স্বীকৃতিহীন যত্নের শেষ দিন

আরাবির জীবন যেন একটা নীরব নদীর মতো বয়ে চলছিল। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার এক ছোট শহরে তাদের বাসা। মাহদিরের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে। তারপর চাকরি, একই শহরে বসবাস, আর ধীরে ধীরে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যেটা কেউ সংজ্ঞা দিতে পারেনি। মাহদির তাকে দেখত অদ্ভুত যত্নে। তার সকালের চায়ে দুই চামচ চিনি ঠিক রাখত, তার পছন্দের মাছের তরকারি রান্না করে রাখত, তার অফিসের চাপ বুঝে রাতে পায়ের চাপড় দিয়ে দিত। কিন্তু কখনো বলেনি “আমি তোমাকে ভালোবাসি”।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

আরাবি বারবার চেষ্টা করেছে। একদিন রাতের খাবারের পর বারান্দায় বসে সে বলেছিল, “মাহদির, তুমি আমাকে কতটা কাছে পাও?” মাহদির হালকা হেসে বলেছিল, “যতটা দরকার।” তারপর চায়ের কাপ নাড়তে নাড়তে চুপ করে গিয়েছিল। আরাবির বুকের ভিতরটা যেন চেপে ধরেছিল। সে চেয়েছিল একটা স্বীকৃতি, একটা কথা, যেটা তাকে নিশ্চিত করবে যে এই যত্নের পেছনে আছে ভালোবাসা। কিন্তু মাহদির কখনো দেয়নি।

তাদের শরীরের সম্পর্ক ছিল গভীর। মাহদিরের হাত যখন তার কোমর বেয়ে উঠত, আরাবির শরীর কাঁপত। রাতের অন্ধকারে মাহদির তার গলায় চুমু দিত ধীরে ধীরে, তারপর কাঁধে, তারপর স্তনের উপরিভাগে। আরাবির শ্বাস দ্রুত হয়ে যেত। মাহদিরের আঙুল তার নাভির নিচে নেমে গেলে সে নিজেকে চেপে ধরত। তাদের শরীর একে অপরের সাথে মিশে যেত এমনভাবে যে মনে হত শুধু শরীরই যথেষ্ট। মাহদির তার ভিতরে প্রবেশ করত ধীরে, গভীরে, আর আরাবির নখ তার পিঠে ফুটে যেত। তারা একে অপরকে চেনে নিত শরীর দিয়ে, শ্বাস দিয়ে, ঘাম দিয়ে। কিন্তু ভোর হলে মাহদির উঠে চা বানাত, আর আরাবি বিছানায় শুয়ে ভাবত—এটা কি ভালোবাসা নাকি শুধু অভ্যাস?

¦Ëk¢x/춺'ƒú

একদিন তারা সমুদ্রের কাছে গিয়েছিল। কক্সবাজারের এক নির্জন অংশে। সূর্য ডুবছিল। মাহদির তার হাত ধরেছিল। আরাবি বলেছিল, “আমাকে বলো তুমি কী অনুভব করো।” মাহদির সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলেছিল, “তুমি আমার জীবনের অংশ।” আরাবির চোখ ভরে এসেছিল। সে চেয়েছিল আরও। চেয়েছিল “ভালোবাসি” শব্দটা। কিন্তু মাহদির আর কিছু বলেনি। সেই রাতে হোটেলে তাদের শরীর আবার মিশেছিল। মাহদির তাকে বিছানায় শুইয়ে তার পোশাক খুলেছিল ধীরে ধীরে। তার চুমু গড়িয়ে গিয়েছিল তার পেটের দিকে, তারপর আরও নিচে। আরাবির কোমর উঠে এসেছিল। মাহদির তার ভিতরে জিভ ঢুকিয়েছিল, আর আরাবির কণ্ঠ থেকে গোঙানি বেরিয়েছিল। পরে মাহদির নিজে তার ওপর উঠে এসেছিল। তাদের দেহের তাল মিলে গিয়েছিল। আরাবির পা তার কোমরে পেঁচিয়ে গিয়েছিল। তারা একে অপরকে টানছিল, চাপছিল, যেন কিছু হারিয়ে যাওয়ার ভয়। শেষে আরাবি কেঁদে ফেলেছিল। মাহদির তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “কী হয়েছে?” আরাবি বলেছিল, “কিছু না।” কিন্তু ভিতরে জানত, সবকিছু হয়েছে।

দিনগুলো কেটেছে এভাবেই। মাহদির তার জন্য সব করত। তার অসুস্থ হলে রাত জেগে পাশের চেয়ারে বসে থাকত। তার চুল আঁচড়িয়ে দিত। তার পছন্দের গান বাজিয়ে রাখত। কিন্তু কথা বলত না। আরাবি বারবার প্রশ্ন করেছে। “তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?” মাহদির হেসে সরিয়ে দিত। “তুমি কি আমার?” আবার একই উত্তর। আরাবির মনে হত সে একটা সুন্দর খাঁচায় বন্দী। যত্ন আছে, আরাম আছে, শরীরের তৃপ্তি আছে, কিন্তু ভালোবাসার স্বীকৃতি নেই।

