ইনায়া আর সেহরানের পরিচয় এত পুরোনো যে কেউ ঠিক মনে করতে পারে না কখন থেকে তারা একে অপরকে চেনে। ঢাকার উত্তরার এক শান্ত আবাসিক এলাকায় পাশাপাশি দুটো বাড়ি। সেহরানের বাবা আর ইনায়ার বাবা ছোটবেলা থেকে বন্ধু। তাই দুই পরিবার প্রায় এক পরিবারের মতো।
ইনায়ার বয়স যখন সাত, সেহরানের বারো। সে তখনো ছোট্ট একটা মেয়ে, চুল দুই ভাগে বাঁধা, চোখে সবসময় একটা জিজ্ঞাসু হাসি। সেহরান তাকে ডাকত “ছোট্ট” বলে। ইনায়া সে কথায় রাগ করত না। বরং সেহরানের পেছনে পেছনে ঘুরত সারাদিন। স্কুল থেকে ফিরে সেহরান যখন বই খুলে বসত, ইনায়া এসে তার পাশে বসে থাকত। কখনো কখনো সেহরানের খাতায় ছবি আঁকত। সেহরান তখন মাথা নেড়ে বলত, “আবার নষ্ট করলি। যা, নিজের কাজ কর।”
ইনায়া চুপ করে যেত। কিন্তু তার চোখে একটা আলাদা আলো থাকত। সে জানত সেহরান তাকে ছোট বোনের মতো দেখে। সেও জানত, তার অনুভূতি আলাদা।
বছর যেতে লাগল। ইনায়া বড় হতে লাগল। স্কুলের পোশাক পাল্টে কলেজের পোশাক হলো। তার হাঁটাচলায় একটা নতুন ভার এল। সেহরান তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। সে ইনায়াকে এখনো “ছোট্ট” বলে ডাকে। ইনায়া আর আপত্তি করে না। শুধু হালকা হেসে চলে যায়।
একদিন বিকেলে ছাদে দুজনে বসেছিল। সূর্য পশ্চিমে হেলছে। ইনায়া হঠাৎ বলল, “তুমি কি কখনো ভেবেছ আমি শুধু তোমার ছোট বোন না?”
সেহরান হেসে উঠল। “কী বলছিস? তুই তো আমার ছোট বোনই।”
ইনায়া আর কিছু বলল না। শুধু দূরে তাকিয়ে রইল। সেদিনের পর থেকে সে একটু একটু করে দূরে সরে যেতে লাগল। আগের মতো প্রতিদিন আসত না। ফোন করত না। সেহরান খেয়াল করেনি। সে ব্যস্ত ছিল নিজের পড়াশোনা আর বন্ধুদের সঙ্গে।
ইনায়া যখন বিদেশে পড়তে যাওয়ার কথা বলল, সেহরান প্রথমবার একটু অবাক হলো। “এত দূরে? কেন?”
ইনায়া শান্ত গলায় বলল, “নিজেকে একটু আলাদা করে দেখতে চাই।”
বিমানবন্দরে বিদায়ের সময় ইনায়া সেহরানের দিকে তাকিয়েছিল অনেকক্ষণ। সেহরান তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিল ভাইয়ের মতো। “যত্ন নিস। নিয়মিত খবর দিস।”
ইনায়া মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। তার চোখে জল ছিল না। শুধু একটা শীতল শান্তি।
ইনায়া চলে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ সেহরান খেয়ালই করেনি। তারপর একদিন সকালে উঠে দেখল বাড়িতে একটা শূন্যতা। ইনায়া প্রতিদিন সকালে এসে চা বানাত। তার হাসি, তার গলার আওয়াজ, তার জিজ্ঞাসু চোখ—সব হঠাৎ মনে পড়তে লাগল। সেহরান প্রথমবার বুঝল, তার প্রতিদিনের জীবনে ইনায়ার উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সে ফোন করল। ইনায়া তুলে নিল। কথা হলো। কিন্তু কথার মধ্যে একটা দূরত্ব। ইনায়া এখন অন্য সময়ের মানুষ। অন্য দেশের আলো-হাওয়া তার গলায় লেগে আছে। সেহরান কথা শেষ করে ফোন রাখল। রাতে ঘুম এল না।
মাস যেতে লাগল। ইনায়ার খবর কমতে লাগল। সেহরান মাঝে মাঝে মেসেজ করত। উত্তর আসত দেরিতে। কখনো আসত না। সেহরান বুঝতে পারছিল, ইনায়া ইচ্ছা করেই দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু কেন, সে জানত না।
একদিন রাতে সেহরান ছাদে উঠে বসল। আকাশ পরিষ্কার। তারা জ্বলছে। সে মনে মনে বলল, “ছোট্ট, তুই কোথায়?”
