তাসনিমের বিয়ে হয়েছিল শীতের শেষ দিকে। ঢাকার এক শান্ত আবাসিক এলাকায় ছোটখাটো একটা অনুষ্ঠান। রাইয়ান এসেছিল সাদা পাঞ্জাবি পরে, চোখে সেই একই শান্ত হাসি যা তাসনিমকে প্রথম দেখেই আকর্ষণ করেছিল। বিয়ের রাতে তারা প্রথমবার একা হয়েছিল নতুন ফ্ল্যাটে। রাইয়ান দরজা বন্ধ করে তাকে ধীরে ধীরে কাছে টেনে নিয়েছিল। তার হাতগুলো ছিল নরম কিন্তু দৃঢ়। তাসনিমের গলার কাছে ঠোঁট রেখে সে ফিসফিস করে বলেছিল, “আমি তোমাকে খুব যত্ন করব। সবসময়।”
সেই প্রতিশ্রুতি রাইয়ান রেখেছিল। সকালে উঠে চা বানিয়ে দিত, রাতে তাসনিমের চুল আঙুলে জড়িয়ে আদর করত। তাদের শারীরিক সম্পর্ক ছিল গভীর ও উত্তপ্ত। রাইয়ান তাসনিমের শরীরের প্রতিটি অংশ চিনে ফেলেছিল। যখন সে তাসনিমকে বিছানায় শুইয়ে তার গলার নিচ থেকে শুরু করে নামিয়ে নিত, তাসনিমের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসত। রাইয়ানের ঠোঁট তার বুকের ওপর ঘষা খেত, জিহ্বা দিয়ে স্তনবৃন্ত স্পর্শ করত, আর হাত নামিয়ে তার উরু ভাগ করে আঙুল প্রবেশ করাত। তাসনিম কামড়ে ধরত রাইয়ানের কাঁধ, আর রাইয়ান ধীরে ধীরে ভিতরে ঢুকত। তাদের শরীর এক হয়ে যেত ঘামে ভেজা চাদরের ওপর। রাইয়ান সবসময় তাসনিমের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকত যখন সে চূড়ান্ত সুখে পৌঁছাত। সেই দৃষ্টি ছিল ভালোবাসার, কামনার, আর এক ধরনের গোপন রহস্যের।
কিন্তু রাইয়ান নিজের অতীত নিয়ে কখনো কথা বলত না। তাসনিম একবার জিজ্ঞেস করেছিল, “তোমার বাবা-মা কোথায়?” রাইয়ান শুধু হেসে বলেছিল, “আমার আর কেউ নেই। তুমিই আমার সব।” সেই উত্তর তাসনিমকে শান্ত করেছিল, কিন্তু সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করেনি।
বিয়ের ছয় মাস পর মাঝরাতে ফোন আসা শুরু হয়। রাত দুটোর দিকে রাইয়ানের ফোন বাজত। সে চুপচাপ উঠে বারান্দায় চলে যেত। কখনো কখনো পোশাক পরে বাইরে বেরিয়ে যেত। সকালে ফিরে এসে তাসনিমকে চুমু দিত যেন কিছুই হয়নি। “অফিসের জরুরি কাজ,” বলত সে। তাসনিম বিশ্বাস করতে চাইত। রাইয়ান তাকে এত যত্ন করত যে সন্দেহ করা কঠিন ছিল। কিন্তু একদিন রাতে রাইয়ান চলে যাওয়ার পর তাসনিম তার ফোন চেক করার চেষ্টা করেছিল। লক করা। পাসওয়ার্ড সে জানত না।
তাদের রোমান্স কিন্তু থেমে থাকেনি। এক শুক্রবার সন্ধ্যায় রাইয়ান তাসনিমকে নিয়ে গিয়েছিল ছাদে। শহরের আলো জ্বলছিল দূরে। রাইয়ান তাসনিমের পিছনে দাঁড়িয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরেছিল। “আমি তোমাকে কতটা চাই জানো?” বলে সে তাসনিমের গলায় চুমু দিল। তাসনিম ঘুরে দাঁড়িয়ে রাইয়ানের ঠোঁটে ঠোঁট রাখল। চুমু গভীর হয়ে গেল। রাইয়ানের হাত তাসনিমের জামা তুলে তার পিঠে উঠল, তারপর সামনে এসে স্তন চেপে ধরল। তাসনিম আর স্থির থাকতে