তুহিনার জীবনে সামিরান এসেছিল এমনভাবে যেন হঠাৎ কোনো গ্রীষ্মের দুপুরে শীতল হাওয়া বয়ে যায়। সিলেটের চা-বাগান ঘেরা সেই ছোট শহরে তাদের প্রথম দেখা। তুহিনার বাবা চা-বাগানের ম্যানেজার ছিলেন, সামিরান এসেছিল ঢাকা থেকে ব্যবসার কাজে। বাগানের অফিসে কাগজপত্র নিয়ে বসা তুহিনার চোখে পড়েছিল তার। সাদা শার্ট, গাঢ় নীল প্যান্ট, হাতে একটা কালো ফোল্ডার। চোখ দুটো গভীর, কথা কম।
তুহিনা সেদিন চা নিয়ে গিয়েছিল অফিসে। সামিরান তাকিয়েছিল। সেই তাকানোর মধ্যে কিছু ছিল। পরের দিন আবার দেখা। তারপর আবার। এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা কথা বলতে শুরু করেছিল। সামিরান বলত, “তুমি চায়ে চিনি কম দিও।” তুহিনা হাসত, “আপনি তো মিষ্টি পছন্দ করেন না?”
প্রথম চুমুটা হয়েছিল বাগানের পেছনের সেই পুরনো গুদামের আড়ালে। সন্ধ্যার আলো মিলিয়ে যাচ্ছিল। তুহিনার হাত ধরে সামিরান টেনে নিয়ে গিয়েছিল। কোনো কথা হয়নি। শুধু চোখের দিকে তাকিয়ে, তারপর ঠোঁটের ওপর ঠোঁট। তুহিনার শরীর কেঁপে উঠেছিল। সামিরানের হাত তার কোমরে চেপে ধরেছিল, আরেক হাত চুলে। চুমু গভীর হয়েছিল, জিভের স্পর্শ, নিঃশ্বাসের উষ্ণতা। তুহিনা তার শার্টের বোতাম আঁকড়ে ধরেছিল। যখন আলাদা হয়েছিল, তুহিনার ঠোঁট ফুলে ছিল, চোখ আধবোজা।
সেই রাত থেকে তাদের সম্পর্ক অন্য মাত্রায় চলে যায়। সামিরান যখনই সিলেটে আসত, তারা দেখা করত। কখনো বাগানের ভেতরের পথ ধরে হেঁটে, কখনো তুহিনার বাড়ির পেছনের ছোট ঘরে। সেই ঘরে জানালা দিয়ে চাপাতার গন্ধ আসত। সামিরান তুহিনাকে বিছানায় শুইয়ে দিত, শার্ট খুলে ফেলত ধীরে ধীরে। তার আঙুল তুহিনার ত্বকে ঘষে যেত। স্তনের বোঁটা শক্ত হয়ে উঠত তার স্পর্শে। সামিরান মুখ নিচু করে চুষে নিত, জিভ দিয়ে ঘষত। তুহিনা কামড়ে ধরত তার কাঁধ। যখন সামিরান তার ভেতরে ঢুকত, তুহিনা চোখ বন্ধ করে নাম ধরে ডাকত। ধীর গতিতে শুরু, তারপর দ্রুত। বিছানার চাদর মুঠো করে ধরে থাকত তুহিনা। শেষে যখন দুজনেই কাঁপত, সামিরান তাকে জড়িয়ে ধরে বলত, “আমি তোমাকে ছাড়ব না।”
তারা বিয়ের কথাও ভেবেছিল। সামিরান তার পরিবারকে বলেছিল। তুহিনার বাবাও রাজি ছিলেন। কিন্তু সবকিছু ভেঙে যায় একটা মিথ্যা অভিযোগে।
সামিরানের কোম্পানির একটা বড় চুক্তি ছিল চা রপ্তানির। সেই চুক্তির কাগজপত্রে তুহিনার বাবার স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কেউ তুহিনার বাবার নামে অভিযোগ করে যে তিনি কমিশন নিয়েছেন। সামিরানকেও জড়ানো হয়। বলা হয় সামিরান তুহিনাকে ব্যবহার করে তার বাবাকে ফাঁসিয়েছে।