একদিন অফিস থেকে ফিরে আরাবি দেখে মাহদির রান্না করছে। তার প্রিয় ইলিশ। সে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “আমাকে বলো।” মাহদির ঘুরে দাঁড়িয়ে তার কপালে চুমু দিয়ে বলেছিল, “খেয়ে নাও আগে।” আরাবির হাত কেঁপে উঠেছিল। সে বুঝতে পারছিল, এই মানুষটা তাকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না, কিন্তু বলতে পারবে না। আর সে নিজেও আর অপেক্ষা করতে পারছে না।

সেই রাতে তাদের শরীর আবার এক হয়েছিল। মাহদির তাকে জানালার পাশে দাঁড় করিয়ে তার পোশাক সরিয়ে দিয়েছিল। বাইরের আলো তার শরীরে পড়ছিল। মাহদির তার পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার স্তন চেপে ধরেছিল। আরাবির মাথা পিছনে ঝুঁকে গিয়েছিল। মাহদির তার কানে ফিসফিসিয়ে বলেছিল, “তুমি আমার।” কিন্তু আরাবি চেয়েছিল আরও। চেয়েছিল সেই শব্দটা যেটা কখনো আসেনি। তাদের দেহ মিলেছিল দাঁড়িয়ে। মাহদির তার ভিতরে ঢুকেছিল জোরে। আরাবির হাত কাঁচের ওপর চেপে গিয়েছিল। তারা একে অপরকে টানছিল যেন পৃথিবী শেষ হয়ে যাচ্ছে। শেষে আরাবি মাহদিরের বুকে মুখ গুঁজে কেঁদেছিল। মাহদির কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। শুধু তাকে জড়িয়ে রেখেছিল।

আরাবি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। সে আর থাকতে পারবে না। এই যত্নের ভিতরের শূন্যতা তাকে খেয়ে ফেলছে। সে চেয়েছিল ভালোবাসা, শুধু যত্ন নয়। আর মাহদির তাকে সেটা দিতে পারছে না। অথবা দিতে চাইছে না।

আরাবির মনে দিন দিন একটা দেওয়াল তৈরি হচ্ছিল। মাহদিরের যত্ন যত বাড়ছিল, তার অভাববোধ তত তীব্র হচ্ছিল। সে দেখত মাহদির কিভাবে তার জন্য সবকিছু ঠিক রাখে। তার জুতো পরিষ্কার করে রাখে, তার বইয়ের তাক গুছিয়ে দেয়, তার অসুস্থ মাকে ফোন করে খোঁজ নেয়। কিন্তু যখন আরাবি তার চোখের দিকে তাকায় এবং বলে “আমাকে ভালোবাসো”, মাহদির চুপ করে যায়। সেই চুপটাই আরাবিকে মেরে ফেলছিল।

এক সপ্তাহ তারা কোথাও যায়নি। শুধু বাসায়। রাতগুলো ছিল দীর্ঘ এবং গভীর। মাহদির তাকে বিছানায় শুইয়ে তার পুরো শরীর চুমু দিয়ে ঢেকে দিত। তার জিভ আরাবির গলা বেয়ে নেমে যেত স্তনের ডগায়। আরাবির শরীর কেঁপে উঠত। মাহদির তার স্তন মুখে নিয়ে চুষত, আর আরাবির হাত তার চুলে আটকে যেত। তারপর মাহদির আরও নিচে নামত। আরাবির পা দুটো খুলে দিত। তার জিভ আরাবির ভিতরে ঢুকে যেত গভীরে। আরাবির কোমর উঠে আসত বারবার। সে মাহদিরের মাথা চেপে ধরত। শেষে যখন মাহদির উঠে এসে তার ভিতরে ঢুকত, আরাবির চোখ বন্ধ হয়ে যেত। তাদের দেহের শব্দ ঘরে ভরে যেত। মাহদির জোরে ধাক্কা দিত, আরাবি তার পিঠে নখ বসায় দিত। তারা একে অপরকে খেয়ে ফেলত প্রায়। কিন্তু যখন শেষ হত, আরাবি শুয়ে শুয়ে ভাবত—এটা কি শুধু শরীরের ক্ষুধা?

