কেউ কাউকে ছাড়েনি

মায়াশা আর ঋদ্ধির শৈশব কেটেছে ঢাকার এক পুরোনো আবাসিক এলাকায়। দুজনের বাড়ি প্রায় পাশাপাশি। ছোটবেলায় তারা একসঙ্গে স্কুলে যেত, একসঙ্গে খেলত, একসঙ্গে স্বপ্ন দেখত। মায়াশা ছিল চুপচাপ, একটু লাজুক। ঋদ্ধি ছিল উদ্দাম, সবসময় হাসিমুখ। দুজনের মধ্যে এমন একটা বোঝাপড়া গড়ে উঠেছিল যে কথা বলার দরকার হত না। চোখের ইশারায়ই সব বোঝা যেত।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

স্কুলের শেষ বছর পর্যন্ত তাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। তারপর ঋদ্ধির বাবা চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম চলে যান। মায়াশা আর ঋদ্ধি আলাদা হয়ে যায়। প্রথমে চিঠি লেখালেখি চলত। তারপর মোবাইল এসেছে, কল হত। ধীরে ধীরে সব থেমে যায়। জীবন অন্য পথে চলে যায়।

দশ বছর পর। মায়াশা এখন বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা একজন তরুণী। পরিবারের চাপে তার বিয়ের আয়োজন চলছে। হবু বরের নাম শুনে সে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি। ঋদ্ধি। সেই ঋদ্ধি। মায়াশার বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত কম্পন অনুভব হয়। সে ভাবে, হয়তো ভুল শুনেছে। কিন্তু না। বাবা-মা নিশ্চিত করে বলে, ছেলেটা চট্টগ্রামে বড় হয়েছে, এখন ঢাকায় চাকরি করে। নাম ঋদ্ধি।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

বিয়ের দিন সকাল থেকেই মায়াশার মন অস্থির। সে আয়নায় নিজেকে দেখে। লাল শাড়ি, চুল বাঁধা, চোখে কাজল। সে ঋদ্ধিকে মনে করার চেষ্টা করে। ছোটবেলার সেই ছেলেটা এখন কেমন? হয়তো চেহারা বদলে গেছে। হয়তো সে আর সেই ঋদ্ধি নেই।

বিয়ের আসরে ঋদ্ধি এসে দাঁড়ায়। মায়াশা প্রথমবার তাকে দেখে। লম্বা, শক্তিশালী শরীর। গম্ভীর মুখ। চোখে কোনো হাসি নেই। সে মায়াশার দিকে তাকায়, কিন্তু চিনেও না চিনার মতো। কোনো কথা নেই, কোনো অভিব্যক্তি নেই। শুধু একটা শীতল দৃষ্টি।

মায়াশার গলা শুকিয়ে যায়। সে ভেবেছিল, ঋদ্ধি তাকে দেখে অবাক হবে, হয়তো হাসিমুখে এগিয়ে আসবে। কিন্তু সে কিছুই করে না। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়। দুজন এক হয়ে যায়। কিন্তু মায়াশার মনে হয়, তারা আগের চেয়েও বেশি দূরে।

বিয়ের পর প্রথম রাতে ঋদ্ধি ঘরে আসে। মায়াশা বিছানায় বসে আছে। ঋদ্ধি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলে, “তুমি ঘুমাও। আমি কাজ আছে।” তারপর বেরিয়ে যায়। মায়াশা সেই রাত জেগে কাটায়। চোখে জল আসে না। শুধু একটা শূন্যতা।

পরের দিনগুলোতেও একই অবস্থা। ঋদ্ধি সকালে বেরিয়ে যায়, রাতে ফিরে আসে। কথা বলে না। খাবার টেবিলেও নীরবতা। মায়াশা চেষ্টা করে কথা বলার। “তোমার কাজ কেমন চলছে?” ঋদ্ধি শুধু মাথা নেড়ে জবাব দেয়। “ঠিক আছে।”

