নিভা আর সাম্যর মধ্যে ঝগড়াটা যেন কোনোদিন শেষ হওয়ার নয়। ঢাকার উত্তরার একটা ছোট ফ্ল্যাটে দুজনের পরিবার পাশাপাশি থাকত। নিভার বাবা সরকারি চাকরিজীবী, সাম্যর বাবা ব্যবসায়ী। ছোটবেলা থেকেই দুজনের মধ্যে একটা অদ্ভুত টানাপোড়েন চলত। নিভা চুপচাপ, একটু গম্ভীর স্বভাবের। সাম্য উচ্ছৃঙ্খল, কথায় কথায় হাসিঠাট্টা করে। কিন্তু সেই হাসিঠাট্টাই নিভার কাছে বিরক্তিকর লাগত।
কলেজের শেষ বছরে দুজনের পথ আবার এক হয়েছিল। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা। নিভা ইংরেজি সাহিত্যে, সাম্য ব্যবসায় প্রশাসনে। ক্যাম্পাসে দেখা হলেই কোনো না কোনো কথায় ঝগড়া বেধে যেত। সাম্য নিভার চুপচাপ স্বভাবকে “অহংকার” বলে ডাকত। নিভা সাম্যর বাড়াবাড়ি আচরণকে “অপরিণত” বলে সমালোচনা করত। বন্ধুরা হাসাহাসি করত, “তোমরা দুজন মিলে একটা পুরো সার্কাস।”
সেই রাতটা ছিল ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের। শীতের হালকা বাতাস বইছিল, কিন্তু আকাশ পরিষ্কার। নিভা তার ঘরে বসে অ্যাসাইনমেন্ট করছিল। হঠাৎ ফোন বাজল। সাম্য।
“বাইরে আয়। কথা আছে।”
নিভা রাগ করে কেটে দিল। আবার বাজল। আবার কেটে দিল। তৃতীয়বার সাম্য মেসেজ পাঠাল, “আজ রাত না এলে তোর সেই গোপন কথাটা সবাইকে বলে দেব।”
নিভার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল। সেই গোপন কথাটা—কলেজের প্রথম বছরে একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাম্যর কাছে যা বলে ফেলেছিল। সেটা যদি কেউ জেনে যায়...
নিভা দরজা খুলে বাইরে এল। সাম্য গাড়িতে অপেক্ষা করছিল। কোনো কথা না বলে নিভা বসে পড়ল। সাম্য গাড়ি চালাতে শুরু করল। উত্তরা থেকে গাড়ি বেরিয়ে এল মিরপুরের দিকে। তারপর আরও দূরে।
“কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?” নিভা জিজ্ঞেস করল।
“কোথাও না। শুধু কথা বলব।”
কিন্তু কথা বলার জায়গাটা ছিল শহরের বাইরের একটা নির্জন পার্কের কাছে। রাত প্রায় এগারোটা। চারপাশে নিস্তব্ধতা। সাম্য গাড়ি থামিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করল।
“তুই আমাকে এড়িয়ে চলছিস কেন?” সাম্য সরাসরি জিজ্ঞেস করল।
নিভা মুখ ঘুরিয়ে রাখল। “আমি তোমাকে এড়াই না। তুমিই সবসময় বিরক্ত করো।”
“বিরক্ত? আমি তোকে ভালোবাসার চেষ্টা করি, তুই সেটাকে বিরক্তি মনে করিস।”
নিভার চোখ দুটো জ্বলে উঠল। “ভালোবাসা? তোমার কাছে ভালোবাসা মানে কী? আমাকে লজ্জিত করা? আমার ব্যক্তিগত কথাগুলো নিয়ে হাসাহাসি করা?”
সাম্যর মুখ শক্ত হয়ে গেল। “আমি কখনো তোর কথা নিয়ে হাসি না। তুই নিজেই নিজেকে এত সুরক্ষিত রাখতে চাস যে কাউকে কাছে আসতে দিস না।”
কথাগুলো একটার পর একটা গড়িয়ে গেল। পুরনো অভিযোগ, পুরনো ব্যথা। নিভা অভিযোগ করল সাম্য কীভাবে তার একটা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিল ছোটবেলায়। সাম্য অভিযোগ করল নিভা কীভাবে তার সব অনুভূতিকে অবজ্ঞা করে। কথা বাড়তে বাড়তে চিৎকারে পরিণত হল।
হঠাৎ সাম্য নিভার হাত চেপে ধরল। “তুই আমাকে ঘৃণা করিস?”
