ইরাবতীর বয়স তখন মাত্র আট। বাড়ির উঠোনে আমগাছের ছায়ায় বসে সে দেখত বাবা কীভাবে হিসাবের খাতা নিয়ে বসে থাকেন। বাবার চোখে তখনও আশা ছিল। গ্রামের ছোট ব্যবসাটা ধীরে ধীরে বাড়ছিল। রুদ্রাংশু তখন তাদের পাশের বাড়ির ছেলে। বয়সে ইরাবতীর চেয়ে পাঁচ বছরের বড়। লম্বা, চুপচাপ স্বভাবের। ইরাবতী তাকে দেখলেই দূরে সরে যেত। তার মনে হত, এই ছেলেটাই কোনো না কোনোভাবে তাদের পরিবারের ক্ষতির কারণ হবে।
সেই রাতের কথা ইরাবতী আজও ভুলতে পারে না। বাবা ব্যবসার টাকা নিয়ে শহর থেকে ফিরছিলেন। গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছিল। বাবা বেঁচে গিয়েছিলেন, কিন্তু পা দুটো আর আগের মতো চলত না। ব্যবসা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। গ্রামের লোকেরা ফিসফিস করে বলত, রুদ্রাংশুর পরিবারের সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল। ইরাবতী সেই কথাগুলো শুনেই বড় হয়েছে। তার মনে গেঁথে গিয়েছিল—রুদ্রাংশুই দায়ী।
বছর চলে গেল। ইরাবতী পড়াশোনা শেষ করে গ্রামে ফিরে এল। বাবা তখনো চেয়ারে বসে থাকেন। মা চোখে জল নিয়ে ইরাবতীর দিকে তাকান। সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। একদিন সকালে মা বললেন, “রুদ্রাংশুর বাড়ি থেকে কথা এসেছে। তারা বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।”
ইরাবতীর শরীর শক্ত হয়ে গেল। “আমি কখনো তাকে বিয়ে করব না।”
মা চুপ করে রইলেন। বাবা চেয়ার থেকে মাথা তুলে তাকালেন। “আমরা আর বাঁচতে পারব না, ইরা। ওরা সাহায্য করতে চায়। রুদ্রাংশু নিজে এসেছে।”
রুদ্রাংশু এসে দাঁড়াল দরজার সামনে। লম্বা শরীর, কালো শার্ট, চোখে একটা অদ্ভুত স্থিরতা। ইরাবতী তার দিকে তাকাতে পারল না। ঘৃণায় বুক ভরে উঠল। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে বেছে নিতে বাধ্য করল। বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেল।
বিয়ের রাতে ঘরের আলো মৃদু ছিল। ইরাবতী বিছানায় বসে আছে। রুদ্রাংশু দরজা বন্ধ করে ভিতরে ঢুকল। সে কাছে এসে বসল। ইরাবতী সরে গেল।
“আমাকে স্পর্শ করো না,” সে ফিসফিস করে বলল।
রুদ্রাংশু মাথা নাড়ল। “আমি জোর করব না। তুমি ঘুমাও।”
সে অন্য পাশে শুয়ে পড়ল। ইরাবতী ঘুমোতে পারল না। তার মনে হচ্ছিল, এই মানুষটার সঙ্গে একই ছাদের নিচে থাকতে হবে সারাজীবন। ঘৃণাটা আরও ঘনীভূত হল।
পরের দিন থেকে রুদ্রাংশু তার যত্ন নিতে শুরু করল। সকালে চা এনে দিত। ইরাবতীর পছন্দের খাবার রান্না করে রাখত। সে কখনো জোর করে কথা বলত না। ইরাবতী যখন ঘরের কোণে বসে থাকত, রুদ্রাংশু দূরে গিয়ে বসত। কিন্তু তার চোখে একটা নরম চাহনি থাকত। ইরাবতী সেই চাহনি দেখে আরও রেগে যেত।
