কার্ট উঁচু করে ঠোঁট লাগাল ভেতরের নরম চামড়ায়। অদ্রিতার কোমর কেঁপে উঠল। সে মুখ চেপে ধরে চিৎকার চেপে রাখল।

সেই মুহূর্তে ফোন বেজে উঠল। অদ্রিতা চমকে সোজা হয়ে বসল। রাহাত উঠে দাঁড়াল, শ্বাস ফেলতে ফেলতে। “আমরা এভাবে চলতে পারব না,” অদ্রিতা বলল। “কিন্তু আমি থামতেও পারছি না।”

রাহাত তার মুখ ধরে বলল, “আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব। যতদিন লাগে।”

অদ্রিতা সেই রাতে বাবার ঘরে গিয়ে বসল। বাবা বিছানায় শুয়ে আছেন। “বাবা, রাহাতের পরিবারের সঙ্গে আমাদের শত্রুতার আসল কারণ কী?” সে জিজ্ঞেস করল।

বাবার চোখ খুলে গেল। মুখ শক্ত হয়ে গেল। “তুমি ওদের কাছে যেও না। ওরা বিশ্বাসঘাতক।”

অদ্রিতা আর কিছু জানতে পারল না। কিন্তু তার মনে হলো, কিছু একটা লুকানো আছে। আর সেই লুকানো সত্য হয়তো রাহাতের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

অদ্রিতা আর রাহাতের মধ্যে টানটা এখন আর লুকানো যাচ্ছিল না। অফিসে সবাই লক্ষ্য করছিল তাদের দৃষ্টি বিনিময়। কিন্তু তারা সাবধানে চলত। রাতে তারা দেখা করত শহরের বাইরের একটা নির্জন বাংলাদেশের ছোট রিসোর্টে। সেখানে কেউ চেনে না তাদের।

এক রাতে তারা সেই রিসোর্টের কটেজে একা। জানালা খোলা, বাইরে শহরের আলো দূর থেকে জ্বলছে। রাহাত অদ্রিতাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। তার ঠোঁট অদ্রিতার ঠোঁটে, গলায়, বুকে নেমে এল। অদ্রিতার শার্ট খুলে গেল। রাহাতের হাত তার স্তন চেপে ধরল, আঙুল দিয়ে ঘষতে লাগল। অদ্রিতার শরীর কাঁপছে। সে রাহাতের শার্ট টেনে খুলে ফেলল। রাহাতের বুকের পেশি শক্ত, গরম।

রাহাত তার স্কার্ট নামিয়ে দিল। তারপর ধীরে ধীরে তার প্যান্টি সরিয়ে ঠোঁট লাগাল। অদ্রিতার কোমর উঁচু হয়ে উঠল। রাহাতের জিভ তার ভেতরে ঢুকে গেল, চুষতে লাগল। অদ্রিতা বালিশ চেপে ধরে চিৎকার চেপে রাখল। তার শরীর তরঙ্গের মতো কেঁপে উঠছিল। রাহাত থামল না। তার আঙুল ঢুকিয়ে দিল, আরেক হাত দিয়ে স্তন চেপে ধরল। অদ্রিতা শীঘ্রই চরম সুখে পৌঁছে গেল। তার শরীর শক্ত হয়ে গেল, তারপর আলগা হয়ে পড়ল।

রাহাত উঠে এল। অদ্রিতা তাকে টেনে নিল নিজের ওপর। রাহাতের প্যান্ট খুলে গেল। সে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ল অদ্রিতার ভেতরে। দুজনের শ্বাস মিলে গেল। রাহাত নড়তে শুরু করল। প্রথমে ধীরে, তারপর তীব্র। অদ্রিতার নখ তার পিঠে বিঁধে গেল। তারা একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। বিছানা কেঁপে উঠছিল। রাহাতের ঠোঁট অদ্রিতার কানে ফিসফিস করল, “তুমি আমার।”

অদ্রিতা উত্তর দিল শুধু আর্তনাদে। তারা একসঙ্গে চরম সুখে পৌঁছাল। রাহাত অদ্রিতার ওপর শুয়ে রইল। তাদের ঘাম মিশে গিয়েছিল।

সেই রাতের পর তারা আরও কাছে এল। দিনের বেলা অফিসে চোখের ইশারায় কথা বলত। রাতে শরীরের ভাষায়। একদিন অফিসের ছাদে তারা একা পড়ল। রাহাত অদ্রিতাকে দেয়ালে ঠেলে চুমু খেল। তার হাত অদ্রিতার স্কার্টের ভেতর ঢুকে গেল। আঙুল দিয়ে ঘষতে লাগল। অদ্রিতা মুখ চেপে ধরে দাঁড়িয়ে রইল। রাহাত হাঁটু গেড়ে বসে তার ভেতর চুষতে লাগল। অদ্রিতার পা কেঁপে উঠল। সে রাহাতের মাথা চেপে ধরল। শীঘ্রই সে আবার চরম সুখে পৌঁছাল।