নিভা হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইল। “হ্যাঁ। আমি তোমাকে ঘৃণা করি।”
সাম্যর চোখের রং বদলে গেল। সে নিভার দুই হাত চেপে ধরে রাখল। “তাহলে প্রমাণ কর। এখুনি চলে যা। আর কখনো আমার দিকে তাকাবি না।”
নিভা গাড়ির দরজা খুলতে গেল। কিন্তু সাম্য তার কব্জি চেপে ধরে রইল। দুজনের চোখে চোখ পড়ল। সেই তাকানোর মধ্যে রাগ ছিল, অভিমান ছিল, আর তার নিচে লুকিয়ে থাকা একটা অদ্ভুত টান ছিল। নিভা হঠাৎ সাম্যর দিকে ঝুঁকে পড়ল। চুমুটা হয়ে গেল হঠাৎ করে। রাগের চুমু। দাঁতের চাপ দিয়ে, ঠোঁটের জোরে। সাম্যও পিছু হটল না। সে নিভার কোমর চেপে ধরে আরও কাছে টানল।
গাড়ির ভিতরে বাতাস গরম হয়ে উঠল। নিভার হাত সাম্যর চুলের ভিতর ঢুকে গেল। সাম্যর হাত নিভার কোমরের নিচে নেমে গেল। কাপড়ের বাধাগুলো যেন হঠাৎ অসহ্য লাগতে শুরু করল। দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। সাম্য নিভার গলায় চুমু দিল, কানের পাশে, চোয়ালের রেখা বরাবর। নিভা চোখ বন্ধ করে সেই স্পর্শগুলোকে অনুভব করতে লাগল। তার শরীর যেন নিজে থেকেই সাড়া দিচ্ছিল।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে বাইরে থেকে একটা গাড়ির হেডলাইট পড়ল তাদের গাড়ির ওপর। সাম্য হঠাৎ সোজা হয়ে বসল। নিভা দ্রুত নিজের কাপড় গুছিয়ে নিল। বাইরে থেকে কেউ ডাকল, “সাম্য? তুই এখানে?”
সাম্যর এক বন্ধু। সে একা আসেনি। সাথে আরও দুজন। তারা গাড়ির কাছে এসে দাঁড়াল। জানালার কাঁচ নামানোর পর বন্ধুটি হাসতে হাসতে বলল, “ওহো! নিভা আপুও আছেন? রাতের বেলা নির্জনে?”
নিভার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সাম্য রেগে গিয়ে বন্ধুদের তাড়িয়ে দিল। কিন্তু ক্ষতিটা হয়ে গিয়েছিল। পরদিন সকালেই খবরটা দুই পরিবারে পৌঁছে গেল। নিভার বাবা রেগে আগুন। সাম্যর বাবাও চুপ করে থাকলেন না। দুই পরিবার মিলে একটা সিদ্ধান্ত নিল—এই অবস্থায় আর কোনো পথ নেই। বিয়ে দিতে হবে।
নিভা কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে বলল, “আমি চাই না।”
সাম্যও তার বাবাকে বলল, “এটা ভুল হবে।”
কিন্তু কেউ শুনল না। তিন দিনের মধ্যেই সাদামাটা একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে গেল। নিভা সাদা শাড়ি পরে বসেছিল। সাম্য পাঞ্জাবি পরে। দুজনের চোখে চোখ পড়ল না একবারও। কবুল বলার সময় নিভার গলা কেঁপে উঠল। সাম্যর হাতও কাঁপছিল।
বিয়ের পর তারা একই ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করল। সাম্যর বাবার দেওয়া একটা ছোট ফ্ল্যাট। প্রথম রাতে দুজনই আলাদা বিছানায় শুয়েছিল। নিভা দেয়ালের দিকে মুখ করে শুয়ে কাঁদছিল চুপচাপ। সাম্য ছাদের দিকে তাকিয়ে শুয়েছিল। দুজনের মনেই একই কথা ঘুরপাক খাচ্ছিল—এই সম্পর্ক টিকবে না। এটা শুধু একটা ভুলের শাস্তি।
পরের দিন সকালে সাম্য রান্নাঘরে চা বানিয়ে নিভার কাছে এনে দিল। নিভা নিল না। সাম্য চুপ করে চায়ের কাপ রেখে চলে গেল। দুপুরে নিভা রান্না করল। সাম্য খেল না। রাতে দুজনই আবার আলাদা বিছানায় শুয়ে রইল।
এভাবে কেটে গেল সাতদিন। কোনো কথা নেই। কোনো স্পর্শ নেই। শুধু একটা অদ্ভুত নীরবতা। নিভা মনে মনে ভাবত, এই সম্পর্ক কখনো সত্যি হবে না। সাম্য ভাবত, নিভা তাকে কখনো ক্ষমা করবে না। কিন্তু কেউ জানত না যে এই নীরবতার নিচে আস্তে আস্তে একটা নতুন অনুভূতি জন্ম নিচ্ছে।
এক রাতে নিভা ঘুম থেকে উঠে দেখল সাম্য বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। শীতের রাত। সে শুধু একটা হালকা জামা পরে দাঁড়িয়ে আছে। নিভা চুপচাপ গিয়ে তার পাশে দাঁড়াল। কোনো কথা হল না। শুধু দুজনের কাঁধ একে অপরকে ছুঁয়ে রইল। সেই ছোঁয়ায় একটা উষ্ণতা ছিল যা কোনো কথার চেয়ে বেশি বলেছিল।
নিভা আস্তে করে বলল, “আমরা কি সত্যিই এভাবেই থাকব?”