একদিন সন্ধ্যায় ইরাবতী উঠোনে বসেছিল। রুদ্রাংশু এসে পাশে বসল।
“তুমি আমাকে ঘৃণা করো,” সে শান্ত গলায় বলল। “আমি জানি। কিন্তু আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না।”
ইরাবতী মুখ ফিরিয়ে নিল। “আমার বাবার সর্বনাশ তোমার জন্য।”
রুদ্রাংশু চুপ করে রইল। তার হাতটা ইরাবতীর হাতের কাছে এল, কিন্তু স্পর্শ করল না। “একদিন বুঝবে।”
রাত গভীর হলে ইরাবতী ঘুম থেকে উঠে দেখল রুদ্রাংশু জেগে আছে। সে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরের অন্ধকার দেখছে। ইরাবতী তার পিঠের দিকে তাকিয়ে রইল। লম্বা শরীরটা আলো-আঁধারিতে আরও তীব্র মনে হচ্ছিল। হঠাৎ রুদ্রাংশু পেছন ফিরে তাকাল। তাদের চোখাচোখি হল। ইরাবতীর বুকে একটা অদ্ভুত কম্পন খেলল। সে দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিল।
দিন চলতে থাকল। রুদ্রাংশু প্রতিদিন সকালে ইরাবতীর জন্য গরম পানি গরম করে রাখত। তার চুল আঁচড়াতে চাইলে ইরাবতী সরে যেত, কিন্তু রুদ্রাংশু হাসত শুধু। একদিন ইরাবতী অসুস্থ হয়ে পড়ল। জ্বর এল। রুদ্রাংশু সারারাত তার পাশে বসে রইল। কপালে ভিজে কাপড় রাখল। ইরাবতী অর্ধনিদ্রায় তার হাতের স্পর্শ অনুভব করল। হাতটা উষ্ণ, শক্ত, কিন্তু অদ্ভুতভাবে নিরাপদ।
সকালে জ্বর কমলে ইরাবতী চোখ খুলল। রুদ্রাংশু তার মাথার কাছে বসে আছে। চোখে ঘুমের ছাপ।
“তুমি সারারাত জেগেছিলে?” ইরাবতী জিজ্ঞেস করল।
রুদ্রাংশু মাথা নাড়ল। “তুমি অসুবিধায় ছিলে।”
ইরাবতী কিছু বলতে পারল না। তার ভিতরে ঘৃণার পাশাপাশি একটা নতুন অনুভূতি জন্ম নিচ্ছিল। রুদ্রাংশু উঠে গেল চা আনতে। ইরাবতী তার হাঁটার ভঙ্গি দেখতে থাকল। কোমরের দিকটা সরু, কাঁধ চওড়া। শরীরটা দেখে মনে হচ্ছিল, এই মানুষটা কষ্ট সহ্য করতে জানে।
সন্ধ্যায় রুদ্রাংশু এসে তার পাশে বসল। হাত বাড়িয়ে ইরাবতীর কপালে হাত রাখল।
“জ্বর আর নেই।”
ইরাবতী সরে গেল না এবার। রুদ্রাংশুর আঙুলগুলো তার চামড়ায় হালকা চাপ দিল। সেই স্পর্শটা গরম লাগল। ইরাবতীর শ্বাস একটু দ্রুত হল। রুদ্রাংশু চোখ তুলে তাকাল। তাদের মধ্যে দূরত্ব কমে এল। রুদ্রাংশুর ঠোঁট কাছে চলে এল। ইরাবতী চোখ বন্ধ করে ফেলল। কিন্তু রুদ্রাংশু শুধু কপালে একটা হালকা চুমু দিল।
“আগে সুস্থ হও,” সে ফিসফিস করে বলল।
ইরাবতীর শরীরে একটা অদ্ভুত উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল। সে রুদ্রাংশুর দিকে তাকিয়ে রইল। ঘৃণাটা এখনও আছে, কিন্তু তার নিচে কিছু একটা জন্ম নিচ্ছে। রুদ্রাংশু উঠে গেল। ইরাবতী বিছানায় শুয়ে তার গন্ধটা শুঁকে নিল। পুরুষালি, সাবানের মতো পরিষ্কার।
