ইশরাতের বিয়ের দিনটা ছিল একদম সাদামাটা। ঢাকার একটি শান্ত এলাকার বাসায় আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে শুধু নিকাহ হয়ে গিয়েছিল। কোনো জাঁকজমক ছিল না। সেদিন নাভিদ দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছিল সবকিছু। সে কোনো কথা বলেনি। শুধু একবার ইশরাতের চোখের দিকে তাকিয়েছিল, আর ইশরাতও তাকিয়েছিল। সেই তাকানোর মধ্যে ছিল একটা নীরব বিদায়।
তাদের গল্প শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। ইশরাত পড়ত ইংরেজি সাহিত্য, নাভিদ অর্থনীতি। প্রথম দেখা হয়েছিল লাইব্রেরিতে। ইশরাত একটা বই খুঁজছিল, নাভিদ পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করেছিল। তারপর চায়ের দোকানে বসে কথা, সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের গাছের নিচে হাঁটা, আর রাতের আকাশে চাঁদ দেখে স্বপ্ন দেখা। তারা একে অপরকে ভালোবাসত গভীরভাবে। নাভিদের হাত ধরে ইশরাতের বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠত। ইশরাতের চুলের গন্ধে নাভিদের মাথা ঘুরে যেত। তারা অনেকবার বলেছিল, একদিন বিয়ে করবে। কিন্তু জীবন সবসময় স্বপ্ন মেনে চলে না।
ইশরাতের বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। পরিবারের চাপ এসেছিল। একজন ভালো চাকরিজীবী ছেলের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব। ছেলেটা ধনী পরিবারের। ইশরাত প্রতিবাদ করেছিল। নাভিদের সঙ্গে কথা বলেছিল। নাভিদ বলেছিল, “তুমি যা ভালো মনে করো করো। আমি তোমার পথে বাধা হব না।” কিন্তু ভিতরে ভিতরে সে ভেঙে পড়েছিল। ইশরাত বিয়েতে রাজি হয়েছিল পরিবারের জন্য। বিয়ের পর নাভিদ ঢাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল চট্টগ্রামে। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে। সে আর ফোন করেনি। মেসেজও পাঠায়নি। ইশরাতও চেষ্টা করেনি। দুজনেই জানত, দূরত্বই এখন তাদের একমাত্র পথ।
বিয়ের পর ইশরাতের জীবন চলতে থাকল নিয়মের মতো। স্বামী রফিক ছিল ব্যস্ত মানুষ। সকালে অফিস, রাতে দেরিতে বাসায় ফেরা। ইশরাত বাসায় একা সময় কাটাত। কখনো বই পড়ত, কখনো রান্না করত। রফিকের সঙ্গে কথা হত কম। শারীরিক সম্পর্কও ছিল শুধু দায়িত্ব পালনের মতো। ইশরাতের মনে নাভিদের ছবি কখনো মুছে যায়নি। রাতে ঘুমাতে গেলে নাভিদের হাতের উষ্ণতা মনে পড়ত। সেই উষ্ণতায় তার শরীর উত্তপ্ত হয়ে উঠত। সে নিজেকে থামিয়ে দিত। বলত, এখন আর সেই অধিকার নেই।