সাম্য মুখ ঘুরিয়ে নিভার দিকে তাকাল। তার চোখে একটা অদ্ভুত নরম ভাব ছিল। “আমি জানি না। কিন্তু আমি চেষ্টা করতে চাই।”
নিভা কিছু বলল না। শুধু তার হাতটা সাম্যর হাতের কাছে নিয়ে গেল। সাম্য সেই হাতটা ধরে নিল। দুজনের আঙুলগুলো একে অপরের মধ্যে জড়িয়ে গেল। সেই রাতে তারা প্রথমবার একসাথে একই বিছানায় শুয়েছিল। কোনো চুমু হয়নি। কোনো আরও গভীর স্পর্শ হয়নি। শুধু পাশাপাশি শুয়ে একে অপরের শ্বাস-প্রশ্বাস শুনেছিল। নিভার মাথা সাম্যর কাঁধে রেখা পড়েছিল। সাম্যর হাত নিভার কোমরে ছিল। সেই রাতটা তাদের জীবনের প্রথম রাত ছিল যেখানে ঝগড়া ছিল না। শুধু একটা ভীতু, সাবধানী কাছাকাছি আসা ছিল।
পরের দিনগুলোতে সাম্য ছোট ছোট যত্নগুলো শুরু করল। সকালে নিভার জন্য চা বানিয়ে রাখত। নিভার প্রিয় সেই বিস্কুটটা বাজার থেকে কিনে আনত। রাতে নিভার পায়ের ব্যথা হলে আস্তে করে প্রেসার দিত। নিভা প্রথমে এড়িয়ে যেত। তারপর একদিন সেও সাড়া দিতে শুরু করল। সাম্যর শার্ট ইস্ত্রি করে রাখত। তার প্রিয় খাবার রান্না করত। দুজনের মধ্যে কথা বাড়তে শুরু করল। আগে যেখানে শুধু ঝগড়া হত, এখন সেখানে হালকা হাসিও যোগ হচ্ছিল।
এক রাতে সাম্য নিভাকে বলল, “তুই জানিস, আমি তোর ওই রাগ করা মুখটা খুব পছন্দ করি।”
নিভা হেসে ফেলল। “পাগল।”
সাম্য তার চিবুক ধরে মুখ তার দিকে ঘোরাল। “হ্যাঁ। তোর জন্য।”
এবারের চুমুটা আগের মতো রাগের ছিল না। এটা ছিল আস্তে, গভীর, অনুভূতিপূর্ণ। নিভার ঠোঁট কেঁপে উঠল। সাম্য তার কোমর চেপে ধরে আরও কাছে টানল। দুজনের শরীর একে অপরের সাথে মিশে যেতে চাইল। নিভার হাত সাম্যর পিঠে উঠে গেল। সাম্যর হাত নিভার চুলের ভিতর ঢুকে গেল। শ্বাস-প্রশ্বাস মিশে গেল। সেই রাতে তারা প্রথমবার একে অপরকে পুরোপুরি গ্রহণ করল। কাপড়গুলো একটার পর একটা খুলে গেল। সাম্যর ঠোঁট নিভার গলায়, বুকে, পেটে নেমে গেল। নিভার নখ সাম্যর পিঠে দাগ কেটে দিল। দুজনের শরীর একসাথে দোল খেলল। ঘামে ভিজে গেল চাদর। শেষ পর্যন্ত নিভা সাম্যর বুকে মাথা রেখে শুয়ে রইল। সাম্য তার চুলে হাত বুলোচ্ছিল।
“আমরা কি পারব?” নিভা আস্তে করে জিজ্ঞেস করল।
সাম্য তার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “চেষ্টা করব। প্রতিদিন।”
সেই রাত থেকে তাদের সম্পর্কটা নতুন করে গড়ে উঠতে শুরু করল। ঝগড়া একেবারে মরেনি। মাঝে মাঝেই পুরনো অভ্যাস ফিরে আসত। কিন্তু এখন ঝগড়ার পর মিটমাট হত। সাম্যর ছোট ছোট যত্নগুলো নিভার হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছিল। আর নিভার সেই চুপচাপ সাহস—যা সে নিজেও জানত না যে তার আছে—সাম্যকে আরও কাছে টানছিল।
তারা নতুন করে জীবন শুরু করার কথা ভাবতে শুরু করল। সাম্য চাকরির জন্য আবেদন করছিল। নিভা মাস্টার্স শেষ করার পর পড়ানোর কথা ভাবছিল। দুজনের মধ্যে একটা স্বপ্ন গড়ে উঠছিল। কিন্তু তারা জানত না যে সেই স্বপ্নের ঠিক পাশেই অতীত অপেক্ষা করছে।
