বাস্তবের মুখোমুখি দুই হৃদয়

মাহিরা আর রিদওয়ানের গল্প শুরু হয়েছিল ঢাকার এক সাধারণ অথচ ব্যস্ত পাড়ায়। দুজনের বাড়ি একে অপরের কাছাকাছি। মাহিরার বাবা একটা প্রাইভেট ফার্মে অ্যাকাউন্ট্যান্ট, রিদওয়ানের বাবা একটা কলেজের শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই দুজন একই স্কুলে পড়ত। পরে কলেজেও একসঙ্গে। কিন্তু সেই বন্ধুত্ব যে কখন গভীর অনুভূতিতে রূপ নিল, তা কেউ ঠিক করে বলতে পারে না।

¦Ëk¢xz˲Úèžé

মাহিরা ছিলেন একটু চুপচাপ স্বভাবের। লম্বা চুল, বড় চোখ, আর কথা বলার সময় হালকা হাসির রেখা মুখে। রিদওয়ান ছিলেন একটু উদ্দাম। ফুটবল খেলত, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিত, কিন্তু মাহিরার সামনে এলে তার গলার স্বর বদলে যেত। দুজনেই জানত একে অপরের প্রতি তাদের অনুভূতি সাধারণ বন্ধুত্বের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু কেউ মুখ খোলেনি। ভয় ছিল সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। ভয় ছিল পরিবারের কথা। ভয় ছিল নিজের হৃদয়ের সেই গভীর চাওয়া প্রকাশ করলে সবকিছু ভেঙে পড়বে।

একদিন বিকেলে মাহিরা ছাদে কাপড় শুকাচ্ছিল। রিদওয়ান নিচের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। চোখ তুলে দেখল মাহিরাকে। সাদা সালোয়ার-কামিজ পরে, চুল আলগা করে রাখা। হালকা বাতাসে চুল উড়ছে। রিদওয়ানের বুকের ভেতর কিছু একটা টানল। সে দাঁড়িয়ে রইল। মাহিরা তাকিয়ে দেখল। দুজনের চোখাচোখি হলো। কয়েক সেকেন্ডের জন্য সময় থেমে গেল। তারপর মাহিরা চোখ সরিয়ে নিল। রিদওয়ানও হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু সেই দিন থেকে তাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য সুতো বাঁধা হয়ে গেল।

¦Ëk¢x/춺'ƒú

কলেজের শেষ বছর। দুজনেই প্রায় প্রতিদিন একসঙ্গে লাইব্রেরিতে পড়ত। মাহিরা হিসাববিজ্ঞান পড়ছে, রিদওয়ান ইংরেজি। লাইব্রেরির এক কোণে বসে দুজনে নোট শেয়ার করত। কখনো কখনো হাতের আঙুল একে অপরের হাত স্পর্শ করত। সেই স্পর্শ যেন বিদ্যুৎ। মাহিরার গালে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ত। রিদওয়ানের হাত কাঁপত। কিন্তু কেউ কিছু বলত না। শুধু চোখে চোখে কথা হতো।

একদিন রাতে রিদওয়ান মাহিরাকে মেসেজ করল। “কাল সকালে নদীর পাড়ে যাবি?” মাহিরা উত্তর দিল, “হ্যাঁ।” পরদিন সকালে দুজনে নদীর ধারে গেল। পানি শান্ত। চারপাশে সবুজ ঘাস। কেউ নেই। দুজনে পাশাপাশি বসল। রিদওয়ান মাহিরার হাত ধরল। প্রথমবার। মাহিরা হাত সরাল না। রিদওয়ানের আঙুল তার আঙুলের ফাঁকে ঢুকে গেল। দুজনের শরীর কাছাকাছি। রিদওয়ান মাহিরার চোখের দিকে তাকাল। মাহিরাও তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে রিদওয়ান মাথার কাছে এগিয়ে গেল। মাহিরার ঠোঁট স্পর্শ করল। প্রথম চুমু। নরম, ভয়ংকরভাবে মিষ্টি। মাহিরার হাত রিদওয়ানের কাঁধে উঠে এল। রিদওয়ানের হাত তার কোমরে। চুমু গভীর হলো। জিভের স্পর্শ। শ্বাস গরম। দুজনের শরীর কাঁপছে। অনেকক্ষণ ধরে তারা এভাবেই থাকল। তারপর আলাদা হলো। মাহিরা মাথা নিচু করে বলল, “এটা ঠিক হচ্ছে না।” রিদওয়ান বলল, “কিন্তু আমার আর থাকা যাচ্ছে না।”