পাঁচ বছর কেটে গেল। ইশরাতের একটা মেয়ে হল। নাম রাখা হল সায়মা। মেয়েকে দেখে ইশরাত খুশি হত, কিন্তু মনের এক কোণে শূন্যতা থেকেই গেল। রফিকের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঠান্ডা হয়ে গেল। সে অন্য নারীদের সঙ্গে সময় কাটাত, ইশরাত জানত। কিন্তু কিছু বলত না। পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে চুপ থাকত।
নাভিদ চট্টগ্রামে নিজেকে ব্যস্ত রাখত। কাজের চাপে দিন কাটত। সে একটা ব্যবসা শুরু করেছিল। ছোটখাটো শুরু, পরে বড় হয়ে উঠল। লোকেরা তাকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে চিনত। কিন্তু রাতে একা ঘরে ফিরলে মনটা ভারী হয়ে যেত। ইশরাতের হাসি মনে পড়ত। তার ঠোঁটের নরম স্পর্শ। তারা একবার ক্যাম্পাসের এক নির্জন জায়গায় চুমু খেয়েছিল। সেই চুমুটা এখনও নাভিদের ঠোঁটে জ্বলত। সে অন্য মেয়েদের সঙ্গে দেখা করেছিল, কিন্তু কেউই ইশরাতের জায়গা নিতে পারেনি। সে বিয়ে করেনি। বলত, সময় হয়নি। আসলে সময় হয়নি না, মন হয়নি।
একদিন নাভিদের ব্যবসার কাজে ঢাকায় আসতে হল। একটা বড় চুক্তি। হোটেলে উঠল। সন্ধ্যায় শহরের রাস্তায় ঘুরতে বেরোল। পুরনো জায়গাগুলো দেখল। ক্যাম্পাসের সামনে দাঁড়াল। মনে পড়ল সেই দিনগুলো। হঠাৎ ফোন বাজল। ব্যবসার পার্টনার। কথা শেষ করে হোটেলে ফিরল। রাতে ঘুম এল না। জানালার বাইরে শহরের আলো জ্বলছিল। সে ভাবল, ইশরাত এখন কোথায়? সুখী তো? মেয়ে আছে শুনেছিল কোনো আত্মীয়ের মুখে। সে আর খোঁজ নেয়নি।
পরের দিন চুক্তির মিটিংয়ে গেল। অফিসের কনফারেন্স রুমে বসে কাজ করছিল। হঠাৎ দরজা খুলল। একজন নারী ঢুকল ফাইল হাতে। নাভিদ মাথা তুলে তাকাল। ইশরাত। সময় থেমে গেল। ইশরাতের চোখ বড় হয়ে গেল। সেও নাভিদকে চিনতে পারল। দুজনের চোখাচোখি হল। ঘরের অন্য লোকেরা কথা বলছিল, কিন্তু তারা কিছু শুনতে পাচ্ছিল না। ইশরাতের হাত কাঁপছিল। ফাইলটা টেবিলে রেখে সে দ্রুত বেরিয়ে গেল। নাভিদ উঠে দাঁড়াল, কিন্তু কিছু বলতে পারল না।
মিটিং শেষে নাভিদ বেরিয়ে এল। করিডোরে ইশরাত দাঁড়িয়ে ছিল। দুজন মুখোমুখি। নাভিদ বলল, “ইশরাত...” কণ্ঠস্বর ভেঙে গেল। ইশরাত মাথা নিচু করল। “নাভিদ। তুমি এখানে?” নাভিদ বলল, “কাজের সূত্রে। তুমি?” ইশরাত বলল, “এই অফিসেই কাজ করি। অ্যাকাউন্টস সেকশনে।” দুজন চুপ করে দাঁড়াল। লোকজন এদিক-ওদিক যাচ্ছিল। নাভিদ বলল, “কফি খাবে?” ইশরাত একটু ইতস্তত করে রাজি হল।
নিকটবর্তী একটা ক্যাফেতে গেল তারা। বসে পড়ল। নাভিদ ইশরাতের দিকে তাকিয়ে রইল। সময় তাকে আরও সুন্দর করেছে। চোখে একটা গভীরতা এসেছে। ইশরাতও নাভিদকে দেখল। তার চোখে একটা পরিপক্কতা, কিন্তু সেই পুরনো উষ্ণতা এখনও আছে। নাভিদ জিজ্ঞেস করল, “কেমন আছ?” ইশরাত বলল, “ভালো। মেয়ে আছে। সায়মা। পাঁচ বছরের।” নাভিদ মাথা নেড়ে বলল, “ভালো। রফিক?” ইশরাত চুপ করে রইল একটু। তারপর বলল, “আছে। ব্যস্ত থাকে।” নাভিদ আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। কফি এল। তারা চুমুক দিল। কথার ফাঁকে ফাঁকে নীরবতা। কিন্তু সেই নীরবতায় অনেক কথা লুকিয়ে ছিল।