পারল না। তারা ছাদের এক কোণে গিয়ে বসল। রাইয়ান তাসনিমের প্যান্ট খুলে ফেলল, নিজেরও। তাসনিম তার কোলের ওপর বসল। রাইয়ান ভিতরে ঢুকল এক ধাক্কায়। তাসনিম আর্তনাদ করে উঠল। তারা জোরে জোরে নড়তে লাগল। রাইয়ানের হাত তাসনিমের কোমরে চেপে ধরে তাকে উপরে-নিচে নাড়াচ্ছিল। তাসনিমের চুল এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, মুখ লাল। যখন তারা একসাথে শেষ করল, রাইয়ান তাসনিমকে বুকে চেপে ধরে ফিসফিস করল, “তুমি আমার। শুধু আমার।”
কিন্তু সেই রাতেও ফোন এসেছিল। রাইয়ান চুপচাপ উঠে চলে গেল। তাসনিম বিছানায় শুয়ে রইল। মনে মনে ভাবতে লাগল—এত যত্ন, এত ভালোবাসা, তাহলে এই গোপনীয়তা কেন?
সপ্তাহ দুয়েক পর তাসনিম সিদ্ধান্ত নিল। সে রাইয়ানকে অনুসরণ করবে। এক রাতে ফোন বাজার সঙ্গে সঙ্গে রাইয়ান বেরিয়ে গেল। তাসনিম পোশাক পরে পিছু নিল। রাইয়ান একটা অটো নিয়ে চলে গেল উত্তরের দিকে। তাসনিমও আরেকটা অটো নিয়ে পিছু পিছু গেল। রাইয়ান নেমে গেল একটা পুরনো বাড়ির সামনে। বাড়িটা দেখতে হাসপাতালের মতো, কিন্তু ছোট। সাইনবোর্ডে লেখা “আশ্রয় কেন্দ্র”। তাসনিম দূর থেকে দেখল রাইয়ান ভিতরে ঢুকছে। সেও ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। জানালার ফাঁক দিয়ে তাকাল।
ভেতরে একটা কক্ষ। বিছানায় শুয়ে আছে একজন মেয়ে। বয়স বিশের কাছাকাছি। মুখটা পরিচিত লাগছিল। রাইয়ান সেই মেয়ের পাশে বসে তার হাত ধরে কথা বলছে। মেয়েটা দুর্বল গলায় কিছু বলল। রাইয়ান তার কপালে হাত রাখল, তারপর তাকে জড়িয়ে ধরল। সেই দৃশ্য দেখে তাসনিমের বুক কেঁপে উঠল। রাইয়ান আরেকজনকে জড়িয়ে ধরছে। আদর করছে।
তাসনিম পিছিয়ে গেল। চোখে পানি এসে গেল। সে ভাবল—এতদিন যে যত্ন, যে ভালোবাসা, সব মিথ্যে। রাইয়ান তাকে প্রতারণা করছে। অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। সে দ্রুত বাড়ি ফিরে এল। বিছানায় শুয়ে কাঁদতে লাগল। রাত শেষ হয়ে গেল। সকালে রাইয়ান ফিরে এল। তাসনিমকে চুমু দিতে গেল। তাসনিম মুখ ফিরিয়ে নিল।
“কী হয়েছে?” রাইয়ান জিজ্ঞেস করল।
তাসনিম কিছু বলল না। শুধু বলল, “আমি জানি। তুমি অন্য কারো সঙ্গে সময় কাটাচ্ছ।”
রাইয়ানের মুখ শান্ত থাকল। কিন্তু চোখে একটা ছায়া পড়ল। সে বলল, “তুমি ভুল বুঝছ।”
তাসনিম উঠে দাঁড়াল। “আমি দেখেছি। সেই মেয়েটাকে। তুমি তাকে জড়িয়ে ধরেছিলে।”
রাইয়ান চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে ধীরে বলল, “তাসনিম, আমাকে একটা সুযোগ দাও। সব বলব। কিন্তু এখন না।”
তাসনিম বিশ্বাস করতে পারল না। সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। মনে মনে ভেঙে পড়ল। যে মানুষটাকে সে এত ভালোবেসেছিল, যে তার শরীরকে এত গভীরভাবে জানত, সে কি অন্য কারো জন্য লুকিয়ে চলছিল?
