দুর্ঘটনা ভেঙে দেয় সিদ্ধান্ত

অভ্র যখন চোখ খুলল, প্রথমেই চোখে পড়ল সাদা সিলিং। তারপর ধীরে ধীরে ঘরের গন্ধ—জীবাণুনাশক মেশানো ঔষধের তীব্র গন্ধ। মাথা ভারী, শরীর যেন অন্য কারও। হাত তুলতে গিয়ে ব্যথায় কুঁকড়ে গেল। পাশে কেউ বসে আছে। নরম হাত তার আঙুলে ছুঁয়ে আছে।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

“অভ্র?” কণ্ঠস্বরটা চেনা, কিন্তু মুখটা মনে আসছে না।

মেয়েটির চোখ কালো, চুল কাঁধ পর্যন্ত, মুখে ক্লান্তি আর আশার মিশেল। সে হাসল। “আমি ইশারা। তোমার স্ত্রী।”

¦Ëk¢x/춺'ƒú

অভ্র চেষ্টা করল মনে করতে। কিছুই আসে না। শুধু একটা অস্পষ্ট মুখ—অন্য এক মেয়ের। লম্বা চুল, হাসি ভরা চোখ। কিন্তু নাম নেই।

ডাক্তার এসে বলল, মাথার চোটের কারণে স্মৃতির অনেকটা হারিয়ে গেছে। সময় লাগবে। হয়তো ফিরে আসবে, হয়তো না। ইশারা প্রতিদিন এসে বসে। গল্প বলে তাদের সম্পর্কের।

“তুমি আমাকে প্রথম দেখেছিলে ঢাকার এক ক্যাফেতে,” ইশারা বলল এক সন্ধ্যায়। হাসপাতালের বেডে অভ্র শুয়ে, ইশারা পাশে চেয়ারে। “বৃষ্টি ছিল না সেদিন। গরম বাতাস। তুমি কফি নিয়ে বসেছিলে। আমি একা টেবিলে। তোমার চোখ আমার দিকে পড়ল। তারপর তুমি উঠে এলে।”

অভ্র শুনছে। শরীরের ভিতর কিছু নড়ছে। ইশারার হাত তার হাতে। ত্বকের উষ্ণতা।

রাত গভীর হলে ইশারা দরজা বন্ধ করে। নার্সরা চলে গেছে। সে বিছানায় উঠে বসল। অভ্রর পাশে শুয়ে। হাত দিয়ে তার বুক ছুঁল।

“মনে আছে তোমার হাত আমার কোমরে?” ইশারা ফিসফিস করে। “প্রথম রাতে তুমি আমাকে এমন করে ধরেছিলে যে আমি ভয় পেয়েছিলাম। তারপর আর ছাড়োনি।”

অভ্রর শরীর সাড়া দিল। ইশারার আঙুল তার পেটের উপর দিয়ে নামল। ধীরে। কাপড়ের নিচে ত্বক গরম। ইশারা তার ঠোঁট অভ্রর গলায় ছুঁল। চুমু খেল। নরম, ভেজা।

অভ্র হাত তুলল। ইশারার চুল আঙুলে জড়িয়ে ধরল। টানল। ইশারা হাঁসফাঁস করে উঠল তার উপর। হাঁটু দুটো অভ্রর দুপাশে। শাড়ির আঁচল সরে গেল। অভ্রর হাত তার পিঠে, তারপর কোমরে, তারপর আরও নিচে।

ইশারা নিজেই ব্লাউজ খুলল। স্তন দুটো অভ্রর মুখের কাছে। অভ্র জিভ দিয়ে ছুঁল। ইশারা কাঁপল। “এভাবেই তুমি করলে প্রথমবার,” সে ফিসফিস করল। “আমি চিৎকার করে উঠেছিলাম।”

অভ্রর হাত তার অন্তর্বাসের ভিতর ঢুকল। ভেজা। গরম। আঙুল ঢুকিয়ে দিল। ইশারা কামড় দিল তার কাঁধে। ধীরে ধীরে নড়ল। অভ্রর শরীর শক্ত হয়ে উঠল। ইশারা নিজেই তার প্যান্ট খুলল। হাতে নিয়ে ধরল। তারপর নিজেকে নামিয়ে দিল।