তুহিনা যখন শোনে, বিশ্বাস করতে পারে না। সামিরান তাকে ফোন করে, “আমাকে বিশ্বাস করো। আমি কিছু করিনি।” তুহিনা চিৎকার করে, “তুমি আমার বাবাকে ব্যবহার করেছো! তুমি আমাকেও!” সামিরান চুপ করে থাকে। সে জানে সত্যিটা কী। সত্যিটা প্রকাশ করলে তুহিনার বাবার নামে যে নথি আছে, সেটা আরও বড় ক্ষতি করবে। কারণ আসল দোষী তুহিনার এক আত্মীয়, যে পরিবারের টাকা মেরে দিয়েছে। সামিরান যদি মুখ খোলে, তুহিনার বাবা জেলে যাবেন, পরিবার ভেঙে পড়বে।
তাই সামিরান চুপ থাকে। তুহিনা তাকে সবকিছু বলে। সম্পর্ক শেষ। সামিরান সিলেট ছেড়ে চলে যায়। তুহিনা তার সব ছবি মুছে ফেলে, ফোন নম্বর ব্লক করে। রাতে একা বিছানায় শুয়ে তার গন্ধ মনে পড়ে। শরীর কাঁপে। কিন্তু সে নিজেকে বোঝায়—সে ঠকিয়েছে।
দুই বছর কেটে যায়। তুহিনা ঢাকায় চলে আসে চাকরি নিয়ে। একটা বেসরকারি অফিসে কাজ করে। জীবন চলতে থাকে। কিন্তু রাতে ঘুমোতে গেলে সামিরানের হাতের স্পর্শ মনে পড়ে। তার চুমুর উষ্ণতা। সে নিজেকে ঘৃণা করে সেই স্মৃতির জন্য।
একদিন অফিসের এক সহকর্মী বলে, “তুমি কি সামিরানকে চেনো? সে এখন চট্টগ্রামে একটা বড় কোম্পানির ডিরেক্টর।” তুহিনার বুকের ভেতর কিছু একটা ব্যথা করে। সে মাথা নাড়ে, “না, চিনি না।”
কিন্তু রাতে বাসায় গিয়ে সে তার পুরনো ডায়েরি খুলে দেখে। সামিরানের লেখা একটা চিঠি এখনো আছে। “তুমি আমার সব।” তুহিনা চিঠিটা ছিঁড়ে ফেলতে চায়, কিন্তু পারে না। শুধু বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদে।
সেই রাতে সে স্বপ্ন দেখে। সামিরান তাকে জড়িয়ে ধরে আছে। তার ঠোঁট তুহিনার গলায়, হাত তার স্তনে। তুহিনা স্বপ্নেই তার কাছে আত্মসমর্পণ করে। সকালে উঠে নিজেকে শাপ দেয়। কিন্তু শরীরের ভেতর সেই আগুন নিভে না।
তুহিনা জানে না যে সামিরানও প্রতি রাতে তাকে মনে করে। চট্টগ্রামের তার ফ্ল্যাটে একা বসে থাকে। তুহিনার ছবি এখনো তার ফোনে আছে। সে কখনো মুছেনি। রাতে হাত দিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দেয় তুহিনার নাম ধরে। কিন্তু মুখ খোলে না। কারণ সত্যিটা এখনো তুহিনার পরিবারকে রক্ষা করছে।
তুহিনার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে। তুহিনা সিলেটে ফিরে যায়। বাবার বিছানার পাশে বসে থাকে। বাবা দুর্বল গলায় বলে, “সামিরানের কথা মনে পড়ে। সে ভালো ছেলে ছিল।” তুহিনা চুপ করে থাকে। বাবা জানে না কী হয়েছিল।
একদিন হাসপাতালের করিডোরে তুহিনা একটা পরিচিত পিঠ দেখে। সামিরান। সে ফুল নিয়ে এসেছে তুহিনার বাবার জন্য। তুহিনার চোখ জ্বলে ওঠে। সে সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। “তুমি এখানে কী করছো?”
সামিরান তাকায়। দুই বছর পর প্রথম তাকানো। তার চোখে ক্লান্তি, কিন্তু একই গভীরতা। “তোমার বাবাকে দেখতে এসেছি।”
তুহিনা হাসে তিক্তভাবে। “এখন দয়া দেখাচ্ছো? যখন আমার বাবাকে ফাঁসিয়েছিলে তখন কোথায় ছিলে?”