সেই দিন থেকে তাদের মধ্যে গোপন দেখা শুরু হলো। কখনো রিদওয়ানের বাবার পুরনো গাড়িতে, কখনো মাহিরার বাড়ির পেছনের বাগানে, কখনো ছাদে। প্রতিটি দেখায় তাদের শরীর আরও কাছাকাছি চলে আসত। রিদওয়ান মাহিরার চুল আঙুল দিয়ে সরিয়ে কান চুমু দিত। মাহিরা রিদওয়ানের বুকের ওপর মাথা রাখত। হাত দিয়ে তার শরীর স্পর্শ করত। একদিন রাতে ছাদে দুজনে শুয়ে আছে। চাঁদের আলো। রিদওয়ান মাহিরার কামিজের বোতাম খুলল। মাহিরা বাধা দিল না। রিদওয়ানের হাত তার স্তনের ওপর। নরম স্পর্শ। মাহিরা হাঁসছে। রিদওয়ান তার ঠোঁটে চুমু দিতে দিতে নিচে নেমে গেল। মাহিরার পেটের ওপর চুমু। তারপর আরও নিচে। মাহিরা চোখ বন্ধ করে শরীরের প্রতিটি স্পর্শ অনুভব করছে। রিদওয়ানের জিভ তার সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায়। মাহিরার হাত রিদওয়ানের চুলে মুঠো করে ধরে আছে। তার শরীর কেঁপে উঠছে। একসময় সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। গভীর স্বস্তির শ্বাস ফেলল। রিদওয়ান উঠে এসে তার ঠোঁটে চুমু দিল। মাহিরা তার হাত রিদওয়ানের প্যান্টের ভেতর ঢোকাল। শক্ত অঙ্গ স্পর্শ করল। রিদওয়ান গর্জন করল। মাহিরা ধীরে ধীরে নামল। মুখ দিয়ে নিয়ে নিল। রিদওয়ানের হাত তার মাথায়। অনেকক্ষণ ধরে। তারপর রিদওয়ান মাহিরাকে উপুড় করে শুইয়ে দিল। নিজে উপরে উঠল। ধীরে ধীরে ঢুকল। মাহিরা ব্যথায় চিৎকার করল, কিন্তু রিদওয়ান থামল না। ধীরে ধীরে গতি বাড়াল। দুজনের শরীর এক হয়ে গেল। ঘাম, শ্বাস, আর গভীর আর্তনাদ। সেই রাতে তারা একে অপরকে সম্পূর্ণভাবে পেল।

কিন্তু সকাল হলেই বাস্তব ফিরে আসত। পরিবার, সমাজ, ভবিষ্যৎ। মাহিরা কখনো বলত, “আমরা যদি এভাবে চলতে থাকি, একদিন ধরা পড়ব।” রিদওয়ান বলত, “আমি তোকে ছাড়ব না।” কিন্তু কথাগুলো শুধু কথাই থেকে যেত। কেউ পরিবারকে জানাত না। কেউ প্রস্তাব দিত না। সময় পার হতে থাকল।

