নূরাইনার চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুগুলো আর ধরে রাখা যাচ্ছিল না। সে ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরের পথের দিকে তাকিয়েছিল। ঢাকার উত্তরার এই ফ্ল্যাটটা আজকাল তার কাছে কারাগারের মতো মনে হয়। প্রতিটি কোণে ইরফানের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাদের প্রথম সাক্ষাত, প্রথম হাত ধরা, প্রথম চুমু—সবকিছু যেন এখনও দেয়ালে লেগে আছে।
দশ বছর আগে কক্সবাজারের একটা রিসোর্টে তাদের দেখা হয়েছিল। ইরফান তখন সদ্য ব্যবসা শুরু করেছে। নূরাইনা ছিল তার বন্ধুর বোন। সেই সন্ধ্যায় সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ আর লবণাক্ত হাওয়ায় তাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য সুতো বেঁধে গিয়েছিল। ইরফান তাকে প্রথমবার যখন বলেছিল, “নূরা, তুমি আমার জীবনের আলো,” তখন নূরাইনার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠেছিল।
কিন্তু সেই আলো নিভে গিয়েছিল একটা সিদ্ধান্তের কারণে। নূরাইনার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার খরচ মেটাতে পরিবারের সবকিছু বিক্রি করেও টাকা জোটেনি। তখন ইরফানের পরিবারের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়ার কথা উঠেছিল। নূরাইনার মা চাপ দিয়েছিলেন। ইরফানের বাবা তখন ব্যবসায় বড় লোকসানের মুখে। নূরাইনা জানত, যদি সে ইরফানের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যায়, তাহলে ইরফানের পরিবার আরও চাপে পড়বে। তাই সে নিজে থেকেই সবকিছু শেষ করে দিয়েছিল। একটা মিথ্যা কথা বলেছিল—যে সে অন্য কাউকে ভালোবাসে। ইরফান সেদিন তার চোখের দিকে তাকিয়ে শুধু বলেছিল, “যদি এটাই তোমার ইচ্ছা হয়।” তারপর আর কখনো ফোন করেনি।
আজ সকালে নূরাইনার হাতে এসেছে একটা চিঠি। ইরফানের হাতের লেখা। সে জানে না কে পাঠিয়েছে। চিঠিতে শুধু লেখা— “সত্য জানতে চাই। আজ রাত আটটায় পুরান ঢাকার সেই চায়ের দোকানে।” নূরাইনার হাত কাঁপছে। সে জানে, ইরফান যদি সত্য জানে, তাহলে হয়তো ক্ষমা করবে না। কিন্তু সে আর লুকিয়ে থাকতে চায় না।
রাত আটটায় সে পুরান ঢাকার সেই সরু গলিতে পৌঁছায়। দোকানের কোণে ইরফান বসে আছে। তার চুল এখন আরও ঘন, দাড়ি ঘন হয়েছে, কিন্তু চোখের সেই তীব্রতা এখনও আছে। নূরাইনা এগিয়ে গিয়ে সামনে বসে। ইরফান তাকিয়ে শুধু বলে, “বলো।”
নূরাইনা সব খুলে বলে। বাবার অসুস্থতা, টাকার অভাব, তার সিদ্ধান্ত। ইরফান শুনতে শুনতে চোখ বন্ধ করে রাখে। শেষে সে বলে, “তুমি কেন আমাকে বলোনি? আমি সবকিছু সামলাতাম।” নূরাইনার গলা বন্ধ হয়ে আসে। “কারণ আমি চাইনি তোমার পরিবার ভেঙে যাক।” ইরফান হঠাৎ তার হাত ধরে। হাতের ছোঁয়ায় নূরাইনার শরীর কেঁপে ওঠে। দশ বছর পরও সেই ছোঁয়া আগের মতোই গরম।