কোনো উত্তর এল না। শুধু বাতাস বইল। সেহরানের বুকের ভিতর একটা অদ্ভুত ব্যথা জন্ম নিল সেদিন। সে ব্যথা দিন দিন বাড়তে লাগল।
ইনায়া ফিরে এল দুই বছর পর।
বিমানবন্দরের গেটে সেহরান দাঁড়িয়েছিল। ইনায়া বেরিয়ে এল। সেহরান প্রথম নজরেই বুঝতে পারল—এ আর সেই ইনায়া নয়। চুল ছোট করা। পোশাক অন্যরকম। হাঁটাচলায় একটা আত্মবিশ্বাস। চোখে একটা নতুন দূরত্ব।
সেহরান এগিয়ে গেল। “স্বাগতম।”
ইনায়া হাসল। হাসিতে আগের মতো উষ্ণতা নেই। “ধন্যবাদ।”
গাড়িতে উঠে সেহরান কথা বলার চেষ্টা করল। ইনায়া উত্তর দিল সংক্ষেপে। বাড়ি পৌঁছে সে সোজা নিজের ঘরে চলে গেল। সেহরান দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে ধীরে নিজের ঘরে ফিরে এল।
রাতে খাবারের সময় ইনায়া এল। কথা হলো সবার সঙ্গে। কিন্তু সেহরানের সঙ্গে চোখাচোখি কম। সেহরান লক্ষ করল, ইনায়া এখন অন্য কারো কথা শোনে না। নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেয়। তার মধ্যে একটা পরিপক্কতা এসেছে যা আগে ছিল না।
খাবার শেষে ইনায়া উঠে গেল। সেহরান পেছন থেকে ডাকল, “ইনায়া।”
ইনায়া থেমে গেল। পেছন ফিরে তাকাল। “কী?”
“কথা বলব একটু?”
ইনায়া একটু চুপ করে থেকে বলল, “কাল। আজ ক্লান্ত।”
সে চলে গেল। সেহরান দাঁড়িয়ে রইল। তার বুকের ভিতরের ব্যথা আবার জেগে উঠল। সে বুঝতে পারছিল, হারানো মানুষটিকে নতুন করে চিনতে হবে। আর সেই চেনাটা সহজ হবে না।
রাত গভীর হলো। সেহরান জানালার পাশে বসে রইল। মনে মনে বলল, “আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। এবার ফিরে পাব।”
কিন্তু কীভাবে, সে জানত না।
ইনায়া ফিরে আসার পর প্রথম সপ্তাহটা কেটে গেল নীরবে। সেহরান চেষ্টা করল কাছে আসার। সকালে চা নিয়ে গেল তার ঘরে। ইনায়া দরজা খুলে নিল, কিন্তু কথা বলল কম। “ধন্যবাদ” বলেই চা নিয়ে ভিতরে চলে গেল।
বিকেলে সেহরান প্রস্তাব দিল, “একটু বাইরে যাই?”