কলেজ শেষ। রিদওয়ান একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি পেল। মাহিরা বাড়িতেই থাকল। দুজনের দেখা কমে গেল। কিন্তু ফোনে, মেসেজে ভালোবাসা টিকে থাকল। একদিন মাহিরার মা বলল, “তোমার বিয়ের কথা ভাবতে হবে।” মাহিরা চুপ করে থাকল। রিদওয়ানকে জানাল। রিদওয়ান বলল, “আমি কথা বলব তোমার বাবার সঙ্গে।” কিন্তু সেই কথা বলার সাহস সে আর পায়নি। দিনের পর দিন চলে গেল। মাহিরার বাবা একটা ছেলের সঙ্গে কথা বললেন। ছেলেটি ঢাকার বাইরে চাকরি করে। পরিবার ভালো। মাহিরা কিছু বলতে পারল না।

রিদওয়ান জানল। তার বুক ভেঙে গেল। সে মাহিরাকে ফোন করল। “আমি আসব।” মাহিরা বলল, “এসো।” রাতে রিদওয়ান এল। দুজনে ছাদে দাঁড়াল। রিদওয়ান মাহিরার হাত ধরে বলল, “আমি তোকে ভালোবাসি। অনেকদিন ধরে। আজ বলতে চাই।” মাহিরা তার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, “এতদিন নীরব ছিলে কেন?”

রিদওয়ানের চোখে জল। সে কোনো উত্তর দিতে পারল না। শুধু মাহিরাকে জড়িয়ে ধরল। মাহিরাও তার বুকে মুখ গুঁজল। দুজনের শরীর আবার কাছাকাছি। রিদওয়ান মাহিরার ঠোঁটে চুমু দিল। গভীর, ক্ষুধার্ত। মাহিরা সাড়া দিল। তাদের হাত একে অপরের শরীরে ঘুরছে। রিদওয়ান মাহিরার কামিজ খুলে ফেলল। মাহিরা রিদওয়ানের শার্ট খুলল। দুজন নগ্ন হয়ে ছাদের মেঝেতে শুয়ে পড়ল। রিদওয়ান মাহিরার শরীর চুমু দিয়ে দিয়ে নামল। তারপর উঠে এসে ঢুকল। এইবার আরও জোরে, আরও গভীরে। মাহিরা তার নাম ধরে ডাকছে। রিদওয়ান তার কানে ফিসফিস করছে, “তুই আমার।” অনেকক্ষণ ধরে তারা এভাবেই একে অপরকে নিল। শেষে দুজনে কাঁপতে কাঁপতে শুয়ে থাকল। কিন্তু সকাল হলেই মাহিরার বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে গেল।

 

মাহিরার বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার পর থেকে রিদওয়ানের জীবন যেন থেমে গেল। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই তার মনে হয় সবকিছু স্বপ্ন। কিন্তু বাস্তব তাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়। মাহিরার বাড়িতে আত্মীয়স্বজন আসা-যাওয়া শুরু করেছে। নতুন কাপড়, গহনা, আলোচনা। মাহিরা চুপচাপ সবকিছু সহ্য করছে। রিদওয়ানকে সে আর ফোন করে না। মেসেজও করে না। রিদওয়ান বারবার কল করে। মাহিরা একদিন উত্তর দিল। গলার স্বর শুকনো। “আর কল কোরো না। আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।” রিদওয়ান বলল, “আমি তোকে ছাড়তে পারব না।” মাহিরা বলল, “তুমি এতদিন কেন বলোনি? এখন আর সময় নেই।” ফোন কেটে গেল।