তারা দোকান থেকে বেরিয়ে সরু গলিতে হাঁটে। ইরফান হঠাৎ থেমে নূরাইনাকে দেয়ালের দিকে ঠেলে দেয়। তার শ্বাস নূরাইনার গালে লাগে। “আমি তোমাকে হারাতে রাজি ছিলাম না,” সে ফিসফিস করে। নূরাইনার হাত ইরফানের বুকে ওঠে। বুকের ধুকপুক শোনা যায়। ইরফান তার ঠোঁটের কাছে মুখ নিয়ে যায়। চুমুটা গভীর, ক্ষুধার্ত, যেন দশ বছরের অপেক্ষা একসঙ্গে ফেটে পড়ছে। নূরাইনার আঙুল ইরফানের চুলের ফাঁকে ঢুকে যায়। ইরফানের হাত তার কোমর ঘিরে ধরে, শরীর টেনে নেয় নিজের দিকে। গরম নিঃশ্বাস, ঠোঁটের চাপ, জিভের স্পর্শ—সবকিছু যেন আগুনের মতো জ্বলে।
গলির অন্ধকারে তারা আরও কাছে আসে। ইরফান নূরাইনার গলায় চুমু খায়, কানে ফিসফিস করে বলে, “আজ রাতটা আমার।” নূরাইনা মাথা নাড়ে। তার শরীর ইরফানের স্পর্শে কেঁপে কেঁপে ওঠে। তারা একটা পুরনো বাড়ির দোতলার খালি রুমে উঠে যায়। দরজা বন্ধ হতে না হতেই ইরফান তাকে আবার জড়িয়ে ধরে। কাপড় খুলতে খুলতে তাদের শরীর আরও গরম হয়ে ওঠে। ইরফানের হাত নূরাইনার পিঠে ঘুরে বেড়ায়, স্তনের ওপর চাপ দেয়, ঠোঁট দিয়ে চুষে নেয়। নূরাইনার আঙুল ইরফানের পেটের দিকে নামে, তারপর আরও নিচে। দুজনের শ্বাস দ্রুত হয়ে যায়। ইরফান তাকে বিছানায় শুইয়ে দেয়। তার শরীর নূরাইনার ওপর ঝুঁকে পড়ে। ধীরে ধীরে ভেতরে ঢোকে। নূরাইনার চোখ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যথা আর আনন্দের মিশ্রণে সে চেঁচিয়ে ওঠে। ইরফান ধীরে ধীরে গতি বাড়ায়। প্রতিটি ধাক্কায় তাদের শরীর এক হয়ে যায়। ঘামে ভিজে যায় চাদর। ইরফানের ঠোঁট নূরাইনার গলায়, কাঁধে, বুকে ঘুরে বেড়ায়। নূরাইনা তার পিঠে নখ বসায়। শেষ পর্যন্ত তারা একসঙ্গে শিখরে পৌঁছায়। নূরাইনার শরীর কেঁপে ওঠে, ইরফান তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে।
রাত গভীর হয়। তারা পাশাপাশি শুয়ে থাকে। ইরফান নূরাইনার চুল আঙুল দিয়ে সরায়। “আমি তোমাকে আর ছাড়ব না,” সে বলে। নূরাইনা তার বুকে মাথা রাখে। কিন্তু মনের কোনো কোণে এখনও ভয় আছে। ইরফানের পরিবার কি তাকে মেনে নেবে? সেই পুরনো ক্ষত কি সত্যিই মিলিয়ে যাবে?
সকালে ইরফান তাকে বলে, “আমার বাবা এখনও বেঁচে আছেন। তিনি সব জানতে চান।” নূরাইনার বুক কেঁপে ওঠে। সে জানে, এখন আসল পরীক্ষা শুরু হবে।
ইরফানের বাবা এখন চট্টগ্রামের একটা পুরনো বাড়িতে থাকেন। ব্যবসায় লোকসানের পর তিনি ঢাকা ছেড়ে চলে এসেছিলেন। নূরাইনা আর ইরফান একসঙ্গে ট্রেনে চড়ে যায়। পথে ইরফান তার হাত ধরে রাখে। মাঝে মাঝে ঠোঁটে চুমু দেয়। নূরাইনার শরীর প্রতিবারই সাড়া দেয়। ট্রেনের কেবিনে তারা একবার জানালা বন্ধ করে জড়িয়ে ধরে। ইরফানের হাত তার জামার ভেতর ঢোকে, স্তন চেপে ধরে। নূরাইনা মুখ চেপে রাখে যেন শব্দ না বেরোয়। ইরফান তার কানে বলে, “আমি তোমার শরীর ভুলে যাইনি।” নূরাইনার হাঁটু কাঁপে।