মায়াশার মনে পড়ে ছোটবেলার সেই দিনগুলো। তারা একসঙ্গে নদীর পাড়ে বসত। ঋদ্ধি তার হাত ধরে বলত, “তুই আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ।” এখন সেই হাত স্পর্শ করারও অনুমতি নেই।

এক সন্ধ্যায় মায়াশা ঋদ্ধির ঘরে ঢোকে। সে দেখতে পায় ঋদ্ধি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। শরীরের রেখাগুলো আলোয় স্পষ্ট। মায়াশার বুকের ভেতর একটা উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সে এগিয়ে যায়। “ঋদ্ধি…” তার গলায় আবেগ।

ঋদ্ধি ঘুরে দাঁড়ায়। চোখে এক মুহূর্তের জন্য কিছু একটা ফুটে ওঠে। তারপর আবার শীতল হয়ে যায়। “কিছু চাই?” মায়াশা কাছে যায়। তার হাত ঋদ্ধির হাতের ওপর রাখে। “আমরা কি একসময় বন্ধু ছিলাম না?”

ঋদ্ধি তার হাত সরিয়ে নেয়। “অতীত অতীতেই থাকুক।” তারপর ঘরের ভেতর ঢুকে যায়।

মায়াশা একা দাঁড়িয়ে থাকে। তার শরীরে ঋদ্ধির স্পর্শের অনুভূতি এখনও বাকি। সে অনুভব করে, তার শরীর ঋদ্ধির শরীরকে চায়। গভীরভাবে। কিন্তু ঋদ্ধি দূরে। অনেক দূরে।

রাত গভীর হয়। মায়াশা বিছানায় শুয়ে থাকে। মনে পড়ে ছোটবেলার একটা দিন। তারা দুজন গাছের ছায়ায় বসেছিল। ঋদ্ধি তার কপালে চুমু খেয়েছিল। সেই চুমুর উত্তাপ এখনও শরীরে অনুভব হয়। মায়াশা নিজের হাত দিয়ে নিজের শরীর স্পর্শ করে। চোখ বন্ধ করে ঋদ্ধিকে কল্পনা করে। তার ঠোঁট, তার হাত, তার শরীরের উত্তাপ। সে নিজেকে সংযত রাখতে পারে না। রাতের নীরবতায় তার শ্বাস দ্রুত হয়। শরীর কেঁপে ওঠে। সে ঋদ্ধির নাম ফিসফিস করে।

সকালে উঠে সে নিজেকে সংযত করে। কিন্তু ভেতরে একটা আগুন জ্বলতে থাকে। ঋদ্ধির শীতল ব্যবহার তাকে আরও বেশি পুড়িয়ে দেয়। সে চায় ঋদ্ধি তাকে স্পর্শ করুক। চায় তার শরীরের কাছে যাক। কিন্তু ঋদ্ধি দেয় না।

এক সপ্তাহ পরে এক রাতে ঋদ্ধি দেরিতে ফিরে। মায়াশা ঘুমোচ্ছে না। সে উঠে বসে। ঋদ্ধি তার দিকে তাকায়। এক মুহূর্তের জন্য চোখে আগুন জ্বলে। তারপর সে মুখ ফিরিয়ে নেয়। “ঘুমাও।”

মায়াশা আর সহ্য করতে পারে না। সে বিছানা থেকে নেমে ঋদ্ধির কাছে যায়। তার হাত দিয়ে ঋদ্ধির মুখ ধরে। “তুমি আমাকে চেনো। আমি জানি। কেন এমন করছ?”

ঋদ্ধির শরীর শক্ত হয়ে যায়। সে মায়াশার হাত সরিয়ে দেয়। কিন্তু তার চোখে একটা যন্ত্রণা ফুটে ওঠে। “আমি তোমাকে চিনি। কিন্তু এখন আর কিছু বলার নেই।” তারপর সে অন্য ঘরে চলে যায়।

মায়াশা মেঝেতে বসে পড়ে। তার চোখ দিয়ে জল গড়ায়। সে বোঝে, এই বিয়ে কোনো মিলন নয়। এটা একটা শাস্তি। কিন্তু কেন? সে জানে না।