রিদওয়ান সেই রাতেই মাহিরার বাড়ির সামনে গেল। দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকল। ছাদে উঠে মাহিরার ঘরের জানালায় টোকা দিল। মাহিরা জানালা খুলল। চোখে জল। রিদওয়ান ভেতরে ঢুকল। দুজনে জড়িয়ে ধরল। কথা নেই। শুধু শরীর। রিদওয়ান মাহিরাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। তার শাড়ি খুলে ফেলল। মাহিরাও রিদওয়ানের জামা খুলল। দুজনের শরীর গরম। রিদওয়ান মাহিরার স্তন মুখে নিল। জিভ দিয়ে চেটে চেটে। মাহিরা হাঁসছে। রিদওয়ান নিচে নামল। তার পায়ের মধ্যে মুখ রাখল। জিভ দিয়ে সেই জায়গায় চাপ দিল যেখানে মাহিরা সবচেয়ে বেশি অনুভব করে। মাহিরার শরীর কেঁপে উঠছে। সে রিদওয়ানের চুল মুঠো করে ধরে আছে। একসময় সে চিৎকার করে উঠল। রিদওয়ান উঠে এসে তার ভেতর ঢুকল। এইবার আর ধীরে নয়। জোরে, গভীরে, বারবার। মাহিরা তার পিঠে নখ দিয়ে আঁচড় কাটছে। রিদওয়ান তার কানে বলছে, “তুই আমার। শুধু আমার।” অনেকক্ষণ ধরে তারা এভাবেই চলল। শেষে দুজনে ঘামে ভিজে শুয়ে থাকল। রিদওয়ান মাহিরার চোখের জল মুছে দিল। বলল, “আমি তোর বাবার সঙ্গে কথা বলব।” মাহিরা বলল, “এখন আর লাভ নেই। সব ঠিক হয়ে গেছে।”

পরের দিন রিদওয়ান সত্যিই মাহিরার বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেল। বাবা শান্ত স্বরে বললেন, “রিদওয়ান, তুমি ভালো ছেলে। কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই। মাহিরার বিয়ে অন্য জায়গায় ঠিক হয়েছে। পরিবারের সম্মানের কথা ভাবো।” রিদওয়ান কিছু বলতে পারল না। বাড়ি ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ করে কাঁদল।

মাহিরাও বাড়িতে চুপচাপ। তার মা তাকে নতুন শাড়ি পরাতে চায়। মাহিরা পরতে চায় না। রাতে সে একা ঘরে বসে রিদওয়ানের কথা ভাবে। তার শরীর মনে পড়ে। তার চুমু। তার হাত। তার ভেতরে ঢোকার অনুভূতি। মাহিরা নিজেই নিজের শরীর স্পর্শ করে। চোখ বন্ধ করে রিদওয়ানকে কল্পনা করে। তার আঙুল নিজের ভেতর ঢোকায়। শরীর কেঁপে ওঠে। কিন্তু সেই অনুভূতি খালি। রিদওয়ানের শরীর ছাড়া কিছুই পূর্ণ নয়।

বিয়ের এক সপ্তাহ আগে। রিদওয়ান আবার এল। এইবার আর ছাদে নয়। মাহিরার ঘরেই। দুজনে জানত এটা হয়তো শেষ। রিদওয়ান মাহিরাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আমি তোকে নিয়ে পালিয়ে যাব।” মাহিরা বলল, “যাব না। আমার পরিবারের কথা ভাবো।” রিদওয়ান তার ঠোঁটে চুমু দিল। গভীর। তারপর তার গলায়। স্তনে। পেটে। নিচে। মাহিরা শুয়ে আছে। রিদওয়ান তার পা দুটো ছড়িয়ে দিল। মুখ দিয়ে নিয়ে নিল। জিভ দিয়ে চেটে চেটে। মাহিরা আর থাকতে পারল না। শরীর কেঁপে উঠল। রিদওয়ান উঠে এসে তার উপরে উঠল। ঢুকল। এইবার আরও গভীর। মাহিরা তার কানে বলল, “জোরে কর।” রিদওয়ান জোরে করল। বিছানা কাঁপছে। দুজনের শরীর একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। রিদওয়ান মাহিরার হাত ধরে উপরে তুলে রাখল। চোখে চোখ রেখে চলল। মাহিরা চোখ বন্ধ করতে চাইল। রিদওয়ান বলল, “দেখ আমাকে।” মাহিরা দেখল। সেই চোখে ভালোবাসা আর যন্ত্রণা একসঙ্গে। অনেকক্ষণ ধরে তারা এভাবেই একে অপরকে নিল। শেষে দুজনে জড়িয়ে শুয়ে থাকল। রিদওয়ান বলল, “আমি তোকে ভুলে যেতে পারব না।” মাহিরা বলল, “আমিও পারব না।”