রাত গভীর হলে ইরাবতী ঘুমোতে পারল না। তার মনে পড়ল রুদ্রাংশুর হাতের স্পর্শ। কীভাবে সে তার কপালে হাত রেখেছিল। কীভাবে চুমু দিয়েছিল। ইরাবতীর বুকের ভিতরটা দুর্বল হয়ে এল। সে নিজেকে বলল, এসব কিছু না। কিন্তু শরীর অন্য কথা বলছিল।
পরের কয়েকদিন রুদ্রাংশু আরও কাছে এল। একদিন দুপুরে ইরাবতী রান্নাঘরে দাঁড়িয়েছিল। রুদ্রাংশু পেছন থেকে এসে তার কোমরে হাত রাখল।
“সাবধান, গরম তেল।”
ইরাবতী কেঁপে উঠল। রুদ্রাংশুর বুক তার পিঠে লেগেছে। গরম শ্বাস তার ঘাড়ে পড়ছে। ইরাবতী ঘুরে দাঁড়াল। তাদের মুখ খুব কাছে। রুদ্রাংশুর চোখে একটা ক্ষুধা দেখা গেল। ইরাবতী সেই চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। রুদ্রাংশু ধীরে ধীরে মাথা নামিয়ে ইরাবতীর ঠোঁটে চুমু দিল। প্রথমে হালকা, তারপর গভীর। ইরাবতীর হাত রুদ্রাংশুর কাঁধে উঠে গেল। সে প্রতিরোধ করতে পারল না। রুদ্রাংশুর জিভ তার ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ল। ইরাবতীর হাঁটু দুর্বল হয়ে এল।
চুমুটা ভেঙে গেল যখন রান্নাঘরের দরজায় শব্দ হল। ইরাবতী সরে গেল। তার গাল লাল। রুদ্রাংশু শুধু তাকিয়ে রইল। চোখে একটা প্রতিশ্রুতি।
সেই রাতে বিছানায় রুদ্রাংশু কাছে এল। ইরাবতী সরে গেল না। রুদ্রাংশু তার গলায় চুমু দিল। ধীরে ধীরে নিচে নামল। ইরাবতীর শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। রুদ্রাংশুর হাত তার জামার নিচে ঢুকে গেল। উষ্ণ তালু তার বুকে ছুঁল। ইরাবতী আওয়াজ করে উঠল। রুদ্রাংশু থামল।
“বলো যদি থামতে চাও।”
ইরাবতী মাথা নাড়ল। “না... থামো না।”
রুদ্রাংশু আবার শুরু করল। তার ঠোঁট ইরাবতীর বুকের ওপর ঘুরছিল। হাতটা নিচে নামছিল। ইরাবতীর শরীর কাঁপছিল। রুদ্রাংশু তার পায়ের মাঝখানে হাত রাখল। আঙুল দিয়ে ধীরে ধীরে ছুঁল। ইরাবতী কামড় দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরল। আনন্দ আর লজ্জা একসঙ্গে।
রুদ্রাংশু তার ওপর উঠে এল। শরীরের ওজনটা ইরাবতীর ওপর পড়ল। ইরাবতী তার পিঠে নখ বসিয়ে দিল। রুদ্রাংশু ভিতরে ঢুকল ধীরে। ইরাবতী ব্যথায় কেঁদে উঠল, কিন্তু রুদ্রাংশু থামল না। সে চুমু দিয়ে ব্যথাটা সরিয়ে দিল। তারপর ধীরে ধীরে গতি বাড়াল। ইরাবতীর শরীর তার সঙ্গে মিলে গেল। রাত ভর তারা একে অপরকে ছুঁল, চুমু দিল, নিঃশ্বাস মিলিয়ে নিল।
সকালে ইরাবতী চোখ খুললে রুদ্রাংশু তার পাশে ঘুমাচ্ছিল। হাতটা তার কোমরে জড়ানো। ইরাবতী সেই হাতটা দেখতে থাকল। ঘৃণাটা এখনও আছে, কিন্তু তার চেয়ে বড় কিছু জন্ম নিয়েছে। রুদ্রাংশুর যত্ন, তার স্পর্শ, তার গভীর চুমু—সব মিলিয়ে ইরাবতী নিজেকে হারিয়ে ফেলছে।