সামিরান কিছু বলে না। শুধু ফুলগুলো তার হাতে দিয়ে চলে যায়। তুহিনা ফুলগুলো মেঝেতে ছুড়ে ফেলে। কিন্তু রাতে সেই ফুলের পাপড়ি কুড়িয়ে নিজের বালিশের নিচে রাখে।
দুই বছরের দূরত্ব তাদের ভেতরে আগুন নিভিয়ে দিতে পারেনি। বরং আরও জ্বালিয়ে রেখেছে। তুহিনা জানে না যে সামিরান এখনো তার জন্য অপেক্ষা করছে। আর সামিরান জানে না যে তুহিনার শরীর এখনো তার স্পর্শ খোঁজে প্রতি রাতে।
গল্প এখানে থেমে থাকে না। সত্যিটা এখনো লুকানো। আর সেই লুকানো সত্যি একদিন সবকিছু বদলে দেবে।
তুহিনার বাবা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তুহিনা আর সিলেটে থাকে না। ঢাকায় ফিরে যায়। কিন্তু সামিরানের মুখ তার মাথায় ঘুরতে থাকে। অফিসে কাজ করতে গিয়ে মনে পড়ে সেই গুদামের আড়ালে প্রথম চুমু। শরীর গরম হয়ে ওঠে। সে বাথরুমে গিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়, কিন্তু আগুন নিভে না।
তিন মাস পর একটা ব্যবসায়িক সম্মেলনে তুহিনাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রামে। হোটেলে উঠেছে সে। সন্ধ্যার দিকে কনফারেন্স হল থেকে বেরিয়ে লিফটের সামনে দাঁড়াতেই দেখে সামিরান। কালো স্যুট, চুল একটু লম্বা হয়েছে। তুহিনার বুক ধড়ফড় করে।
সামিরান আগে তাকে দেখে ফেলে। “তুহিনা।” তার গলায় সেই পুরনো আওয়াজ।
তুহিনা পালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু পা নড়ে না। “তুমি এখানে?”
“আমার কোম্পানির ইভেন্ট।” সামিরান এগিয়ে আসে। দূরত্ব কমে। তুহিনা তার সুগন্ধ পায়। সেই পুরনো সুগন্ধ। শরীর কেঁপে ওঠে।
তারা একসাথে ডিনারে বসে। কথা কম। তুহিনা জিজ্ঞেস করে, “তুমি কেন চুপ ছিলে সেদিন?” সামিরান চোখ নামিয়ে রাখে। “বলতে পারব না।” তুহিনা রাগে টেবিলে হাত চাপড়ায়। “তুমি আমাকে ভেঙেছো। আর এখনো চুপ?”
রাতে তুহিনা তার রুমে ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। শরীরের প্রতিটা অংশ সামিরানের স্পর্শ মনে করিয়ে দেয়। সে নিজেই নিজের স্তন চেপে ধরে, চোখ বন্ধ করে সামিরানের মুখ কল্পনা করে। আঙুল নিচে নামিয়ে নিজেকে স্পর্শ করে। নাম ধরে ডাকে। শেষে বিছানায় লুটিয়ে পড়ে কাঁপে।
পরের দিন সম্মেলনের পর সামিরান তাকে বলে, “একটু হাঁটবে?” তারা সমুদ্রের ধারে যায়। ঢেউয়ের শব্দ। কোনো বৃষ্টি নেই, শুধু গরম হাওয়া। সামিরান হঠাৎ থেমে দাঁড়ায়। “আমি তোমাকে ভুলিনি।”
তুহিনা তার দিকে তাকায়। রাগ, বেদনা, আর ক্ষুধা একসাথে। সামিরান এগিয়ে আসে। হাত তোলে তার গালে। তুহিনা সরিয়ে দিতে চায়, কিন্তু পারে না। সামিরানের ঠোঁট তার ঠোঁটে এসে পড়ে। চুমুতে আগুন। তুহিনা তার জিভ চুষে নেয়, হাত দিয়ে তার চুল আঁকড়ে ধরে। সামিরান তাকে দেয়ালের দিকে ঠেলে দেয়। হাত তার ব্লাউজের ভেতর ঢোকে, স্তন চেপে ধরে। বোঁটা শক্ত। সামিরান আঙুল দিয়ে ঘষে। তুহিনা গোঙায়।