সেদিন রাতে তারা আলাদা ঘরে শুয়েছিল। তাসনিমের মনে পড়ছিল তাদের গভীর রাতের সেই মুহূর্তগুলো। রাইয়ানের হাত তার শরীরে, তার শ্বাস তার কানে, তার শরীর তার ভিতরে। সব মিথ্যে মনে হচ্ছিল। কিন্তু একটা কথা বারবার মাথায় ঘুরছিল—রাইয়ান বলেছিল, “তুমি ভুল বুঝছ।”
তাসনিম জানত না সত্যিটা কী। কিন্তু তার হৃদয় তখনও রাইয়ানের জন্য কাঁদছিল।
পরের দিন সকালে তাসনিম ঘুম থেকে উঠে দেখল রাইয়ান রান্নাঘরে চা বানাচ্ছে। সে এগিয়ে গিয়ে বলল, “আমাকে সব বলো। এখনই।”
রাইয়ান চুপ করে চায়ের কাপ দুটো হাতে নিয়ে বসল। “আগে কফি খাও। তারপর কথা হবে।”
তাসনিম বসল। চা খেল না। রাইয়ান গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে বলল, “সেই মেয়েটার নাম সাদিয়া। সে তোমার বোন।”
তাসনিমের হাত কাঁপতে লাগল। “কী বলছ তুমি?”
রাইয়ান ধীরে ধীরে বলতে লাগল। তাসনিমের ছোটবেলায়, যখন তার বয়স বারো, সাদিয়ার বয়স সাত, তাদের পরিবারে এক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। বাবা-মায়ের সঙ্গে গাড়ি দুর্ঘটনায় সাদিয়া হারিয়ে যায় বলে সবাই ভেবেছিল। আসলে সাদিয়াকে একজন উদ্ধার করে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। সে বেঁচে ছিল, কিন্তু স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছিল। রাইয়ান কয়েক বছর আগে একটা সেবামূলক কাজের সূত্রে সাদিয়াকে খুঁজে পায়। সে জানত তাসনিম সাদিয়াকে হারিয়েছে বলে মনে করে। রাইয়ান সাদিয়াকে সুস্থ করার চেষ্টা করছিল। তার চিকিৎসা চলছিল। মাঝরাতে ফোন আসত কারণ সাদিয়ার অবস্থা খারাপ হলে ডাক্তার ডাকত। রাইয়ান যেত তাকে দেখতে, তার পাশে থাকতে।
তাসনিম বিশ্বাস করতে পারছিল না। “তুমি কেন আমাকে বলোনি?”
রাইয়ান মাথা নিচু করল। “কারণ সাদিয়ার স্মৃতি ফিরে আসেনি। ডাক্তার বলেছিল হঠাৎ করে পরিবারের সঙ্গে দেখা করলে সে আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। আমি অপেক্ষা করছিলাম সে সুস্থ হওয়ার জন্য। তোমাকে আগে বললে তুমি ছুটে যেতে। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।”
তাসনিমের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। সে উঠে দাঁড়িয়ে রাইয়ানের কাছে গেল। “তুমি এতদিন একা একা লড়ছিলে আমার বোনের জন্য?”