কিন্তু সে জানে না, সত্যটা আরও গভীরে লুকিয়ে আছে।
বিয়ের কয়েক মাস পরে ইরাবতীর মন পুরোপুরি বদলে যায়নি, কিন্তু রুদ্রাংশুর প্রতি তার অনুভূতি জটিল হয়ে উঠেছে। দিনের বেলা সে এখনও দূরত্ব রাখে। কিন্তু রাতে শরীর তার নিয়ন্ত্রণ মানে না। রুদ্রাংশু প্রতি রাতে তাকে ছুঁয়। কখনো ধীরে, কখনো ক্ষুধার্তের মতো। ইরাবতী তার বুকে মুখ গুঁজে নিঃশ্বাস নেয়। রুদ্রাংশুর ঘামের গন্ধ তার নাকে লেগে থাকে সকাল পর্যন্ত।
একদিন দুপুরে রুদ্রাংশু কাজ থেকে ফিরল। ইরাবতী উঠোনে কাপড় মেলে দিচ্ছিল। রুদ্রাংশু পেছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।
“আজ তোমাকে ছাড়ব না,” সে কানে কানে বলল।
ইরাবতী হাসল। “লোকে দেখবে।”
“দেখুক।” রুদ্রাংশু তাকে ঘরের ভিতরে টেনে নিয়ে গেল। দরজা বন্ধ করে ইরাবতীকে দেয়ালে ঠেস দিয়ে চুমু দিতে লাগল। জিভ গভীরে ঢুকিয়ে দিল। হাত দিয়ে জামা খুলে ফেলল। ইরাবতীর বুক তার মুখে তুলে নিল। চুষতে লাগল। ইরাবতী মাথা পেছনে ফেলে আওয়াজ করল। রুদ্রাংশু হাঁটু গেড়ে বসল। ইরাবতীর শাড়ির ভাঁজ সরিয়ে তার মাঝখানে মুখ রাখল। জিভ দিয়ে চাটতে লাগল। ইরাবতীর হাঁটু কাঁপছিল। সে রুদ্রাংশুর চুল চেপে ধরল।
রুদ্রাংশু উঠে এসে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। নিজেও কাপড় খুলে ফেলল। ইরাবতী তার শরীর দেখল। শক্ত পেশী, লম্বা উরু। রুদ্রাংশু তার পা দুটো দুদিকে সরিয়ে ভিতরে ঢুকল একটানা। ইরাবতী চিৎকার করে উঠল। রুদ্রাংশু থামল না। গভীর থেকে গভীরে যেতে লাগল। প্রতিটা ধাক্কায় ইরাবতীর শরীর কেঁপে উঠছিল। রুদ্রাংশু তার ঠোঁটে চুমু দিয়ে বলল, “তুমি আমার।”
ইরাবতী মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ... তোমার।”
সেদিন দুপুরটা তারা বিছানায় কাটাল। রুদ্রাংশু বারবার ইরাবতীকে নিল। কখনো পেছন থেকে, কখনো উপুড় করে। ইরাবতীর শরীর লাল হয়ে গেল। কিন্তু সে থামতে চাইল না। রুদ্রাংশুর ভিতরের ক্ষুধা তারও ভিতরে জেগে উঠেছে।
সন্ধ্যায় রুদ্রাংশু বলল, “আজ তোমাকে কিছু বলব।”
ইরাবতী তার বুকে মাথা রেখে শুনছিল।
“তোমার বাবার দুর্ঘটনার পর আমিই সব সামলেছিলাম। আমার বাবা তোমার বাবার ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। কিন্তু টাকাটা আমি নিজের থেকে দিয়েছিলাম। হাসপাতালের খরচ, বাড়ির খরচ—সব। আমার পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। চাকরি নিয়েছিলাম দূরে। যাতে তোমরা বাঁচতে পারো।”
ইরাবতী উঠে বসল। “কী বলছ?”