ইনায়া মাথা নাড়ল। “আজ না। কাজ আছে।”
সেহরান বুঝল, ইনায়া ইচ্ছা করেই দূরত্ব রাখছে। সে হাল ছাড়ল না। প্রতিদিন একটা না একটা অজুহাত খুঁজে তাকে কাছে টানার চেষ্টা করতে লাগল।
একদিন সন্ধ্যায় সেহরান ইনায়ার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ল। ইনায়া খুলল। চুলে তোয়ালে জড়ানো। পোশাক হালকা। সেহরানের চোখ এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। ইনায়া লক্ষ করল। তার ঠোঁটে হালকা একটা হাসি ফুটল।
“কী লাগল?”
সেহরান গলা পরিষ্কার করে বলল, “কথা বলতে চাই। সত্যি করে।”
ইনায়া দরজা খুলে সরে দাঁড়াল। সেহরান ভিতরে ঢুকল। ঘরটা পরিচিত, কিন্তু এখন অন্যরকম সাজানো। দেয়ালে নতুন ছবি। বইয়ের তাকে বিদেশি বই।
ইনায়া বিছানায় বসল। সেহরান চেয়ারে। কিছুক্ষণ চুপচাপ। তারপর সেহরান বলল, “তুমি চলে যাওয়ার পর আমি প্রথমবার বুঝেছি তুমি কতটা দরকারি ছিলে আমার জীবনে।”
ইনায়া তার দিকে তাকাল। চোখে কোনো আবেগ নেই। “আর এখন?”
“এখনও। কিন্তু তুমি বদলে গেছ।”
ইনায়া হাসল। হাসিতে একটা তিক্ততা। “মানুষ বদলায়। আমিও বদলেছি। তুমি আমাকে সবসময় ছোট বোন ভেবেছ। আমি সেই ছোট বোন থাকতে চাইনি।”
সেহরান এগিয়ে গেল একটু। “আমি জানতাম না।”
“জানতে চাওনি।” ইনায়ার গলা শান্ত কিন্তু ধারালো। “আমি অপেক্ষা করেছি। অনেকদিন। তারপর বুঝেছি অপেক্ষা অর্থহীন।”
সেহরান চুপ করে রইল। ইনায়ার কথাগুলো তার বুকে বিঁধছিল। সে জানত সত্যি। সে সত্যিই ইনায়াকে কখনো অন্য চোখে দেখেনি। যতদিন না সে হারিয়েছে।
ইনায়া উঠে দাঁড়াল। “এখন যদি কিছু না থাকে, আমি বিশ্রাম নেব।”
সেহরান উঠল। দরজার কাছে গিয়ে থেমে গেল। “আমি চেষ্টা করব তোমাকে নতুন করে চিনতে।”
ইনায়া পেছন ফিরে তাকাল। “চেষ্টা করতে পারো। কিন্তু আমি আর আগের ইনায়া নই। মনে রেখো।”
সেহরান চলে এল। রাতে ঘুমোতে পারল না। ইনায়ার কথাগুলো বারবার মনে পড়ছিল। তার নতুন চেহারা, নতুন কণ্ঠস্বর, নতুন দূরত্ব—সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত টান তৈরি হচ্ছিল তার ভিতরে।
পরের দিনগুলোতে সেহরান আরও কাছে আসার চেষ্টা করল। একদিন ইনায়াকে নিয়ে পুরান ঢাকায় ঘুরতে গেল। গলির ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ইনায়া হঠাৎ থেমে গেল একটা পুরোনো চায়ের দোকানের সামনে।
“এখানে একবার এসেছিলাম তোমার সঙ্গে। মনে আছে?”