রাইয়ান তার হাত ধরল। “হ্যাঁ। কারণ তুমি আমার। তোমার সুখ আমার সুখ। সাদিয়া যখন পুরোপুরি সুস্থ হবে, তখন তোমাকে নিয়ে যাব।”
তাসনিম আর থাকতে পারল না। সে রাইয়ানের বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগল। রাইয়ান তাকে জড়িয়ে ধরল। তাদের শরীর একে অপরের সঙ্গে লেগে গেল। তাসনিম মাথা তুলে রাইয়ানের ঠোঁটে চুমু দিল। চুমুটা ছিল কৃতজ্ঞতায় ভরা, ভালোবাসায় ভরা, আর তীব্র কামনায় ভরা। রাইয়ান তাসনিমকে তুলে নিয়ে বেডরুমে নিয়ে গেল। জামা খুলে ফেলল দুজনের। তাসনিম রাইয়ানের বুকে চুমু দিতে দিতে নামল। তার ঠোঁট রাইয়ানের পেট ছুঁয়ে নিচে গেল। রাইয়ান শ্বাস নিয়ে বলল, “তাসনিম…”
তাসনিম রাইয়ানের শরীর মুখে নিল। জিহ্বা দিয়ে ঘষল, চুষল। রাইয়ানের হাত তার চুলে গিয়ে জড়িয়ে ধরল। কিছুক্ষণ পর রাইয়ান তাকে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। নিজে তার ওপর উঠে বসল। তাসনিমের দুই উরু আলাদা করে ধীরে ধীরে ভিতরে ঢুকল। তাসনিম আর্তনাদ করে উঠল। রাইয়ান জোরে জোরে নড়তে লাগল। প্রতিটি ধাক্কায় তাসনিমের শরীর কেঁপে উঠছিল। রাইয়ান তার স্তন মুখে নিয়ে চুষছিল, কামড়াচ্ছিল। তাসনিমের নখ রাইয়ানের পিঠে বিঁধে যাচ্ছিল। তারা এভাবেই দীর্ঘক্ষণ চালিয়ে গেল। শেষে যখন তাসনিম কাঁপতে কাঁপতে চূড়ান্ত সুখে পৌঁছাল, রাইয়ানও তার সঙ্গে মিশে গেল।
পরে তারা পাশাপাশি শুয়ে রইল। রাইয়ান তাসনিমের চুল আঙুলে জড়িয়ে বলল, “কাল তোমাকে নিয়ে যাব। সাদিয়ার সঙ্গে দেখা করাব। ডাক্তার বলেছে এখন সময় হয়েছে।”
তাসনিম রাইয়ানের বুকে মাথা রেখে বলল, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার।”
সেদিন সন্ধ্যায় তারা আবার একত্রিত হল। এবার আরও গভীরভাবে। রাইয়ান তাসনিমকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ভিতরে ঢুকল। তাসনিম হাত দিয়ে দেয়াল ধরে রইল। রাইয়ানের প্রতিটি ধাক্কায় তার শরীর সামনে এগোচ্ছিল। রাইয়ান তার কানে ফিসফিস করল, “আমি তোমাকে এত ভালোবাসি যে কখনো হারাতে চাই না।” তাসনিম উত্তর দিল শুধু আর্তনাদ করে। তাদের শরীরের সংযোগ এত গভীর ছিল যে মনে হচ্ছিল তারা এক দেহ।
রাত গভীর হলে তাসনিম জিজ্ঞেস করল, “সাদিয়া কেমন আছে এখন?”