রুদ্রাংশু তার চোখের দিকে তাকাল। “আমি তোমার বাবাকে বাঁচিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি ভেবেছিলে আমিই দায়ী। আমি কিছু বলিনি। কারণ তোমার ঘৃণা দেখে আমার মনে হয়েছিল, হয়তো এটাই ভালো।”
ইরাবতীর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে রুদ্রাংশুর বুকে মুখ গুঁজে কেঁদে উঠল। রুদ্রাংশু তার চুল আঁচড়াতে লাগল।
“ক্ষমা করো আমাকে,” ইরাবতী কাঁপতে কাঁপতে বলল। “আমি এতদিন...”
রুদ্রাংশু তার ঠোঁটে চুমু দিল। “কিছু না। তুমি এখন আমার কাছে আছ। এটাই যথেষ্ট।”
সেই রাতে তাদের মিলন অন্যরকম ছিল। রুদ্রাংশু ইরাবতীকে ধীরে ধীরে ছুঁল। প্রতিটা চুমুতে ভালোবাসা মিশিয়ে দিল। ইরাবতী তার পিঠে নখ বসিয়ে কেঁদে উঠল আনন্দে। রুদ্রাংশু তার কানে কানে বলল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকে।”
ইরাবতী তার গলা জড়িয়ে ধরল। “আমিও... এখন বুঝতে পারছি।”
দিনগুলো বদলে গেল। ইরাবতী এখন রুদ্রাংশুর জন্য অপেক্ষা করে। সে যখন ফিরে আসে, ইরাবতী দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। রুদ্রাংশু তাকে তুলে নিয়ে ঘরে নিয়ে যায়। কখনো রান্নাঘরেই তাকে নিয়ে নেয়। ইরাবতী রুদ্রাংশুর জিদের কাছে হার মেনে নেয়। রুদ্রাংশু তার শরীরের প্রতিটা অংশ চিনে ফেলেছে। কোথায় স্পর্শ করলে ইরাবতী কেঁপে ওঠে, কোথায় চুমু দিলে সে আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না।
একদিন সকালে ইরাবতী রুদ্রাংশুর শার্ট পরে বেরোল। রুদ্রাংশু হেসে তাকে টেনে এনে আবার বিছানায় ফেলল।
“আজ কাজ নেই,” সে বলল। “সারাদিন তোমাকে নিয়েই কাটাব।”
ইরাবতী তার ওপর উঠে বসল। নিজে থেকে রুদ্রাংশুর ভিতরে নামল। ধীরে ধীরে নড়তে লাগল। রুদ্রাংশু তার কোমর চেপে ধরল। ইরাবতীর চুল ছড়িয়ে পড়ল। রুদ্রাংশু উঠে বসে তার বুকে মুখ রাখল। চুষতে লাগল। ইরাবতী গতি বাড়াল। শরীরের ভিতরটা গরম হয়ে উঠছিল। রুদ্রাংশু হঠাৎ তাকে উপুড় করে শুইয়ে দিল। পেছন থেকে ঢুকল জোরে। ইরাবতী বালিশে মুখ গুঁজে চিৎকার করল। রুদ্রাংশু তার চুল ধরে টানল। গভীর থেকে গভীরে যেতে লাগল। ইরাবতীর শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছিল। শেষ পর্যন্ত তারা একসঙ্গে মুক্তি পেল।
দুপুরে তারা আবার শুরু করল। এবার আরও ধীরে। রুদ্রাংশু ইরাবতীর পুরো শরীর চুমু দিয়ে ভিজিয়ে দিল। পায়ের আঙুল থেকে শুরু করে ঘাড় পর্যন্ত। ইরাবতী লজ্জাতে মুখ ঢাকল। রুদ্রাংশু হাত সরিয়ে দিল।
“দেখো আমাকে,” সে বলল। “তুমি সুন্দর।”
ইরাবতী তার চোখে তাকাল। সেখানে শুধু ভালোবাসা। আর ক্ষুধা। রুদ্রাংশু আবার ভিতরে ঢুকল। এবার চোখে চোখ রেখে। প্রতিটা নড়াচড়ায় তাদের নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছিল। ইরাবতী রুদ্রাংশুর পিঠে নখ বসিয়ে বলল, “আরও জোরে...”