ভেতরে ঢোকার মুহূর্তে অভ্রর চোখ বন্ধ হয়ে গেল। গরম, টানটান। ইশারা উপরে নিচে নড়ল। ধীরে। তারপর দ্রুত। অভ্রর হাত তার নিতম্বে চেপে ধরল। টানল। ইশারার শ্বাস ভেঙে গেল। সে অভ্রর কানে ফিসফিস করল, “তোমার। শুধু তোমার।”

শেষে দুজনেই কাঁপল। ইশারা অভ্রর বুকে মুখ রেখে শুয়ে রইল। ঘামে ভেজা শরীর।

কিন্তু রাতে অভ্রর স্বপ্নে এল অন্য মুখ। সেই মেয়ে। হাসি। তারপর চলে যাওয়ার দৃশ্য। অভ্র চোখ খুলে দেখল ইশারা পাশে ঘুমাচ্ছে। মনে হল, সে কিছু হারিয়েছে। কিন্তু কী, জানে না।

পরের দিন ইশারা আবার গল্প বলল। তাদের বিয়ের রাত। সমুদ্রের কাছে এক বাড়ি। চাঁদের আলো। অভ্র তাকে ধরে বিছানায় ফেলেছিল। কাপড় ছিঁড়ে। ইশারা সেই রাতের প্রতিটি স্পর্শ বর্ণনা করল। অভ্র শুনতে শুনতে উত্তেজিত হয়ে উঠল। আবার সেই রাতেই তারা শরীর মিলিয়ে নিল। আরও গভীরভাবে। ইশারা তার উপরে, তার নিচে। অভ্রর হাত তার চুলে, তার স্তনে, তার ভিতরে। ইশারা চিৎকার চেপে ধরল বালিশে।

তবুও অভ্রর মনে সেই অন্য মুখটা ফিরে আসে। ইশারা লক্ষ্য করল। তার চোখে ভয়। সে আরও কাছে এল। আরও গল্প বলল। আরও স্পর্শ দিল। প্রতিদিন।

এক সপ্তাহ পরে অভ্র হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরল। তাদের ফ্ল্যাট। ইশারা সব সাজিয়ে রেখেছে। ঘরে তাদের ছবি। অভ্র দেখল। কোনোটাতেই সেই অন্য মেয়ে নেই। শুধু ইশারা।

রাতের খাবারের পর ইশারা তাকে শোবার ঘরে নিয়ে গেল। দরজা বন্ধ করে। কাপড় খুলতে খুলতে বলল, “তুমি আমাকে ভুলে গেলেও শরীর মনে রাখে। দেখো।”

সে হাঁটু গেড়ে বসল। অভ্রর সামনে। মুখ দিয়ে নিলে। ধীরে। গভীরভাবে। অভ্রর হাত তার মাথায়। টানল। ইশারা চোখ তুলে তাকাল। তারপর উঠে এল। বিছানায় শুইয়ে দিল অভ্রকে। নিজে উপরে উঠল। আবার সেই গরম, ভেজা অনুভূতি। এবার আরও জোরে। বিছানা নড়ল। ইশারার নখ অভ্রর পিঠে আঁচড় কাটল। অভ্র তার কোমর চেপে ধরে উপরে তুলল। আবার নামাল। বারবার।

শেষে ইশারা তার বুকে লুটিয়ে পড়ল। ফিসফিস করল, “ফিরে এসো। পুরোপুরি।”

অভ্র চুপ করে শুয়ে রইল। মনে সেই অন্য মুখ। আর একটা অস্পষ্ট অনুভূতি—যেন সে কিছু একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কঠিন সিদ্ধান্ত। কিন্তু কী, মনে নেই।

ইশারা পাশে শুয়ে তার হাত ধরে রইল। বাইরে রাতের শহর জেগে আছে। ঢাকার গরম বাতাস জানালা দিয়ে ঢুকছে। কোনো বৃষ্টি নেই। শুধু দুজন মানুষের শরীরের উষ্ণতা আর একটা হারানো স্মৃতির ভারী ছায়া।

বাড়িতে ফেরার পর দিনগুলো একরকম কেটে যেতে লাগল। সকালে ইশারা নাস্তা বানায়। অভ্র বারান্দায় বসে চা খায়। শহরের শব্দ—রিকশা, গাড়ি, মানুষের কলরব। ইশারা এসে পাশে বসে। গল্প বলে।

“মনে আছে আমাদের প্রথম ট্রিপ?” সে বলল একদিন। “কক্সবাজার। সমুদ্রের কাছে এক কটেজ। রাতে আমরা সমুদ্রের শব্দ শুনতে শুনতে শুয়েছিলাম। তুমি আমার শাড়ি খুলেছিলে। আস্তে আস্তে। তারপর তোমার মুখ আমার পেটে। আরও নিচে।”