কিন্তু অদ্রিতার মনে সন্দেহ কাটেনি। রাহাত যতই তাকে ভালোবাসে, ততই সে ভাবে এই সম্পর্ক কি স্থায়ী হতে পারে? বাবার কথা মনে পড়ে। একদিন সে রাহাতকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলো।”

রাহাত চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, “আমার বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। মা একা আমাকে বড় করেছেন। আমি শুধু জানি দুই পরিবারের মধ্যে কোনো একটা পুরনো বিরোধ ছিল। কিন্তু আমি তার বিস্তারিত জানি না।”

অদ্রিতা বিশ্বাস করতে চাইল। কিন্তু পারল না। তার বাবা যেভাবে রাহাতের পরিবারের কথা বলেছেন, তাতে মনে হয় কিছু গভীর রহস্য আছে।

এক সপ্তাহ পর অদ্রিতা বাবার পুরনো কাগজপত্র খুঁজতে গেল। বাবার ঘরের আলমারিতে একটা পুরনো ডায়েরি পেল। সেখানে লেখা ছিল কয়েকটা নাম, তারিখ। আর একটা ঘটনার বর্ণনা। অদ্রিতা পড়তে শুরু করল। তার হাত কাঁপতে লাগল।

ডায়েরিতে লেখা, অনেক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে একটা ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছিল। অদ্রিতার বাবা এবং রাহাতের বাবা একসঙ্গে কাজ করতেন। কিন্তু একটা বড় প্রজেক্টে টাকা আত্মসাৎ হয়। অদ্রিতার বাবা অভিযোগ করেছিলেন রাহাতের বাবার বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রমাণ ছিল না। তারপর একদিন রাহাতের বাবা হঠাৎ মারা যান। অদ্রিতার বাবা সেই মৃত্যুর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন মনে মনে। ডায়েরিতে লেখা, “আমি জানি সত্যটা অন্যরকম। কিন্তু আমি মুখ খুলতে পারিনি।”

অদ্রিতা ডায়েরি বন্ধ করল। তার বুক ভারী হয়ে গেল। বাবা কি কিছু লুকিয়ে রেখেছেন? আর রাহাতের জীবনের সঙ্গে এটা কীভাবে জড়িয়ে আছে?

সেই রাতে সে রাহাতকে ফোন করল। “আমাকে দেখা করতে হবে। জরুরি।”

তারা আবার সেই রিসোর্টে গেল। অদ্রিতা ডায়েরির কথা বলল। রাহাত শুনে চুপ করে বসে রইল। তার চোখে ব্যথা। “আমার বাবা মারা যাওয়ার পর মা আমাকে বলেছিলেন, তোমার বাবা আমাদের পরিবারকে দোষারোপ করেছেন। কিন্তু আমি কখনো বিশ্বাস করিনি। কারণ আমার বাবা কখনো কারো ক্ষতি করেননি।”

অদ্রিতা তার হাত ধরল। “তাহলে সত্যটা কী?”

রাহাত মাথা নাড়ল। “আমি জানি না। কিন্তু এখন জানতে হবে।”

সেই রাতে তারা আর কথা বাড়াল না। রাহাত অদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরল। তাদের শরীর আবার মিলিত হলো। এবার আরও গভীর, আরও ক্ষুধার্ত। রাহাত অদ্রিতাকে বিভিন্ন ভঙ্গিতে নিয়ে গেল। অদ্রিতা তার ওপর উঠে বসল, নিজে নড়তে লাগল। রাহাতের হাত তার কোমর চেপে ধরল। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একে অপরকে উপভোগ করল। শেষে ক্লান্ত হয়ে একে অপরের বুকে শুয়ে রইল।

অদ্রিতা ফিসফিস করে বলল, “আমি তোমাকে ভয় পাই। কারণ তোমাকে চাই খুব।”

রাহাত তার কপালে চুমু খেল। “আমিও। কিন্তু আমরা সত্য জানব। একসঙ্গে।”

সত্য উন্মোচনের পথ সহজ ছিল না। অদ্রিতা এবং রাহাত একসঙ্গে পুরনো নথি খুঁজতে শুরু করল। অফিসের পুরনো আর্কাইভ থেকে শুরু করে পরিবারের বন্ধুদের কাছে। অবশেষে তারা একজন বৃদ্ধ আইনজীবীর সন্ধান পেল, যিনি সেই সময়ের ঘটনা জানতেন।

সেই আইনজীবী বললেন, “তোমাদের বাবারা একসঙ্গে কাজ করতেন। একটা বড় চুক্তিতে তৃতীয় একজন ব্যক্তি টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু তোমার বাবা, অদ্রিতা, সন্দেহ করেছিলেন রাহাতের বাবাকে। কারণ টাকার হিসাব তার হাতে ছিল। পরে প্রমাণ পাওয়া যায় সেই তৃতীয় ব্যক্তিই দোষী। কিন্তু ততদিনে রাহাতের বাবা মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে মারা যান। তোমার বাবা সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করেননি। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করতে পারেননি।”