রুদ্রাংশু মানল। বিছানা কেঁপে উঠল। ইরাবতীর আওয়াজ বাড়তে থাকল। শেষে তারা জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল। ঘামে ভেজা শরীর।
ইরাবতী রুদ্রাংশুর বুকে কান পাতল। হৃদয়ের স্পন্দন শুনতে পেল। সে ভাবল, এই মানুষটা তার জন্য কত কিছু ছেড়েছে। আর সে এতদিন তাকে ঘৃণা করেছে। লজ্জায় তার চোখ বন্ধ হয়ে এল।
কিন্তু রুদ্রাংশু তখনও সব সত্য বলেনি। সবচেয়ে বড় সত্যটা এখনও লুকানো।
একদিন সন্ধ্যায় ইরাবতীর মা এল তাদের বাড়িতে। মায়ের মুখ গম্ভীর। রুদ্রাংশু বাইরে কাজ করছিল। ইরাবতী মাকে চা দিয়ে বসাল।
মা চুপ করে কিছুক্ষণ বসে রইল। তারপর বলল, “আজ সব খুলে বলব। আর লুকিয়ে রাখার ক্ষমতা নেই।”
ইরাবতী তাকিয়ে রইল।
“তোমার বাবার দুর্ঘটনা... রুদ্রাংশুর পরিবারের কেউ করেনি। আমি করেছি।”
ইরাবতীর হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে গেল।
মায়ের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। “আমি টাকার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। তোমার বাবার ব্যবসার টাকা আমি অন্য জায়গায় লগ্নি করেছিলাম। লোকসান হয়েছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম, যদি দুর্ঘটনা হয়... তাহলে বীমার টাকা পাওয়া যাবে। আমি গাড়ির ব্রেক নিয়ে হাতকলে করেছিলাম। কিন্তু বাবা বেঁচে গেলেন। আর সব শেষ হয়ে গেল।”
ইরাবতী উঠে দাঁড়াল। শরীর কাঁপছিল। “তুমি... আমার মা...”
মা মাথা নিচু করে রাখল। “রুদ্রাংশু জানত। সে দেখে ফেলেছিল। কিন্তু সে কিছু বলেনি। তোমার বাবাকে বাঁচানোর জন্য সে সব সামলেছে। আমাকেও রক্ষা করেছে। বলেছে, কেউ জানবে না।”
ইরাবতী ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। উঠোনে রুদ্রাংশু দাঁড়িয়েছিল। ইরাবতী তার কাছে গিয়ে বুকের ওপর মুখ রেখে কেঁদে উঠল। রুদ্রাংশু তাকে জড়িয়ে ধরল।
“সব জেনে গেছ,” সে শান্ত গলায় বলল।
ইরাবতী মাথা নাড়ল। “তুমি কেন বলোনি?”