চট্টগ্রামে পৌঁছে তারা সরাসরি বাড়িতে যায়। ইরফানের বাবা বয়সে অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তিনি নূরাইনাকে দেখে চুপ করে থাকেন। ইরফান সব খুলে বলে। বাবা শোনেন। শেষে তিনি নূরাইনার দিকে তাকিয়ে বলেন, “তুমি যদি সেদিন বলতে, আমি সাহায্য করতাম। কিন্তু তুমি চুপ করে গেলে। এখন এসে ক্ষমা চাইছ?” নূরাইনা মাথা নিচু করে। “আমি ভুল করেছি। কিন্তু আমি ইরফানকে কষ্ট দিতে চাইনি।” বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। “যাও, আজ রাতটা এখানে থাকো। কাল কথা বলব।”
রাতের বেলা বাড়ির পেছনের বারান্দায় ইরফান আর নূরাইনা বসে। চাঁদের আলোয় তাদের মুখ দেখা যায়। ইরফান হঠাৎ নূরাইনাকে কোলে তুলে নেয়। তার শরীর নূরাইনার ওপর চাপ দেয়। “আমার বাবা কঠিন মানুষ,” সে বলে। “কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়ব না।” নূরাইনা তার গলা জড়িয়ে ধরে। তাদের চুমু আবার গভীর হয়ে ওঠে। ইরফান তাকে ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। দরজা বন্ধ করে কাপড় খুলে ফেলে। নূরাইনার শরীর তার হাতের তলায় কেঁপে ওঠে। ইরফান তাকে বিছানায় শুইয়ে হাঁটু ভাঁজ করে। তার ঠোঁট নূরাইনার উরুর ভেতর দিয়ে ওপরে ওঠে। নূরাইনার আঙুল চাদর চেপে ধরে। ইরফানের জিভ তার সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। নূরাইনা আর সহ্য করতে না পেরে চেঁচিয়ে ওঠে। ইরফান উঠে এসে তার ওপর শুয়ে পড়ে। এক টানে ভেতরে ঢুকে যায়। নূরাইনার পা ইরফানের কোমর জড়িয়ে ধরে। তারা দ্রুত গতিতে এগোয়। বিছানা কেঁপে ওঠে। ঘামে ভিজে যায় দুজনের শরীর। ইরফান নূরাইনার কানে কানে বলে, “তুমি শুধু আমার।” নূরাইনা তার পিঠে নখ বসায়। শেষে তারা একসঙ্গে শিখরে পৌঁছায়। নূরাইনার শরীর কেঁপে কেঁপে যায়। ইরফান তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকে।
সকালে বাবা তাদের ডেকে পাঠান। তিনি নূরাইনার দিকে তাকিয়ে বলেন, “আমি তোমাকে ক্ষমা করছি। কিন্তু এক শর্ত। তুমি ইরফানের সঙ্গে থাকবে। আর কখনো তাকে ছেড়ে যাবে না।” নূরাইনার চোখে জল চলে আসে। সে মাথা নাড়ে। ইরফান তার হাত ধরে। বাবা হাসলেন। “এখন যাও, নিজেদের জীবন গড়ো।”
তারা ঢাকায় ফিরে আসে। ইরফান তার ফ্ল্যাটে নূরাইনাকে নিয়ে যায়। দরজা বন্ধ হতে না হতেই তারা আবার জড়িয়ে ধরে। ইরফান তাকে দেয়ালে ঠেলে কাপড় খুলে ফেলে। নূরাইনার পা তার কোমর জড়িয়ে ধরে। ইরফান দাঁড়িয়েই ভেতরে ঢোকে। নূরাইনার মাথা দেয়ালে ঠেকে যায়। প্রতিটি ধাক্কায় তার শরীর কেঁপে ওঠে। ইরফানের হাত তার নিতম্ব চেপে ধরে। তারা ঘামে ভিজে যায়। নূরাইনা চেঁচিয়ে ওঠে। ইরফান তার গলায় দাঁত বসায়। শেষ পর্যন্ত তারা মেঝেতে পড়ে যায়। ইরফান ওপরে থেকে গতি বাড়ায়। নূরাইনার নখ তার পিঠে দাগ কাটে। একসঙ্গে শিখরে পৌঁছানোর পর তারা হাঁপাতে হাঁপাতে শুয়ে থাকে।
ইরফান নূরাইনার চুলে হাত বোলায়। “এখন থেকে কোনো দূরত্ব নেই,” সে বলে। নূরাইনা তার বুকে মাথা রাখে। কিন্তু মনের কোনো কোণে এখনও একটা প্রশ্ন ঘুরছে—দশ বছরের ব্যবধান কি সত্যিই মিলিয়ে যাবে?