বিয়ের তিন মাস পেরিয়ে গেছে। নিভা আর সাম্যর মধ্যে যে সম্পর্কটা একসময় শুধু জোর করে বাঁধা ছিল, এখন সেটা আস্তে আস্তে নিজে থেকে শিকড় গাড়ছে। ফ্ল্যাটটা ছোট। একটা বেডরুম, একটা ছোট রান্নাঘর, একটা বারান্দা। কিন্তু সেই ছোট জায়গাটাই এখন তাদের জগতের কেন্দ্রবিন্দু।
সাম্য সকালে উঠে প্রথমেই চা বানায়। নিভার জন্য আলাদা করে দুধ কম দিয়ে। নিভা ঘুম থেকে উঠে দেখে চায়ের কাপ আর তার প্রিয় বিস্কুট টেবিলে রাখা। সে হাসে। সাম্যকে জড়িয়ে ধরে পিছন থেকে। সাম্য তার হাত ধরে চুমু দেয়। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই এখন তাদের দিনের সেরা অংশ।
রাতগুলো আরও গভীর হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে শুধু শারীরিক টান ছিল, এখন সেখানে অনুভূতি মিশেছে। সাম্য নিভার শরীরকে চিনতে শিখেছে। কোন জায়গায় স্পর্শ করলে নিভা কেঁপে ওঠে, কোন জায়গায় চুমু দিলে তার শ্বাস আটকে যায়। নিভাও সাম্যর শরীরের প্রতিটি রেখা মুখস্থ করে ফেলেছে। তার বুকের ওপর মাথা রেখে শুয়ে থাকতে ভালো লাগে নিভার। সাম্যর হাত তার চুলে বুলোলে ঘুম আসে।
এক রাতে তারা বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিল। রাতের আকাশ পরিষ্কার। দূর থেকে শহরের আলো জ্বলছিল। সাম্য হঠাৎ বলল, “তুই জানিস, আমি তোর সাথে ঝগড়া করতে ভালোবাসতাম।”
নিভা হেসে উঠল। “এখনো করো।”
“না। এখন আর সেই রাগ নেই। এখন শুধু তোকে কাছে পাওয়ার ইচ্ছে।” সাম্য নিভার হাত ধরে টানল। নিভা তার কোলে এসে বসল। সাম্য তার গলায় নাক ঘষল। “তোর গন্ধটা আমার নেশা হয়ে গেছে।”
নিভা তার চুল আঁচড়ে দিল। “আমিও।”
সাম্য নিভার ঠোঁটে চুমু দিল। আস্তে। তারপর গভীর করে। নিভার হাত সাম্যর গলার পেছনে গিয়ে জড়িয়ে ধরল। সাম্য উঠে দাঁড়িয়ে নিভাকে তুলে নিয়ে বেডরুমে নিয়ে গেল। দরজা বন্ধ করার পর আর কোনো বাধা রইল না। সাম্য নিভার জামা খুলে ফেলল। তার ঠোঁট নিভার কাঁধে, বুকে নেমে গেল। নিভা মাথা পেছনে ফেলে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সাম্যর হাত তার কোমর বেয়ে নিচে নামল। নিভার শরীর কেঁপে উঠল।
তারা বিছানায় শুয়ে পড়ল। সাম্য নিভার ওপর ভর দিয়ে তার চোখে চোখ রেখে বলল, “আমি তোকে চাই। পুরোটা।”
নিভা তার ঠোঁটে আঙুল রাখল। “তাহলে নাও।”
সেই রাতটা দীর্ঘ ছিল। সাম্য নিভার প্রতিটি ইঞ্চি চুমু দিয়ে ভিজিয়ে দিল। নিভাও পিছিয়ে থাকল না। তার নখ সাম্যর পিঠে দাগ কেটে দিল। দুজনের শরীর একসাথে উঠল, নামল। ঘামে ভিজে গেল চাদর। শেষে নিভা সাম্যর বুকে শুয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সাম্য তার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “আমি তোকে ভালোবাসি।”
নিভা চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর আস্তে করে বলল, “আমিও।”