বিদায়ের সময় নাভিদ বলল, “আবার দেখা হবে হয়তো।” ইশরাত মাথা নেড়ে বলল, “হয়তো।” কিন্তু দুজনেই জানত, এটা শুধু ‘হয়তো’ নয়। মনে মনে দুজনেই অনুভব করছিল সেই পুরনো টান। ইশরাত বাসায় ফিরে মেয়েকে কোলে তুলল। সায়মা হাসল। ইশরাতের চোখে জল এল। সে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভাবল, নাভিদ কখনো তাকে ভোলেনি। আর সে নিজেও পারেনি।
নাভিদ হোটেলে ফিরে বিছানায় শুয়ে রইল। ইশরাতের মুখ মনে পড়ছিল। তার গলার স্বর। ক্যাফেতে তার হাতের কাছাকাছি আসা। শরীরটা গরম হয়ে উঠল। সে উঠে গিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিল। কিন্তু মনের উত্তাপ কমল না। সে জানত, পুরনো অনুভূতি ফিরে এসেছে। কিন্তু এখন আর সেই অধিকার নেই। ইশরাতের সংসার আছে, মেয়ে আছে। সে নিজেও একাকী জীবন বেছে নিয়েছে। তবু মনটা মানতে চাইছিল না।
সেদিন রাতে দুজনেরই ঘুম হয়নি। ইশরাত স্বামীর পাশে শুয়ে নাভিদের কথা ভেবেছে। নাভিদ হোটেলের বিছানায় ইশরাতের স্পর্শ মনে করেছে। দুজনের শরীর দূর থেকেও একে অপরকে ডাকছিল। কিন্তু বাস্তবতা তাদের আলাদা করে রেখেছিল। অতীতের ভালোবাসা আবার জেগে উঠেছিল, আর তার সঙ্গে এসেছিল একটা কঠিন প্রশ্ন—এখন কী হবে?
পরের কয়েকদিন নাভিদ ঢাকায়ই থাকল। ব্যবসার কাজ সারছিল। কিন্তু মনটা বারবার ইশরাতের দিকে চলে যাচ্ছিল। একদিন অফিসের সামনে অপেক্ষা করছিল সে। ইশরাত বেরিয়ে এল। নাভিদ এগিয়ে গিয়ে বলল, “একটু সময় আছে?” ইশরাত চারদিকে তাকিয়ে রাজি হল। তারা আবার সেই ক্যাফেতে গেল। এবার কথা বেশি হল। পুরনো দিনের কথা। ক্যাম্পাসের মজার ঘটনা। একদিন তারা দুজনে মিলে বৃষ্টির অজুহাতে ক্লাস মিস করে চা খেয়েছিল—না, বৃষ্টির কথা না। একদিন তারা ক্লাস মিস করে চা খেয়েছিল শহরের এক কোণে। হেসেছিল অনেক। নাভিদ মনে করিয়ে দিল সেই দিনের কথা। ইশরাত হাসল। হাসিটা দেখে নাভিদের বুকের ভিতরটা গরম হয়ে উঠল।
কথায় কথায় ইশরাতের চোখে জল এল। সে বলল, “তুমি চলে গিয়েছিলে। কোনো খবর না দিয়ে।” নাভিদ মাথা নিচু করল। “তোমার সংসার ভাঙতে চাইনি। তুমি সুখী হও, সেটাই চেয়েছি।” ইশরাত বলল, “সুখী... হয়তো বাইরে থেকে মনে হয়। ভিতরে শূন্য।” নাভিদ তার হাতের দিকে তাকাল। ইশরাতের হাত টেবিলের ওপর ছিল। সে আস্তে আস্তে নিজের হাত বাড়িয়ে ইশরাতের হাত ছুঁয়ে দিল। স্পর্শটা ছিল বিদ্যুতের মতো। দুজনের শরীর কেঁপে উঠল। ইশরাত হাত সরিয়ে নিল না। নাভিদের আঙুল তার আঙুলের ফাঁকে ঢুকে গেল। উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল সারা শরীরে।