সেহরান মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। সেদিনের কথা মনে পড়ল। ইনায়া তখনো স্কুলছাত্রী। সেহরান তাকে নিয়ে ঘুরছিল। ইনায়া তার হাত ধরেছিল একবার। সেহরান সরিয়ে নিয়েছিল।
এখন ইনায়া সেই দোকানে ঢুকে বসল। সেহরান পাশে। চা এল। ইনায়া চুমুক দিল। তার ঠোঁট চায়ের কাপে লেগে রইল এক মুহূর্ত। সেহরান সেদিকে তাকিয়ে রইল।
ইনায়া হঠাৎ বলল, “তুমি এখন আমাকে কেমন দেখো?”
সেহরান সত্যিটা বলল। “সুন্দর। আরও সুন্দর। কিন্তু দূরের।”
ইনায়া হাসল। “দূরত্ব কমাতে চাও?”
সেহরান মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল।
ইনায়া চায়ের কাপ নামিয়ে রাখল। তার চোখে একটা নতুন আলো। “তাহলে প্রমাণ করো। কথায় নয়। কাজে।”
সেদিন থেকে সেহরানের চেষ্টা আরও গভীর হলো। সে ইনায়ার পছন্দের জিনিসগুলো খেয়াল রাখতে লাগল। তার নতুন বইগুলো পড়তে লাগল যাতে কথা বলার সময় বিষয় বের হয়। রাতে দেরি করে ঘুমাতে গেলেও ইনায়ার ঘরের আলো জ্বালানো দেখলে জানালা দিয়ে তাকাত।
একদিন রাতে বৃষ্টি না হলেও আকাশ মেঘলা ছিল। সেহরান ইনায়ার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ল। ইনায়া খুলল। পোশাক হালকা। চুল খোলা। সেহরানের শ্বাস এক মুহূর্তের জন্য ভারী হয়ে গেল।
“ঢুকবে?” ইনায়া জিজ্ঞাসা করল।
সেহরান ঢুকল। দরজা বন্ধ হলো। ঘরে আলো কম। ইনায়া বিছানায় বসল। সেহরান পাশে। দূরত্ব কম।
ইনায়া হঠাৎ সেহরানের হাত ধরল। তার হাত গরম। “তুমি কি সত্যিই আমাকে অন্য চোখে দেখতে শুরু করেছ?”
সেহরান মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। তার গলা শুকনো। “হ্যাঁ।”
ইনায়া এগিয়ে এল আরও কাছে। তার শ্বাস সেহরানের গালে লাগল। “তাহলে প্রমাণ করো।”
সেহরান আর দেরি করল না। সে ইনায়ার ঠোঁটে ঠোঁট রাখল। প্রথম চুমুটা ধীর ছিল। তারপর গভীর। ইনায়ার হাত সেহরানের ঘাড়ে উঠে এল। সেহরানের হাত ইনায়ার কোমরে। ঘরের বাতাস গরম হয়ে উঠল।
চুমু ভেঙে ইনায়া ফিসফিস করে বলল, “আরও।”
সেহরান আবার চুমু দিল। এবার আরও গভীর। ইনায়ার শরীর তার শরীরের সঙ্গে লেগে গেল। সেহরানের হাত ইনায়ার পিঠ বেয়ে নামল। ইনায়া একটা হালকা আওয়াজ করল। সেই আওয়াজ সেহরানের রক্তে আগুন ধরিয়ে দিল।
তারা বিছানায় শুয়ে পড়ল। কাপড়ের বাধা ধীরে ধীরে সরে গেল। সেহরানের হাত ইনায়ার শরীরে ঘুরতে লাগল। ইনায়ার শ্বাস দ্রুত হয়ে উঠল। সেহরান তার গলায় চুমু দিল, কানে ফিসফিস করল, “তুমি কত সুন্দর।”
ইনায়া চোখ বন্ধ করে তার হাত চেপে ধরল। “আর থেমো না।”