সেই প্রথমবার তারা একে অপরকে ভালোবাসার কথা বলল। সেই কথাগুলো তাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে দিল। পরের দিনগুলোতে তারা আরও কাছাকাছি চলে এল। সাম্য চাকরি পেয়ে গেল একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে। নিভা মাস্টার্সের শেষ পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে সময় কাটাতে লাগল। দুজনের মধ্যে একটা রুটিন গড়ে উঠল। সকালে একসাথে নাস্তা। সন্ধ্যায় একসাথে হাঁটা। রাতে একসাথে ঘুম।
কিন্তু মাঝে মাঝে পুরনো অভ্যাস ফিরে আসত। একদিন সাম্য দেরি করে বাড়ি ফিরল। নিভা রেগে গিয়ে দরজা খুলল না প্রথমে। সাম্য বাইরে দাঁড়িয়ে বারবার কলিং বেল চাপতে লাগল। শেষে নিভা দরজা খুলল।
“কোথায় ছিলে?”
“অফিসের কাজ। জরুরি মিটিং ছিল।”
“ফোন করতে পারতে না?”
সাম্য হাত দিয়ে চুল আঁচড়াল। “ব্যস্ত ছিলাম।”
নিভা মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল। সাম্য পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল। “রাগ করিস না। আমি জানি আমি ভুল করেছি।”
নিভা তার হাত সরাতে চাইল। কিন্তু সাম্য আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তার ঠোঁট নিভার কানের পাশে গিয়ে বলল, “তোকে রাগিয়ে আমার কোনো লাভ নেই। আমি তোকে চাই। শান্ত দেখতে।”
নিভা ঘুরে দাঁড়াল। সাম্যর চোখে সেই পরিচিত নরম ভাব। সে আর রাগ ধরে রাখতে পারল না। সাম্য তাকে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। এবারের স্পর্শগুলো আরও গভীর ছিল। সাম্য নিভার শরীরকে আস্তে আস্তে খুলল। তার ঠোঁট নিভার পেটের ওপর দিয়ে নামল। নিভা আঙুল দিয়ে সাম্যর চুল চেপে ধরল। যখন সাম্য তার সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় পৌঁছাল, নিভা জোরে শ্বাস ফেলল। সাম্য থামল না। সে নিভাকে শিখরে নিয়ে গেল। তারপর নিজেও তার সাথে মিশে গেল।
এভাবে তাদের দিনগুলো কেটে যেতে লাগল। তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করল। একদিন সাম্য বাড়ি এসে বলল, “আমরা একটা বড় ফ্ল্যাটে যেতে পারি। আমার বেতন বাড়বে শিগগির।”
নিভা হেসে বলল, “আগে দেখি তুমি কতদিন চুপচাপ থাকতে পারো।”
সাম্য তাকে জড়িয়ে ধরে ঘোরাল। “তোর সাথে চুপচাপ থাকা অসম্ভব।”
তারা একসাথে রান্না করত। একসাথে সিনেমা দেখত। একসাথে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করত। নিভা আস্তে আস্তে তার সেই দেয়ালটা ভেঙে ফেলছিল যা সে বছরের পর বছর ধরে তৈরি করে রেখেছিল। সাম্যও তার উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখছিল। দুজনের মধ্যে একটা ভারসাম্য তৈরি হচ্ছিল।
এক সপ্তাহান্তে তারা একসাথে পুরনো ঢাকা ঘুরতে গেল। লালবাগের কেল্লা, সদরঘাট, আহসান মঞ্জিল। হাতে হাত ধরে হাঁটছিল। মাঝে মাঝে সাম্য নিভাকে দেয়ালের সাথে হালকা করে ঠেলে চুমু দিত। নিভা লজ্জায় চোখ নামিয়ে রাখত, কিন্তু হাসত। সন্ধ্যায় তারা একটা ছোট রেস্তোরাঁয় বসে খেতে খেতে কথা বলছিল। সাম্য হঠাৎ নিভার হাত ধরে বলল, “আমি কখনো ভাবিনি যে তোর সাথে আমার এত ভালো লাগবে।”
নিভা তার হাত চেপে ধরল। “আমিও না।”