অদ্রিতার চোখে পানি এল। বাবা এতদিন মিথ্যা লুকিয়ে রেখেছেন। আর সেই মিথ্যার বলি হয়েছে রাহাতের পরিবার।

রাহাত শান্ত গলায় বলল, “এখন আর কিছু করার নেই। বাবা ফিরে আসবেন না।”

অদ্রিতা তার হাত ধরল। “কিন্তু আমরা পারি। আমাদের মধ্যে যে দেয়াল ছিল, সেটা ভেঙে দিতে পারি।”

সেই রাতে তারা আবার একসঙ্গে কাটাল। এবার তাদের মিলন আরও গভীর হলো। রাহাত অদ্রিতাকে ধীরে ধীরে চুমু খেল সর্বত্র। তার ঠোঁট অদ্রিতার পেটে, উরুতে, ভেতরে নেমে এল। অদ্রিতা আর্তনাদ করে উঠল। রাহাত তাকে তুলে ধরল, দেয়ালের সঙ্গে ঠেস দিয়ে ঢুকে পড়ল। তীব্র গতিতে নড়তে লাগল। অদ্রিতার পা তার কোমরে জড়িয়ে গেল। তারা একে অপরকে শক্ত করে ধরে রাখল। ঘামে ভিজে গেল দুজনের শরীর। শেষে তারা বিছানায় পড়ে রইল, শ্বাস ফেলতে ফেলতে।

পরের দিন অদ্রিতা বাবার কাছে গেল। সব খুলে বলল। বাবা চুপ করে শুনলেন। তারপর চোখ বুজে বললেন, “আমি ভুল করেছি। রাহাতের বাবাকে অন্যায়ভাবে দোষ দিয়েছি। সেই অপরাধ আমার কাঁধে।”

অদ্রিতা বাবার হাত ধরল। “এখন ক্ষমা চাইতে পারো।”

বাবা রাজি হলেন। পরের সপ্তাহে দুই পরিবারের মধ্যে দেখা হলো। অদ্রিতার বাবা রাহাতের মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন। রাহাতের মা চোখের জল মুছলেন। “আমার স্বামী আর নেই। কিন্তু তার ছেলে আছে। আমি চাই না আর কোনো বিদ্বেষ থাকে।”

সেই দিন থেকে অদ্রিতা এবং রাহাতের মধ্যে আর কোনো বাধা রইল না। তারা অফিসে খোলাখুলি সম্পর্ক রাখতে শুরু করল। সহকর্মীরা অবাক হলেও কিছু বলল না।

এক রাতে তারা অদ্রিতার ফ্ল্যাটে একা। রাহাত অদ্রিতাকে বিছানায় শুইয়ে তার শরীরের প্রতিটি অংশ চুমু খেল। অদ্রিতা তার ওপর উঠে বসল, নিজেই তাকে ভেতরে নিয়ে নিল। তারা ধীরে ধীরে নড়ল, একে অপরের চোখে তাকিয়ে। রাহাত অদ্রিতার স্তন চুষতে লাগল। অদ্রিতা তার চুল টেনে ধরল। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একে অপরকে উপভোগ করল। বিভিন্ন ভঙ্গিতে, বিভিন্ন গতিতে। শেষে ক্লান্ত হয়ে জড়িয়ে শুয়ে রইল।

অদ্রিতা রাহাতের বুকে মাথা রেখে বলল, “আমি ছোটবেলা থেকে তোমাকে শত্রু ভেবে এসেছি। এখন তোমাকে ছাড়া থাকতে পারি না।”

রাহাত তার চুলে হাত বুলিয়ে বলল, “আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি। এখন আর কোনো গোপন কথা নেই আমাদের মধ্যে।”

তাদের জীবন এখন শান্ত। অফিসে একসঙ্গে কাজ করে, রাতে একে অপরের কাছে ফিরে আসে। কখনো কখনো তারা শহরের বাইরে যায়, নির্জন জায়গায় শরীরের ভাষায় কথা বলে। রাহাত অদ্রিতাকে তুলে ধরে, দেয়ালে ঠেসে, বিছানায় শুইয়ে তীব্রভাবে নেয়। অদ্রিতাও পিছিয়ে থাকে না। সে রাহাতকে নিজের ইচ্ছায় নেয়, তার শরীরকে চেনে প্রতিটি কোণে।

একদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে বেরিয়ে তারা হাতে হাত রেখে হাঁটছিল। অদ্রিতা হঠাৎ থেমে গেল। “তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?”

রাহাত হেসে তার দিকে তাকাল। “আমি তো অনেক আগে থেকেই চেয়েছি।”

তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। শহরের আলোতে তাদের ছায়া মিলে গেল। পুরনো শত্রুতা শেষ। এখন শুধু দুজন মানুষের গভীর টান, গরম স্পর্শ আর অন্তহীন ভালোবাসা।

অদ্রিতা জানত, ভাগ্য কখনো কখনো শত্রুকে প্রেমে পরিণত করে। আর সেই প্রেম যখন সত্যের ওপর দাঁড়ায়, তখন তা আর ভাঙে না।

....
👁 15