রাইয়ান বলল, “ভালো। কথা বলতে পারে। তোমার কথা শুনলে হয়তো মনে পড়বে।”
তাসনিমের বুক ভরে উঠল আশায়। যে বোনকে সে হারিয়েছে বলে ভেবেছিল এত বছর, সে বেঁচে আছে। আর রাইয়ান তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
পরের দিন সকালে তারা বেরিয়ে পড়ল। রাইয়ান গাড়ি চালাচ্ছিল। তাসনিম তার হাত ধরে বসেছিল। পথে রাইয়ান মাঝে মাঝে তাসনিমের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। সেই হাসি এখন আর রহস্যময় মনে হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল ভরসা।
আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছে তাসনিমের হাত কাঁপছিল। রাইয়ান তার হাত চেপে ধরল। “ভয় পেয়ো না। আমি আছি।”
তারা কক্ষে ঢুকল। সাদিয়া বিছানায় বসে ছিল। মুখটা দেখে তাসনিমের চোখ ভরে গেল। হ্যাঁ, সেই মেয়ে। ছোটবেলার সেই বোন। সাদিয়া তাদের দিকে তাকাল। চোখে একটা স্বীকৃতির ছায়া।
তাসনিম কাছে গিয়ে বসল। “সাদিয়া… আমি তাসনিম। তোমার বোন।”
সাদিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, “তাসনিম… আমি তোমাকে চিনি।”
দুই বোন জড়িয়ে ধরল একে অপরকে। তাসনিম কাঁদছিল। সাদিয়াও। রাইয়ান দূরে দাঁড়িয়ে তাদের দেখছিল। তার চোখেও পানি।
সেই মুহূর্তে তাসনিম বুঝতে পারল—রাইয়ান তাকে প্রতারণা করেনি। সে লড়েছিল তার জন্য। তার হারানো বোনকে ফিরিয়ে আনার জন্য।
সাদিয়ার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাসনিমের জীবন বদলে গেল। প্রতিদিন তারা আশ্রয় কেন্দ্রে যেত। সাদিয়া ধীরে ধীরে সব মনে করতে শুরু করল। বাবা-মার কথা, ছোটবেলার খেলা, তাসনিমের সঙ্গে কাটানো দিনগুলো। রাইয়ান সবসময় পাশে থাকত। সাদিয়ার চিকিৎসার খরচ, দেখাশোনা—সব সে একা সামলাত।
একদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তাসনিম রাইয়ানকে জড়িয়ে ধরল। “তুমি কেন এত কিছু করলে আমার জন্য?”
রাইয়ান তার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমার সুখ ছাড়া আমার কিছু নেই।”
তাসনিম আর ধৈর্য রাখতে পারল না। সে রাইয়ানের জামা খুলে ফেলল। রাইয়ানও তাসনিমের পোশাক খুলল। তারা বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। এবার তাদের মিলন ছিল আরও গভীর, আরও উত্তপ্ত। রাইয়ান তাসনিমের প্রতিটি অংশ চুমু দিয়ে ভিজিয়ে দিল। গলা থেকে শুরু করে বুক, পেট, উরু, তারপর আরও নিচে। তাসনিম পা ছড়িয়ে দিল। রাইয়ানের জিহ্বা তার গোপনাঙ্গে লেগে গেল। তাসনিম বিছানার চাদর চেপে ধরে আর্তনাদ করতে লাগল। রাইয়ান থামল না। যতক্ষণ না তাসনিম কাঁপতে কাঁপতে শেষ হল। তারপর রাইয়ান উঠে এসে তাসনিমের ওপর এল। ভিতরে ঢুকল একসঙ্গে। তাসনিম তাকে জড়িয়ে ধরল পা দিয়ে। রাইয়ান জোরে ধাক্কা দিতে লাগল। তাদের শরীরের শব্দ ঘরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। তাসনিম রাইয়ানের কানে বলল, “আরও জোরে… আমাকে পুরোপুরি নাও।” রাইয়ান শুনল। তার গতি বাড়ল। ঘামে ভেজা শরীর একে অপরের সঙ্গে ঘষা খেতে লাগল। শেষে তারা একসঙ্গে চূড়ান্ত সুখে পৌঁছাল। রাইয়ান তাসনিমের ভিতরেই রয়ে গেল কিছুক্ষণ। তাদের শ্বাস মিলিয়ে যাচ্ছিল।