তারা সেদিন অনেকক্ষণ বসে রইল। বিদায়ের সময় নাভিদ বলল, “আমার নম্বর নিয়ে রাখো। দরকার হলে ফোন করো।” ইশরাত নম্বর নিল। রাতে ফোন এল নাভিদের। ইশরাত উত্তর দিল। তারা ফিসফিস করে কথা বলল। নাভিদ বলল, “তোমার গলার স্বর শুনে মনটা শান্ত হয়।” ইশরাত বলল, “তোমারও।” কথায় কথায় নীরবতা। সেই নীরবতায় শ্বাসকষ্টের শব্দ। দুজনের শরীর দূর থেকেও উত্তপ্ত হচ্ছিল।
এভাবেই দেখা হওয়া শুরু হল। কখনো লাঞ্চের সময়, কখনো সন্ধ্যার পর। তারা পার্কে বসত, কফি খেত, হাঁটত। কথা বলত জীবনের কথা। ইশরাতের মেয়ের কথা। নাভিদের ব্যবসার কথা। কিন্তু মাঝে মাঝে চুপ করে গিয়ে একে অপরের চোখের দিকে তাকাত। সেই তাকানোতে ছিল ক্ষুধা। একদিন সন্ধ্যায় একটা নির্জন ক্যাফের কোণে বসে নাভিদ ইশরাতের হাত ধরল। এবার আর ছাড়ল না। আঙুল দিয়ে তার হাতের পিঠে আঁচড় কাটল আস্তে আস্তে। ইশরাতের শ্বাস দ্রুত হয়ে গেল। নাভিদ এগিয়ে গিয়ে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, “তোমাকে এখনও চাই। অনেক।” ইশরাতের চোখ বন্ধ হয়ে গেল। সেও ফিসফিস করল, “আমিও।”
সেদিন তারা আর বাড়ি ফিরল না সঙ্গে সঙ্গে। নাভিদের হোটেল রুমে গেল। দরজা বন্ধ হতেই নাভিদ ইশরাতকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল। চুমু খেল ক্ষুধার্তের মতো। ইশরাতের ঠোঁট নরম, উষ্ণ। নাভিদের জিভ তার মুখে ঢুকে গেল। ইশরাতের হাত নাভিদের চুল আঁকড়ে ধরল। শরীর লেগে গেল শরীরে। নাভিদের হাত ইশরাতের কোমরে ঘুরল, তারপর উপরে উঠল। ব্লাউজের ভিতর ঢুকিয়ে স্তন ছুঁয়ে দিল। ইশরাত আর্তনাদ করল চুপচাপ। নাভিদ তার গলায় চুমু খেল, কাঁধে, তারপর ব্লাউজ খুলে ফেলল। স্তনের ওপর মুখ রাখল। জিভ দিয়ে ঘষল। ইশরাতের শরীর কেঁপে উঠল। সে নাভিদের শার্ট খুলে ফেলল। বুকের ওপর হাত বুলাল। নাভিদের শরীর শক্ত হয়ে উঠেছিল। ইশরাত তার প্যান্টের ওপর হাত রাখল। নাভিদ আরও চেপে ধরল।
তারা বিছানায় গড়িয়ে পড়ল। জামাকাপড় খুলে গেল একের পর এক। নাভিদ ইশরাতের শরীর চুমুতে চুমুতে নামল। উরুতে, তারপর আরও ভিতরে। জিভ দিয়ে স্পর্শ করল সেই জায়গায় যেখানে ইশরাত ভিজে উঠেছিল। ইশরাতের কোমর উঁচু হয়ে গেল। সে বালিশ চেপে ধরল। নাভিদ উঠে এসে তার ওপর এল। ধীরে ধীরে ঢুকল। ইশরাত আর্তনাদ করল। দুজনের শরীর মিলল। নাভিদ নড়াচড়া শুরু করল। প্রথমে আস্তে, তারপর দ্রুত। ইশরাত তার পিঠ আঁচড়াচ্ছিল। দুজনের ঘাম মিশে গেল। চুমু, কামড়, আর গভীর কান্নার মতো শব্দ। শেষ পর্যন্ত দুজনে একসঙ্গে কেঁপে উঠল। শরীর শিথিল হয়ে গেল। নাভিদ ইশরাতের পাশে শুয়ে তার চুল আঁচড়াল। ইশরাত তার বুকে মুখ রাখল। দুজনে চুপ করে রইল। শরীরের উত্তাপ এখনও কাটেনি।