অভ্র শুনছে। শরীর সাড়া দিচ্ছে। কিন্তু মনে ছবি আসছে না। শুধু ইশারার কণ্ঠস্বর আর তার হাতের স্পর্শ।

দুপুরে তারা ঘুমায়। ইশারা অভ্রর বুকে মাথা রেখে। কখনো কখনো ঘুমের মধ্যে অভ্রর হাত তার স্তনে চলে যায়। ইশারা জেগে ওঠে। চুমু খায়। তারপর আরও। কাপড় খুলে। অভ্রর উপরে উঠে। ধীরে নড়ে। জানালার পর্দা বাতাসে নড়ে। ঘরের ভিতর গরম। ইশারার ঘাম অভ্রর বুকে পড়ে। অভ্র তার নিতম্ব ধরে টানে। গভীরে। ইশারা দাঁত কামড়ে চিৎকার চেপে রাখে।

বিকেলবেলা ইশারা অফিস থেকে ফোনে কথা বলে। অভ্র একা বসে থাকে। মনে সেই অন্য মেয়ের মুখ ঘুরতে থাকে। কখনো মনে হয় সে হাসছে। কখনো মনে হয় সে কাঁদছে। অভ্র চেষ্টা করে নাম মনে করতে। পারে না।

সন্ধ্যায় ইশারা ফিরে আসে। রান্না করে। টেবিলে বসে খায়। তারপর টিভির সামনে। ইশারা অভ্রর পাশে বসে তার হাত ধরে। কখনো কখনো চুমু খায়। গলায়। কানে। “তুমি আমাকে ভালোবাসতে,” সে বলে। “এখনো ভালোবাসো। শরীর বলে।”

রাতে তারা বিছানায় যায়। ইশারা প্রতিদিন নতুন করে চেষ্টা করে। একদিন সে অভ্রকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। হাত দিয়ে তার শরীর ছুঁয়ে। নিচে নামিয়ে। শক্ত করে ধরে। তারপর নিজেই ঘুরে দাঁড়ায়। হাঁটু গেড়ে। মুখ দিয়ে নেয়। অভ্রর হাত তার চুলে। টানে। ইশারা চোখ তোলে। তারপর উঠে আসে। বিছানায় শোয়। পা দুটো ছড়ায়। অভ্র তার উপরে উঠে। ঢোকে। জোরে। বিছানার পায়া শব্দ করে। ইশারা নখ দিয়ে তার পিঠ আঁচড়ায়। “আরও,” সে বলে। “আরও গভীরে।”

অভ্র দেয়। শেষ পর্যন্ত। দুজনে ঘামে ভিজে যায়। ইশারা তার বুকে শুয়ে ফিসফিস করে, “আমি ভয় পাচ্ছি। যদি তুমি আর কখনো আমাকে পুরোপুরি মনে না করো?”

অভ্র চুপ থাকে। কারণ সে নিজেও জানে না।

একদিন সকালে ইশারা পুরোনো অ্যালবাম বের করে। ছবিগুলো দেখায় অভ্রকে। তাদের বিয়ে। হাসির ছবি। সমুদ্রের ধারে। একসাথে রান্নাঘরে। অভ্র দেখে। কোনোকিছুই পরিচিত লাগে না। শুধু ইশারার মুখ।

ইশারা একটা ছবি থামায়। অভ্রর হাতে ফোন। পুরোনো ছবি। ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা মেয়ে। অস্পষ্ট। ইশারা চোখ কুঁচকে তাকাল। তারপর আরেকটা ছবি। আরও পরিষ্কার। সেই মেয়ে। লম্বা চুল। হাসি।

ইশারার হাত কাঁপল। সে চুপ করে ছবিটা রাখল। অভ্র জিজ্ঞেস করল, “কে?”