বিয়ের পর এক মাস কেটে যায়। মায়াশা আর ঋদ্ধির মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। ঋদ্ধি সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকে। রাতে ফিরে শুধু ঘুমায়। মায়াশা চেষ্টা করে কাছে যেতে। কখনো খাবার নিয়ে যায়, কখনো তার শার্ট ভাঁজ করে রাখে। ঋদ্ধি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না।

মায়াশার শরীর আর মন দুটোই ক্ষুধার্ত। সে রাতে একা বিছানায় শুয়ে ঋদ্ধিকে কল্পনা করে। তার হাত তার শরীরে ঘোরে। ঠোঁট তার ঠোঁটে। শরীর শরীরে মিশে যায়। সে নিজেকে স্পর্শ করে। শ্বাস ফুলে ওঠে। শরীর কেঁপে ওঠে। কিন্তু পরক্ষণেই শূন্যতা। ঋদ্ধি নেই। শুধু তার অনুপস্থিতি।

একদিন সন্ধ্যায় ঋদ্ধি বাসায় থাকে। মায়াশা সিদ্ধান্ত নেয়, আজ সে কথা বলবে। সে ঋদ্ধির ঘরে ঢোকে। ঋদ্ধি ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে। মায়াশা তার পাশে বসে। “আমরা কি এভাবেই থাকব?”

ঋদ্ধি ল্যাপটপ বন্ধ করে। “কী চাও তুমি?”

মায়াশা তার হাত ধরে। “তোমাকে। আমি তোমাকে চাই। ছোটবেলার মতো। এখনকার মতো। সবকিছু।”

ঋদ্ধির চোখে একটা ঝড় ওঠে। সে মায়াশার হাত চেপে ধরে। তারপর হঠাৎ ছেড়ে দেয়। “তুমি জানো না। কিছু জানো না।”

মায়াশা কাছে সরে যায়। তার শরীর ঋদ্ধির শরীরের কাছে। “তাহলে বলো। আমাকে বলো।”

ঋদ্ধি উঠে দাঁড়ায়। “যাও। আমাকে একা থাকতে দাও।”

মায়াশা হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসে। রাতে সে আর ঘুমাতে পারে না। সে ঋদ্ধির পুরোনো জিনিসপত্রের দিকে তাকায়। একটা পুরোনো ব্যাগ। সে খুলে দেখে। ভেতরে একটা ডায়েরি। কালো রঙের, পুরোনো। সে খুলে দেখে। প্রথম পাতায় লেখা—মায়াশা।

তার হাত কাঁপে। সে পাতা ওল্টায়। প্রতিটি পাতায় মায়াশার নাম। কখনো ছোটবেলার স্মৃতি, কখনো তার হাসি, কখনো তার চোখ। ঋদ্ধি লিখেছে, “আজ মায়াশার সঙ্গে নদীর পাড়ে বসেছিলাম। তার হাত আমার হাতে। মনে হচ্ছিল, পৃথিবী থেমে গেছে।”

মায়াশার চোখ দিয়ে জল গড়ায়। সে আরও পড়ে। ঋদ্ধি লিখেছে তাদের আলাদা হওয়ার পরের কথা। “মায়াশার চিঠি পাইনি। কলও যায় না। মনে হয়, সে আমাকে ভুলে গেছে।”

শেষের দিকের পাতাগুলোতে লেখা ভারী। ঋদ্ধি লিখেছে, “আমি জানি, মায়াশা আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু আমি আর ফিরতে পারব না। কারণ…”

শেষ পাতায় এসে মায়াশার হাত থেমে যায়। সেখানে লেখা—

“আমাদের বিচ্ছেদের আসল কারণ ছিল একটি ভুল বোঝাবুঝি। সেদিন আমার বাবা চট্টগ্রাম যাওয়ার আগে মায়াশার বাবাকে বলেছিলেন, ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মায়াশার বাবা ভেবেছিলেন, আমরা আর ফিরব না। তিনি মায়াশাকে বলেছিলেন, ঋদ্ধি তোমাকে ভুলে যাবে। সে অন্য মেয়েকে বিয়ে করবে। মায়াশা সেই কথা বিশ্বাস করে চিঠি লেখা বন্ধ করে দিয়েছিল। আর আমি ভেবেছিলাম, সে আমাকে চায় না। দুজনের কেউই দায়ী ছিল না। শুধু একটা ভুল তথ্য আমাদের আলাদা করে দিয়েছিল।”