সাদিয়া কয়েক সপ্তাহ পর বাড়িতে ফিরে এল। তাসনিম আর রাইয়ান তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে জায়গা দিয়েছিল। সাদিয়া সুস্থ হয়ে উঠছিল। একদিন রাতে সাদিয়া ঘুমিয়ে পড়ার পর তাসনিম আর রাইয়ান ছাদে গেল। শহরের আলো জ্বলছিল। রাইয়ান তাসনিমকে কোলে তুলে নিল। “এখন সব ঠিক হয়ে গেছে।”
তাসনিম তার গলায় মুখ রেখে বলল, “তুমি আমার স্বামী। আমার রক্ষাকর্তা। আমার সব।”
তারা আবার মিলিত হল ছাদের অন্ধকার কোণে। রাইয়ান তাসনিমকে দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে ভিতরে ঢুকল। তাসনিম পা জড়িয়ে ধরল তার কোমরে। রাইয়ান তাকে তুলে ধরে নড়াচ্ছিল। তাসনিমের আর্তনাদ বাতাসে মিশে যাচ্ছিল। তাদের শরীরের উত্তাপ এত তীব্র ছিল যে মনে হচ্ছিল সবকিছু গলে যাচ্ছে। রাইয়ান তাসনিমের ঠোঁট চুষে নিচ্ছিল, তার স্তন চেপে ধরছিল। তাসনিম রাইয়ানের পিঠে নখ বসিয়ে দিচ্ছিল। তারা এভাবেই দীর্ঘক্ষণ চালিয়ে গেল। শেষে যখন শরীর শিথিল হয়ে এল, রাইয়ান তাসনিমকে বুকে চেপে ধরে বলল, “আমি তোমাকে কখনো ছাড়ব না। সাদিয়াকেও না।”
মাসের পর মাস কেটে গেল। সাদিয়া পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠল। সে একদিন তাসনিম আর রাইয়ানকে বলল, “তোমরা আমার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছ। আমি কখনো ভুলব না।”
তাসনিম রাইয়ানের হাত ধরে বলল, “এসব সম্ভব হয়েছে শুধু এই মানুষটার জন্য।”
রাতগুলোতে তাদের রোমান্স আরও গভীর হয়ে উঠল। কখনো বিছানায়, কখনো বারান্দায়, কখনো গোসলখানায়। রাইয়ান তাসনিমকে পানির নিচে জড়িয়ে ধরে ভিতরে ঢুকত। তাসনিম দেয়াল ধরে আর্তনাদ করত। তাদের শরীরের মিলন এত নিবিড় ছিল যে প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি চুমু, প্রতিটি ধাক্কা তাদের ভালোবাসাকে আরও মজবুত করত।
একদিন সকালে তাসনিম রাইয়ানকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কখনো কি ভয় পেয়েছিলে যে আমি সব জানলে তোমাকে ছেড়ে দেব?”
রাইয়ান হেসে বলল, “ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু জানতাম তুমি বুঝবে। কারণ তুমি আমার তাসনিম।”
তাসনিম তার কোলে বসে চুমু দিল। চুমুটা ধীরে ধীরে গভীর হয়ে গেল। রাইয়ানের হাত তার জামার ভিতরে ঢুকে গেল। তাসনিম নিজেই জামা খুলে ফেলল। তারা আবার মিলিত হল। এবার ধীরে, গভীরভাবে। রাইয়ান তাসনিমের চোখের দিকে তাকিয়ে ভিতরে ঢুকল। প্রতিটি নড়াচড়ায় তাদের আত্মা যেন এক হয়ে যাচ্ছিল। তাসনিম ফিসফিস করল, “আমি তোমাকে অনন্তকাল ভালোবাসব।”
রাইয়ান উত্তর দিল, “আর আমি তোমাকে।”
তাদের জীবন এখন পূর্ণ। সাদিয়া পাশে। রাইয়ানের ভালোবাসা অটুট। আর তাসনিমের হৃদয় ভরা শুধু কৃতজ্ঞতায় আর গভীর কামনায়। রাতগুলোতে যখন তারা একে অপরের শরীর জড়িয়ে ধরে ঘুমায়, তাসনিম জানে—সত্যিটা কখনো প্রতারণা ছিল না। সত্যিটা ছিল ভালোবাসা। গভীর, উত্তপ্ত, অটুট ভালোবাসা।
....