কিন্তু বাস্তবতা ফিরে এল। ইশরাত উঠে বসল। জামাকাপড় পরতে লাগল। নাভিদ বলল, “থাকো।” ইশরাত মাথা নাড়ল। “মেয়ে আছে। রফিক আসবে।” নাভিদ কিছু বলল না। ইশরাত চলে গেল। নাভিদ বিছানায় শুয়ে রইল। শরীরে ইশরাতের গন্ধ। মনে একটা মিষ্টি ব্যথা। সে জানত, এটা ভুল। কিন্তু থামাতে পারেনি।
এরপরও দেখা হওয়া থামল না। তারা আবার মিলিত হল। হোটেলে, কখনো নাভিদের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে। প্রতিবারই আরও গভীর, আরও উত্তপ্ত। ইশরাতের শরীর নাভিদের হাতে গলে যেত। নাভিদ তার প্রতিটি অঙ্গ চিনে নিত আবার। তারা একে অপরকে বলেছিল পুরনো কথা, নতুন কামনা। কিন্তু মাঝে মাঝে ইশরাত কেঁদে ফেলত। বলত, “এটা টিকবে না। আমার সংসার আছে।” নাভিদ চুপ করে তার চোখের জল মুছে দিত। সেও জানত। পুরনো অনুভূতি ফিরে এসেছে, কিন্তু কিছু সম্পর্ককে নতুন করে পাওয়ার অধিকার সবসময় থাকে না।
একদিন ইশরাত ফোন করল কাঁদতে কাঁদতে। রফিক জানতে পেরেছে কিছু। সন্দেহ করছে। বাসায় ঝগড়া হয়েছে। নাভিদ বলল, “আমি আসছি।” ইশরাত বলল, “না। আর জটিল করো না।” নাভিদ থেমে গেল। সে রাতে একা বসে ভাবল। ইশরাতের মেয়ে। তার সংসার। নিজের একাকীত্ব। অতীতের ভালোবাসা। বর্তমানের দায়িত্ব। সব মিলিয়ে একটা কঠিন সিদ্ধান্তের দরকার।
সিদ্ধান্তের সময় এসে গিয়েছিল। নাভিদ আর ইশরাত শেষবারের মতো মিলিত হল একটা শান্ত ফ্ল্যাটে। সারা দুপুর তারা একে অপরকে নিয়ে ব্যস্ত থাকল। নাভিদ ইশরাতকে বিছানায় শুইয়ে ধীরে ধীরে সবকিছু খুলে ফেলল। চুমু খেল প্রতিটি ইঞ্চিতে। ইশরাতের স্তন, পেট, উরু—সব জায়গায়। ইশরাতও নাভিদের শরীর আবিষ্কার করল আবার। হাত দিয়ে, মুখ দিয়ে। তারা একে অপরের ভিতরে ঢুকে গেল। নাভিদ ইশরাতকে উপুড় করে ধরল। পিছন থেকে ঢুকল। ইশরাতের চুল টানল আস্তে। ইশরাত আর্তনাদ করল। তারপর উল্টে দিয়ে সামনে থেকে। চোখে চোখ রেখে। শেষ পর্যন্ত দুজনে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে রইল। ঘামে ভিজে যাওয়া শরীর। হাত ধরাধরি করে।
নাভিদ বলল, “ইশরাত, আমি তোমাকে চাই। পুরোপুরি।” ইশরাত তার বুকে মুখ রেখে বলল, “আমিও। কিন্তু সায়মা...” নাভিদ চুপ করে রইল। ইশরাত বলল, “রফিক খারাপ মানুষ না। শুধু... দূরের। মেয়ের বাবা। আমি সংসার ভাঙতে পারব না।” নাভিদ তার চুল আঁচড়াল। “আমি জানি। আমিও চাই না তোমার জীবন নষ্ট হোক। কিন্তু এভাবে চলতে পারব না।” ইশরাত উঠে বসল। চোখে জল। “তাহলে কী করব?”