একদিন সকালে আরাবি বলেছিল, “আমি চলে যাব যদি তুমি না বলো।” মাহদির চায়ের কাপ হাতে থমকে গিয়েছিল। “কী বলব?” আরাবি উত্তর দিয়েছিল, “যা তোমার মনে আছে।” মাহদির দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, “তুমি জানো না?” আরাবি মাথা নেড়ে বলেছিল, “না। আমি জানি না। কারণ তুমি কখনো বলোনি।” মাহদির কাছে এসে তার কাঁধে হাত রেখেছিল। “আমি তোমাকে হারাতে চাই না।” আরাবির চোখ জ্বলে উঠেছিল। “তাহলে বলো।” মাহদির চুপ। আরাবি উঠে দাঁড়িয়েছিল। “ঠিক আছে।”

সেই দিন সারাদিন তারা কথা বলেনি। রাতে মাহদির তাকে জোর করে জড়িয়ে ধরেছিল। আরাবিকে দেয়ালের সাথে চাপ দিয়ে তার ঠোঁটে চুমু দিয়েছিল ক্ষুধার্তের মতো। আরাবি প্রতিরোধ করেনি। তাদের জিভ একে অপরের মুখে ঢুকে গিয়েছিল। মাহদির তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিল প্রায়। আরাবির স্তন তার হাতে চেপে গিয়েছিল। সে আরাবিকে তুলে বিছানায় ফেলে দিয়েছিল। তারপর তার পা দুটো কাঁধে তুলে তার ভিতরে ঢুকেছিল এক টানে। আরাবি চিৎকার করে উঠেছিল। মাহদির থেমে থাকেনি। সে ধাক্কা দিয়ে চলেছিল জোরে, গভীরে। আরাবির শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছিল। তাদের ঘাম মিশে যাচ্ছিল। মাহদির আরাবির গলায় কামড় দিয়েছিল হালকা। আরাবি তার পিঠে আঁচড় কেটেছিল। তারা একে অপরকে শেষ করে দিচ্ছিল যেন এটাই শেষ রাত। শেষে আরাবি কেঁদে ফেলেছিল আবার। মাহদির তার চোখের জল মুছে দিয়েছিল কিন্তু কিছু বলেনি।

পরের দিন আরাবি তার জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করেছিল। মাহদির দেখেও কিছু বলেনি প্রথমে। তারপর এসে দাঁড়িয়েছিল দরজায়। “তুমি সত্যি যাচ্ছ?” আরাবি ঘুরে তাকিয়েছিল। “হ্যাঁ। কারণ তুমি কখনো বলবে না।” মাহদির কাছে এসে তার হাত ধরেছিল। “থেকে যাও।” আরাবি হাত সরিয়ে নিয়েছিল। “কেন?” মাহদিরের গলা কেঁপে উঠেছিল। “কারণ আমি তোমাকে ছাড়া পারব না।” আরাবির চোখে জল এসেছিল। “তাহলে বলো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো।” মাহদিরের ঠোঁট কেঁপে উঠেছিল কিন্তু কোনো শব্দ বেরোয়নি। আরাবি তার সুটকেস বন্ধ করেছিল।

সেই রাতে তারা শেষবার একে অপরকে স্পর্শ করেছিল। মাহদির তাকে বিছানায় শুইয়ে তার পুরো শরীর চুমু দিয়েছিল যেন মুখস্থ করে নিচ্ছে। তার জিভ আরাবির প্রতিটি ভাঁজে গিয়েছিল। আরাবির শরীর আগুন হয়ে গিয়েছিল। মাহদির তার ভিতরে ঢুকেছিল ধীরে, তারপর জোরে। তারা একে অপরকে ধরে রেখেছিল যেন সময় থামিয়ে দিতে চায়। আরাবির নখ মাহদিরের পিঠে রক্ত তুলেছিল। মাহদির তার কানে ফিসফিসিয়ে বলেছিল, “থেকে যাও।” কিন্তু “ভালোবাসি” বলেনি। শেষে আরাবি তার বুকের ওপর শুয়ে কেঁদেছিল দীর্ঘক্ষণ। মাহদির তার চুল আঁচড়ে দিয়েছিল নীরবে।

ভোরের দিকে আরাবি উঠে গিয়েছিল। মাহদির ঘুমিয়ে ছিল। সে চুপচাপ জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। দরজা বন্ধ করার আগে একবার পিছন ফিরে তাকিয়েছিল। মাহদিরের ঘুমন্ত মুখ। সেই মুখ যেটা তাকে এতদিন দেখেছে, যত্ন করেছে, কিন্তু কখনো ভালোবাসার কথা বলেনি। আরাবি দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল।

 