বাড়ি ফিরে সেই রাতে তারা আবার একে অপরকে খুঁজে নিল। এবার আর কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না। সাম্য নিভার শরীরকে ধীরে ধীরে আবিষ্কার করল। তার ঠোঁট নিভার প্রতিটি বাঁকে থেমে গেল। নিভাও সাম্যর শরীরের প্রতিটি কোণে চুমু দিল। দুজনের শ্বাস মিশে এক হয়ে গেল। যখন তারা শিখরে পৌঁছাল, নিভা সাম্যর নাম ধরে ডাকল। সাম্য তার কানে কানে বলল, “আমি শুধু তোর।”
সেই রাতে নিভা প্রথমবার পুরোপুরি নিজেকে সাম্যর কাছে সমর্পণ করল। কোনো ভয় ছিল না। কোনো দ্বিধা ছিল না। শুধু একটা গভীর বিশ্বাস ছিল যে এই মানুষটা তার।
পরের দিন সকালে তারা একসাথে নাস্তা করছিল। সাম্য হঠাৎ বলল, “আমরা কি একটা ছুটি নিয়ে কোথাও যেতে পারি? শুধু দুজনে?”
নিভা চোখ দুটো বড় করে তাকাল। “কোথায়?”
“যেখানে তুই চাবিস। কক্সবাজার? নাকি সিলেট?”
নিভা হেসে বলল, “আগে তোমার অফিস থেকে ছুটি নাও।”
সাম্য মাথা নেড়ে বলল, “নেব। আমি তোকে নিয়ে একটা নতুন শুরু করতে চাই। পুরনো সব ভুলে।”
নিভা তার হাত ধরে বলল, “আমিও।”
তারা সেই মুহূর্তে জানত না যে পুরনোটা এত সহজে ভোলার নয়। অতীত কখনোই পুরোপুরি মরে না। সে শুধু অপেক্ষা করে থাকে ফিরে আসার জন্য।
বিয়ের ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। নিভা আর সাম্যর জীবন এখন একটা স্থির ছন্দে বাঁধা। সাম্য অফিসে ব্যস্ত। নিভা বাড়িতে থেকে মাস্টার্সের থিসিস শেষ করছে। সন্ধ্যায় দুজনে মিলে রান্না করে। রাতে একসাথে শোয়। তাদের মধ্যে এখন আর সেই পুরনো ঝগড়ার তীব্রতা নেই। আছে একটা নরম বোঝাপড়া। সাম্যর ছোট ছোট যত্নগুলো এখন নিভার অভ্যাস হয়ে গেছে। আর নিভার সেই চুপচাপ সাহস সাম্যকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
এক শুক্রবার সন্ধ্যায় সাম্য বাড়ি এসে বলল, “আগামী সপ্তাহে ছুটি নিয়েছি। আমরা কক্সবাজার যাব।”
নিভা খুশিতে তার গলা জড়িয়ে ধরল। “সত্যি?”
“হ্যাঁ। শুধু দুজনে। কোনো ফোন, কোনো অফিস, কোনো চিন্তা নেই।”
তারা সেই রাতে দেরি করে ঘুমাল। পরিকল্পনা করছিল কী কী করবে। সমুদ্রের কাছে হেঁটে বেড়াবে। সূর্যোদয় দেখবে। রাতে একসাথে শুয়ে চাঁদ দেখবে। নিভা সাম্যর বুকে মাথা রেখে বলল, “আমি খুব খুশি।”
সাম্য তার চুলে চুমু দিয়ে বলল, “আমিও। তোর সাথে সবকিছু সুন্দর লাগে।”
পরের দিন সকালে নিভা বাজার করতে বেরোল। ফিরে এসে দেখল সাম্য বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। তার মুখ গম্ভীর। নিভা রান্নাঘরে গিয়ে চা বানাতে লাগল। সাম্য ফোন রেখে ভিতরে এল।
“কে ছিল?” নিভা জিজ্ঞেস করল।
সাম্য একটু চুপ করে থেকে বলল, “একটা পুরনো পরিচিত।”
নিভা আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। কিন্তু তার মনে একটা অস্বস্তি জেগে উঠল। সাম্য সেদিন সারাদিন চুপচাপ ছিল। রাতেও সে নিভাকে জড়িয়ে ধরল, কিন্তু তার মনে অন্য কোথাও ছিল।
রবিবার সকালে দরজায় কলিং বেল বাজল। নিভা দরজা খুলতে গেল। বাইরে একজন মেয়ে দাঁড়িয়ে। লম্বা চুল, তীক্ষ্ণ চোখ, দামি কাপড়। সে নিভার দিকে তাকিয়ে বলল, “সাম্য আছে?”