ইশারা মাথা নাড়ল। “কেউ না। পুরোনো বন্ধু হয়তো।”

কিন্তু তার চোখে ভয়। সেই রাতে সে আরও জোরে অভ্রকে জড়িয়ে ধরল। শরীর মিলিয়ে নিল যেন শেষবারের মতো। অভ্রর উপরে উঠে নড়ল। কাঁপতে কাঁপতে। চোখের জল গড়িয়ে পড়ল অভ্রর বুকে। অভ্র বুঝল না কেন। শুধু তাকে ধরে রাখল। শেষ পর্যন্ত।

পরের দিন ইশারা একা ঘরে বসে পুরোনো ফোন ঘাঁটল। অভ্রর পুরোনো মেসেজ। কিছু ডিলিট করা। কিছু বাকি। একটা মেসেজ খুঁজে পেল। দুর্ঘটনার আগের রাতের। অভ্রর পাঠানো।

“আমি আর পারছি না। তোমাকে ছেড়ে যেতে হবে। কাল সকালে কথা বলব।”

ইশারার হাত কাঁপল। সে পড়ল বারবার। অভ্র নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাকে ছেড়ে যাবে। কিন্তু কেন? মেসেজের আগে আর কিছু নেই। পরেও নেই। শুধু এই কথা।

ইশারা রাতে অভ্রর পাশে শুয়ে রইল। চোখ বন্ধ করে। মনে মনে প্রশ্ন করল—কেন? সেই অন্য মেয়ে কি এর সঙ্গে জড়িত? নাকি অন্য কিছু?

অভ্র ঘুমন্ত। তার মুখ শান্ত। ইশারা তার বুকে হাত রাখল। অনুভব করল হৃদস্পন্দন। গরম ত্বক। সে জানে, শরীরের টান এখনো আছে। প্রতিদিন তারা মিলে যায়। গভীরে। গরমে। কিন্তু মনের দূরত্ব বাড়ছে।

এক সন্ধ্যায় ইশারা অভ্রকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি কখনো অন্য কাউকে ভালোবেসেছ?”

অভ্র চুপ করে রইল। তারপর বলল, “মনে নেই। শুধু একটা মুখ আসে। মেয়ের। কিন্তু নাম নেই।”

ইশারার বুক কেঁপে উঠল। সে উঠে গেল রান্নাঘরে। জল খেল। ফিরে এসে অভ্রর কাছে বসল। হাত ধরল। “আমাকে ফিরিয়ে নাও,” সে বলল। “যেভাবেই হোক।”

সেই রাতে তারা আবার মিলিত হল। ইশারা অভ্রকে বিছানায় ফেলল। কাপড় ছাড়ল। নিজেও। তারপর তার উপর শুয়ে। চুমু খেল গলায়, বুকে, আরও নিচে। অভ্রর শরীর শক্ত। ইশারা মুখ দিয়ে নিল। গভীরে। তারপর উঠে এসে নিজেকে বসাল। নামিয়ে দিল। আস্তে। তারপর জোরে। অভ্রর হাত তার স্তনে। চেপে ধরল। ইশারা মাথা পেছনে ফেলল। চোখ বন্ধ। শ্বাস ভেঙে যাচ্ছে। অভ্র উঠে বসল। তাকে জড়িয়ে ধরে টানল। আরও গভীরে। বিছানা নড়ছে। ইশারার আওয়াজ চেপে রাখার চেষ্টা ব্যর্থ। শেষে দুজনে একসঙ্গে কেঁপে উঠল।

ইশারা অভ্রর বুকে মুখ রেখে কাঁদল। অভ্র তার চুল মুছল। কিন্তু মনে সেই প্রশ্ন ঘুরছে—সে কেন তাকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?

সকালে ইশারা অভ্রকে সব খুলে বলল। মেসেজটা দেখাল। “তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে চেয়েছিলে। দুর্ঘটনার আগের রাতে। কেন?”

অভ্র পড়ল। মাথায় চাপ। কিছু একটা নড়ছে। স্মৃতির টুকরো। সেই মেয়ের মুখ। আরও পরিষ্কার। নাম—রিয়া। না, সে নয়। অন্য কিছু।

সে চোখ বন্ধ করল। চেষ্টা করল। হঠাৎ একটা দৃশ্য এল। রাত। তাদের ফ্ল্যাট। ইশারা ঘুমাচ্ছে। অভ্র বারান্দায় দাঁড়িয়ে। ফোনে কথা বলছে কারও সঙ্গে। কণ্ঠস্বর উত্তেজিত। “আমি পারব না। সে জানবে। সব শেষ হয়ে যাবে।”

তারপর আরেকটা টুকরো। ডাক্তারের চেম্বার। রিপোর্ট। কিছু একটা। অভ্রর শরীর। অসুখ। গুরুতর। সময় কম।

অভ্রর চোখ খুলল। শ্বাস দ্রুত। ইশারা তাকিয়ে আছে।

“আমার অসুখ ছিল,” অভ্র ধীরে বলল। কথাগুলো আসছে টুকরো টুকরো। “মাথার ভিতর কিছু। ডাক্তার বলেছিল সময় কম। আমি তোমাকে বলতে পারিনি। ভয় পেয়েছিলাম। তুমি কষ্ট পাবে। তাই ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যাতে তুমি আমাকে নিয়ে না ভেঙে পড়ো। কিন্তু তার আগেই দুর্ঘটনা।”

ইশারা কেঁপে উঠল। “তুমি আমাকে বিশ্বাস করোনি?”