তারা হোটেলে ফিরে যায়। তুহিনার রুমে। দরজা বন্ধ হতেই কাপড় খুলে যায়। সামিরান তাকে বিছানায় ফেলে দেয়। তার মুখ তুহিনার স্তনে, চোষে, কামড়ায়। তুহিনা তার মাথা চেপে ধরে। সামিরান নিচে নামে। জিভ দিয়ে তার ভেতর চাটে। তুহিনা উরু চেপে ধরে তার মাথা। কাঁপতে কাঁপতে শেষ হয়। তারপর সামিরান উঠে এসে ভেতরে ঢোকে। শক্ত, গভীর। তুহিনা নখ দিয়ে তার পিঠ আঁচড়ায়। প্রতিটা ধাক্কায় বিছানা কাঁপে। সামিরান তার কানে বলে, “তুমি আমার।” তুহিনা উত্তর দিতে পারে না, শুধু আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
শেষে দুজনে পাশাপাশি শুয়ে থাকে। ঘামে ভেজা শরীর। তুহিনা ফিসফিসিয়ে বলে, “এটা কিছু বদলায় না।” সামিরান চুপ। তার চোখে ব্যথা। সে উঠে কাপড় পরে। যাওয়ার আগে বলে, “একদিন বুঝবে।”
তুহিনা একা পড়ে থাকে। শরীর ভারী, মন আরও ভারী। সে জানে সে আবার ভুল করেছে। কিন্তু তার শরীর সামিরান ছাড়া থাকতে চায় না।
পরের সপ্তাহগুলোতে তারা আবার দেখা করে। কখনো হোটেলে, কখনো সামিরানের ফ্ল্যাটে। প্রতিবারই আগুন। সামিরান তাকে টেবিলে শুইয়ে নেয়, রান্নাঘরে দাঁড় করিয়ে নেয়। তুহিনা হাঁটু গেড়ে তার সামনে বসে মুখ দিয়ে নেয়। সামিরানের হাত তার চুলে। গভীরভাবে। তুহিনা চোখ তুলে তাকায়। সামিরানের মুখ বিকৃত হয়ে ওঠে আনন্দে।
কিন্তু কথা হয় না সত্যি নিয়ে। তুহিনা জিজ্ঞেস করলে সামিরান শুধু বলে, “সময় হলে বলব।” তুহিনা রাগে তাকে ধাক্কা দেয় কখনো কখনো। কিন্তু রাতে আবার তার বুকে মুখ গুঁজে ঘুমায়।
একদিন সামিরানের ফোন বাজে। সে অন্য ঘরে গিয়ে কথা বলে। তুহিনা শোনে—কেউ বলছে তুহিনার আত্মীয়ের নাম। সামিরান বলে, “এখনো না। তুহিনাকে রক্ষা করতে হবে।” তুহিনার বুক কেঁপে ওঠে। সে বুঝতে পারে কিছু একটা লুকানো আছে। কিন্তু জিজ্ঞেস করে না। ভয় পায়।
সামিরান ফিরে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। চুমু দেয় গলায়, কানে। হাত নিচে নামিয়ে তার ভেতর আঙুল ঢোকায়। তুহিনা পা ছড়ায়। সামিরান তাকে জানালার কাছে দাঁড় করিয়ে পেছন থেকে নেয়। শহরের আলো নিচে, তাদের শরীর একসাথে কাঁপে।
তুহিনা জানে এই সম্পর্ক ভাঙা কাচের মতো। কিন্তু ছাড়তে পারে না। সামিরানের শরীর তার নেশা হয়ে গেছে। আর সামিরানও জানে যে সে আর লুকিয়ে রাখতে পারবে না বেশিদিন। সত্যিটা প্রকাশের সময় এগিয়ে আসছে।
চার মাস পর সত্যিটা বেরিয়ে পড়ে। তুহিনার আত্মীয়, যে পরিবারের হিসাব রাখত, সে গ্রেপ্তার হয় অন্য এক মামলায়। তার কাছ থেকে নথি উদ্ধার হয়। সেই নথিতে স্পষ্ট—চা রপ্তানির চুক্তিতে জালিয়াতি করেছে সেই আত্মীয়ই। সামিরানকে ফাঁসানো হয়েছিল যাতে তুহিনার বাবাকে চাপ দেওয়া যায়। সামিরান জানত সব। কিন্তু চুপ ছিল কারণ যদি সে মুখ খুলত, তুহিনার বাবার নামে যে জাল কাগজ তৈরি করা হয়েছিল, সেটা আদালতে গিয়ে পরিবারকে ধ্বংস করত। সামিরান নিজে দোষ নিয়ে চুপ থেকে পরিবারকে বাঁচিয়েছিল।