নিভা অবাক হয়ে বলল, “কে আপনি?”
মেয়েটি হাসল। সে হাসিটা মিষ্টি নয়। “আমি রিয়া। সাম্যর স্ত্রী।”
নিভার হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে গেল। শব্দ করে ভেঙে গেল মেঝেতে। সাম্য দৌড়ে এল। রিয়ার দিকে তাকিয়ে তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
“তুই এখানে কেন?” সাম্য জিজ্ঞেস করল।
রিয়া হেসে বলল, “তোকে নিতে। তোর সাথে আমার বিয়ে হয়েছে মনে আছে? তিন বছর আগে?”
নিভা পেছনে সরে গেল। তার পা কাঁপছিল। সাম্য তার দিকে তাকাল। “নিভা, শোন—”
রিয়া ভিতরে ঢুকে পড়ল। “শোনার কিছু নেই। আমি তার বৈধ স্ত্রী। তুমি কে?”
নিভা দেয়ালে ভর দিয়ে দাঁড়াল। তার মাথা ঘুরছিল। সাম্য রিয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, “তুই চলে যা। আমাদের মধ্যে আর কিছু নেই। তুই নিজেই ছেড়ে চলে গিয়েছিলি।”
রিয়া হাসল। “আমি চলে যাইনি। আমি শুধু সময় নিয়েছিলাম। এখন ফিরে এসেছি। আর আমি চাই আমার স্বামীকে ফিরে পেতে।”
নিভা আস্তে করে বলল, “সাম্য, এটা কি সত্যি?”
সাম্য তার দিকে তাকাল। তার চোখে অপরাধবোধ। “হ্যাঁ। কিন্তু সেটা—”
নিভা আর শুনল না। সে বেডরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। সাম্য দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল। “নিভা, দরজা খোল। আমি সব বলব।”
রিয়া বাইরে থেকে বলল, “বলার কিছু নেই। কাগজপত্র আমার কাছে আছে। বিয়ে রেজিস্ট্রি করা।”
নিভা বিছানায় বসে কাঁদছিল। তার মনে পড়ছিল গত ছয় মাসের সবকিছু। সাম্যর যত্ন, তার চুমু, তার ভালোবাসার কথা। সবকিছু কি মিথ্যা ছিল? সে কি আরেকজনের স্বামীর সাথে ঘুমিয়েছে এতদিন?
সাম্য শেষ পর্যন্ত দরজা খুলতে বাধ্য করল। সে হাঁটু গেড়ে নিভার সামনে বসল। “শোন। আমি তোকে সব বলব। রিয়ার সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল তিন বছর আগে। পরিবারের চাপে। কিন্তু সে বিয়ের তিন মাস পরেই চলে গিয়েছিল। অন্য কারো সাথে। আমি তাকে খুঁজেছি। তারপর ছেড়ে দিয়েছি। আমাদের মধ্যে আর কোনো সম্পর্ক নেই।”
নিভা মুখ তুলে তাকাল। “তাহলে তুমি আমাকে বলনি কেন?”