আরাবি চলে যাওয়ার পর মাহদিরের জীবন যেন থেমে গিয়েছিল। সকালে উঠে চা বানাত দুই কাপ। তারপর এক কাপ ফেলে দিত। তার বিছানায় আরাবির গন্ধ লেগে থাকত কয়েকদিন। তারপর সেটাও উধাও হয়ে গিয়েছিল। মাহদির অফিসে যেত, কাজ করত, ফিরে আসত। বাসাটা খালি মনে হত। সে আরাবির পছন্দের মাছ কিনে এনে রান্না করত, তারপর খেতে পারত না। রাতে বিছানায় শুয়ে তার শরীর মনে পড়ত। আরাবির গোঙানি, তার নখের চাপ, তার শ্বাস। মাহদির নিজের হাত দিয়ে নিজেকে স্পর্শ করত কিন্তু কিছুই হত না। শূন্যতা তাকে গ্রাস করেছিল।

তিন দিন পর মাহদির বুঝতে পেরেছিল। আরাবি তার জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ ছিল। সে যত্ন করত কারণ সে ভালোবাসত। কিন্তু বলতে পারেনি। কেন পারেনি সে নিজেও জানে না। হয়তো ভয়। হয়তো অভ্যাস। হয়তো মনে করত কাজ দিয়েই সব বোঝানো যায়। কিন্তু আরাবি চেয়েছিল কথা। আর সে দেয়নি। এখন আরাবি নেই।

মাহদির আরাবিকে খুঁজেছিল। তার ফোন বন্ধ। তার নতুন ঠিকানা কেউ জানে না। সে তার বন্ধুদের কাছে গিয়েছিল, তার পরিবারের কাছে গিয়েছিল। কেউ কিছু বলেনি। মাহদির রাতে ঘুমাতে পারত না। সে বিছানায় শুয়ে আরাবির শরীর মনে করত। কিভাবে সে তার স্তন চেপে ধরত, কিভাবে তার ভিতরে ঢুকত, কিভাবে আরাবি তার নাম ধরে ডাকত। সেই সব স্মৃতি তাকে পাগল করে দিচ্ছিল। সে বুঝতে পেরেছিল সে আরাবিকে কতটা চেয়েছিল। শুধু শরীর নয়, পুরোটা। তার হাসি, তার রাগ, তার চুপচাপ বসে থাকা, তার রান্না, তার সবকিছু।

এক সপ্তাহ পর মাহদির একটা চিঠি পেয়েছিল। আরাবির হাতের লেখা। তাতে লেখা ছিল, “আমি জানি তুমি আমাকে যত্ন করতে। কিন্তু আমি ভালোবাসা চেয়েছিলাম। তুমি দাওনি। আমি চলে গেছি। আমাকে খুঁজো না না।” মাহদির চিঠিটা হাতে নিয়ে বসেছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। সে আরাবির নাম ধরে ডাকছিল বারবার। কিন্তু কেউ সাড়া দিচ্ছিল না।

মাহদির বুঝতে পেরেছিল তার ভুল। সে আরাবিকে ভালোবাসত। গভীরভাবে। তার শরীরের প্রতিটা অংশ, তার মনের প্রতিটা ভাঁজ। কিন্তু সেটা বলেনি। এখন বলেও লাভ নেই। আরাবি চলে গেছে। আর মাহদির একা। তার যত্ন করার কেউ নেই। তার শরীরের ক্ষুধা মেটানোর কেউ নেই। তার জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ হারিয়ে গেছে কারণ সে কখনো বলতে পারেনি যে সে ভালোবাসে।

রাতগুলো দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল। মাহদির বিছানায় শুয়ে আরাবির কল্পনা করত। কিভাবে সে আরাবিকে জড়িয়ে ধরত, কিভাবে তার ঠোঁটে চুমু দিত, কিভাবে তার ভিতরে ঢুকে যেত। সেই সব স্মৃতি এখন তার একমাত্র সঙ্গী। সে বুঝতে পেরেছিল ভালোবাসা শুধু যত্ন নয়। ভালোবাসা হল সেই কথাটা যেটা সে কখনো বলেনি। আর এখন সেটা বলার কেউ নেই।

মাহদির জানালা খুলে বাইরের দিকে তাকিয়েছিল। শহরের আলো জ্বলছিল। কোথাও আরাবি আছে হয়তো। সে কি ভাবছে মাহদিরের কথা? সে কি মনে রাখে তাদের রাতগুলো? মাহদির জানে না। সে শুধু জানে যে সে আরাবিকে ভালোবাসত। আর সেটা কখনো বলেনি। এখন তার জীবন শূন্য। আর সেই শূন্যতা তাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দিচ্ছে তার ভুলের কথা।

আরাবি চলে গেছে। মাহদির পেছনে পড়ে আছে। আর তাদের মধ্যে যে গভীর শরীরের সম্পর্ক ছিল, যে রাতগুলোতে তারা একে অপরকে খেয়ে ফেলত, সেগুলো এখন শুধু স্মৃতি। মাহদির বুঝতে পেরেছে অনেক দেরিতে। যে মানুষটাকে সে নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশ মনে করত, তাকে সে

কখনো তা জানাতেই পারেনি।

....
👁 14