“কারণ তোমার মাকে হারাতে চাইনি। আর তোমাকেও।” রুদ্রাংশু তার চুল আঁচড়াল। “আমি চেয়েছিলাম তুমি শুধু আমাকে ঘৃণা করো। অন্য কিছু না।”
ইরাবতী তার মুখ তুলে তাকাল। চোখে জল। “আমি তোমাকে ভালোবাসি। এতদিনের ঘৃণা... সব মিথ্যে ছিল।”
রুদ্রাংশু তার ঠোঁটে চুমু দিল। গভীর, দীর্ঘ। ইরাবতী তার গলা জড়িয়ে ধরল। তারা ঘরে ঢুকে গেল। দরজা বন্ধ হল।
সেই রাতে রুদ্রাংশু ইরাবতীকে যেভাবে নিল, তা আগের কোনো রাতের মতো ছিল না। প্রথমে সে ইরাবতীকে বিছানায় শুইয়ে তার পুরো শরীর চুমু দিয়ে ভিজিয়ে দিল। বুকের ডগা চুষতে চুষতে ইরাবতীকে পাগল করে তুলল। তারপর পা দুটো কাঁধে তুলে ভিতরে ঢুকল একেবারে শেষ পর্যন্ত। ইরাবতী চিৎকার করে উঠল। রুদ্রাংশু থামল না। জোরে জোরে ধাক্কা দিতে লাগল। ইরাবতীর শরীর তার সঙ্গে মিলে একটা ছন্দ তৈরি করল।
রুদ্রাংশু হঠাৎ থেমে গিয়ে ইরাবতীকে উপুড় করে শুইয়ে দিল। পেছন থেকে আবার ঢুকল। এক হাত দিয়ে তার চুল টানল, অন্য হাত দিয়ে সামনে ছুঁল। ইরাবতী বালিশে মুখ গুঁজে আওয়াজ করতে লাগল। রুদ্রাংশুর শরীরের শব্দ আর ইরাবতীর নিঃশ্বাস মিশে একটা গভীর সুর তৈরি হচ্ছিল।
শেষে রুদ্রাংশু ইরাবতীকে তার ওপর তুলে নিল। ইরাবতী নিজে থেকে নামতে লাগল। রুদ্রাংশু তার কোমর চেপে ধরে উপরে তুলছিল। তাদের চোখে চোখ। ঘামে ভেজা মুখ। ইরাবতী রুদ্রাংশুর বুকে নখ বসিয়ে বলল, “আমি তোমার... সবটুকু।”
রুদ্রাংশু উঠে বসে তাকে জড়িয়ে ধরল। ভিতরে আরও গভীরে গিয়ে মুক্তি পেল। ইরাবতীও তার সঙ্গে কেঁপে উঠল। তারা জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল অনেকক্ষণ।
সকালে ইরাবতী রুদ্রাংশুর বুকে মাথা রেখে বলল, “মাকে ক্ষমা করতে পারব না হয়তো। কিন্তু তোমাকে... তোমাকে আমি সারাজীবন ভালোবাসব।”
রুদ্রাংশু তার কপালে চুমু দিল। “আমিও। আর কোনো লুকানো কথা নেই আমাদের মধ্যে।”
দিনগুলো কেটে যেতে লাগল। ইরাবতী আর রুদ্রাংশু একে অপরের ছায়া হয়ে উঠল। রাতে তাদের শরীর মিশে যায়। দিনে তাদের হাত জড়ানো থাকে। ইরাবতী এখন জানে, ঘৃণা দিয়ে শুরু হওয়া গল্পটা ভালোবাসায় শেষ হয়েছে। আর সেই ভালোবাসার গভীরে আছে একটা সত্য—রুদ্রাংশু তাকে শুধু বিয়ে করেনি, তাকে বাঁচিয়েছে। বারবার।
গ্রামের উঠোনে সন্ধ্যা নামে। ইরাবতী রুদ্রাংশুর পাশে বসে থাকে। তাদের হাত জড়ানো। কোনো কথা নেই। শুধু একটা নিঃশ্বাস। আর একটা অঙ্গীকার—এখন থেকে সব সত্যি। আর সব ভালোবাসা।
....