নাভিদও উঠে বসল। দুজন মুখোমুখি। “আমাদের থামতে হবে। এখনই। নাহলে আরও বেশি কষ্ট হবে।” ইশরাত কেঁদে ফেলল। নাভিদ তাকে জড়িয়ে ধরল। শরীর লেগে রইল শরীরে। উত্তাপ এখনও আছে, কিন্তু সিদ্ধান্তের ঠান্ডা বাতাসও আছে। তারা আবার চুমু খেল। এবার আস্তে, বিদায়ের মতো। নাভিদ ইশরাতের ঠোঁট, গাল, কপালে চুমু খেল। ইশরাত তার বুকে কান রাখল। হৃদস্পন্দন শুনল।
বিদায়ের সময় নাভিদ বলল, “তুমি সুখী হও। মেয়েকে বড় করো। আমি দূরে থাকব।” ইশরাত মাথা নেড়ে বলল, “তুমিও... নিজের জীবন গড়ো।” দুজনে জানত, এটা সহজ না। পুরনো অনুভূতি মুছবে না। কিন্তু দায়িত্ব বড়। অতীতকে সম্মান করে বর্তমানকে বাঁচাতে হবে।
নাভিদ চট্টগ্রামে ফিরে গেল। ব্যবসায় মন দিল। ইশরাত ঢাকায় সংসার সামলাল। সায়মাকে নিয়ে সময় কাটাল। রফিকের সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতোই রইল, কিন্তু ইশরাত আর অভিযোগ করল না। মনে নাভিদ থাকল। কখনো কখনো রাতে একা শুয়ে তার স্পর্শ মনে পড়ত। শরীর উত্তপ্ত হয়ে উঠত। কিন্তু সে নিজেকে থামিয়ে দিত। নাভিদও একইভাবে কাটাত। কখনো কখনো ইশরাতের নম্বর দেখত ফোনে, কিন্তু কল করত না।
বছর গড়িয়ে গেল। ইশরাতের মেয়ে বড় হল। নাভিদের ব্যবসা আরও বড় হল। তারা আর দেখা করল না। কিন্তু দুজনের মনেই জেগে রইল সেই গভীর ভালোবাসা। যে ভালোবাসা একদিন ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছিল, বিয়ের পর সরে গিয়েছিল, আবার ফিরে এসেছিল, আর শেষে দায়িত্বের কাছে মাথা নত করেছিল। তারা জানত, কিছু সম্পর্ককে নতুন করে পাওয়ার অধিকার সবসময় থাকে না। অতীত সুন্দর ছিল, বর্তমান বাস্তব, আর ভবিষ্যৎ আলাদা পথে। তবু সেই উত্তপ্ত রাতগুলো, সেই গভীর মিলন, সেই চোখের ভাষা—সব মনে থাকবে চিরকাল। দুজনই এগিয়ে গেল নিজের পথে, হৃদয়ে একটা অপূর্ণ ভালোবাসা নিয়ে।
....