তুহিনা যখন খবর পায়, প্রথমে বিশ্বাস করতে পারে না। তারপর সামিরানের ফোন করে। সামিরান বলে, “এখন বলতে পারি।” তুহিনা কাঁদতে কাঁদতে বলে, “তুমি কেন বলোনি?” সামিরান উত্তর দেয়, “তোমার বাবাকে জেলে যেতে দিতাম না।”
তুহিনা চট্টগ্রামে উড়ে যায়। সামিরানের ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নাড়তেই দরজা খোলে। সামিরান দাঁড়িয়ে। তুহিনা তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কাঁদে। সামিরান তাকে জড়িয়ে ধরে। “ক্ষমা করে দাও।” তুহিনা মাথা নাড়ে। “আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম। তুমি আমাকে রক্ষা করেছো।”
সেই রাতে তারা কথা বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তারপর নীরবতা। সামিরান তুহিনার মুখ তুলে চুমু দেয়। এই চুমু আগের মতো নয়। এতে আছে ক্ষমা, ভালোবাসা, আর গভীর ক্ষুধা। তুহিনা তার জিভ চুষে নেয়। হাত দিয়ে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলে। সামিরান তাকে তুলে বিছানায় নিয়ে যায়।
তারা ধীর গতিতে শুরু করে। সামিরান তুহিনার প্রতিটা ইঞ্চি চুমু দেয়। গলা, স্তন, পেট, উরু। তুহিনা তার চুল আঁকড়ে ধরে। যখন সামিরান তার ভেতরে ঢোকে, তুহিনা চোখের জল ফেলে। “আর ছেড়ো না।” সামিরান তার কপালে চুমু দিয়ে বলে, “কখনো না।” গতি বাড়ে। তুহিনা পা জড়িয়ে ধরে তার কোমর। প্রতিটা ধাক্কায় তারা এক হয়ে যায়। সামিরান তার নাম ধরে ডাকে। তুহিনাও। শেষে দুজনে কাঁপতে কাঁপতে শেষ হয়। ঘামে ভেজা শরীর জড়িয়ে থাকে।
সকালে তুহিনা তার বুকে মাথা রেখে বলে, “আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।” সামিরান হেসে তার ঠোঁটে চুমু দেয়। “আমি অপেক্ষা করছিলাম।”
তারা সিলেটে যায়। তুহিনার বাবার সঙ্গে দেখা করে। বাবা সামিরানের হাত ধরে বলে, “তুমি আমাদের রক্ষা করেছো।” তুহিনার চোখে জল।
বিয়ের পর তারা ঢাকায় থাকে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহেই চট্টগ্রামে যায়, কখনো সিলেটে। রাতে সামিরান তাকে নতুন করে আবিষ্কার করে। কখনো মেঝেতে, কখনো সোফায়, কখনো রান্নাঘরের কাউন্টারে। তুহিনা তার ওপর বসে দোল খায়। সামিরান নিচে থেকে তার স্তন চেপে ধরে। তুহিনার চুল এলোমেলো, মুখ লাল। তারা একে অপরকে কামড়ে ধরে, চিহ্ন রেখে দেয়।
একদিন সামিরান তাকে বলে, “তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছো।” তুহিনা তার ঠোঁটে আঙুল রেখে বলে, “তুমি আমার।” তারপর আবার চুমু। গভীর, উষ্ণ, অন্তহীন।
তাদের গল্প শেষ হয় না। প্রতি রাতে নতুন করে শুরু হয়। তুহিনা এখন জানে—যাকে সে সবচেয়ে বেশি ভুল বুঝেছিল, সেই মানুষটিই তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছিল। আর সেই ভালোবাসা এখন তাদের শরীরে, নিঃশ্বাসে, প্রতিটা স্পর্শে জীবন্ত।
....