“বিশ্বাস করেছি। তাই বাঁচাতে চেয়েছিলাম।” অভ্রর গলা কাঁপল। “সেই অন্য মুখটা... হয়তো ডাক্তারের নার্স। বা কেউ। মনে নেই পরিষ্কার। কিন্তু তুমিই। শুধু তুমি।”

ইশারা কাঁদল। অভ্র তাকে জড়িয়ে ধরল। দুজনে বিছানায় বসে রইল। বাইরে দুপুরের রোদ। গরম বাতাস।

বিকেলে ইশারা অভ্রকে নিয়ে বারান্দায় বসল। চা খেল। কথা বলল। পুরোনো গল্প। এবার অভ্র কিছু কিছু মনে করতে পারছে। তাদের প্রথম চুমু। ক্যাফের কোণে। ইশারার ঠোঁটের স্বাদ।

সন্ধ্যায় তারা ঘরে ঢুকল। দরজা বন্ধ। ইশারা অভ্রর সামনে দাঁড়াল। কাপড় খুলল। একটা একটা করে। অভ্র তাকিয়ে রইল। তার শরীর। পরিচিত। প্রিয়।

ইশারা এগিয়ে এল। অভ্রর শার্ট খুলল। হাত দিয়ে তার বুক ছুঁল। ক্ষতের দাগ। চুমু খেল। তারপর নিচে নামল। প্যান্ট খুলল। মুখ দিয়ে নিল। ধীরে। ভালোবেসে। অভ্রর হাত তার মাথায়। টানল না। শুধু ছুঁয়ে রইল।

ইশারা উঠে এল। অভ্রকে বিছানায় শোয়াল। নিজে উপরে উঠল। চুমু খেল গলায়। কানে ফিসফিস করল, “আর কখনো ছেড়ে যেও না। আমি আছি। সবকিছুর জন্য।”

সে নিজেকে নামিয়ে দিল। অভ্রর ভিতরে। গরম। পূর্ণ। ধীরে নড়ল। চোখে চোখ রেখে। অভ্রর হাত তার কোমরে। উপরে তুলল। নামাল। আবার। ইশারার স্তন তার মুখের কাছে। অভ্র জিভ দিয়ে ছুঁল। কামড় দিল। ইশারা কাঁপল। নড়ার গতি বাড়ল। বিছানা শব্দ করছে। ঘরের বাতাস গরম। দুজনের ঘাম মিশে যাচ্ছে।

অভ্র উঠে বসল। ইশারাকে জড়িয়ে ধরে ঘুরল। এবার সে উপরে। জোরে ঢুকল। বারবার। ইশারার পা তার কোমরে জড়িয়ে। নখ পিঠে। আওয়াজ চেপে রাখার চেষ্টা নেই। শুধু দুজনের শ্বাস আর শরীরের শব্দ।

শেষে অভ্র গভীরে গিয়ে থেমে গেল। ইশারা তার নিচে কেঁপে উঠল। দুজনে জড়িয়ে রইল। ঘামে ভেজা। হৃদস্পন্দন মিলছে।

রাত গভীর হল। ইশারা অভ্রর বুকে মাথা রেখে শুয়ে। “আমরা আবার শুরু করব,” সে বলল। “স্মৃতি ফিরুক বা না ফিরুক। আমি তোমার। তুমি আমার।”

অভ্র তার চুল মুছল। চুমু খেল কপালে। “হ্যাঁ।”

বাইরে ঢাকার রাত জেগে আছে। কোনো বৃষ্টি নেই। শুধু দুজন মানুষের শরীরের উষ্ণতা আর একটা নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি। অভ্রর মনে এখন আর অন্য কোনো মুখ নেই। শুধু ইশারা। তার স্ত্রী। তার ভালোবাসা। তার বাড়ি।

....
👁 14