কয়েক মাস কেটে যায়। নূরাইনা আর ইরফান একসঙ্গে থাকতে শুরু করে। ইরফানের ব্যবসা আবার গতি পায়। নূরাইনা একটা বেসরকারি অফিসে কাজ নেয়। রাতে তারা একসঙ্গে রান্না করে, গল্প করে, তারপর বিছানায় যায়। প্রতি রাতই যেন নতুন। ইরফান নূরাইনার শরীরের প্রতিটি কোণ চেনে। নূরাইনাও ইরফানের প্রতিটি স্পর্শে সাড়া দেয়।
এক রাতে ইরফান তাকে বলে, “চলো, কক্সবাজার যাই। যেখানে আমাদের শুরু হয়েছিল।” নূরাইনা রাজি হয়। তারা কক্সবাজারের একটা রিসোর্টে ঘর নেয়। সমুদ্রের ধারে বসে তারা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে কথা বলে। ইরফান হঠাৎ নূরাইনার হাতে একটা আংটি পরাতে চায়। “বিয়ে করবে?” সে জিজ্ঞেস করে। নূরাইনার চোখে জল চলে আসে। সে মাথা নাড়ে। ইরফান তাকে জড়িয়ে ধরে। সমুদ্রের হাওয়ায় তাদের চুল উড়ে যায়।
রাতে ঘরে ফিরে তারা কাপড় খুলে ফেলে। ইরফান নূরাইনাকে বিছানায় শুইয়ে আস্তে আস্তে তার শরীর চুমুতে থাকে। গলা থেকে শুরু করে বুক, পেট, তারপর আরও নিচে। নূরাইনার শরীর কেঁপে ওঠে। ইরফান তার উরুর ভেতর জিভ দিয়ে চেখে নেয়। নূরাইনা আর সহ্য করতে না পেরে তার চুল টানে। ইরফান উঠে এসে তার পা আলাদা করে। ধীরে ধীরে ভেতরে ঢোকে। নূরাইনার চোখ বন্ধ হয়ে যায়। ইরফান গতি বাড়ায়। প্রতিটি ধাক্কায় নূরাইনার শরীর কেঁপে ওঠে। ইরফানের হাত তার স্তন চেপে ধরে। নূরাইনা তার পিঠে নখ বসায়। তারা ঘামে ভিজে যায়। শেষে নূরাইনা চেঁচিয়ে ওঠে। ইরফানও তার সঙ্গে শিখরে পৌঁছায়। তারা জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকে।
পরের দিন তারা সমুদ্রের ধারে হাঁটে। ইরফান নূরাইনার কোমর জড়িয়ে ধরে। “আমরা হারিয়ে গিয়েছিলাম,” সে বলে। “কিন্তু এখন আর হারাব না।” নূরাইনা তার বুকে মাথা রাখে। দশ বছরের ব্যবধান যেন এক মুহূর্তে মিলিয়ে যায়।
ঢাকায় ফিরে তারা বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। ইরফানের বাবা চট্টগ্রাম থেকে আসেন। নূরাইনার মাও আসেন। বিয়ের রাতে তারা আবার একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। রাতে ঘরে ঢুকে ইরফান নূরাইনাকে জড়িয়ে ধরে। কাপড় খুলতে খুলতে তাদের শরীর আরও গরম হয়ে ওঠে। ইরফান তাকে বিছানায় শুইয়ে হাঁটু ভাঁজ করে। তার ঠোঁট নূরাইনার সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। নূরাইনা আর সহ্য করতে না পেরে তাকে টানে। ইরফান ভেতরে ঢোকে। ধীরে ধীরে গতি বাড়ায়। নূরাইনার পা তার কোমর জড়িয়ে ধরে। তারা একসঙ্গে শিখরে পৌঁছায়। নূরাইনার শরীর কেঁপে ওঠে। ইরফান তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে।
সকালে ইরফান নূরাইনার চুলে হাত বোলায়। “এখন থেকে আমরা এক,” সে বলে। নূরাইনা তার বুকে মাথা রাখে। দশ বছর আগের সেই ভুল এখন আর ভুল নয়। এখন শুধু ভালোবাসা। গভীর, গরম, অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসা।
তারা একসঙ্গে জীবন শুরু করে। প্রতিদিন নতুন করে একে অপরকে চেনে। রাতে শরীর মিলিয়ে, দিনে হাত ধরে হাঁটে। নূরাইনা আর কখনো ইরফানকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবে না। ইরফানও আর কখনো তাকে হারানোর ভয় পায় না। তাদের সম্পর্ক এখন শুধু স্মৃতি নয়—এখন বাস্তব, জীবন্ত, গরম।
....