সেহরান থামল না। তাদের শরীর এক হয়ে গেল। রাতের নীরবতা ভেঙে শুধু তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ। ইনায়ার নখ সেহরানের পিঠে লেগে গেল। সেহরানের গতি বাড়ল। ইনায়া তার নাম ডাকল একবার। সেই ডাক শুনে সেহরানের সবকিছু ভেঙে পড়ল।
পরে তারা পাশাপাশি শুয়ে রইল। ঘামে ভেজা শরীর। ইনায়া সেহরানের বুকে মাথা রাখল। সেহরান তার চুলে হাত বুলোতে লাগল।
ইনায়া ফিসফিস করে বলল, “এবার তুমি আমাকে চিনতে শুরু করেছ।”
সেহরান তার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “এখনো শুরুই মাত্র।”
সেই রাতের পর থেকে তাদের মধ্যেকার দূরত্ব ভেঙে গেল। কিন্তু ইনায়া এখনো পুরোপুরি খুলে যায়নি। সেহরান বুঝতে পারছিল, ইনায়ার ভিতরে এখনো কিছু গোপন ব্যথা আছে।
একদিন সকালে সেহরান ইনায়াকে নিয়ে কক্সবাজারে যাওয়ার প্রস্তাব দিল। ইনায়া রাজি হলো। সমুদ্রের ধারে একটা কটেজে তারা উঠল। সূর্য অস্ত যাচ্ছিল। আকাশ লালচে। সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছিল।
সন্ধ্যায় সৈকতে হাঁটতে হাঁটতে ইনায়া হঠাৎ থেমে গেল। “আমি বিদেশে গিয়ে অনেকবার ভেবেছি তোমাকে ভুলে যাব। কিন্তু পারিনি।”
সেহরান তার হাত ধরল। “আমিও পারিনি।”
ইনায়া তার দিকে তাকাল। চোখে জল। “তুমি আমাকে ছোট বোন ভেবেছ বলে আমি রাগ করেছিলাম। কিন্তু আসলে আমি ভয় পেয়েছিলাম। ভয় পেয়েছিলাম যদি তুমি আমাকে অন্যভাবে দেখো, আর পরে আমাকে না চাও।”
সেহরান তাকে টেনে কাছে নিল। “এখন চাই। পুরোপুরি চাই।”
রাতের বেলা কটেজের ভিতরে তাদের আবার মিলন হলো। এবার আরও গভীর। আরও উত্তপ্ত। ইনায়া সেহরানের ওপর উঠে বসল। তার চুল কাঁধে এলোমেলো। সেহরানের হাত তার কোমরে চেপে ধরল। ইনায়ার গতি ধীর থেকে দ্রুত হলো। সেহরান তার নিতম্ব চেপে ধরে উঠে বসল। তাদের শরীর এমনভাবে জড়িয়ে গেল যেন আর আলাদা হওয়ার উপায় নেই।
ইনায়া মাথা পিছনে ফেলে একটা লম্বা শ্বাস নিল। সেহরান তার গলায় চুমু দিতে দিতে বলল, “আমি তোমাকে হারাতে চাই না আর কখনো।”
ইনায়া তার চোখে চোখ রেখে বলল, “তাহলে আর হারাবে না।”
পরের দিনগুলোতে তারা একে অপরকে নতুন করে চিনতে লাগল। ইনায়া তার বিদেশের দিনগুলোর কথা বলল। একা থাকার কষ্ট, নিজের সঙ্গে লড়াই, আর সেহরানের জন্য মন খারাপ—সব। সেহরান শুনল চুপ করে। মাঝে মাঝে তার চোখে জল এসে গেল।
একদিন রাতে ইনায়া সেহরানের বুকে মাথা রেখে বলল, “আমি এখনো ভয় পাই। যদি আবার তুমি আমাকে শুধু ছোট বোন ভাবো।”