মায়াশা ডায়েরি বুকে চেপে ধরে। তার শরীর কাঁপে। এতদিনের যন্ত্রণার কারণ এটাই। কেউ কাউকে ত্যাগ করেনি। শুধু একটা ভুল।

সে রাত জেগে থাকে। সকালে ঋদ্ধি বেরোনোর আগে মায়াশা তার সামনে দাঁড়ায়। ডায়েরি হাতে। “আমি পড়েছি।”

ঋদ্ধির মুখ শুকিয়ে যায়। “তুমি…”

মায়াশা কাছে যায়। “কেন বলোনি? কেন আমাকে এভাবে দূরে রেখেছ?”

ঋদ্ধির চোখে জল। “কারণ আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে ভুলে গেছ। আর এখন… এখন আমি ভয় পাই। যদি আবার হারাই?”

মায়াশা তার হাত ধরে। “আর হারাবে না। আমি এখানে। তোমার সামনে।”

ঋদ্ধি তার হাত চেপে ধরে। তার শরীর কাঁপে। সে মায়াশাকে টেনে নেয়। দুজনের শরীর মিশে যায়। ঋদ্ধির ঠোঁট মায়াশার ঠোঁটে। প্রথমে আস্তে, তারপর গভীরভাবে। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। মায়াশার হাত ঋদ্ধির পিঠে ঘোরে। ঋদ্ধির হাত তার কোমরে।

তারা বিছানায় গড়ায়। জামাকাপড় খুলে যায়। ঋদ্ধির হাত মায়াশার শরীরে ঘোরে। প্রতিটি স্পর্শে আগুন। মায়াশা তার নাম ফিসফিস করে। ঋদ্ধি তার গলায় চুমু খায়, বুকে, পেটে। মায়াশার শরীর কেঁপে ওঠে। সে ঋদ্ধিকে আরও কাছে টানে।

দুজনের শরীর এক হয়ে যায়। উত্তাপ, ঘাম, শ্বাস। গভীর রোমান্স। প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি চুমু, প্রতিটি নড়াচড়ায় ভালোবাসার গভীরতা। মায়াশা অনুভব করে, এতদিনের দূরত্ব মুছে যাচ্ছে। ঋদ্ধি তার কানে বলে, “আমি তোমাকে কখনো ছাড়ব না।”

রাতভর তারা একে অপরকে ধরে রাখে। শরীর শরীরে জড়িয়ে। কথা বলে না। শুধু অনুভব করে।

সকালে মায়াশা চোখ খোলে। ঋদ্ধি তার পাশে শুয়ে আছে। হাত তার কোমরে জড়ানো। মায়াশা তার মুখের দিকে তাকায়। এখন আর শীতলতা নেই। শুধু শান্তি।

ঋদ্ধি চোখ খোলে। হাসে। “সকাল হয়ে গেছে।”

মায়াশা তার বুকে মুখ রাখে। “আর কখনো এমন করবে না। দূরে থাকবে না।”

ঋদ্ধি তার চুল আঁচড়ায়। “না। আর কখনো না।”

সেদিন থেকে তাদের জীবন বদলে যায়। ঋদ্ধি আর কাজে দেরি করে না। সন্ধ্যায় ফিরে মায়াশাকে জড়িয়ে ধরে। তারা একসঙ্গে রান্না করে, একসঙ্গে বসে কথা বলে। ছোটবেলার স্মৃতি বিনিময় করে।

এক সন্ধ্যায় তারা ছাদে যায়। ঢাকার আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে। ঋদ্ধি মায়াশার হাত ধরে। “আমি ভয় পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে আর চাও না। তাই বিয়ের পরও দূরে থেকেছি। নিজেকে শাস্তি দিয়েছি।”