সাম্য মাথা নিচু করল। “কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম। তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি বলে।”
রিয়া দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলল, “সে তোকে ছেড়ে যাবেই। কারণ তুই আমার।”
সাম্য উঠে দাঁড়িয়ে রিয়ার দিকে তাকাল। “তুই চলে যা। এখনই।”
রিয়া হাতের ব্যাগ থেকে একটা কাগজ বের করল। “এই দেখ। বিয়ের কাগজ। আদালতে গেলে তোর নতুন বিয়ে অবৈধ প্রমাণ হবে।”
নিভার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আমি যাচ্ছি।”
সাম্য তার হাত ধরল। “যাস না। আমি সব ঠিক করব।”
নিভা হাত ছাড়িয়ে নিল। “তুমি আমাকে মিথ্যা বলেছ। এটা আমি সইতে পারি না।”
সে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে গেল। সাম্য পিছন পিছন এল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনুরোধ করতে লাগল। নিভা ট্যাক্সি ধরে চলে গেল তার বাবার বাড়িতে।
পরের তিনদিন নিভা কোনো ফোন ধরল না। সাম্য বারবার মেসেজ পাঠাল। কল করল। নিভা সব ব্লক করে দিল। তার বাবা-মাও রেগে গেল। “আমরা তোমাকে বিয়ে দিয়েছিলাম সম্মান রক্ষার জন্য। এখন দেখ কী হল।”
নিভা ঘরে বসে কাঁদত। তার মনে পড়ত সাম্যর স্পর্শ। তার গলায় চুমু দেওয়ার অনুভূতি। তার বুকে মাথা রেখে ঘুমানোর সুখ। সবকিছু এখন বিষের মতো লাগত।
চতুর্থ দিনে সাম্য সরাসরি নিভার বাবার বাড়িতে এল। সাথে একজন আইনজীবী। সে বলল, “রিয়ার সাথে আমার বিয়ে তালাক হয়ে গেছে দুই বছর আগে। কাগজপত্র আছে। সে মিথ্যা বলছে।”
নিভার বাবা কাগজগুলো দেখলেন। সত্যিই তালাকনামা ছিল। সাম্য আরও বলল, “রিয়া টাকার জন্য ফিরে এসেছে। আমার বাবার ব্যবসা দেখে। আমি তাকে পুলিশে দিয়েছি হুমকির অভিযোগে।”
নিভা ঘর থেকে বেরিয়ে এল। সাম্য তার দিকে তাকাল। তার চোখে জল। “আমি জানি আমি ভুল করেছি। তোকে বলা উচিত ছিল। কিন্তু আমি তোকে হারাতে চাইনি। আমি তোকে ভালোবাসি। সত্যি করে।”
নিভা চুপ করে রইল। তার ভিতরটা দ্বন্দ্বে ভরা। রাগ আর ভালোবাসা একসাথে টানাটানি করছিল।
সাম্য আরও কাছে এল। “আমাকে আর একবার সুযোগ দাও। আমি প্রমাণ করব।”
নিভা আস্তে করে বলল, “তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ।”
“জানি। আর কখনো দেব না।” সাম্য তার হাত ধরল। “ফিরে আয়। আমাদের জীবনটা আবার শুরু করি।”
নিভা তার হাত ছাড়ল না। সে সাম্যর চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। সেখানে মিথ্যা ছিল না। শুধু ভয় ছিল, আর ভালোবাসা ছিল।
সেই রাতে নিভা সাম্যর সাথে ফিরে গেল তাদের ফ্ল্যাটে। রিয়া আর আসেনি। সাম্য সব কাগজপত্র দেখিয়েছিল। তালাক সত্যিই হয়েছিল। রিয়া শুধু সুযোগ খুঁজছিল।
রাত গভীর। দুজন বিছানায় শুয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। সাম্য আস্তে করে বলল, “তুই আমাকে ক্ষমা করেছিস?”
নিভা তার বুকে মাথা রাখল। “চেষ্টা করছি।”
সাম্য তার চিবুক তুলে চুমু দিল। আস্তে। সাবধানে। নিভা সাড়া দিল। এবারের চুমুটা ছিল ক্ষমার। ভালোবাসার। তারা আবার একে অপরকে খুঁজে নিল। সাম্য নিভার শরীরকে এমনভাবে স্পর্শ করল যেন সে প্রথমবার ছুঁয়েছে। নিভাও তার সব রাগ ভুলে গিয়ে সাম্যর কাছে নিজেকে খুলে দিল। দুজনের শরীর আবার এক হয়ে গেল। ঘামে, শ্বাসে, চুমুতে। শেষে নিভা সাম্যর বুকে শুয়ে বলল, “আর কোনো গোপন কথা রাখবে না।”
সাম্য তার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “না। আর কখনো না। তুই আমার একমাত্র।”
বাইরে রাতের আকাশ পরিষ্কার। শহরের আলো জ্বলছে। দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। তাদের সম্পর্কটা আবার নতুন করে শুরু হল। এবার আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই। কোনো গোপন কথা নেই। শুধু দুজন মানুষ, যারা ঝগড়া দিয়ে শুরু করেছিল, আর এখন ভালোবাসা দিয়ে টিকিয়ে রাখছে।
তারা জানত, সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে। কিন্তু এখন তারা একসাথে। আর সেটাই যথেষ্ট।
....