সেহরান তার চিবুক তুলে ধরে চোখে চোখ রেখে বলল, “আমি আর কখনো তোমাকে শুধু ছোট বোন ভাবব না। তুমি আমার সব।”
তারপর সে ইনায়াকে আবার চুমু দিল। এবার চুমুটা দীর্ঘ। গভীর। তাদের শরীর আবার জ্বলে উঠল। সেহরান ইনায়াকে বিছানায় শুইয়ে দিল। তার শরীরের প্রতিটি অংশ চুমু দিয়ে চিনতে লাগল। ইনায়ার শ্বাস বারবার ভেঙে যাচ্ছিল। সেহরানের হাত, ঠোঁট, জিভ—সব মিলিয়ে ইনায়াকে এক অদ্ভুত সুখের জগতে নিয়ে গেল।
যখন তারা এক হলো, ইনায়া সেহরানের নাম ডাকল বারবার। সেহরান তার কানে ফিসফিস করল, “আমি তোমার। সবসময়।”
পরে তারা জড়িয়ে শুয়ে রইল। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো আসছিল। সমুদ্রের শব্দ দূরে। ইনায়া সেহরানের বুকে আঙুল বুলোতে বুলোতে বলল, “এবার আমি পুরোপুরি ফিরে এসেছি।”
সেহরান তার কপালে চুমু দিয়ে বলল, “আর আমি তোমাকে হারানোর ভয় পাই না।”
ঢাকায় ফিরে এসে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো। পরিবার জানল। কেউ আপত্তি করল না। সেহরানের বাবা শুধু হেসে বলল, “আমরা তো অনেকদিন ধরেই জানতাম।”
ইনায়া লজ্জায় মুখ লাল করে হাসল। সেহরান তার হাত চেপে ধরল।
রাতগুলো এখন তাদের। কখনো ধীর প্রেম, কখনো উত্তপ্ত আলিঙ্গন। ইনায়া এখন আর দূরে থাকে না। সেহরানের শরীরের প্রতিটি স্পর্শ সে গ্রহণ করে পুরোপুরি। সেহরানও ইনায়ার শরীরকে এমনভাবে চেনে যেন নিজের শরীর।
একদিন সকালে ইনায়া সেহরানের পাশে শুয়ে বলল, “তুমি কি জানো, আমি ছোটবেলা থেকে তোমাকে ভালোবাসতাম?”
সেহরান হেসে বলল, “এখন জানি। আর এখন আমিও।”
ইনায়া তার ঠোঁটে চুমু দিয়ে বলল, “তাহলে আর সময় নষ্ট করো না।”
সেহরান তাকে টেনে কাছে নিল। সকালের আলো ঘরে ঢুকছিল। তাদের শরীর আবার এক হলো। এবার আর কোনো বাধা নেই। কোনো ভয় নেই। শুধু ভালোবাসা আর গভীর আকাঙ্ক্ষা।
ইনায়া সেহরানের পিঠে নখ বসায়। সেহরান তার নিতম্ব চেপে ধরে আরও গভীরে যায়। তাদের শ্বাস মিলেমিশে এক হয়ে যায়। শেষে ইনায়া সেহরানের নাম ডেকে একটা লম্বা শ্বাস ছাড়ে। সেহরানও তার সঙ্গে মিলে যায়।
পরে তারা পাশাপাশি শুয়ে থাকে। ইনায়া সেহরানের বুকে মাথা রেখে ফিসফিস করে বলে, “এবার তুমি আমাকে পুরোপুরি চিনেছ।”
সেহরান তার চুলে চুমু দিয়ে বলে, “আর চিনতে থাকব সারাজীবন।”
বাইরে ঢাকার সকাল জেগে উঠছে। ভিতরে দুজন মানুষ একে অপরকে পেয়েছে নতুন করে। হারানো মানুষ আর হারানো নেই। সে এখন কাছে। খুব কাছে। আর তাদের ভালোবাসা এখন আর শুধু অনুভূতি নয়—শরীরের প্রতিটি কোষে গেঁথে যাওয়া এক গভীর, উত্তপ্ত সত্য।
....