মায়াশা তার মুখের দিকে তাকায়। “আমিও ভয় পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে চিনো না। কিন্তু এখন আর ভয় নেই।”

ঋদ্ধি তাকে টেনে নেয়। চুমু খায়। গভীরভাবে। মায়াশার শরীর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারা ছাদ থেকে নেমে ঘরে আসে। দরজা বন্ধ করে। আবার সেই উত্তাপ। ঋদ্ধির হাত মায়াশার শরীরে ঘোরে। প্রতিটি অঙ্গ স্পর্শ করে। মায়াশা তার পিঠে নখ বসায়। দুজনের শ্বাস মিশে যায়।

তারা বিছানায় শুয়ে থাকে। শরীর উন্মুক্ত। ঋদ্ধি মায়াশার চোখের দিকে তাকায়। “আমি তোমাকে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকে। এখনও। চিরকাল।”

মায়াশা তার ঠোঁটে চুমু খায়। “আমিও।”

রাতভর তারা একে অপরকে আবিষ্কার করে। প্রতিটি স্পর্শ গভীর। প্রতিটি চুমু উত্তপ্ত। মায়াশা অনুভব করে, ঋদ্ধির শরীর তার শরীরের সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছে। কোনো দূরত্ব নেই। কোনো ভুল নেই। শুধু ভালোবাসা।

পরের দিনগুলোতে তাদের রোমান্স আরও গভীর হয়। কখনো রান্নাঘরে, কখনো বারান্দায়, কখনো বিছানায়। ঋদ্ধি মায়াশাকে তুলে ধরে। মায়াশা তার গলা জড়িয়ে ধরে। তারা হাসে, কথা বলে, চুমু খায়। শরীরের প্রতিটি অংশ একে অপরের পরিচিত হয়ে ওঠে।

একদিন ঋদ্ধি মায়াশাকে নিয়ে চট্টগ্রাম যায়। যেখানে সে বড় হয়েছে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে। ঋদ্ধি বলে, “এখানে এসে তোমাকে মনে করতাম। ভাবতাম, যদি তুমি এখানে থাকতে।”

মায়াশা তার হাত ধরে। “এখন আছি।”

তারা সেখানেই জড়িয়ে ধরে। মানুষজন দূরে। শুধু দুজন। ঋদ্ধির ঠোঁট মায়াশার গলায়। মায়াশার হাত তার চুলে। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। তারা হোটেলে ফিরে আসে। রাতভর ভালোবাসা। গভীর, উত্তপ্ত, নিঃস্বার্থ।

মায়াশা অনুভব করে, তাদের গল্প এখন সম্পূর্ণ। শৈশবের বন্ধুত্ব, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, বিয়ের শীতলতা—সব পেরিয়ে এখন শুধু একটা জিনিস বাকি। একসঙ্গে থাকা। একে অপরকে ভালোবাসা। প্রতিদিন নতুন করে আবিষ্কার করা।

ঋদ্ধি এক রাতে মায়াশাকে বলে, “ডায়েরিটা তোমার কাছেই থাকুক। প্রতিটি পাতায় তোমার নাম। এখন নতুন পাতায় আমরা একসঙ্গে লিখব।”

মায়াশা হাসে। তার শরীর ঋদ্ধির শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে। “লিখব। চিরকাল।”

তারা ঘুমিয়ে পড়ে। হাত ধরাধরি করে। কোনো ভয় নেই। কোনো দূরত্ব নেই। শুধু দুজন মানুষ। যারা একসময় হারিয়েছিল, এখন আবার পেয়েছে। আর কখনো ছাড়বে না।

গল্প এখানে শেষ হয় না। তাদের জীবন চলতে থাকে। প্রতিদিন নতুন সকাল, নতুন রাত। প্রতিটি স্পর্শে গভীর রোমান্স। প্রতিটি চুমুতে উত্তাপ। বাংলাদেশের এই শহরে, এই বাড়িতে, দুজন মানুষ একে অপরকে

সম্পূর্ণভাবে ভালোবাসে। কোনো ভুল আর তাদের আলাদা করতে পারবে না।

....
👁 13