বিয়ের আগের রাত। রিদওয়ান আবার এল। এইবার সে মাহিরাকে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু মাহিরা রাজি হলো না। দুজনে আবার শরীর মিলাল। এইবার আরও ক্ষুধার্ত। রিদওয়ান মাহিরাকে উল্টে দিয়ে পেছন থেকে ঢুকল। মাহিরা মুখ বালিশে গুঁজে আর্তনাদ করছে। রিদওয়ান তার কোমর ধরে জোরে ধাক্কা দিচ্ছে। মাহিরার স্তন তার হাতে। শরীরের প্রতিটি অংশ কাঁপছে। একসময় দুজনে একসঙ্গে শেষ করল। তারপর শুয়ে থাকল। রিদওয়ান বলল, “কাল তোর বিয়ে। আমি কী করব?” মাহিরা বলল, “যা তোর মন চায়।” রিদওয়ান চুপ করে থাকল। সকাল হলে সে চলে গেল।

 

বিয়ের দিন। মাহিরার বাড়ি সাজানো। আত্মীয়স্বজন ভিড়। মাহিরা লাল শাড়ি পরে বসে আছে। চোখে জল নেই। শুধু শূন্যতা। রিদওয়ান দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে। তার বুক ফেটে যাচ্ছে। সে এগিয়ে গেল। মাহিরার বাবার কাছে। বলল, “আমি মাহিরাকে ভালোবাসি। আমাকে তাকে বিয়ে করতে দিন।” বাবা রেগে গেলেন। “এখন এসব কথা? চলে যাও।” রিদওয়ান মাহিরার দিকে তাকাল। মাহিরা উঠে দাঁড়াল। সবাই চুপ। মাহিরা বলল, “আমি রিদওয়ানকে ভালোবাসি। এতদিন নীরব ছিলাম কারণ ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আর পারছি না।” বাবা চিৎকার করলেন। মা চোখের জল মুছছেন। কিন্তু মাহিরা রিদওয়ানের হাত ধরল। দুজনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।

তারা একটা ভাড়া বাসায় উঠল। শহরের এক কোণে। প্রথম রাতে দুজনে বিছানায় শুয়ে আছে। রিদওয়ান মাহিরার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, “এতদিন নীরব ছিলাম কারণ তোকে হারানোর ভয় ছিল। ভয় ছিল তোর পরিবার রাজি হবে না। ভয় ছিল তুই বলবি না।” মাহিরা তার ঠোঁটে আঙুল রাখল। বলল, “এখন আর ভয় নেই।” দুজনে জড়িয়ে ধরল। রিদওয়ান মাহিরার শাড়ি খুলল। এইবার আর তাড়া নেই। ধীরে ধীরে। প্রতিটি স্পর্শ উপভোগ করে। মাহিরার স্তন মুখে নিয়ে চেটে চেটে। তার পেটের ওপর চুমু। নিচে নেমে জিভ দিয়ে সেই জায়গায় চাপ দিয়ে। মাহিরা হাঁসছে। রিদওয়ান উঠে এসে তার ভেতর ঢুকল। ধীরে ধীরে। চোখে চোখ রেখে। মাহিরা তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। রিদওয়ান গতি বাড়াল। মাহিরা তার নাম ধরে ডাকছে। দুজনের শরীর এক হয়ে গেছে। ঘাম, শ্বাস, আর গভীর আনন্দ। অনেকক্ষণ ধরে তারা এভাবেই চলল। শেষে দুজনে জড়িয়ে শুয়ে থাকল। রিদওয়ান বলল, “এবার আর কখনো নীরব থাকব না।” মাহিরা হাসল। বলল, “আমিও না।”

পরের দিনগুলোতে তাদের জীবন নতুন করে শুরু হলো। রিদওয়ান চাকরি করছে। মাহিরা একটা ছোট দোকানে কাজ নিয়েছে। রাতে দুজনে একে অপরের কাছে আসে। কখনো বিছানায়, কখনো মেঝেতে, কখনো দেয়ালের সঙ্গে। রিদওয়ান মাহিরাকে তুলে ধরে দাঁড় করিয়ে ঢোকায়। মাহিরা তার গলা জড়িয়ে ধরে। শরীরের প্রতিটি অংশ কাঁপছে। কখনো মাহিরা উপরে উঠে বসে। নিজে গতি নিয়ন্ত্রণ করে। রিদওয়ানের হাত তার কোমরে। চোখে চোখ। গভীর চুমু। কখনো রিদওয়ান মাহিরাকে উপুড় করে শুইয়ে পেছন থেকে নেয়। মাহিরা বালিশে মুখ গুঁজে আর্তনাদ করে। রিদওয়ান তার চুল ধরে টানে। দুজনের শরীর একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।

একদিন সন্ধ্যায় দুজনে ছাদে গেল। চাঁদের আলো। রিদওয়ান মাহিরাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “তোর প্রশ্নের উত্তর দিই। এতদিন নীরব ছিলাম কারণ ভেবেছিলাম সময় পাব। ভেবেছিলাম তুই বুঝবে। কিন্তু সময় চলে গেল। এখন আর হারাতে চাই না।” মাহিরা তার বুকে মুখ রেখে বলল, “আমিও এতদিন নীরব ছিলাম। ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আর ভয় নেই।” দুজনে আবার শরীর মিলাল। এইবার আরও গভীর। রিদওয়ান মাহিরার ভেতর গভীরভাবে ঢুকল। মাহিরা তার নাম ধরে ডাকছে। রিদওয়ান তার কানে ফিসফিস করছে, “তুই আমার স্ত্রী। চিরকাল।” মাহিরা চোখের জল ফেলছে। আনন্দের জল। দুজনের শরীর একসঙ্গে কেঁপে উঠল। তারপর শান্ত হলো।

মাস চলে গেল। তাদের একটা ছোট সংসার। কখনো কখনো পরিবার থেকে ফোন আসে। কিন্তু তারা আর ফিরে যায় না। রাতে দুজনে একে অপরের কাছে শুয়ে থাকে। রিদওয়ান মাহিরার চুল আঙুল দিয়ে সরায়। চুমু দেয়। মাহিরা তার বুকে মাথা রাখে। তাদের শরীর এখন একে অপরকে চেনে। প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি চুমু, প্রতিটি গভীর মিলন। কখনো তারা সারা রাত জেগে থাকে। একে অপরকে নেয় বারবার। কখনো সকাল পর্যন্ত জড়িয়ে থাকে।

একদিন সকালে মাহিরা উঠে রিদওয়ানের দিকে তাকাল। বলল, “তুই যদি এতদিন আগে বলতিস, তাহলে হয়তো এত কষ্ট পেতে হতো না।” রিদওয়ান তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “হয়তো। কিন্তু এখন আমরা একসঙ্গে। আর কখনো নীরব থাকব না।” মাহিরা হাসল। দুজনে আবার চুমু দিল। গভীর। গরম। তাদের শরীর আবার কাছাকাছি চলে এল। রিদওয়ান মাহিরাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। তার শরীর চুমু দিয়ে দিয়ে নামল। তারপর উঠে এসে ঢুকল। ধীরে ধীরে। চোখে চোখ রেখে। মাহিরা তার হাত ধরে আছে। দুজনের শ্বাস এক হয়ে গেছে। অনেকক্ষণ ধরে তারা এভাবেই একে অপরকে নিল। শেষে দুজনে জড়িয়ে শুয়ে থাকল। বাইরে সূর্য উঠছে। তাদের জীবন নতুন করে শুরু হয়েছে। ভালোবাসা আর শরীরের গভীর মিলন দিয়ে। আর কখনো নীরবতা নয়। শুধু একে অ

পরের কাছে থাকা। চিরকাল।

....
👁 11